× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The minimum fare in metro rail is demanded to be Rs 3 per 10 kilos
google_news print-icon

মেট্রোরেলে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০, কিলোতে ৩ টাকা করার দাবি

মেট্রোরেলে-সর্বনিম্ন-ভাড়া-১০-কিলোতে-৩-টাকা-করার-দাবি
ফাইল ছবি
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীতে বেসরকারি বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যেখানে ১০ টাকা, সেখানে রেলের মতো রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার দ্বিগুণ ভাড়া সম্পূর্ণ অন্যায্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। এতে যেমন একদিকে সাধারণ জনগণের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাবে, তেমন অনদিকে বাস-মিনিবাসসহ বেসরকারি পরিবহন মালিকেরা বেশি লাভবান হবেন।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু হতে যাওয়া দেশের প্রথম মেট্রোরেলের নির্ধারিত ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর দাবি জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।

প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৫ টাকা, পুরো পথের ভাড়া ১০০ এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণের পরদিন বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়। তারা সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া পাঁচ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন টাকা করার দাবি জানাচ্ছে।

আগামী ডিসেম্বরে এই রুটের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং আগামী বছরের ডিসেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত রুটে চালু হচ্ছে ট্রেন। রুটটি কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে পুরো পথে সেবা চালু হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে।

উত্তরা-আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চালুর তিন মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে মঙ্গলবার ভাড়া চূড়ান্ত করার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এই পথ পাড়ি দিতে ভাড়া লাগবে ৬০ টাকা। তবে ট্রেন থামবে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে। সেখান থেকে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে যেতে আরও খরচ করতে হবে যাত্রীদের।

এর প্রতিক্রিয়ায় নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীতে বেসরকারি বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যেখানে ১০ টাকা, সেখানে রেলের মতো রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার দ্বিগুণ ভাড়া সম্পূর্ণ অন্যায্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। এতে যেমন একদিকে সাধারণ জনগণের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাবে, তেমন অনদিকে বাস-মিনিবাসসহ বেসরকারি পরিবহন মালিকেরা বেশি লাভবান হবেন।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় বসবাসকারীদের সমস্যা আরও বেশি। এমন অবস্থায় মেট্রোরেলের অস্বাভাবিক ভাড়া নির্ধারণ করে আগাম ঘোষণা দেয়ায় রাজধানীবাসী চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেট্রোরেলে উঠলেই ২০ টাকা
১০ ট্রেন নিয়ে ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে মেট্রোরেল
মেট্রোরেলের একাদশ চালান পৌঁছেছে মোংলায়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Three more deaths including children at DMK Hospital

ঢামেক হাসপাতালে শিশুসহ আরও তিন মৃত্যু

ঢামেক হাসপাতালে শিশুসহ আরও তিন মৃত্যু ফাইল ছবি।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিনজন হলেন- ছয় বছর বয়সী রিয়া গোপ, ২২ বছরের সাজেদুর ও ২১ বছর বয়সী শাহজাহান হৃদয়। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সংঘাত-সহিংসতার সময়ে আহতদের মধ্যে শিশুসহ আরও তিনজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ নারায়ণগঞ্জের পাগলায় নয়ামাটি এলাকায় শুক্রবার ছাদে খেলা করার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। শিশুটির বাবার নাম দীপক গোপ।

মারা যাওয়া আরেকজনের নাম সাজিদুর রহমান। ২২ বছর বয়সী এই তরুণ পেশায় আইটি টেকনিশিয়ান। কয়েকদিন আগে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সাজিদুর রোববার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিন সোমবার তাকে ঢাকা মেডিক্যালে আনা হয়েছিল।

মারা যাওয়া অপরজন ২১ বছরের শাহজাহান হৃদয় শুক্রবার মহাখালীতে গুলিতে আহত হন। ওইদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যালে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তিনি মারা যান।

৮ মরদেহ আনজুমানে

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাত আটজনের মরদেহ বুধবার শাহবাগ থানা আনজুমানে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সংঘাত-সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যালে ৮৬ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Video footage of those involved in the violence being caught Haroon

সহিংসতায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে ধরা হচ্ছে: হারুন

সহিংসতায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে ধরা হচ্ছে: হারুন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘আমাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে কে কীভাবে আগুন লাগায় এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তাদের অনেকেরই নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ঢাকা মহানগরীতে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। এসব ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবনে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তারসহ ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার নিজ কার্যালয়ে একথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে কে কীভাবে আগুন লাগায় এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তাদের অনেকেরই নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, জজ মিয়া ও মো. রাকিব। মঙ্গলবার রাতে মহাখালী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

হারুন সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘আন্দোলনের নামে ঢাকা শহরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়েছে। মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য পুলিশকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ও আহত করা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি ডাটা সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায় তারা। হামলার রসদ সরবরাহ করার তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে আছে।’

তিনি বলেন, ‘মহাখালীর সেতু ভবনে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির কিছু নেতা টাকাপয়সা দিয়ে সাততলা বস্তি এবং কুড়িল বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করেছে। এরপর মহাখালীতে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে তারা সেতু ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়।

‘আমাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তারা কীভাবে আগুন লাগায় এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত অনেকের নামপরিচয় পেয়েছি।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সাত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- ঢাকা উত্তর যুবদলের সাবেক সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপি নেতা বরকতুল্লা বুলুর ছেলে সানিয়াত বুলু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপিসহ সভাপতি মোশারফ হোসেন খোকন ওরফে কাইল্লা খোকন, কৃষক দলের সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন, ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান দয়াল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল উদ্দিন ও ভাটারা থানার আমির রেজাউল করিম।

জামায়াত-বিএনপি সরকারি স্থাপনাকে কেন টার্গেট করছে জানতে চাইলে হারুন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছে। পুলিশকে হত্যা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ডাটা সেন্টার, বিটিভি, আমাদের গর্বের মেট্রো রেলে হামলা করেছে।

‘সব জায়গায় তারা গানপাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা ৭১ সালের মতো পুরনো দিনে ফিরে গেছে। তারা চেয়েছিল সরকার উৎখাত করতে। দেশে কোটা আন্দোলন চলছে আর তারা ঢাকার বর্ডার এলাকায় রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে। আমরা সবার নাম-পরিচয় পেয়েছি। তারা কীভাবে কার মাধ্যমে গানপাউডার ও অস্ত্র এনেছে বের করা হবে।’

ডিএমপি ডিবি প্রধান আরও বলেন, ‘তারা পুলিশকে মারার জন্য ও আগুন দেয়ার জন্য টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কে নির্দেশনা দিয়েছে, কারা অর্থায়ন করেছে সব বের করা হবে।’

আরও পড়ুন:
আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের তালিকা পাওয়া গেছে: হারুন
কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন
ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের আরও নেতা নজরদারিতে: হারুন
সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনে ফের কলকাতা যাবে ডিবি: হারুন
৯০০ মরদেহ দাফনের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ মিল্টন সমাদ্দার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The capital is suffering from severe traffic congestion

রাজধানীর স্থানে স্থানে তীব্র যানজট, ভোগান্তি

রাজধানীর স্থানে স্থানে তীব্র যানজট, ভোগান্তি ফার্মগেট খামারবাড়ী এলাকায় বুধবার বেলা ১১টার দিকে যানজটের স্থবিরতা। ছবি: সংগৃহীত
কারফিউ শিথিলের সময়ে আজ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন অফিস খোলা থাকছে। কিন্তু যানবাহন পেতে দেরি হওয়ায় এবং যানজটে পড়ে অনেকে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। আবার অফিস ছুটি শেষে কারফিউয়ে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বাড়ি ফেরা নিয়েও তারা উৎকণ্ঠায় পড়েছেন।

সাপ্তাহিক দুদিন ছুটিসহ হিসাব করলে টানা পাঁচ দিন পর বুধবার সীমিত পরিসরে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময় মাথায় রেখে নগরের অফিসমুখো মানুষ ঘর থেকে বেরিয়েই বিপাকে পড়েছেন। যানবাহন সংকটে তাদেরকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। সিটি সার্ভিসের বাস তুলনামূলক কম থাকায় তাদেরকে বাস ধরার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। অনেককে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আবার দূরত্ব বিবেচনায় রিকশাযোগে কর্মস্থল অভিমুখে ছুটতে হয়েছে।

তবে রাজধানীর রাজপথ যানজটমুক্ত থাকেনি সকাল থেকেই। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রচণ্ড যানজট লেগে আছে। ফার্মগেট, মিরপুর, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, কল্যাণপুর, বনানী, তেজগাঁও, মহাখালীসহ বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের স্থবিরতা বিরাজ করছে।

গণপরিবহন না পাওয়ায় এবং যানজটের কারণে অফিসগামী যাত্রীরা বিপদে পড়েছেন। কারফিউ শিথিলের সময়ে আজ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন অফিস খোলা থাকছে। কিন্তু যানবাহন পেতে দেরি হওয়ায় এবং যানজটে পড়ে অনেকে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। আবার অফিস ছুটি শেষে কারফিউয়ে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বাসাবাড়িতে ফিরতে পারবেন কিনা সেই অনিশ্চয়তা-আর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা।

পাঁচ দিন পর অবশেষে আজ বুধবার (২৪ জুলাই) সীমিত পরিসরে খুলেছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বাস, সিএনজি ধরার চেষ্টা করতে দেখা গেছে মানুষকে।

এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর ফার্মগেট, মিরপুর, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, কল্যাণপুর, বনানী, তেজগাঁও, মহাখালীসহ বিভিন্ন রাস্তায় দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড যানজট।

মতিঝিলে অফিসে যাওয়ার জন্য সকাল ১০টায় বনানী-কাকলীর বাসা থেকে বের হন সৈয়দ রুবেল আহমেদ। তিনি বলেন, বাসা থেকে মূল সড়কে আসার পরই দেখি যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ। অথচ তার মধ্যে বাসের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। আশপাশের গলিগুলোও ছোট গাড়ির চাপে স্থবির হয়ে আছে।’

মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কিছু গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। এজন্য মহাখালী-নাবিস্কো সড়কও যানজটে স্থবির হয়ে আছে। এই অংশে গাড়ি চলাচল করছে খুবই ধীরগতিতে।

গুলশান ১ নম্বর লিংক রোড এলাকায় ওয়াটার ট্যাক্সি টার্মিনাল থেকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন রয়েছে।

তবে সকাল ৮টার দিকে সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানজট কম ছিল বলে জানান মোহাম্মদপুর থেকে বাংলামোটরে আসা এক ব্যক্তি।

সকালে সাভার থেকে তেজগাঁওয়ের কর্মস্থলে আসা সংবাদকর্মী আজহারুল ইসলাম জানালেন, গাবতলী ও মিরপুর-১ থেকে যেসব বাস আসছে, সেগুলো শ্যামলী শিশুমেলা ক্রসিংয়ে আসার পর আগারগাঁওয়ের দিকে ডাইভার্ট করা হচ্ছে। অন্যদিকে মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় মিরপুরের যাত্রীরাও একই রুট ব্যবহার করছেন। ফলে শিশুমেলা থেকে খামারবাড়ি পর্যন্ত সড়ক যানজটে প্রায় অচল।

অন্যদিকে সকাল ১০টার পর গুলশান ২ থেকে পান্থপথের উদ্দেশে যাত্রা করা আসিফ বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক মানুষ বের হওয়ায় অফিসে যাওয়ার জন্য বাস, সিএনজি বা বাইক খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। কোনোক্রমে যানবাহনে উঠতে পারলেও জটে পড়ে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mirpur battlefield police box fire

মিরপুর রণক্ষেত্র, পুলিশ বক্সে আগুন

মিরপুর রণক্ষেত্র, পুলিশ বক্সে আগুন মিরপুর ১০ নম্বরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
দুপুরের পর থেকে মিরপুর ১০, ১১, ১৩, ১৪ সহ আশপাশের পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় চেষ্টা করেও সফল হয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজধানীর মিরপুর যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক সংঘর্ষ আর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়েছে।

দুপুরের পর থেকে মিরপুর ১০, ১১, ১৩, ১৪ সহ আশপাশের পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় চেষ্টা করেও সফল হয়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মিরপুর-১০ নম্বর গোল চক্করের পুলিশ বক্সে এ সময় আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা। পুরো এলাকাতে বিরাজ করছে আতংক। কয়েক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রায় সব ধরনের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না তারা।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মেট্রো ট্রেন চলাচল। এতদিন আন্দোলনের মধ্যে মেট্রো ট্রেন চলাচল করলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনে হামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে দেখা যায় এক ভূতুড়ে পরিবেশ।। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তাদের কন্ঠে শোনা যায় নানামুখী স্লোগান।

মিরপুর ১০ নম্বরে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ন্যায্য অধিকারের জন্য এভাবে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে তা কখনও কল্পনাও করিনি। কেন আমার ভাইদের হত্যা করা হলো? কেন আমার বোনদের পেটানো হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর কে দেবে আমাদের?’

রিফাত নামক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এর আগে কোনোদিন এত ভয়াবহ আন্দোলন হয়নি। এই আন্দোলন এতদূর আসতো না যদি তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের ওপর হামলা না করত। এখন কই তারা?’

আরও পড়ুন:
বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা
ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The attack on BTVs head office the fire the fear of stopping broadcasting

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপুরায় বিটিভি প্রধান কার্যালয় প্রবেশ করে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিভি কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। পরে তারা ভেতরে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার চার ঘণ্টাতেও ফায়ার সার্ভিস বিটিভি ভবনে আসেনি। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

‘সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে শতাধিক লোক প্রধান ফটক ভেঙে বিটিভি কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় প্রধান ফটকের বাইরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বিটিভি কার্যালয়ে অবস্থানরত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিক্ষুব্ধদের তৎপরতার মুখে বিটিভি কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মালিবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা কিছুক্ষণ পরপর বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন।

পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিটিভি ভবনের সামনে এসে অভিযান শুরু করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিটিভি কার্যালয়ের ওপর দিয়ে টহল দেয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে র‌্যাবের একটি হেলিকপ্টারও টহল দেয় সেখানে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিটিভিতে ভয়াবহ আগুন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে।’

আন্দোলনকারীরা এর আগে দুপুরে রামপুরা ব্রিজের পাশে ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে একটি পুলিশ ফাঁড়ির ফটকে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Metro train closed from Mirpur 12 to Agargaon due to fire in police box

মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন

মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন বন্ধ, পুলিশ বক্সে আগুন মিরপুর-১০ নম্বরে জ্বলছে আগুন। এর উপরেই রয়েছে মেট্রো রেললাইন। ছবি: সংগৃহীত
মেট্রোরেলের পরিচালক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে গোলচত্বরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টায় মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ইউএনবি জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

মেট্রোরেলের পরিচালক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুরে গোলচত্বরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ২টায় মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এছাড়া পুরাতন মিরপুর-১০ নম্বরে ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্স ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The image that was seen in the shutdown is the Bankpara of Motijheel

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে বৃহস্পতিবার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশ দিয়ে ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আহমেদ সুলতান/নিউজবাংলা
মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

কোটা সংস্কার আন্দেলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকার অন্যান্য অংশের মতো বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মতিঝিলেও দেখা গেছে থমথমে পরিস্থিতি।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও অনেকটা গ্রাহকশূন্য ছিল ব্যাংকগুলো।

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকপাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান ব্যাংকাররা।

তারা জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ব্যাংক লেনদেন নেই বললেই চলে। লেনদেনে ভাটা পড়েছে অবশ্য ঢাকার প্রায় সব ব্যাংকের শাখাতেই। আন্দোলন আর বুলেটের শব্দে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারাও।

রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, ফকিরাপুল ও গুলিস্তান এলাকার কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া যায়। খুব প্রয়োজনে দুই-একজন গ্রাহক ব্যাংকে আসেন। তারাও শঙ্কার মধ্যে লেনদেন করে দ্রুত ব্যাংক ত্যাগ করেছেন।

মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে।

‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

সোনালী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে ঝুঁকি নিয়ে অফিসে এসেছি। পরিস্থিতি এত খারাপ হবে জানলে আজকের জন্য ছুটি নিতাম।’

সকাল থেকে মতিঝিলে গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। পুরো এলাকায় চলাচলের প্রধান বাহন ছিল রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা। মাঝে মাঝে চলাচল করছিল প্রাইভেট কার।

যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আতঙ্ক।

নিজাম নামের একজন প্রাইভেটকারচালক জানান, তার বস একটি প্রাইভেট ব্যাংকে টাকা তুলতে এসেছেন।

গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আরামবাগ থেকে এসেছি। তাই এখনও কোনো ঝামেলায় পড়িনি, তবে মালিক বলেছে, কোন গ্যাঞ্জাম দেখলে সাথে সাথে গাড়ি কোথাও পার্কিং করে নিজেকে সেভ রাখতে।’

এদিকে ভয় আর শঙ্কা নিয়ে জীবনের তাগিদে কাজে নেমেছেন রিকশাচালকরা, যাদের একজন জানান, তাদের পেটের দায়ে আয় না করলে চলবে না বলেই রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গণপরিবহনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না সাধারণ মানুষ। যারা উত্তরা, মিরপুর এলাকার দিকে যাবে, তারা শুধু মেট্রোরেলে করে অনায়াসে যেতে পারছিলেন।

অন্য সব গন্তব্যের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফকিরাপুলের বাসস্ট্যান্ডেও কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি।

ফকিরাপুলের জনতা ব্যাংকের লেনদেনের চিত্রেও ফুটে উঠেছে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব। নিয়মিত যেখানে ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন সেখানে কাউন্টারে মাত্র দুই একজন গ্রাহক চোখে পড়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন লেনদেন স্বাভাবিক।

দিলকুশা এলাকার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শাখা ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিস। সেখানেও ফুটে উঠেছে কমপ্লিট শাটডাউনের ছাপ।

গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করার কারণে পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিসে লেনদেন করতে আসতে কাউকে দেখা যায়নি।

ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ একেবারেই কম। স্বাভাবিক দিনে যেখানে লম্বা লাইন হয়ে থাকে, সেখানে প্রতিটি কাউন্টারে একজন-দুইজনের বেশি উপস্থিতি নেই।

‘কারণ বাইরে লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন সাধারণ জনগণের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা বেশি। সারাক্ষণ বাজছে পুলিশের সাইরেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘থেমে থেমেই গোলাবারুদের শব্দ। এসব কারণে শাখায় লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক
কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার

মন্তব্য

p
উপরে