× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Two halls were searched at midnight in connection with the clash of Chabi Chhatra League
hear-news
player
print-icon

চবির দুটি হলে মধ্যরাতে তল্লাশি

চবির-দুটি-হলে-মধ্যরাতে-তল্লাশি
ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালের দুটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা
প্রক্টর বলেন, ‘রাতে আমরা দুটি হলে তল্লাশি চালিয়েছি। হলে বহিরাগত বা অবৈধ কেউ থাকছে কি না বা অস্ত্র রেখেছে কি না, তা সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।’

ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে মধ্যরাতে তল্লাশি চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল ও শাহ আমানত হলে এ তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশিতে কিছু উদ্ধার বা কাউকে আটক করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রাতে আমরা দুটি হলে তল্লাশি চালিয়েছি। হলে বহিরাগত বা অবৈধ কেউ থাকছে কি না বা অস্ত্র রেখেছে কি না, তা সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় দুই হলে একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হয়।’

সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইন গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করেন সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। এর জেরে বিকেলে সিএফসির এক নেতাকে মারধর করলে দুই পক্ষ ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ১০ জনকে নেয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যালে।

এ ঘটনায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্যাম্পাসে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগ নেত্রীদের ‘ক্রেডিট নেয়ার’ স্মারকলিপি
অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের মহড়া
ঢাবির হলে ‘ম্যানার’ ভাঙায় ৩ শিক্ষার্থীকে পিটুনি
চবি ছাত্রলীগ নেতাকে ‘মারধর’
ছাত্রলীগের শোডাউনে মহাসড়কে দুর্ভোগ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Shabir expelled 7 students for sexual harassment

যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবির ৭ ছাত্রকে বহিষ্কার

যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবির ৭ ছাত্রকে বহিষ্কার
উপাচার্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আমরা বদ্ধপরিকর।’

যৌন হয়রানির অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৬তম সিন্ডিকেট সভায় বুধবার বিকেলে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফরিদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হয়রানির তিনটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর মধ্যে বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের আরিফুল ইসলাম ও মো. জায়েদ ইকবাল তানিমকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

আর একই ডিপার্টমেন্টের ইমাম হোসেন ইমরান, মো. রিফাত হোসেন, মো. বিশাল আলী, লোকপ্রশাসন বিভাগের সুমন দাস ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সৈয়দ মুস্তাকিম সাকিবকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তাদের আবাসিক হলের সিট বাতিল থাকবে। তাদের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। কমিটির সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

উপাচার্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আমরা বদ্ধপরিকর।’

আরও পড়ুন:
স্কুলে পানি খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
কলেজছাত্রীকে ‘যৌন হয়রানি’: অভিযোগ তদন্তে কমিটি
শাবির উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের দাবিগুলোর কী হলো?
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
কেপিআই-২৯ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU campus made terror sanctuary Sada Dal

ঢাবি ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য করা হয়েছে: সাদা দল

ঢাবি ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য করা হয়েছে: সাদা দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পেটাচ্ছেন এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সভাপতিসহ (লাল টি-শার্ট পরা) অন্যরা । ছবি: নিউজবাংলা
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের এই হামলাকে সন্ত্রাসী আক্রমণ আখ্যা দিয়ে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবি জানানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলাকে নির্মম, ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত আখ্যা দিয়ে হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

সাদা দল বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকার সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত এর অবসান হওয়া প্রয়োজন।

বুধবার দুপুরে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের এই হামলাকে সন্ত্রাসী আক্রমণ আখ্যা দিয়ে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছেন দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ যেহেতু মাননীয় উপাচার্যের কাছ থেকে সময় নিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আসছিলেন সেহেতু তাদের নিরাপদে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল।’

আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল বডি তা করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এ ব্যর্থতার কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের দুষ্কৃতিকারীদের হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তা চর্চা ও লালনের প্রধান কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো নির্বিঘ্নে তাদের কর্মসূচি পালন করবে এটিই প্রত্যাশিত।

‘কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাসকে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্যের লালনভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ক্যাম্পাসে সকল দল-মতের সহাবস্থান এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার উপযুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের নামে হত্যাচেষ্টার মামলা
চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের, তদন্তে কমিটি
ছাত্রদলের দুই গ্রুপ জয়বাংলা বলে হামলায় জড়িয়েছে: ছাত্রলীগ
ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে
ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Committee to investigate Chhatra League beating journalist in Chabi

চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের, তদন্তে কমিটি

চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের, তদন্তে কমিটি অভিযুক্ত আরশিল আজিম নিলয়, শোয়েব আতিক। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

‘ভুক্তভোগী’ রেদওয়ান আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইল ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

তার দাবি, বিজয় গ্রুপের এক কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় তাকে রুমে গিয়ে মারধর করেছেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় পরে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিন তিনি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন কিরা হলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সহকারী প্রক্টর অরূপ বড়ুয়া ও সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ ইয়াকুবকে।

রেজিস্ট্রারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রদানের জন্য বলা হয়।

অধ্যাপক মনিরুল হাসান নিউজবাংলকে বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরশিল আজিম নিলয়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শোয়েব আতিক। তারা দুজনই শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ বিজয়ের কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ

শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের এক কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় তাকে রুমে এসে মারধর করেছেন অভিযুক্তরা।

রেদওয়ান আহমদ বলেন, ‘সোমবার বিজয় গ্রুপের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক কর্মীর জন্মদিন ছিল। এ জন্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১০ থেকে ১৫ জন আমার রুমে এসে জিজ্ঞাসা করে আমি জন্মদিনের প্রোগ্রামে যাইনি কেন। আমি জানাই যে, আমি এই রুমে পলিটিক্যাল কর্মী হিসেবে থাকি না। বিজয় গ্রুপের নেতা আল-আমিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি এই রুমে উঠি, তবে পলিটিক্যাল কর্মী হিসেবে না। আমি মোবাইলে আল-আমিন ভাইয়ের সঙ্গে শোয়েব আতিকের কথা বলিয়ে দিই।

‘এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে আরশিল আজিম নিলয়, শোয়েব আতিক তারা আবার রুমে আসে এবং জন্মদিনে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। আরশিল আজিম নিলয় বলে, পলিটিক্স না করে কীভাবে হলে থাকি। একপর্যায়ে মারধরের হুমকি দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে নিলয় তার জুনিয়রকে আমাকে মারধর করার নির্দেশ দেয়। পরে শোয়েব আতিক আমাকে নাকে-মুখে কিল-ঘুষি মারা শুরু করে। একপর্যায়ে আল-আমিন ভাইকে ফোন দিলে এর মধ্যেও আবার কিল-ঘুষি দেয়া শুরু করে। পরে আমি চবি সাংবাদিক সমিতিকে জানালে তারা ও প্রক্টরিয়াল টিম এসে আমাকে উদ্ধার করে।’

অভিযোগকারীর ভাষ্য, ‘মারধরের সময় তারা বলে, পলিটিক্স না করলে এই রুমে থাকতে পারবি না। রুমে থাকলে আবার মারধর করা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা। আমি এই ঘটনায় প্রক্টর বরাবর রাতেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রদলের দুই গ্রুপ জয়বাংলা বলে হামলায় জড়িয়েছে: ছাত্রলীগ
ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে
ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব
চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের
ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের ‘আমরণ অনশন’ টিকল ১ ঘণ্টা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League attack on Chhatra Dal in DU

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পেটাচ্ছেন এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সভাপতিসহ (লাল টিশার্ট পরা) অন্যরা । ছবি: নিউজবাংলা
হামলায় স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় ছাত্রদলের তিনজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘঠেছে।

হামলায় স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপাচার্য তাদের বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা করার সময় দিয়েছিলেন।

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
ঢাবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় আহতরা। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা যায়, ৪টা ২০ মিনিটে ছাত্রদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে আসলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হল থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ‘ধর ধর’ বলে তাদের দিকে তেড়ে যান।

এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান। পরে রিয়াজ এবং মুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।

এতে ছাত্রদলের তিনজন নেতাকে গুরুতর আহত হয়ে তাদের শরীর থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়।

ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল দাবি করেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাদের ১৫-২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার পর স্যার এ এফ রহমান হল এবং বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়। সে সময় তারা ‘ছাত্রদলের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ছাত্রদলের আস্তানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘হৈ হৈ রই রই, ছাত্রদল গেলি কই’ স্লোগান দিতে থাকে।

হামলায় এফ রহমান হলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রলীগের কর্মী আলী হাসান রিফাত, মেহেদি হাসান, মহিবুল্লাহ লিয়ন, সামি, হৃদয়, তানভীর হাসান শান্ত, আসিফ, মোমিন, শওকত, মেহেদি হাসান শান্ত, আলভী অংশ নেয়।

হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন বলেন, ‘আজকে আমাদের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ছিল। স্মারকলিপি দিয়ে আমরা সেখান থেকে হলের দিকে আসছিলাম। এ সময় অন্যপাশে থাকা আমাদের এক কর্মীকে তারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ কারণে তাদের সাথে আমাদের কয়েকজন কর্মীর ঝামেলা হয়েছে।’

আপনাদেরই শুরুতে মারতে দেখা গেছে জানালে তিনি বলেন, ‘যখন আমাদের কর্মীর উপর হামলা হয়েছে, তখন বাকিরা তাদের উপর হামলা করেছে। এখানে একপাক্ষিক হামলা হয়নি। দুই পক্ষ থেকেই হামলা হয়েছে।’

এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের আমরা প্রতিহত করব। তারা আমাদের এক কর্মীকে আহত করার পর আমরা তাদের প্রতিহত করতে গেছি।’

আহত কর্মীর নাম জানতে চাইলে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মীর নাম কেমনে বলতে পারব? তার নাম জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
‘পচা মাংস’ দেয়ায় ঢাবি হলের দোকানে ভাঙচুর, মারধর
ছাত্রলীগ নেত্রীদের ‘ক্রেডিট নেয়ার’ স্মারকলিপি
ঢাবির হলে ‘ম্যানার’ ভাঙায় ৩ শিক্ষার্থীকে পিটুনি
অনুমতি না নিয়ে দূতাবাসে চাকরি: ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত
থিসিস জালিয়াতিতে ঢাবি শিক্ষকের পদাবনতি, বাতিল ডিগ্রিও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The news of Eden College closure is rumours

ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব

ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব ইডেন মহিলা কলেজ। ফাইল ছবি
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ নানা ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল এই ক্যাম্পাস। এ অবস্থায় সোমবার রাতে ক্যাম্পাস বন্ধের খবর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ আকস্মিক বন্ধ ঘোষণার খবরটি গুজব বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে তিনি এ তথ্য জানান। বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এটি গুজব।’

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ নানা ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল এই ক্যাম্পাস। এ অবস্থায় সোমবার রাতে ক্যাম্পাস বন্ধের খবর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ নিয়ে কয়েকটি নিউজপোর্টালও সংবাদ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সোমবার রাতে হল কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে আবাসিক ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

তবে ইডেন অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের সাত কলেজের পরীক্ষা চলছে, ইন্টার্নাল প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছে, ভাইবা চলছে, প্রথম বর্ষের মেয়েদের টেস্টের রেজাল্ট হচ্ছে আর মাস্টার্সেরও ক্লাস চলছে।

‘সুতরাং সবাই ব্যস্ত। এখন হল খালি করার কোনো নির্দেশনা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। এখানে কলেজ বন্ধ বা হল বন্ধের কোনো ব্যাপার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আর পূজার বন্ধ যেটি সেটি তো স্বাভাবিক বন্ধ। প্রতিবারের মতো সে সময়ও হোস্টেল খোলা থাকবে।’

ইডেন অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয় ইডেনে চলমান ঘটনা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত চলছে।’

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার অডিও ফাঁস এবং ছাত্রীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগের তদন্তের আপডেট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি এখন না বলি। সব তদন্তের রিপোর্ট একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যের কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। অন্যরা এর প্রতিবাদ জানালে আবারও সংঘর্ষ হয় দুই পক্ষের।

এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কমিটি থেকে ১৬ জনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

পরে সোমবার বহিষ্কার আদেশের প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমরণ অনশনে বসেন ছাত্রলীগের ওই ১৬ জন। তবে ১ ঘণ্টা পরই তারা স্থান ত্যাগ করেন।

ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি তখন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনশন করতে আসছিলাম। এখন চলে যাচ্ছি। অনশন করব না।’

বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা অনশন শুরু করলে আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী সংসদের সদস্য আবদুল আউয়াল শামীম তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’
আমৃত্যু খাবার মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhabi League beat journalist in Chabi

চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের

চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের আরশিল আজিম নিলয়, শোয়েব আতিক। ছবি: সংগৃহীত
‘ভুক্তভোগী’ রেদওয়ান আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইল ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

ছাত্রলীগ কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

‘ভুক্তভোগী’ রেদওয়ান আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইল ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের ২১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রেদওয়ান।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেছেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

অভিযুক্তরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরশিল আজিম নিলয়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শোয়েব আতিক। তারা দুজনই শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ বিজয়ের কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

অভিযোগকারী রেদওয়ান আহমদের দাবি, বিজয় গ্রুপের এক কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় তাকে রুমে এসে মারধর করেছেন অভিযুক্তরা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিজয় গ্রুপের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক কর্মীর জন্মদিন ছিল। এ জন্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১০ থেকে ১৫ জন আমার রুমে এসে জিজ্ঞাসা করে আমি জন্মদিনের প্রোগ্রামে যাইনি কেন। আমি জানাই যে, আমি এই রুমে পলিটিক্যাল কর্মী হিসেবে থাকি না। বিজয় গ্রুপের নেতা আল-আমিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি এই রুমে উঠি, তবে পলিটিক্যাল কর্মী হিসেবে না। আমি মোবাইলে আল-আমিন ভাইয়ের সঙ্গে শোয়েব আতিকের কথা বলিয়ে দিই।

‘এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে আরশিল আজিম নিলয়, শোয়েব আতিক তারা আবার রুমে আসে এবং জন্মদিনে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। আরশিল আজিম নিলয় বলে, পলিটিক্স না করে কীভাবে হলে থাকি। একপর্যায়ে মারধরের হুমকি দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে নিলয় তার জুনিয়রকে আমাকে মারধর করার নির্দেশ দেয়। পরে শোয়েব আতিক আমাকে নাকে-মুখে কিল-ঘুষি মারা শুরু করে। একপর্যায়ে আল-আমিন ভাইকে ফোন দিলে এর মধ্যেও আবার কিল-ঘুষি দেয়া শুরু করে। পরে আমি চবি সাংবাদিক সমিতিকে জানালে তারা ও প্রক্টরিয়াল টিম এসে আমাকে উদ্ধার করে।’

অভিযোগকারীর ভাষ্য, ‘মারধরের সময় তারা বলে, পলিটিক্স না করলে এই রুমে থাকতে পারবি না। রুমে থাকলে আবার মারধর করা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা। আমি এই ঘটনায় প্রক্টর বরাবর রাতেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরশিল আজিম নিলয়কে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। আরেক অভিযুক্ত শোয়েব আতিককে ফোন দিলে তার ফোন অন্যজন রিসিভ করেন।

বিজয় গ্রুপের নেতা আল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা আমরা কখনোই সমর্থন করি না। ঘটনার সময় রেদওয়ান আমাকে কল দিয়েছিল। আমি নিষেধ করার পরও তারা ওর গায়ে হাত তুলেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। কিছুদিন আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের অনুসারীরা ঝামেলা করেছিল। আমরা অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসন শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার যদি অভিযুক্তদের বহিষ্কার না করে, তাহলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সে সময় টহলে ছিলাম। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হলে যাই। ভুক্তভোগী আমাদের একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আজ আমরা একটি তদন্ত কমিটি করব।’

আরও পড়ুন:
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ
ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা
সেই তিলোত্তমা তদন্ত করবেন ইডেন ছাত্রলীগকাণ্ড
ধর্ষণ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তার
চেয়ারম্যানের মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Concerned about setting up universities without preparation UGC is making policies

প্রস্তুতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউজিসি করছে নীতিমালা

প্রস্তুতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউজিসি করছে নীতিমালা নীতিমালা তৈরি করতে ইউজিসির কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয় সোমবার। ছবি: সংগৃহীত
নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভায় ইউজিসি সদস্য মে. আলমগীর বলেন, ‘অবকাঠামো ও কারিকুলাম চূড়ান্ত না করে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নীতিমালা করা অত্যন্ত জরুরি।’

অবকাঠামো ও শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত না করেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার সুরাহা চাইছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি। তারা একটি নীতিমালা করে দিতে চাইছে, যেখানে নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে এর অবকাঠামোকে কী থাকতে হবে, শিক্ষাক্রমে কী কী অন্তর্ভুক্ত হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হবে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই একের পর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে সম্প্রতি ইউজিসি সদস্য মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদ্যস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা তৈরি করতে এই কমিটির প্রথম সভা হয় সোমবার।

এক বিজ্ঞপ্তিতে নীতিমালা করার কারণ ব্যাখ্যা করে ইউজিসি বলছে, ‘অধিকাংশ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

‘এ ছাড়া ভাড়াকৃত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না।’

এ জন্য নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভায় ইউজিসি সদস্য মো. আলমগীর বলেন, ‘অবকাঠামো ও কারিকুলাম চূড়ান্ত না করে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নীতিমালা করা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে শুরু করবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করা হলে দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হবে।’

সভায় কমিটির সদস্যরা জানান, নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সংকট রয়েছে এবং জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন:
পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেবার তালিকা দৃশ্যমান করার নির্দেশ
এপিএতে সই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার

মন্তব্য

p
উপরে