× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Gayatri Babul love behind Mitus murder
hear-news
player
google_news print-icon

মিতু হত্যার নেপথ্যে ‘গায়ত্রী-বাবুল প্রেম’

মিতু-হত্যার-নেপথ্যে-গায়ত্রী-বাবুল-প্রেম
মাহমুদা খানম মিতু, বাবুল আক্তার ও তাদের দুই সন্তান। ফাইল ছবি
ছয় বছর আগে চট্টগ্রামে মিতু হত্যার ঘটনায় পিবিআই যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ভারত থেকে আসা এনজিওকর্মী গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হতো। পরে বাবুল সিদ্ধান্ত নেন তার স্ত্রীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার। গায়ত্রী অবশ্য দেশে নেই। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। আর মামলায় আসামি বা সাক্ষীও করা হয়নি। মিতুর বাবা, এমনকি বাবুলের পরিবারও গায়ত্রীকে আসামি করার দাবি করছে।

চট্টগ্রামে মাহমুদ খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে জড়িয়ে যে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে, তাতে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে বাবুলের বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গায়ত্রী অমর সিং নামের এক এনজিওকর্মীর সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ঘটনাচক্রে মিতু এটা জেনে যান। এ কারণে মিতুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বাবুল।

গায়ত্রীকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তাকে সাক্ষী করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিবিআই বলছে, চেষ্টা করেও গায়ত্রীর সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বাংলাদেশে নেই।

মিতু হত্যার দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বুধবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিমের আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছে পিবিআই।

অভিযোগপত্রে ২১ ধরনের আলামত, দুই হাজার ৮৪ পাতার কেস ডকেট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। মামলায় ৯৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এই অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আগামী ১০ অক্টোবর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় সন্তানের সামনেই খুন করা হয় মিতুকে।

এর আগে বাবুল জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ কারণে এটি জঙ্গিদের কাজ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। বাবুল তখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহানুভূতিও পান। পরে এই হত্যায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে নানা তথ্য আসতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি চাকরিচ্যুত হন।

শুরুতে মিতুর বাবা বাবুলের পাশে থাকলেও পরে তিনি সন্তান হত্যায় জামাতার দিকে আঙুল তুলতে থাকেন। পরে মামলাও করেন।

এই হত্যার পর ২০১৬ সালে বাবুলই প্রথমে মামলা করেন। এর পাঁচ বছর পর ২০২১ সালে মামলা করেন বাবুলের শ্বশুর। দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে পিবিআই।

মিতু হত্যার নেপথ্যে ‘গায়ত্রী-বাবুল প্রেম’

এই মামলায় বাবুল ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খাইরুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া।

এর মধ্যে মুসা ও খাইরুল ছাড়া বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।

মামলায় আরও যে চারজনের নাম ছিল, তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রাশেদ ও নুরুন্নবী। সাইদুল ইসলাম শিকদার ওরফে সাক্কু ও আবু নাছেরকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

বাবুল-মিতুর ঝগড়ার শুরু বই নিয়ে

২০২১ সালের ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় যে মামলা করেন, তাতে বলা হয়, গায়ত্রীর সঙ্গে প্রেমের বাধা হিসেবে মিতুকে হত্যা করিয়েছেন বাবুল।

পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাবুল আক্তার ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। এই সময়ে সেখানে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি।

গায়ত্রী অমর সিং নামের ওই উন্নয়নকর্মীর নিরাপত্তাকর্মী সরওয়ার আলম ও গৃহকর্মী পম্পি বড়ুয়ার জবানবন্দিতে বিষয়টি উঠে এসেছে।

গায়ত্রী ছিলেন ভারতের নাগরিক। তিনি কবে দেশ ছেড়েছেন, সে তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি কাজ করতেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরে।

গায়ত্রীর বিষয়ে তথ্য জানতে সংস্থাটিকে চিঠিও দেয় পিবিআই, কিন্তু তারা কিছু জানায়নি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গায়ত্রী বাবুলকে উপহার হিসেবে যে বই দিয়েছিলেন, সেটি মিতু দেখে ফেলার পর সংসারে কলহের সৃষ্টি হয়। এরপর মিতুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন বাবুল।

সে সময় বাবুল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন মিতুকে হত্যার দুই দিন আগে বাবুল বদলি হয়ে ঢাকায় যান।

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের এজাহারে বলা হয়, গায়ত্রীর দেয়া সেই বইয়ের শেষ দিকে নিজেদের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় বাবুল নিজ হাতে লেখেন। এটা নিয়েই ঝগড়ার শুরু। বইটি পিবিআইয়ের জব্দের তালিকায় আছে।

অভিযোগপত্রের বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং পিবিআই পুলিশ সুপার (মেট্রো) নাইমা সুলতানা।

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি পিবিআইকে একটা নয়, দুটো বই দিয়েছিলাম। এসব বইয়ে বাবুল ও গায়ত্রীর হাতের লেখা ছিল। এই লেখাগুলো যাচাই করলে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যেত।’

বই দুটি কোথায় পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো পেয়েছি; আমার কাছে ছিল; ঘটনার আগে মিতুই দিয়েছিল আরও কাগজপত্রসহ।’

হত্যার পর বাবুলের কথা কেন বলেননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তখন ঘটনা অন্যদিকে ছিল। সে (বাবুল) আমার বাসায় ছিল। আমার বাসায় প্রশাসনের এত বড় বড় লোকেরা আসছে, তার সঙ্গে কথা বলছে। তখন ভাবলাম যে, না অন্তত তাদের সম্মানে এখন কিছু বলা ঠিক হবে না।’

মিতু হত্যার নেপথ্যে ‘গায়ত্রী-বাবুল প্রেম’

গায়ত্রী কোথায়

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গায়ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হয়নি পিবিআই।

এই বিষয়ে পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে গায়ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের সের্বাচ্চ চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তার কোনো সাড়া পাইনি।’

যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় গায়ত্রীকে আসামি বা সাক্ষী করা যায়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘গায়ত্রীর বিষয়ে অভিযোগপত্রে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। এটা বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় কোনো মন্তব্য করা বা বক্তব্য দেয়া সমীচীন হবে না।’

সিআইডির মাধ্যমে ওই বইয়ের শেষের দিকে থাকা লেখাগুলো বাবুলের হাতের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

‘গায়ত্রী কেন আসামি বা সাক্ষী নয়?’

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গায়ত্রী মেইন। গায়ত্রী নাই, না থাক। তার যে রেকর্ড, দুটা বই, হাতের লেখা, অফিশিয়াল হাতের লেখা, অফিসে সে কবে জয়েন করছে, কবে চলে গেছে, এসব ডকুমেন্টসই তো প্রমাণ করবে যে, তার সঙ্গে বাবুল আক্তারের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। গায়ত্রীর কারণেই মিতুর মৃত্যু। তার কারণেই মিতু হত্যাকাণ্ড; অন্য কোনো কারণ না।’

গায়ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গায়ত্রী এখন কোনোটাতে (সাক্ষী বা আসামি) আছে কি না, সন্দেহ আছে। আমরা মামলা করেছি, বাবুল ও গায়ত্রীর হাতের লেখা সংবলিত দুটা বই উপস্থাপন করছি।

‘সে আসামি না হলে সাক্ষী হবে, সোজা হিসাব। তার নাম তো আমার এজাহারে আছে। সে তো আর অজ্ঞাত না। আর সে যদি হাজির না হয়, তার অফিশিয়াল রেকর্ড, হাতের লেখা এসব উপস্থাপন করতে হবে। মানুষ মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেয় না? তার সাক্ষী তো লাগে না। সে রকম তার অনুপস্থিতিতে এসব উপস্থাপন করতে হবে।’

গায়ত্রীকে না পাওয়ার বিষয়ে পিবিআইয়ের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন মিতুর বাবা। তিনি বলেন, ‘গায়ত্রী এক দেশ থেকে আরেক দেশে আসছে হাওয়ার উপর নাকি? তার ভিসা আছে, পাসপোর্ট আছে। এখনও সেই অফিসটা আছে। তাকে না পেলে তাকেও তো পলাতক দেখিয়ে আসামি করা যায়।’

বাবুল আক্তারের ভাই আইনজীবী হাবীবুর রহমান লাভুও গায়ত্রীকে আসামি না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি বাবুল আক্তারের বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্ক থেকেই থাকে, যাকে নিয়ে এত বড় ঘটনা, সেই গায়ত্রীকে কেন আসামি করা হলো না? আমরা পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।’

যেভাবে খুলল রহস্যের জট

আলোচিত মামলাটির তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে অভিযোগপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মিতু হত্যার আগে ও পরের কয়েক দিন বাবুলের আর্থিক লেনদেন যাচাই করে দেখা যায়, ঘটনার তিন দিনের মাথায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

এর সূত্র ধরে পিবিআই সন্ধান পায় বাবুলের ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ইসলামের। সাইফুলের কাছ থেকে মুনাফার এই ৩ লাখ টাকা চেয়ে নিয়ে নড়াইলে গাজী আল মামুন নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠান বাবুল। মামুন এসব টাকা মামলার আসামি মুসা, ওয়াসিমসহ অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেন।

২০২১ সালের ১১ মে আদালতে সাক্ষী হিসেবে বাবুলের দুই বন্ধু গাজী আল মামুন ও সাইফুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিতুর বাবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার সময় মামলাটি আমার হাতে আসে। তখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাবুল আক্তারকে নিজের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখনই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমি বুঝতে পারি যে, হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তার জড়িত।’

মিতু হত্যার নেপথ্যে ‘গায়ত্রী-বাবুল প্রেম’

বাবুল আক্তারের এই টাকা লেনদেনের বিষয়ে পুলিশের দেয়া বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার ভাই হাবীবুর রহমান লাভু। তিনি বলেন, ‘আর আমার ভাইয়ের ব্যবসা ছিল, সে তার লাভের টাকা নিতেই পারে। এটা অপরাধ নাকি? তার পার্টনার ছিল সাইফুল, মামুন নামের কাউকে আমরা চিনি না।

‘এরা যদি ঘটনার পর খুনের কাজে টাকা দেয়, তাহলে এরাও তো পরোক্ষভাবে জড়িত; এরাও তো আসামি, কিন্তু তাদের আসামি করা হয়েছে? আর যার কথা বলা হচ্ছে, মুসা, সেই মুসা কই? সবাই তার কথা বলছে, তাকে হাজির করা হোক। তাকে হাজির করলে সব সমাধান হয়ে যাবে।’

যেভাবে হত্যা

অভিযোগপত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, বাবুল মিতুকে হত্যার দায়িত্ব দেন তার বিশ্বস্ত সোর্স কামরুল শিকদার মুসাকে। ঘটনার তিন দিন পর মুসাসহ অন্য আসামিদের কাছে ৩ লাখ টাকা পৌঁছে দেয়ার কথাটি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন মামুন।

২০১৬ সালে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মুসার নির্দেশে মিতুকে হত্যার কথা জানান ওয়াসিম ও আনোয়ার। গত বছরের ২৩ অক্টোবর এহতেশামুল হক ওরফে ভোলার দেয়া জবানবন্দিতেও মুসার কথা উঠে এসেছে।

ভোলা জানান, ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালে বাবুলের সোর্স ছিলেন মুসা। তার সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল ভোলার। তিনিই ভোলাকে বাবুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর থেকে ভোলা বাবুলকে বিভিন্ন তথ্য দিতেন।

ভোলার দেয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকায় গুলি করতে যাওয়া এক আসামিকে ধরে বাবুল বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। এরপর থেকে তাদের সখ্য আরও বাড়ে।

ভোলা আদালতে বলেন, ‘২০১৬ সালের মে মাসে মুসা আমাকে জানায়, বাবুল পারিবারিক সমস্যায় আছেন। তার স্ত্রীকে খুন করতে হবে। এ জন্য আমি যেন অস্ত্র সংগ্রহ করে দিই।

‘আমি অস্ত্র সংগ্রহ করে মুসাকে দিই। এরপর মিতু হত্যার দিন ২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মুসা আমাকে বারবার ফোন দিতে থাকে। আমি ফোন ধরিনি।

‘বেলা ১১টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে খাতুনগঞ্জের শাহজালাল ব্যাংকে গিয়ে টেলিভিশনে দেখি, বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। তখন মুসাকে ফোন দিই, কিন্তু তার ফোন বন্ধ ছিল। বিকেলে আমার অফিসে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে মুসা। সে আমাকে বলে, তার কোনো উপায় ছিল না। সে যদি মিতু ভাবিকে না মারত, তাহলে বাবুল আক্তার তাকে ক্রসফায়ারে দিত।’

ভোলা বলেন, ‘তখন আমি মুসাকে বলি, এ কাজটা না করলে বাবুল স্যার হয়তো একবার ক্রসফায়ারে দিত, এখন পুলিশ তো তোকে ১০ বার মারবে।’

এরপর মুসা ভোলার অফিসে একটি কাপড়ের ব্যাগ রেখে চলে যান বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে রাতে মুসার ঘরের কেয়ারটেকার মনির এসে ব্যাগটি নিয়ে যান। পরে ভোলার তথ্যে ডিবি মনিরের বাসা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করে। সেখানে একটি অস্ত্র ছিল, যা মিতু হত্যায় ব্যবহার হয়েছিল।

ঘটনার কয়েক দিন পর কামরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পুলিশে ধরে নেয়ার কথা বললেও পুলিশ বলছে, তিনি নিখোঁজ।

বাবুলের বিরুদ্ধে শ্বশুরের মামলা

মিতুকে হত্যার পর পর বাবুল যে মামলা করেন, তাতে সন্দেহভাজন হিসেবে জঙ্গিদের কথা বলা হয়। পরের বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সে সময়ের তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কাছে ৪ পৃষ্ঠার অভিযোগ জমা দেন মিতুর বাবা।

এর মধ্যে জড়িত সন্দেহে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন অনেকে। ঘটনার পরের সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রাশেদ ও নুরুন্নবী নামে দুজন।

এরপর কেটে যায় ৫ বছর। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআাই। ২০২১ সালের ১০ মে বাবুলকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ডেকে নিয়ে আটক করে সংস্থাটি।

পরদিন আদালতে বাবুলের করা মামলায় তাকেই দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। একই দিন হত্যায় ‘বাবুল জড়িত’ দাবি করে মিতুর বাবা আরেকটি মামলা করেন। মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়। ওই দিনই পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
বাবুলের ২ সন্তানের জবানবন্দি গ্রহণ, স্বজনরা নাখোশ
মিতু হত্যা: দুই সন্তানের বক্তব্য গ্রহণ শিশু আইন মেনে
একটি গোষ্ঠী মিতু হত্যার বিচার বিলম্বিত করতে চায়: হাইকোর্ট
বাবুল আকতারের হাতের লেখা পরীক্ষার নির্দেশ
মিতু হত্যা: ২ সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেল পিবিআই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The image of Rangpur Medical changed after the doctor suffered

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র
এক চিকিৎসকে মাকে ভর্তি করাতে যাওয়ার পর পদে পদে টাকা আর কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার পর অন্য চিকিৎসকরা সোচ্চার হন। তাদের হুঁশিয়ারির মুখে কর্তৃপক্ষ হয় তৎপর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেয় ব্যবস্থা, বদলি করা হয় ১৭ কর্মচারীকে। চুক্তিভিত্তিক দুই জনকে করা হয় বরখাস্ত। এখন রোগী ভর্তি করতে এলে কাউকে বাড়তি টাকা দিতে হয় না। হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম।

২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বড় দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশরাত জাহান ইতি কিডনি রোগে আক্রান্ত মাকে ভর্তি করান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে। সেদিন জরুরি বিভাগে ভর্তি বাবদ ২০০ টাকা, ট্রলি বাবদ ২৫০ আর বেড পরিষ্কারের জন্য দিতে হয়েছে ৫০ টাকা। কিছুটা সুস্থ হয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

ঠিক ১০ দিন পর ১ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে ফের হাসপাতালে আসেন ইতি। কিন্তু জরুরি বিভাগে এবার ট্রলির জন্য টাকা চায়নি কেউ, ভর্তি বাবদ ২০০ টাকার বদলে লেগেছে ২৫ টাকা। শয্যা পরিষ্কারের জন্যও কেউ টাকা চেয়ে বিরক্ত করেনি।

হাসপাতালে এমন পরিবর্তন দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইতি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মার দুই কিডনিতেই পাথর ছিল। এর আগে একটার চিকিৎসা করা হয়েছে। এবার অন্যটির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলাম। কিন্তু কেউ আমার কাছে টাকা চায়নি। ভর্তি বাবদ ২৫ টাকা নিয়েছে, রিসিটও দিয়েছে। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি প্রশাসন এখন এত শক্ত।’

ইতির কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ হয়েছে এই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক তার মাকে ভর্তি করে এসে ভুক্তভোগী হওয়ার পর। সেই চিকিৎসকের কাছ থেকেও পদে পদে আদায় করা হয়েছে বাড়তি টাকা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, নিজের কর্মস্থল থেকে মাকে তিনি নিয়ে গেছেন এই ভয়ে যে, এখানে থাকলে তার মায়ের চিকিৎসা হবে না।

সেই চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তোলপাড় হয়ে যায়। এতদিন সব দেখেও না দেখার ভান করা কর্তৃপক্ষ আর বসে থাকেনি। চিকিৎসক ভোগার পর তারা ব্যবস্থা নেয়ায় আমূল পাল্টে গেছে হাসপাতালের চিত্র। এখন দালালের অত্যাচার নেই, রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ট্রলি ধরার প্রতিযোগিতা নেই, স্বজনের কাছে বকশিশ চাওয়ার অত্যাচার নেই, নির্ধারিত ভর্তি ফির বাইরে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।

নোংরা পরিবেশের যে সমস্যায় এতকাল মানুষ ভুগেছে, সেটিও আর নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ড, মেঝেতে নেই ময়লা-আবর্জনা। পুরো হাসপাতাল এখন ঝকঝকে চকচকে।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

পরিস্থিতির এই চিত্র দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না রোগী ও তার স্বজনদের। এদের একজন কুড়িগ্রামের উলিপুরের চাচিনা বেগম। গত চার দিন থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগেও হাসপাতালে ছিলাম আমি। কিন্তু এত ভালো ব্যবহার কেউ করেনি। ডাক্তার, নার্স ও আয়া সবাই যেন বাড়ির লোক। কেউ কখনও খারাপ ব্যবহার করেনি। ভর্তির সময় কেউ কোনো টাকা-পয়সা চায় নাই। শুনছি এদিক-সেদিক টাকা নেয়। কিন্তু কেউ চায় নাই।’

পরিবর্তনের নেপথ্যে

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মায়ের চিকিৎসা করাতে অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীরের মাকে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয়। স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে নেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়তো আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

হাসপাতালের এই চিত্র নতুন কোনো কিছু নয়। কিন্তু চিকিৎসকরা ছিলেন নির্বিকার। নিজেদের পেশার একজন ভোগার পর অবশেষে তারা সোচ্চার হন। অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে নামেন ‘সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’।

এরপর কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যালের ১৬ কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বদলি করা হয়। এরপর কর্মচারীদের আচরণে আসে পরিবর্তন।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

এর পাশাপাশি চিকিৎসক রাশেদুল আমীরের স্বজনদের অশোভন আচরণ ও টাকা নেয়ার দায়ে চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। এতে চুক্তিভিত্তিক অন্য কর্মচারীদের মধ্যেও ভয় ঢুকেছে।

‘চিকিৎসকরা আগে উদ্যোগী হলে আমাদের ভুগতে হতো না’

হাসপাতালের চিত্র পাল্টানোয় খুশি মাকে ভর্তি করতে এসে হয়রানির শিকার হওয়া চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর। তিনি জোর দিয়েছেন এই পরিবর্তন ধরে রাখার ওপর।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল আমীর বলেন, ‘অ্যাজ এ ম্যান অফ রংপুর, আমি সব সময় চাই রংপুরের মানুষ এখান থেকে সবচেয়ে ভালো সেবা পাক। আমরা রংপুরবাসী যদি সবাই এক হই তাহলে এটা ধরে রাখা যাবে। এই যে বদলে গেছে এটাকে ধরে রাখতে হবে।’

স্বস্তিতে স্বজনরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, ‘আমি এক মাস আগেও এখানে ভর্তি ছিলাম। তখন ট্রলিতে টাকা নিয়েছে, ভর্তিতে নিয়েছে। ওয়ার্ডে টাকা নিয়েছে। কিন্তু আইজ আমার ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। কেউ টাকা চায় নাই।’

গাইবান্ধার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কী বলব আপনাদের? দেখেন হাসপাতাল কত পরিষ্কার। কোথাও কোনো কাগজটাগজ নাই। ময়লা নাই, বাদামের খোল্ডা (খোসা) নাই। বিচনে (বেড) রুম সব পরিষ্কার। নিচতলা থেকে ওপরতলা কেউ টাকাটোকা চাইছে না। এমন পরিবেশ থাকলে তো ভালো হয়।’

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন লিটু সরকার বলেন, ‘আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। ছিল সিসিইউতে। এখনকার পরিবেশ অনেক ভালো। এবার সেবা অনেক ভালো পাইছি।’

রাশেদুল মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগেই এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। তখন কোনো চিকিৎসকই এভাবে প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেনি। যদি এভাবে চিকিৎসকরা এগিয়ে আসত, তাহলে এই হাসপাতাল বহু আগেই দালালমুক্ত হতো। মানুষ এত হয়রানি হতো না।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের কারণে এমনটা হয়েছে কি না, জানি না। আমরা চাই এই হাসপাতালে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। যে স্টেপটা নেয়া হয়েছে তাতে যেন হাসপাতালটা ভালো চলে- এই কারণে এই উদ্যোগ। এখন সবাই হেল্প করতেছে- এটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা থাকবে।'

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

হাসপাতালের পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা নিচ্ছি। উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো পরিকল্পনা। এটা আমার অবদান তা কিন্তু নয়। আমি চেষ্টা করছি মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে চেয়েছি, সেটি করছি। আমরা দেখছি জরুরি বিভাগে সমস্যা আছে, সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখন সব চলবে।’

তবু অভিযোগ অস্বীকার কর্মচারীদের

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. বাদল জানান, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীরা কখনও টাকা নেই নাই। আমাদের কর্তব্য আমরা করতেছি, ট্রলি ঠেলতেছি। এখন দালালটালাল নেই। কাউকে টাকা দেয়া লাগে না।’

আপনারা থাকতে টাকা কীভাবে নিয়েছে জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘ওরা আউটসোর্সিংয়ের কর্মী ছিল। যে যার মতো করে নিত। আমাদের উপস্থিতিতে নিত না।’

নাম প্রকাশ না করে একজন নার্স বলেন, ‘আপনি নিজেই দেখেন সিট কত আর ভর্তি কত। একবার রাউন্ডে গেলে কতজন রোগীর কাছে যেতে কত সময় লাগে। কিন্তু অনেক রোগী চায় ডাকা মাত্রই তাদের কাছে যেতে হবে। কিন্তু যার কাছে আছি বা যে রোগীর কাছে আছি তিনি কী অপরাধ করলেন? মূলত ভুল বোঝার কারণে তারা অভিযোগগুলো করে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One arrested in case of murder of Jubo League leader

যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, একজন গ্রেপ্তার

যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, একজন গ্রেপ্তার নিহত আলাউদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘মামলার সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাবেদ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেছে।’

লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলায় জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফরিদ উদ্দিনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

সদর উপজেলার বশিকপুরে দিঘিরপাড়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে আকাশ চন্দ্রগঞ্জ থানায় এ হত্যা মামলা করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মামলার সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাবেদ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেছে।

‘এ মামলায় জাবেদ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।’

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর এলাকার দিঘিরপাড়ে কালভার্টের ওপর বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন আলাউদ্দিন। হঠাৎ ৫-৬ জন মুখোশ পরে এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ সময় আলাউদ্দিন পাটোয়ারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক কমলা শীষ রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

ওসি মোসলেহ উদ্দিন জানান, নিহত আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ ও সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ২টি হত্যা মামলা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বশিকপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জিহাদী বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন:
টাকা লুট করতে বৃদ্ধ দম্পতিকে পরিকল্পিত হত্যা: এসপি
যুবককে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা
ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা
‘চাচার প্রতি ক্ষোভে’ চাচাতো ভাইকে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SSC question leak Two more teachers remanded

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: রিমান্ডে আরও দুই শিক্ষক

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: রিমান্ডে আরও দুই শিক্ষক রিমান্ড আদেশের পর আমিনুর ও জোবাইরকে আদালত থেকে নেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজাহার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।’

কুড়িগ্রামে এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বরখাস্ত আরও দুই শিক্ষককে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

রোববার সকালে কুড়িগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক সুমন আলী এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারি আইনজীবী দিলরুবা আহমেদ শিখা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জোবাইর রহমান ও ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল। এর আগে গত বুধবার মামলার প্রধান আসামি একই বিদ্যালয়ের বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজাহার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।

‘প্রধান আসামি লুৎফর রহমান তিন দিনের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’

আইনজীবী দিলরুবা আহমেদ বলেন, ‘আসামিরা প্রশ্ন ফাঁস করে দেশ ও জাতির ক্ষতি করেছেন। তাদের সব্বোর্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনাজপুর বোর্ডের ইংরেজি প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। এরপর ওই কেন্দ্রের সচিব লুৎফর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার কাছে কয়েকদিনের আগাম প্রশ্নপত্র রয়েছে বলে জানান।

এদিন মধ্যরাতে ট্যাগ অফিসার ও কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী মামলা করেন।

গ্রেপ্তার হন লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জোবাইর রহমান, কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহের চৌধুরী ও অফিস সহায়ক সুজন মিয়া। এই ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।

এদের সবাইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দুই দিন পর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বরখাস্ত হন।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভ, ২ এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’ এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস
প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Journalist Toab Khan was laid to rest at Banani graveyard on Monday

সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে

সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে সাংবাদিক তোয়াব খান। ফাইল ছবি
সাংবাদিক তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির নিউজবাংলাকে জানান, তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। পরদিন বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের দাফন হবে সোমবার। রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

‘তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে নেয়ার পর সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাখা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মরদেহ নেয়া হবে গুলশানে তার নিজ বাসভবনে।’

বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

নিউজবাংলার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও উপদেষ্টা সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। সম্পাদকের মৃত্যুতে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোয়াব খান। সাংবাদিক হিসেবে সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন রয়েছে তার।

২০১৬ সালে একুশে পদক পান তোয়াব খান। একই বছর তাকে সম্মানীত ফেলো নির্বাচন করে বাংলা একাডেমি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন তোয়াব খান। পরে রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই তোয়াব খান বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন। ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে।

১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। ১৯৬৪ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচার হয় ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন তোয়াব খান। দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন যশস্বী এ সাংবাদিক।

নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সর্বশেষ তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণ
নতুন রূপে আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক তোয়াব খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boatwreck Rescue operation on seventh day

নৌকাডুবি: উদ্ধার অভিযান সপ্তম দিনে

নৌকাডুবি: উদ্ধার অভিযান সপ্তম দিনে সপ্তম দিনের মতো অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ছবি: নিউজবাংলা
ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ৭০ জন উদ্ধারকর্মী নদীর ভাটি অংশে সারাদিন সাড়াশি অভিযান চালাবে।

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় সপ্তম দিনের মতো অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকর্মীরা।

করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট এলাকা থেকে শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়।

ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ৭০ জন উদ্ধারকর্মী নদীর ভাটি অংশে সারাদিন সাড়াশি অভিযান চালাবে।

নৌকাডুবির এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তথ্য কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশুসহ ৩ জন।

নৌকাডুবি: উদ্ধার অভিযান সপ্তম দিনে

বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারের মাঝে ৫৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে রির্পোট দাখিল করার কথা রয়েছে আজ।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৬১
করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই
মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
They were on the river for 6 days

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে
ভূপেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার দিশাহারা। মাড়েয়া বামনপাড়া ইউনিয়নের ছত্র শিকারপুর হাতিডুবা গ্রামে ভূপেনের বাড়ি। তার খোঁজে প্রতিদিন নদীর তীরে আসছেন বাবা মদন চন্দ্র রায়।

‘আজ ৬ দিন পার হয়ে গেল, নিখোঁজ সন্তানের জন্য ঘরে কারও মুখে খাবার যায় না। বাড়ির সবাই নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছি।’

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে এ কথা বলছিলেন সাকোয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের খগেন্দ্র নাথ বর্মণ।

বোদার করতোয়া নদীর মাড়েয়া আউলিয়া থেকে বদ্বেশ্বরী ঘাটে যাওয়ার সময় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রোববার নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন তার ছেলে সুরেন। সেদিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ছেলের খোঁজে দুই ঘাটে ঘুরতে থাকেন বৃদ্ধ খগেন্দ্র। পরিবারটির অন্য সদস্যরাও সুরেনের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন। তবে ঘটনার ষষ্ঠ দিনে এসে তাকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশা তারা ছেড়েই দিয়েছেন।

ওই দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা মিলে উদ্ধার করেছে। এখনও পাওয়া যায়নি সুরেন, ভূপেন ও তিন বছর বয়সী জয়া রানীকে। তাদের উদ্ধারে প্রতিদিন কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

ভূপেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার দিশাহারা। মাড়েয়া বামনপাড়া ইউনিয়নের ছত্র শিকারপুর হাতিডুবা গ্রামে ভূপেনের বাড়ি। তার খোঁজে প্রতিদিন নদীর তীরে আসছেন বাবা মদন চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান ছিল ভূপেন। এত কঠিন সাজা দিল ভগবান, জানি না কী অপরাধ করেছি আমরা।’

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে

ছোট্ট জয়া সেদিন মা ও আরেক বোনের সঙ্গে নৌকায় চড়ে মহালয়া দেখতে রওনা হয়েছিল। মাঝনদীতেই ডুবে গেল নৌকা, সে হারিয়ে গেল পানিতে। মা সাঁতার কেটে বেঁচে গেলেও পরে পাওয়া গেছে জয়ার বোনের মৃতদেহ। এখন বাবা ধীরেন্দ্র নাথ এক মেয়ের সৎকার করে আরেক মেয়ের লাশের জন্য নদীতীরে রয়েছেন অপেক্ষায়।

তিনি জানান, জয়ার মা দুই মেয়ে হারিয়ে পাগলপ্রায়। শিশু দুটি সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখত। এখন তাদের ঘরজুড়ে কেবল আহাজারির শব্দ।

বোদায় করতোয়ার এক পাড়ে পীর আউলিয়ার মাজার, আরেক পাড়ে ঐতিহ্যবাহী বদেশ্বরী মন্দির। এ কারণে দুই ঘাটের নাম আউলিয়া, বদেশ্বরী।

বদেশ্বরী মন্দিরে গত রোববার ছিল মহালয়ার আয়োজন। সেখানে যাওয়ার জন্যই নৌকাবোঝাই যাত্রীরা আউলিয়া ঘাট থেকে রওনা হয়েছিলেন। মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে অনেকে সাঁতরে ওঠে। কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয় জীবিত। এরপর চার দিনে ৬৯ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায় নদীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে

প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাটের লোকজন এই দুর্ঘটনার জন্য যাত্রীদের বাধা না মেনে নৌকায় ওঠাকে দায়ী করে আসছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মাইকিং করে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রীদের উঠতে বারবার মানা করছিল। তারপরও হুড়মুড়িয়ে যাত্রীরা নৌকায় ওঠে। ভার নিতে না পেরে ডুবে যায় নৌকাটি।

স্থানীয় কৈলাশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমার এই জীবনে এত বড় নৌকাডুবি দেখিনি। এত মানুষের নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছি না।’

এই দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘এলাকায় থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টার তদারকিসহ মৃতদের সৎকার, পরিবারগুলোর দেখভাল করতে সময় লেগেছে। এ কারণে সময়মতো তদন্তের কাজ হয়নি।

‘তদন্তের সময় বাড়ানো হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পঞ্চগড়ের সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের কাজ চলবে।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই
মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার
করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Child of Shehzad Khan Vir Amar and Shakib Khan Bulli

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব সন্তানের সঙ্গে বুবলী ও শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক স্ট্যাটাসে বুবলী লেখেন, ‘আমরা চেয়েছি একটি শুভ দিনক্ষণ দেখে আমাদের সন্তানকে সবার সম্মুখে আনতে, তবে আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। সেই সুখবরটি জানানোর জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।’ একই ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাকিব খানও।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সন্তানের ছবি ও নাম প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলী।

সন্তানের বাবা হিসেবে শাকিব খানের নাম জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এ নায়িকা। পরে একই ধরনের পোস্ট দিয়ে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়েছেন শাকিবও।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শুক্রবার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী বুবলী। এর মধ্যে শেহজাদকে কোলে নিয়ে শাকিব খানের বসে থাকার ছবিও রয়েছে।

দুপুর ১২টার দিকে বুবলী প্রথমে পোস্ট দেন। এর কয়েক মিনিটের মাথায় ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট দেন শাকিবও। তিনিও পোস্ট করেছেন ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে থাকার সেই ছবি।

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
ছেলে শেহজাদের সঙ্গে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে কবে হয়েছে বা সন্তানের জন্ম কবে হয়েছে, তা নিয়ে তারকা জুটির কেউই কোনো তথ্য দেননি। যদিও শেহজাদের বয়স আড়াই বছর হতে পারে বলে খবর বেরিয়েছে আগেই।

এর আগে নায়িকা অপুর সঙ্গে এক সন্তান রয়েছে শাকিবের। সে হিসাবে দুই ছেলেসন্তান এ নায়কের।

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
শাকিব ও বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীর। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে বুবলী লেখেন, ‘আমরা চেয়েছি একটি শুভ দিনক্ষণ দেখে আমাদের সন্তানকে সবার সম্মুখে আনতে, তবে আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। সেই সুখবরটি জানানোর জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।

‘শেহজাদ খান বীর, আমার এবং শাকিব খানের সন্তান, আমাদের ছোট্ট রাজপুত্র। আমার সন্তান আমার গর্ব, আমার শক্তি। আপনাদের সবার কাছে আমাদের সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করছি।’

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
শাকিব ও বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীর। ছবি: সংগৃহীত

শাকিব খান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম একটি শুভ দিনক্ষণ দেখে আমাদের সন্তানকে সবার সম্মুখে আনতে, তবে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। সেই সুখবরটি জানানোর জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।

‘শেহজাদ খান বীর আমার এবং বুবলীর সন্তান, আমাদের ছোট্ট রাজপুত্র। আমার সন্তান আমার গর্ব, আমার শক্তি। আপনাদের সবার কাছে আমাদের সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করছি।’

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
ছেলে শেহজাদের সঙ্গে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

শাকিবের বিয়ে ও সন্তান নিয়ে আলোচনা বেশ কয়েক বছর আগেই শুরু হয়। অপুকে বিয়ে এবং সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন তিনি।

এ অবস্থায় ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি বেসরকারি টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে শাকিবের সঙ্গে নিজের গোপন বিয়ের খবর জানান অপু।

সেখান থেকেই জনসমক্ষে আসে ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে হয় তাদের। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম শাকিবের বড় ছেলে আব্রাহাম জয়ের। সে সময় টেলিভিশনের পর্দায় অপুর সন্তান কোলে কান্নার ছবি নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

এ নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে এসে শাকিব সন্তানের কথা স্বীকার করলেও বেশ ক্ষোভ ঝাড়েন স্ত্রী অপুর ওপর। ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে অপুর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান শাকিব। এর তিন মাস পর কার্যকর হয় তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ।

শাকিব-অপু নিয়ে পরে আর তেমন কোনো খবর না বের হলেও মাঝেমধ্যে ছেলের সঙ্গে শাকিবকে সময় কাটাতে দেখা যেত। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছেলে জয়ের জন্মদিন পালন করেন দুজন। শাকিবের বাড়িতে হওয়া সে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অপু। সে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন অপু।

এদিনই বেরিয়ে আসে শাকিব-অপু-বুবলীর সম্পর্কের নতুন রসায়ন। হুট করে ফেসবুকে বেবি বাম্পের ছবি পোস্ট করে বুবলী লেখেন, ‘আমি আমার জীবনের সঙ্গে। ফিরে দেখা আমেরিকা।’

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
শাকিব ও বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীর। ছবি: সংগৃহীত

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। কবে বুবলী মা হলেন, এই সন্তানের বাবা কে, সন্তানের নাম কী- এসব নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তবে কেউই মুখ খুলছিলেন না।

বুবলী ওইদিন এক সিনেমার শুটিং সেট থেকে সাংবাদিকদের জানান, যা হয়েছে সুন্দর ও শালীনভাবেই হয়েছে। শিগগিরই এ নিয়ে বিস্তারিত জানানোর কথাও বলেন তিনি, তবে এর মধ্যেই এই সন্তানের বাবা হিসেবে শাকিবের নাম আসতে শুরু করে। ঠিকভাবে জানা যাচ্ছিল না কিছুই।

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
সন্তানকে কোলে নিয়ে বুবলী। ছবি: সংগৃহীত

অবশ্য বুবলীর মা হওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল ২০২০ সালেই। শাকিব খান প্রযোজিত ও কাজী হায়াৎ পরিচালিত বীর সিনেমায় অভিনয়ের সময় তার মা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে।

সিনেমাটির শুটিং শেষ করেই বুবলী পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় যখন দেশে লকডাউন চলছিল, তখন তিনি দেশটিতে ছিলেন।

গুঞ্জন আছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসব করেছেন এ অভিনেত্রী। সন্তানের বাবার পরিচয় হিসেবে শাকিব খানের নাম শোনা গিয়েছিল সে সময়।

পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে এসবকে গুঞ্জন বলেই জানিয়েছেন বুবলী। নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনটিও স্বীকার করেননি তিনি। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।

আরও পড়ুন:
‘মা হওয়ার জন্য আজকাল বাবা জরুরি নয়, অনেক পদ্ধতি রয়েছে’

মন্তব্য

p
উপরে