× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Charmonai Pirs attempt at alliance with Islamic parties
google_news print-icon

ইসলামি দলগুলো নিয়ে জোটের চেষ্টা চরমোনাই পীরের

ইসলামি-দলগুলো-নিয়ে-জোটের-চেষ্টা-চরমোনাই-পীরের
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখছেন চরমোনাই পীর। ফাইল ছবি
ইতোমধ্যে খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, কল্যাণ পার্টি, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম পার্টির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ধর্মভিত্তিক দলটি দেশের রাজনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে চায়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোট গঠনের চেষ্টা করছে কয়েকটি ইসলামি দল। এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের দলটি ইতোমধ্যে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চালিয়েছে।

ধর্মভিত্তিক দলটি বলছে, দেশের ইসলামি দলগুলো জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন অতীতের তিক্ততা মিটিয়ে একই ছাতার নিচে আসা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইসলামী আন্দোলনের দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে খেলাফত আন্দোলন, বিএনপির সাবেক শরিক খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, কল্যাণ পার্টি, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম পার্টির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনূস আহমাদ জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে তারা আলোচনা চালাবেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (একাংশ)। আর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে রয়েছে তরিকত ফেডারেশন। ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একসময় ২০ দলীয় জোটে ছিল। এখনও দল দুটির খণ্ডিত অংশ ২০ দলীয় জোটে রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এবং জাকের পার্টিও কোনো জোটে নেই।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সরকারবিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে দলটি। ধর্মীয় ইস্যু ছাড়া জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোতেও দলটির নিয়মিত কর্মসূচি থাকছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল দলটি।

ধর্মভিত্তিক এসব দলের অধিকাংশই বরাবর বিএনপি ঘেঁষা। সেই দলগুলো নিয়ে চরমোনাই পীরের দলের পৃথক জোট গঠনের চেষ্টা রাজনীতির মাঠে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে।

এ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকেই তো বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে এসেছে। যারা জোটের বাইরে আছে তাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা তো সমঝোতার ভিত্তিতে জোট করতে চাচ্ছি। আমরা চাই ইসলামি দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব আছে সেটা দূর হোক।’

বিএনপি ঘেঁষা দলগুলোর সঙ্গে দলটির সংলাপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা জাতীয় রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট তাদের সঙ্গে সংলাপ করলে তো কিছু ভাল পরামর্শ আসে। যদি তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয় তখন আমরা বিষয়গুলো দেখব। যারা জোট ছাড়তে পারবে না তাদের তো নতুন জোটে টানতেও পারব না।’

মাওলানা ইউনূস আহমাদ বলেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি চালু রাখব। এটাকে ইসলামি দলগুলোকে পরস্পরের কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়া বলা যেতে পারে। তবে জোট কোন নামে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা চূড়ান্ত হয়নি।

‘আগে সংলাপ শেষ হোক। তারপর সবার সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মসূচি কিংবা নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে সবার ইচ্ছার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপাতত ‌এর ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।’

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমরা ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে একটি জোট করার চেষ্টা করছি। সে উদ্দেশ্য নিয়ে সংলাপ চলছে। এখনই কিছু বলা যাবে না। সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেদিকেই আমরা এগুবো। সে ক্ষেত্রে ঐক্য কিংবা সমাঝোতা যে কোনো কিছু হতে পারে।’

জোট হলে তার নেতৃত্বে কারা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই জোটের উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। তবে সেটা যে কোনো দলের নেতৃত্বে হতে পারে। সবাই একমত হলে আমাদের নেতৃত্বেই জোট হবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে খেলাফত মজলিস কোনো জোটে যোগ দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে কি না জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জোটের বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। ওনারা আমাদের অফিসে এসেছিলেন। ইসলামি দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক রাখা উচিত- এ বিষয়ে আমরা সম্মত হয়েছি।’

জোট হলে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে জোটের পরিবেশ তৈরি করা দরকার। সম্পর্ক ভালো করা দরকার। প্রাথমিক কাজটা হোক। তারপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে সেটা দেখে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ওয়ালি উল্ল্যাহ আরমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। একটি জোটে থেকে তো আমরা আরেকটি জোটে যেতে পারি না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমাদের চা-পানের দাওয়াত দিয়েছিল এবং আমরা গিয়েছি। রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই পর্যন্তই।

দেশে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৩৯টি। এর মধ্যে ধর্মভিত্তিক দল ১১টি। নিবন্ধনের বাইরেও ধর্মভিত্তিক বেশ কিছু দল রয়েছে। নিবন্ধিত ইসলামি দলগুলো হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও মুসলিম লীগ।

একাত্তরে পাকিস্তানিদের পক্ষে অস্ত্র ধরার দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

খেলাফত মজলিস দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক ছিল। গত বছরের ১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে তারা জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে তারা এককভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল: চরমোনাই পীর
সরকারের অবহেলায় টিকা সংকট: চরমোনাই পীর
গরিব মানুষের প্রতি সদয় হোন: চরমোনাই পীর
ভোট না দিয়ে নির্বাচিত ঘোষণা করুন: চরমোনাইয়ের পীর
সিলেটে চরমোনাই পীরের ওয়াজের অনুমতি বাতিল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The government is increasing the price of electricity to take revenge on the people Rizvi

জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে সরকার: রিজভী

জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে সরকার: রিজভী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আগামী মার্চে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম আবারও বৃদ্ধি করবে সরকার। গণবিরোধী সরকার জবাবদিহিতার ধার-ধারে না। গত ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচন জনগণকর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে।’

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত হবে অতীব নিষ্ঠুর। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে এর চেইন রিএকশনে জনসাধারণের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি শিল্প, কলকারখানা গভীর সংকটে পড়বে।

‘এমনিতেই বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে। মানুষ তার প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপরে এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চরম আঘাত আনবে।’

মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষরা কঠিন কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘দেশে ৮০ শতাংশ মানুষের আয় বাড়েনি। অনাহারে-অর্ধাহারে কোনোরকম জীবন কাটাচ্ছে। তার ওপর সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হবে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে ব্যাপকহারে ঋণ নিয়ে জনগণের ওপর বিপুল পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে ঋণের বোঝা। এখন ডলার সঙ্কটের কারণে কয়লা উৎপাদনের খরচ বাড়ার কথা বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের একটি অমানবিক খেলা।’

তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এর আগে মঙ্গলবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, মার্চ মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

তিনি ওই সময় বলেন, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হবে। এর সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়েও কিছুটা সমন্বয় হবে, তবে ভোক্তাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব যাতে না পড়ে, সেভাবেই বাড়ানো হবে। যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদেরটা বেশি বাড়বে।

আরও পড়ুন:
ফখরুল-খসরু জামিনে মুক্তি পেতে পারেন বিকেলে
ক্ষমতা দখল করে জনগণকে ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে আ. লীগ সরকার: রিজভী
জামিন আবেদন নাকচ, চাঁদের ঠিকানা শেরপুর কারাগার
বিএনপির ৬ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা
আওয়ামী লীগকে খেসারত দিতে হবে: ফারুক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Moulvibazar Jubo League Chhatra Leagues attack on the police

পুলিশের ওপর মৌলভীবাজার যুবলীগ ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

পুলিশের ওপর মৌলভীবাজার যুবলীগ ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে শুরুতে বাগবিতণ্ডায় জড়ান জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি নেছার আহমদ। পুলিশ সদস্যরা সেসময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

শহীদ দিবসে মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ।

একুশের প্রথম প্রহরে মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা পুলিশ জানায়, রাত ১২টা ১মিনিটে প্রটোকল অনুযায়ী প্রথমে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফুলের তোড়া নিয়ে শহীদ মিনারে যান। তখন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি নেছার আহমদ ব্যারিকেড নিয়ে পুলিশকে সরে যেতে বলেন, কিন্তু তা না মানায় তিনি একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা সেসময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক শিমুল আহমেদ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান রনি, বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী আমিন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ, কিবরিয়া, সিভাজেড শামীম, লিপ্পন, সৌমিক, সাঈদ রাজা, সায়েক, রুপসান, মনুয়ার, তানভির আহমদ চৌধুরী ও আবির শেখ হেলাল পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। খতিয়ে দেখা হবে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Khandaker Musharraf returned home after treatment

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন খন্দকার মোশাররফ

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন খন্দকার মোশাররফ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ফাইল ছবি
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ব্রেইনে অপারেশন হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক তাকে আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জনসমাগম ও কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার রাত ১টায় ঢাকায় পৌঁছান তিনি।

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে গুলশানের বাসায় ৬ মাস বিশ্রামে থাকবেন তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মোশাররফ স্যারের ব্রেইনে অপারেশন হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক তাকে আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জনসমাগম ও কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৬ জুন দলীয় পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ড. মোশাররফ। প্রথমে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর ২৭ জুন সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।

দু’মাসের বেশি সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন খন্দকার মোশাররফ। এরপর আবার অসুস্থ হলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতাকে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাকে আবারও সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ আইসিইউতে
সরকারের বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র: মোশাররফ
দেশ সংকটকাল অতিক্রম করছে: মোশাররফ
সরকারের পতন ঘটানো হবে: মোশাররফ
কর্মসূচি পেছানো নমনীয়তা নয়, গণতান্ত্রিক চরিত্র: বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP leader Alal is out of jail

বিএনপি নেতা আলাল কারামুক্ত

বিএনপি নেতা আলাল কারামুক্ত মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বুধবার কাশিমপুর কারাগারের সামনে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবকে কারাগারের সামনে ফুল দিয়ে বরণ করেন দলের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার বিকেল ৪টায় গাজীপুরের বিশেষায়িত কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সৃদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারের জেলার শাহাদাত হোসেন জানান, হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারামুক্ত হয়েছেন।

মুক্তির পর কারাগারের সামনে আলালকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর নয়াপল্টনে গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপি আয়োজিত মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল নিহত হওয়ার ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর কাঁঠালবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও পড়ুন:
আলালকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত
ভারতে যেতে ব্যর্থ বিএনপি নেতা আলাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inspired by the spirit of Ekush people want to establish rights BNP
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়: বিএনপি

একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়: বিএনপি রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপি বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের মানুষ নির্ভয়ে উচ্চ কণ্ঠে কথা বলতে চায় এবং একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিচ্ছি- ভাষা শহীদদের দেখানো পথ অনুসরণ করে সেই অধিকার আদায় করব।’

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান এবং বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা-শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

একুশের দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর নীলক্ষেতে বলাকা সিনেমা হলের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে জড়ো হন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে তারা প্রথমে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। পরে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা সব ধরনের দমন-পীড়ন সহ্য করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে নেমেছে।

‘দেশের মানুষ নির্ভয়ে উচ্চ কণ্ঠে কথা বলতে চায় এবং একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিচ্ছি- ভাষা শহীদদের দেখানো পথ অনুসরণ করে সেই অধিকার আদায় করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের এক দফা আন্দোলন থেমে নেই। আন্দোলন চলছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

‘বর্তমান সরকারের পতন এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এক দফার আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
একুশের অন্যতম চেতনা অন্যায়ের প্রতিবাদ ও দুর্বলের ওপর আধিপত্যের অবসান
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ
প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The poison tree of communalism will be uprooted Who

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটন করা হবে: কাদের

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটন করা হবে: কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের একমাত্র বাধা সাম্প্রদায়িকতা। বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করেছে, এই বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করবো আমরা- এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

বিএনপির নেতৃত্বে গড়া সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একমাত্র বাধা সাম্প্রদায়িকতা। বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করেছে, এই বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করবো আমরা- এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

ওবায়দুল কাদের বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন। খবর বাসসের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পরে স্বাধিকার সংগ্রামে বিভিন্ন মাইলফলক অতিক্রম করে একাত্তরের স্বত্ব জাতীয়তাবাদের দিকনির্দেশনা আসে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে। আমরা প্রথমে ভাষা যোদ্ধা, অতঃপর একাত্তরে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যে বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে- সেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি আজকে সারাবিশ্বে বিস্ময়ের।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The movement to restore voting rights and democracy will continue BNP

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলবে: বিএনপি

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলবে: বিএনপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনাই পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আজ দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই। ফলে বিএনপির এক দফার যে আন্দোলন তা অব্যাহত থাকবে।

মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বলেছে, বিএনপির এক দফার আন্দোলন চলবে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এমন ঘোষণা দেন।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। এর আগে ভাষা আন্দোলন ও চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, বায়ান্নর আন্দোলন শুধুই ভাষার আন্দোলন ছিল না। সেটি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা পর্ব। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আজ দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই। ফলে বিএনপির এক দফার যে আন্দোলন তা অব্যাহত থাকবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। পরিচালনা করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নে যা করেছেন তা বলে শেষ হবে না। তিনি দেশের কৃষির উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি নেন। শিক্ষার উন্নয়নে অসংখ্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তিনি আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। জিয়ার শাসনামলে যে নির্বাচন হয়েছিলো সেখানে সব দল অংশ নিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বন্দি করে কারাগারে পাঠাননি। ইনশাআল্লাহ আবারও তার নেতৃত্বে বিএনপি সফল হবে। তার যোগ্য পুত্র তারেক রহমান দলের হাল ধরেছেন। আজকে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ফিরবেন। বিএনপি মানেই শান্তি ও গণতন্ত্র। বিএনপি মানেই সাধারণ মানুষের উন্নতি ও সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধম্যেই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে। তার আগে মাতৃভাষার চেতনাকে কেন্দ্র করেই ৬৯, ৭০ পর্যন্ত এসেছিলাম। আমরা পাকিস্তানিদের বলেছিলাম- তোমাদের বৈষম্যের শাসন মানি না। সেদিন বাঙালি তাদের ব্যালটের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে তারা তাদেরকে চায় না। ফলে পাকিস্তান মুসলিম লীগ সরকারের ভরাডুবি হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তিনি তো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। ফলে নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দিলে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের কাছে দিশারী, অসময়ের কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। তিনি হানাদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ কথা যারা অস্বীকার করে তারা কাপুরুষ। অথবা স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের কোনো অবদান নেই।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এই সরকার হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা সরকার। এদের কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই। আবার তারাই বলে, আমি তো থাকতে চাই নাই। কিন্তু জনগণ আমাকে ছাড়লো না। আসলে এদের কোনো লাজলজ্জা নেই। নৈতিকতা নেই।

‘তারা আমাদের নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করছে। যখন খুশি মামলা দিচ্ছে। বিচারকরা কোনো যাচাই-বাছাই করেন না। নির্যাতন-নিপীড়ন করে পাকিস্তানের রক্ষা হয়নি। এই আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেটি আজ ভূলুণ্ঠিত। এই সরকার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আমরা এই দুটি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্দোলন করছি।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমাদের সব অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সেসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন করা হয়েছিল। সেই আন্দোলন আমাদেরকে আজও গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়।’

তিনি বলেন, ‘আজ ছাত্রসমাজের কী করুণ দশা। প্রতিদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা নারীদেরকে লাঞ্ছিত ও সম্ভ্রমহানি করছে। তারা দখলদারত্ব কায়েম করেছে। তারা নদী দখল, ভূমি দখলসহ সবকিছু দখলের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে।

‘শুধু ইট-কাঠ দিয়ে উন্নয়ন হয় না। এখানে কথা বলা ও লেখার কোনো স্বাধীনতা নেই। পেঁয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বাড়লেও দেশের কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না। ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজির কারণে সব পণ্যের দাম বেড়েছে।’

তিন আরও বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে একতরফা ডামি নির্বাচন করেছে ৭ জানুয়ারি। এই সরকার সবচেয়ে ভয় পায় বিএনপিকে, যার নেত্রী খালেদা জিয়া।

‘আমাদের আন্দোলন চলমান। আমরা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। জনগণ তাতে সাড়া দিয়েছে। ফলে আমরা সফল হয়েছি। দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ঘটিয়ে সত্যিকারের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আজকে আমরা এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো। লড়াই হচ্ছে সহজাত প্রবৃত্তি। দেশের মানুষ আজ অসহায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ছাত্র-যুবক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে এবং এই সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুকসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এলেন ফখরুল
দখলদারত্বে নতুন নজির গড়েছে আ. লীগ সরকার: বিএনপি
বিএনপির ৬ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা
আওয়ামী লীগকে খেসারত দিতে হবে: ফারুক

মন্তব্য

p
উপরে