× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BSF did not return the body even after 2 days
hear-news
player
google_news print-icon

২ দিন পরও মরদেহ ফেরত দেয়নি বিএসএফ

২-দিন-পরও-মরদেহ-ফেরত-দেয়নি-বিএসএফ
মিনার হোসেনের (বাবু)। ছবি সংগৃহীত
এ বিষয়ে ২৯ বিজিবির অধিনায়ক আলমগীর কবিরকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি। মেসেজে পাঠালেও সাড়া মেলেনি। তবে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর নাগাদ মরদেহ হস্তান্তর করা হতে পারে।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোর মিনার হোসেনের (বাবু) মরদেহ ২ দিন পরও ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। মরদেহ হস্তান্তরের ব্যাপারে বিজিবি-বিএসএফ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

গত বুধবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্তের ৩১৫ নম্বর মেইন পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ১৬ বছরের মিনার।

এ বিষয়ে ২৯ বিজিবির অধিনায়ক আলমগীর কবিরকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও সাড়া মেলেনি। তবে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর নাগাদ মরদেহ হস্তান্তর করা হতে পারে।

ঘটনার দিন বিজিবির সুবেদার আক্তার নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘মরদেহ ফেরত আনতে বিএসএফকে আমরা চিঠি দিয়েছি। বিএসএফ জবাব দিয়েছে। পতাকা বৈঠক শুরু হচ্ছে।’

আস্করপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রুমানা পারভীন নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার বিকেলে বিজিবির খানপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে গিয়েছিলেন আস্করপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক, ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য রুমানা পারভীন, নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর আলম, নিহতের চাচাতো ভাই রুবেল হাসানসহ কয়েকজন। সেখানে তারা নিহত মিনারের ছবি, শরীরের জন্মদাগের চিহ্নসহ কিছু প্রমাণ বিজিবিকে দেয়। মরদেহ শনাক্তে বিএসএফ এসব তথ্য চেয়েছে বলে জানান রুমানা।

তিনি বলেন, ‘ছবিসহ যাবতীয় তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে বিএসএফর কাছে পাঠাবে বিজিবি। এরপর বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হবে কখন কোথায় নিহতের মরদেহ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে ছেলের শোকে পাগলপ্রায় মিনারের মা মিনারা পারভীন। ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলের মরদেহ এখনও ফেরত দেয়া হয়নি। আমার বুক খালি করা হয়েছে। এই গুলির অর্ডার কে দিয়েছে? এই বর্ডার দিয়ে কেন ভারতের মাল পার হয়। ওদের মাল কেন বাংলাদেশে আসে? আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলা হলো, আমার বুক খালি করা হলো। আমি এর বিচার চাই। আমার বুকের ধনকে ফেরত দেয়া হোক।’

ছেলের দেহ ফেরত চেয়ে বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই, আমি ছেলের মরদেহ ফেরত চাই। তাকে তো ভালোভাবে মাটি দিতে হবে। কিন্তু তারা তো আমার ছেলের লাশ ফেরতই দেয়নি।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Journalist Toab Khan was laid to rest at Banani graveyard on Monday

সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে

সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে সাংবাদিক তোয়াব খান। ফাইল ছবি
সাংবাদিক তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির নিউজবাংলাকে জানান, তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। পরদিন বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের দাফন হবে সোমবার। রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

‘তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে নেয়ার পর সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাখা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মরদেহ নেয়া হবে গুলশানে তার নিজ বাসভবনে।’

বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

নিউজবাংলার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও উপদেষ্টা সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। সম্পাদকের মৃত্যুতে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোয়াব খান। সাংবাদিক হিসেবে সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন রয়েছে তার।

২০১৬ সালে একুশে পদক পান তোয়াব খান। একই বছর তাকে সম্মানীত ফেলো নির্বাচন করে বাংলা একাডেমি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন তোয়াব খান। পরে রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই তোয়াব খান বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন। ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে।

১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। ১৯৬৪ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচার হয় ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন তোয়াব খান। দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন যশস্বী এ সাংবাদিক।

নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সর্বশেষ তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণ
নতুন রূপে আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক তোয়াব খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boatwreck Rescue operation on seventh day

নৌকাডুবি: উদ্ধার অভিযান সপ্তম দিনে

নৌকাডুবি: উদ্ধার অভিযান সপ্তম দিনে সপ্তম দিনের মতো অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ছবি: নিউজবাংলা
ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ৭০ জন উদ্ধারকর্মী নদীর ভাটি অংশে সারাদিন সাড়াশি অভিযান চালাবে।

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় সপ্তম দিনের মতো অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকর্মীরা।

করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট এলাকা থেকে শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়।

ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ৭০ জন উদ্ধারকর্মী নদীর ভাটি অংশে সারাদিন সাড়াশি অভিযান চালাবে।

নৌকাডুবির এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তথ্য কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশুসহ ৩ জন।

নৌকাডুবি: উদ্ধার অভিযান সপ্তম দিনে

বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারের মাঝে ৫৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে রির্পোট দাখিল করার কথা রয়েছে আজ।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৬১
করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই
মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
They were on the river for 6 days

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে
ভূপেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার দিশাহারা। মাড়েয়া বামনপাড়া ইউনিয়নের ছত্র শিকারপুর হাতিডুবা গ্রামে ভূপেনের বাড়ি। তার খোঁজে প্রতিদিন নদীর তীরে আসছেন বাবা মদন চন্দ্র রায়।

‘আজ ৬ দিন পার হয়ে গেল, নিখোঁজ সন্তানের জন্য ঘরে কারও মুখে খাবার যায় না। বাড়ির সবাই নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছি।’

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে এ কথা বলছিলেন সাকোয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের খগেন্দ্র নাথ বর্মণ।

বোদার করতোয়া নদীর মাড়েয়া আউলিয়া থেকে বদ্বেশ্বরী ঘাটে যাওয়ার সময় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রোববার নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন তার ছেলে সুরেন। সেদিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ছেলের খোঁজে দুই ঘাটে ঘুরতে থাকেন বৃদ্ধ খগেন্দ্র। পরিবারটির অন্য সদস্যরাও সুরেনের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন। তবে ঘটনার ষষ্ঠ দিনে এসে তাকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশা তারা ছেড়েই দিয়েছেন।

ওই দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা মিলে উদ্ধার করেছে। এখনও পাওয়া যায়নি সুরেন, ভূপেন ও তিন বছর বয়সী জয়া রানীকে। তাদের উদ্ধারে প্রতিদিন কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

ভূপেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার দিশাহারা। মাড়েয়া বামনপাড়া ইউনিয়নের ছত্র শিকারপুর হাতিডুবা গ্রামে ভূপেনের বাড়ি। তার খোঁজে প্রতিদিন নদীর তীরে আসছেন বাবা মদন চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান ছিল ভূপেন। এত কঠিন সাজা দিল ভগবান, জানি না কী অপরাধ করেছি আমরা।’

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে

ছোট্ট জয়া সেদিন মা ও আরেক বোনের সঙ্গে নৌকায় চড়ে মহালয়া দেখতে রওনা হয়েছিল। মাঝনদীতেই ডুবে গেল নৌকা, সে হারিয়ে গেল পানিতে। মা সাঁতার কেটে বেঁচে গেলেও পরে পাওয়া গেছে জয়ার বোনের মৃতদেহ। এখন বাবা ধীরেন্দ্র নাথ এক মেয়ের সৎকার করে আরেক মেয়ের লাশের জন্য নদীতীরে রয়েছেন অপেক্ষায়।

তিনি জানান, জয়ার মা দুই মেয়ে হারিয়ে পাগলপ্রায়। শিশু দুটি সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখত। এখন তাদের ঘরজুড়ে কেবল আহাজারির শব্দ।

বোদায় করতোয়ার এক পাড়ে পীর আউলিয়ার মাজার, আরেক পাড়ে ঐতিহ্যবাহী বদেশ্বরী মন্দির। এ কারণে দুই ঘাটের নাম আউলিয়া, বদেশ্বরী।

বদেশ্বরী মন্দিরে গত রোববার ছিল মহালয়ার আয়োজন। সেখানে যাওয়ার জন্যই নৌকাবোঝাই যাত্রীরা আউলিয়া ঘাট থেকে রওনা হয়েছিলেন। মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে অনেকে সাঁতরে ওঠে। কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয় জীবিত। এরপর চার দিনে ৬৯ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায় নদীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

৬ দিন ধরে তারা করতোয়ার পাড়ে

প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাটের লোকজন এই দুর্ঘটনার জন্য যাত্রীদের বাধা না মেনে নৌকায় ওঠাকে দায়ী করে আসছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মাইকিং করে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রীদের উঠতে বারবার মানা করছিল। তারপরও হুড়মুড়িয়ে যাত্রীরা নৌকায় ওঠে। ভার নিতে না পেরে ডুবে যায় নৌকাটি।

স্থানীয় কৈলাশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমার এই জীবনে এত বড় নৌকাডুবি দেখিনি। এত মানুষের নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছি না।’

এই দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘এলাকায় থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টার তদারকিসহ মৃতদের সৎকার, পরিবারগুলোর দেখভাল করতে সময় লেগেছে। এ কারণে সময়মতো তদন্তের কাজ হয়নি।

‘তদন্তের সময় বাড়ানো হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পঞ্চগড়ের সহকারী উপপরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের কাজ চলবে।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই
মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার
করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Child of Shehzad Khan Vir Amar and Shakib Khan Bulli

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব সন্তানের সঙ্গে বুবলী ও শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক স্ট্যাটাসে বুবলী লেখেন, ‘আমরা চেয়েছি একটি শুভ দিনক্ষণ দেখে আমাদের সন্তানকে সবার সম্মুখে আনতে, তবে আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। সেই সুখবরটি জানানোর জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।’ একই ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাকিব খানও।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সন্তানের ছবি ও নাম প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলী।

সন্তানের বাবা হিসেবে শাকিব খানের নাম জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এ নায়িকা। পরে একই ধরনের পোস্ট দিয়ে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়েছেন শাকিবও।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শুক্রবার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী বুবলী। এর মধ্যে শেহজাদকে কোলে নিয়ে শাকিব খানের বসে থাকার ছবিও রয়েছে।

দুপুর ১২টার দিকে বুবলী প্রথমে পোস্ট দেন। এর কয়েক মিনিটের মাথায় ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট দেন শাকিবও। তিনিও পোস্ট করেছেন ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে থাকার সেই ছবি।

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
ছেলে শেহজাদের সঙ্গে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে কবে হয়েছে বা সন্তানের জন্ম কবে হয়েছে, তা নিয়ে তারকা জুটির কেউই কোনো তথ্য দেননি। যদিও শেহজাদের বয়স আড়াই বছর হতে পারে বলে খবর বেরিয়েছে আগেই।

এর আগে নায়িকা অপুর সঙ্গে এক সন্তান রয়েছে শাকিবের। সে হিসাবে দুই ছেলেসন্তান এ নায়কের।

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
শাকিব ও বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীর। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে বুবলী লেখেন, ‘আমরা চেয়েছি একটি শুভ দিনক্ষণ দেখে আমাদের সন্তানকে সবার সম্মুখে আনতে, তবে আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। সেই সুখবরটি জানানোর জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।

‘শেহজাদ খান বীর, আমার এবং শাকিব খানের সন্তান, আমাদের ছোট্ট রাজপুত্র। আমার সন্তান আমার গর্ব, আমার শক্তি। আপনাদের সবার কাছে আমাদের সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করছি।’

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
শাকিব ও বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীর। ছবি: সংগৃহীত

শাকিব খান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম একটি শুভ দিনক্ষণ দেখে আমাদের সন্তানকে সবার সম্মুখে আনতে, তবে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। সেই সুখবরটি জানানোর জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি।

‘শেহজাদ খান বীর আমার এবং বুবলীর সন্তান, আমাদের ছোট্ট রাজপুত্র। আমার সন্তান আমার গর্ব, আমার শক্তি। আপনাদের সবার কাছে আমাদের সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করছি।’

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
ছেলে শেহজাদের সঙ্গে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

শাকিবের বিয়ে ও সন্তান নিয়ে আলোচনা বেশ কয়েক বছর আগেই শুরু হয়। অপুকে বিয়ে এবং সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন তিনি।

এ অবস্থায় ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি বেসরকারি টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে শাকিবের সঙ্গে নিজের গোপন বিয়ের খবর জানান অপু।

সেখান থেকেই জনসমক্ষে আসে ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে হয় তাদের। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম শাকিবের বড় ছেলে আব্রাহাম জয়ের। সে সময় টেলিভিশনের পর্দায় অপুর সন্তান কোলে কান্নার ছবি নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

এ নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে এসে শাকিব সন্তানের কথা স্বীকার করলেও বেশ ক্ষোভ ঝাড়েন স্ত্রী অপুর ওপর। ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে অপুর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান শাকিব। এর তিন মাস পর কার্যকর হয় তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ।

শাকিব-অপু নিয়ে পরে আর তেমন কোনো খবর না বের হলেও মাঝেমধ্যে ছেলের সঙ্গে শাকিবকে সময় কাটাতে দেখা যেত। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছেলে জয়ের জন্মদিন পালন করেন দুজন। শাকিবের বাড়িতে হওয়া সে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অপু। সে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন অপু।

এদিনই বেরিয়ে আসে শাকিব-অপু-বুবলীর সম্পর্কের নতুন রসায়ন। হুট করে ফেসবুকে বেবি বাম্পের ছবি পোস্ট করে বুবলী লেখেন, ‘আমি আমার জীবনের সঙ্গে। ফিরে দেখা আমেরিকা।’

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
শাকিব ও বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীর। ছবি: সংগৃহীত

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। কবে বুবলী মা হলেন, এই সন্তানের বাবা কে, সন্তানের নাম কী- এসব নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তবে কেউই মুখ খুলছিলেন না।

বুবলী ওইদিন এক সিনেমার শুটিং সেট থেকে সাংবাদিকদের জানান, যা হয়েছে সুন্দর ও শালীনভাবেই হয়েছে। শিগগিরই এ নিয়ে বিস্তারিত জানানোর কথাও বলেন তিনি, তবে এর মধ্যেই এই সন্তানের বাবা হিসেবে শাকিবের নাম আসতে শুরু করে। ঠিকভাবে জানা যাচ্ছিল না কিছুই।

শেহজাদ খান আমাদের সন্তান, বললেন বুবলী-শাকিব
সন্তানকে কোলে নিয়ে বুবলী। ছবি: সংগৃহীত

অবশ্য বুবলীর মা হওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল ২০২০ সালেই। শাকিব খান প্রযোজিত ও কাজী হায়াৎ পরিচালিত বীর সিনেমায় অভিনয়ের সময় তার মা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে।

সিনেমাটির শুটিং শেষ করেই বুবলী পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় যখন দেশে লকডাউন চলছিল, তখন তিনি দেশটিতে ছিলেন।

গুঞ্জন আছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসব করেছেন এ অভিনেত্রী। সন্তানের বাবার পরিচয় হিসেবে শাকিব খানের নাম শোনা গিয়েছিল সে সময়।

পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে এসবকে গুঞ্জন বলেই জানিয়েছেন বুবলী। নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনটিও স্বীকার করেননি তিনি। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।

আরও পড়ুন:
‘মা হওয়ার জন্য আজকাল বাবা জরুরি নয়, অনেক পদ্ধতি রয়েছে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It is as if Kheta Shah has vanished into thin air

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তার স্ত্রীসহ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক তালুকদার ওরফে খেতা শাহর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
যে ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন, তার স্ত্রীকে নিয়ে গত ২২ জুন উধাও হন মাজারের ফকির খেতা শাহ। গত ১১ জুলাই রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু খেতা শাহ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

যাকে নিয়ে উধাও হয়েছিলেন, সেই নারী ঘরে ফেরার আড়াই মাস পরও কোনো হদিস নেই ময়মনসিংহের তারাকান্দার আলোচিত ফকির খেতা শাহের।

নিজ ঘরে আশ্রয় দেয়া এক ভক্তের স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়েছিলেন তিনি। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন সেই ভক্ত। তোলপাড় করা সেই ঘটনার ১৯ দিন পর উদ্ধার হন সেই নারী, সেটি গত ১১ জুলাইয়ের কথা। কিন্তু এরপর ৮০ দিনেও পুলিশ জানতে পারেনি, খেতা শাহ কোথায়।

গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে সেই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি ফিরেছেন তিন ছেলে মেয়ের কাছে। কিন্তু খেতা শাহের সঙ্গে কোথায়, কেন গিয়েছিলেন, সেটি আর বলছেন না।

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কাঁথাকে বলা হয় খেতা। জেলার তারাকান্দার টিকুরী এলাকায় সব সময় ছেঁড়া কাঁথা শরীরে জড়িয়ে রাখতেন খেতা শাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি যা বলতেন তাই হতো- এমন বিশ্বাসে অনেক লোক তার ভক্ত হয়ে যান৷

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

বৃদ্ধ বয়সে মারা যান সেই ব্যক্তি। কিন্তু থেকে যান ভক্তরা। একপর্যায়ে নির্মাণ করা হয় মাজার। নামকরণ করা হয় ‘খেতা ছিঁড়ার মাজার’। প্রতি বছর পালন করা হয় ওরস।

এবারও চার মাস আগে ওরস শুরু হয় ওই মাজারে। বরাবরের মতো এবারও হাজারো ভক্তসহ লোকজন আসেন মনের বাসনা পূরণ করার আশায়।

পাগলবেশে ফজলুল হক তালুকদার নামের একজন আসেন মাজারটিতে। ৬০ বছর বয়সী ফজলুলের বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পাইলাটি গ্রামে।

বড় দাড়ি, লম্বা গোঁফ ও ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে সারাক্ষণ মাজারে বসে সময় কাটাতেন। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে মাজারের নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে নিজেকে ‘খেতা শাহ’ হিসেবে পরিচয় দেন৷

আধ্যাত্মিক ফকির হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেতে কথাও বলতেন খুব কম। এভাবে গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।

তাকে বাবা ডেকে অনেকে মনের বাসনা পূরণ করতে দোয়া চেয়ে নিতেন। যারা তার কাছে আসতেন, তাদের অনেককে মাথায় হাত বুলিয়ে ঝাড়ফুঁক দিতেন। এভাবে কয়েক দিনেই তার ভক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়।

আধ্যাত্মিক ফকির ভেবে খেতা শাহের ভক্ত হয়ে যান মাজারের পাশের এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। সংসারের উন্নতি আর মনের বাসনা পূরণ হবে- এমন ধারণা থেকে দুই চাচার পরামর্শে নিয়ে আসেন বাড়িতে। স্ত্রীকেও বলতেন ঠিকঠাক সেবা করতে।

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

গত ২২ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় যাওয়ার কথা বলে শফিকুলের স্ত্রী খেতা শাহকে নিয়ে বের হন। এরপর দুজনই নিখোঁজ হন।

২৪ জুন সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই ভক্ত। রাত ১২টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়।

এরপর গত ১১ জুলাই রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু খেতা শাহ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত বুধবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভণ্ড খেতা শাহ আমার অন্ধ বিশ্বাসকে টার্গেট করেছিল। ফলে সুযোগ বুঝে আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে আমাকেসহ ছোট ছেলেমেয়েদের মনে আঘাত করেছে।

‘আমার স্ত্রী জানিয়েছে তাকে বিয়ে করেননি ওই প্রতারক। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত মনকে শান্তনা দিতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এক সঙ্গে থাকব৷ কিন্তু খেতা শাহ যেন আর কারও পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি না করে, সেজন্য তাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এজন্য পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগও করছি। তারা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার করতে সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী একথা জানতে পেরে আমাকে বারবার নিষেধ করছে। সে ভয় পাচ্ছে।’

সেই ঘটনার পর স্থানীয়রা পরিবারটিকে বাঁকা চোখেও দেখছে জানিয়ে শফিকুল বলেন, ‘খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে। এ জন্যই চাই তিনি ধরা পড়ুক।’

তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
মৃত ফকিরের ঘরে আড়াই কোটি টাকা
ঘরে ফিরলেন সেই নারী, খেতা শাহ নিয়ে চুপ
গাজীপুর থেকে খেতা শাহর ভক্তের স্ত্রী উদ্ধার
খেতা শাহ কেড়ে নিলেন শফিকুলের ঈদের খুশি
ফজলুল থেকে খেতা শাহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maryam wants to change the false statement claiming mothers abduction

মায়ের অপহরণের দাবি ‘মিথ্যা’, জবানবন্দি বদলাতে চান মরিয়ম

মায়ের অপহরণের দাবি ‘মিথ্যা’, জবানবন্দি বদলাতে চান মরিয়ম
মরিয়ম বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে জানান, ময়মনসিংহ থেকে গত শুক্রবার ঢাকা ফেরার পথেই বান্দরবানে তার মায়ের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য পান। ওইদিনই ফরিদপুর থেকেও একজন ফোন করে বোয়ালমারীতে তাদের কাছে রহিমার অবস্থানের তথ্য জানিয়েছিলেন।

ফরিদপুরের পাশাপাশি বান্দরবানেও মায়ের অবস্থানের তথ্য পেয়েছিলেন খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নান। তবে সেটি প্রকাশ না করে পরদিনও তিনি ময়মনসিংহের অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহকে মায়ের দাবি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

মরিয়ম এখন দাবি করছেন, অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহকে মা ভাবার কারণে তিনিসহ অন্য ভাইবোনেরা ‘স্বাভাবিক অবস্থায়‘ ছিলেন না। এ কারণেই তারা রহিমা বেগমের বান্দরবান ও ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্যকে ‘গুরুত্ব দেননি’।

আদালত ও পুলিশের কাছে রহিমা বেগম ‘অপহৃত হয়েছিলেন’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মিথ্যা বলেও স্বীকার করছেন মরিয়ম। তিনি জানিয়েছেন, মায়ের জবানবন্দি পরিবর্তনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

মরিয়ম বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে জানান, ময়মনসিংহ থেকে গত শুক্রবার ঢাকা ফেরার পথেই বান্দরবানে তার মায়ের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য পান। ওইদিনই ফরিদপুর থেকেও একজন ফোন করে বোয়ালমারীতে তাদের কাছে রহিমার অবস্থানের তথ্য জানিয়েছিলেন।

মরিয়ম দাবি করেন, সে সময় তিনি মায়ের বান্দরবান ও ফরিদপুর যাওয়ার তথ্য অবিশ্বাস করেছিলেন। তবে এখন তিনি নিশ্চিত যে তার মা রহিমা বেগমের অপহৃত হননি, তিনি আত্মগোপনেই ছিলেন।

মরিয়মের মা রহিমা গত ২৭ আগস্ট খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বাড়ি থেকে গত ২৭ আগস্ট রাতে নিখোঁজ হন। মাকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সংবাদমাধ্যমে নানা সাক্ষাৎকার ও ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় মরিয়ম মান্নান।

মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বরাবরই তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমির বিরোধের বিষয়টিকে দায়ী করে আসছিলেন। রহিমা নিখোঁজের পরদিন দৌলতপুর থানায় অপহরণের মামলা করেন তার আরেক মেয়ে আদুরী আক্তার।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন মরিয়ম। পরদিন শুক্রবার সকালে বোনদের নিয়ে ফুলপুর থানায় লাশ শনাক্ত করতে যান তিনি।

মায়ের অপহরণের দাবি ‘মিথ্যা’, জবানবন্দি বদলাতে চান মরিয়ম
মায়ের মরদেহ আনতে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন মরিয়ম মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা

এরপর শনিবার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে রহিমা বেগমকে স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয় মরিয়ম মান্নানের।

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে আমরা ঢাকায় আসার পর, বান্দরবান থেকে মনি বেগম নামে এক নারী আমার ভাই মিরাজকে কল করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনার মা ভিক্ষা করতে করতে আমাদের কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। নম্বরটি আমার ভাই র‍্যাবকে দিয়েছিল তদন্ত করতে।

‘এছাড়া ফরিদপুর থেকেও আমার ভাইয়ের মোবাইলে জানানো হয়েছিল, মা তাদের কাছে আছে। তবে মোবাইলটি আমার ভাইয়ের স্ত্রী রিসিভ করে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। সে সময়ে আমাদের মাথা ঠিক ছিল না। একেকজন ফোন করে একেক রকমের কথা বলছিলেন। তাই কোনটা সত্য বুঝতে পারছিলাম না।’

তবে মরিয়মের ভাই মিরাজ এর আগে নিউজবাংলা জানিয়েছিলেন, ফরিদপুর থেকে যখন কল এসেছিল, তখন তার দুটি ফোনই মরিয়মের কাছে ছিল।

আরও পড়ুন: রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের


মরিয়ম মান্নান বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে মা জীবনের প্রতি বিরক্ত, নিজেই আত্মগোপনে ছিল। সে চলে গিয়েছিল সারা জীবনের জন্য। এটার দায় আমরাও। আমরা তো তার সন্তান।

‘মা ভীষণ কান্নাকাটি করছে। সে বলছে আমি তো চলেই গেছি, আমাকে কেন নিয়ে আসছো।’

মায়ের অপহরণের দাবি ‘মিথ্যা’, জবানবন্দি বদলাতে চান মরিয়ম
বান্দরবান ও ফরিদপুর থেকে মায়ের জীবিত থাকার তথ্য পাওয়ার পরও ময়মনসিংহে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহকে মায়ের দাবি করে স্ট্যাটাস দেন মরিয়ম

আদালতে অপহরণ হয়েছেন দাবি করে যে জবানবন্দি রহিমা দিয়েছিলেন, এখন সেটিও বদলাতে চান মরিয়ম।

তিনি বলেন, ‘সে আদালতে যা বলেছে তা গ্র্যান্ট করার কিছু নাই। মায়ের এই স্টেটমেন্টটা আমরা নিচ্ছি না। আইন-আদালত কেউ নেবে না। তার যদি মাথা ঠিক থাকত তাহলে ছেলে-মেয়েদের রেখে এসব করত না। সে একা একা চলে যেত না।

‘তার জন্য আমরা হেনস্তার শিকার হয়েছি। এই দায় মাকে দিচ্ছি না, আমরাই নিচ্ছি। মায়ের জবানবন্দি আদালতে অবশ্যই পরিবর্তন করাব। মাকে তো আমরা এখনি আদালতে নিতে পারছি না। পিবিআই তদন্ত করছে, তারা যখন ডাকবে, তখন আদালতে স্টেটমেন্ট পরিবর্তন করাব। তাকে সাপোর্ট দেয়ার এখানে কিছুই নাই।’

অপহরণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে তাহলে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে মরিয়ম বলেন, ‘আমরা মামলায় কারও নাম দেই নাই। সন্দেহদের নাম দিয়েছিলাম। তাদেরকে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ ছিল। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

‘আমি ইতোমধ্যে আইনজীবীকে বলে দিয়েছি, মামলাটি তুলে নিতে। তখন তাদের প্রতি সন্দেহ হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। এখন তো মনে হচ্ছে মা আত্মগোপনে ছিলেন। তাই মামলাটি তুলে নেব। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে আদালতের কাছে ক্ষমাও চাইব।’

মরিয়মের বোন আদুরীর করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন রহিমা বেগমের প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ এবং রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার।

সৎ বাবাকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তোলা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে মরিয়ম বলেন, ‘মা নিখোঁজ হওয়ার পরে বেল্লাল ঘটক প্রথমে আমাদের বলেছিলেন, তোমার মা আর নাই। তোমার মাকে মেরে ফেলছে। পরে তিনি আবার বলছিলেন আমি কিছু জানি না তোমাদের মা কোথায় গেছে।

‘তার দুই ধরনের কথায় সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলেছিলাম। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।’

রহিমার আত্মগোপনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন মরিয়ম।

তিনি বলেন, ‘এটা যদি কেউ বলে মায়ের আত্মগোপনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম, এটা খুবই ভুল বলবে। এটা কোনো ভাবেই না। এখন যদি ধরেন, মাকে খুঁজতে গিয়ে যদি কোনো দণ্ড হয়, হাসি মুখেই মেনে নিতে হবে। এটা মাথা পেতেই নেব।

‘মাকেই তো পেলাম। সব স্থানে গিয়ে বলেছি আমার মা কোথায়, আর কিছুই তো বলিনি। আমি যদি জানতাম আমার মা নিজে থেকে চলে গেছে। আমি কোনো আইনি আশ্রয় নিতাম না। নিজেই খুঁজে বেড়াতাম।’

মায়ের অপহরণের দাবি ‘মিথ্যা’, জবানবন্দি বদলাতে চান মরিয়ম

তিনি জানান, মা এখন তাদের কাছে থাকতে চাচ্ছেন না।

মরিয়ম বলেন, ‘মা এখন আমাদের কাছে থাকতে চাচ্ছেন না। যদিও আদালত আমার বোন আদুরীর জিম্মায় মাকে মুক্তি দিয়েছেন। এখন পরবর্তীতে পিবিআই যখন মাকে আদালতে নেবে, তখন বিষয়টা দেখা যাবে। তবে মা চাইলে তো তাকে একা ছেড়ে দেয়া যায় না। সে তো মা।’

অপহরণ মামলার তদন্তের অগ্রগতি কতদূর, জানতে চাইলে খুলনা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে নেমে প্রায় সব তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। যে সময় রহিমা আত্মগোপনে যান, সে সময়ে তার স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কাছেই ছিলেন। যে কারণে বেল্লাল হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

‘তাকে আমরা রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছি। ৪ অক্টোবর তার শুনানি হবে। তারপর রহিমার আত্মগোপনে কারা জড়িত জানা যাবে।’

মরিয়মের দাবি অনুযায়ী, মনি বেগমের তথ্য যাচাইয়ের জন্য তার ভাই মিরাজ ফোন নাম্বারটি র‍্যাবকে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি মুশফিকুর বলেন, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনি বেগমের সঙ্গে কথা বলবে পিবিআই।

আরও পড়ুন:
বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা
এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking The family of each deceased received 55 thousand rupees

নৌকাডুবি: মৃত প্রত্যেকের পরিবার পেল ৫৫ হাজার টাকা

নৌকাডুবি: মৃত প্রত্যেকের পরিবার পেল ৫৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্ঘটনার পর ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে মরদেহ সৎকারে ২০ হাজার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার এবং রেলপথমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেয়া হয়েছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে মৃতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে ৫০ হাজার ও পঞ্চগড় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে দেয়া হয় ৫ হাজার টাকা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এবং রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

দুর্ঘটনার পর ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে মরদেহ সৎকারে ২০ হাজার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার এবং রেলপথমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার প্রথম থেকেই সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘করতোয়া নদীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক এগিয়ে এসেছে সরকার। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিতসহ সকল প্রকার মানবিক সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করতে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’

করতোয়ার আউলিয়া ঘাটে আগামী বছরেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টির সক্ষমতা যাচাই করে একনেকে বিল পাস হয়েছে। সারা দেশে এই প্রকল্পের আওতায় ২৮টি সেতু নির্মাণ করা হবে।’

বোদা উপজেলার করতোয়া নদীর মাড়েয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়, যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

আরও পড়ুন:
মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার
করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

মন্তব্য

p
উপরে