× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
I have never seen such a traffic jam in Dhaka like today
hear-news
player
google_news print-icon

‘ঢাকায় আজকের মতো এত যানজট কখনও দেখিনি’

ঢাকায়-আজকের-মতো-এত-যানজট-কখনও-দেখিনি
রাজধানীতে মঙ্গলবার সকালে রাস্তায় বের হয়ে অসহনীয় যানজটে পড়েন নগরবাসী। ছবিটি মহাখালী এলাকার। ছবি: ফেসবুক
এদিন সকাল থেকেই উত্তরা, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, তেজগাঁও রামপুরাসহ প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ির এমন অস্বাভাবিক প্যাঁচ লেগে যায়, যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন। পুলিশ বলছে, গাজীপুরে সড়কের গাড়ি চলাচল স্থবির। কিন্তু সেটার প্রভাবে গোটা ঢাকা কেন অচলপ্রায় থাকবে- সে প্রশ্নের জবাব পাওয়া কঠিন।

রাজধানীতে যানজট কোনো নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু কোনো কোনো দিন পরিস্থিতি ছাড়িয়ে যায় সহ্যের সীমাকে, যেটি দেখা গেল মঙ্গলবার।

এক কিলোমিটার যেতে দেড় ঘণ্টা, দুই কিলোমিটার যেতে দুই ঘণ্টা- এমন অভিজ্ঞতা হচ্ছে নগরবাসীর। যানজট দেখে সড়ক পাল্টে চলতে হয়েছে। কাউকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে, কেউ কেউ নিজেই হেঁটে যেতে বাধ্য হয়েছেন গন্তব্যস্থলে।

এটি কোনো একক সড়কের চিত্র নয়। প্রায় সব কটি প্রধান সড়কই স্থবির হয়ে আছে সকাল থেকে।

মোশাররফ হোসেন নামের একজন ফেসবুকে রসিকতা অথবা আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘এক ঘণ্টা ২০ মিনিটে বিজয় সরণি থেকে বিজয় সরণি আসলাম।’

অর্থাৎ এক কিলোমিটারেরও কম রাস্তা পাড়ি দিতে লেগেছে এই দীর্ঘ সময়।

রাজধানীজুড়ে যানজটের যে দুঃসহ পরিস্থিতি, তা ফুটে উটেছে মোশাররফের কথায়।

এদিন সকাল থেকেই উত্তরা, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, তেজগাঁও রামপুরাসহ প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ির এমন অস্বাভাবিক প্যাঁচ লেগে যায়, যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন।

ঢাকায় একটি কর্মশালায় যোগ দিতে রাজশাহী থেকে হাওয়াই জাহাজে করে এসে ভুগেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ সবুজ।

‘ঢাকায় আজকের মতো এত যানজট কখনও দেখিনি’
রাজধানীর কুর্মিটোলায় বনানী ফ্লাইওভারে যানজটে গাড়ির সারি। ছবি: ফেসবুক

তার ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণ করে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে। সেখান থেকে বের হয়ে উবারে গাড়িভাড়া করার পর লেগে যায় আরও মিনিট তিরিশেক। যাবেন ফার্মগেট।

বেলা দেড়টায় নিউজবাংলাকে তিনি জানান, তখনও গাড়ি হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুর সামনে। অর্থাৎ পৌনে দুই ঘণ্টায় তিনি পাড়ি দিয়েছেন কেবল পাঁচ কিলোমিটার। তখনও তার পথের বাকি ৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার।

এরই মধ্যে একজনের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছে বকুলকে। এখন বিকেলে ইউনিসেফের মিটিং ধরা নিয়ে দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেছে তার।

বকুল পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই। চাকরি জীবনের প্রথম কয়েক বছর কাটিয়েছেন রাজধানীতেই। ফলে এখানকার সড়কের পরিস্থিতি তার অজানা নয়। কিন্তু তিনি বুঝতেও পারছেন না, এত যানজট কেন।

তার মানে, ঢাকায় এত যানজট কখনও দেখেননি?

বকুল বলেন, ‘না, না, না, না। এত জ্যাম কেন, বুঝতে পারলাম না। গত সপ্তাহেও তো এসেছি। বিমানবন্দর থেকে এক ঘণ্টাতেই পৌঁছে গিয়েছি। আজকে খুবই অস্বাভাবিক, গাড়ি একেবারে নড়ছেই না।’

একই পথ ধরে বাসে করে আসতে গিয়ে ভুগেছেন সংবাদকর্মী হাফসা হোসেন। তার বাসা উত্তরার জসিমউদ্দীন রোডের কাছে। কাজ করেন চ্যানেল আইয়ে।

তিনি বাসে ওঠেন সকাল সাড়ে ১০টায়। তিন ঘণ্টা পর দেড়টা পার হওয়ার পর অবস্থান ছিল মহাখালীর আমতলীর কাছে। অফিস তেজগাঁওয়ের নাবিস্কোতে।

হাফসা জানান, এমনিতে বাসে করে বাসা থেকে অফিসে আসতে এক ঘণ্টা, কখনও দেড় ঘণ্টা লাগে তার। বলেন, ‘আজ যে ভয়াবহ অবস্থা, তা কখনও হয়নি।’

হাফসার শিফট ছিল সকাল ১১টা থেকে। তাতে যোগ দেয়া হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক (উত্তরা) বিভাগের উপকমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল নিউজবাংলাকে জানান, গাজীপুরে মুন্নু গেট থেকে মিল গেট এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ভাঙা। তার মধ্যে পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি পাস হচ্ছিল না। যে কারণে যানজট হয়েছে, সেটার জের রাজধানীতে ছড়িয়েছে।

কিন্তু এই পথ যদি যানজটের কারণ হবে, তাহলে উত্তরা থেকে মহাখালীগামী গাড়ি কেন এভাবে স্থির হয়ে বসে থাকবে, তার কোনো ব্যাখ্যা তার কাছ থেকে পাওয়া গেল না।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজের ট্রাফিক বুলেটিনে বলা হয়, ‘ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার এর পিয়ার ক্যাপ এর জন্য খুঁড়ে রাখা উন্মুক্ত গর্ত, গর্তের চারপাশে টিন দিয়ে ঘেরাও করে রাস্তা সংকুচিত হওয়া এবং খানাখন্দগুলো দীর্ঘ মেয়াদে মেরামত না করার কারণে উভয়মুখী এক লেনে গাড়ি চলাচল করছে।

‘অবকাঠামোগত এ দুর্বলতার কারণে মহাসড়কটির এ অংশে উভয়মুখী রাস্তায় যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখার প্রয়াসে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু জিএমপি এরিয়ার অন্যান্য এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হলেও ডিএমপিসহ টঙ্গী-মিলগেট এলাকায় বিআরটি প্রজেক্টের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে মানুষজনের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

‘এর সঙ্গে গত রাত থেকে ভারি বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ট্রাফিক বিভাগ বিআরটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।’

ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার রেফাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের প্রভাব পুরো শহরে পড়েছে। আর রাত থেকে বৃষ্টির কারণে রমনার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যে কারণে সকাল থেকে যানজট লেগে আছে।’

তবে দুপুরের পর গাজীপুরের পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়। যে কারণে সেই পথে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু রাজধানীতে এর প্রভাব থেকেই যায়।

ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর একটি সম্মেলন হচ্ছে। অতিথিরা হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছেন। তাদের কয়েকটি বাস চলাচল করেছে, খুব কম সময়ের মধ্যে। এর পাশাপাশি রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ।’

আরেক সংবাদকর্মী জান্নাতুল ফেরদাউস তানভীর বাসা মিরপুরের পল্লবীতে। কর্মস্থল তেজগাঁওয়ে। সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার পর গন্তব্যে যেতে পারেননি। তীব্র যানজট দেখে চালক তাকে নামিয়ে দেন ইসিবি চত্বরে। পরে ওঠেন বাসে। সেখান থেকে নামেন আমতলী সেতু ভবনে। এরপর বাস থেকে নেমে মহাখালী মোড় পার হয়ে রিকশায় করে যান তেজগাঁওয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কার্যালয়ে। সব মিলিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা লেগেছে।

নিউজবাংলাকে তানভীর বলেন, ‘এর আগে তিন ঘণ্টা লেগেছে, এমন অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু সাড়ে চার ঘণ্টা লাগেনি কখনও। মেজাজ ভীষণ খারাপ।

নগরীর দক্ষিণ অংশে মোহাম্মদপুরের আদাবরে থাকেন আল হেলাল শুভ। তারও কর্মস্থল তেজগাঁওয়ে। তিনি নিজেই বাস থেকে নেমে পড়েছেন যানজট দেখে।

আগারগাঁওয়ে আসার পর যখন দেখেন গাড়ি আর আগাচ্ছে না, তখন নেমে নিলেন বাইক।

শুভ বলেন, ‘আগারগাঁও পর্যন্ত বাসে। দেখি পুরো রাস্তা জ্যাম। বাস থেকে নেমে পরে নিলাম বাইক। সেই বাইক প্রথমে লিংক রোড ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে আসতে চাইল। কিন্তু একটু এগিয়ে চালক দেখেন, পুরো রাস্তা ব্লক। এ দেখে আবার বাইক ঘুরিয়ে বিজয় সরণির দিকে যান। বিজয় সরণিও পুরো ব্লক দেখে পরে যান ফার্মগেট হয়ে। এরপর সাত রাস্তা হয়ে হাতিরঝিল দিয়ে এসেছি অফিসে।’

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রায় উত্তরে দুঃসহ যানজটের কারণ জানালেন সড়ক মন্ত্রী
গাবতলীতে যানজট নেই
ঈদযাত্রার জট সায়েদাবাদ যাত্রাবাড়ীতে
আরএসটিপির চার প্রকল্প ২০৩৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তাব
যানজটে ভুগিয়ে আ.লীগ নেতার করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Nephew killed by uncles weapon in conflict over land

জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, চাচার অস্ত্রের আঘাতে নিহত ভাতিজা

জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, চাচার অস্ত্রের আঘাতে নিহত ভাতিজা
বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচর থেকে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে চাচার অস্ত্রের আঘাতে তিনজন আহতকে ঢাকা মেডিক্যালে আনলে মুন্না নামের একজন মারা যান। দুজনের চিকিৎসা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় জানানো হয়েছে।’

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর কয়লার ঘাট জজবাড়ী এলাকায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে চাচার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভাতিজা মুহাম্মদ মুন্না নামের একজন নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় মুন্নার দুই ভাই মোহাম্মদ সানজিদ ও মোরসালিন আহত হয়েছেন।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া নিহত মুন্নার মামা আব্দুস সালাম জানান, বিকেলে সম্পত্তির ব্যাপারে তাদের তিন ভাইয়ের সঙ্গে তাদের চাচার বৈঠক করার কথা ছিল। তারা সেখানে সময়মতো গেলে চাচা পলাশ তার স্ত্রী (চাচি), চাচাতো ভাই পুলক ও শামীম ধারালো তাদের কোপাতে শুরু করে।

পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে মুন্নাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সালাম বলেন, ‘তাদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা মোকদ্দমা চলছে। আজ তার চাচা পলাশ নতুন ভবন তৈরির কাজে হাত দেন। পরে বাড়ির সীমানা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। সেখানে বাধা দিলে এমন ঘটনা ঘটে।’

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচর থেকে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে চাচার অস্ত্রের আঘাতে তিনজন আহতকে ঢাকা মেডিক্যালে আনলে মুন্না নামের একজন মারা যান। দুজনের চিকিৎসা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ট্রাক উল্টে বাজারে, নিহত ৪
নামাজ শেষে বের হয়ে পিকআপ চাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের
বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়কে ঝরল ২ প্রাণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গেল ৩ প্রাণ
বাস উল্টে প্রাণ গেল ২ নারীর , আহত ১৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mayors order to ensure the cleanliness of the worship hall

পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রের নির্দেশ

পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রের নির্দেশ শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেছে ডিএনসিসি। ছবি: সংগৃহীত
‘শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব এলাকায় মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ হচ্ছে কি না- সে বিষয়েও খোঁজ নিতে হবে।’

দুর্গাপূজায় মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রোববার নগর ভবনের হলরুমে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, ‘সব ধর্মের উৎসব আয়োজনে ডিএনসিসি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হবে।

‘শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব এলাকায় মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ হচ্ছে কি না- সে বিষয়েও খোঁজ নিতে হবে।’

ডিএনসিসির কুইক রেসপন্স টিমকে প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় পূজামণ্ডপে আগত শিশু ও নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যানজট নিরসনে অনুরোধ করা হয় পুলিশকে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার সঞ্চালনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন বিষয়ে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা।

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে এবার কর্কশিটের দুর্গা
গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
আজ মহাসপ্তমী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The road of Tejgaon is once again occupied by trucks

তেজগাঁওয়ের সড়কটি ফের ট্রাকের দখলে, জনভোগান্তি

তেজগাঁওয়ের সড়কটি ফের ট্রাকের দখলে, জনভোগান্তি তেজগাঁওয়ের চার লেনবিশিষ্ট আনিসুল হক সড়কের অর্ধেকের বেশি দখল করে বানানো হয়েছে ট্রাক স্ট্যান্ড। ছবি: নিউজবাংলা
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘এই সড়ক দখলের কারণে যানজট ও জনভোগান্তি হচ্ছে সেটা বুঝি। তারপরও এই ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান না চালানোর কারণ এই জায়গা ছাড়া ট্রাক রাখার আর কোনো জায়গা নেই। যত দ্রুত সম্ভব আধুনিক টার্মিনাল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। আশা করছি দ্রুতই একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে।’

আনিসুল হক মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্নয়নে যুগান্তকারী বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেসবের মধ্যে অন্যতম ছিল তেজগাঁওয়ে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে প্রশস্ত সড়কটি দখলমুক্ত করা। তাতে ফার্মগেট থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে নিত্যদিনের যানজট দূর হয়। পুরো এলাকা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।

আনিসুল হক প্রয়াত হয়েছেন। আর তেজগাঁওয়ের সদা ব্যস্ত সড়কটিও বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে আবারও স্থায়ী স্ট্যান্ড বানিয়ে নিয়েছেন ট্রাক চালকরা। সড়কটির বেশিরভাগ জায়গা চলে গেছে ট্রাকের দখলে। এর ফলে সংকুচিত হয়ে পড়া সড়কে ফিরেছে যানজটের সেই পুরনো চেহারা। এই সড়কে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার লেখালেখি হলেও কর্তৃপক্ষ সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে।

ট্রাক চালকেরা বলছেন, রাজধানীতে ট্রাক রাখার কোনো জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। সরকার ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরি করে দিলেই তারা আর সড়কে ট্রাক রাখবেন না।

অপরদিকে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, একটা আধুনিক ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরির জন্য জায়গা চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকার জায়গা বরাদ্দ দিলেই কাজ শুরু করা হবে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আনিসুল হক সড়কের রেল গেট এলাকার শুরুতেই বসেছে লেগুলা স্ট্যান্ড। রাস্তার বেশিরভাগ জায়গা দখল করে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য লেগুনা। প্রায় আড়াআড়িভাবে লেগুনা দাঁড় করিয়ে তোলা হচ্ছে যাত্রী। আর ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার থেকে আসা যানবাহনগুলো যানজটে আটকা পড়ে রেললাইনের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

দখলের শুরুটা এখানে হলেও এর বিস্তৃতি সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত। পুরো সড়কের দু’পাশে লাইন করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ। চার লেন সড়কের প্রশস্ততা নেমে এসেছে দুই লেনে। তার ওপর মাঝে মাঝে ট্রাক পার্কিং বা ঘুরানোর সময় পুরো সড়কই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সড়কে সারাক্ষণ লেগে আছে ভয়াবহ যানজট।

এছাড়া ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলো আড়াআড়িভাবে রাখায় গাড়ির পেছনের অংশ উঠে থাকছে ফুটপাতের ওপর। ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারীরাও হাঁটাচলার সুযোগ পাচ্ছেন না।

সড়ক দখল করেই ক্ষান্ত হননি ট্রাক চালকেরা। সেখানেই তারা বসিয়েছে গাড়ি মেরামতের অস্থায়ী ওয়ার্কশপও। সেখানে চলছে ট্রাক মেরামতের কাজ।

তেজগাঁওয়ের সড়কটি ফের ট্রাকের দখলে, জনভোগান্তি
তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে ফার্মগেট অভিমুখী সড়কের দুপাশে ফুটপাত দখল করে পার্ক করে রাখা ট্রাকের সারি। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু আনিসুল হক সড়ক নয়; সাতরাস্তা থেকে বেগুনবাড়ি অভিমুখী আকিজ পেট্রোল পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কগুলোও এখন ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান আর মিনি ট্রাকের দখলে। মোট কথা দিনের বেশির ভাগ সময়ই তেজগাঁওয়ের প্রায় সব সড়ক কম-বেশি এই অবৈধ পার্কিংয়ের শিকার। শুধু দিনে নয়, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো তেজগাঁওয়ের সব সড়কই দখলে চলে যায় ট্রাক ও বাসের দখলে।

আব্দুর রহমান নামে এক রিকশাচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে চালাচল করতে এখন ভয় হয়। কোনো কোনো সময় রাস্তা ফাঁকা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই অনেক জ্যাম থাকে। তখন অনেকক্ষণ রাস্তায় বসে থাকতে হয়। আর রাস্তা জ্যাম মানে আমাদের ইনকাম বন্ধ।’

ওবায়দুল ইসলাম নামে এক পথচারী বলেন, ‘আমার বাসা ফার্মগেটে আর অফিস গুলশানে। তাই আমাকে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সকালের দিকে প্রায় প্রতিদিনই এই রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়ে থাকতে হয়। কোনো কারণ ছাড়াই সেই জ্যাম তৈরি হয়।

‘দেখা যায় কোনো ট্রাক আড়াআড়িভাবে রাখায় রাস্তা সরু হয়ে জ্যাম তৈরি হয়। আবার কখনও কখনও ট্রাক ঘোরানো বা পার্কিংয়ের সময় পুরো রাস্তায়ই জ্যাম তৈরি হয়। হেঁটে যাব সেই সুযোগও নেই। কারণ ফুটপাত দখল করে থাকে ট্রাকগুলোর পেছনের অংশ। আর রাতে ছিনতাইয়ের ভয় তো আছেই।’

সড়ক দখল করে কেন ট্রাক রেখেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এক ট্রাকচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রাস্তা ছাড়া আর কই গাড়ি রাখমু? ঢাকা শহরে অন্য কোনো জায়গায় গাড়ি রাখলেই তো পুলিশ মামলা দিব। এইখানে গাড়ি রাখলে মামলার ভয় নেই। তাই আমরা ঢাকায় এলেই এখানে এক-দুই দিন গাড়ি রাখি।’

বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মো. মনির বলেন, ‘ভাই, আমরাও বুঝি এই সড়ক ট্রাক দিয়ে দখল করে রাখলে মানুষের দুর্ভোগ হয়। রাস্তায় জ্যাম হয়। চলাচল করতে গিয়ে আমরাও যানজটের ভুক্তভোগী হই। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।

‘পুরো ঢাকা শহরে আর কোনো ট্রাক স্ট্যান্ড নেই। তাই এই জায়গা ছাড়া আর কই ট্রাক রাখব বলেন? ঢাকা শহরে মালামাল আনার জন্য প্রতিদিনি হাজার হাজার ট্রাক শহরে আসে। এর মধ্যে কিছু চলে যায়। বাকিগুলো বিভিন্ন রাস্তায় থাকে। আমাদের এখানে একসঙ্গে আড়াই হাজার গাড়ির জায়গা আছে। এর বেশি হয়ে গেলেই রাস্তার ওপর গাড়ি রাখা হয়।’

তেজগাঁওয়ে অন্যান্য সড়কও তো আপনারা গাড়ি পার্ক করে দখল করে রাখেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা ছাড়া আমরা আর কোনো রাস্তায় গাড়ি রাখার অনুমতি দেই না। অন্য রাস্তায় যেসব পার্ক করা দেখেন সেগুলো ড্রাইভাররা ব্যক্তিগতভাবে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে রাখে। ওই দায় আমাদের না।’

মো. মনির আরো বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই আমরা সরকারকে বলে আসছি যে আমাদের একটা স্থায়ী ট্রাক স্ট্যান্ড বানিয়ে দেন। কিন্ত তারা আজও একটা ট্রাক স্ট্যান্ড বানাতে পারেনি। আমরা এ-ও বলেছি, এখানেই আমাদের সমিতির অফিসের সামনে টিঅ্যান্ডটির অনেকটা খালি জায়গা আছে। জায়গাটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে একটা স্ট্যান্ড বানিয়ে দেন। তা-ও হয়নি। তবে কিছুদিন আগে উত্তর সিটি করপোরেশন আমাদের বলছে যে তারা চেষ্টা করছে। এখন দেখি তারা কী চেষ্টা করে।’

বেদখল হওয়া আনিসুল হক সড়ক নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবনা জানতে কথা হয় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সেলিম রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা পারমানেন্ট আধুনিক ট্রাক স্ট্যান্ড করার জন্য জায়গা খুঁজছি। জায়গা চেয়ে আমরা সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থাকে চিঠিও দিয়েছি। আশা করছি আর কালক্ষেপণ হবে না।’

তিনি বলেন, এই সড়ক দখলের কারণে এখানে যে যানজট ও জনভোগান্তি হচ্ছে সেটা আমরাও বুঝি। তারপরও আমরা এই ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছি না কারণ এই জায়গা ছাড়া ট্রাক রাখার আর কোনো জায়গা শহরে নেই। এখান থেকে সরিয়ে দিলে তারা অন্য সড়কে পার্কিং করবে।’

সেলিম রেজা বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আধুনিক টার্মিনাল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। ওখানেই টিঅ্যান্ডটির বেশ কিছু খালি জায়গা আছে। আমরা তাদের কাছেও জায়গা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই একটা সমাধান হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Woman killed by BRTC bus in Gulistan

গুলিস্তানে বিআরটিসির বাসের ধাক্কায় নারী নিহত

গুলিস্তানে বিআরটিসির বাসের ধাক্কায় নারী নিহত গুলিস্তানে বিআরটিসির দ্বিতল বাসের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
এসআই আলামিন বলেন, ‘গুলিস্তান আহাদ পুলিশ বক্সের বিপরীতে ট্রেড সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫০ বছর বয়সী হাসিনা। এ সময় বিআরটিসির একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়।’

রাজধানীর গুলিস্তানে বিআরটিসির দ্বিতল বাসের ধাক্কায় হাসিনা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলামিন বলেন, ‘গুলিস্তান আহাদ পুলিশ বক্সের বিপরীতে ট্রেড সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫০ বছর বয়সী হাসিনা। এ সময় বিআরটিসির একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। আহত অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক দুপুর পৌনে ১টায় তাকে মৃত বলে জানান।’

এসআই আলামিন জানান, এ ঘটনায় বাসটির চালককে আটক ও জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের খালাতো ভাই মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমার খালা মাজার ভক্ত। তিনি গেন্ডারিয়া ঘুণ্টি ঘর মামার মাজারে থাকেন। ধারণা করছি, খালা গোলাপ শাহ মাজারে এসেছিলেন। সেখান থেকে গেন্ডারিয়া যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খালার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর।’

আরও পড়ুন:
কাভার্ড ভ্যান চাপায় ৪ মৃত্যু: ৩ চালকের নামে মামলা
বাস মালিকদের দাপটে অসহায় সরকারি সংস্থা
সড়কে মৃত্যু, অন্ধকারে আইন ও দায় স্বীকারের সংস্কৃতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aamir who made 300 people unconscious at the airport is now caught

বিমানবন্দরে ৩০০ জনকে অজ্ঞান করা আমির এবার ধরা

বিমানবন্দরে ৩০০ জনকে অজ্ঞান করা আমির এবার ধরা র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার চারজন। ছবি: নিউজবাংলা
চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে খন্দকার আল মঈন জানান, আমির হোসেন বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ওই অজ্ঞান পার্টি চক্রের হোতা। সে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দর এলাকায় একটি ফাস্টফুডের দোকানে চাকরির আড়ালে গত ১৫ বছর ধরে এই অপকর্মে জড়িত।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অজ্ঞান পার্টি চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব বলছে, প্রায় ৩০০ জনকে অজ্ঞান করেছে চক্রটি। ১৫ বছর ধরে এ এলাকায় সক্রিয় তারা। শনিবার রাজধানীর বিমানবন্দর ও কদমতলী এলাকায় র‌্যাব-১ তাদের ধরতে অভিযান চালায়।

চক্রের হোতা মো. আমির হোসেন। তার বাড়ি বরিশাল জেলায়। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মো. লিটন মিয়া ওরফে মিল্টন, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে পারভেজ এবং জাকির হোসেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহৃত ট্যাবলেট, যাত্রীর ছদ্মবেশ ধারণে ব্যবহৃত লাগেজ ও চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

দীর্ঘ সময় ধরে চক্রটি প্রায় ৩০০ প্রবাসীকে কৌশলে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ২ সেপ্টেম্বর একজন কুয়েতপ্রবাসী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপর চক্রটির একজন সদস্য বিমানবন্দর থেকে ওই প্রবাসীকে অনুসরণ করতে থাকে।

‘ওই ব্যক্তি আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে উত্তরবঙ্গগামী বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে গেলে কাউন্টারের পাশে আগে থেকেই যাত্রীর ছদ্মবেশে অনস্থান করছিল চক্রের হোতা আমির হোসেন। আমির হোসেন তার কাছে থাকা অতিরিক্ত বাসের টিকিট বিক্রি করেন।’

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমির তার সঙ্গে থাকা একটি লাগেজ ও কিছু কুয়েতি দিনার দেখিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে নিজেকে প্রবাসী পরিচয় দিয়ে একসঙ্গে বাসে উঠে একপর্যায়ে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো বিস্কুট খেতে দেন।

‘পরে বিস্কুট খাওয়ার পর ওই প্রবাসী অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর চক্রটি তার সব মালামাল লুট করে নিয়ে মাঝপথে বাস থেকে নেমে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী গত ৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন।’

চক্রের সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব মুখপাত্র জানান, সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন। তারা বিভিন্ন পেশার আড়ালে গত ১৫ বছর ধরে হাতে পাসপোর্ট ও লাগেজ নিয়ে প্রবাসফেরত যাত্রীর ছদ্মবেশ ধারণ করে এসব করতেন।

চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে খন্দকার আল মঈন জানান, আমির হোসেন বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ওই অজ্ঞান পার্টি চক্রের হোতা। তিনি মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দর এলাকায় একটি ফাস্টফুডের দোকানে চাকরির আড়ালে ১৫ বছর ধরে এই অপকর্মে জড়িত।

আমির হোসেনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি একাধিকবার কারা ভোগ করে জামিনে ছিলেন। লিটন তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি মাইক্রোবাসের চালক হিসেবে পরিচিত হলেও ওই পেশার আড়ালে ৩-৪ বছর ধরে আমিরের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, জাকির হোসেন ছাপাখানার ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেন। আবু বক্কর ৮-৯ বছর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। চক্রের আরও ৬-৭ জন বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন, যারা বর্তমানে কারাগারে।

আরও পড়ুন:
বাধ্য না হলে র‌্যাব গুলি ছোড়ে না: বিদায়ী ডিজি
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আয়ুর্বেদিক ওষুধের নামে মাদক বিক্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Donations to schools and colleges are being eaten by rats Shahnawaz

স্কুল-কলেজে অনুদান ইঁদুরে খেয়ে ফেলছে: শাহনাওয়াজ

স্কুল-কলেজে অনুদান ইঁদুরে খেয়ে ফেলছে: শাহনাওয়াজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার বাবেশিকফো আয়োজিত ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের একমাত্র উপায় জাতীয়করণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ। ছবি: নিউজবাংলা
আলোচনায় একাধিক বক্তার বক্তব্যের বিষয়ে অধ্যাপক শাহনাওয়াজ বলেন, ‘আপনারা শিক্ষকরা একটু আগে ইঙ্গিত দিলেন আপনাদের গভর্নিং বডি নিয়ে। আমি জানি সেগুলো। এই গভর্নিং বডির পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন যারা, যাদের অঙ্গুলি হেলনে এই কমিটিগুলো হয়...আপনাদের যে অনুদান আসে স্কুল-কলেজে, সেটা তো মাঝখানে ইঁদুরে খেয়ে ফেলছে। এই ইঁদুরে খেয়ে ফেলাটাও একটি পরিকল্পনার অংশ বলে আমি মনে করি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসা অনুদান ইঁদুর খেয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো) আয়োজিত ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের একমাত্র উপায় জাতীয়করণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

আলোচনায় একাধিক বক্তার বক্তব্যের বিষয়ে শাহনাওয়াজ বলেন, ‘আপনারা শিক্ষকরা একটু আগে ইঙ্গিত দিলেন আপনাদের গভর্নিং বডি নিয়ে। আমি জানি সেগুলো। এই গভর্নিং বডির পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন যারা, যাদের অঙ্গুলি হেলনে এই কমিটিগুলো হয়...আপনাদের যে অনুদান আসে স্কুল-কলেজে, সেটা তো মাঝখানে ইঁদুরে খেয়ে ফেলছে। এই ইঁদুরে খেয়ে ফেলাটাও একটি পরিকল্পনার অংশ বলে আমি মনে করি।’

বাংলাদেশের সরকার শিক্ষাবান্ধব নয় অভিযোগ করে জাবির এ শিক্ষক বলেন, ‘সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন দেয়। আর ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দেয়। এতে এখন মুরগির খোঁয়াড়ও ভাড়া পাওয়া যায় না। শিক্ষককে ভিক্ষুক মনে করা হয় কেন? আমাদের সরকার মোটেই শিক্ষাবান্ধব নয়। বক্তৃতায় উনারা যা-ই বলুন।’

তিনি বলেন, ‘আগেও আমরা দেখছি, শিক্ষকরা দিনের পর দিন এই দাবিতে পথে আন্দোলন করেছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এটাই দুঃখজনক।’

আলোচনায় লিখিত বক্তব্যে বাবেশিকফোর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দিন বলেন, এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ সুপারিশ করলেও এ নিয়ে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় এমপিওভুক্তদের জাতীয়করণ জরুরি।

তিনি বলেন, ‘জাতীয়করণ করা হলে গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী লাভবান হবে। মেধাবীরা এই পেশায় আরও এগিয়ে আসবে। প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকেই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।’

মাইন আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এমপিও শিক্ষা জাতীয়করণ সময়ের দাবি।’

আরও পড়ুন:
কুরুচিপূর্ণ আচরণের অভিযোগে শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ
বিয়ে না করেও সন্তানের শিক্ষাভাতা তোলেন শিক্ষক
বেত্রাঘাত করায় কলেজশিক্ষকের নামে মামলা
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারীকে মারধরের অভিযোগ
অন্যের সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি: শিক্ষক বরখাস্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
He died under the train on the railway line with his headphones on

হেডফোন কানে রেললাইনে, ট্রেনের নিচে গেল প্রাণ

হেডফোন কানে রেললাইনে, ট্রেনের নিচে গেল প্রাণ এই রেললাইনে ঘটেছে ট্রেন দুর্ঘটনা। ছবি: নিউজবাংলা
বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, ‘কানে হেডফোন লাগিয়ে কসাইবাড়ী রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কসাইবাড়ী রেল গেটের সামনে একটি ট্রেনে কাটা পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

রাজধানীর দক্ষিণখানে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে কসাইবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

১৯ বছর বয়সী রাফিন আহমেদ উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর মিয়াবাড়ী গ্রামের সোহেল আহমেদের ছেলে।

বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, ‘কানে হেডফোন লাগিয়ে কসাইবাড়ী রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কসাইবাড়ী রেল গেটের সামনে একটি ট্রেনে কাটা পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

‘কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাবার সামনে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের
ট্রেনে কাটা পড়ে পথচারীর মৃত্যু
ট্রেনে কাটা পড়ল শিশুর হাত, মায়ের পা

মন্তব্য

p
উপরে