× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The message of Chhatra League is not to exaggerate religious issues
hear-news
player
google_news print-icon

ছাত্রলীগে বার্তা, ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ি নয়

ছাত্রলীগে-বার্তা-ধর্মীয়-ইস্যুতে-বাড়াবাড়ি-নয়
ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ধর্মীয় ইস্যুতে অযাচিত কোনো বক্তব্য কিংবা সংগঠনকে না জানিয়ে মামলা করতে নিষেধ করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই বার্তা সংগঠনের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ সব শাখায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ইস্যুতে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছে ছাত্রলীগ। এ ইস্যুতে অযাচিত কোনো বক্তব্য কিংবা সংগঠনকে না জানিয়ে মামলা করতেও নিষেধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আসন্ন দুর্গা পূজায় যাতে কেউ নাশকতা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ সব শাখায় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতারা জানান, সংগঠনের পদধারী বা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কারও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে সবাইকে। গুজব, নাশকতা বা চক্রান্তের কোনো তথ্য পেলে তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

সংগঠনটির উপ-দপ্তর সম্পাদক সজীব নাথ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই বার্তা সংগঠনের সব পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রীতম দাশ নামে একজনের বিরুদ্ধে ‘ইসলাম অবমাননা’র অভিযোগ তোলেন শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন। আর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন তথাকথিত ছাত্রলীগ কর্মী মাহবুব আলম ভূঁইয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

লেখক বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের কেউ যদি সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কাজে জড়িত থাকেন এবং এ ধরনের মামলার বাদী হন, তবে তারা আদর্শবিচ্যুত কর্মী। যারা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয় এবং এমন মামলার বাদী হয়, তারা কোনোভাবেই ছাত্রলীগের কেউ হতে পারে না। কারণ ছাত্রলীগের মূল নীতি না জানলে, না মানলে সে কীভাবে ছাত্রলীগের কর্মী হবে?’

প্রীতম পাকিস্তানের দুর্দশা নিয়ে দেশটির জনপ্রিয় লেখক মান্টোর একটি উক্তি ৮ জুলাই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। প্রীতমের ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান আবেদ হোসেন। তার ওই পোস্টের পর শ্রীমঙ্গলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রীতম দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন অভিযোগ তোলে ‘আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আর যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অতি উৎসাহে কেউ যাতে মামলা না করে বা ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত দিয়ে বক্তব্য না দেয় সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গলের ওই ঘটনায় প্রীতমের বিরুদ্ধে মামলাকারী ‘মাহবুব’ ছাত্রলীগের কেউ নন বলে পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। তাকে আবেদ ছাড়া ছাত্রলীগের অন্যরা চেনেন না। ঘটনাটি নজরে এলে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ।

শ্রীমঙ্গলের ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম পদক্ষেপ নিচ্ছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় জড়িত আবেদ ও মাহবুবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে লেখক নিউজবাংলাকে জানান, ‘আবেদকে সতর্ক করা হয়েছে। আর মাহবুব ছাত্রলীগের কেউ নন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে ছাত্রলীগের সংবর্ধনা, ফিরে গেল শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ তদন্তে কমিটি
কুবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত
মধ্যরাতের পর ফের সংঘর্ষে কুবি ছাত্রলীগ
মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কুবি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Akash Alis death casts a pall over the joy of worship

পূজার আনন্দে বিষাদ ঢেলেছে আকাশ মিয়ার মৃত্যু

পূজার আনন্দে বিষাদ ঢেলেছে আকাশ মিয়ার মৃত্যু বুধবার সন্ধ্যায় জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে আকাশ আলীর মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনের কান্না। ছবি: নিউজবাংলা
৩৬০ বছর পুরনো শ্রীশ্রী দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত নিরঞ্জন ভাদুড়ী বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর থেকেই নিজের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা অনুভব করছি। এত বড় একটা উৎসবে একজন মা তার আদরের ধন হারাল। একটা মায়ের বুক খালি হয়ে গেল। এই ছেলেটি আমার বা আপনারও হতে পারত। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

বছর ঘুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আসে শারদীয় দুর্গোৎসব। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। কিন্তু একটি মৃত্যু সেই আনন্দের আবহে বিষাদ ছড়িয়ে দিয়েছে।

জামালপুরে বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা যান মো. আকাশ মিয়া। আনন্দ আয়োজন উদযাপনকালে ২২ বছর বয়সী এই তরুণের মৃত্যুর শোক ছুয়ে গেছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে।

আকাশ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার সোজাউর রহমান রানার ছেলে। এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি শোকে বাকরুদ্ধ। স্থানীয় মুসলিম এবং হিন্দু কমিউনিটির মানুষও মেনে নিতে পারছেন না এই দুর্ঘটনা। তারা বলছেন- আনন্দ উৎসবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।

বৃহস্পতিবার সকালে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে আকাশ মিয়াকে দাফন করা হয়েছে।

পূজার আনন্দে বিষাদ ঢেলেছে আকাশ মিয়ার মৃত্যু
ব্রহ্মপুত্র নদের এই স্থানটিতেই বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় পানিতে ডুবে মারা যান মো. আকাশ মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

আকাশ মিয়ার এই অকাল মৃত্যুতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার সোম বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস মুকন্দবাড়ির প্রতিমার নিচ থেকে ছেলেটির দেহ উদ্ধার করার পর আমরা সবাই অস্থির হয়ে গেলাম। ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। সব জায়গায় খবর লাগালাম। পরে তার পরিবারের লোকজন এল। রাত ১২টার পর আমরা হাসপাতাল থেকে এলাম।

এ ঘটনায় আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাই শোকাহত। এমন দুঃখজনক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদেরে আরও সচেতন থেকে উৎসব উদযাপন করা উচিত।’

৩৬০ বছর পুরনো শ্রীশ্রী দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত নিরঞ্জন ভাদুড়ী বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন উৎসবে মুসলমান ছেলেরাই বেশি থাকে। আমরা সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। একটি উৎসবে এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়।

‘ঘটনাটি শোনার পর থেকেই নিজের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা অনুভব করছি। এত বড় একটা উৎসবে একজন মা তার আদরের ধন হারাল। একটা মায়ের বুক খালি হয়ে গেল। এই ছেলেটি আমার হতে পারত। আপনারও হতে পারত। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

জামালপুরের মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘আনন্দ উৎসবে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সবারই আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে ছুয়ে গেছে এই বিয়োগান্তক ঘটনা।’

বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক সাযযাদ আনসারী বলেন, ‘জামালপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসবে মুসলমান কিশোর-যুবকরা বরাবরই দলে দলে অংশগ্রহণ করে থাকে। সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে। এটি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি বড় উদাহর। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ছেলেটির এই অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কারও কাম্য নয়।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার রেসকিউ বোট ক্রু তানজিল আহম্মেদ তন্ময়। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মো. আকাশ আলী নামের ছেলেটি দুইবার নদে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধু-বান্ধবরা দুবারই তাকে নদের পাড়ে তুলে আনে।

‘তৃতীয় বার যখন ছেলেটি নদে পড়ে যায় তখন আর কেউ খেয়ালা করেনি। মিনিট দশেক পর তার অনুপস্থিতি দেখে সঙ্গীয় বন্ধুরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।ক দেয় পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছেলেটিকে নদীতে বিসর্জন দেয়া প্রতিমার নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করে।’

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এই মৃত্যু নিয়ে আকাশের মা-বাবার কোনো অভিযোগ নেই। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
প্রতিমার সঙ্গে ডুবে মুসলিম যুবকের মৃত্যু
পূজার আলোকসজ্জার তারে জড়িয়ে যুবকের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ichamati idols of Bangladesh India are sacrificed

ইছামতীতে বাংলাদেশ-ভারতের প্রতিমা বিসর্জন

ইছামতীতে বাংলাদেশ-ভারতের প্রতিমা বিসর্জন  ইছামতী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন বাংলাদেশ-ভারতের নাগরিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
করোনার কারণে গত দুই বছর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন হয়নি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা এক নৌকা বৈঠকে ফের এই রীতি শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।

শতাব্দী প্রাচীনরীতি মেনে এবারও বাংলাদেশ-ভারতের দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে ইছামতী নদীতে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার টাকির ইছামতী নদীতে বুধবার বেলা ৩টার থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশের মানুষও ইছামতীতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন করেন।

করোনার কারণে গত দুই বছর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন হয়নি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা এক নৌকা বৈঠকে ফের এই রীতি শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।

তবে করোনার ফের বিস্তার রোধে এবার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, দুদেশের নাগরিকই ইছামতী নদীতে নামতে পারবেন। তবে নদীর মাঝখানে একটা সীমারেখা থাকবে। যে যার নিজের জলসীমার মধ্যে বিসর্জনে অংশ নেবেন। মাঝখানে সীমান্তরক্ষীরা স্পিডবোটে নজরদারি চালাবে।

ইছামতী নদীতে দুদেশের মানুষের দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের ঐতিহাসিক পরম্পরা দেখতে দূর-দূরান্ত, এমনকি বিদেশ থেকেও মানুষের সমাগম ঘটে।

বিসর্জন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক ছিল বিএসএফ এবং বিজিবি। টাকি পৌরসভার পাশাপাশি বসিরহাট এলাকায় মোতায়েন ছিল বাড়তি নিরাপত্তারক্ষী। রাজবাড়ী ঘাট, সৈয়দপুর ঘাট এবং ঘোষ বাবুর ঘাটে ছিল তাদের কড়ানজর।

আরও পড়ুন:
দুর্গার কৈলাস যাত্রার ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা
রাজ্যবাসীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা মমতার
উমার বিদায়বেলা
দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা
বরাবরই ব্যতিক্রম টাইগার সংঘের পূজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Goodbye Goddess

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
মর্ত্য ছেড়ে বুধবার কৈলাসে ফিরতে যাত্রা করেছেন দেবী দুর্গা। পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। এর অর্থ হলো সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনা। দেবী মর্ত্য ছেড়েছেন নৌকায় চড়ে। এর ফলে ধরণি হবে শস্যপূর্ণ, তবে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা। বিভিন্ন জেলা থেকে নিউজবাংলার প্রতিবেদকদের পাঠানো দুর্গাবিদায়ের ছবি নিয়ে এই ফটোস্টোরি।
দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবী মাকে বিদায় জানাতে উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অন্যকে সিঁদুরে রাঙান, ঢাক-ঢোলের তালে নাচ-গান করেন। ছবিটি ব‌রিশাল মহানগ‌রের রাধা গো‌বিন্দ নিবা‌সের। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মণ্ডপে দেখা গেছে দুর্গাবিদায়ের আগ মুহূর্তের এই সিঁদুর খেলার দৃশ্য। ভক্তরা জানান, সিঁদুরের লাল রঙ শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। ছবিটি দক্ষিণ কালিবাড়ি পূজামণ্ডপ থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বিসর্জনের জন্য আনা হয়েছে দেবী দুর্গার এই প্রতিমা। পতেঙ্গার পাশাপাশি নেভাল-২, অভয়মিত্র ঘাট এবং কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট সেতু এলাকাতেও হয়েছে বিসর্জন। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবীর বিসর্জন হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এই দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীরাও জড়ো হন। এই ছবি কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্ট থেকে তোলা। বুধবার বিকেলে সেখানে বিসর্জন করতে ও দেখতে ভিড় জমায় লাখো লোক। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর চারটি ঘাটে হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। সবচেয়ে বেশি বিসর্জন করা হয় মুন্নুজান ঘাটে। এ বছর জেলায় সাড়ে ৪০০ মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবীর আরাধনা, সিঁদুর খেলা ও নাচ-গানের পর লালমনিরহাটে বিকেল ৪টায় শুরু হয় বিসর্জন। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
মৌলভীবাজার জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সিদ্ধান্তে বিকেলে মনুনদের দক্ষিণ প্রান্তে পৌরশহরের পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

দেবী বিদায়ের মুহূর্ত
দেবীর বিসর্জনের এই দৃশ্য সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর রিভার ভিউ এলাকার। বিকেল থেকে সেখানে শুরু হয় দুর্গোৎসবের সবশেষ কার্যক্রম। ছবি: নিউজবাংলা
আরও পড়ুন:
দুর্গার প্রতিমা গড়ে আলোচনায় ১৩ বছরের কিশোর
দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন লিটন-সৌম্য
মোমের আলোয় অপার্থিব পূজা মণ্ডপ
‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়
বিদায়ের ক্ষণে দেবী দুর্গা, আজ চামুণ্ডার পূজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Durga is returning from her fathers house to her husbands house

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা বুধবার বিকেলে রাজধানীর বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সকালে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা। এই আয়োজন শেষে বিসর্জন দিতে ঢাকা মহানগরের পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমাবাহী গাড়িগুলো জড়ো হয় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে।

লাখো-কোটি ভক্তকে বিচ্ছেদের কষ্টে ভাসিয়ে কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা। শেষ হলো মর্ত্যে বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বার্ষিক অবকাশ। ভক্তদের সঙ্গে বিচ্ছেদের বিজয়া দশমীতে তাই বেজেছে বিষণ্ণতার সুর ৷

একে একে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী আর নবমী তিথি পার করে বিজয়ার শেষ দিনে বুধবার বিকেলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সব মণ্ডপে দেবীকে বিদায় জানান ভক্ত-পুণ্যার্থীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলে নারীদের সিঁদুরের খেলা।

রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে সকালে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা। এই আয়োজন শেষে বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন প্রান্তে বিসর্জন দিতে ঢাকা মহানগরে পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমাবাহী গাড়ি জড়ো হয় নদী তীরে।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
বুধবার বিকেলে রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ভক্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিকেল সাড়ে ৩টায় ওয়ারীর টিপু সুলতান রোড থেকে শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ জিউ বিগ্রহ মন্দির থেকে প্রথম প্রতিমা বির্সজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বির্সজন শুরু হয়।

এরপর একে একে আসে ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি, টিকাটুলির সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ থেকে ইয়াংস্টার পূজা কমিটি ও হাজারীবাগ সিটি কলোনি মন্দিরের প্রতিমা।

প্রতিমা নিয়ে আসা সারি সারি ট্রাক থেকে পর্যায়ক্রমে সেগুলো নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে দেয়া হয় বিসর্জন।

ভক্তরা বিষাদ ভুলে হাসিমুখে দেবী মাকে বিদায় জানাতে উৎসবে মেতে ওঠেন। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অন্যকে সিঁদুরে রাঙান, ঢাক ঢোলের তালে নাচ-গান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সারাটা বছর যেন এমন আনন্দে কেটে যায়।

স্বামীবাগ থেকে এসেছেন ননী গোপাল সরকার ও তার স্ত্রী পুষ্প রানী সরকার। তারা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এসেছি মাকে বির্সজন দিতে। আজ মাকে বির্সজন দিলাম, যাতে মা আগামী বছর আবার আসে আমাদের জন্য সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে।’

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
বিজয়া দশমীতে রাজধানীর এক পূজা মণ্ডপে ভক্ত-পুণ্যার্থীরা মাতেন সিঁদুর খেলায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিকেল ৩টায় রাজধানীর মোহাম্মাদপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কড়া পুলিশ পাহারায় একাধিক প্রতিমাবাহী গাড়িগুলো বসিলা অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ভক্তরা ঢাক-ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে নেচে-গেয়ে দেবীকে বিদায় জানাচ্ছেন। সড়কের দুই পাশে পথচারীরা দাঁড়িয়ে এই আনন্দ আয়োজনের শেষ মুহূর্তের দৃশ্য উপভোগ করছেন। বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে।

এদিকে নদী প্রান্তে এসে দেখা যায় হাজারও মানুষের ভিড়। শেষবারের মতো দেবী দুর্গাকে দেখতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকে।

রায়েরবাজার শেরেবাংলা রোডের কালী মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে এসেছেন প্রদীপ মণ্ডল ও অন্যরা। এই ভক্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মায়ের কাছে চেয়েছি তিনি আমাদের সকলের মঙ্গল করুন। সুখে-শান্তিতে রাখুন। সকলের মঙ্গল হোক- এটাই কামনা করি৷’

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সদরঘাটসহ বুড়িগঙ্গার বিভিন্ন অংশে ছিল কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান নিউজবাংলাক বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আশা করি প্রতিমা বিসর্জনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

‘প্রতিমা বির্সজন দিতে গিয়ে যাতে কোনোরকম দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমরা বৃদ্ধ, শিশু ও মহিলাদের নৌকায় উঠতে দিচ্ছি না। এখানে পূজা উদযাপন কমিটি আছে। তারা যাদের সিলেক্ট করছে তারাই কেবল নৌকায় উঠে প্রতিমা বির্সজন দিতে পারছে।’

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
রাজধানীতে বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজনেও ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার জন্য ছিল নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতি।

প্রতিমা বির্সজনের সময় বুড়িগঙ্গা নদীতে বাংলাদেশ নৌ-পুলিশের জলযান নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি স্পিড বোট দিয়ে প্রতিমা বির্সজনের ঘাটসহ আশপাশ এলাকা টহল দেয়। নদীপথে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া প্রতিটা নৌকার সঙ্গে ছিল নৌ-পুলিশের স্পিড বোট।

মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ শংকর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিমা বির্সজন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে আমরা খুশি। সব মিলে ৯০টি মন্দির থেকে এখানে প্রতিমা নিয়ে আসা হচ্ছে বির্সজনের জন্য। আমরা আমাদের কমিটির মাধ্যমে এই বির্সজন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে বিজয়া দশমীর মাধ্যমে। তাই তো ‘দশমী’ কথাটির মধ্যে রয়েছে আবেগ, বিচ্ছেদের কষ্ট। শনিবার ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গা কৈলাস ছেড়ে সপরিবারে এসেছিলেন মর্ত্যে। দশমী তিথিতে দেবী ফিরছেন কৈলাসে।

ঢাকাসহ সারা দেশে আজই দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এক বছরের অপেক্ষা- যেদিন দেবী আবার স্বামীর ঘর থেকে নেমে আসবেন মর্ত্যে, ভক্তদের মাঝে।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
রাজধানীর বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন ভক্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, টানা যুদ্ধ করে দশম দিনে দেবী দুর্গা বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। এ জন্য একে বিজয়া দশমী বলা হয়ে থাকে।

পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। এর অর্থ হলো সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনা।

আর দেবী মর্ত্য ছাড়ছেন নৌকায় চড়ে। এর ফলে ধরনী হবে শস্যপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা।

সারা দেশে এবার ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
At the time of Durgas journey to Kailash vermilion is played in the mandapam

দুর্গার কৈলাস যাত্রার ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা

দুর্গার কৈলাস যাত্রার ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা রাজধানীর একটি মণ্ডপে চলছে সিঁদুর খেলা। ছবি: নিউজবাংলা
সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের আশপাশের হিন্দু পরিবার তখন ভিড় করেছে মন্দিরে। বিবাহিত নারীরা এ সময় দেবীকে পান ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বিদায় জানান। এরপর একে অন্যের কপালে ও পায়ে সিঁদুর দিয়ে ও মিষ্টি খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে পালন করেন বিজয়া দশমী। সিঁদুর খেলা বাঙালি সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উদযাপনের একটি ঐতিহ্যবাহী উপাদান।

বিজয়া দশমীতে বুধবার দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। সারা বছরের অপেক্ষা শেষ হবে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। তবে এর আগে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর বিজয়া উদযাপনে শুরু হয় রমণীদের সিঁদুর খেলা। এই দৃশ্য বহু বছর ধরে চলে আসছে।

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকেই সিঁদুর খেলা শুরু হয়েছে। এর আগে ৯টা ৫৭ মিনিটে দেবীর দশমী বিহিত পূজা শেষ হয়, সেই সঙ্গে দেয়া হয় দর্পণ-বিসর্জন। এরপর বিকেল ৩টায় শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে বুড়িগঙ্গার ঘাটে। সেখানে দেয়া হবে বিসর্জন।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের আশপাশের হিন্দু পরিবার তখন ভিড় করেছে মন্দিরে। বিবাহিত নারীরা এ সময় দেবীকে পান ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বিদায় জানান। এরপর একে অন্যের কপালে ও পায়ে সিঁদুর দিয়ে ও মিষ্টি খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে পালন করেন বিজয়া দশমী। সিঁদুর খেলা বাঙালি সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উদযাপনের একটি ঐতিহ্যবাহী উপাদান।

সিদ্ধেশ্বরীসহ ঢাকা ও সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে সকাল থেকে একই চিত্র দেখা যায়। দেবীকে বিদায় দেয়ার প্রাক্কালে চলছে সিঁদুর খেলা।

সিঁদুর খেলার বিশেষ একটি কারণ কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয়, সিঁদুর এর স্ত্রী তার সিঁদুরের শক্তি দিয়ে স্বামীকে রক্ষা করেন। সিঁদুরের লাল রং শক্তি ও ভালোবাসা বোঝায়। তাই এদিন মায়ের আশীর্বাদে চলে সিঁদুর খেলা।

অন্যদিকে এটাও বিশ্বাস করা হয় যে, টানা ৯ দিন মহিষাসুরকে যুদ্ধে হারানোর পর আজকের দিনে জয়লাভ করেন দেবী দুর্গা। তাই বিজয় উদযাপনে খেলা হয় সিঁদুর।

অনেকেই মনে করেন, দেবীকে মর্ত্য থেকে কৈলাসে স্বামী শিবের কাছে পাঠানোর সময় সিঁদুর দিয়ে বিদায় দিতে হয়। তাই এই সময় বিবাহিত নারীরা সিঁদুর খেলা করেন।

মন্দিরে সিঁদুর খেলা নিয়ে ব্যস্ত এক পুণ্যার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, সারা বছর মায়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। আর এই দিন আমাদের কাছে বিশেষ কিছু। দশমীর আগে সিঁদুর খেলা বিজয়ার তাৎপর্য ও স্মৃতিকে আরো সতেজ রাখে আমাদের মনে।

একই কথা অন্যসব পুণ্যার্থীরও। বিজয়া দশমীর প্রধান তাৎপর্য তাদের কাছে সিঁদুর খেলার মধ্যে নিহিত।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, এ জন্য মন্দিরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারা দেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। তবে ঢাকা মহানগরীতে বিকেল ৩টার পর থেকে বিসর্জন শুরু হবে।

পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। দুর্গা গজে চড়ে এলে সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনেন। আর আজ বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়বেন নৌকায় চড়ে। নৌকায় গমনেও ধরণি হবে শস্যপূর্ণ, তবে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা।

এবার সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপ ৩২ হাজার ১৬৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে।

আরও পড়ুন:
রাজ্যবাসীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা মমতার
উমার বিদায়বেলা
দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mamata congratulated the people of the state on Vijaya

রাজ্যবাসীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা মমতার

রাজ্যবাসীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা মমতার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
রাজ্যবাসীকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ বিজয়া, দশেরা। বিশেষ করে মাতৃ পূজার আরাধনা। আপনাদের নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়। কিন্তু মা আবার আসবেন বলে আমরা উৎসাহিত হই। এটা মার চলে যাওয়া নয়, মা আমাদের হৃদয়ের মধ্যে থাকেন। তাই মিষ্টি মুখে একটাই চাওয়া সবাই যেন ভালো থাকে। অনেক অনেক শুভেচ্ছা সবাইকে।’

দুর্গাপূজার আজ দশমী। দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের দিন। দেবী দুর্গার অসুর নিধন পর্বের শেষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান মানুষ। এ দিন রাজ্যবাসীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার এক ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ বিজয়া, দশেরা। বিশেষ করে মাতৃ পূজার আরাধনা। আপনাদের নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়। কিন্তু মা আবার আসবেন বলে, আমরা উৎসাহিত হই। এটা মার চলে যাওয়া নয়, মা আমাদের হৃদয়ের মধ্যে থাকেন। তাই মিষ্টি মুখে একটাই চাওয়া সবাই যেন ভালো থাকে। অনেক অনেক শুভেচ্ছা সবাইকে।’

শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গার নিরঞ্জন হয় দর্পণে। এরপর শুরু হয় শুভেচ্ছা বিনিময়। সিঁদুর খেলা। গঙ্গার জলে দুর্গা প্রতিমার আনুষ্ঠানিক বিসর্জনের পর শুরু হয় কোলাকুলি। মিষ্টিমুখ।

আজ থেকে আগামী ৪ দিন দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন চলবে কলকাতা পৌরসভা ও পুলিশের নির্দিষ্ট করে দেয়া ১৬টি গঙ্গার ঘাটে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক পুলিশ প্রশাসন। প্রত্যেকটি বিসর্জন ঘটে থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ। হাজির থাকছে, দুর্ঘটনা মোকাবিলার দল। জলপথ, স্থলপথে চলবে পুলিশি নজরদারি। থাকছে, ৭টি ওয়াচ টাওয়ার। সিসিটিভি ক্যামেরা।

গত বছরের মতো এবছরও নাচ, হুল্লোর, ডিজে চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কলকাতার ২৩৮টি জায়গায় পুলিশ পিকেট বসেছে। ভিড় এড়াতে প্রতিমা বিসর্জন দেখার জন্য নিমতলা ঘাট এবং বাজা কদমতলা ঘাটে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে।

বৃষ্টির বাধা অতিক্রম করে রাজ্যের মানুষ শারদ উৎসবে মেতে ওঠেন। কলকাতার গলি থেকে রাজপথ দর্শনার্থীদের দখলে চলে যায়। মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়ে।

শাস্ত্র মতে, আজ প্রতিমা নিরঞ্জন হলেও বহু পূজা মণ্ডপে আগামী কয়েক দিন প্রতিমা থাকবে। কলকাতায় দুর্গা প্রতিমা দর্শন চলবে আরও কয়েকদিন। ৮ অক্টোবর কলকাতায় দুর্গাপূজার কার্নিভাল।

আরও পড়ুন:
উমার বিদায়বেলা
দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা
বরাবরই ব্যতিক্রম টাইগার সংঘের পূজা
দুর্গার প্রতিমা গড়ে আলোচনায় ১৩ বছরের কিশোর
দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন লিটন-সৌম্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Umas farewell

উমার বিদায়বেলা

উমার বিদায়বেলা মর্ত্য ছেড়ে বুধবার কৈলাসে ফিরবেন দেবী দুর্গা। ছবি: নিউজবাংলা
সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ননী গোপাল গাঙ্গুলী নিউজবাংলাকে জানান, সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ-বিসর্জন দেয়া হয়। বিকেল ৩টায় বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজন হবে শোভাযাত্রার।

একে একে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী আর নবমী নিশি পার করে এলো বিজয়া। মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরবেন উমা তথা দেবী দুর্গা।

ঢাকাসহ সারা দেশে সব মণ্ডপে দেবীকে বিদায় দিতে হবে বুধবার।

উমার বিদায়বেলা

সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ননী গোপাল গাঙ্গুলী নিউজবাংলাকে জানান, সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ-বিসর্জন দেয়া হয়। বিকেল ৩টায় বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজন করা হবে শোভাযাত্রার।

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিজয়ার দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বুধবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমীর বিহিত পূজা এবং পূজা শেষে দর্পণ-বিসর্জন করা হয়। দুপুর ১২টায় রয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান। বিকেল ৪টায় বিজয়া শোভাযাত্রা।’

দুর্গাপূজা শেষ হয় বিজয়া দশমীর মাধ্যমে। তাই ‘দশমী’ কথাটির মধ্যে রয়েছে আবেগ, কষ্ট। শনিবার ষষ্ঠীতে দেবী কৈলাস ছেড়ে সপরিবারে এসেছিলেন মর্ত্যে। দশমী তিথিতে দেবী ফিরবেন কৈলাসে।

উমার বিদায়বেলা

আজকের দিনেই দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে এবং শুরু হবে এক বছরের অপেক্ষার পালা।

শাস্ত্র অনুযায়ী, টানা যুদ্ধ করে দশম দিনে দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। এ জন্য একে বিজয়া দশমী বলা হয়ে থাকে।

পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ১০টায় শুরু হয় সিঁদুরখেলা। এ সময় নারীরা দেবী দুর্গাকে পান ও মিষ্টিমুখ করান। একে অপরের সঙ্গে মেতে ওঠেন সিঁদুরখেলায়।

উমার বিদায়বেলা

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, ‘বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, এ জন্য মন্দিরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারা দেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে, তবে ঢাকা মহানগরীতে বিকেল ৩টার পর থেকে বিসর্জন শুরু হবে।’

পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। এর অর্থ হলো সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনা।

দেবী মর্ত্য ছাড়ছেন নৌকায় চড়ে। এর ফলে ধরণি হবে শস্যপূর্ণ, তবে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা।

সারা দেশে এবার দুর্গাপূজার মণ্ডপ ৩২ হাজার ১৬৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়
বিদায়ের ক্ষণে দেবী দুর্গা, আজ চামুণ্ডার পূজা
পাঁচগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী লাল দুর্গা
মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ঘুরছেন পুণ্যার্থীরা, নিরাপত্তায় সন্তোষ
গান্ধীর আদলে অসুর, হিন্দু মহাসভার বিরুদ্ধে এফআইআর

মন্তব্য

p
উপরে