× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bangladeshi tigers are going to India due to lack of food
hear-news
player
print-icon

‘খাদ্যের অভাবে’ বাংলাদেশের বাঘ যাচ্ছে ভারতে

খাদ্যের-অভাবে-বাংলাদেশের-বাঘ-যাচ্ছে-ভারতে-
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের বাঘ চলে যাচ্ছে ভারত অংশের সুন্দরবনে। ভারতের বন দপ্তরের কর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশ অংশে খাদ্যের অভাবের কারণেই এমনটা হচ্ছে। অবশ্য যৌনসঙ্গীর খোঁজেও ভারতে পাড়ি জমাচ্ছে বাঘ, এমনটাও বলছেন পশ্চিমবঙ্গের দপ্তরের কর্মীরা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অংশে বিগত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়ে গেছে বাঘের সংখ্যা।

পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের বাঘ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের বাঘগুলো পশ্চিমবঙ্গের অংশে চলে আসাই বাঘ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

২০২১ সালে বাঘ শুমারি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৯৬টি। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩টিতে। অর্থাৎ নতুন বাঘ পাওয়া গেছে ২৭টি।

এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু না বললেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘এ বছরের গণনার তথ্য ও ছবি হায়দ্রাবাদের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও রিপোর্ট আসেনি, তবে বাঘের সংখ্যা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন ২৭টি বাঘ পাওয়া গেছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাঘ শুমারিতে গিয়ে সুন্দরবনের রামগঙ্গা ও অন্য পাঁচটি দ্বীপে বাঘের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই দ্বীপগুলোকে টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের এলাকার আওতাভুক্ত করা হচ্ছে এবং এখানকার বাঘের সংখ্যাও তালিকায় যুক্ত করা হবে।’

কিন্তু হঠাৎ করে কয়েক বছরে এত বাঘ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে রাজ্য বন দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত দুটো কারণে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনে খাদ্যের অভাব ও যৌনসঙ্গীর খোঁজে ওপার বাংলা থেকে বহু বাঘ এপার বাংলায় চলে আসছে। তা ছাড়া বাঘের বংশবৃদ্ধি তো রয়েছে। ফলে এপার বাংলায় (পশ্চিমবঙ্গের অংশে) বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

পুরো সুন্দরবনের ৬০ শতাংশ পড়েছে বাংলাদেশে আর বাকি ৪০ শতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশ অংশে খাদ্যের অভাব হলেও পশ্চিমবঙ্গে খাবারের অভাব দূর করতে নিয়মিত হরিণ ও শুয়োরের মাংসের জোগান দেয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার।

খাবারের টানেই মূলত বাংলাদেশ অংশ থেকে বাঘ যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে।

বাঘ শুমারির সঙ্গে যুক্ত বন দপ্তরের এক কর্মী জানিয়েছেন, শুধু খাদ্যের জন্যই নয়, অনেক সময় যৌনসঙ্গীর খোঁজে বাংলাদেশ অংশের বাঘ ভারতে চলে আসছে।

বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘জঙ্গলে খাবারের টান পড়লেই বাঘ গ্রামে ঢুকে পড়ে। সে জন্য বাঘ নিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঘের যাতে খাবারের অভাব না থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনে নৌকায় চাপিয়ে নিয়মিত হরিণ-শূকর ছেড়ে দিয়ে আসা হয় জঙ্গলে, বাঘের এলাকায়।

২০০৪ সালে বাংলাদেশের সুন্দরবনে প্রায় ৪০০টি বাঘ ছিল । ২০১৭ সালে তা ১৫০টিতে নেমে আসে। আর এখন তা ১২০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিজের স্বপ্নের ভারতের কথা জানালেন মমতা
স্বাধীনতা দিবসে আদিবাসী নৃত্যে পা মিলিয়ে নাচলেন মমতা
বিকিনি পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ
বিকিনি পরায় চাকরি খোয়ালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা
চাপের মুখে মমতার মন্ত্রিসভায় রদবদল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Additional collection in e ticketing is also due to lack of retail

ই টিকিটিংয়েও বাড়তি আদায় খুচরার অভাবে

ই টিকিটিংয়েও বাড়তি আদায় খুচরার অভাবে পরিস্তান পরিবহনের বাসে ই টিকিটিং মাধ্যমে বিক্রি হয় টিকিট। ছবি: নিউজবাংলা
এখন দূরত্ব থেকে ভাড়া আসছে ১১ টাকা বা ১৩ টাকা বা ২১ বা ২৩ টাকাও। কিন্তু যাত্রীদেরকে দিতে হচ্ছে ১৫ বা ২৫ টাকা। কারণ, টিকিট বিক্রেতার কাছে এক/দুই টাকার নোট থাকে না। আর তারা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেন না, বেশিই নেন।

বছর দশেক আগেও সকালে মোড়ে মোড়ে এক বা দুই টাকার বান্ডেল বিক্রি হতো। এর ক্রেতা ছিলেন প্রধানত বাসের শ্রমিকরা। ভাড়া কাটার সুবিধার জন্য এই খুচরা কিনতেন তারা কিছু বেশি টাকা দিয়ে।

কিন্তু সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের পর থেকে কদর হারাতে থাকে এই এক/দুই টাকার নোট। এখন সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা আর ওয়েবিল নামে যাত্রী ঠকানোর কৌশল চালু হওয়ার পর থেকে ভাড়া কাটা হতে থাকে ১০, ১৫, ২০-এভাবে।

বছরের পর বছর ধরে যাত্রীরা ঠকে যাওয়ার পর কিলোমিটারের হিসাব করে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করতে যে ই টিকিটিং পদ্ধতি চালু হয়েছে, তাতে ভাড়া ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে সেই এক বা দুই টাকার নোটের অভাবে এই ভাড়া কমার পুরো সুবিধা পাচ্ছে না নগরবাসী।

এখন দূরত্ব থেকে ভাড়া আসছে ১১ টাকা বা ১৩ টাকা বা ২১ বা ২৩ টাকাও। কিন্তু যাত্রীদেরকে দিতে হচ্ছে ১৫ বা ২৫ টাকা। কারণ, টিকিট বিক্রেতার কাছে এক/দুই টাকার নোট থাকে না। আর তারা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেন না, বেশিই নেন।

ই টিকিটিংয়েও বাড়তি আদায় খুচরার অভাবে

ভাড়া কমলেও বাকবিতণ্ডা থামেনি

ওয়েবিলে চলার সময় বসিলা ব্রিজ থেকে মিরপুর-১ নম্বর পর্যন্ত ভাড়া ছিল ২৫ টাকা। ই টিকিটিংয়ে ভাড়া এসেছে ২১ টাকা।

কিন্তু ভাড়া কমার পরও যাত্রী শাহীন মিয়ার সঙ্গে টিকিট বিক্রেতার তর্কাতর্কির অবসান হয়নি।

বসিলা থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত প্রজাপতি বাসের টিকিট বিক্রেতার কাছ থেকে দুটি টিকিট নেন শাহীন। ভাড়া আসে ৪২ টাকা। তিনি ৫০ টাকার নোট দিলে তাকে ফেরত দেয়া হয় ৫ টাকা।

টিকিট বিক্রেতা স্বপনের কাছে বাকি তিন টাকা ফেরত চাইলে তাকে বলা হয়, খুচরা নাই। শাহীনও ছাড়ার পাত্র নন। তিনি ৩ টাকার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। এতে শাহীন ও স্বপনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৪২ টাকার ভাড়া ৪৫ টাকা চেয়েছে। আমি ৫০ টাকার নোট দিয়েছি আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪৫ টাকা রেখে ৫ টাকা ফেরত দিছে। বার বার বলেছি দুই টাকা খুচরা দিচ্ছি আমাকে ১০ টাকা ফেরত দিচ্ছে না। জোরাজুরি করার পরে দুই টাকা খুচরা রেখে ১০ টাকা ফেরত দিছে।’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যদি দুই-পাঁচ টাকা বেশি নেয় একজনের কাছ থেকে তাহলে চিন্তা করেন রাজধানীর এত যাত্রী থেকে কত কোটি টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। ন্যায্য ভাড়ার জন্য ই-টিকেটিং চালু করে সেই বেশি ভাড়াই যদি নেয়া হয়, তাহলে এটা চালু করে কী লাভ হলো?

‘তারা কেন ভাংতি টাকা রাখেন না। পাশের দেশ ভারতে টিকিট বিক্রেতারা ব্যাগ ভরে ভাংতি টাকা রাখেন। আর আমাদের দেশের এরা কীভাবে ধান্দা করা যায় সেটা খোঁজে।’

ই টিকিটিংয়েও বাড়তি আদায় খুচরার অভাবে

প্রজাপতি বাসের টিকিট বিক্রেতা স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাংতি ছিল না। পরে তার টাকা ফেরত দিছি।’

একই চিত্র দেখা যায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে। পরিস্থান পরিবহনে অপূর্ব রায় মিরপুর ১০ নম্বর যাবেন। ভাড়া আসে ২৫ টাকা। টিকেট কেটে ৫০ টাকার নোট দিলে প্রথমে তাকে ফেরত দেয়া হয় ২০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘ভাড়া আসে ২৫ টাকা। আমি ৫০ টাকার নোট দিয়েছি আমাকে ফেরত দিয়েছে প্রথমে ২০ টাকা। বাকি পাঁচ টাকা ফেরত চাইলে আমাকে ২ টাকা দিয়েছেন। বলতেছে ৩ টাকা খুচরা নাই।’

কেন তার পাওনা সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে পরিস্তান পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মো. পলাশ বলেন, ‘আমার কাছে ভাংতি নাই, তাই বেশি নিয়েছি। কোম্পানি থেকে আমাদের ভাংতি টাকা দেয় না। আমরাই ভাংতি টাকা নিয়ে আসি। ভাড়া আসে ১১ টাকা, ২১ টাকা। সবাই খুচরা দেয় না।’

প্রজাপতি পরিবহনের আসাদগেটে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা মো. রাসেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা (যাত্রী) যদি আমাদেরকে খুচরা দেয় তাহলে তো ভালো হয়। আমি প্রতিদিন ১০ হাজার টিকিট বিক্রি করি। এখন এত টাকা তো আমার খুচরা থাকে না। আমাদেরও খুচরা রাখা উচিত। আর যাত্রীদেরও খুচরা রাখা উচিত। সবাইকে খুচরা দিতে পারি না। এত খুচরা টাকা থাকে না।’

কোম্পানি থেকে খুচরা টাকা দেয়া হয় কি না জানতে চাইলে রাসেল বলেন, ‘যা দেয় তা তো শেষ হয়ে যায়। এর পরে কী করব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অস্বীকার করব না। ভাংতি টাকার সমস্যা অবশ্যই আছে। আমি প্রত্যেক কোম্পানির কাছে এই ম্যাসেজটা পৌঁছে দেবো। যাতে সকল কাউন্টারে ভাংতি টাকা দিয়ে দেয়। আমরা দুই টাকা আর পাঁচ টাকার ভাংতি পাচ্ছি। এক টাকার কয়েন পাচ্ছি না। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ভাংতি টাকা সংগ্রহ করে কাউন্টারে দেই।’

যাত্রীদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘যাত্রীদেরও অনুরোধ করবো আপনারা ভাংতি টাকা নিয়ে কাউন্টারে আসবেন। আমি কোথায় যাব সেটা তো আমি যানি। তাই সেই পরিমাণ ভাংতি টাকা আমি নিয়ে যাব। তাহলে সমস্যাটা কমে আসবে।’

এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরিবহন মালিক বা যাত্রীরা চাইলেই কি খুচরা পাবেন? বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক টাকা বা দুই টাকার নতুন নোট ছাড়া হয় না বললেই চলে। বছর কয়েক আগে কয়েন ছাড়ার পর এটি জনপ্রিয় হয়নি। পকেটে ভারী হয় বলে মানুষ কয়েনে উৎসাহ দেখায়নি। এখন এটিই কাল হচ্ছে।

প্রতিদিন কেবল খুচরার অভাবে বাস যাত্রীরা কত টাকা ঠকছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন যাত্রীকল্যাণ সমিতি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঢাকায় প্রতিদিন ৫০ লাখ বাস যাত্রী যাতায়াত করে। খুচরার অভাবে যদি প্রতিজন গড়ে ৩ টাকা করেও ঠকেন, তাতে প্রতিদিন বাড়তি যায় দেড় কোটি টাকা। এই হিসেবে মাসে ৪৫ কোটি আর বছরে ৫৪০ কোটি।

কেবল বাস ভাড়া নয়, বাজার করতে গিয়েও একই কারণে ঠকছে মানুষ। সবজির দাম এখন ১০ বা ১৫ বা ২০ এভাবে পাঁচ টাকা করে বাড়ে কমে, অথচ ৮ বা ৯ বা ১১ বা ১৩ টাকা-এভাবে বিক্রি হতো আগে।

প্যাকেজটাত খাবারের দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে এক লাফে হয়েছে ১৫ টাকা। ৫০ শতাংশ বাড়াটা যুক্তিযুক্ত কি না, এই হিসাবও কেউ করেনি।

বাজারে ভাংতি টাকার পাওয়া যাচ্ছে না কেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জী এম আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে এক বা দুই টাকার নোট কম থাকলে পর্যাপ্ত কয়েন আছে। কিন্তু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়েছে। তারা আগের মতো কয়েন নিতে চায় না।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নগরবাসীকে ‘জিম্মি’র অভিযোগ
ঢাকা-বরগুনা বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
US supports no party Peter Haas

যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না: পিটার হাস

যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না: পিটার হাস বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ছবি: নিউজবাংলা
রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাঁচটি লক্ষ্য তুলে ধরেন। এগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ; গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার; সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীলতা; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর বা পরের বছরের জানুয়ারিতে হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় নিবার্চন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদী ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাটস।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কারও প্রতি কোনো পক্ষপাত নেই জানিয়ে হাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না।’

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

ইউএস- বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক: ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণই চাবিকাঠি’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় মূল বক্তব্য রাখেন পিটার হাস। বক্তব্য রাখেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের দূত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাঁচটি লক্ষ্য তুলে ধরেন।

এগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ; গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার; সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীলতা; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

পিটার হাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বেশি। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক বিরাজমান। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘বেসরকারি খাত জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্য দশা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।’

স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উত্তরণ হলে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন-এটিও স্মরণ করিয়ে দেন হাস। আর এই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগ করার আগে সুশাসন, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, দক্ষ শ্রমশক্তির সহজলভ্যতা ও মুনাফা- এসব বিষয় বিবেচনা করে থাকে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবিক কারণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এখন তাদের নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়া নিজে কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ন কবির, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়াও অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগের জন্য শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cabinet of India approves Kushiara water distribution

কুশিয়ারার পানিবণ্টনে ভারতের মন্ত্রিসভার সায়

কুশিয়ারার পানিবণ্টনে ভারতের মন্ত্রিসভার সায় সিটেলের অংশে কুশিয়ারা নদী। ছবি: সংগৃহীত
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৫৩ কিউসেক করে কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কিত যে সমঝোতা চুক্তি এ মাসের ৬ তারিখ দিল্লির হায়দারাবাদ হাউজে সই হয়েছিল। তা অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৫৩ কিউসেক করে পানিবণ্টন’ সমঝোতা অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

নয়া দিল্লির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৫৩ কিউসেক করে কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কিত যে সমঝোতা চুক্তি এ মাসের ৬ তারিখ দিল্লির হায়দারাবাদ হাউজে সই হয়েছিল।

চুক্তির সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন। সে চুক্তিটি বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

এই সমঝোতা চুক্তির ফলে শুকনা মরশুমে অর্থাৎ, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মে এই সময়কালে আসাম ওই নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি ব্যবহার করতে পারবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশও তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে সমপরিমাণ পানি কুশিয়ারা নদী থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।

শুকনা মরশুমে দুটি দেশের মধ্যে এই পানিবণ্টনের বিষয়টির ওপর নজর রাখতে এক যৌথ নজরদারি টিমও গঠন করা হবে।

পরে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তিটি অনুমোদন দেয়া হলো।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Banaj Kumars case report on November 6

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ৬ নভেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকের আদালতে মামলার এজাহার জমা দেয়া হয়। আদালত তা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ ঠিক করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও আসামি করা হয়েছে ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া নামের ৩ জনকে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বনজ কুমার বলেন, আমার নেতৃত্বাধীন তদন্ত সংস্থা পিবিআই চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা তদন্ত করছে। তদন্তকালে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেল হাজতে থাকা বাবুল ও বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। তারা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন।

আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় কথিত সাংবাদিক ইলিয়াস গত ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে, খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন। যা সম্পর্কে আমি পরদিন জানতে পারি। এর আগেও মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ইলিয়াস তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

সেই ভিডিওতে বলা হয়েছে, এই মামলায় বাবুল আক্তারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার। মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অভিযোগ করা হয়েছে ভিডিওটিতে। এছাড়াও বাবুলকে রিমান্ডে নির্যাতন করার কথাও বলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে পিবিআই প্রধান মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন- পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

গত ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে ইতিমধ্যে চার্জশিট দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা
বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Stick games will not be played who

‘লাঠি খেলা’ আর চলবে না: কাদের

‘লাঠি খেলা’ আর চলবে না: কাদের জাতীয় পতাকার সঙ্গে লাঠি লাগিয়ে বিএনপির কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত
‘আন্দোলন করেন যত পারেন, লাঠি খেলা চলবে না, অগ্নিসন্ত্রাস চলবে না। সমুচিত জবাব দেয়া হবে। আগামী দিনে জাতীয় পতাকার সঙ্গে যদি লাঠি লাগিয়ে রাস্তায় নামেন, তাহলে খবর আছে।’

আন্দোলনের নামে জাতীয় পতাকায় লাঠি লাগিয়ে বিএনপি রাস্তায় নামলে ‘সমুচিত জবাব’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার বিকেলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন করেন যত পারেন, লাঠি খেলা আর চলবে না, অগ্নিসন্ত্রাস চলবে না। সমুচিত জবাব দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ রাজপথ ইজারা দেয়নি, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটা আবারও প্রমাণ করবে। রাজপথে আমরা নামব জনগণের জন্য, উন্নয়নের জন্য, অর্জনের জন্য।

বিএনপিকে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে জাতীয় পতাকার সঙ্গে যদি লাঠি লাগিয়ে রাস্তায় নামেন, তাহলে খবর আছে। কোমরভাঙা বিএনপি, হাঁটুভাঙা বিএনপি এখন লাঠির ওপর ভর করেছে। আমি না এ কথা বলেছেন ডা. জাফরুল্লাহ।

‘বিএনপির এই দেশে একটা অর্জন নেই, যা দেখিয়ে তারা জনগণকে ভোট দিতে বলবে। বিএনপি তাদের শাসনামলে বিদ্যুৎ নয়, খাম্বা উপহার দিয়েছিল। তারাই এখন রাস্তায় লাফালাফি করে, বড় বড় কথা বলে। তারাই আজকে আমাদের নিয়ে বিষোদ্গার করে। রাজপথ দখল করে আন্দোলনের হুমকি দেয়। দেখা যাবে, অপেক্ষায় আছি।’

গণমাধ্যমের সমালোচনায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুলিশ হামলা করছে, আওয়ামী লীগ হামলা করছে বলে বড় করে নিউজ হয়। যেন বাংলাদেশটা বিএনপি দখল করে ফেলেছে। কিন্তু হাজারীবাগে আওয়ামী লীগের দুজন কর্মীর মাথা ফেটে গেল, চার-পাঁচজন হাসপাতালে। কই এই ছবি তো দেখলাম না।

‘আমার কর্মীর রক্ত ঝরেছে রাজপথে, লাঠি দিয়ে তাদের আহত করা হয়েছে। ইচ্ছে করে তারা উসকানি দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ যেন সংঘাতে জড়ায়। তা হবে না, রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করা হবে। খেলা হবে, মোকাবিলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে আবারও বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। এই বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ী হবে, গণতন্ত্র বিজয়ী হবে। স্বাধীনতার আদর্শ বিজয়ী হবে। আবারও এই বাংলায় উন্নয়ন বিজয়ী হবে।’

‘যত বাধাই আসুক, শেখ হাসিনা নির্ভীকচিত্তে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কারও হুমকি-ধমকির পরোয়া তিনি করেন না, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পান না। ভোটে শেখ হাসিনাকে হটাতে পারবে না জেনে তারা ষড়যন্ত্র করে। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

আরও পড়ুন:
সরকার পতনের রঙিন খোয়াব দেখছে বিএনপি: কাদের
সরকার কেন, কার কাছে পদত্যাগ করবে: ফখরুলকে কাদের
লাশ ফেলে আন্দোলন জমানোর অশুভ তৎপরতায় বিএনপি: কাদের
তত্ত্বাবধায়ক ফিরে আসা আপাতত সম্ভব নয়: কাদের
রাজপথ বিএনপির পৈতৃক সম্পত্তি নয়: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rohingyas must go back PM

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ডয়েচে ভেলেকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ডয়েচে ভেলে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল, তারা এখন নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর করতে পারে, কারণ এর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দেশটিকে তার জনগণের কথাও ভাবতে হবে।’

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ‘অবশ্যই ফিরে যেতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার নেন শতরূপা বড়ুয়া। সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয় মঙ্গলবার।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে।

‘তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। সবাইকে বুঝতে হবে পরিস্থিতি। আমাদের পক্ষে আর কোনো লোক নেয়া সম্ভব নয়, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এত বিশাল জনসংখ্যার দায়িত্ব একা একটি দেশের পক্ষে নেয়া অসম্ভব। শুধু আশ্রয় দেয়াই নয়, এত বিশাল জনসংখ্যার জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করাও একটি বড় দায়িত্ব, যা কোনো দেশ একা বহন করতে পারে না।

‘যারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল, তারা এখন নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর করতে পারে, কারণ এর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দেশটিকে তার জনগণের কথাও ভাবতে হবে।

‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোররা এখন ঘিঞ্জি বস্তিতে (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) লালিত-পালিত হয়ে বড় হচ্ছে, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ও সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত।’

মিয়ানমার থেকে আসার পর বাংলাদেশের শত শত হেক্টর জমির বন ধ্বংস হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজারের বন ধ্বংস করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বিনষ্টের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং এলাকার আবাদি জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা মানবপাচারের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে কোটি মানুষের শরণার্থী হয়ে ভারতে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় হত্যা ও ধর্ষণসহ অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। কাজেই আজকে তারা (বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা) যখন একই ধরনের নির্যাতনের শিকার, সে কথা চিন্তা করেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দেয়।’

এ সময় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনীতিক অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান কোভিড-১৯ এর কারণে সমগ্র বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে, যা বিশ্ববাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।’

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা অভিযোগ, মিডিয়ার স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের পথে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, গৃহহীনদের জন্য নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ তার সরকারের নেয়া নানা কল্যাণমুখী নীতি ও কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, ট্রান্সজেন্ডারদের কল্যাণে নেয়া নানা পদক্ষেপ, জিয়া-এরশাদ আমলের সামরিক শাসন, আগামী নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রীর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে’
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিটিভিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান
অপপ্রচারকারীদের বেশির ভাগই অপকর্মে জড়িত: প্রধানমন্ত্রী
ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ভাইরাল চিঠিতে জুনাইদের ইচ্ছাপূরণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no CCTV camera in the village hall

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা
পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু আর্থিক সংগতি না থাকায় গ্রামাঞ্চলে অনেক মণ্ডপেই তা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলেই কেবল সম্ভব হবে।’

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এবার ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে জোরদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির স্বার্থে মণ্ডপকেন্দ্রিক সিসিটিভি ক্যামেরাও বসছে। তবে গ্রামের মণ্ডপগুলোতে এই নিরাপত্তা সুবিধা থাকছে না।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে এমনটা জানিয়ে বলা হয়েছে, শহরকেন্দ্রিক মন্দিরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামাঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো সম্ভব হবে না।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের তো আর আশঙ্কা করলে চলবে না। আমরা আশাবাদী। সরকার আন্তরিক, প্রশাসনও আন্তরিক। আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে।

‘সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। আর সিসিটিভি ক্যামেরার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সব মণ্ডপে এই নজরদারির ব্যবস্থাটা রাখতে বলেছি। এটা সবাই যে পারবে তা না। কারণ গ্রামাঞ্চলে সবার আর্থিক সংগতি থাকে না।

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা

ঝালকাঠিতে একটি পূজামণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা

‘৩২ হাজারের বেশি মণ্ডপে এবার পূজা হচ্ছে। সব মণ্ডপে এটা থাকলে ভালো। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করাটা সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের জন্য কঠিন হবে।’

পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব হবে না উল্লেখ করে চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারলে তবেই সম্ভব হবে। এটা ডিসি, এসপি বা উপজেলা থেকে বাস্তবায়ন হলে ভালো হবে।’

এর আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, ‘সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপের সুরক্ষা দেয়াটা খুব কঠিন। তাই আমরা এ বছর প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করছি, যারা রাতেও মণ্ডপ পাহারা দেবে।’

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হলেও যে হামলা হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিবছর ধর্মীয় এই উৎসব শুরু হওয়ার আগে এক ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু এটি তো কাম্য নয়। বাস্তবতা হলো, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করেও তা করতে পারে।’

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা

দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেন দিনাজপুরের কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের ওপর আশা রেখে পূজার কার্যক্রম এগুচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, এবার পূজা আয়োজন সুন্দর ও আনন্দময় হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বছর সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে শারদীয় উৎসব শুরু হয়। সার্বিক পরিস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। এর মধ্যে কুমিল্লায় একটি মন্দিরে হনুমান মূর্তির পায়ের কাছে পরিবত্র কোরআন শরীফ রাখার মতো একটি ঘটনা কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তা প্রাণঘাতী অবস্থায় রূপ নেয়। নিহত হন পাঁচজন। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাও ঘটে। হুমকিতে পড়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

জেলা শহরগুলোর মণ্ডপে নিরাপত্তা প্রস্তুতি

নিউজবাংলা সারা দেশে গ্রামের বেশকিছু মণ্ডপের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অনেকে এই বিষয়ে জানেও না। এক্ষেত্রে আয়োজকরা আর্থিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন।

শহরকেন্দ্রিক মন্দিরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ।

সিলেটে এবার ৬২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগরে ১৫৫টি ও মহানগরের বাইরে জেলায় ৪৫৬টি। গত বছর সিলেট জেলায় মোট ৬০৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, ‘সব মণ্ডপে এবার সিসি ক্যামেরা লাগাতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকের এই সামর্থ্য নেই। তবে যাদের সামর্থ্য আছে তারা ক্যামেরা লাগাবে। এছাড়া মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকবে।’

মণ্ডপের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আনসার থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। গতবারের অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বুঝেছি, মণ্ডপের নিরাপত্তায় আমরা নিজেরাও উদাসীন ছিলাম। তাই মণ্ডপের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার আয়োজকদের সংঘবদ্ধ থাকতে বলা হয়েছে।

‘গতবারের ঘটনার কারণে কিছুটা উদ্বেগ আছে। তবে করোনা বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় এবার আরও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করছি।

মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় ২ হাজার ৬২টি ও মহানগরে ২৮২টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মণ্ডপে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক আর আনসার রাখার কথা বলেছি। সরকার সেসব বাস্তবায়ন করছে।’

রংপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধীমান ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রংপুর জেলায় এবার পূজামণ্ডপ ৭৭৫টি, আর মহানগরে ১৫৮টি। আমরা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক করেছি। তাদের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে, যেটা এর আগে কখনও হয়নি। আমি মনে করি আমরা নির্বিঘ্নে উৎসব করতে পারব।’

ব‌রিশাল জেলা পূজা উদযাপন প‌রিষ‌দের সভাপ‌তি মানিক মুখার্জী কুণ্ডু ব‌লেন, ‘ব‌রিশাল জেলায় ৬০০ ও মহানগ‌রে ৪৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনু‌ষ্ঠিত হবে। সব ম‌ণ্ডপেই প্রস্তু‌তি সম্পন্ন হ‌য়ে‌ছে। কোনো ধর‌নের অপ্রী‌তিকর প‌রি‌স্থি‌তি এড়া‌তে সব মন্ড‌পে সি‌সিটিভি ক‌্যা‌মেরা স্থাপ‌নের নি‌র্দেশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে।’

মহানগর পূজা উদযাপন প‌রিষ‌দের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পা ব‌লেন, ‘নগরীর বর্ডার এলাকাগু‌লো‌তে যে পূজা মণ্ডপগু‌লো র‌য়ে‌ছে সেগু‌লো‌তে আমা‌দের বি‌শেষ নজরদা‌রি র‌য়ে‌ছে‌। ম‌ন্দির ক‌মি‌টিগু‌লোর নেতা‌দের সতর্ক থাক‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।’

পি‌রোজপু‌রের মঠবা‌ড়িয়ার রাজ ম‌ন্দি‌রে দুর্গাপূজার আ‌য়োজক ডা. সুদীপ কুমার হালদার ব‌লেন, ‘পুলিশ ও প্রশাস‌নের সদস‌্যরা প্রতি‌নিয়ত মণ্ডপ প্রাঙ্গ‌ণে আস‌ছেন। কো‌নো ধর‌নের অপ্রী‌তিকর পরিস্থিতি এড়া‌তে আমরাও সতর্ক অবস্থা‌নে র‌য়ে‌ছি। ইতোমধ্যে ৫০‌টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হ‌য়ে‌ছে।’

বছর ঘুরে আবার এসেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। এর আগে রোববার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয়েছে। আর ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর প্রতিনিধি]

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’
পূজা উদযাপন পরিষদের ১৪ দফা
পূজার গান ‘দেখা দাও মা’
দেবীপক্ষের সূচনা

মন্তব্য

p
উপরে