× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Subatas in the price of rice
hear-news
player
print-icon

চালের দামে সুবাতাস

চালের-দামে-সুবাতাস
দিনাজপুরে গত এক সপ্তাহে ৫০ কেজি ওজনের বস্তাপ্রতি দাম কমেছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি চার থেকে ছয় টাকা। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুরের সদর উপজেলার বাসিন্দা বাপ্পি হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাল কিনতে এসে শুনি বস্তাপ্রতি দেড় শ থেকে আড়াই শ টাকা কমেছে। এতে করে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের লোকের খুবই উপকার হয়েছে। আমি মনে করি দাম আরও কম হলে ভালো হয়।’

ধানের ভরা মৌসুমে তরতর করে বাড়তে থাকা চালের বাজার অবশেষে নিম্নমুখী।

চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ দিনাজপুরে গত এক সপ্তাহে ৫০ কেজি ওজনের বস্তাপ্রতি দাম কমেছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি চার থেকে ছয় টাকা।

দেশের শীর্ষ ধান ও চাল উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। এই জেলার ধান ও চালের কারণে গড়ে উঠেছে দুই হাজারের মতো বিভিন্ন অটোরাইস মিল। এখানে চালের দাম কমার প্রভাব পড়ে সারা দেশেই।

দাম কমতে থাকায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে ক্রেতা কমেছে। দাম আরও কমতে পারে ভেবে তারা অপেক্ষার নীতি নিয়েছেন। এ কারণে দাম আরও কমে আসবে বলে আশা করছেন জেলার খাদ্য কর্মকর্তা।

চালের বাজার ঠান্ডা করতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। চালের আমদানি শুল্ক দুই দফায় কমানো হয়েছে। সরকারও বিদেশ থেকে চাল আমদানি করছে। পাশাপাশি ১৫ টাকা কেজি দরে ৫০ লাখ পরিবারকে আর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় স্বল্পমূল্যে আরও ৩০ লাখ পরিচারকে চাল দেয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি আছে ওএমএস ও টিসিবিরি কার্যক্রম। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এসব কর্মসূচি। এতে বাজারে চালের চাহিদা অনেকটাই কমে আসছে আর পাশাপাশি কমছে দাম।

দিনাজপুরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাহাদুর বাজারের এন. এ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার বিআর-২৮ জাতের ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত।

চালের দামে সুবাতাস

এক সপ্তাহ আগে এই বাজারে একই চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৯৫০ টাকা পর্যন্ত।

বিআর-২৯ চালের বর্তমান দর ২ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা; আগে ছিল ২ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা।

মোটা চালের মধ্যে ‘সুমন স্বর্ণা’র দাম নেমে এসেছে ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা; এক সপ্তাহ আগে ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা।

‘গুটি স্বর্ণা’ চালের দাম নেমেছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকায়; এক সপ্তাহ আগে ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকা।

‘মিনিকেট’ চালের বর্তমান ৫০ কেজির বস্তা নেমেছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা; এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা।

সদর উপজেলার বাসিন্দা বাপ্পি হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাল কিনতে এসে শুনি বস্তাপ্রতি দেড় শ থেকে আড়াই শ টাকা কমেছে। এতে করে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের লোকের খুবই উপকার হয়েছে। আমি মনে করি দাম আরও কম হলে ভালো হয়।’

বিক্রেতারা অবশ্য দুশ্চিন্তায়, এর কারণ ক্রেতার অভাব। দুই ভাই রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী জাবেদ হোসেন বলেন, ‘দাম কমছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতা নাই। যখন দাম বেশি, তখন মানুষ বেশি কিনে নেয়। ফলে দাম বাড়ে। এখন মনে হচ্ছে মানুষ ভাতই খায় না।’

চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আজগার আলী বলেন, ‘চালের ক্রেতা নেই। সরকার খোলা বাজারে ব্যাপক চাল সরবরাহের কারণে বাজারে চালের দাম কমে গেছে।’

রেশমা অটো রাইস মিলের পরিচালক রেজাউল ইসলামের ধারণা দাম আরও কমবে। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা তিন মাস চাল সরবরাহ করছি। আর ইরি মৌসুমে যখন ধান উঠল তখন বৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে কৃষক ধান শুকাতে পারেনি। আর সরকারকে চাল দেয়ার কারণে অন্যান্য চাল উৎপাদন করতে পারি নাই। ফলে চালের দামটা বেড়ে গিয়েছিল। তবে আমরা নতুন করে চাল উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছি। এতে মোকামে চাল সরবরাহ করা হবে। তখন দাম কিছুটা কমবে।’

বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি শহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, শুল্কের নিম্নগতি ও ডলারের দাম কমার কারণে চালের বাজার কমতে শুরু করেছে।

‘আগে যেখানে ডলার মূল্য ছিল ১০৮ টাকা, তা নেমে এসেছে ১০০ টাকার কাছাকাছি। আগামীতে পরিস্থিতি এমন থাকলে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন বলেন, ‘ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও টিসিবির কার্যক্রমের ফলে বাজারে প্রকারভেদে ২ থেকে ৫ টাকা করে দাম কমেছে। আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চলবে।’

আরও পড়ুন:
ধানের সংগ্রহ ৩১ শতাংশ, চালের ৮৭
চালে ৩৬ টাকা মুনাফা, সব সুপারশপকে তলব
চালের মজুত বাড়াতে বড় পরিকল্পনা সরকারের
শুল্ক কমানোর ৫ দিনেও কুষ্টিয়ায় কমেনি চালের দাম
চালের শুল্ক সুবিধা ভোক্তা পাবে কি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Napier is a multi billion dollar business

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে বলছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

এক সময়ের অনাবাদি কিংবা সড়কের পাশের পতিত জমিও এখন দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে আধুনিক বা বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের কল্যাণে। এই বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুরে।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

তাদের একজন হলেন বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর এলাকায় বাসিন্দা আপেল মাহমুদ। ৭ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা ১৭ হাজার টাকা করে ইজারা নিয়ে কাঠমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে এখন পুরোদমে খামারি হয়েছেন। ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালনের পাশাপাশি ঘাস চাষকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন।

নিজের এলাকার মহিপুর বাজারে এক স্কুল মাঠে প্রতিদিন বেলা তিনটার দিকে ঘাসের হাট বসে; সেখানে বছরের প্রায় প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক।

সম্প্রতি এই হাটে ঘাস বিক্রি করতে করতে আপেলের সঙ্গে আলাপ হয়। জানান, আট থেকে দশ বছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এই কাজ করে সংসার চলে কিন্তু প্রশান্তি মেলে না। এক সময় এমন চিন্তা থেকেই পেশা বদল করেছেন। জমানো টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে শুরু করলেন ঘাস চাষ। বছর শেষে প্রায় ২ লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করেন এই জমি থেকেই।

লাভের দিক বিবেচনায় নিয়ে এরপর আপেল মাহমুদ ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালন শুরু করেন। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই তিনি ঘাস চাষ আর গরু পালন করছেন। ঘাস চাষের জমির পরিধি বেড়ে ৭ বিঘায় এসেছে। জীবনযাপনের জন্য প্রথমে ঘাস চাষ শুরু করলেও আপেল এখন এটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন; যেখানে খামারের গরুর জন্য ঘাস চাষও হচ্ছে, একই সঙ্গে অন্যদের গরুর প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আপেলের মতে, এক সঙ্গে গরু পালন আর ঘাস চাষের মধ্যে খামারিদের ব্যাপক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শুধু শেরপুর উপজেলায় গরু পালনের অন্তত ২ হাজার জন খামারি রয়েছেন। এখানে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। শুধু উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া এই তথ্য বলছে, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অন্তত দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। খামারিরা এখন রেডি ফিডের চেয়ে ঘাস খাওয়ানোই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলায় অন্তত ২ হাজার একর জমিতে এবার ঘাষ চাষের অন্যতম কারণ এটিও।

তবে ঘাষ চাষের তাৎপর্য নিয়ে বহুমুখী ব্যাখ্যা রয়েছে কৃষকদের কাছেই। মহিপুরের জামতলা গ্রামের চাষী মো. হেলাল হোসেন প্রতি বছরই ২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন।

চাষের কারণ জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করতে এখন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে ঘাস বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার। একই সঙ্গে ঘাস চাষে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা নেই। ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শ্রমিক খরচ কম। কম শ্রম দেয়া লাগে। চাহিদাও ভালো। সব দিক থেকেই অন্য ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক।’

গাড়িদহ এলাকার আব্দুল হামিদ ১৮ বছর ধরে ৪ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছেন। তিনি জানান, আগের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। পতিত ধরনের জমিতে অন্য কিছু চাষাবাদ করা যায় না বলে তিনি সেখানে ঘাস চাষ করেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে ঘাস চাষের পরিসর আরও বাড়ানোর লক্ষ্য তার।

শেরপুরের উলিপুরের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ঘাসের ব্যবসা করেন। মহিপুর বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে ঘাস কিনে খামারিদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এ ঘাস বিভিন্ন আকারের আটি বেঁধে বিক্রয় করা হয়। ১০ থেকে শুরু করে ৪০ টাকা দামের আটি বিক্রয় করেন ব্যবসায়ীরা।

এই ব্যবসায়ীর অবশ্য ফ্রিজিয়ান জাতের ৬টি গরু রয়েছে। জানান, শেরপুরে ঘাস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অনেক লম্বা একটি চেইন গড়ে উঠেছে। অন্তত ২০০ মানুষ সরাসরি এই ঘাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

চাহিদার প্রেক্ষাপটে জেলাজুড়ে ঘাস চাষও বাড়ছে। বগুড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, জেলাজুড়ে ঘাস চাষের চাহিদা বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলায় ৫৭৫ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ৪৪৮ একর জমিতে ঘাস চাষ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১২৭ একর জমিতে ঘাস চাষ বেড়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শেরপুরের মহিপুরের আব্দুর রশিদ প্রতিদিন ১০টি গরুর জন্য ১ হাজার থেকে ১২ শ টাকার ঘাস কেনেন। ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়।

এই খামারি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে গরুর ফিডের দাম কম ছিল। কিন্তু এখন বেড়েছে। ফিড খাওয়ালে খরচ বেশি হয়।’ এই কারণে ঘাস কিনে খাওয়ান তিনি। ঘাসের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এই প্রবীণ খামারি।

এখন গরুর ফিডের কাঁচামালও আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বেড়েছে সব পণ্যের। তবে অন্য খাবারের চেয়ে গরু-মুরগীর ফিডের দাম অনেক বেড়েছে বলে জানান খামারিরা। ফলে স্বভাবতই ঘাসের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকছেন তারা।

গো-খাদ্যের দামের সংকটের কারণে ঘাস চাষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে বলে মনে করেন শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘাস হচ্ছে গো-খাদ্যের প্রাকৃতিক উপাদান। সুষম খাদ্যের সব উপাদান রয়েছে ঘাসের মধ্যে। গরু-মহিষের দুধ, মাংস উৎপাদনের উপকরণ তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক ঘাস। বিভিন্ন গবেষণাতেও পাওয়া গেছে, দানাদার ফিডের চেয়ে ঘাস গো-খাদ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি।’

তিনি আরও বলেন, গরু-মহিষের প্রজননের জন্য যে হরমোন দায়ী তার নাম ইস্ট্রোজেন (Estrogen) । ঘাস এই হরমোন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। ফলে গরু বা মহিষকে ঘাস খাওয়ালে তার প্রজনন ক্ষমতাও বাড়ে। এই কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষকদের ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। ঘাসের বীজ, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’

এই উপজেলা থেকে প্রতি বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঘাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব ঘাস এই উপজেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য উপজেলার সংকটও মেটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রাণিসম্পদ এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ
ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে উৎসব
নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন পণ্যমেলা
‘বিশেষ সুবিধা নয়, বাজেটে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রিপেইড কার্ড চালু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After the case of price manipulation the market cost increased further

দাম নিয়ে কারসাজির মামলার পর আরও বাড়ল বাজার খরচ

দাম নিয়ে কারসাজির মামলার পর আরও বাড়ল বাজার খরচ ফাইল ছবি
ডিমের দাম আবার হালিতে ৫০ ছুঁয়েছে। কিছুটা বেড়েছে মুরগির দামও। কমতে থাকা চালের দামও কেজিতে বাড়ল ২ থেকে ৩ টাকা। শীতের আগে সবজির বাজারে সরবরাহে টানের সঙ্গে বেড়েছে দামও। কারসাজি করে ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলার পর শুক্রবার এই চিত্র দেখা গেছে বাজারে।

চাল, ডিম, মুরগি, প্রসাধনের দাম কারসাজি করে বাড়ানোর অভিযোগ এনে ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার পরদিন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে কেনাকাটায় আরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে মানুষকে। ফলে রান্নার খরচ আরও গেছে বেড়ে।

আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে চাল, ডিম, মুরগির মাংসের দাম। এ তিনটি পণ্যের দাম বাড়ানোর পেছনেই কারসাজির প্রমাণ পেয়ে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। বৃহস্পতিবার মামলার পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে কোম্পানিগুলোকে।

প্রতিযোগিতা কমিশন চালের বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও নওগাঁর বেলকন গ্রুপের বেলকন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ইস্কাটন, বাড্ডাসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মোটা-সরু সব চালের দামই বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা। ২ টাকা বেড়ে মোটা স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায় ও বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়।

চিকন চালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মিনিকেট ও নাজিরশাইল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮৪ টাকায়।

কারওয়ান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জমির ব্যাপারী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া এখন চালের মৌসুম শেষ। যদিও চাল আমদানির কথা শুনছি, কিন্তু বাজারে সেগুলো আসছে না। এ জন্য চালের দাম বাড়ছে। অগ্রিম টাকা দিয়েও চাহিদামতো চাল মিলছে না। মোকামে যে পরিমাণ চালের অর্ডার দেওয়া হচ্ছে তা পাওয়া যাচ্ছে না।’

চলতি সপ্তাহের আগে টানা তিন সপ্তাহ চালের দামে ছিল ভাটার টান। কেজিতে ৬ থেকে ৮ টাকা কমেছিল ওই সময়ে।

প্রতিযোগিতা কমিশন দুই করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আটা-ময়দার সংকট তৈরির অভিযোগে।

মামলার পরদিন খোলা ময়দার দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়ার তথ্য মিলেছে। গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা ময়দা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। প্যাকেটের ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা কেজি, এখন হয়েছে ৭৫ টাকা।
বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তেলের বাজারে সংকট তৈরির অভিযোগে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বেড়ে গেছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৭২ টাকা দরে, সেটি বেড়ে হয়েছে ১৭৭ টাকা।

ডিমের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিম ব্যবসায়ী-আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ্, কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মুরগির বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগও আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি ও কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে।

মামলার পরদিন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ডিমের দর আবার দিয়েছে লাফ। গত মাসে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। পরে দাম কমতে কমতে নেমেছিল ১২০ টাকায়। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে আবার বাড়তে থাকে। ডজনের দাম হয়ে যায় ১৩৫ টাকা, সেটি আবার বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজার, বাড্ডা, রামপুরা বাজারে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, কোথাও কোথাও ৫০।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। কিছুটা বেড়েছে মুরগির দামও।

রামপুরা এলাকার মুরগি বিক্রেতা হাসান বলেন, ‘গত সপ্তাহে মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১৮০ টাকা।’

সবজি, মসলার খরচও বাড়ল

গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজির মৌসুম শেষ প্রায়, শীতের আগাম সবজির জোগান বাজারের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। আর সরবরাহে টান পড়ার কারণে প্রতি বছরের মতো শীতের আগে আগে দাম বাড়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, সেটি দেখা যাচ্ছে এবারও।

সবজিভেদে দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেগুন ১০০, কচুরলতি ৮০, মুলা ৬০, শসা ৭০, করলা ৮০, ঢেঁড়স ৬০, পটোল ৫০ থেকে ৬০, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০, শিম ১৫০ থেকে ১৬০, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ২০ থেকে ৩০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাঁধাকপি ও ফুলকপি উঠতে শুরু করেছে, আকারে ছোট, তবে দামে বড়; একেকটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেড়ে গেছে মিষ্টি কুমড়ার ফালির দামও। কেউ বিক্রি করছে ৩০ টাকায়, কেউ কেজি প্রতি দাম চাইছে ৪০ টাকা।

দাম বেড়েছে আদা-রসুনেরও। আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে যে আদা বিক্রি হয়েছে, আজ সেই আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে।

আমদানি করা ৮০ টাকা কেজি আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রসুন এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

আরও পড়ুন:
চালের দামে অস্থিরতা ৯ কারণে
খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক যুগের সর্বোচ্চ
নিত্যপণ্যের দামে সুখবর নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃচ্ছ্রসাধন হবে কীভাবে
বাজার গরম: এবার রোজাদাররা স্বস্তি পাবে তো?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The agriculture minister is worried about the availability of fertilizer

সারের মজুত পর্যাপ্ত, তবুও শঙ্কায় কৃষিমন্ত্রী

সারের মজুত পর্যাপ্ত, তবুও শঙ্কায় কৃষিমন্ত্রী গাজীপুরের পুবাইলে জমিতে সার ছিটাচ্ছেন কৃষক। ফাইল ছবি
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সার নিয়ে আমরাও দুশ্চিন্তায় আছি। তবে বৈশ্বিক অতি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হলে সারের সমস্যা হবে না। আগামী বোরো মৌসুমে যে সারের দরকার, সে ব্যাপারেও আগাম ব্যবস্থা নিয়েছি।’

সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ‘শঙ্কা’য় থাকার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। অবশ্য বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সার নিয়ে আমরাও দুশ্চিন্তায় আছি। তবে বৈশ্বিক অতি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হলে সারের সমস্যা হবে না। আগামী বোরো মৌসুমে যে সারের দরকার, সে ব্যাপারেও আগাম ব্যবস্থা নিয়েছি।

‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইউরিয়া সারের চাহিদা থাকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেখানে বর্তমানে মজুত আছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ ইউরিয়া মজুত আছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। গত বছর একই সময়ে মজুত ছিল ৫ লাখ ৪৭ হাজার টন।’

তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের টিএসপির চাহিদা ৯৬ হাজার টন, এর বিপরীতে মজুত আছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার টন। গত বছরে একই সময়ে মজুত ছিল ৩ লাখ ৬৭ হাজার টন। ডিএপি বর্তমানে মজুত আছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার টন, অথচ এ সারের চাহিদা ২ লাখ ১৯ হাজার টন। গত বছর মজুত ছিল ৭ লাখ ৮৩ হাজার টন। এমওপি মজুত আছে ২ লাখ ৬৮ হাজার টন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এই সারের চাহিদা ১ লাখ ২১ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে এই সারের মজুত ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার টন।’

আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আর কয়েক দিন পরই রবি মৌসুম শুরু হবে। ১৫-২০ দিন পরই আলু, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন রবি ফসল লাগানো শুরু হবে। আমাদের বোরোর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আমাদের যে সারের দরকার, সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিয়েছি।

‘আগাম বন্যা হওয়ার কারণে এ বছর বোরোতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। মার্চ থেকে বৃষ্টি শুরু হয়, বোরো মৌসুম অনেক আগেই শুরু হয়। এবার অসময়ে বৃষ্টি হয়ে পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ সঠিকভাবে ধান সংগ্রহ করতে পারেনি, এতে উৎপাদন কম হয়েছে। ধান যখন মাঠে ছিল, তখন বিঘায় ২০-২২ বা ২৫ মণ ধান পাবে বলে কৃষক মনে করেছেন, কিন্তু যখন মাপছেন তখন অনেক কম পেয়েছেন।’

আমনে আশার আলো

এ বছর বর্ষাকালে বৃষ্টি কম হওয়ায় আমন নিয়ে শুরু থেকেই শঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিল সরকার। তবে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা অর্জিত হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বিলের বীজতলায় বৃষ্টির পানি না পেলেও নিচু এলাকায় ধানের রোয়া (চারা) বপন করা গেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় চারাগাছ বৃদ্ধি পাচ্ছিল না, এখন বৃষ্টি হচ্ছে বলে আমন দাঁড়িয়ে গেছে।

‘এখন যদি বৃষ্টি হয় তাতে আমন ভালো হবে। তবে কিছু ক্ষতি হয়েছে বৃষ্টি দেরিতে হওয়ায়। আমরা মনে করছি উৎপাদন ভালো হবে।’

ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি ইউরিয়ার ব্যবহার কমিয়ে ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়াতে। ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়ছে ঠিকই ১৫-১৬ লাখ টন। কিন্তু সরকারকে এখানে ভর্তুকি দিতে হয়। আমরা ১৬ টাকায় সার দিচ্ছি অথচ বাজারে তা ১৪০ টাকা। আর ইউরিয়ায় প্রতি কেজিতে ৬০ টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছি।

‘জমিতে ইউরিয়া দিলে ফলন ভালো হবে বলে মনে করেন কৃষক, আসলে এমনটা হয় না। ধানে ইউরিয়া বেশি দিলে চিটা বেশি হয়। কারণ ধানের পাতা কর্বোহাইড্রেট খেয়ে ফেলে, তা দানায় পৌঁছাতে পারে না। আর ডিএপি ব্যবহারে গাছের রোগ-জীবাণু কম হয়, গাছ শক্ত হয়, পটাশিয়াম বেশি পায়। কিন্তু আমাদের চাষিদের একটা প্রবণতা, রাতের অন্ধকারে হলেও তারা ইউরিয়া দেবেন।’

ব্যাপকভাবে প্রচারের মাধ্যমে কৃষকদের ইউরিয়া ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে বলে মত দেন কৃষিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
সার বিতরণে অনিয়মে ডিলারশিপ বাতিল
সার মজুত করায় লাখ টাকা জরিমানা, ১২০০ বস্তা জব্দ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Price manipulation Case against Unilever City Paragon Kazi

দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা

দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা
কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজারের সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার নিয়ম ভেঙে চাল, আটা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, সাবান, ডিটারজেন্টসহ অস্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হবে।’

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার, দেশীয় খাদ্যপণ্য বাজারজাতকারী সিটি গ্রুপ ও এডিবল অয়েল।

ব্যক্তি হিসেবে আসামি হয়েছেন যারা তাদের মধ্যে আছেন সিটি গ্রুপ, প্যারাগন পোলট্রি ও কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চাল বাজারজাতকারী রশিদ অ্যাগ্রোর মালিক।

বৃহস্পতিবার এই মামলায় এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আনা হয়।

কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজারের সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার নিয়ম ভেঙে চাল, আটা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, সাবান, ডিটারজেন্টসহ অস্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হবে।’

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগ চালে ১৯টি, আটা-ময়দায় আটটি, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমে ছয়টি, সাবান ও ডিটারজেন্টে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে তাদের শুনানিতে ডাকা হবে।

আসামি কারা, কী কারণে

চালের বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও নওগাঁর বেলকন গ্রুপের বেলকন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

দুই করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আটা-ময়দার সংকট তৈরির অভিযোগে।

বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তেলের বাজারে সংকট তৈরির অভিযোগে।

ডিমের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিম ব্যবসায়ী-আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ্, কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মুরগির বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগও আনা হযেছে প্যারাগন পোলট্রি ও কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সাবান, সুগন্ধী সাবান ও গুঁড়া সাবানের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ এনে।

প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্মকর্তা তৌহিদ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রতিযোগিতা কমিশন থেকে এখনও এ ধরনের কোনো নোটিশ পাইনি। এ ধরনের সংবাদ গণমাধ্যম থেকে দেখেছি।

শুনানি সোমবার থেকে

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১২টায় কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডিম ও ‍মুরগির বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

পরদিন বাকি অভিযোগগুলোর বিষয়ে শুনানি হবে।

প্রতিযোগিতা কমিশন আইনের ১৫ ও ১৬ ধারা অনুযায়ী এ মামলা হয়েছে। ধারা ১৫-তে বলা হয়েছে, বাজারে প্রভাব বিস্তার করে একপক্ষীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তারা শাস্তির আওতায় আসবে।

ধারা ১৬-তে বলা হয়েছে, কোনো পণ্যের বাজারজাত বা উৎপাদনে শীর্ষে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পণ্যের দামে কারসাজি করলে সেই অপরাধও শাস্তিযোগ্য।

আরও পড়ুন:
হাত বদলে সবজির দাম তিন গুণ
আটা-ময়দার বাজারও চড়া
দাম চড়া সব পণ্যের, নজর শুধু তেলে
বেড়েছে মাছ ডিমের দাম, সবজিতে স্বস্তি
দাম বেড়েছে মাংস-পেঁয়াজের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Determining the price of palm oil 133 open sugar 84 by reducing 12 rupees

১২ টাকা কমিয়ে পাম তেল ১৩৩, খোলা চিনির দর ৮৪ নির্ধারণ

১২ টাকা কমিয়ে পাম তেল ১৩৩, খোলা চিনির দর ৮৪ নির্ধারণ পাম তেল ও চিনির দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার।
অন্যদিকে চিনির ‍দুই ধরনের দর ঠিক করা হয়েছে। প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ঠিক করা হয়েছে ৮৯ টাকা আর খোলা চিনি প্রতি কেজি ৮৪ টাকা। বর্তমান বাজারদর এটিই।

নিত্যপণ্যের মধ্যে ৯টির দাম নির্ধারণ করে দেয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তার মধ্যে প্রথম নির্ধারণ করা হলো চিনি ও পাম তেলের দর।

সিদ্ধান্ত হয়েছে পাম তেল এখন থেকে বিক্রি হবে ১৩৩ টাকা লিটার দরে। এই তেলের দর ছিল ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ কমেছে ১২ টাকা।

অন্যদিকে চিনির ‍দুই ধরনের দর ঠিক করা হয়েছে। প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ঠিক করা হয়েছে ৮৯ টাকা আর খোলা চিনি প্রতি কেজি ৮৪ টাকা। বর্তমান বাজারদর এটিই।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ দাম ঘোষণা করে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাম তেল সুপার খোলা প্রতি লিটার মিলগেট মূল্য ১২৮ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৩০ টাকা এবং খুচরা মূল্য সর্বোচ্চ ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হলো।

পরিশোধিত খোলা চিনি এক কেজি মিলগেট মূল্য ৭৯ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৮১ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৮৪ টাকা।

প্যাকেট চিনি এক কেজি মিলগেট মূল্য ৮২ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৮৪ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৮৯ টাকা।

রোববার থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা কমানোর সুযোগ আছে বলে সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। চিনির দামও কমিয়ে আনার পরামর্শ দেয় এই প্রতিষ্ঠান।

ট্যারিফ কমিশন থেকে দেয়া সুপারিশে বলা হয়, বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামে তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু কমেছে পাম তেলের দাম। তাই এই তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কমানোর সুযোগ আছে। তবে সয়াবিন তেল যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা যৌক্তিক। পাম তেলের দাম বর্তমানে ১৪৫ টাকা । এই তেলের দাম লিটারে অন্তত ১২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

চিনি বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন থেকে পাঠানো সুপারিশে বলা হয়, প্রতি কেজি খোলা চিনি ভোক্তাপর্যায়ে খুচরা মূল্য ৮৪ টাকা। আর প্যাকেটজাত চিনির কেজিপ্রতি দাম হওয়া উচিত ৮৮ টাকা।

গত ৩০ আগস্ট বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, বেঁধে দেয়া হবে ৯ পণ্যের দাম। ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, রড, সিমেন্ট, চাল, আটা, ময়দা, মসুর ডাল, ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

সেই অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণও শুরু করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। তবে সামনে আসে নানা বিপত্তি।

৯ পণ্যের দাম নির্ধারণ করা থেকে সরে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেল, চিনি, রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করবে এই মন্ত্রণালয়।

তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় রড ও সিমেন্টের দাম নির্ধারণে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:
দাম চড়া, দেশি চিনির দেখা মেলে না
‘জামাই আপ্যায়নের’ লাল চিনি
চালুর পরদিনই বন্ধ চিনিকল, বিপাকে আখচাষি
চাহিদার আখই পাচ্ছে না চিনিকল, গুনছে লোকসান 
সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পারছে না ইতালি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agriculture Ministers no to egg import

ডিম আমদানিতে কৃষিমন্ত্রীর না

ডিম আমদানিতে কৃষিমন্ত্রীর না
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ক্রমেই যেন ডিম আমদানি করা না হয়। আমরা একটু কষ্ট করি, তার পরও আমরা ডিম আমদানি করব না।’

দেশের বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিদেশ থেকে আমদানির বিষয়ে যে কথা হচ্ছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার মতে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিম আমদানি করা হবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দাম চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তবে একজন কৃষিবিদ হিসেবে বলতে পারি, যাই দাম বাড়ুক দুই-তিন মাস পর আমি লিখে দিতে পারি, ডিম তারা বেচতেই পারবে না। এটা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

এমন অবস্থায় কোনোক্রমেই ডিম আমদানি করার পক্ষপাতী নন তিনি। বলেন, ‘কোনোক্রমেই যেন ডিম আমদানি করা না হয়। আমরা একটু কষ্ট করি, তার পরও আমরা ডিম আমদানি করব না।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘যখন দাম বাড়ছে সবাই মুরগির বাচ্চা তুলছে। কয়েক দিন আগেই ডিম বিক্রি করতে পারছিল না, আবার ব্রয়ালর মুরগি ৯০-১০০ টাকা। তিন বছর ধরে এটা চলছে। পোলট্রি ফার্মের মালিকরা লস করতে করতে আর লস করতে রাজি না।’

৯টি নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো আলোচনা হয়নি। অসহযোগিতার কিছু নেই। তবে আমি আবারও বলছি নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিয়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন।

‘এটা বড় চ্যালেঞ্জ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে। বিশেষ করে যেখানে কাঁচাপণ্য চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।’

আরও পড়ুন:
অতিরিক্ত খাদ্য আমদানির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শুল্ক কমানোর ৫ দিনেও কুষ্টিয়ায় কমেনি চালের দাম
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি তলানিতে, বিনিয়োগে অশনিসংকেত
ডিমের দামে কারসাজিতে জড়িতদের শাস্তি চায় এফবিসিসিআই
ডিমের দাম বাড়ে মোবাইল ফোনে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the benefit of making the dollar rate market based?

ডলারের দর বাজারভিত্তিক করে ‘লাভ কী হলো’

ডলারের দর বাজারভিত্তিক করে ‘লাভ কী হলো’ প্রতীকী ছবি
ডলারের মূল্য বাজারভিত্তিক করার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না আমি। আমদানি বেশ কমেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা, কিন্তু উল্টো বাড়ছে। তাহলে বাজারভিত্তিক করে কী লাভ হলো? আর আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লাগছে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের মধ্যে ৮ টাকার বেশি ব্যবধান: আহসান এইচ মনসুর

দাম বাজারভিত্তিক এবং আমদানি ব্যয় কমলেও ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না; কমছে না বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর মুদ্রাটির তেজ। অদ্ভুত আচরণ করছে বাজার।

সংকট নিরসনে ডলারের মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে তা বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছে না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছে। দুর্বল হয়েই চলেছে টাকার মান; শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছে যে দামে ডলার বেচাকেনা করছে, তার দামও বাড়ছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ৮ টাকা ৩৫ পয়সা। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের এতটা পার্থকের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ডলারের মূল্য বাজারভিত্তিক করার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না আমি। আমদানি বেশ কমেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা, কিন্তু উল্টো বাড়ছে।

‘তাহলে বাজারভিত্তিক করে কী লাভ হলো? আর আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লাগছে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের মধ্যে ৮ টাকার বেশি ব্যবধান।’

ডলারের দর বাজারভিত্তিক করে ‘লাভ কী হলো’

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রপ্তানিতে ডলারের দাম ৯৯ টাকা, আর প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাম ৯৬ টাকা। এত পার্থক্য রেখে ডলারের দাম স্থিতিশীল করা যাবে না। প্রবাসী আয়ে দাম কমাতে হবে; রপ্তানিতে দাম বাড়াতে হবে। এভাবে সব ক্ষেত্রে ডলারের দাম এক করে ফেলতে হবে।’

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ থেকে কত দামে কত ডলার বিক্রি করেছে, সে তথ্য প্রকাশ করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়।

মঙ্গলবার খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১১৪ টাকা ৪০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এতদিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দর বাজারভিত্তিক করা হয়।

ওই দিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এ মুদ্রার বিনিময় হার ঠিক করা হয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাড়ল ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দরপতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন বা বাফেদা ঠিক করে আন্তব্যাংকে ডলারের বিনিময় হার হবে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। সেই দরকেই আন্তব্যাংক দর হিসেবে বেছে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময়মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই, তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর আরও বাড়ল
একদিনে ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১০ টাকা দরপতন
ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংকে ডলারের নতুন দর কার্যকর হয়নি
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’

মন্তব্য

p
উপরে