× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Application to extend Khaledas release period for the sixth time
hear-news
player
google_news print-icon

খালেদার মুক্তির মেয়াদ ষষ্ঠবারের মতো বাড়ানোর আবেদন

খালেদার-মুক্তির-মেয়াদ-ষষ্ঠবারের-মতো-বাড়ানোর-আবেদন
হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সম্প্রতি গুলশানের বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘চিঠি রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো হয়েছে।’

দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করেছে তার পরিবার।

রোববার দুপুরে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।

চিঠিতে তিনি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ারও অনুরোধ করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিঠি রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিজন কান্তি দাস চিঠি পৌঁছে দেন।

এ বি এম আব্দুস সাত্তারের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডামের মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’

সরকার খালেদার আবেদন আমলে নিলে তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত কারাগারের বাইরে থাকতে পারবেন।

রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, খালেদার পরিবার চাইলে এবং আবেদন করলে সরকার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়াবে।

খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য দুটি শর্ত বেঁধে দেযা হয়েছিল। একটি তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, তাকে চিকিৎসা নিতে হবে দেশে থেকেই।

অবশ্য নানা সময়ে খালেদাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর দাবি করে বিএনপি। এমনকি সেই দাবিতে দলটি বেশ কিছুদিন সারা দেশে নানা ধরনের কর্মসূচিও পালন করেছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে আবারও জানিয়ে দিয়েছেন, খালেদাকে মুক্তি দেয়া হলেও তাকে কোনোভাবেই বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে দেয়া হবে না।

অবশ্য এবার যে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে খালেদাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দার।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে যান বেগম খালেদা জিয়া। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে ওই বছরের অক্টোবরে। একই সপ্তাহে বিচারিক আদালতে ঘোষিত হয় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা, যাতে সাত বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর।

১৭ বছরের সাজা নিয়ে বিএনপি নেত্রীর জামিনের আবেদন যখন বারবার উচ্চ আদালত নাকচ করছিল, তখন ২০২০ সালের মার্চে করোনা হানা দেয় দেশে। সে সময় বিএনপি নেত্রীর পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন নিয়ে গেলে তিনি তার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করলে ২৫ মার্চ মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী। এরপর আরও পাঁচ দফায় বাড়ানো হয় সাময়িক মুক্তির মেয়াদ।

এবার যদি সরকার মেয়াদ বাড়ায়, তবে সেটি হবে ষষ্ঠবারের মতো মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো।

আরও পড়ুন:
‘কেবল প্রত্যাহার নয়, কনকের বিচার, মামলা প্রত্যাহার চাই’
বিএনপির মিছিলে গুলি করা কনক ডিবি থেকে প্রত্যাহার
শাওনের স্মরণে যুবদলের শোক সমাবেশে পুলিশের বাধা
সেই অস্ত্র কনকের নয়, গুলি করার সুযোগও ছিল না
নাটোরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Shame on Puja security with law enforcement GM Quader

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পূজার নিরাপত্তা লজ্জার: জি এম কাদের

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পূজার নিরাপত্তা লজ্জার: জি এম কাদের
জি এম কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হাজার বছরের ঐতিহ্য আছে আমাদের। একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির আছে। কেউ কাউকে বিরক্ত করবে না, এটাই আমাদের ঐতিহ্য। যেকোনো মূল্যে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখব।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দিয়ে পূজার নিরাপত্তা রক্ষা জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

রোববার রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হাজার বছরের ঐতিহ্য আছে আমাদের। একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির আছে। কেউ কাউকে বিরক্ত করবে না, এটাই আমাদের ঐতিহ্য। যেকোনো মূল্যে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখব।’

জি এম কাদের বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের নিরীহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখনও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর কারা নির্যাতন করে তা সবাই জানে। আমরা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, তারা সব সময়ই সংখ্যালঘুদের পাশে থাকবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদের, মনিরুল ইসলাম মিলনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আরও পড়ুন:
কে আর ইসলামকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি
ইইউ রাষ্ট্রদূতের ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে জি এম কাদের
‘আগামী নির্বাচন হবে সহিংসতার-জবরদস্তির, মেসেজ পাচ্ছি’
জাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট মানিককে বহিষ্কার
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র চালু করেছে: জি এম কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP dialogue with two parties including LDP on Monday

এলডিপিসহ দুই দলের সঙ্গে সোমবার বিএনপির সংলাপ

এলডিপিসহ দুই দলের সঙ্গে সোমবার বিএনপির সংলাপ সরকারের পতন দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির মশাল মিছিল। ফাইল ছবি
সরকার পতন আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় এলডিপি সভাপতি অলি আহমদের বাসায় এবং সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপে বসছে বিএনপি।

সরকার পতন আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে দলটি সোমবার দ্বিতীয় দিনে সংলাপ করবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে।

অন্যান্য দলের নেতাদের অফিস বা বিএনপির কার্যালয়ে সংলাপ হলেও এলডিপির সঙ্গে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হবে দলটির সভাপতি অলি আহমদের বাসায়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় মহাখালী ডিওএইচএস-এ অলি আহমদের বাসায় এই সংলাপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নেবেন।

এছাড়াও সোমবার সকাল ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপ করবে।

একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাজশাহী, রংপুর ও কুমিল্লা বিভাগের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দলীয় হাইকমান্ড মতবিনিময় করবে।

সূত্রমতে, সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত করতে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলনের রূপরেখা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ: দুই মামলায় বিএনপির ১৭৭ জনের জামিন
তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: ফখরুল
পুলিশ শুধু বিরোধী দলের লাঠি দেখে: দুদু
বিএনপির আন্দোলনে সারা দেশে গণজোয়ার: গয়েশ্বর
ইডেন কলেজ কলঙ্কিত করেছে আ.লীগ: রিজভী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It will take another month to list Razakar

রাজাকারের তালিকা করতে ‘আর এক মাসের মতো লাগবে’

রাজাকারের তালিকা করতে ‘আর এক মাসের মতো লাগবে’ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা
নীতিমালা তৈরি হবার পর তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাহজাহান খানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর এ তালিকা তৈরির করতে আরও এক মাসের মতো সময় লাগবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আগামী এক মাসের মধ্যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা রাজাকারের তালিকা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের তালিকা তৈরীর আইনগত কোনো ভিত্তি ছিল না। কিন্তু সংসদে তালিকা তৈরির আইন পাস হয়েছে। এখন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে, কী কী ভাবে এ তালিকা করা হবে।’

রোববার গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা তৈরি হবার পর তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাহজাহান খানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর এ তালিকা তৈরির করতে আরও এক মাসের মতো সময় লাগবে।’

এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী। পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন, পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘রাজাকারের’ প্রতারণা: ৩৭ বছর ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী
‘রাজাকারপুত্র’ পেলেন আ.লীগের মনোনয়ন
রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়েছিল বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
এমপির বাবাকে রাজাকার বলায় মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Instability in politics is conflict within and outside the party

রাজনীতিতে অস্থিরতা, দলের ভেতরে-বাইরে সংঘাত

রাজনীতিতে অস্থিরতা, দলের ভেতরে-বাইরে সংঘাত রাজধানীর মিরপুরে ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ফাইল ছবি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুখকর নয়। প্রধান দুই দলের মধ্যে রাজপথ দখলের লড়াই শুরু হয়েছে। অন্য দলগুলোও নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি দেশ ও জনগণের জন্য সুখকর নয়।’

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা ভর করেছে। বাড়ছে অস্থিতিশীলতা, সংঘাত-সহিংসতা। শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নয়, এই অস্থিতিশীলতা রয়েছে কয়েকটি দলের ভেতরও। জোট রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে অস্থিরতা।

দলে ও রাজনীতির মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থেকেই এসব অস্থিরতা-অস্থিতিশীলতা শুরু হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কথার লড়াই চলছে আগে থেকেই।

আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টিতে চলছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বড় নেতার ছোট দল গণফোরামে চলছে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার। শাসক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে চলছে টানাপড়েন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ আলোচনা এসেছে প্রকাশ্যে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সন্দেহ, সংশয় আর অবিশ্বাস।

রাজনীতিতে অস্থিরতা, দলের ভেতরে-বাইরে সংঘাত
বরিশাল নগরীতে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় পার্টির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। ফাইল ছবি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুখকর নয়। প্রধান দুই দলের মধ্যে রাজপথ দখলের লড়াই শুরু হয়েছে। অন্য দলগুলোও নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি দেশ ও জনগণের জন্য সুখকর নয়।

‘রাজনীতির ময়দানে যেমন দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হওয়া দরকার, তেমনই নিজেদের মধ্যেও বোঝাপড়া হওয়া দরকার। তাহলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী মনে করছেন, রাজনীতি ব্যক্তি-স্বার্থকেন্দ্রিক হয়ে ওঠায় এসব সংঘাত-সহিংসতা।

তিনি বলেন, ‘এ দেশের রাজনীতিবিদরা সামষ্টিক স্বার্থে রাজনীতি করেন না, করেন ব্যক্তিস্বার্থে। কিছু পেতে হবে- এমন মনোভাব থেকেই তারা দলে ও রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।’

রাজনীতিতে অস্থিরতা, দলের ভেতরে-বাইরে সংঘাত
মুন্সীগঞ্জে ২৬ আগস্ট বিএনপির কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার পর সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি কর্মীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। ফাইল ছবি

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রধান খবর হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষ। সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরে সংঘর্ষে জড়ায় দল দুটির নেতা-কর্মীরা। এভাবে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, মাগুরা, বরিশালের গৌরনদী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দল দুটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগে ও ২৩ সেপ্টেম্বর চকবাজারে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আবার ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশালে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের খানসামায়, ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামে, ২৪ আগস্ট মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতও তত প্রকট হয়ে উঠছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি কার্যত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই দলটির চেয়ারম্যান হন। পাশাপাশি আরও দুটি পক্ষ দলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে। এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা তার ছেলে এরিক এরশাদকে দিয়ে দলটির নেতৃত্ব দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন দলের ছোট্ট একটি অংশ নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন।

এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ সম্প্রতি দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে পাশ কাটিয়ে দলের সম্মেলন ডাকেন। এর মধ্য দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা ও উপদেষ্টা জিয়াউল হক মৃধাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাজনীতিতে অস্থিরতা, দলের ভেতরে-বাইরে সংঘাত
চলতি বছরের ১২ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের একাংশের কর্মসূচিতে অপর অংশের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালায়। ফাইল ছবি

আরেক রাজনৈতিক দল গণফোরামে চলছে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন বহিষ্কার করেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ও তার অনুসারীদের। পাল্টা হিসেবে মোস্তফা মহসিন মন্টু পৃথক সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন এবং ড. কামালকে অব্যাহতি দেন।

দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধের পাশাপাশি জোট রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে অস্থিরতা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে চলছে টানাপড়েন।

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের নিউজবাংলা বলেন, ‘এই জোটের আর অস্তিত্ব নেই।’

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে জোটের বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। আরেক জোট ১৪ দলের তিন শরিক দল দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে সরাসরি সরকারের সমালোচনা করছে।

ভাঙনের শব্দ আছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও। ২০ দলে জামায়াত নেই- দলটির আমির ডা. শফিকুল ইসলামের এমন বক্তব্য ২৮ আগস্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি এ বক্তব্য দেন দলটির অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে। এরপর বিএনপি বা জামায়াত কোনো দলই বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। যদিও পরে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন ও শামসুজ্জামান দুদু একাধিক বক্তব্যে জামায়াতের সমালোচনা করেন।

এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হারুনুর রশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেক রাজনৈতিক দলেই ভাঙাগড়া হয়। নির্বাচন সামনে রেখে দলগুলো নিজেদের সাজাতে চায়, আবার একাধিক সক্রিয় পক্ষ দলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। সে কারণেই মূলত অস্থিরতা শুরু হয়। একইভাবে জোট রাজনীতিতেও সুবিধাপ্রাপ্তি ও লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ থেকে যোগ-বিয়োগ চলে।’

আরও পড়ুন:
ফখরুলের পাকিস্তান আমলের প্রশংসা নির্লজ্জ দালালি: কাদের
নির্বাচন নয়, জান বাঁচানোর প্রস্তুতি নেন, আ.লীগ‌কে অলি
খালি মাঠে গোল নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন চাই: কাদের
কোন্দল থাকলে ভোটে বিপর্যয়ের শঙ্কায় কাদের
জাতীয় পার্টি কি আবার ভাঙবে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Attacking minorities wants to send wrong message to India

‘হিন্দুদের ওপর হামলা করে ভারতকে ভুল বার্তা দিতে চায়’

‘হিন্দুদের ওপর হামলা করে ভারতকে ভুল বার্তা দিতে চায়’ রমনা কালীমন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভারত সরকারকে মেসেজ দিতে চায় যে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ না।’

হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে একটি শক্তি ভারতকে ভিন্ন বার্তা দিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভারত সরকারকে বার্তা দিতে চায় যে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ না। কিন্তু তা হতে দেয়া হবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে পূজায় মন্দিরে হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার রমনা কালীমন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মাঝেমধ্যে দুর্গাপূজা দুর্বৃত্তদের দ্বারা টার্গেট হয়েছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে, কুমিল্লা শহরে, রংপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন সামনে রেখে একটি অশুভ চক্র আছে, যারা হিন্দুদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ভারত সরকারকে জানিয়ে দিতে চায়- এ কাজটা আওয়ামী লীগ করেছে।

‘আওয়ামী লীগের হাতে মাইনরিটি নিরাপদ নয়- এটা মেসেজ দিতে চায়। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভারত সরকারকে মেসেজ দিতে চায় যে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ না।’

ওবায়দুল কাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অভয় দিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সতর্ক আছে, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের এ সময় বিরোধী দল বিএনপিকে নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান, শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মকর্ম করতে দিন। সংলাপ করছেন করুন। এটা আপনাদের নিজেদের ব্যাপার। কিন্তু আমি বলব দুর্গোৎসব-দশমী পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে আপনাদেরও ভূমিকা আছে। আপনারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। রাজনীতিও করব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবে সহযোগিতাও করব।’

অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার একাধারে ১৩ বছর ক্ষমতার মঞ্চে আসীন আছে। এই ১৩ বছরে ১৩টি দুর্গাপূজা হয়েছে। ৩০ হাজার পূজামণ্ডপ হয়েছে। এবার ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই ১৩ বছরে মাত্র একটিবার দুর্গাপূজা সহিংসতার টার্গেট হয়েছে।

‘একাধারে ১১টি দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে হয়েছে। কিন্তু গতবার দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। গত বছর দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হবে- এ রকম চিন্তাভাবনা থেকে সতর্কতার কিছুটা অভাব ছিল। কোথাও কোথাও রাজনৈতিকভাবে আমরা অসতর্ক ছিলাম, এ কথা সত্য। চৌমুহনী ছিল ভয়াবহ অবস্থা। একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়।’

এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলছি, সারা বাংলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রস্তুত আছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আছে। তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’

‘যারা আপনাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কোনো দলের নয়। তারা দুর্বৃত্ত। এই দুর্বৃত্তরা যে দলেরই হোক, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। তাদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে। বিচার না হলে প্রশ্রয় পাবে। তাদের ব্যাপারে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বিচার হবে। বাংলাদেশের সব অপরাধীর বিচার শেখ হাসিনা করেছেন। এমনকি নিজের দলের লোকেরাও রেহাই পায়নি’, বলেন কাদের।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ মহানগর ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।

রমনার আগে ওবায়দুল কাদের রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
বসল ‘৫ শতাব্দীর’ ঢাকের হাট
শেষ মুহূর্তে তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা
আলোয় আলোয় ঝলমলিয়ে বরিশাল নগর
এবার পূজামণ্ডপে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে দেবীর আগমন শনিবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
KR Islam was expelled from Jatiya Party

কে আর ইসলামকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি

কে আর ইসলামকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি জাপার কর্মী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. কে আর ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলীয় গঠনতন্ত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কে আর ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ময়মনসিংহ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. কে আর ইসলামকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দলের দপ্তর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলীয় গঠনতন্ত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কে আর ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছে, কে আর ইসলাম বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের ডাকা কাউন্সিলে ময়মনসিংহ জেলার আহ্বায়ক হয়েছেন। এ কারণে তাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাঙ্গাদের ফেরাতে কাদেরকে চিঠি রওশনের
রওশনকে অপসারণ: এবার পাল্টা চিঠি পাঠাবেন রাঙ্গা
গণমানুষের আস্থা হারালে আ.লীগের সঙ্গে নয়: জি এম কাদের
বিএনপি-জাতীয় পার্টি জোট নিয়ে প্রশ্ন এড়ালেন চুন্নু
ইসির রোডম্যাপ মূল্যহীন: চুন্নু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Clash in Munshiganj 177 BNP bailed in two cases

মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ: দুই মামলায় বিএনপির ১৭৭ জনের জামিন

মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ: দুই মামলায় বিএনপির ১৭৭ জনের জামিন মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি
আইনজীবী কামাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মামলায় আজ ১৭৭ জনকে আগাম জামিন দিয়েছে আদালত। তাদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা দুই মামলায় বিএনপির ১৭৭ নেতা-কর্মীকে আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার তাদের জামিন দেয়।

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে নেতা-কর্মীদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ফজলুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন কামাল হোসেন।

আইনজীবী কামাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মামলায় আজ ১৭৭ জনকে আগাম জামিন দিয়েছে আদালত। তাদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় হওয়া মামলায় বিএনপির তিন শতাধিক নেতা-কর্মীর আগাম জামিন চেয়ে ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

মুক্তারপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ

গত ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তিন নেতা-কর্মী নিহতের প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে বিএনপি। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা মুক্তারপুর মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। পুলিশ বাধা দিলে তারা মুক্তারপুর থেকে ট্রাকে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় যান।

সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। ওই সময় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম একটি মিছিলের ব্যানার ধরে টান দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ওই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম সাওন নামে যুবদলকর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২২ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় দলটির নেতা-কর্মীদের নামে দুটি মামলা হয়।

মামলা দুটিতে এক হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে বিএনপির নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আছেন। দুটি মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংঘর্ষের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক মাইনউদ্দিন বাদী হয়ে সরকারি অস্ত্র, গুলি লুট ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনের নামে এবং ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতনকে।

আরও পড়ুন:
এবার রাজপথে বিএনপির টানা দুই মাসের কর্মসূচি
বিএনপির টুকুর বক্তব্যে ক্ষেপেছে জামায়াত
বন্দুকের নল যে কোনো সময় ঘুরে যাবে: আব্বাস
জামায়াতের জোট ছাড়ার গুঞ্জন স্বীকার বিএনপি নেতার
ফের পেট্রলবোমা ছুড়লে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে