× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Shahjalal third terminal work is 44 percent complete
hear-news
player
print-icon

শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ ৪৪ শতাংশ

শাহজালালে-তৃতীয়-টার্মিনালের-কাজ-শেষ-৪৪-শতাংশ
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে কথা বলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা
মাহবুব আলী বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি অনেক এগিয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করতে পারব।’

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ এরই মধ্যে ৪৪ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি অনেক এগিয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করতে পারব।’

আকাশ থেকে যেন দেশের উন্নয়ন দেখা যায়, সেদিকেও নজর দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান মাহবুব আলী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান আকাশপথে মানুষ আসার পথে যেন বাংলাদেশের উন্নয়ন অনুভব করতে পারেন। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।’

মাহবুব আলী বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। যারা সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে গিয়েছেন, প্রত্যেকেই এর ডিজাইন দেখে পছন্দ করেছেন। রাজশাহী এয়ারপোর্ট, বরিশাল এয়ারপোর্টের কাজেও হাত দেয়া হবে।’

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন সারা পৃথিবীর আকর্ষণ। জার্মানি-সুইজারল্যান্ড সবারই দেশের এয়ারপোর্টের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চান বাংলাদেশের আকাশপথ আরও উন্নত করতে। যেন সবাই আকাশপথে বাংলাদেশের উন্নয়ন অনুভব করতে পারেন।’

কোভিডের এই দুঃসময়ে এসে কাজ অব্যাহত রাখতে পেরেছি। যেখানে সারা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত, সেখানে সবার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েই বিমানের উন্নয়নকাজ চলমান আছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
লাগেজবোঝাই খাবার, আমেরিকার বিমানবন্দরে ধরা বাংলাদেশি দম্পতি
চীনের গুয়াংজুর পথে উড়ল বিমান
‘ইঞ্জিনের ভেতর পাখি’, ফ্লাইট বাতিল
পদ্মা সেতু চালুর পর শীতনিদ্রায় বরিশালের আকাশপথ
ঢাকা-চীনে বিমান উড়বে শিগগিরি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
US supports no party Peter Haas

যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না: পিটার হাস

যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না: পিটার হাস বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ছবি: নিউজবাংলা
রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাঁচটি লক্ষ্য তুলে ধরেন। এগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ; গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার; সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীলতা; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর বা পরের বছরের জানুয়ারিতে হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় নিবার্চন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদী ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাটস।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কারও প্রতি কোনো পক্ষপাত নেই জানিয়ে হাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না।’

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

ইউএস- বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক: ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণই চাবিকাঠি’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় মূল বক্তব্য রাখেন পিটার হাস। বক্তব্য রাখেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের দূত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে পাঁচটি লক্ষ্য তুলে ধরেন।

এগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ; গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার; সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে সহনশীলতা; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

পিটার হাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বেশি। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক বিরাজমান। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘বেসরকারি খাত জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্য দশা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।’

স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উত্তরণ হলে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন-এটিও স্মরণ করিয়ে দেন হাস। আর এই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগ করার আগে সুশাসন, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, দক্ষ শ্রমশক্তির সহজলভ্যতা ও মুনাফা- এসব বিষয় বিবেচনা করে থাকে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবিক কারণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এখন তাদের নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়া নিজে কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ন কবির, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়াও অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগের জন্য শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cabinet of India approves Kushiara water distribution

কুশিয়ারার পানিবণ্টনে ভারতের মন্ত্রিসভার সায়

কুশিয়ারার পানিবণ্টনে ভারতের মন্ত্রিসভার সায় সিটেলের অংশে কুশিয়ারা নদী। ছবি: সংগৃহীত
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৫৩ কিউসেক করে কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কিত যে সমঝোতা চুক্তি এ মাসের ৬ তারিখ দিল্লির হায়দারাবাদ হাউজে সই হয়েছিল। তা অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৫৩ কিউসেক করে পানিবণ্টন’ সমঝোতা অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

নয়া দিল্লির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৫৩ কিউসেক করে কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কিত যে সমঝোতা চুক্তি এ মাসের ৬ তারিখ দিল্লির হায়দারাবাদ হাউজে সই হয়েছিল।

চুক্তির সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন। সে চুক্তিটি বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

এই সমঝোতা চুক্তির ফলে শুকনা মরশুমে অর্থাৎ, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মে এই সময়কালে আসাম ওই নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি ব্যবহার করতে পারবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশও তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে সমপরিমাণ পানি কুশিয়ারা নদী থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।

শুকনা মরশুমে দুটি দেশের মধ্যে এই পানিবণ্টনের বিষয়টির ওপর নজর রাখতে এক যৌথ নজরদারি টিমও গঠন করা হবে।

পরে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তিটি অনুমোদন দেয়া হলো।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Banaj Kumars case report on November 6

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ৬ নভেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকের আদালতে মামলার এজাহার জমা দেয়া হয়। আদালত তা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ ঠিক করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও আসামি করা হয়েছে ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া নামের ৩ জনকে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বনজ কুমার বলেন, আমার নেতৃত্বাধীন তদন্ত সংস্থা পিবিআই চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা তদন্ত করছে। তদন্তকালে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেল হাজতে থাকা বাবুল ও বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। তারা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন।

আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় কথিত সাংবাদিক ইলিয়াস গত ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে, খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন। যা সম্পর্কে আমি পরদিন জানতে পারি। এর আগেও মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ইলিয়াস তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

সেই ভিডিওতে বলা হয়েছে, এই মামলায় বাবুল আক্তারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার। মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অভিযোগ করা হয়েছে ভিডিওটিতে। এছাড়াও বাবুলকে রিমান্ডে নির্যাতন করার কথাও বলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে পিবিআই প্রধান মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন- পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

গত ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে ইতিমধ্যে চার্জশিট দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা
বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Stick games will not be played who

‘লাঠি খেলা’ আর চলবে না: কাদের

‘লাঠি খেলা’ আর চলবে না: কাদের জাতীয় পতাকার সঙ্গে লাঠি লাগিয়ে বিএনপির কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত
‘আন্দোলন করেন যত পারেন, লাঠি খেলা চলবে না, অগ্নিসন্ত্রাস চলবে না। সমুচিত জবাব দেয়া হবে। আগামী দিনে জাতীয় পতাকার সঙ্গে যদি লাঠি লাগিয়ে রাস্তায় নামেন, তাহলে খবর আছে।’

আন্দোলনের নামে জাতীয় পতাকায় লাঠি লাগিয়ে বিএনপি রাস্তায় নামলে ‘সমুচিত জবাব’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার বিকেলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন করেন যত পারেন, লাঠি খেলা আর চলবে না, অগ্নিসন্ত্রাস চলবে না। সমুচিত জবাব দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ রাজপথ ইজারা দেয়নি, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটা আবারও প্রমাণ করবে। রাজপথে আমরা নামব জনগণের জন্য, উন্নয়নের জন্য, অর্জনের জন্য।

বিএনপিকে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে জাতীয় পতাকার সঙ্গে যদি লাঠি লাগিয়ে রাস্তায় নামেন, তাহলে খবর আছে। কোমরভাঙা বিএনপি, হাঁটুভাঙা বিএনপি এখন লাঠির ওপর ভর করেছে। আমি না এ কথা বলেছেন ডা. জাফরুল্লাহ।

‘বিএনপির এই দেশে একটা অর্জন নেই, যা দেখিয়ে তারা জনগণকে ভোট দিতে বলবে। বিএনপি তাদের শাসনামলে বিদ্যুৎ নয়, খাম্বা উপহার দিয়েছিল। তারাই এখন রাস্তায় লাফালাফি করে, বড় বড় কথা বলে। তারাই আজকে আমাদের নিয়ে বিষোদ্গার করে। রাজপথ দখল করে আন্দোলনের হুমকি দেয়। দেখা যাবে, অপেক্ষায় আছি।’

গণমাধ্যমের সমালোচনায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুলিশ হামলা করছে, আওয়ামী লীগ হামলা করছে বলে বড় করে নিউজ হয়। যেন বাংলাদেশটা বিএনপি দখল করে ফেলেছে। কিন্তু হাজারীবাগে আওয়ামী লীগের দুজন কর্মীর মাথা ফেটে গেল, চার-পাঁচজন হাসপাতালে। কই এই ছবি তো দেখলাম না।

‘আমার কর্মীর রক্ত ঝরেছে রাজপথে, লাঠি দিয়ে তাদের আহত করা হয়েছে। ইচ্ছে করে তারা উসকানি দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ যেন সংঘাতে জড়ায়। তা হবে না, রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করা হবে। খেলা হবে, মোকাবিলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে আবারও বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। এই বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ী হবে, গণতন্ত্র বিজয়ী হবে। স্বাধীনতার আদর্শ বিজয়ী হবে। আবারও এই বাংলায় উন্নয়ন বিজয়ী হবে।’

‘যত বাধাই আসুক, শেখ হাসিনা নির্ভীকচিত্তে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কারও হুমকি-ধমকির পরোয়া তিনি করেন না, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পান না। ভোটে শেখ হাসিনাকে হটাতে পারবে না জেনে তারা ষড়যন্ত্র করে। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

আরও পড়ুন:
সরকার পতনের রঙিন খোয়াব দেখছে বিএনপি: কাদের
সরকার কেন, কার কাছে পদত্যাগ করবে: ফখরুলকে কাদের
লাশ ফেলে আন্দোলন জমানোর অশুভ তৎপরতায় বিএনপি: কাদের
তত্ত্বাবধায়ক ফিরে আসা আপাতত সম্ভব নয়: কাদের
রাজপথ বিএনপির পৈতৃক সম্পত্তি নয়: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rohingyas must go back PM

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ডয়েচে ভেলেকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ডয়েচে ভেলে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল, তারা এখন নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর করতে পারে, কারণ এর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দেশটিকে তার জনগণের কথাও ভাবতে হবে।’

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ‘অবশ্যই ফিরে যেতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার নেন শতরূপা বড়ুয়া। সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয় মঙ্গলবার।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে।

‘তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। সবাইকে বুঝতে হবে পরিস্থিতি। আমাদের পক্ষে আর কোনো লোক নেয়া সম্ভব নয়, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এত বিশাল জনসংখ্যার দায়িত্ব একা একটি দেশের পক্ষে নেয়া অসম্ভব। শুধু আশ্রয় দেয়াই নয়, এত বিশাল জনসংখ্যার জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করাও একটি বড় দায়িত্ব, যা কোনো দেশ একা বহন করতে পারে না।

‘যারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল, তারা এখন নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর করতে পারে, কারণ এর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দেশটিকে তার জনগণের কথাও ভাবতে হবে।

‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোররা এখন ঘিঞ্জি বস্তিতে (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) লালিত-পালিত হয়ে বড় হচ্ছে, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ও সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত।’

মিয়ানমার থেকে আসার পর বাংলাদেশের শত শত হেক্টর জমির বন ধ্বংস হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজারের বন ধ্বংস করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বিনষ্টের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং এলাকার আবাদি জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা মানবপাচারের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে কোটি মানুষের শরণার্থী হয়ে ভারতে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় হত্যা ও ধর্ষণসহ অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। কাজেই আজকে তারা (বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা) যখন একই ধরনের নির্যাতনের শিকার, সে কথা চিন্তা করেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ তাদেরকে আশ্রয় দেয়।’

এ সময় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনীতিক অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান কোভিড-১৯ এর কারণে সমগ্র বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে, যা বিশ্ববাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।’

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা অভিযোগ, মিডিয়ার স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের পথে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, গৃহহীনদের জন্য নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ তার সরকারের নেয়া নানা কল্যাণমুখী নীতি ও কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, ট্রান্সজেন্ডারদের কল্যাণে নেয়া নানা পদক্ষেপ, জিয়া-এরশাদ আমলের সামরিক শাসন, আগামী নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রধানমন্ত্রীর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে’
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিটিভিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান
অপপ্রচারকারীদের বেশির ভাগই অপকর্মে জড়িত: প্রধানমন্ত্রী
ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ভাইরাল চিঠিতে জুনাইদের ইচ্ছাপূরণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Commissions question which paddy which rice

শুনানিতে কমিশনের প্রশ্ন- কোন ধানে কোন চাল

শুনানিতে কমিশনের প্রশ্ন- কোন ধানে কোন চাল
প্রতিযোগিতা কমিশনে বুধবার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের আটটি মামলার ওপর শুনানি ছিল। চালের জন্য স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও এরফান গ্রুপ, চাল ও আটা-ময়দার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি হয়েছে। তবে নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিল শুনানির জন্য প্রতিনিধি পাঠায়নি।

মিনিকেট চাল কীভাবে হয়? ধান থেকে চাল বানিয়ে কী নাম দিচ্ছেন? একই ভ্যারাইটির ধান থেকে কয় ধরনের চাল করা হয়?

চাল প্রস্তুতকারক ‘এরফান ব্রান্ড’-এর প্রতিনিধির কাছে এমন সব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। জবাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিনিকেট চালের নামে প্রতিবন্ধকতা আছে। দিনাজপুর ও নওগাঁ অঞ্চল থেকে জিরাশাইল ধান সংগ্রহ করে তা থেকে তৈরি করা হয় মিনিকেট চাল।

রাজধানীতে প্রতিযোগিতা কমিশন কার্যালয়ে বুধবার মামলার শুনানিতে মিনিকেট চাল ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে। চাল-আটাসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতকারী কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা সকাল থেকে মামলার শুনানিতে হাজির হয়ে তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।

আলোচনার বড় অংশ জুড়েই ছিল চাল ইস্যু। ভোক্তা-ক্রেতার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি নানা প্রশ্ন তুলে সেসবের বিষয়ে উৎপাদকদের কাছে জানতে চায় কমিশন।

তবে সব কোম্পানিই প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। কমিশন পরে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম এবং সদস্য জিএম সালেহ উদ্দিন, এএফএম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।

এদিন ছয়টি প্রতিষ্ঠানের আটটি মামলার ওপর শুনানির দিন নির্ধারিণ করা ছিল। তবে নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদার শুনানির জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠাননি। আর চালের জন্য স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও এরফান গ্রুপ, চাল ও আটা-ময়দার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি হয়েছে।

এছাড়া ডিমের বাজারে অস্থিরতার জন্য ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, মুরগির দামে অস্থিরতার জন্য নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেড এবং টয়লেট্রিজের জন্য স্কয়ার টয়লেট্রিজকে শুনানিতে ডাকা হয়।

এরফান গ্রুপ

শুনানিতে এরফান গ্রুপের পক্ষে লিগ্যাল অফিসার মো. কামরুজ্জামান ও আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বাজারে চিনিগুঁড়া, নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি করেন।

মিনিকেট চাল কিভাবে হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ‘মিনিকেট আমাদের না। নাজিরশাইল, কাজললতা, পাজাম এমন নানা ধরনের চাল আছে।’

বিআর-২৮, বিআর-২৯ বাজারজাত করেন কিনা- এ

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এরফান গ্রুপের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘বিআর-২৮, বিআর-২৯ চাল আমরা বাজারজাত করি না।’

কমিশন জানায়, ‘কোন জাতকে কোন নামে কোন ব্র্যান্ডে বিক্রি করছেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। একই ভ্যারাইটির ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নাম দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করছেন কিনা সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য লাগবে।’

শুনানিতে প্রতিনিধিরা জানান, তাদের ব্র্যান্ডের নাম এরফান। চালের মিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে। অন্য কোথাও আর কোনো গুদাম নেই। ঢাকায় তাদের অফিস আছে।

কমিশন পরবর্তী শুনানিতে সব ধরনের ধান ও কোন জাত থেকে কোন নামে চাল করা হচ্ছে সেসবের এক কেজি করে নমুনা নিয়ে আসতে বলে দেয়।

সব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছে কমিশন।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড

চাল এবং সাবান, গুঁড়া সাবান ও সুগন্ধী সাবানের দুটি মামলার শুনানির জন্য স্কয়ার টয়লেট্রিজের পক্ষে তাদের দুজন আইনজীবী ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার ও মুহাম্মদ আল ইমরান শুনানিতে অংশ নেন।

প্রতিনিধিরা জানান, তারা সুগন্ধী চাল প্যাকেজাত করে বাজারজাত করেন। তাদের ব্র্যান্ডের নাম চাষী। সুগন্ধীর কোন ভ্যারাইটি বিক্রি করেন জানতে চাইলে তারা চিনিগুঁড়া চালের কথা জানান।

চিনিগুঁড়া সুগন্ধী কোনো ভ্যারাইটি কীনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ‘এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারে আছে। সারা দেশে এই চাল বিক্রি করা হয়। এটা মূলত রপ্তানির জন্য করা হয়। আগে ৪০টি দেশে রপ্তানি করা হতো। বর্তমানে সরকারি নির্দেশে চাল রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।’

ভ্যারাইটি বলতে কোন ধান থেকে চিনিগুঁড়া হয়- এমন প্রশ্নের জবাব দিতে স্কয়ারের প্রতিনিধিরা সময় চান।

কমিশন পরবর্তী শুনানিতে সব ধরনের ধান ও কোন জাত থেকে কোন নামে চাল করা হচ্ছে, প্রতিটির এক কেজি করে নমুনা নিয়ে আসতে বলে দেয়। চাল খাতে কোম্পানির গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্যও চেয়েছে কমিশন।

সব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছে কমিশন।

ডায়মন্ড এগ লিমিটেড

কমিশনের শুনানিতে ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের কোম্পানির পক্ষে মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান ও আইনজীবী এস এম শিহাব উদ্দীন অংশ নেন।

তারা জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়াসহ একাধিক স্থানে তাদের চারটি ফার্ম আছে। তাদের ফার্মে প্রতিদিন নয় লাখ ডিম উৎপাদন হয়। অন্য জায়গা থেকে কিনে বিক্রি করা হয় না। তাদের কোনো অর্গানিক ডিম নেই।

দাম নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, খোলা বাজারে ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সারা দেশে তাদের ৪০ জন ডিলার আছেন। তারা জেলার বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের জানান। তারপর ডিমের উৎপাদন থেকে সার্বিক মূল্য অ্যাভারেজ করে দাম নির্ধারণ করা হয়।

এই পর্যায়ে কমিশন মন্তব্য করে, পণ্য উৎপাদন করব আমি, আর দাম ঠিক করবে অন্যজন- ব্যাপারটা এমন।

এ সময় ডায়মন্ডের প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বাজারে অনেক বড় জোন আছে। সেখান থেকে দরের তথ্য নেয়া হয়।

মুরগির বাজারে অস্থিরতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে নারিশ পোল্ট্রি ও হ্যাচারি লিমিটেডের প্রতিনিধি শুনানিতে জানান, ‘তারা ‍মুরগি বিক্রি করেন না। তাদেরই আরেকটি কোম্পানি নরেশ এগ্রো এটা করে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চাল, আটা-ময়দা, ডিম-মুরগি, সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার বাজারজাতকারী এবং পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ৪৪টি মামলা করে প্রতিযোগিতা কমিশন। সোমবার থেকে সেসব মামলার ওপর ধারাবাহিক শুনানি চলছে।

আরও পড়ুন:
চালের ব্যবসা না থাকার দাবি বসুন্ধরার
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bashundhara claims that there is no rice business

চালের ব্যবসা না থাকার দাবি বসুন্ধরার

চালের ব্যবসা না থাকার দাবি বসুন্ধরার বসুন্ধরার নামে বাজারজাত করা মিনিকেট চালের প্যাকেট। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এটা আমাদের কোনো প্রোডাক্ট না। বসুন্ধরার অনেক কোম্পানি আছে। কিন্তু চালের কোনো কোম্পানি নেই।’

বাজারে বসুন্ধরার নামে যে চাল বিক্রি হয়, তা বসুন্ধরা গ্রুপ উৎপাদন করে না। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে বসুন্ধরার নাম ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্প গ্রুপ।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের শুনানিতে এমন তথ্য জানান বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগীয় প্রধান রেদায়ানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানিরি আইনজীবী মামুন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চালের কোনো ব্যবসা নেই। কোনো চাল বসুন্ধরা গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে না।’

এ সময় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম বসুন্ধরার প্রতিনিধিদের সামনে বসুন্ধরা নামে মিনিকেট চালের একটা প্যাকেট তুলে ধরার নির্দেশ দেন। কমিশনের কর্মী তা তুলে ধরলে চেয়ারপারসন জানতে চান, ‘এটি তাহলে কাদের?’

তখন বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এটা আমাদের কোনো প্রোডাক্ট না। বসুন্ধরার অনেক কোম্পানি আছে। কিন্তু চালের কোনো কোম্পানি নেই।’

কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘২০ কেজি মিনিকেট চালের বস্তা তাহলে কাদের? আপনারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? যদি কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে এটিই প্রমাণ হয় এই চাল আপনারাই প্রস্তুত করেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধি তখন বলেন, ‘এই চালের প্যাকেট আমরা আজই দেখলাম। একই নামের কোনো প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরার নাম করে চাল বিক্রি করছে সেটা অনুসন্ধান করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এ সময় তারা কমিশনের কাছে এ-সংক্রান্ত্র কোনো তথ্য আছে কি না জানতে চাইলে কমিশনের এক সদস্য বলেন, ‘কোথায় বসুন্ধরার নামে পণ্য আছে এ তথ্য আমরা দেব না। এটা আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের নাম দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে, এটা আপনারা অনুসন্ধান করবেন।’

আটা-ময়দা বিষয়ে বসুন্ধরার প্রতিনিধি সময় চেয়ে বলেন, তাদের ব্র্যান্ডের নাম বসুন্ধরা। আটা-ময়দা বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির পণ্য। আটা-ময়দার মধ্যে দেশে ৭৫ শতাংশ চাহিদা আটার, বাকি ২৫ শতাংশ ময়দার।

এসব পণ্যের দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এখন আটা-ময়দার সংকট চলছে। গমের ৭০ শতাংশ রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করতে হয় বলে আটা দেয়া যাচ্ছে না। তবে ময়দা দেয়া যাচ্ছে, কারণ ময়দা কানাডা থেকে আমদানি করা হয়।

কমিশন থেকে জানতে চাওয়া হয় তাদের আটা-ময়দার মার্কেট শেয়ার কত?

বসুন্ধরার পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা বলা কঠিন। নিজেদের সার্ভে করা প্রতিবেদেনে দেখা গেছে বড় ১০ কোম্পানির মার্কেট শেয়ার ৭০ শতাংশ। তারা চার নম্বরে।

কমিশন পরবর্তী শুনানিতে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত, গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য চায়।

সব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছে কমিশন।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চাল, আটা-ময়দা, ডিম-মুরগি, সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার বাজারজাতকারী ও পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ৪৪টি মামলা করে প্রতিযোগিতা কমিশন।

সোমবার থেকে সেসব মামলার ওপর ধারাবাহিক শুনানি শুরু হয়েছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম এবং সদস্য জিএম সালেহ উদ্দিন, এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

p
উপরে