× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The memory of Rani is still not forgotten in Bairagirchala village
hear-news
player
google_news print-icon

রানি এলিজাবেথকে ভোলেনি বৈরাগীরচালা গ্রাম

রানি-এলিজাবেথকে-ভোলেনি-বৈরাগীরচালা-গ্রাম
১৯৮৩ সালে শ্রীপুরের বৈরাগীরচালা গ্রামে এসেছিলেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ছবি: সংগৃহীত
৭০ বছর বয়সী সালেহা আক্তার বলেন, ‘গ্রামের কাঁঠাল বাগানে বসে স্থানীয় নারীদের সঙ্গে গল্প করেছিলেন রানি। এ গ্রামের পক্ষ থেকে প্রতীকী হিসেবে রানির হাতে একটি রূপার চাবি তুলে দেয়া হয়েছিল। এর অর্থ হচ্ছে যে কোনো সময় রানি বৈরাগীরচালা গ্রামে আসতে পারবেন। তার জন্য গ্রামের সব দরজা সর্বদা খোলা।’

তিন যুগ আগে ১৯৮৩ সালের ১৬ নভেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রামে পা পড়েছিল সদ্য প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। স্বনির্ভর গ্রামের চিত্র দেখতে এসেছিলেন তিনি। আর এই সফরের সূত্রে রাতারাতি বদলে গিয়েছিল গ্রামটি।

রানি এলিজাবেথের আগমন সামনে রেখেই বৈরাগীরচালা গ্রামে প্রথমবার বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছিল। পাকা করা হয় শ্রীপুর-বৈরাগীরচালা সড়ক আর শ্রীপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মটিও।

বলা যায়, সে সময় বৈরাগীরচালা গ্রামসহ পুরো শ্রীপুরকেই ঢেলে সাজিয়েছিল সরকার।

এ কারণে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রেখেছেন এই গ্রামের মানুষ।

১৯৮৩ সালে তখনকার সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ে ব্রিটিশ রানির ওই সফরই ছিল বাংলাদেশে তার প্রথম ও শেষ সফর।

রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর খবরে শোকাহত বৈরাগীরচালা গ্রামের মানুষও। এই গ্রামের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৮৩ সালেই গ্রামটি ছিল স্বনির্ভর। এলাকার মানুষের গোয়ালভর্তি গরু-ছাগল, খামারভর্তি মোরগ-মুরগি, পুকুরভর্তি মাছ, ফসলি জমি, শাক-সবজি সবকিছু ছিল। কোনোকিছুর অভাব ছিল না এ গ্রামে।

'গ্রামের মানুষ বাইরে থেকে কিছু আমদানি করতেন না। মূলত এ দৃশ্য দেখতেই গ্রামটিতে এসেছিলেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সে সময় আমার বাবা মিজানুর রহমান খানের বাড়ির চারপাশ ঘুরে দেখে স্বনির্ভর গ্রামের চেহারা দেখেছিলেন রানি।’

রানি এলিজাবেথকে ভোলেনি বৈরাগীরচালা গ্রাম
শ্রীপুর রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নামছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

৭০ বছর বয়সী সালেহা আক্তার বলেন, ‘গ্রামের কাঁঠাল বাগানে বসে স্থানীয় নারীদের সঙ্গে গল্প করেছিলেন রানি। এ গ্রামের পক্ষ থেকে প্রতীকী উপহার হিসেবে রানির হাতে একটি রূপার চাবি তুলে দেয়া হয়েছিল। এর অর্থ হচ্ছে যে কোনো সময় রানি বৈরাগীরচালা গ্রামে আসতে পারবেন। তার জন্য গ্রামের সব দরজা সর্বদা খোলা।’

স্থানীয় শিক্ষক মাসুদ ইবনে মোবারক জানান, রানি এলিজাবেথ বৈরাগীরচালা গ্রামে এসে যে পুকুরে মাছ অবমুক্ত করেছিলেন, সেই পুকুরটি এখন পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পাড় ভেঙে পড়ছে। গ্রামে তখন প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ায় বেশ কয়েকটি কলকারখানাও গড়ে উঠেছিল।

গ্রামের বাসিন্দা চাঁন মিয়া বলেন, ‘রানিকে আমরা দেখেছি। রানির সঙ্গে বসে গল্প করেছি। তার কথা আমরা বুঝিনি। তবে তার সঙ্গের লোকজন আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় রানিকে হাতে ভাজা মুড়ি বানানো ছাড়ও গ্রামীণ শিল্পের নানা ধরনের উপকরণ তৈরির নমুনা দেখানো হয়।’

স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। ১৯৫২ সালে ব্রিটেনের রানি হিসেবে দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেক হয়।

আরও পড়ুন:
ঘৃণার আগুনে ফুল ফোটানো ব্রিটিশ রাজবধূ ক্যামিলা
কত সম্পদ রেখে গেলেন রানি?
প্রিমিয়ার লিগের এ সপ্তাহের ম্যাচ স্থগিত
কমল হাসানের শুটিং সেটে এসেছিলেন রানি
ব্রিটিশ মুদ্রা, ডাকটিকিটেও আসছে পরিবর্তন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
How is the child who gives news in the madrasa?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’ ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী। ছবি: সংগৃহীত
১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন: ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী

হাফিজি মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বেধড়ক মারধর নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন একজন ধর্মীয় বক্তা। তিনি আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে সন্তানদের না পাঠানোর অনুরোধও করেছেন। বলেছেন, যেভাবে মাদ্রাসায় নির্যাতন করা হয়, তার খানিকটা তার ওপর করা হলে তার ইমান থাকত না।

শিশুদের হাফেজখানায় না দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ম্যাজিস্ট্রেট বানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, হাফেজ বানালে জাতির কোনো লাভ হয় না।

তিনি বলেন, কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ বানানো বাধ্যতামূলক বা ফরজ না। ফরজ হচ্ছে কোরআন সঠিকভাবে এক পারা শেখানো। সবাই এক পারা শিখলেই গোটা দেশ পাল্টে যাবে।

এই ধর্মীয় বক্তার নাম রফিক উল্লাহ আফসারী। বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামে।

তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা কামিল মাদ্রাসায় চাকরি করেন। পাশাপাশি ওয়াজ করেন।

সেই এলাকাটা অনেকটা নোয়াখালী লাগোয়া। তার ভাষা নোয়াখালীবাসীর মতো।

এই ধর্মীয় বক্তা মাদ্রাসায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুদের পেটালে সরাসরি থানায় যেতে বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে সরকার যেন এসব মাদ্রাসায় নজরদারি করে, সেই দাবি তুলেছেন।

রফিক আফসারী নিজেও তার সন্তানকে মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। এর পরই সেখানকার চিত্র জানতে পেরেছেন বলে জানান। বলেন, তিনি নানা অভিযোগের বিষয়ে স্বচক্ষে দেখতে নানা কৌশলে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন।

সম্প্রতি তার একটি ওয়াজের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এর পর থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। বহুজন বলছেন, মাদ্রাসায় নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে অন্তত একজন আলেম মুখ খুলেছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

তবে এই ওয়াজেই আফসারী শঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব বক্তব্য দেয়ার কারণে তার ওপর চড়াও হবেন কওমিপন্থিরা।

যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, ওয়াজে যে শঙ্কার কথা তিনি বলেছিলেন, সেটি সত্য হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় কওমিপন্থিদের রোষানলের কারণে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

কওমি মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী শিশুকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় মায়ের করা মামলায় এক শিক্ষককে গত বছর ১৮ মার্চ কারাদণ্ড দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালত। সেই বছর হাটহাজারীর এক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে পেটানোর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

‘হাফেজ বানিয়ে লাভ কী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানান’

হাফেজি পড়ে জাতির কোনো লাভ হয় না বলে মনে করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত স্টাডি করে দেখেন, কয়জন মানুষ হইছে, জাতিকে কিছু দিতে পারছে। পারছে?

‘১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন।’

তিনি বলেন, ‘হাফেজ কোনটা বড় আলেম হইছে দেখান না। আপনি পড়ান কম, যাতে এক পারা হাফেজ হলেও ছেলেটা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

এই সত্য তুলে আনায় হুজুররা গালিগালাজ করবে জানিয়ে আফসারী বলেন, তাতে তার আক্ষেপ নাই। তিনি বলেন, ‘করুক তাতে কী? আমার আল্লাহ যদি আমার প্রতি খুশি থাকে, আমার কারণে যদি একটা ছেলে মাইর থেকে বাঁচে, এই আনন্দ আমি রাখি কোথায়?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

জামালপুরের ইসলামপুরে তিন মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। ফাইল ছবি

‘আমার কারণে যদি একটা ছেলে কয়, আফসারী ভাইয়ের বক্তব্যের কারণে আমি এই নির্যাতন থেকে বাঁচি আইছি, দেখবেন যে সে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে যাবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে যাবে।

‘খালি হুজুর হইলে যে খেদমত করা যাইব, সেটাও তো নয়। পুলিশ অফিসার হইলেও তো খেদমত করতে পারব। প্রত্যেকের অবদান আছে একটি দেশ বিনির্মাণের জন্য।’

‘মাদ্রাসায় বাচ্চারা কেমন আছে খবর রাখেন?’

মানুষ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় শিশু পাঠানোর পর সেখানে তারা কেমন আছে, সেই খোঁজ নেয়ার তাগিদ দেন রফিক আনসারী। বলেন, পিটুনি ছাড়াও যেনতেন থাকার জায়গা, নিম্নমানের খাবারের কারণে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আফসারী বলেন, ‘যে মারটা দেয় ভাই! খবর নেন? সরল বিশ্বাসে আপনেরা হাফিজি মাদ্রাসায় দিয়ালান। কত মাইর দেয়! এই ছোট পোলাইনগুলার বদ দোয়া…। প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হলে সরকার হ্যাতেরে দুইটা বছর ট্রেনিং দেয়, পিটিআইয়ের ট্রেনিং দেয়, আগে শেখ, পরে পড়াইস। হ্যাতেরা তো হেফজ হইয়াই দৌড় দিয়া হাফিজি মাদ্রাসায় আয় তামা করে লায় পোলাইনগুলারে পিডায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার চোখে দেখা, হাজার হাজার প্রতিবন্ধী, ব্রেইন আউট…। মা-বাপেও হেরে দেয়া লাই, বান্দি (বেঁধে) দিয়া হেরে দেয়া লাই। এবার হুজুরে কয়, গেছসনি আব্বার বাইত? দিছে কি হে জায়গা?

‘আল্লারে পোলা নিজের মাথা নিজে ওয়ালের লগে ফিডে (পেটায়)। কত কষ্ট পাইলে হেতে তিন তলাত্তন (তিনতলা থেকে) ঝাঁপ দিয়া মরে?’

আফসারী বলেন, ‘প্রবাসী যারা শুনতেছেন, আপনাগো বউরা তো দিয়া দেয় মাদ্রাসায় মানুষ করবার লাই। আপনার পোলারা কি সুখে আছে, চায় লইয়েন (দেখে যাবেন)। জীবনেও মানুষ হবে না। মার কাছে থাকব। হ্যাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা পারে পড়ব।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’
হাফিজি মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

‘এই ল্যাদা (ছোট) পোলাপানের হার্ট নষ্ট করিয়া লায়…। ডাইলের (ডাল) পানি খায় (খেয়ে) হুজুরগোর ঘেটি (ঘাড়) মোটা মোটা হই গেছে। আর পোলাইনটিরে কী কইচ্ছে?’

১০০টির মধ্যে ৯৮টিতেই মারধর চললেও শিশুরা ভয়ে কিছু বলে না বলেও জানান আফসারী। বলেন, ‘আপনি যখন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। হুজুর সুন্দর করি বলবে কেমন আছেন। পুতেও কয় না। এমন মেডিসিন খাওয়ার দিছে। ডরে (ভয়) কয় না। এডি (হুজুর) জেএমবির থেকেও আরও বেশি ভয়ংকর। আর হুতেরে ফোন দিলে কয়, আব্বু ফোন দিলে আরে মারিয়ালাইব। এমন সিস্টেম করে ডরে বাড়িও কয় না।’

পিটুনিতে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে ছাত্ররা

নিজের এক স্বজনের কথা তুলে ধরে আফসারী বলেন, ‘আমার আত্মীয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে সে একজন। এখন ব্রেইন আউট, কী কী বলে।

‘সেই ছেলে বলে- মাগো, বেড়াইতাম আইতাম, আব্বা আমারে বাইন্দা মসজিদে আনত। মাগো হেইনো (সেখানে) আমার কী মাইর দিত গো মা! আমি কইলে তো বিশ্বাস করতা না। কইতেন পড়ার ডরে আমি এইডি কই। আমার তো ব্রেইন আউট কইরালাইছে।’

নিজের সহকারী মো. জহিরের ভাগনেরও একই অবস্থা হয়েছিল বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘তার এক ভাগিনা, হাতে তো মারে না।’

রফিক আনসারী তার মাথা নিচু করে দেখান। বলেন, ‘সিস্টেম করে কয় মোহাম্মদ, এমনে থাক।

(শিশুটা) কান্দি (কেঁদে) উডি হয়, ‘হুজুর আমার দম গেছে গা তো।’

‘মাথা উডলে গো গেডির (ঘাড়ে) বাইরে পিডব।

‘তুই এমনে থাহস না, ৩০ সেকেন্ডে স্ট্রোক করবি।

‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই।

‘এরপর মাথা উডায়।

‘এরপর আবার তারে মাথা নিচে নামায়। এরপর বাচ্চাডা আবার বলে, ‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই। এভাবে বাচ্চাডা প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে এখন।’

‘এমনে মারলে আমার ইমান থাকত না’

হাতের আঙুলে পেটানোর ভঙ্গি দেখিয়ে আফসারী বলেন, ‘হ্যায় হায় রে… গিরাবায় মারে। আমারেও যদি গিরাবায় মারে আমি ইমান রাখতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আপনার হুতেরে সিজদার মধ্যেও পিডায়। বলে সিজদা দে, আর মারে। আহারে লেদা পোলাডা।…সেদিন এক ভিডিওতে দেখছি, এক হুজুরে পাজাকোলা করে এক বাচ্চারে ধইরা রাখছে, আর আরেক হুজুরে রুল দিয়া পায়ের পাতার মধ্যে মারছে। কত জোরে কাঁদছে বাচ্চাটা, মাগো, মাগো, মাগো। বইলা বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়।’

যত ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটে, তার মধ্যে হাতে গোনা এক-দুইটাই প্রকাশ হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, এক কোটির মধ্যে আল্লাহ দুই-একটা বাইর কইরা দেয়, দেখায়, তোদের পোলারে এভাবে পিডায়।’

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের মারা নিষিদ্ধ বলে তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘নবী মারছে? সাহাবা একরাম মারছে?'

গভীর রাতে শিশুদের জোর করে ঘুম ভাঙানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাগো, লেদা (ছোট) পোলারে ৩টায় উঠায় দেয় পড়বার লাই (পড়ার জন্য)। হ্যাতের ওপর (যার ওপর) নামাজ ফরজ হয় নাই, অথচ তাকে দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ায়! হ্যাতের মাথায় আবার পাগড়ি দিয়া বাইন্দা লয়, ওমা এইটা কী জিনিস?’

‘প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে’

অভিভাবকদের চুপ থাকার কোনো কারণ দেখছেন না রফিক আনসারী। বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে। প্রত্যেক অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রিপোর্ট করবেন। মারব, আর ডাইরেক্ট যাবেন থানায়। এই হুজুরের আর দরকার নাই।’

তার কথা না শুনে মাদ্রাসায় দিতে থাকলে কী হবে, সেটি জানিয়েও সতর্ক করেন আফসারী। বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যায় ভুগবেন। বাচ্চা প্রতিবন্ধী হই যাইব। একটা বাচ্চা যদি অসুস্থ হয়, লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি। আপনার পারিবারিক অশান্তির কারণ হবে। কোনো অবস্থায় আবাসিক রাখবেন না। আফসারী কইলেও হ্যাতের কাছেও দিয়েন না। বাচ্চারে মায়ের কোলের মধ্যে হুতাইবেন।

‘সমাজসেবা অধিদপ্তরে এগুলার জন্য মামলা দিবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররে কইবেন, কীয়ের মাদ্রাসা দিছে? খেলার জায়গা কই। প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুলের দিকে তাকিয়ে দেখিয়েন, কত সুন্দর মাঠ আছে।

‘পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে আমাদের এই প্রাইমারি স্কুল। আমরা প্রাইমারি স্কুল থেকে মানুষ হইছি। ফাইভ পাস করে তারপর মাদ্রাসায় আইছি।’

‘সব কথা বলাও যায় না’

মেয়েদের মাদ্রাসায় কী হয়, সেটির বিষয়ে আফসারী কথা শুরু করেও শেষ করেননি। বলেন, সব কিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট মাইয়ার বোর্ডিংয়ে দেন। রুমের চাবি কয়টা কইতে পারবেননি? ১৮টা। সব কথা তো টেলিভিশনে বলা যায় না। কী কইতাম। জাতিটারে ধ্বংস করি দিতেছে তো। কোনো অবস্থায় বোর্ডিংয়ে দিবেন না। কাছে রাইখব্যান।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘কোনো হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্রকে আপনে বোর্ডিংয়ে দিয়েন না। মার কলিজার মধ্যি হুতি ঘুম যাইব, দিনের বেলা পড়ব’- বারবার এই কথাটি বলেন তিনি।

ভালো খাবার না দিয়ে মিথ্যা শেখানো হয়’

রফিক আনসারী বলেন, ‘বিকেল বেলা খেলতে দেয় না, লক্ষ লক্ষ মাসুম বাচ্চারে জবেহ করে দিছে তারা।’

শিশুদের ভালো না খেতে দিলেও তাদের মিথ্যা কথা শেখানো হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘পাঙ্গাশ মাছ দেয়। আর শেখায় মাংসের কথা বলতে।’

এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি হাসতে থাকলে তার উদ্দেশে আনসারী বলেন, ‘আমার রক্ত গরম হয়ে যায়, কলিজা ছিদ্র হয়ে যায়, আর আপনি হাসেন!’

তিনি বলেন, ‘(মা বলে) কিরে পুত কী দিয়া খাওয়াইছে? কয় গোশত। আসলে এক মাসের খানাতেও নাই গোশত। কত সেয়ানার সেয়ানা আমরা। আঁই (আমি) তো এইডি শিখছি, শিইখ্যাই তো কইলাম।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

ঢাকার সাভারের মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলার পলাতক আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আলামিন হাসান সাইমকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ফাইল ছবি

শিশুরা মায়ের কাছে থাকাই উত্তম উল্লেখ করে আনসারী বলেন, ‘মায়ের কাছে থাকলে বিকেলে একটু আমড়া খাইত, আমলকী খাইত, ১০০ কেজি আপেলের চেয়ে শক্তিশালী। একটা ডিম খাওয়াইত মা। পোলাপানেরে মা কত যত্ন করি খাওয়ায়। হেয়ান হ্যাতে শুইয়া রইছে মশারিও তো নাই।’

মুরাদনগরে একটি মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ল্যাদা পুলারা কাশতে আছে। ঘরে কাশলে তো মা উঠি যাইত ঘুমেত্তে। বাড়িত থাকলে তো আমি উঠে উঠে দেখি, ফ্যানটা জোরে চলেনি, আমার পুলায় কাশি দিল কেন?

‘এই সার্ভিসটা কি হুজুরে দিব তরে? তুই তোর হুতেরে হত্যা করিয়া লাইছত, বোর্ডিংয়ে দিয়ে।’

সরকারকে নজরদারির তাগিদ

যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসা দোকানের মতো করে ফেলছে মন্তব্য করে আফসারী বলেন, ‘মার্কেটের ভেতরে মাদ্রাসা। আল্লাহ, সরকার এগুলোর দিকে নজরদারিও করার তওফিক দাও।’

এসব বক্তব্য দেয়ায় সমালোচনা হবে, সেটি আগেই উল্লেখ করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘কাইল সকালে এই ভিডিও দেখব আর আমারে হুজুরেরা গাইল্যায়া শেষ করি দিব। কইব, হ্যাতে ইসলামবিদ্বেষী।’

তিনি বলেন, 'আমার পুতেরে হেফজ পড়ানে সব গুমর আল্লায় আমারে শিখায়ালাইছে। তিন-চারবার আমার পুতের নাম কাডিয়ালায়। দুঃখ কারে কই, আমার মতো সচেতন, প্রভাবশালী একজন অভিভাবকের সঙ্গে যদি হুজুরে এসব করে, তাহলে গরিব পোলাপানরে তো হুজুরে পাত্তাও দেয় না।'

আরও পড়ুন:
আজব মাদ্রাসায় সুপারের তেলেসমাতি
কুমিল্লা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান জামাল নাসের
বামপন্থায় কীভাবে দীক্ষিত হচ্ছে কওমি ছাত্ররা?
অন্তর্দ্বন্দ্বে বেহাল উত্তরাঞ্চলের নামি বিদ্যাপীঠ
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bus fare reduction e ticketing will last?

বাসে ভাড়া কমানো ই-টিকিটিং টিকবে তো?

বাসে ভাড়া কমানো ই-টিকিটিং টিকবে তো? ঘাটারচর থেকে উত্তরাগামী পরিস্থান পরিবহনের ই-টিকিট বিক্রি করেন এক এজেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা
পরীক্ষামূলক যাত্রার পরের দিন থেকেই বিভিন্ন রুটে বাস কমিয়ে দেয়া হয়, আবার শুরুতে আগে টিকিট না কেটে যাত্রী তুলতে বাধা দিলেও পরে যেখান-সেখান থেকে যাত্রী তোলা শুরু হয়, আবার টিকিট কাটার পর বিশেষ করে রাতে পুরো গন্তব্যে না গিয়ে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে বাস ঘুরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যেতে থাকে। যাত্রীরা ভাড়া চাইলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়, টিকিট কাটা হয়ে গেছে, আর ফেরত দেয়া সম্ভব নয়।

বছরের পর বছর ধরে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আসা রাজধানীবাসীকে আশার ঝিলিক দেখিয়েও হতাশ করার উপক্রম করছে ই-টিকিটিং সিস্টেমও।

এই পদ্ধতিতে বাসে আদায় ক্ষেত্রবিশেষে অর্ধেকেও নেমেছে, কিন্তু বাদ সেধেছে পরিবহন কোম্পানি ও বাস মালিকদের মধ্যে অবিশ্বাস আর পরিবহন শ্রমিকদের অসহযোগিতা।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে প্রজাপতি, পরিস্থান, বসুমতি ও মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের বাসগুলোতে ওয়েবিলের বদলে এই পদ্ধতিতে ভাড়া কাটা শুরু হয়।

এতে দেখা যায়, যে দূরত্বে আগে ২০ বা ২৫ টাকা ভাড়া আদায় হতো, সেখানে ভাড়া আসছে ১৩ টাকাও।

ঢাকায় বাস ভাড়া ১০ বা ১৫ বা ২০ বা ২৫ বা ৩০ টাকা দিয়ে অভ্যস্ত যাত্রীরা দেখলেন ভাড়া হচ্ছে ১৩ টাকা বা ১৭ টাকা বা ১৯ টাকা। সরকার নির্ধারিত হারে একজন যাত্রী যত কিলোমিটার যাবেন, তিনি ভাড়া দেন ঠিক ততটুকু দূরত্বের জন্যই। আগের মতো ওয়েবিল পদ্ধতিতে মগবাজার নেমে মতিঝিলের ভাড়া দিতে হচ্ছিল না।

বাসে ভাড়া কমানো ই-টিকিটিং টিকবে তো?

-টিকিটিংয়ে বিভিন্ন রুটে বাস ভাড়ার রিসিট। ছবি: নিউজবাংলা

সেদিন জানানো হয়, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে অছিম পরিবহন, রাজধানী পরিবহন ও নূরে মক্কায় ভাড়া কাটা হবে এই পদ্ধতিতে আর এক মাসের মধ্যে রাজধানীর সব বাসেই ভাড়া আদায় করতে দূরত্ব হিসাব করে আগেই টিকিট কাটা হবে।

স্বভাবত উৎফুল্ল ছিল যাত্রীরা। কিন্তু এই ‘সুখ’ তাদের কপালে কতদিন টিকবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে নানা কারণে।

পরীক্ষামূলক যাত্রার পরের দিন থেকেই বিভিন্ন রুটে বাস কমিয়ে দেয়া হয়, আবার শুরুতে আগে টিকিট না কেটে যাত্রী তুলতে বাধা দিলেও পরে যেখান-সেখান থেকে যাত্রী তোলা শুরু হয়, আবার টিকিট কাটার পর বিশেষ করে রাতে পুরো গন্তব্যে না গিয়ে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে বাস ঘুরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যেতে থাকে। যাত্রীরা ভাড়া চাইলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়, টিকিট কাটা হয়ে গেছে, আর ফেরত দেয়া সম্ভব নয়।

মালিকদের অভিযোগ, বাসে কত টাকা আয় হয়, তা জানানো হয় না তাদের। বরং নানা খরচের অজুহাত দেখিয়ে টাকা কেটে রাখা হচ্ছে। বিপরীতে পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর শুরুতে কিছু সমস্যা থাকবে, সেগুলো সমাধান হয়ে যাবে।

বাসে ভাড়া কমানো ই-টিকিটিং টিকবে তো?

প্রজাপতি ও পরিস্থান বাস যে রুটে চলে এই রুটের বর্তমান চিত্র হচ্ছে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই রুটে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি দেখা যায়। কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলছেন, আগের থেকে বাস অনেক কমে গেছে।

আবার রাস্তার মাঝে মাঝে থামিয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। অনেকে টিকিট না নিয়েই বাসে উঠে যাচ্ছেন। ফলে টাকাটা শ্রমিকদের পকেটে চলে যাচ্ছে।

একটি বাসের চালক মো. ইলিয়াস বলেন, ‘মালিকদের লাভ নাই। সবাই বাস বন্ধ করে দিচ্ছে। তাই যাত্রীর চাপ বেশি। চালক-হেলপারদেরও আয় কমে গেছে বলে তারাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

মিরপুরের কাজীপাড়া থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর পর্যন্ত বাসের যাত্রী ইয়াসমিন আরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন অনেকেই টিকিট ছাড়া বাসে ওঠে। প্রথম দিন কড়াকড়ি থাকলেও কন্ডাক্টররা এখন টিকিটের বদলে টাকা নেয়।’


অস্বচ্ছতার অভিযোগ বাস মালিকদের, অস্বীকার বাস কোম্পানির

ইকবাল হোসেনের দুটি গাড়ি চলে প্রজাপতি পরিবহনের ব্যানারে। ই-টিকিটিংয়ে ভাড়া কাটা শুরুর দুদিন পর বন্ধ করে দিয়েছেন একটি।

কারণ জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওয়েবিলে সব খরচ বাদে দিনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পেতাম। ই-টিকিট চালু হওয়ার প্রথম দিনে এক সিঙ্গেল মারা হলো। কিন্তু কোনো হিসাব পেলাম না। কিন্তু আমার এক হাজার টাকার তেল খরচ হলো। প্রথম দিন ভেবে লস দিলাম। এরপর তিন দিন কোনো হিসাব দিল না।’

তিনি বলেন, ‘একেক দিন তিন ট্রিপে তেল লাগে ৬ হাজার টাকার। তিন দিনে ১৮ হাজার টাকা দিলাম। ড্রাইভার-স্টাফকে দিলাম তিন হাজার। এরপর কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তারা সব খরচ কেটে দিনে আমায় এক দিনে ৫ হাজার ৭০০ টাকা। কিন্তু আমার খরচ আরও বেশি। বাকি টাকা কি আমি পকেট থেকে দেব? পরে তারা বলে, কিছু বলার নাই। দুই-চার দিন যাক ঠিক হয়ে যাবে।’

বাসে ভাড়া কমানো ই-টিকিটিং টিকবে তো?

ইকবাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন লস। এরপর বেশ কয়েকজন মালিক নিয়ে আমরা রাগারাগি করলাম। পরে সব মিলিয়ে গত আট দিনে দুই হাজার টাকা পেয়েছি। এই দুই হাজার টাকা আবার মবিল আর গ্লাস লাগাতে চলে গেছে।’

কোম্পানি থেকে হিসাব দেয়া হয় না- এটা আক্ষেপ এই বাস মালিকের। বলেন, ‘কোম্পানি কত টাকার টিকিট বিক্রি করতেছে, গাড়ি কয়টা চলতেছে এইগুলোর কোনো হিসাব আমরা পাচ্ছি না।’

একই পরিবহনের তিনটা বাসের মালিক আবদুল আজিজ বলেন, ‘আগে প্রজাপতি বাস ১০০টার ওপরে চলত। এখন ৪০ থেকে ৫০টা চলে। মালিকরা টাকা পাচ্ছে না, গাড়ি কেন চালাবে?’

ইকবালের মতো তিনিও বলেন, ‘টাকার কোনো হিসাব পাই না আমরা। আজকে গাড়ি চলেছে পরশু হিসাব দেবে। তাদের ইচ্ছামতো টাকা দেয়। তিন ট্রিপ মারলে সাত থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা দেয়।

‘পরশু দিন গাড়ি চলেছে, আজকে হিসাব দিয়েছে সাড়ে আট হাজার টাকা। গাড়ির তেল খরচ ৬ হাজার, স্টাফের বেতন ২ হাজার ১০০ টাকা। তাহলে আমার থাকল ৪০০ টাকা। আর গাড়ির পেছনে ছোটোখাটো অনেক খরচ থাকে। সব মিলিয়ে লসে চলতেছে। গাড়ির মালিকরা গাড়ি বন্ধ না করে কী করবে?’

টাকা আত্মসাতের সুযোগ নেই: পরিবহন কোম্পানি

বাস মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রজাপতি পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিদিন যে গাড়ি চলে মালিকরা তার পরের দিন টাকা পেয়ে যায়। এখানে আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নাই। যে টিকিট বিক্রি হয় তা চাইলে বাস মালিকরা দেখতে পারে।’

মালিকরা বলছেন তাদের কোনো হিসাব দেয়া হচ্ছে না- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকরা অবশ্যই দেখেন। তাদের সামনেই আলোচনা করা হয়। সবাইকে গড় হিসেবে টাকা দেয়া হচ্ছে।’

এই পদ্ধতিতে বাস মালিকদের লাভ থাকছে না, এটি স্বীকার করেন রফিকুল। বলেন, ‘লস ঠিক না, সমান সমান থাকছে মালিকদের। কখনও দুই-এক শ টাকা লোকসান হচ্ছে।’

বাসে ভাড়া কমানো ই-টিকিটিং টিকবে তো?

ঘাটারচর থেকে উত্তরাগামী পরিস্থান পরিবহনের -টিকিট বিক্রি করেন এক এজেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা

একজন মালিক কেন লোকসান করে বাস চালাবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারাই (গণমাধ্যম) তো বলেন আমরা ভাড়া নৈরাজ্য করি। মালিক সমিতি একটা উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন করতে গেলে তো কিছুটা সময় লাগবে।’

বাসে প্রচুর যাত্রী উঠছে, তাহলে লোকসান কেন হচ্ছে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন শ্রমিকদের প্রতি। তিনি বলেন, স্ট্যান্ড থেকে টিকিট ছাড়া যাত্রী না তুললেও পরে যাত্রী তোলা হচ্ছে। আর সেই টাকা আসলে কোম্পানি পাচ্ছে না।

পরিস্থান পরিবহনের পরিচালক মো. সাগর দাবি করেন তাদের রুটে গাড়ি কমেনি। বলেন, ‘আগে এক শর মতো গাড়ি চলত আমাদের, এখনও সেই পরিমাণেই চলছে।

‘এই সমস্যা হয়েছে প্রজাপতি পরিবহনে। তাদের আগে গাড়ি ছিল ৯০টার মতো। আজকে হয়তো ২০টাও চলে না।’

নতুন পদ্ধতি বুঝতে না পারায় প্রথমে লোকসান হলেও এখন বাস কোম্পানি ও মালিকরা ভালো আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন দিনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আমরা দিতে পারছি মালিকদের।’

তবে পরিস্থান পরিবহনের অন্তত ৭ জন বাস মালিকের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায় ভিন্ন তথ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিস্থান তিনটি বাসের মালিক বলছেন, ‘আগে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ পেতাম। বর্তমানে খরচ বাদ দিয়ে টাকাই পাচ্ছি না।’

বাস মালিকদের অভিযোগের বিষয় জানার পর ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল আমিও এই অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে প্রজাপতির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, বাস মালিকদের ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। পরিস্থানের বাস মালিকরা দিনে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা লাভ পাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানী ও বসুমতি পরিবহন ভালোই লাভে চলছে। মালিকরাও খুশি। প্রজাপতি পরিবহনের সমস্যাই বেশি পেয়েছি। আমি লোক পাঠাচ্ছি তাদের অফিসে। সমাধান করছি বিষয়টা।’

আরও পড়ুন:
ই-টিকেটিং: ২৫ টাকার ভাড়া নামল ১৩ টাকায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Basal 5th century covered market

বসল ‘৫ শতাব্দীর’ ঢাকের হাট

বসল ‘৫ শতাব্দীর’ ঢাকের হাট ঢাকের হাটে বাদ্য বাজাচ্ছে যন্ত্রীদল। ছবি: নিউজবাংলা
হাটে সাধারণত একটি ঢাক ১০ থেকে ১২ হাজার, ঢোল সাত থেকে আট হাজার, বাঁশি প্রকারভেদে পাঁচ থেকে সাত হাজার, ব্যান্ড পার্টি ৩০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকায় পর্যন্ত ভাড়া হয়।

ঢাক, ঢোল, সানাই, বাঁশি, কাঁসিসহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসে যন্ত্রীদল। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচে, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে পূজারিদের আকৃষ্ট করেন দলের সদস্যরা।

হাটে বিক্রি হয় বাদ্যযন্ত্র, তবে দরদাম বেশি হয় বাদ্যযন্ত্র ভাড়ায় নেয়া নিয়ে।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারে দুর্গাপূজা শুরুর আগে বসে তিন দিনের এ হাট। এটি শেষ হয় ষষ্ঠীর দিনে।

এবার বৃহস্পতিবার থেকে বসে হাট; চলবে শনিবার পর্যন্ত।

হাটে সাধারণত একটি ঢাক ১০ থেকে ১২ হাজার, ঢোল সাত থেকে আট হাজার, বাঁশি প্রকারভেদে পাঁচ থেকে সাত হাজার, ব্যান্ড পার্টি ৩০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকায় পর্যন্ত ভাড়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, হাটটি বসে ৫০০ বছর ধরে, তবে এমন দাবির সঙ্গে একমত নন কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা এক গবেষক।

ইতিহাস

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় সর্বপ্রথম তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ।

পূজা উপলক্ষে রাজপ্রাসাদ থেকে বিক্রমপুর (মুন্সীগঞ্জ) পরগনার বিভিন্ন স্থানে বার্তা পাঠানো হতো ঢাকঢোল বাঁশিসহ বাদ্যযন্ত্রীদের আগমনের। এ জন্য ব্যবহার হতো নৌপথ।

যন্ত্রীদল কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কের পাশে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাট এলাকায় পূজার দুই দিন আগে এসে পৌঁছাত।

স্থানীয়রা আরও জানান, পার্শ্ববর্তী মসুয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িতে মহা ধুমধামে পূজা হতো। সেই সঙ্গে চলত বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা।

দিন দিন পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জমিদারদের মধ্যে ঢাকের হাটের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অবশেষে যাত্রাঘাট থেকে স্থান পরিবর্তন হয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে কটিয়াদী পুরাতন বাজারে গড়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট।

বাদ্যযন্ত্রীদের ভাষ্য

তিন দিনের সেই হাটে ময়মনসিংহ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যন্ত্রীদল আসে। দুর্গাপূজার আয়োজক ও পূজারিরা হাট থেকে ভাড়ায় বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে যান।

বসল ‘৫ শতাব্দীর’ ঢাকের হাট

যন্ত্রীদলের সদস্যরা জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা এখানে ঢাকঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসতেন। সেই সূত্রে তারাও আসেন। পূজামণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আয়-রোজগারও ভালো হয় তাদের।

সুনামগঞ্জ থেকে ৭ সদস্যের বাদকদল নিয়ে এসেছেন জয়নুদ্দীন সরকার। শুক্রবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মুসলিম। এটা আমাদের পুরোনো ব্যবসা হওয়ায় মুসলমান হয়েও মণ্ডপে বাদ্য বাজিয়ে জীবন চালাই।’

তিনি বলেন, ‘এখনও বায়না হয়নি। আশা করছি ১ লাখ টাকা হলে বায়নায় বসব।’

বসল ‘৫ শতাব্দীর’ ঢাকের হাট

মানিকগঞ্জ থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়ে আসেন মোহন লাল। তিনি বলেন, ‘বাদ্যযন্ত্র বাজানোটা আমাদের বংশগত পুরোনো ব্যবসা। প্রতি বছরই এ ঢাকের হাটে আসি।

‘করোনার কারণে গত দুই বছর বেশি টাকা পাইনি। এবার ভালো টাকা পাব আশা করছি।’

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী এলাকা থেকে বাদ্যদল বায়না করতে এসেছেন তাপস রায়। তিনি বলেন, ‘হাট থেকে প্রতি বছরই দুর্গাপূজার জন্য ঢাকঢোল বায়না করে নিয়ে যাই। এবারও এসেছি।

‘২৮ হাজার টাকা বায়নায় ১টি ঢাক ও ১টি ঢোল নিয়ে মণ্ডপে ফিরছি।’

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ঢাকির দল ভাড়া করতে এসেছেন রতন কর। তিনি জানান, ৫৫ হাজার টাকায় দল ঠিক করেছেন। প্রতি বছর এ হাট থেকেই ঢাকি নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে বাজনা শুনেছি। তারপর তাদের পারফরম্যান্স দেখে একটা দল ঠিক করেছি।’

হাটের তত্ত্বাবধায়ক বেণী মাধব ঘোষ বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে এ বাদ্যযন্ত্রের হাট বসলেও চিরচেনা তাল ও সুরের প্রদর্শনের মহড়ায় প্রকৃতপক্ষে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

‘সব ধর্মের লোকজনই হয়ে ওঠে ওদের রক্ষাকবচ। প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলে আসা এ হাট কটিয়াদীর ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখা হবে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাহাদত হোসেন জানান, পূজার আয়োজক ও বাদকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকের হাটে পুলিশের একটি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

হাটের সময়কাল: কী বলছেন গবেষক

কিশোরগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন কবি ও লোকজ সংস্কৃতি গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কটিয়াদীর এই ঢাকের হাটটি বেশ পুরোনো, তবে সেটি ৫০০ বছরের কি না এ নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

‘স্থানীয়দের দাবি ৫০০ বছরের পুরোনো হলেও আমার ধারণা সেটি দেড় শ বছরের মতো হতে পারে।’

কেন সন্দেহ, তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘কটিয়াদীর নিকটবর্তী কুড়িখাই নামক স্থানে আধ্যাত্মিক পুরুষ হজরত শামসুদ্দিন বোখারী সম্রাট আকবরের আমলে এসে আস্তানা গাড়েন। তাঁর আহ্বানে তখন নিম্নগোত্রীয় হিন্দুরা দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। সে সময় ওই এলাকায় ঢাকের বাজনা বা ঢাকের হাট বসানো বাস্তবতার সঙ্গে যায় না।

‘তাই ৫০০ বছরের দাবিটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত নয় বলেই আমি মনে করি, তবে সব দিক বিবেচনায় এ ঢাকের হাট গত এক থেকে দেড় শ বছর ধরে চলে আসছে বলেই যৌক্তিক মনে হয়।’

এ বিষয়ে কথা বলতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Stocks sold in market fire

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। ফাইল ছবি
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই বছরের জুলাইয়ের চেয়ে গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪০১ কোটি ২০ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের চেয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্রে ১৪ দশমিক ২৯ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য সব খাতেও খরচ বেড়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পরও বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি বেশ কমেছে। এখন একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই দুই বছরের করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারও বেতন কমেছে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এই ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনিতেই বাজারে জিনিপত্রের দাম বেশি ছিল। এরপর যুদ্ধের কারণে তা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না।’

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। ব্যাংকে বা অন্য কোনোখানে টাকা রাখলে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ; এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়।

‘তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি, একটু বেশি মুনাফার আশায় কিনেই চলেছিল। তবে এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনার মতো সঞ্চয় নেই মানুষের কাছে। সে কারণে কমে গেছে এ খাতে বিনিয়োগ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কিন্তু তার ব্যত্যয় হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সেটা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে পারে। সে কারণে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করছে না বিবিএস।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তা হলে এখনো দিচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনো সেই হারে পাওয়া যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা
সঞ্চয়পত্রে নানা শর্তে আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহক
সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধেই ৪০ হাজার কোটি টাকা
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ganoforum will not join hands with BNP

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ড. কামাল হোসেনের ঘোষণায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. মিজানুর রহমান। তিনি গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে আছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিউজবাংলাকে বলেছেন, তার দল গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, সরকার নির্বাচনের পরিবেশ কতটুকু তৈরি করবে, তার ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে অংশ নেয়া-না নেয়া।

প্রশ্ন: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে গণফোরাম কি ভেঙে গেছে? আপনাদের তো বহিষ্কার করেছেন মোস্তফা মহসীন মন্টুরা?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের নামে তারা যে কমিটি করেছিল, সে কমিটিতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। তারা যে কমিটি ডিক্লেয়ার করেছে, তার সঙ্গে আমার এবং আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- কমিটি ঘোষণা করে কমিটির যে মিটিংগুলো করেছে, কোনোটায় আমার সম্পৃক্ততা কখনও ছিল না। ফলে তারা নিজেরা কারও নাম ব্যবহার করা এবং তাদের বহিষ্কার করা– এটা তাদের নিজস্ব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আমার এবং আমার দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যেহেতু কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, সে হিসেবে তাদের এ বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: মোস্তফা মহসিন মন্টু নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা তো বলছেন তারা কাউন্সিল করে কমিটি গঠন করেছেন, যেটা নির্বাচন কমিশনও চেয়েছিল। আর তাদের নেতৃত্বেই সংগঠনগুলো রয়েছে। কিন্তু আপনারা কাউন্সিল করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন কোন কমিটির কথা শুনবে?

ডা. মিজানুর রহমান: আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে দলের প্রধান ড. কামাল হোসেন। মানে সভাপতি হচ্ছেন দলের প্রধান। কাউন্সিল করতে হলে দলের প্রধানের সম্মতি লাগবে এবং ৩০ দিন আগে গঠনতন্ত্র অনুসারে নোটিশ দিতে হবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশ থেকে ডেলিগেট ও কাউন্সিলরা আসবেন। সেভাবেই কাউন্সিল করতে হয়। কিন্তু ওনারা যেটা করছেন, দলের সভাপতির সম্মতি যদি না থাকে, উপস্থিতি না থাকে, তারা নিজেরা কাউন্সিল করে তো সেটাকে মূল দলের দাবি করতে পারেন না। এতে গণফোরাম কিংবা দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্তরা ছিল না। যার ফলে নির্বাচন কমিশনে তারা যে কমিটি জমা দিয়েছে, সেটা এমনিতেই বাতিল হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন: কিন্তু ওনারা তো বলছেন, ওনারা যখন কাউন্সিল করেছেন, তখন ড. কামাল হোসেনের সায় ছিল। এ কারণে দলের উপদেষ্টা পরিষদে ওনারা তাকে রেখেছিলেন।

ডা. মিজানুর রহমান: তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে ড. কামাল হোসেনের কাছে গিয়ে বলেছেন যে আমরা একটা সম্মেলন করছি। আপনি শুভেচ্ছা জানাবেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন কিন্তু গণফোরামের নামে কোনো শুভেচ্ছা দেননি। উনি ওনার ব্যক্তিগত প্যাডে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেননি যে গণফোরামের নামে যে কাউন্সিল হচ্ছে, তাকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এখন যদি কোনো ব্যক্তি নিজে একটা দল গঠন করে কিংবা তারা যদি কাউন্সিল করে, এটা তো তার ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপার। কিন্তু গণফোরামের নামে ড. কামাল হোসেন কোনো শুভেচ্ছা বার্তা দেননি। আর যদি কাউকে উপদেষ্টা কিংবা কোনো পদে রাখেন, তার একটা সম্মতিপত্রের দরকার হয়। সেখানে ড. কামাল হোসেন তাদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করেছেন– এই মর্মে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি। তারা নিজেরাই পদে রাখছেন, আবার নিজেরাই অব্যাহতি দিচ্ছেন। এটা তো তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

প্রশ্ন: কিন্তু ওনারা তো বলছেন, দলে অধিকসংখ্যক নেতা-কর্মী ওনাদের সঙ্গেই আছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: ড. কামাল হোসেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এখন সারা বাংলাদেশের সব নেতা-কর্মী তার সঙ্গেই আছেন। ওনারা বাইরে থেকে কে কী বললেন, সেটা তো আমাদের বিষয় না। কারণ গণফোরাম মানেই ড. কামাল হোসেন এটা আমরা মনে করি।

প্রশ্ন: তাহলে দলের কত শতাংশ নেতা-কর্মী আপনাদের সঙ্গে রয়েছেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আমাদের সঙ্গে যারা গণফোরাম করেন, তারা সবাই আছেন। আমরা গণফোরামে বিভক্তি দেখি না। গণফোরাম যারা করতেন, তারা অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে চলে গেছেন। অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। এখন গণফোরাম থেকে বেরিয়ে যদি কেউ কোনো দল করে, সেটা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার ব্যাপার। গণফোরাম থেকে কত শতাংশ লোক চলে গেছে, এটা আমাদের কাছে দেখার বিষয় না। আমরা মনে করি, গণফোরাম বলতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর যদি এখান থেকে গিয়ে কেউ রাজনৈতিক দল করে, সেটার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

প্রশ্ন: দলে বিভক্তির জন্য মন্টুপন্থিরা আপনাদের দায়ী করেন। আর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও তো তাদের দখলে। তাহলে প্রকৃত গণফোরাম মানুষ কোন অংশকে বলবে?

ডা. মিজানুর রহমান: কোন দলীয় অফিস কার দখলে আছে, সেটা বিবেচ্য বিষয় না। আগে আমাদের অফিস ছিল কাকরাইলে, এরপর আরামবাগে। কোনো অফিস আমাদের নিজস্ব নয়, ভাড়ায় নেওয়া হয়। এটা পরিবর্তনশীল। তাই একটা ভাড়ার অফিস অর্থাৎ অস্থায়ী কার্যালয়ের সঙ্গে গণফোরামের বিভক্তি বোঝা যায় না।

আর নির্বাচন কমিশন তো ড. কামাল হোসেনের যে কমিটি এবং সম্পৃক্ততা সেটাকেই গণফোরাম হিসেবে চিহ্নিত করে। এর বাইরে আপনি যাদের কথা বলছেন, তারা কমিটি করে দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। কাজেই অন্য কেউ গণফোরাম নাম দাবি করাটাও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: মন্টুপন্থিরা বলছেন, দলের নিষ্ক্রিয়রা আপনাদের বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা ওনাদের নিজস্ব অভিব্যক্তি। কারণ গণফোরামে কে নিষ্ক্রিয় আর কে সক্রিয়, তা গণফোরামের নেতা-কর্মীরা ঠিক করবেন। মোস্তফা মহসিন মন্টুর তো এটা বলার সুযোগ নেই। উনি তো নিজেও একসময় বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন।

প্রশ্ন: গণফোরামের নতুন কমিটি করা হলো গত ১৭ সেপ্টেম্বর। যার নেতৃত্বে আপনি আছেন, নতুন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য কী হবে?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের যে আদর্শ ও লক্ষ্য আছে, এ অনুসারে আমাদের দল পরিচালিত হবে। এটার কর্মসূচি আছে, আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আছে, এটা চলমান। আমরা যারা আছি, প্রত্যেকে গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আছি। আমরা প্রত্যেকেই গণফোরামের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছি। গণফোরামে কেউ নবাগত নই।

প্রশ্ন: কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে তো আপনাদের কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না।

ডা. মিজানুর রহমান: আমরা সব সময় কাজের মধ্যেই আছি। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য জেলা কমিটিগুলো সক্রিয় করা। তারপর নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে শক্তি সঞ্চয় করছি। এর পাশাপাশি যেসব কর্মসূচি আছে, সেখানে আমরা জেলায় জেলায় অ্যাক্টিভিটিস বাড়াচ্ছি। আমরা জনগণের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে মূলত রাজপথে থাকব। আমরা সব জায়গায় সক্রিয়ভাবে কাজ করব।

প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের চাওয়াটা কী? আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে জোট করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: বিএনপির সঙ্গে জোট করার এই মূহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। রাজনৈতিকভাবে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চাহিদা এবং জনগণের চাহিদা ও সংকট আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। নির্বাচন যখন আসছে, গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠেও আছি এবং অবস্থা অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সাক্ষাৎকার নেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক আল হেলাল শুভ। ছবি: নিউজবাংলা

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে আপনার দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেই নির্বাচন করেছে। এবার দেখা গেল এখন পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে বিএনপি সংলাপ করলেও আপনার সঙ্গে করেনি। কারণ কী বলে মনে করেন?

ডা. মিজানুর রহমান: গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কারণে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আর ছিল না। এখন নতুন করে তো আর কোনো মেরুকরণ আমাদের দল থেকে হয়নি। আর বিএনপি আমাদের ডাকল কি, ডাকল না সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি নির্ভর করে না।

আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে আমরা, দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যে আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী করব?

প্রশ্ন: গত নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া নিয়ে দলে মতপার্থক্য হয়েছে। তাহলে ড. কামাল হোসেন কেন ওই নির্বাচনে গিয়েছিলেন?

ডা. মিজানুর রহমান: তখনকার প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্ট করা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ছিল একটা সময়ের দাবি। সেটা তো একটি নির্বাচনি জোট হয়েছিল। স্থায়ী কোনো জোট ছিল না। নির্বাচনের পর সেই জোটের অবস্থানটাও শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের অধীনে আপনার দল নির্বাচনে যাবে কি?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা আসলে সরকারের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কতটুকু অবস্থান নেবে এবং নির্বাচনে পরিবেশ কতটুকু করবে– তার ওপর নির্ভর করে। এখনই সেটা বলার মতো সময় আসেনি।

প্রশ্ন: পরিবেশ তৈরি করতে পারলে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তো একটা পরিবেশ লাগবে। তার পরও নির্বাচন কমিশনের যে সকল কথাবার্তা আমরা দেখছি, এটাকে আমরা খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি না। যেমন ইভিএম নিয়ে তাদের বক্তব্য দেশের মানুষ কিন্তু ভালোভাবে নিচ্ছে না। তার পরও গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের আগে সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রশ্ন: ড. কামাল হোসেন দলের বিভক্তি ঠেকাতে পারেননি। এবার ওনার নেতৃত্বে নির্বাচনে গেলে দলের খণ্ডিত একটি অংশ নিয়ে কতটি আসনে প্রার্থী দিতে পারবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আমরা কিন্তু দলের খণ্ডিত অংশ মনে করি না। কারণ গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। আমরা ২৯ বছর ধরেই তার রাজনীতি করে আসছি। নানা কারণেই অনেকে দল থেকে চলে গেছেন। কিন্তু মূল দলের নেতা তো ড. কামাল হোসেন। এখানে খণ্ডিত অংশ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে গণফোরাম জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হতে পারেনি। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিটা হয়ে গেছে কালো টাকা ও পেশিশক্তি-নির্ভর। নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি তো এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আমরা শুরু থেকে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে গণফোরাম কখনও বিচ্যুত হয়নি। আমরা একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা দলের শুরু থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আছি।

আরও পড়ুন:
এবার গণফোরামে মন্টুপন্থিরা বহিষ্কার করলেন ড. কামালকে
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে বাধা সমীচীন নয়: তথ্যমন্ত্রী
বিরোধী দল যেন ঘরের বউ, যখন খুশি পেটাও: দুদু
অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলেই হয়: বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল, সম্পাদক মিজান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It is as if Kheta Shah has vanished into thin air

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তার স্ত্রীসহ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক তালুকদার ওরফে খেতা শাহর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
যে ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন, তার স্ত্রীকে নিয়ে গত ২২ জুন উধাও হন মাজারের ফকির খেতা শাহ। গত ১১ জুলাই রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু খেতা শাহ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

যাকে নিয়ে উধাও হয়েছিলেন, সেই নারী ঘরে ফেরার আড়াই মাস পরও কোনো হদিস নেই ময়মনসিংহের তারাকান্দার আলোচিত ফকির খেতা শাহের।

নিজ ঘরে আশ্রয় দেয়া এক ভক্তের স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়েছিলেন তিনি। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন সেই ভক্ত। তোলপাড় করা সেই ঘটনার ১৯ দিন পর উদ্ধার হন সেই নারী, সেটি গত ১১ জুলাইয়ের কথা। কিন্তু এরপর ৮০ দিনেও পুলিশ জানতে পারেনি, খেতা শাহ কোথায়।

গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে সেই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি ফিরেছেন তিন ছেলে মেয়ের কাছে। কিন্তু খেতা শাহের সঙ্গে কোথায়, কেন গিয়েছিলেন, সেটি আর বলছেন না।

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কাঁথাকে বলা হয় খেতা। জেলার তারাকান্দার টিকুরী এলাকায় সব সময় ছেঁড়া কাঁথা শরীরে জড়িয়ে রাখতেন খেতা শাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি যা বলতেন তাই হতো- এমন বিশ্বাসে অনেক লোক তার ভক্ত হয়ে যান৷

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

বৃদ্ধ বয়সে মারা যান সেই ব্যক্তি। কিন্তু থেকে যান ভক্তরা। একপর্যায়ে নির্মাণ করা হয় মাজার। নামকরণ করা হয় ‘খেতা ছিঁড়ার মাজার’। প্রতি বছর পালন করা হয় ওরস।

এবারও চার মাস আগে ওরস শুরু হয় ওই মাজারে। বরাবরের মতো এবারও হাজারো ভক্তসহ লোকজন আসেন মনের বাসনা পূরণ করার আশায়।

পাগলবেশে ফজলুল হক তালুকদার নামের একজন আসেন মাজারটিতে। ৬০ বছর বয়সী ফজলুলের বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পাইলাটি গ্রামে।

বড় দাড়ি, লম্বা গোঁফ ও ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে সারাক্ষণ মাজারে বসে সময় কাটাতেন। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে মাজারের নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে নিজেকে ‘খেতা শাহ’ হিসেবে পরিচয় দেন৷

আধ্যাত্মিক ফকির হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেতে কথাও বলতেন খুব কম। এভাবে গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।

তাকে বাবা ডেকে অনেকে মনের বাসনা পূরণ করতে দোয়া চেয়ে নিতেন। যারা তার কাছে আসতেন, তাদের অনেককে মাথায় হাত বুলিয়ে ঝাড়ফুঁক দিতেন। এভাবে কয়েক দিনেই তার ভক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়।

আধ্যাত্মিক ফকির ভেবে খেতা শাহের ভক্ত হয়ে যান মাজারের পাশের এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। সংসারের উন্নতি আর মনের বাসনা পূরণ হবে- এমন ধারণা থেকে দুই চাচার পরামর্শে নিয়ে আসেন বাড়িতে। স্ত্রীকেও বলতেন ঠিকঠাক সেবা করতে।

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

গত ২২ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় যাওয়ার কথা বলে শফিকুলের স্ত্রী খেতা শাহকে নিয়ে বের হন। এরপর দুজনই নিখোঁজ হন।

২৪ জুন সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই ভক্ত। রাত ১২টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়।

এরপর গত ১১ জুলাই রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু খেতা শাহ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত বুধবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভণ্ড খেতা শাহ আমার অন্ধ বিশ্বাসকে টার্গেট করেছিল। ফলে সুযোগ বুঝে আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে আমাকেসহ ছোট ছেলেমেয়েদের মনে আঘাত করেছে।

‘আমার স্ত্রী জানিয়েছে তাকে বিয়ে করেননি ওই প্রতারক। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত মনকে শান্তনা দিতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এক সঙ্গে থাকব৷ কিন্তু খেতা শাহ যেন আর কারও পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি না করে, সেজন্য তাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এজন্য পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগও করছি। তারা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার করতে সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী একথা জানতে পেরে আমাকে বারবার নিষেধ করছে। সে ভয় পাচ্ছে।’

সেই ঘটনার পর স্থানীয়রা পরিবারটিকে বাঁকা চোখেও দেখছে জানিয়ে শফিকুল বলেন, ‘খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে। এ জন্যই চাই তিনি ধরা পড়ুক।’

তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
মৃত ফকিরের ঘরে আড়াই কোটি টাকা
ঘরে ফিরলেন সেই নারী, খেতা শাহ নিয়ে চুপ
গাজীপুর থেকে খেতা শাহর ভক্তের স্ত্রী উদ্ধার
খেতা শাহ কেড়ে নিলেন শফিকুলের ঈদের খুশি
ফজলুল থেকে খেতা শাহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The stage of democracy retreated with a sigh

হাঁক দিয়ে পিছুটান গণতন্ত্র মঞ্চের

হাঁক দিয়ে পিছুটান গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ৮ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এতে সভাপতিত্ব করেন। ছবি: নিউজবাংলা
নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে, একেক দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ও লক্ষ্যকে এক করা যাচ্ছে না। আর অতীতের ভূমিকা, নিজেদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে মূল্যায়নের পর নেতারা বাস্তবতা অনুভব করতে পারছেন যে, আসলে তাদের পক্ষে সেভাবে কিছু করা সম্ভব নয়।

আত্মপ্রকাশ করেই সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ার ঘোষণা দেয়া ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’কে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জোট নেতারা নিজেরাও স্বীকার করছেন তারা একটু ধীর গতিতে এগুচ্ছেন। অক্টোবর থেকেই টানা কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারা।

গত ৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে এই জোট আত্মপ্রকাশ করে। সাতটি ছোট দল ও সংগঠন মিলে করা এই জোটে আছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

জোটের প্রথম কর্মসূচিতে গত ১১ আগস্ট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের ঘোষণাও দেন জোটের নেতারা। সরকারকে বিদায় না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবার কথা জানিয়ে তারা দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু গত এক মাসে নিজেদের মধ্যে একটি আলোচনা সভা ছাড়া জোটের আর কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে একটি বড় কর্মসূচি করার ঘোষণা দিলেও সেটি হয়নি। তবে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ ডেকেছে জোট।

হাঁক দিয়ে পিছুটান গণতন্ত্র মঞ্চের

জাতীয় প্রেসক্লাবে ২১ সেপ্টেম্বর গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রব। ছবি: নিউজবাংলা

নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে, একেক দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ও লক্ষ্যকে এক করা যাচ্ছে না। আর অতীতের ভূমিকা, নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে মূল্যায়নের পর নেতারা অনুভব করতে পারছেন যে, আসলে তাদের পক্ষে সেভাবে কিছু করা সম্ভব নয়।

ওই জোটের মধ্যে জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটসঙ্গী ছিল। এর মধ্যে জেএসডির প্রধান আ স ম আবদুর রব ১৯৮৮ সালে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হন বিরোধীদলীয় নেতা। প্রধান দলগুলোর বর্জনের মুখে সেই নির্বাচনে এরশাদের সঙ্গে তার সমঝোতার কারণে সে সময় তার দলকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে কটাক্ষও করা হতো।

এই দুটি ছাড়াও গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবার বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। আবার তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।

জোট নেতারা অবশ্য জানাচ্ছেন, তারা মাঠে কর্মসূচি না দিলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমন্বয় সাধনে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরে তৃণমূল পর্যায়েও জোটের কর্মসূটিতে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন নেতারা।

জোটের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটু স্লো যাচ্ছি এটা সত্য। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া, ঢাকার বাইরে জেলা ও বিভাগগুলোতে সমন্বয় তৈরি করতে আমরা একটু ব্যস্ত ছিলাম। এই সময়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা করে সময় নিয়েছি।’

অক্টোবর থেকে সরকারবিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকার বাইরেও যাব।’

দলগুলোর কর্মসূচির কারণে জোটের কর্মসূচি কম হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘প্রত্যেকটা দলের নিজস্ব কর্মসূচিও রয়েছে। এর মধ্যেও বিভাগে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করা যাবে সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের যে ঘোষণা এসেছে, তা কবে নাগাদ শুরু হবে, তাও বলতে পারেননি এই নেতা। বলেন, ‘বিরোধী দলগুলোর তো পরস্পরের সঙ্গে যোগাযাগ আছেই। আমরা যুগপৎ আন্দোলন করলে মঞ্চগতভাবেই (গণতন্ত্র মঞ্চগত) করব।’

জোটের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তীব্র আন্দোলন বলতে কী বুঝব? এখন বিএনপি যা করছে তাকে কি তীব্র আন্দোলন বলবেন? আমরা তো বিএনপির চেয়ে বড় সমাবেশ করে ফেলতে পারব, সে রকম না। আমাদের এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক যে শক্তি আছে, সেটা বিবেচনায় তীব্র আন্দোলন বলতে সমাজকে নাড়িয়ে দিতে পারে এমন কিছু একটা করা। কিন্তু সেটা এখনই করে ফেলতে পারব, সে রকম মনে হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্র জনগণের মন মানসিকতা এবং সংগঠনেরও ওই ধরনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে। এত দূর পর্যায়ে এখনও আমরা পৌঁছাইনি আসলে।’

জোটের পক্ষ থেকে টানা কর্মসূচি কবে নাগাদ আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা বলতে পারব না। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, আমরা ঢাকায় ১৬ সেপ্টেম্বর একটি সমাবেশ করার পরিকল্পনায় ছিলাম। সেটা ঘোষণাও করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা সেটা করতে পারিনি। আমাদের নিজেদের গোছানো নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। হয়ত একটু সময় লাগবে। তবে জোটের মিটিংগুলো হচ্ছে।’

২১ সেপ্টেম্বর একটি আলোচনা সভা করেছে ওই জোট। ওই আলোচনা সভায় সব রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা।

মন্তব্য

p
উপরে