× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
3 workers died after falling into septic tank
hear-news
player
print-icon

সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু

সেপটিক-ট্যাংকে-নেমে-৩-শ্রমিকের-মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, বুধবার সকালে মাসুদ ও সাইদুল সাটারিংয়ের মালামাল খুলতে ট্যাংকিতে নামেন। অনেকক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শ্রমিক আলতাফও নিচে নামেন। উঠে আসেননি তিনিও।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈড় গ্রামের তালতলা এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছরের মাসুদ, ৩৮ বছরের সাইদুল ও ৪৫ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, নওখৈড় গ্রামের তালতলা এলাকার আমেরিকাপ্রবাসী মিলনের বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েক দিন আগে ওই বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের সাটারিংয়ের কাজ করা হয়। বুধবার সকালে মাসুদ ও সাইদুল সাটারিংয়ের মালামাল খুলতে ট্যাংকিতে নামেন। অনেকক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শ্রমিক আলতাফও নিচে নামেন। উঠে আসেননি তিনিও।

পরে লোকজন ট্যাংকিতে নেমে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মাসুদ ও সাইদুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আলতাফকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

ওসি বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইউডি (অপমৃত্যু) মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারে নেমে স্কুলছাত্র নিহত
সেপটিক ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
সেপটিক ট্যাংকে নেমে কিশোরসহ ২ শ্রমিকের মৃত্যু
রাজধানীর প্রতি বাড়িতে থাকতে হবে সেপটিক ট্যাংক
সেপটিক ট্যাংকে নারীর মরদেহ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Crimes Against Humanity Arrest of Death Sentenced Khalilu

মানবতাবিরোধী অপরাধ: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর গ্রেপ্তার

মানবতাবিরোধী অপরাধ: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই খলিলুর রহমান পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলে আত্মগোপনে চলে যান এবং রাজধানীর দক্ষিণখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করতেন ও একা থাকতেন। এ সময় যোগাযোগের জন্য তিনি কোন ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না। মাঝে মাঝে তার পরিবারের সদস্যরা গোপনে তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৪ সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১।

এরপরই পলাতক খলিলুর রহমানকে ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এলিট ফোর্সটি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘খলিলুর রহমানের বয়স ৬৮। তার বাবার নাম নবী হোসাইন। তারা নেত্রকোণা জেলার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা।’

২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর ৯ নম্বর মামলায় খলিলুর রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

‘খলিলুর রহমান, তার ভাই মো. আজিজুর রহমান, একই এলাকার আশক আলী, জানিরগাঁও ইউনিয়নের শাহনেওয়াজ এবং রমজান আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংস করা, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টাসহ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এই পাঁচ আসামির মধ্যে খলিলুর রহমান ছাড়া সবাই কারাগারে,’ যোগ করেন র‍্যাব মূখপাত্র।

তিনি জানান, বিচারকালীন সময় চারজন আসামি বিভিন্ন সময় মারা যান। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে খলিলুরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ৪টিতে মৃত্যুদন্ড ও একটিতে ১০ বছরের সাজা ঘোষণা করে।

খলিলুরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলে আত্মগোপনে চলে যান এবং রাজধানীর দক্ষিণখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করতেন ও একা থাকতেন। এ সময় যোগাযোগের জন্য তিনি কোন ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না। মাঝে মাঝে তার পরিবারের সদস্যরা গোপনে তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।’

আরও পড়ুন:
পলাতক যুদ্ধাপরাধী খলিলের মৃত্যুদণ্ড
‘পুলিশের গুলিতে’ অঙ্গহানি: কবে যাবে তদন্তের আদেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধ: পলাতক নেত্রকোণার খলিলের রায় মঙ্গলবার
‘শটগান ঠেকিয়ে প্রথমে গুলি করেন ওসি, পরে এসআই’
খারকিভ পুনরুদ্ধার, কিয়েভের বড় সাফল্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
29 pieces of gold bars were detained at the border in one day

সীমান্তে এক দিনে ২৯ পিস সোনার বারসহ আটক ৩

সীমান্তে এক দিনে ২৯ পিস সোনার বারসহ আটক ৩
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘সীমান্ত পথে বা যে কোনো উপায়ে ভারতে যেন কোনো স্বর্ণ যেতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকাগুলো কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

ভারতে পাচারের সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে এক কেজি বেশি ওজনের একটি সোনার বারসহ ২৯ পিস বার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত, রুদ্রপুর সীমান্ত ও আমড়াখালি বিজিবি পোস্ট এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে পর্যন্ত আলাদা অভিযানে এসব স্বর্ণ জব্দ করেন বিজিবির সদস্যরা। এ সময় একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

খুলনা-২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে জানান, জব্দ করা স্বর্ণের পরিমাণ ৪ কেজি ৯৩৩ গ্রাম। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টার পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত দিয়ে একটি প্রাইভেটকারে করে ভারতে স্বর্ণ পাচার হবে। পরে পুটখালী গ্রামের মসজিদ বাড়ি বিজিবি পোস্টে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকার থামানো হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। এটির ওজন ১ কেজি ৬০ গ্রাম।’

এ সময় দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়। তারা হলেন বেনাপোল পৌর এলাকার ছোট আঁচড়া গ্রামের ২৮ বছরের আশা ও নামাজ গ্রামের ২৭ বছরের সোহানুর রহমান বিশাল।

তিনি আরও বলেন, ‘একই রাতে যশোর- ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বেনাপোল মহাসড়কের আমড়াখালি বিজিবি পোস্টে সন্দেহজনক হওয়ায় একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে চালক পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করেন। বিজিবির সদস্যরা তাকে ধাওয়া করলে সীমান্তের মালিপুতা এলাকায় বাইক ফেলে পালিয়ে যান আরোহী। এ সময় মোটরসাইকেল তল্লাশি করে ১৮ পিস স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। এগুলোর ওজন ২ কেজি ১০০ গ্রাম।’

একই দিন দুপুরে শার্শা রুদ্রপুর গ্রামের আজগরের আমবাগান থেকে ১০ পিস স্বর্ণের বারসহ সাকিব হোসেন নামে ১৮ বছরের এক যুবককে আটক করে বিজিবি। তার বাড়ি গোগা গ্রামে।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘সীমান্ত পথে বা যে কোনো উপায়ে ভারতে যেন কোনো স্বর্ণ যেতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকাগুলো কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শরীরে লুকিয়ে পাচার হচ্ছিল ২ কেজি স্বর্ণ
বিমানের আসনের নিচে মিলল ৯০ স্বর্ণবার
বিমানের ভেতর ৯০টি স্বর্ণের বার
৩০ স্বর্ণের বারসহ যাত্রী এবং বিমানকর্মী আটক
দুবাই ফেরত যাত্রীর কাছে মিলল ৩৮ সোনার বার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The carriage of derailed train was not recovered even after 6 hours

বগি লাইনচ্যুত: উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি ৬ ঘণ্টায়ও

বগি লাইনচ্যুত: উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি ৬ ঘণ্টায়ও
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ খান জানান, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে পৌঁছেছে। তবে ৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী কন্টেইনারের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় ৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে বগি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম জানান, কন্টেইনার বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মধুমিতা রেললাইন এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) নুর মোহাম্মদ খান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোরে মধুমিতা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী কন্টেইনারের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। তবে অপর এক লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এতে ট্রেন চলাচলে কিছুটা দেরি হচ্ছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে পৌঁছেছে। তবে ৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন:
টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
দেড় ঘণ্টা পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
ভারতের তৈরি ৪২০ মালবাহী বগি কিনছে রেলওয়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no CCTV camera in the village hall

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা
পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু আর্থিক সংগতি না থাকায় গ্রামাঞ্চলে অনেক মণ্ডপেই তা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলেই কেবল সম্ভব হবে।’

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এবার ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে জোরদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির স্বার্থে মণ্ডপকেন্দ্রিক সিসিটিভি ক্যামেরাও বসছে। তবে গ্রামের মণ্ডপগুলোতে এই নিরাপত্তা সুবিধা থাকছে না।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে এমনটা জানিয়ে বলা হয়েছে, শহরকেন্দ্রিক মন্দিরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামাঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো সম্ভব হবে না।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের তো আর আশঙ্কা করলে চলবে না। আমরা আশাবাদী। সরকার আন্তরিক, প্রশাসনও আন্তরিক। আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে।

‘সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। আর সিসিটিভি ক্যামেরার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সব মণ্ডপে এই নজরদারির ব্যবস্থাটা রাখতে বলেছি। এটা সবাই যে পারবে তা না। কারণ গ্রামাঞ্চলে সবার আর্থিক সংগতি থাকে না।

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা

ঝালকাঠিতে একটি পূজামণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা

‘৩২ হাজারের বেশি মণ্ডপে এবার পূজা হচ্ছে। সব মণ্ডপে এটা থাকলে ভালো। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করাটা সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের জন্য কঠিন হবে।’

পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব হবে না উল্লেখ করে চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারলে তবেই সম্ভব হবে। এটা ডিসি, এসপি বা উপজেলা থেকে বাস্তবায়ন হলে ভালো হবে।’

এর আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, ‘সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপের সুরক্ষা দেয়াটা খুব কঠিন। তাই আমরা এ বছর প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করছি, যারা রাতেও মণ্ডপ পাহারা দেবে।’

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হলেও যে হামলা হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিবছর ধর্মীয় এই উৎসব শুরু হওয়ার আগে এক ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু এটি তো কাম্য নয়। বাস্তবতা হলো, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করেও তা করতে পারে।’

গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা

দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেন দিনাজপুরের কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের ওপর আশা রেখে পূজার কার্যক্রম এগুচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, এবার পূজা আয়োজন সুন্দর ও আনন্দময় হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বছর সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে শারদীয় উৎসব শুরু হয়। সার্বিক পরিস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। এর মধ্যে কুমিল্লায় একটি মন্দিরে হনুমান মূর্তির পায়ের কাছে পরিবত্র কোরআন শরীফ রাখার মতো একটি ঘটনা কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তা প্রাণঘাতী অবস্থায় রূপ নেয়। নিহত হন পাঁচজন। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাও ঘটে। হুমকিতে পড়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

জেলা শহরগুলোর মণ্ডপে নিরাপত্তা প্রস্তুতি

নিউজবাংলা সারা দেশে গ্রামের বেশকিছু মণ্ডপের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অনেকে এই বিষয়ে জানেও না। এক্ষেত্রে আয়োজকরা আর্থিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন।

শহরকেন্দ্রিক মন্দিরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ।

সিলেটে এবার ৬২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগরে ১৫৫টি ও মহানগরের বাইরে জেলায় ৪৫৬টি। গত বছর সিলেট জেলায় মোট ৬০৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, ‘সব মণ্ডপে এবার সিসি ক্যামেরা লাগাতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকের এই সামর্থ্য নেই। তবে যাদের সামর্থ্য আছে তারা ক্যামেরা লাগাবে। এছাড়া মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকবে।’

মণ্ডপের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আনসার থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। গতবারের অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বুঝেছি, মণ্ডপের নিরাপত্তায় আমরা নিজেরাও উদাসীন ছিলাম। তাই মণ্ডপের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার আয়োজকদের সংঘবদ্ধ থাকতে বলা হয়েছে।

‘গতবারের ঘটনার কারণে কিছুটা উদ্বেগ আছে। তবে করোনা বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় এবার আরও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করছি।

মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় ২ হাজার ৬২টি ও মহানগরে ২৮২টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মণ্ডপে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক আর আনসার রাখার কথা বলেছি। সরকার সেসব বাস্তবায়ন করছে।’

রংপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধীমান ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রংপুর জেলায় এবার পূজামণ্ডপ ৭৭৫টি, আর মহানগরে ১৫৮টি। আমরা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক করেছি। তাদের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে, যেটা এর আগে কখনও হয়নি। আমি মনে করি আমরা নির্বিঘ্নে উৎসব করতে পারব।’

ব‌রিশাল জেলা পূজা উদযাপন প‌রিষ‌দের সভাপ‌তি মানিক মুখার্জী কুণ্ডু ব‌লেন, ‘ব‌রিশাল জেলায় ৬০০ ও মহানগ‌রে ৪৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনু‌ষ্ঠিত হবে। সব ম‌ণ্ডপেই প্রস্তু‌তি সম্পন্ন হ‌য়ে‌ছে। কোনো ধর‌নের অপ্রী‌তিকর প‌রি‌স্থি‌তি এড়া‌তে সব মন্ড‌পে সি‌সিটিভি ক‌্যা‌মেরা স্থাপ‌নের নি‌র্দেশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে।’

মহানগর পূজা উদযাপন প‌রিষ‌দের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পা ব‌লেন, ‘নগরীর বর্ডার এলাকাগু‌লো‌তে যে পূজা মণ্ডপগু‌লো র‌য়ে‌ছে সেগু‌লো‌তে আমা‌দের বি‌শেষ নজরদা‌রি র‌য়ে‌ছে‌। ম‌ন্দির ক‌মি‌টিগু‌লোর নেতা‌দের সতর্ক থাক‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।’

পি‌রোজপু‌রের মঠবা‌ড়িয়ার রাজ ম‌ন্দি‌রে দুর্গাপূজার আ‌য়োজক ডা. সুদীপ কুমার হালদার ব‌লেন, ‘পুলিশ ও প্রশাস‌নের সদস‌্যরা প্রতি‌নিয়ত মণ্ডপ প্রাঙ্গ‌ণে আস‌ছেন। কো‌নো ধর‌নের অপ্রী‌তিকর পরিস্থিতি এড়া‌তে আমরাও সতর্ক অবস্থা‌নে র‌য়ে‌ছি। ইতোমধ্যে ৫০‌টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হ‌য়ে‌ছে।’

বছর ঘুরে আবার এসেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। এর আগে রোববার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয়েছে। আর ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর প্রতিনিধি]

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’
পূজা উদযাপন পরিষদের ১৪ দফা
পূজার গান ‘দেখা দাও মা’
দেবীপক্ষের সূচনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
School girl arrested in rape case 2

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আরিফুর বলেন, ‘ঘটনা জানার পরে ওই মেয়ের মা দুইজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

খাগড়াছড়িতে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খাগড়াছড়ি সদর থানায় ওই ছাত্রীর মা মঙ্গলবার রাতে মামলার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা এলাকার ধনিময় ত্রিপুরা ও একই উপজেলার তাইন্দং হেডম্যান পাড়ার সমুয়েল ত্রিপুরা।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মেয়েকে রেখে গ্রামের বাড়িতে যান পরিবারের অন্য সদস্যরা। রাতে বাসার বাইরের টয়লেটে আসার সময় ওই ছাত্রীকে নিজেদের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা।

ওসি আরিফুর বলেন, ‘ঘটনা জানার পরে ওই মেয়ের মা দুইজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
খনি দুর্নীতি: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ফের পেছাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death in police custody Constable withdrawn

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: কনস্টেবল প্রত্যাহার

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: কনস্টেবল প্রত্যাহার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ি, মির্জাপুর। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির পাহারার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। হাজতখানায় রশির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া নামে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটিও।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির (লেবু মিয়া) পাহারার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

‘এছাড়া ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মীর মনির হোসেনকে প্রধান এবং সখিপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাকিবুর রাজা ও পরিদর্শক (ক্রাইম) সুব্রত কুমার সাহাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

সোমবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া মারা যান। তিনি বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে, লেবু আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

সখিনা আক্তার নামে এক নারীকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেবু মিয়া ও সেই নারীর সাবেক স্বামী মফিজুর রহমানকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সখিনা আক্তারের। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে থাকতেন। পুত্রবধূ বাড়িতে যাওয়ায় গত রোববার রাতে সখিনা বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতের কোনো এক সময় তার ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন বেলা ১২ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাঁশতৈল ফাড়ি পুলিশ। এই ঘটনায় মফিজুর ও লেবুকে আটক করে রাতে ফাঁড়ির হাজাতখানায় রাখা হয়।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে লেবু মিয়ার গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।’

লেবু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ভালো মানুষকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। কীভাবে রশি তার কাছে গেল? এটা আত্মহত্যা না, হত্যা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘হাজতখানায় রশির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ হেফাজতে লেবুর মৃত্যুর ঘটনা জানাজানির পর পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ এনে মঙ্গলবার সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।

বিক্ষোভকারী মাসুদ মিয়া বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা না, হত্যা করা হয়েছে। তিনি মানসিক রোগী না যে আত্মহত্যা করবেন। তিনি ভালো মানুষ। তাকে বেধরক মারপিটের কারণে মারা গেছে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Childbirth in autorickshaw if returned to hospital

হাসপাতাল ফিরিয়ে দিলে অটোরিকশায় সন্তান প্রসব

হাসপাতাল ফিরিয়ে দিলে অটোরিকশায় সন্তান প্রসব টঙ্গীতে সিএনজিতেই সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার সকালে ওই নারীকে নেয়া হয় টঙ্গীর মাইশা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ডা. জাকিয়া সুলতানার তত্ত্বাবধানে আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হলে গর্ভের বাচ্চার পালস মেলেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে আইসিইউ সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয় ৷ পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেয়ার জন্য সিএনজিতে ওঠানো হলে সেখানেই গর্ভের সন্তান প্রসব করেন ওই নারী।

গাজীপুরের টঙ্গীতে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী।

টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। নবজাতক ও তার মা ফাতেমা দুজনই সুস্থ আছেন।

২০ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার টঙ্গীর টিএনটি বাজার এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন। তার স্বামীর নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

স্বজনরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে প্রসব ব্যাথা শুরু হয় সন্তান সম্ভবা ফাতেমা আক্তারের। প্রথমে বাড়িতে ধাত্রী এনে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার সকালে ওই নারীকে নেয়া হয় টঙ্গীর মাইশা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ডা. জাকিয়া সুলতানার তত্ত্বাবধানে আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হলে গর্ভের বাচ্চার পালস মেলেনি।

তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে আইসিইউ সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়৷ পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেয়ার জন্য সিএনজিতে ওঠানো হলে সেখানেই গর্ভের সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। নবজাতক ও তার মা ফাতেমা দুজনেই সুস্থ আছেন।

তবে স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই সিএনজিতে সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গর্ভের বাচ্চা মারা গেছে বলে জানিয়েছে। অথচ সিএনজিতে নরমালি সন্তান প্রসব হয়।

যে সিএনজিটিতে সন্তান প্রসব হয় সেটির মালিক সোহরাব বলেন, ‘সন্তান সম্ভবা ওই নারীকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য আমার সিএনজিতে ওঠানো হয়। এ সময় সিএনজির ভেতরেই গর্ভের সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। পরে তাকে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোহরাব বলেন, ‘যতদিন আমার এই সিএনজি থাকবে ততদিন ওই নবজাতক বাচ্চার জন্য সিএনজি ভাড়া ফ্রি করে দিয়েছি আমি।’

এদিকে, সিএনজিতে সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাইশা জেনারেল হাসপাতালে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওমর ফারুক বলেন, ‘বাসায় নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে গিয়ে প্রসূতি ও গর্ভের সন্তানের অবস্থা আগেই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিকভাবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হলে গর্ভের বাচ্চার পালস পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় প্রসূতি ও গর্ভের সন্তানের আইসিইউ সাপোর্ট দরকার হয়।

‘তাই রোগীকে আইসিইউ সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে অন্য হাসপাতালে নেয়ার পথে সিএনজিতে সন্তান প্রসব করেন ওই নারী।’

এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের কোনো অবহেলা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সিএনজিতে সন্তান প্রসবের ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করতে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে এ ঘটনায় রোগীর পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। দুদিন আগেও হাসপাতালটিতে চিকিৎসার অবহেলায় দেড় বছরের শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছিল। তাই আপাতত হাসপাতালটিতে কোনো রোগী ভর্তি না করার জন্য কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
একসঙ্গে জন্ম নিল তিন ভাই-বোন
ট্রেনে সন্তান প্রসব: মিতালী ট্রেনের নামে নবজাতকের নাম

মন্তব্য

p
উপরে