× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Plastic polyethylene will increase durability of roads reduce costs Chuet research
hear-news
player
google_news print-icon

রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়াবে, খরচ কমাবে প্লাস্টিক-পলিথিন: চুয়েট গবেষণা

রাস্তার-স্থায়িত্ব-বাড়াবে-খরচ-কমাবে-প্লাস্টিক-পলিথিন-চুয়েট-গবেষণা
প্রতীকী ছবি
প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিতের তত্ত্বাবধানে চুয়েট ছাত্র প্রকৌশলী পিয়াল বড়ুয়া ও প্রকৌশলী আল আমিন এই গবেষণা পরিচালনা করেন। নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ, সিইপিজেডসহ ১৫টি ওয়ার্ড এই গবেষণার আওতায় ছিল।

সড়ক কার্পেটিংয়ে ব্যবহৃত বিটুমিনের সঙ্গে ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্লাস্টিক পলিথিন মেশালে প্রতি কিলোমিটারে বেঁচে যাবে পৌনে ৩ লাখ টাকা। সড়ক হবে টেকসই, বাড়বে স্থায়িত্ব। বর্জ্য পলিথিন ব্যবহার করায় কমে আসবে পরিবেশ দূষণও।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর গবেষণায় উঠে এসেছ এই তথ্য।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চুয়েট ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম আয়োজিত গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় এসব তথ্য জানানো হয়।

গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চুয়েট শিক্ষার্থী পিয়াল বড়ুয়া জানান, পলিথিন বর্জ্য পরিবেশে এসে ক্ষতিকারক প্যাথোজেনের মতো অনুজীবকে আকর্ষণ করে। পরে প্যাথেজেন ধারণকারী মাইক্রো প্লাস্টিক কণা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

পিয়াল আরও জানান, ৩০ শতাংশ মানুষ প্লাস্টিক পলিথিনের পুনর্ব্যবহার করে, ৪৬ শতাংশ মানুষ যা কখনই করে না। এ ছাড়া ১১ শতাংশ মানুষ কখনও কখনও পলিথিন পুনর্ব্যবহার করেন।

পিয়াল বলেন, ‘সড়ক কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের সঙ্গে ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্লাস্টিক পলিথিন মেশানোর ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে। প্রতি কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে সড়কও দ্বিগুণ স্থায়ী হবে।’

প্রতিদিন ১৪০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য চট্টগ্রাম মহানগরে জমা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিদিন চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮৭ লাখ মানুষ ৩০০ টন বর্জ্য সৃষ্টি করে। এর মধ্যে ২৪৯ টনই প্লাস্টিক বর্জ্য; যার ৫৬ শতাংশ (১৪০ টন) রিসাইক্লিংয়ের জন্য সংগ্রহ না করায় নগরীর খাল-নালা, পরিবেশ-প্রতিবেশের সঙ্গে মিশে পৃথিবীকে বসবাস অযোগ্য করে তুলছে।

এই বর্জ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারণে বাড়ছে জলাবদ্ধতা, পানিদূষণ, দুর্গন্ধযুক্ত আবহাওয়া, রাস্তায় পাশে ময়লা-আবর্জনা ও মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। প্লাস্টিক পলিথিন নদী ও সাগরে মিশে ধ্বংস হচ্ছে মাছ। এই পলিথিন ও প্লাস্টিক এখন বৃহৎ জলজ প্রাণী তিমিরও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্রকৌশলী পিয়াল বড়ুয়া আরও বলেন, ‘যত্রতত্র প্লাস্টিক ছুড়ে ফেলা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ না নেয়া, প্লাস্টিক পোড়ানো, প্লাস্টিকের দূষণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অপচনশীলতা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষণ দিন দিন বাড়ছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে খাবার, পানি পান, নিঃশ্বাসের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের দেহে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক পলিথিনের সঙ্গে থাকা ক্যামিক্যাল এডিটিবস মানুষের শরীরে ঢুকে ক্যানসার, বন্ধ্যত্ব ও অটিজমের মতো রোগ সৃষ্টি করছে।’

প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিতের তত্ত্বাবধানে চুয়েট ছাত্র প্রকৌশলী পিয়াল বড়ুয়া ও প্রকৌশলী আল আমিন এই গবেষণা পরিচালনা করেন। নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ, সিইপিজেডসহ ১৫টি ওয়ার্ড এই গবেষণার আওতায় ছিল। প্রায় এক বছর ধরে চলা এই গবেষণা সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম।

রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়াবে, খরচ কমাবে প্লাস্টিক-পলিথিন: চুয়েট গবেষণা

পরিবেশকর্মী দিলরূবা খানমের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সভাপতি ও চুয়েট ভিসি (প্রাক্তন) প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

এ অবস্থায় ওই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সড়ক কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের সঙ্গে প্লাস্টিক ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সভাপতি ও চুয়েট ভিসি (প্রাক্তন) প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম।

এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি গবেষণা প্রবন্ধের মডারেটর চুয়েট প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত, সিনিয়র সহসভাপতি প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী, সহসভাপতি লোকমান দয়াল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আলীউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম পেয়ার আলী, সদস্য জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘সোনালি ব্যাগ’ কি আদৌ বাজারে আসবে?
পলিথিন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ
ট্রাকভর্তি নিষিদ্ধ পলিথিন, ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ড
পলিথিনের অবৈধ কারখানায় অভিযান, সিলগালা
নিষিদ্ধ পলিথিন বহনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩, বাস জব্দ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Searching for oceans deep within the Earth

পৃথিবীর গভীরে মহাসাগরের সন্ধান

পৃথিবীর গভীরে মহাসাগরের সন্ধান পৃথিবীতে আরেক মহাসাগরের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রাঙ্কফুর্টের গোয়েথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর জিওসায়েন্সেসের একদল গবেষক বলছেন, পৃথিবীর একেবারে উপরের আবরণ (mantle) ও কেন্দ্রের মধ্যবর্তী একটি স্তরে লুকিয়ে আছে এই মহাসাগর।

পৃথিবীতে আরেক মহাসাগরের সন্ধান মিলেছে। এমনকি তা এই গ্রহের বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাঁচ মহাসগারের যেকোনোটির চেয়ে এর ব্যাপ্তিও কম নয়।

তাৎপর্যের বিষয় হলো- আমাদের জানা মহাসাগরগুলোকে আমরা দেখতে পাই। কারণ সেগুলো আছে পৃথিবীর বুকে। নতুন আবিষ্কৃত মহাসাগরের অবস্থান পৃথিবীর গভীরে।

বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণা আমাদের এতদিনের জানা ভূগোলকে ভুল প্রমাণ করতে যাচ্ছে। তারা বলছেন, পৃথিবীতে আসলে ৬টি মহাসাগর রয়েছে। তবে এটির অবস্থান ভূপৃষ্ঠে নয়, পৃথিবীর অভ্যন্তরে।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের গোয়েথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর জিওসায়েন্সেসের একদল গবেষক সম্প্রতি বিরল এক হীরার ওপর গবেষণা চালিয়ে নতুন মহাসাগরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন। তারা বলছেন, পৃথিবীর একেবারে উপরের আবরণ (mantle) ও কেন্দ্রের মধ্যবর্তী একটি স্তরের মধ্যে লুকিয়ে আছে এটি।

‘বাকি পাঁচটি মহাসাগর যেখানে উপরের আবরণের মধ্যে অবস্থিত, সেখানে ৬ নম্বরটি তার নিচে। এ কারণে এটির অস্তিত্ব এতদিন টের পাওয়া যায়নি।’

গবেষকরা বলছেন, দুই আবরণের মধ্যবর্তী স্তরে পাথরের মাঝে আটকে আছে বিপুল জলরাশি, যা কোনো মহাসাগরের চেয়ে কম নয়। তাই এটিকে ৬ নম্বর মহাসাগর বলার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশ বতসোয়ানায় সম্প্রতি বিরল এক হীরার সন্ধান মেলে। ১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের হীরাটি ৬১০ কিলোমিটার গভীর থেকে তোলা হয়েছিল।

গবেষকরা বলছেন, হীরাটির বেশিরভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে পানি। আর এই পানির উৎস খুঁজতে গিয়েই খোঁজ মেলে নতুন মহাসাগরের।

ফ্রাঙ্কফুর্টের গোয়েথে ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর জিওসায়েন্সেসের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক ব্রেনকার বলেন, ‘রামন এবং এফটিআইআর স্পেকট্রোমেট্রিসহ বেশ কয়েকটি কৌশলের মাধ্যমে বিরল এই হীরার ওপর গবেষণা চালাই। এতে বহুদিনের একটি তত্ত্বের প্রমাণ মিলেছে।

‘সাগরের পানি স্ল্যাবগুলোকে সাবডাক্ট করে এবং একই প্রক্রিয়ায় ট্রানজিশন জোনে প্রবেশ করে। এর মানে হলো, আমাদের গ্রহের পানিচক্র পৃথিবীর অভ্যন্তরের সঙ্গে যুক্ত।’

‘গোটা ট্রানজিশন জোন ভাঙতে প্রায়ই অসুবিধায় পড়তে হয় সাবডাক্টিং প্লেটগুলোকে। তাই এই অঞ্চলে এ জাতীয় প্লেটের স্তূপ থাকতে পারে। এসব কিছু এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখানে লুকিয়ে আছে আরেকটি মহাসাগর।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ilshegundi will rain all day

ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি সারা দিন

ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি সারা দিন ফাইল ছবি
এই বৃষ্টিকে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আখ্যা দিয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টা এমন বৃষ্টি চলবে। দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ অঞ্চলের আকাশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মেঘমালার সঞ্চারণ হবে যার ফলে আগামী কয়েক দিন এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

উত্তর ও তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। ভোর থেকে হতে থাকা এই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হবে দিনভর। কমবে গরমের তীব্রতাও।

রোববার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাগরে এখনো লঘুচাপ আছে। সেই সঙ্গে সক্রিয় আছে মৌসুমি বায়ু। যার ফলে ঢাকাসহ সারা দেশে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে।’

এই বৃষ্টিকে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আখ্যা দিয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টা এমন বৃষ্টি চলবে। দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ অঞ্চলের আকাশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মেঘমালার সঞ্চারণ হবে, যার ফলে আগামী কয়েক দিন এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

ভোর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি কোথাও বা মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে গত কয়েক দিন ধরে ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে যে অস্বস্তি তৈরি করছিল, তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

ঢাকার বৃষ্টি অবশ্য স্বস্তির সঙ্গে ভোগান্তিও যোগ করেছে। অফিসগামীদের যানবাহন পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে সকালে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণও কমতে শুরু করে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টি হবে। যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হবে সেখানে গরমের তীব্রতা কমে যাবে।’

দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে শ্রীমঙ্গলে, ৫০ মিলিমিটার। এছাড়া চাঁদপুরে ৪৩, ফেনীতে ৩১ ও কুমিল্লায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪২ মিলিমিটার।

রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য-বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজা হবে বৃষ্টিভেজা
হালকা বৃষ্টি হতে পারে, গরম থাকবে এমনই
১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়েছে কুষ্টিয়া শহর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Earthquake in Myanmar mild shaking in Bangladesh

মিয়ানমারে ভূমিকম্প, মৃদু কম্পন বাংলাদেশে

মিয়ানমারে ভূমিকম্প, মৃদু কম্পন বাংলাদেশে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। আমাদের দেশে ভোরে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দেশের কোন অঞ্চলে এমন কম্পন অনুভূত হয়েছে, এর কোনো সঠিক তথ্য নেই।’

মিয়ানমারে সৃষ্ট ভূমিকম্পে শুক্রবার ভোরে সারা দেশে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২২ মিনিটে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মওলাইকে ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। আমাদের দেশে ভোরে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দেশের কোন অঞ্চলে এমন কম্পন অনুভূত হয়েছে, এর কোনো সঠিক তথ্য নেই। যেহেতু আমাদের দেশে এর উৎপত্তিস্থল ছিল না, তাই আমরা এখনও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাইনি।’

ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি মিয়ানমারের মনিওয়া থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে, সেখানে এর গভীরতা ছিল ১৪৪ কিলোমিটার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন। দেশের পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে মিয়ানমারের সংযোগ থাকার ফলে অনেকেই পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পনের পরিমাণ বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ভূমিকম্প
সব জরাজীর্ণ ভবন ভাঙা হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
চট্টগ্রামে পাঁচ মাসে ৫ ভূকম্পন বড় ভূমিকম্পের বার্তা?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Traffickers with endangered owls arrested

মহাবিপন্ন উল্লুকসহ পাচারকারী আটক

মহাবিপন্ন উল্লুকসহ পাচারকারী আটক বন বিভাগের তথ্যমতে, সারা দেশে মাত্র ২৫০টি উল্লুক রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
আটক সোহেল দাবি করেছেন, উল্লুকটিকে তিনি ১৬ হাজার টাকায় বান্দরবানের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। ভারতীয় পাচারকারীদের হাতে বেশি দামে এটিকে পৌঁছে দেয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।

পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় মহাবিপন্ন প্রাণী উল্লুকসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

রোববার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে উল্লুকটিসহ পাচারকারী জুয়েল রহমান সোহেলকে আটক করা হয়।

২৭ বছর বয়সী সোহেলের বাড়ি খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজনগর এলাকায়।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাসের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাজেস বড়ুয়ার নেতৃত্বে ওই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এ সময় ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে কৌশলে লুকিয়ে রাখা উল্লুকটিকে জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ।

আটক সোহেল দাবি করেছেন, উল্লুকটিকে তিনি ১৬ হাজার টাকায় বান্দরবানের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। ভারতীয় পাচারকারীদের হাতে বেশি দামে এটিকে পৌঁছে দেয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।

মহাবিপন্ন উল্লুকসহ পাচারকারী আটক

তবে পাচারের আগেই ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন সোহেল। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে আরও বহু বিপন্ন প্রাণীর ছবি পেয়েছে পুলিশ। এতে আটক সোহেলকে বন্যপ্রাণী পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা ডিবির পুলিশের ওসি রাজেশ বড়ুয়া জানান, বন্যপ্রাণী আইনে মামলা করে আটক সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উল্লুকটিকে কুমিল্লা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উল্লুক মহাবিপন্ন প্রাণী। আমাদের হিসাবমতে, সারা দেশে মাত্র ২৫০টি উল্লুক রয়েছে। এসব প্রাণী ভারত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যর ধনী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় স্থান পায়। মাঝে হাতবদলের সময় বড় অঙ্কের লেনদেন হয়। উদ্ধার করা উল্লুকটিকে আমরা খুব শিগগির বনে উন্মুক্ত করব।’

এদিকে কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সোহেলকে আদালতে নিয়ে এলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
মেয়াদোত্তীর্ণ কৃমিনাশকে ৯ ভেড়ার মৃত্যু
শহীদুলের ‘মধু পরিবার’
কুকুর নিধন বন্ধ করলেন মেয়র
রিসোর্টের ১৪টি বন্যপ্রাণী সুন্দরবনে অবমুক্ত
১২ জনকে কামড়ানো কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
United Nations emphasis on nature conservation in tourism

পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের

পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পর্যটনে বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে এই খাতে জ্বালানি খরচ কমাতে হবে। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার পথে হাঁটতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।’

টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী মাধ্যম পর্যটন। তবে এই পর্যটনের বিকাশে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটন অঞ্চলের বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ বাণীতে এমন অভিমত প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন অভিমত তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাণীতে বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবসের অন্তর্ভুক্তি প্রকৃতি সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে পর্যটনের ক্ষমতা তুলে ধরে।

‘টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী এক চালক হল পর্যটন। শিক্ষা, নারী ও তরুণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পর্যটন অবদান রাখে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পুনরুদ্ধার ও সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে দেয়।’

গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পর্যটনে বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে এই খাতে জ্বালানি খরচ কমাতে হবে। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার পথে হাঁটতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।

‘মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন রাষ্ট্র ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী যেন লাভবান হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প যুগের আগের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের অবশ্যই পর্যটন অনুশীলন করতে হবে। এর ওপর এই শিল্প এবং স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটসের (উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র) মতো পর্যটন আকর্ষী ভূখণ্ডগুলোর টিকে থাকা নির্ভর করছে।’

বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘এ বছর জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সম্মেলনে বৈশ্বিক সম্প্রদায় ও পর্যটন খাত ২০২৪ সালের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে।

‘অপচয় করার মতো সময় নেই। আসুন, আমরা নতুন করে চিন্তা করি এবং পর্যটন খাতকে নতুন করে গড়ে তুলি। আমরা একসঙ্গে সবাইকে আরও বেশি টেকসই, সমৃদ্ধ ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ উপহার দেই।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dengue outbreak lasts until mid October

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’ ফাইল ছবি
বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে, যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে। এমন আবহাওয়াতেও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।

দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জাকিয়া রহমান আক্রান্ত হন ডেঙ্গুতে। হাসপাতালে ছিলেন ছয় দিন। এখন সুস্থ, তবে ধকল রয়ে গেছে গায়ে।

নিউজবাংলাকে এই নারী বলেন, ‘বাসায় ছোট বাচ্চা থাকায় গাছ বা পানি জমে থাকার মতো কিছু ঘরে রাখি না। তবুও কীভাবে আক্রান্ত হলাম জানি না। খুব ভুগিয়েছে এবার। জ্বর, বমি থেকে শুরু করে প্লাটিলেট কমে প্রায় ২০ হাজার হয়ে যায়। অনেক কষ্টের পর সুস্থ হয়েছি।’

জাকিয়া সুস্থ হয়ে ফিরলেও অন্তত ৫০ জনের আর হাসপাতাল থেকে ফেরা হয়নি। প্রায় দিনই মৃত্যুর তথ্য আসছে, এর মধ্যে এক দিনে পাঁচজনের প্রাণও গেছে।

বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে।

এমন আবহাওয়ায়ও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।
ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছেন- এমন একজন কীটতত্ত্ববিদ আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি আরও তিন সপ্তাহ থাকতে পারে।

কত রোগী

শনি থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩০৯ জন এবং রাজধানীর বাইরের ১৩১ জন।

এই এক দিনে কোনো মৃত্যু না হলেও চলতি বছর প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও ভর্তি ১ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই সংখ্যাটি ১ হাজার ২৯৬।

চলতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮০ জন, এর মধ্যে রাজধানীর ১০ হাজার ৭৪৩ জন।

চলতি বছর কেবল মুগদা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৮ জন।

দেশের অন্য কোনো হাসপাতালে এত রোগী ভর্তি হয়নি। তবে মুগদা এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের বিশেষ কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।

বরাবরের মতোই আক্রান্তদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আছে শিশু। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মাহফুজ হাসান আল মামুন জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী আসছে তাদের হাসপাতালে। সবার ভর্তি দরকার পড়ে না।

অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব বলছে, এবার মোট ৪৫টি জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ৫৮, তার আগের বছর ৬৪ জেলার প্রতিটিতে ছড়ায় রোগী। সে বছর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।

ঢাকার পর এবার রোগী বেশি কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

প্রকোপ আর কত দিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে কাজ করছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, 'আমরা আগেই বলেছিলাম আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এখন মনে হচ্ছে এটি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে পারে।’

তিনি জানান, তাপমাত্রা, লেগরেইন ফল, (১৫ দিনের বৃষ্টি) আর্দ্রতা, ডেঙ্গু রোগীর ঘনত্বসহ কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি মডেলিং করে ডেঙ্গুর বিস্তার সম্পর্কে পূর্বানুমান করেন তারা।

অধ্যাপক কবিরুল বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি হটস্পট ম্যানেজমেন্ট চালু করতে না পারি। হটস্পট ম্যানেজমেন্ট বলতে যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে সেখান থেকে রোগীর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ির আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে ফগিং করে উড়ন্ত মশাগুলোকে মেরে ফেলা। এতে যারা সুস্থ আছে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।’

বৃষ্টি কম থাকার পরও এবার প্রকোপ কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এডিস মশার জন্য বৃষ্টি বা বর্ষা হতে হবে- এমন কথা নাই। মাত্র দুই সেন্টিমিটার পানি সাত দিন জমে থাকলেই সেখানে লার্ভা জন্মাতে পারে।’

কী করছে নগর কর্তৃপক্ষ

এডিস মশার যে প্রকৃতি, তাতে এগুলোর জন্ম ও বংশবিস্তার প্রধানত মানুষের বাড়িঘর বা কার্নিশ অথবা ছাদে হয়ে থাকে। নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানিও একটি বড় সমস্যা তৈরি করছে এ কারণে যে প্রায়ই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একটি বড় সময় ধরে কর্মস্থলে থাকে না। এই সময় এডিস মশা জন্ম নেয়।

নগর কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি শাস্তির ব্যবস্থাও করছে। শাস্তি হিসেবে প্রধানত জরিমানা করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। এর মধ্যে আমরা ড্রোনের মাধ্যমে ছাদবাগানগুলো দেখছি। সেখানে পানি জমে থাকলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ভবনের বাইরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ড্রেন ও পানিতে নোভাল নিউরন ট্যাবলেট দিচ্ছি, যেটা তিন মাস পর্যন্ত এডিস লার্ভা জমতে দেয় না। এ ছাড়া গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে, যেগুলো লার্ভা খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া জনসচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য মাঠে আমাদের লোক রয়েছে।’

এই কর্মকর্তার মূল্যায়ন হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার বেশ কম। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল ২৮ হাজার। এ বছর সেই সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।’

‘তবে এবার এই পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। তাই সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করছি। কেউই বসে নেই।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Half of Habiganjs river has been lost

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী হবিগঞ্জের একসময়ের এই খরস্রোতা নদী এখন মৃতপ্রায়। ছবি: নিউজবাংলা
অস্তিত্ব নেই নদীর সঙ্গে মিশে থাকা শত শত খালের। এসব নদী ও খাল দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ সময় ধরে খনন না করায় সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়া নদীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

সত্তরের দশকে হবিগঞ্জে ৫০টির বেশি নদী ছিল। তবে এখন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় আছে মাত্র ২২টি নদীর নাম। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে হবিগঞ্জ থেকে অর্ধেকেরও বেশি নদীর নামই মুছে গেছে।

অস্তিত্ব নেই নদীর সঙ্গে মিশে থাকা শত শত খালের। এসব নদী ও খাল দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ সময় ধরে খনন না করায় সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়া নদীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

যে ২২টি নদী এখনও টিকে আছে সেগুলোও পরিণত হয়েছে খাল বা নালায়। সেই সঙ্গে নদী শাসনে মহা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে কুশিয়ারা, কালনী, খোয়াই, ধলেশ্বরী, সুতাং, রত্মা এবং করাঙ্গীর মতো বড় নদীগুলোও।

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এসব নদী হারিয়ে যাওয়া এবং দখল-দূষণের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়ী। এখনও যেসব নদী টিকে আছে এগুলো সংরক্ষণ করা না হলে কয়েক বছর পর সেগুলোও হারিয়ে যাবে। এতে চরম সংকটে পড়বে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীকুল।

নবীগঞ্জের একসময়ের খরস্রোতা শাখাবরাক নদী। এই নদী ঘিরেই গড়ে উঠেছিল নবীগঞ্জ শহর। এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র মাধ্যম ছিল নদীপথ। এই নদী দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করত শত শত নৌযান।

নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এই এলাকার বাসিন্দারা। গেল চার দশকে সেই নদীটি এখন মৃতপ্রায়। নদীর দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত বসতি আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে মরা খালে পরিণত হয়েছে একসময়ের খরস্রোতা নদীটি।

নদীটি নিয়ে ছোটবেলার স্মৃতি মনে করে শহরের অনমনু গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী ধনাই মিয়া বলেন, ‘নদীটির দিকে চাইলে কষ্ট লাগে। একসময় এই নদীর কী যৌবন ছিল। নদীর দুই পাশে শত শত নৌকা বাঁধা থাকত। এসব নৌকা বিভিন্ন এলাকা থেকে কত মালামাল নিয়ে আসত নবীগঞ্জে। আর মাছের কথা কী বলি, ডুব দিয়ে খালি হাতে মাছ ধরে নিয়া আসা যাইত। এখন এই নদী লাফ দিয়ে পার হওয়া যায়।’

দখলের কবলে বিলীনের পথে বাহুবলের করাঙ্গী ও মাধবপুরের সোনাই, শিল্পবর্জ্য দূষণে মৃতপ্রায় সুতাং আর ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে শুঁটকি নদী। চরম সংকটে রয়েছে রত্মা এবং হবিগঞ্জ শহরকে ঘিরে থাকা খোয়াইও।

লাখাই উপজেলার লুকড়া এলাকার বাসিন্দা মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক নদী ছিল। সেগুলোর অনেক নদীই এখন নেই। কয়েকটা নদী খালের মতো হয়ে গেছে। একসময় সেগুলোতে অনেক মাছ পাওয়া গেলেও এখন হাত-পাও ধোয়া যায় না।’

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সময়ে হবিগঞ্জে কতটি নদী ছিল সেই তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে ২০২১ সালের করা একটি তালিকায় তাদের কাছে ২২টি নদী ও ৬৩টি খালের নাম রয়েছে। খালগুলোর চিন্তা বাদ দিয়ে আপাতত নদীগুলো বাঁচানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রত্মা ও ধলেশ্বরীর ৮ কিলোমিটার ড্রেজিং কাজ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন চলছে বিজনা-গোপলা, করাঙ্গী, কাস্তি, সোনাই নদীর ১১৭ কিলোমিটার। যার ৫০ শতাংশ কাজ শেষ।

হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন খোয়াই নদী রক্ষায় ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর পশ্চিমপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। আর শহর থেকে অন্তত ১২ ফুটের বেশি ওপরে উঠে যাওয়া নতুন খোয়া নদী ড্রেজিংসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ১৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

যে ৫টি নদীর খনন কাজ চলছে সেগুলো নিয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। স্থানীয়রা বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খননের নামে নদীকে খালে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জের বিজনা নদী খনন প্রকল্পের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন স্থানীয় জনগণ। বাহুবলের করাঙ্গী নদীর খননে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও ব্যর্থ হয়ে এখন নীরব স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদী হারিয়ে যাওয়া এবং দখল দূষণের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়ী। তারা এসব নদী রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই প্রতিনিয়ত নদী দখল হচ্ছে। এ ছাড়া যে সরকারই যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের ক্ষমতাশীন নেতারা নদী দখল করেন।’

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা শুনি নদী রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রকল্প সম্পর্কে জনগণকে অবগত করা হয় না। কিছুদিন তোড়জোড় করে পুনরায় সেই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিবেশ প্রকৃতি ও প্রাণীকুল রক্ষায় নদী বাঁচাতে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। না হলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, ‘নদী রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে নদীর ওপর গড়ে ওঠা ৯৪২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলো উচ্ছেদেও তালিকা তৈরি করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে হাইকোর্টে মামলা থাকায় ৩৩টি স্থাপনায় হাত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘শুধু সাধারণ মানুষ নয়, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নদীদূষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর। এমনকি দখলদারদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র্রপক্ষ হিসেবে আদালতেও লড়াই করছি আমরা।’

আরও পড়ুন:
২৩ সেপ্টেম্বর আসছে ‘নদী রক্স কনসার্ট’
যমুনার ভাঙনে মুছে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম
ধরলার ভাঙনে বিলীনের পথে চর ফলিমারী গ্রাম

মন্তব্য

p
উপরে