× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The irregularities seen by Zafarullah in the bus are still going on
hear-news
player
google_news print-icon

বাসে জাফরউল্লাহর দেখে আসা অনিয়ম চলছেই

বাসে-জাফরউল্লাহর-দেখে-আসা-অনিয়ম-চলছেই
রাজধানীর বাসে ওয়েবিলে যাত্রীদের হিসাব নিচ্ছেন পরিবহনের এক কর্মী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
৬ আগস্ট বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর যাত্রীরা যখন ঠকছিলেন তখন বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ চড়েন বাসে। তিনি মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে বাসে উঠে নামেন বনানীর কাকলী মোড়ে। এই পথের দূরত্ব ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার। নির্ধারিত ভাড়া হয় ১৭ টাকা। কিন্তু তাকে দিতে হয় ৩০ টাকা। এরপর সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। পরে বাস মালিকরা যাত্রী ঠকানোর ওয়েবিল পদ্ধতির বদলে কিলোমিটার হিসাব করে ভাড়া আদায়ের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু কোনো কিছুই ফলেনি। যাত্রীরা ঠকছে, বিআরটিএ ঘুমাচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা কাজী জাফরউল্লাহ বাসভাড়ায় যে অনিয়ম দেখে সড়ক মন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছিলেন, এখনও সেই অনিয়মই চলছে।

মাঝে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কঠোর হুঁশিয়ারি শুনেছেন যাত্রীরা। বাস মালিকদের পক্ষ থেকে যাত্রী ঠকানোর ওয়েবিল পদ্ধতি বন্ধ করে সরকারি নিয়মে কিলোমিটার হিসাব করে ভাড়া আদায়ের অঙ্গীকারের নামে প্রতারিত হয়েছে তারা।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, কিলোমিটার হিসাব করে নয়, একটি নির্ধারিত গন্তব্য পর পর ওয়েবিলের চেক হিসেবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দেড় গুণ, দ্বিগুণ আদায় চলছে। ডিজেলের দর লিটারে পাঁচ টাকা কমার কারণে যাত্রীদের এক পয়সা লাভ না হলেও বাস মালিকদের পকেটে বাড়তি কিছু পয়সা ঢুকছে।

বাসভাড়ায় অনিয়মের বিষয়টি যেমন নতুন নয়, তেমনি অনিয়ম ঠেকাতে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানার অকার্যকর পদ্ধতির ব্যবহারও নতুন নয়। একইভাবে নতুন নয় সড়ক মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি।

বেসরকারি বাস তো বটেই, সরকারি সংস্থা রাজউক পরিচালিত চক্রাকার বাসে সরকার নির্ধারিত হারের তিন গুণেরও বেশি ভাড়া আদায়ে বিআরটিএর চোখ বুজে থাকায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বলছেন, তাদের করের টাকায় একটি অপদার্থ সংস্থা পালা হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট থেকে ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পর ঢাকায় বাসভাড়া ঠিক করা হয় কিলোমিটারপ্রতি আড়াই টাকা। এই টাকায় সর্বনিম্ন চার কিলোমিটার যাওয়ার কথা। কিন্তু এই চার কিলোমিটারের মধ্যে দুটি ওয়েবিলের চেক বসিয়ে আগে থেকেই সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা করে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছিল। ভাড়া বাড়ার পর তা ১৫ করে ৩০ টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে অনেক ক্ষেত্রে অবশ্য স্বল্প দূরত্বে এটা পারেনি শ্রমিকরা।

কিন্তু কোন পথের দূরত্ব কতটুকু, সেটি উল্লেখ করে যে চার্ট থাকার কথা, তা দেখা যাচ্ছে না বাসে, কোনো বাস কোনো চেকে সর্বনিম্ন ভাড়া ২৫ টাকাও রাখছে, যা যাত্রী দুই কিলোমিটার যাক আর ছয় কিলোমিটার যাক।

২৯ আগস্ট তেলের দর লিটারে ৫ টাকা কমানোর দুই দিন পর রাজধানীতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ঠিক করে দেয়া হয় ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এই হিসাবে কমার কারণে রাজধানীতে বাসভাড়ায় কোনো প্রভাব এ কারণে পড়েনি যে, এক টাকা ভাড়া কমেছে ২০ কিলোমিটারে। কিন্তু রাজধানীতে ২০ কিলোমিটার গন্তব্যে বাসের রুট নেই বললেই চলে। থাকলেও এত দূরের যাত্রী থাকে না বললেই চলে। তারা চলে ছোট গন্তব্যে।

দুইবারই বাসভাড়া নির্ধারণের পর বিআরটিএর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি। বলা হয়েছে, বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। কিন্তু এসব হুঁশিয়ারির পরোয়াই করে না বাসগুলো।

বাসে জাফরউল্লাহর দেখে আসা অনিয়ম চলছেই
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফরউল্লাহ। ছবি: কোলাজ নিউজবাংলা

কী দেখেছিলেন জাফরউল্লাহ

৬ আগস্ট বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর যাত্রীরা যখন ঠকছিলেন তখন বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ চড়েন বাসে।

তিনি মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে বাসে উঠে নামেন বনানীর কাকলী মোড়ে। এই পথের দূরত্ব ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার। নির্ধারিত ভাড়া হয় ১৭ টাকা। কিন্তু আগে থেকে আদায় করা হতো ২০ টাকা। জাফরউল্লাহকে দিতে হয়েছে ৩০ টাকা।

পর দিন আওয়ামী লীগ নেতা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। অনুরোধ করেন ব্যবস্থা নেয়ার।

এরপর ৯ আগস্ট এক ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরিবহন মালিক-শ্রমিকগণ সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। তারাসহ বৈঠক করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বাস্তবে প্রয়োগ করবেন।

‘যারা সমন্বয়কৃত ভাড়ার বেশি আদায়ের চেষ্টা করছেন- আমাদের মনিটরিংয়ের আওতায় তারা রয়েছেন। তাই আবারও তাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।’

কিন্তু সরকার আসলে মাঠের পরিস্থিতি জানে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গত ৩১ আগস্ট সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর একটি বক্তব্যে।

বাসভাড়া কিলোমিটারে ৫ পয়সা কমানোর দিন ওয়েবিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওয়েবিলের বিষয়টা আগে যেটা ছিল গাড়িতে উঠলে ভাড়া দিতে হতো সেটা এখন নেই কিন্তু। তবে মালিক-শ্রমিকদের জন্য তারা সিস্টেম করেছে। কিন্তু ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। এটার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।’

বাস্তব পরিস্থিতি কী?

রাজধানীর অন্তত ১০টি রুটের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান রুটগুলোর মধ্যে ৬ নম্বর, ৭ ও ৮ নম্বর, তুরাগ, বলাকা ও গাজীপুর পরিবহন ছাড়া প্রায় সব বাসই যাত্রী তোলে আগের সেই ওয়েবিল পদ্ধতিতে।

মাঝেমঝ্যে বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটরা যখনই বাস থামান, তখনই দেখা যাচ্ছে, আদায় হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ম্যাজিস্ট্রেটরা কখনও তিন হাজার, কখনও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু জরিমানা পরিশোধ করে এরপর আবার সেই বাড়তি আদায় চলতে থাকে।

কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে উত্তরাগামী পরিস্থান ও প্রজাপতি বাসে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ওয়েবিলে। মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর বাংলা কলেজ পর্যন্ত ৫.৩ কিলোমিটার দূরত্বে যাত্রী যেখানেই নামুক না কেন ভাড়া দিতে হবে ২৫ টাকা। অথচ সরকারি হিসাবে এই পথের ভাড়া আসে ১৩ টাকা ২৫ পয়সা। ভাড়ায় এখন আর পয়সার ব্যবহার নেই বলে সেটা সর্বোচ্চ নেয়া সম্ভব ১৩ টাকা। কারণ আইন অনুযায়ী ভোক্তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ সেবামূল্যের কম নেয়া গেলেও বেশি নেয়া সম্ভব নয়।

এই হিসাবে এই গন্তব্যে একজন যাত্রীর কাছ থেকে বেশি নেয়া হচ্ছে ১২ টাকা। আর কিলোমিটারপ্রতি আড়াই টাকার বদলে ভাড়া পড়ছে ৪ টাকা ৭১ বয়সা। এই ২৫ টাকায় অবশ্য মিরপুর ১ ও ১০ নম্বরেও যাওয়া যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভাড়ার হার কিছুটা কম পড়লেও তা সরকার নির্ধারিত হারের দেড়গুণেরও বেশি।

পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওয়েবিলের হিসেবে ভাড়া নেই। মালিকরা আমাদের কাছ থেকে ওয়েবিলের হিসেবে ভাড়া নেয়। আসাদগেটের চেকে ধরে ১৩ টাকা। দারুসসামের চেকে ধরে ১২ টাক। দুই চেকের হিসেবে ২৫ টাকা। আমি স্বীকার করি চার্টের ভাড়া অনেক কম। কিন্তু কোম্পানি আমাদের ওয়েবিলে হিসেব করে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি চার্টের ভাড়া নিতে যাই তাহলে আমরা বেতন থেকে কাটবে। মিরপুর-১১ নম্বরে একটা চেক আছে। ওইটা পার হলে আবার ৩০ টাকা।’

মোহাম্মদপুর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়াটারগামী স্বাধীন পরিবনে মোহাম্মদপুর থেকে ইস্কাটনের ভাড়া নিচ্ছে ২৫ টাকা। একই ভাড়া নিচ্ছে মৌচাক গেলেও। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ওয়েবিল।

একটি বাসে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. আকাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ওয়েবিল উঠায় নাই মালিকে। মালিকে কিলোমিটারে ভাড়া নিতে বললে আমরা কিলোমিটারে ভাড়া নেব। আসাদ গেট ১৩ টাকার চেক ইস্কাটনে ১২ টাকার চেক।’

বাস মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি গত ১১ আগস্ট থেকে ওয়েবিলের বদলে কিলোমিটার হিসেবে ভাড়া কাটার ঘোষণা দিয়েছিল বটে। দুই চার দিন দুই একটি রুটে ভাড়া কাটাও হয়। কিন্তু কদিন পরে আবার এই পদ্ধতি ফিরে আসে। যাত্রীরা প্রশ্ন তুললে শ্রমিকরা বলতে থাকে, তারা বিআরটিএ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে।

১১ আগস্ট সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, তারা ঘোষণা দিয়েছেন বটে, তবে ওয়েবিল তুলে দিতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

এই বক্তব্যের ২৫ দিন পর এনায়েত স্বীকার করেছেন, ওয়েবিল বন্ধ হয়নি। তাহলে যাত্রীরা কি ঠকতেই থাকবে?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা ওয়েবিল চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি।’

কিন্তু ফলাফল তো পাচ্ছি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছি। ই টিকিটিং সিস্টেমে যাচ্ছি। তখন নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় বন্ধ হবে। ২০ তারিখ থেকে পাইলট রুট চালু করতে যাচ্ছি।’

বাসে জাফরউল্লাহর দেখে আসা অনিয়ম চলছেই
বাসে ভাড়া আদায় করছেন এক কন্ডাক্টর। ফাইল ছবি

বিআরটিএ প্রধান ‘অসহায়’

বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়, যাত্রীদের সুরক্ষায় বিআরটিএর ব্যর্থতাসহ সব প্রশ্ন নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘যতবারই অপরাধ করছে ততবারই শাস্তি দিচ্ছি। কারা বারবার অপরাধ করছে আমরা তাদের পরিসংখ্যানও রাখছি।’

আপনারা যে জরিমানা করছেন, এভাবে তো কখনও সুফল মেলেনি, তাহলে অন্য কোনো চিন্তা কেন করছেন না- এমন প্রশ্নে বিআরটিএ প্রধান প্রকাশ করেন অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, ‘পরিবহন মালিক সমিতি বারবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তারা সবাই যদি এ ব্যাপারে সিনসিয়ার না হয়, এটা কার্যকর করা কঠিন।’

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন- জবাবে তিনি বলেন, ‘এই কারণেই তো ডাম্পিংয়ে দিচ্ছি। ডাম্পিংয়ে দিলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে।’
তবে এক সপ্তাহে কতগুলো বাস ডাম্পিংয়ে দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে কোনো সংখ্যা জানাতে পারেননি বিআরটিএ প্রধান। বলেন, ‘যারা একই অপরাধ করে তাদেরকে আমরা ডেকে…। আমরা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

ওয়েবিলের প্রতারণার কথা জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সবাই এভাবে ভাড়া নিচ্ছে না। দাবি করেন, তিনি নিজেও বের হয়েও তাই দেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘গত মিটিংয়ে ওরা (বাস মালিকরা) আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, একটা বাসেও ওয়েবিল নেবে না। বাস স্টাফরা মিথ্যা যাতে না বলতে পারে তাই তাদের চেকিং পদ্ধতি থাকবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। চার্ট দেখে ভাড়া দিতে হবে। আমি ভাড়া ৫০০ টাকা চাইলে আপনি দিয়ে দিবেন?’

বাসে তো চার্ট নাই- এই তথ্য জানালে বিআরটিএ চেয়ারম্যান কোন বাসে নাই, সেই বাসের নম্বর কত, ইত্যাদি তথ্য চেয়ে বসেন। বলেন, ‘আমাদের তথ্য দেন ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

নৈরাজ্যের সমাধান কী তবে

নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওয়েবিল আসলে মানুষের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু না। পৃথিবীর কোথাও এর ব্যবহার নাই। এটা বন্ধ করতেই হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সড়ক পরিবহন আইনেও আছে দৃশ্যমান জায়গায় ভাড়ার চার্ট ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তারা ঝুলিয়ে রাখছে না এ কারনেই, তারা ভাড়ার নৈরাজ্য চালাবে।’

তাহলে সমাধান কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটার সমাধানের একটাই উপায়, স্টিয়ারিংটা থাকতে হবে সরকারের হাতে। অর্থাৎ কোম্পানির অধীনে বাস চলবে। ব্যবস্থাপনায় থাকবে সরকার। তখন সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সরকারের দায়িত্ব একটা রুট তৈরি করে দেয়া। এখানে সবাইকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আসতে হবে।’

ঢাকা নগর পরিবহনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘একটা ব্যানারের আন্ডারে আমাদের বাসগুলি যেভাবে চলে, এই ব্যানারের মালিক শুধু ওই ব্যানারের মালিকই হচ্ছে। ওই ব্যানারে কাউকে বাস চালাতে হলে একটা চাঁদা দিয়ে চালাতে ছচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ব্যানারের মালিক লাভবান হচ্ছে। যারা ব্যবসা করছেন তারা তো নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেবেন না। আর এই টাকা যাত্রীদের পকেট কেটেই নেয়া হচ্ছে। সমাধান একটাই রুটভিত্তিক কোম্পানি দিয়ে বাস চালাতে হবে।’

অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এখন শ্রমিকের উপর মালিকের নিয়ন্ত্রণ নাই, আবার মালিকদের উপর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নাই। নিয়ন্ত্রণহীনগণ পরিবহন ব্যবস্থাপনায় যেভাবে চলছে এখানে আমরা কাগজেকলমে ভাড়া ঠিকই নির্ধারণ করে দেব। কিন্তু আসলে বাস্তবায়ন হবে না।’

আরও পড়ুন:
যাত্রীদের লাভ হলো না এক পয়সার
বাসে ভাড়া ১ টাকা কমাতে যেতে হবে ২০ কিলোমিটার
বাসের ভাড়া কমতে পারে কিলোতে ৫ পয়সা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The road of Tejgaon is once again occupied by trucks

তেজগাঁওয়ের সড়কটি ফের ট্রাকের দখলে, জনভোগান্তি

তেজগাঁওয়ের সড়কটি ফের ট্রাকের দখলে, জনভোগান্তি তেজগাঁওয়ের চার লেনবিশিষ্ট আনিসুল হক সড়কের অর্ধেকের বেশি দখল করে বানানো হয়েছে ট্রাক স্ট্যান্ড। ছবি: নিউজবাংলা
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘এই সড়ক দখলের কারণে যানজট ও জনভোগান্তি হচ্ছে সেটা বুঝি। তারপরও এই ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান না চালানোর কারণ এই জায়গা ছাড়া ট্রাক রাখার আর কোনো জায়গা নেই। যত দ্রুত সম্ভব আধুনিক টার্মিনাল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। আশা করছি দ্রুতই একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে।’

আনিসুল হক মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্নয়নে যুগান্তকারী বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেসবের মধ্যে অন্যতম ছিল তেজগাঁওয়ে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে প্রশস্ত সড়কটি দখলমুক্ত করা। তাতে ফার্মগেট থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে নিত্যদিনের যানজট দূর হয়। পুরো এলাকা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।

আনিসুল হক প্রয়াত হয়েছেন। আর তেজগাঁওয়ের সদা ব্যস্ত সড়কটিও বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে আবারও স্থায়ী স্ট্যান্ড বানিয়ে নিয়েছেন ট্রাক চালকরা। সড়কটির বেশিরভাগ জায়গা চলে গেছে ট্রাকের দখলে। এর ফলে সংকুচিত হয়ে পড়া সড়কে ফিরেছে যানজটের সেই পুরনো চেহারা। এই সড়কে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার লেখালেখি হলেও কর্তৃপক্ষ সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে।

ট্রাক চালকেরা বলছেন, রাজধানীতে ট্রাক রাখার কোনো জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। সরকার ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরি করে দিলেই তারা আর সড়কে ট্রাক রাখবেন না।

অপরদিকে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, একটা আধুনিক ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরির জন্য জায়গা চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকার জায়গা বরাদ্দ দিলেই কাজ শুরু করা হবে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আনিসুল হক সড়কের রেল গেট এলাকার শুরুতেই বসেছে লেগুলা স্ট্যান্ড। রাস্তার বেশিরভাগ জায়গা দখল করে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য লেগুনা। প্রায় আড়াআড়িভাবে লেগুনা দাঁড় করিয়ে তোলা হচ্ছে যাত্রী। আর ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার থেকে আসা যানবাহনগুলো যানজটে আটকা পড়ে রেললাইনের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

দখলের শুরুটা এখানে হলেও এর বিস্তৃতি সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত। পুরো সড়কের দু’পাশে লাইন করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ। চার লেন সড়কের প্রশস্ততা নেমে এসেছে দুই লেনে। তার ওপর মাঝে মাঝে ট্রাক পার্কিং বা ঘুরানোর সময় পুরো সড়কই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সড়কে সারাক্ষণ লেগে আছে ভয়াবহ যানজট।

এছাড়া ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলো আড়াআড়িভাবে রাখায় গাড়ির পেছনের অংশ উঠে থাকছে ফুটপাতের ওপর। ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারীরাও হাঁটাচলার সুযোগ পাচ্ছেন না।

সড়ক দখল করেই ক্ষান্ত হননি ট্রাক চালকেরা। সেখানেই তারা বসিয়েছে গাড়ি মেরামতের অস্থায়ী ওয়ার্কশপও। সেখানে চলছে ট্রাক মেরামতের কাজ।

তেজগাঁওয়ের সড়কটি ফের ট্রাকের দখলে, জনভোগান্তি
তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে ফার্মগেট অভিমুখী সড়কের দুপাশে ফুটপাত দখল করে পার্ক করে রাখা ট্রাকের সারি। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু আনিসুল হক সড়ক নয়; সাতরাস্তা থেকে বেগুনবাড়ি অভিমুখী আকিজ পেট্রোল পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কগুলোও এখন ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান আর মিনি ট্রাকের দখলে। মোট কথা দিনের বেশির ভাগ সময়ই তেজগাঁওয়ের প্রায় সব সড়ক কম-বেশি এই অবৈধ পার্কিংয়ের শিকার। শুধু দিনে নয়, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো তেজগাঁওয়ের সব সড়কই দখলে চলে যায় ট্রাক ও বাসের দখলে।

আব্দুর রহমান নামে এক রিকশাচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে চালাচল করতে এখন ভয় হয়। কোনো কোনো সময় রাস্তা ফাঁকা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই অনেক জ্যাম থাকে। তখন অনেকক্ষণ রাস্তায় বসে থাকতে হয়। আর রাস্তা জ্যাম মানে আমাদের ইনকাম বন্ধ।’

ওবায়দুল ইসলাম নামে এক পথচারী বলেন, ‘আমার বাসা ফার্মগেটে আর অফিস গুলশানে। তাই আমাকে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সকালের দিকে প্রায় প্রতিদিনই এই রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়ে থাকতে হয়। কোনো কারণ ছাড়াই সেই জ্যাম তৈরি হয়।

‘দেখা যায় কোনো ট্রাক আড়াআড়িভাবে রাখায় রাস্তা সরু হয়ে জ্যাম তৈরি হয়। আবার কখনও কখনও ট্রাক ঘোরানো বা পার্কিংয়ের সময় পুরো রাস্তায়ই জ্যাম তৈরি হয়। হেঁটে যাব সেই সুযোগও নেই। কারণ ফুটপাত দখল করে থাকে ট্রাকগুলোর পেছনের অংশ। আর রাতে ছিনতাইয়ের ভয় তো আছেই।’

সড়ক দখল করে কেন ট্রাক রেখেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এক ট্রাকচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রাস্তা ছাড়া আর কই গাড়ি রাখমু? ঢাকা শহরে অন্য কোনো জায়গায় গাড়ি রাখলেই তো পুলিশ মামলা দিব। এইখানে গাড়ি রাখলে মামলার ভয় নেই। তাই আমরা ঢাকায় এলেই এখানে এক-দুই দিন গাড়ি রাখি।’

বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মো. মনির বলেন, ‘ভাই, আমরাও বুঝি এই সড়ক ট্রাক দিয়ে দখল করে রাখলে মানুষের দুর্ভোগ হয়। রাস্তায় জ্যাম হয়। চলাচল করতে গিয়ে আমরাও যানজটের ভুক্তভোগী হই। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।

‘পুরো ঢাকা শহরে আর কোনো ট্রাক স্ট্যান্ড নেই। তাই এই জায়গা ছাড়া আর কই ট্রাক রাখব বলেন? ঢাকা শহরে মালামাল আনার জন্য প্রতিদিনি হাজার হাজার ট্রাক শহরে আসে। এর মধ্যে কিছু চলে যায়। বাকিগুলো বিভিন্ন রাস্তায় থাকে। আমাদের এখানে একসঙ্গে আড়াই হাজার গাড়ির জায়গা আছে। এর বেশি হয়ে গেলেই রাস্তার ওপর গাড়ি রাখা হয়।’

তেজগাঁওয়ে অন্যান্য সড়কও তো আপনারা গাড়ি পার্ক করে দখল করে রাখেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা ছাড়া আমরা আর কোনো রাস্তায় গাড়ি রাখার অনুমতি দেই না। অন্য রাস্তায় যেসব পার্ক করা দেখেন সেগুলো ড্রাইভাররা ব্যক্তিগতভাবে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে রাখে। ওই দায় আমাদের না।’

মো. মনির আরো বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই আমরা সরকারকে বলে আসছি যে আমাদের একটা স্থায়ী ট্রাক স্ট্যান্ড বানিয়ে দেন। কিন্ত তারা আজও একটা ট্রাক স্ট্যান্ড বানাতে পারেনি। আমরা এ-ও বলেছি, এখানেই আমাদের সমিতির অফিসের সামনে টিঅ্যান্ডটির অনেকটা খালি জায়গা আছে। জায়গাটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে একটা স্ট্যান্ড বানিয়ে দেন। তা-ও হয়নি। তবে কিছুদিন আগে উত্তর সিটি করপোরেশন আমাদের বলছে যে তারা চেষ্টা করছে। এখন দেখি তারা কী চেষ্টা করে।’

বেদখল হওয়া আনিসুল হক সড়ক নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবনা জানতে কথা হয় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সেলিম রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা পারমানেন্ট আধুনিক ট্রাক স্ট্যান্ড করার জন্য জায়গা খুঁজছি। জায়গা চেয়ে আমরা সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থাকে চিঠিও দিয়েছি। আশা করছি আর কালক্ষেপণ হবে না।’

তিনি বলেন, এই সড়ক দখলের কারণে এখানে যে যানজট ও জনভোগান্তি হচ্ছে সেটা আমরাও বুঝি। তারপরও আমরা এই ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছি না কারণ এই জায়গা ছাড়া ট্রাক রাখার আর কোনো জায়গা শহরে নেই। এখান থেকে সরিয়ে দিলে তারা অন্য সড়কে পার্কিং করবে।’

সেলিম রেজা বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আধুনিক টার্মিনাল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। ওখানেই টিঅ্যান্ডটির বেশ কিছু খালি জায়গা আছে। আমরা তাদের কাছেও জায়গা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই একটা সমাধান হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Google is changing the look of Durga

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ প্রতি বছর দেবী দুর্গার প্রতিমার গড়নে আসছে পরিবর্তন। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমা শিল্পীরা বলছেন, ১৫ বছর আগেও দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতীর মুখের গড়ন ছিল এক। মাটি দিয়ে বানানো ছাঁচে গড়া হতো প্রতিমা। গণেশ, কার্তিক ও অসুরের জন্য ছিল আলাদা ছাঁচ। তবে এখন ছাঁচে ফেলে প্রতিমা গড়ার রীতি অনেকটাই বদলে গেছে। প্রতি বছর আলাদা গড়নে ও রূপে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

দুই দশক আগেও সারা দেশে দুর্গা প্রতিমার মুখের গড়ন বা সাজসজ্জা ছিল অনেকটা আটপৌড়ে। সময় যত গড়িয়েছে সেই গড়নে এসেছে পরিবর্তন। প্রতিমার সাজসজ্জাও হচ্ছে বর্ণাঢ্য। এর পেছনে ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তির বড় ধরনের ভূমিকা দেখছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

তাদের বক্তব্য, আগে সব প্রতিমাই তৈরি হতো শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা থেকে, তবে এখন অনেকে সার্চ ইঞ্জিন গুগল থেকে পছন্দের প্রতিমার ছবি বাছাই করে সে অনুযায়ী দুর্গা গড়তে বলেন। ফলে প্রতি বছর বদলে যাচ্ছে প্রতিমার মুখের গড়ন ও সাজসজ্জা।

শিল্পীরা বলছেন, ১৫ বছর আগেও দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতীর মুখের গড়ন ছিল এক। মাটি দিয়ে বানানো ছাঁচে গড়া হতো এই তিন প্রতিমা, এ ছাঁচকে বলা হতো একচালা। এ ছাড়া গণেশ, কার্তিক ও অসুরের জন্য ছিল আলাদা ছাঁচ।

তবে এখন ছাঁচে ফেলে প্রতিমা গড়ার রীতি অনেকটাই বদলে গেছে। ফলে প্রতি বছর আলাদা গড়নে ও রূপে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
শাঁখারীবাজারের একটি মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা

দুর্গা প্রতিমার গড়ন দুই দশকে কতটা এবং কেন বদলেছে তা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার, তাঁতীবাজার এলাকার প্রতিমা শিল্পী ও পূজার আয়োজকদের সঙ্গে।

বদলে যাচ্ছে দেবীর গড়ন, মণ্ডপের নকশা

বাংলাবাজারের জমিদার বাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে ৪৫ বছর ধরে। নব্বইয়ের দশকেও মন্দিরে পূজার সাজ ছিল ছিমছাম। তবে এখন মণ্ডপ সাজানো হয় বড় আয়োজনে।

এবার মণ্ডপজুড়ে সাদা রঙের ছড়াছড়ি। দেবী দুর্গাসহ সব প্রতিমার রংও সাদা।

আয়োজকেরা বলছেন, এবার তারা শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা রং বেছে নিয়েছেন। আর প্রতিমা বানানোর ক্ষেত্রে সহায়তা নেয়া হয়েছে ইন্টারনেট প্রযুক্তির।

জমিদার বাড়ির প্রতিমা তৈরি করেছেন বলাই পাল। ৩৪ বছর ধরে প্রতিমা শিল্পীর কাজ করছেন তিনি। এবারের পূজায় সব মিলিয়ে ১২টি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন এই শিল্পী। এর মধ্যে ঢাকায় ১১টি এবং ঢাকার বাইরে একটি প্রতিমা গড়েছেন তিনি।

বলাই পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আগে একচালা বা পাঁচচালা দিয়ে প্রতিমা তৈরি করতে হতো। তখন সব প্রতিমার চেহারা একই রকম থাকত। তবে এখন আর সে ধরনের কাজ হয় না। আমাদের এখন প্রতি বছর আলাদা আলাদা চেহারার প্রতিমা বানাতে হয়।’

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
বাংলাবাজার জমিদার বাড়ি মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা

এখন অনেকেই গুগল থেকে ছবি ডাউনলোড করে সে অনুযায়ী প্রতিমা করতে বলেন জানিয়ে বলাই পাল বলেন, ‘আমাদের কাছে ছবি দিলে আমরা তেমন করে তৈরি করে দিই। তবে দেবীর যে রূপ তাতে বড় কোনো পরিবর্তন আসে না। দেখা যায় অনেকেই গোলাকার বা লম্বাকৃতির মুখ বানাতে বললে আমরাও তেমন বানিয়ে দিই।

‘আমাদের মনের মধ্যে নিজস্ব যে চেহারা থাকে সেটাও প্রতিমার রূপে প্রতিফলিত হয়। আমি যে ১২টি প্রতিমা তৈরি করেছি সেগুলো ১২ রকমের হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আমাকে বিভিন্ন ছবির ক্যাটালগ দিয়েছে। আমি সেটাও অনুসরণ করেছি।

শাঁখারীবাজারের সঙ্ঘমিত্র পূজা কমিটির প্রতিমা তৈরি করেছেন মানিকগঞ্জের প্রতিমা শিল্পী সুকুমার পাল। ২৮ বছর ধরে প্রতিমা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সুকুমার ১০ বছর ধরে এই কমিটির প্রতিমা তৈরি করছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবারই মায়ের চেহারায় পরিবর্তন আসে। এটা আমাদের মাথার মধ্যে থাকে। আমরা একটা পরিকল্পনা করে থাকি। একেক বছর একেক রকম হয়। তবে এখন অনেকেই ছবি দিয়ে দেয়, আর সেটির সঙ্গে আমি একটা রূপ চিন্তা করে প্রতিমা তৈরি করি।’

পাশের দেশ ভারতে বিভিন্ন থিম ও ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে মিল রেখে প্রতিমা তৈরির চল রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রতিমা শিল্পী ও আয়োজকদের দাবি, নিজস্ব স্বকীয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
শাঁখারীবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দুর্গা প্রতিমা

বাংলাবাজারের জমিদার বাড়ি পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস শংকর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করেই প্রতিমা তৈরি করে থাকি। আমি নিজে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ছবি দেখে একটা নিজস্ব ছবি বানিয়ে তা নিয়ে প্রতিমা শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা করি। এভাবে মায়ের রূপ নির্ধারণ করা হয়।’

নব্বইয়ের দশকের মণ্ডপে তেমন সাজসজ্জা থাকত না জানিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘এখন আমরা মন্দিরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নকশা করে থাকি।’

শাঁখারীবাজারের গলিতে সব মিলিয়ে এবার ছয়টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে গলির শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বী পূজা কমিটির পূজায় জাঁকজমক সবচেয়ে বেশি।

প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে

গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে বলে জানান আয়োজক ও শিল্পীরা।

গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ
শাঁখারীবাজারের নব নবমী মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা

জমিদার বাড়ির প্রতিমা শিল্পী বলাই পাল বলেন, ‘এবার জমিদার বাড়ির প্রতিমা গড়তে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা, যা গতবারের তুলনায় ১০ হাজার টাকা বেশি। আমার সঙ্গে আরও পাঁচজন কাজ করেছেন। তাদের আলাদা বেতন দিতে হয়। সেখানেও গতবারের তুলনায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। এর আগের দুই বছর করোনার কারণে প্রতিমা বানানোর খরচ পড়ে গিয়েছিল, এবার তা বেড়ে গেছে।’

পূজার আয়োজকেরা বলছেন, প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানোর খরচও বেড়েছে। এ ছাড়া পূজার উপকরণের দামও বাড়তি।

শাঁখারীবাজার ঘুরে দেখা যায়, পূজায় সবচেয়ে ব্যবহৃত ধূপকাঠির দাম প্যাকেটপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এ ছাড়া দেবীর অলংকারসহ অন্য উপকরণের দামও বেড়েছে।

সুর ঘুড়ি ঘরের বিক্রেতা সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুবার বিক্রি তেমন না হলেও এবার চাহিদা অনেক। আমার দোকানে বিভিন্ন ধরনের ধূপকাঠি আছে। এর মধ্যে ভারতীয়গুলো বেশি জনপ্রিয়। আর দাম বেড়েছে প্রতি প্যাকেটে ১০ থেকে ২০ টাকা।’

পূজার অঞ্জলির উপকরণ, ঘট, প্রদীপ, থালাসহ অন্যান্য উপকরণের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া পূজারি নারীর সিঁদুর, আলতা, টিপের বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ। ভিড় রয়েছে শাঁখার দোকানেও।

৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

আরও পড়ুন:
সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে দেবীর আগমন শনিবার
দুর্গাপূজার উত্তাপ শাঁখারীবাজারে
গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The image of Rangpur Medical changed after the doctor suffered

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র
এক চিকিৎসকে মাকে ভর্তি করাতে যাওয়ার পর পদে পদে টাকা আর কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার পর অন্য চিকিৎসকরা সোচ্চার হন। তাদের হুঁশিয়ারির মুখে কর্তৃপক্ষ হয় তৎপর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেয় ব্যবস্থা, বদলি করা হয় ১৭ কর্মচারীকে। চুক্তিভিত্তিক দুই জনকে করা হয় বরখাস্ত। এখন রোগী ভর্তি করতে এলে কাউকে বাড়তি টাকা দিতে হয় না। হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম।

২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বড় দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশরাত জাহান ইতি কিডনি রোগে আক্রান্ত মাকে ভর্তি করান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে। সেদিন জরুরি বিভাগে ভর্তি বাবদ ২০০ টাকা, ট্রলি বাবদ ২৫০ আর বেড পরিষ্কারের জন্য দিতে হয়েছে ৫০ টাকা। কিছুটা সুস্থ হয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

ঠিক ১০ দিন পর ১ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে ফের হাসপাতালে আসেন ইতি। কিন্তু জরুরি বিভাগে এবার ট্রলির জন্য টাকা চায়নি কেউ, ভর্তি বাবদ ২০০ টাকার বদলে লেগেছে ২৫ টাকা। শয্যা পরিষ্কারের জন্যও কেউ টাকা চেয়ে বিরক্ত করেনি।

হাসপাতালে এমন পরিবর্তন দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইতি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মার দুই কিডনিতেই পাথর ছিল। এর আগে একটার চিকিৎসা করা হয়েছে। এবার অন্যটির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলাম। কিন্তু কেউ আমার কাছে টাকা চায়নি। ভর্তি বাবদ ২৫ টাকা নিয়েছে, রিসিটও দিয়েছে। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি প্রশাসন এখন এত শক্ত।’

ইতির কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ হয়েছে এই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক তার মাকে ভর্তি করে এসে ভুক্তভোগী হওয়ার পর। সেই চিকিৎসকের কাছ থেকেও পদে পদে আদায় করা হয়েছে বাড়তি টাকা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, নিজের কর্মস্থল থেকে মাকে তিনি নিয়ে গেছেন এই ভয়ে যে, এখানে থাকলে তার মায়ের চিকিৎসা হবে না।

সেই চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তোলপাড় হয়ে যায়। এতদিন সব দেখেও না দেখার ভান করা কর্তৃপক্ষ আর বসে থাকেনি। চিকিৎসক ভোগার পর তারা ব্যবস্থা নেয়ায় আমূল পাল্টে গেছে হাসপাতালের চিত্র। এখন দালালের অত্যাচার নেই, রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ট্রলি ধরার প্রতিযোগিতা নেই, স্বজনের কাছে বকশিশ চাওয়ার অত্যাচার নেই, নির্ধারিত ভর্তি ফির বাইরে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।

নোংরা পরিবেশের যে সমস্যায় এতকাল মানুষ ভুগেছে, সেটিও আর নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ড, মেঝেতে নেই ময়লা-আবর্জনা। পুরো হাসপাতাল এখন ঝকঝকে চকচকে।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

পরিস্থিতির এই চিত্র দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না রোগী ও তার স্বজনদের। এদের একজন কুড়িগ্রামের উলিপুরের চাচিনা বেগম। গত চার দিন থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগেও হাসপাতালে ছিলাম আমি। কিন্তু এত ভালো ব্যবহার কেউ করেনি। ডাক্তার, নার্স ও আয়া সবাই যেন বাড়ির লোক। কেউ কখনও খারাপ ব্যবহার করেনি। ভর্তির সময় কেউ কোনো টাকা-পয়সা চায় নাই। শুনছি এদিক-সেদিক টাকা নেয়। কিন্তু কেউ চায় নাই।’

পরিবর্তনের নেপথ্যে

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মায়ের চিকিৎসা করাতে অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীরের মাকে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয়। স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে নেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়তো আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

হাসপাতালের এই চিত্র নতুন কোনো কিছু নয়। কিন্তু চিকিৎসকরা ছিলেন নির্বিকার। নিজেদের পেশার একজন ভোগার পর অবশেষে তারা সোচ্চার হন। অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে নামেন ‘সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’।

এরপর কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যালের ১৬ কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বদলি করা হয়। এরপর কর্মচারীদের আচরণে আসে পরিবর্তন।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

এর পাশাপাশি চিকিৎসক রাশেদুল আমীরের স্বজনদের অশোভন আচরণ ও টাকা নেয়ার দায়ে চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। এতে চুক্তিভিত্তিক অন্য কর্মচারীদের মধ্যেও ভয় ঢুকেছে।

‘চিকিৎসকরা আগে উদ্যোগী হলে আমাদের ভুগতে হতো না’

হাসপাতালের চিত্র পাল্টানোয় খুশি মাকে ভর্তি করতে এসে হয়রানির শিকার হওয়া চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর। তিনি জোর দিয়েছেন এই পরিবর্তন ধরে রাখার ওপর।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল আমীর বলেন, ‘অ্যাজ এ ম্যান অফ রংপুর, আমি সব সময় চাই রংপুরের মানুষ এখান থেকে সবচেয়ে ভালো সেবা পাক। আমরা রংপুরবাসী যদি সবাই এক হই তাহলে এটা ধরে রাখা যাবে। এই যে বদলে গেছে এটাকে ধরে রাখতে হবে।’

স্বস্তিতে স্বজনরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, ‘আমি এক মাস আগেও এখানে ভর্তি ছিলাম। তখন ট্রলিতে টাকা নিয়েছে, ভর্তিতে নিয়েছে। ওয়ার্ডে টাকা নিয়েছে। কিন্তু আইজ আমার ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। কেউ টাকা চায় নাই।’

গাইবান্ধার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কী বলব আপনাদের? দেখেন হাসপাতাল কত পরিষ্কার। কোথাও কোনো কাগজটাগজ নাই। ময়লা নাই, বাদামের খোল্ডা (খোসা) নাই। বিচনে (বেড) রুম সব পরিষ্কার। নিচতলা থেকে ওপরতলা কেউ টাকাটোকা চাইছে না। এমন পরিবেশ থাকলে তো ভালো হয়।’

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন লিটু সরকার বলেন, ‘আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। ছিল সিসিইউতে। এখনকার পরিবেশ অনেক ভালো। এবার সেবা অনেক ভালো পাইছি।’

রাশেদুল মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগেই এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। তখন কোনো চিকিৎসকই এভাবে প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেনি। যদি এভাবে চিকিৎসকরা এগিয়ে আসত, তাহলে এই হাসপাতাল বহু আগেই দালালমুক্ত হতো। মানুষ এত হয়রানি হতো না।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের কারণে এমনটা হয়েছে কি না, জানি না। আমরা চাই এই হাসপাতালে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। যে স্টেপটা নেয়া হয়েছে তাতে যেন হাসপাতালটা ভালো চলে- এই কারণে এই উদ্যোগ। এখন সবাই হেল্প করতেছে- এটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা থাকবে।'

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

হাসপাতালের পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা নিচ্ছি। উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো পরিকল্পনা। এটা আমার অবদান তা কিন্তু নয়। আমি চেষ্টা করছি মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে চেয়েছি, সেটি করছি। আমরা দেখছি জরুরি বিভাগে সমস্যা আছে, সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখন সব চলবে।’

তবু অভিযোগ অস্বীকার কর্মচারীদের

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. বাদল জানান, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীরা কখনও টাকা নেই নাই। আমাদের কর্তব্য আমরা করতেছি, ট্রলি ঠেলতেছি। এখন দালালটালাল নেই। কাউকে টাকা দেয়া লাগে না।’

আপনারা থাকতে টাকা কীভাবে নিয়েছে জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘ওরা আউটসোর্সিংয়ের কর্মী ছিল। যে যার মতো করে নিত। আমাদের উপস্থিতিতে নিত না।’

নাম প্রকাশ না করে একজন নার্স বলেন, ‘আপনি নিজেই দেখেন সিট কত আর ভর্তি কত। একবার রাউন্ডে গেলে কতজন রোগীর কাছে যেতে কত সময় লাগে। কিন্তু অনেক রোগী চায় ডাকা মাত্রই তাদের কাছে যেতে হবে। কিন্তু যার কাছে আছি বা যে রোগীর কাছে আছি তিনি কী অপরাধ করলেন? মূলত ভুল বোঝার কারণে তারা অভিযোগগুলো করে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the reason for not reducing the price of eggs?

ডিমের কেন আগুন দাম

ডিমের কেন আগুন দাম নানা কারণে কমছে না ডিমের দাম। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিকেন ফিডের দাম বৃদ্ধি, লোকসানের আশঙ্কায় খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা খামার করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমছে না ডিমের দাম।

চলতি বছরের আগস্টে ডিমের দাম ১৫৫ টাকা ডজন ছাড়িয়ে যায়, তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম কমে ১২০ টাকায় নামলেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী। দুই সপ্তাহে দাম আবার হয় ১৪০ টাকা।

এর পর থেকে ডিমের দাম আর কমছে না। রাজধানীর বাজারে শনিবার প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ টাকা আর হালি বিক্রি হয়েছে ৪৭ টাকায়। আর সাদা ডিম ডজন বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা। এ ডিমের হালি বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়।

কেন কমছে না ডিমের দাম, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চিকেন ফিডের দাম বৃদ্ধি, লোকসানের আশঙ্কায় খামারিদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা খামার করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ডিমের দাম না কমার কারণ হলো মুরগির খাদ্যের দাম। খাদ্যের দাম যতদিন না কমবে, ততদিন ডিমের দামও কমবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগে মুরগির খাদ্যের যে বস্তার দাম ছিল এক হাজার ৫০ টাকা, সেটার দাম এখন ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা। দাম বেশি হওয়ায় মুরগি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন খামারিরা। ফলে ডিমের যে চাহিদা সেই পরিমাণ সরবরাহ নেই।’

ডিমের উৎপাদন কম ও দাম না কমার পেছনে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবের কথাও জানান ভাই ভাই এগ শপের মালিক সঞ্জয়। গত বছরেও একই কারণে ডিমের দাম বেড়েছিল।

গত বছরের অক্টোবরে ডিমের ডজন ৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১১০ টাকা। ওই সময় ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন কমে গেছে। বাজারে মুরগি ও ডিমের চাহিদা বেশি থাকলেও ওই পরিমাণ সরবরাহ নেই। ফলে দাম বাড়ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের কথা আবারও উঠে এলো সঞ্জয়ের কথায়। তিনি বলেন, ‘অনেক ছোট ছোট খামার গড়ে উঠেছিল। করোনার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। লোকসান দিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে বাড়িঘর বিক্রি করে লোকসান ভরেছেন। সেসব বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ছোট ছোট খামার থেকে প্রচুর ডিম উৎপাদন হতো। আগে গাড়ি ভরে ভরে মাল (ডিম) আসত। এখন আসে কম।’

একই তথ্য জানালেন ডিমের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বরিশাল এন্টারপ্রাইজের কুদ্দুস মিয়া। তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে অনেক ছোট ছোট ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম বলেই দাম কমছে না।’

বৃহৎ আমদানিকারক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘মুরগির খাদ্যের দাম অনেক বেশি। ডিমের কস্টিং বেশি। যে পরিমাণ ডিম দরকার, তার চেয়ে কম উৎপাদনের এটি একটি কারণ।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘টাঙ্গাইল থেকে বেশির ভাগ ডিম আসে। আমার দেশের ডিমের প্রায় ৮০ শতাংশই ওই অঞ্চলের। খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ভবিষ্যৎ লোকসানের আশঙ্কায় এসব অঞ্চলে খামারে বাচ্চা উঠাচ্ছেন না খামারিরা।

‘বাচ্চা মুরগি চার থেকে পাঁচ মাস লালন-পালনের পর ডিম পাওয়া যায়। দাম কমে গেলে লোকসান হবে, এই ভয়ে খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।’

ডিমের কেন আগুন দাম

ডিমের দাম কমার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা। সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘শীতের মধ্যে ফার্মে ফ্যানের প্রয়োজন কম হয়। মুরগির অসুখ কম হয়। ডিমের উৎপাদন বাড়ে এবং দাম কমার একটা সম্ভাবনা থাকে।’

কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘ডিমের দাম সামনে কমার আশা আছে। শীতের মধ্যে বিদ্যুতের খরচ কমে যাবে। এ ছাড়া বড় বড় কোম্পানি যারা, তাদের প্রোডাকশন কমছে না, বরং বাড়ছেই। তাতে কিছু দাম কমতে পারে।’

ডিমের দাম বৃদ্ধিতে জনমনে অসন্তোষের কারণে একপর্যায়ে ডিম আমদানিরও চিন্তা করে সরকার। ২৯ আগস্ট সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ রকম পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।

ওই দিনই জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানোর ঘোষণায় ডিমের দাম কিছুটা কমে এলেও পরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে ডিম আমদানির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এদিকে ডিমের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আমদানির বিপক্ষে অবস্থান নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় তিনি বলেন, ‘একটি ডিমের দাম ১২-১৩ টাকা কোনোভাবেই হতে পারে না। এই দাম অস্বাভাবিক। একটা ডিমের উৎপাদন খরচ ৫-৬ টাকা হলে উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ ৮ টাকায় বিক্রি করতে পারে।

‘সরবরাহ একটু কমে গেলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ফার্মের মালিক, হ্যাচারি মালিক নানা ষড়যন্ত্র করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দেয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই হয়তো আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন। তারপরও আমি বলব, ডিম আমদানির দরকার নেই। ডিম আমদানি করলে আমরা আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ব, যা আমরা চাই না।

‘আমদানি না করলে আমাদের একটু কষ্ট হবে, সবাই মিলে এই কষ্ট করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ডিম উৎপাদন করে খেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ডিম, মুরগিতে ‘১৫ দিনে ৫১৮ কোটি টাকা লোপাট’
চাহিদা বাড়ছে ভাঙা ডিমের
বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির
ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই হালিতে ডিমের দাম কমল ৬ টাকা
ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cafeteria for rent in Bahadur Shah Park

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, তারা পার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এটি ইজারা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পার্কের মাঝখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্যাফেটেরিয়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাহাদুরশাহ পার্ক ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা পেয়ে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়া। হাঁটাচলার জায়গায় এই পার্কের ভেতরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করায় প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তারা এটি বন্ধে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, তারা পার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এটি ইজারা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পার্কের মাঝখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্যাফেটেরিয়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী ক্যাফেটেরিয়া তৈরির কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। নির্মীয়মান ক্যাফের মূল কাঠামোটি তারা ভেঙে দেয়। এ ছাড়া শুক্রবার সকালে পার্ক ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বাহাদুর শাহ পার্ক সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন। ঐতিহাসিক এ স্থাপনার মধ্যে স্থায়ীভাবে খাবারের দোকান নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করছেন।

বাহাদুর শাহ পার্কের অবস্থান সদরঘাট ও লক্ষ্মীবাজারের ঠিক মাথায় পুরান ঢাকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে। এর চারপাশ ঘিরে সাতটি রাস্তার প্রবেশপথ। চারপাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সেন্ট থমাস চার্চ ও ঢাকায় প্রথম পানি সরবরাহ করার জন্য তৈরি ট্যাংক।

এর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম দিকে ঢাকার জজকোর্ট। আরও অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে থাকা এ পার্ক ধারণ করে আছে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় শত শত সিপাহি এবং তাদের বেসামরিক সহযোগীদের এই পার্কে জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে পার্কটি আধুনিকায়ন করে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঐতিহ্যবাহী এই পার্কে পথচারীদের জন্য হাঁটার পথ, গণশৌচাগার, বেঞ্চ, সবুজ উদ্যান, অ্যাম্ফিথিয়েটার গ্যালারি, পার্কিং নির্মাণ করা হয়। নাগরিকরা যাতে ২৪ ঘণ্টা পার্কটি ব্যবহার করতে পারে, এ জন্য আলোর ব্যবস্থা করা হয়। বৃষ্টির পানি অপসারণে পার্কের চারপাশে চার ফুট গভীর ড্রেন করা হয়। পার্কের মেঝেতে বিছানো হয় নুড়িপাথর। ৮৫ দশমিক ৩ কাঠা আয়তনের এই পার্ক সংস্কারে ডিএসসিসির ব্যয় হয় ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

ব্যস্ত শহরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে আশপাশের অনেকেই এখানে নিয়মিত আসে। অনেকে সকাল-বিকাল-রাতের বেলা নিয়ম করে হাঁটে এখানে। শতাধিক লোককে পার্কে শরীরচর্চা করতে দেখা যায়।

এমনিতেই পার্কের নিরাপত্তা নিয়ে এলাকাবাসীর সংশয় আছে। আগে লোহার গ্রিল দিয়ে পুরো পার্ক আটকানো থাকলেও এখন পুরোটা খোলা। ফলে পার্কে আসা মানুষদের প্রায়ই পড়তে হয় ছিনতাইকারীদের কবলে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর থেকে পার্কে বেড়েছে নানা ধরনের অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্মৃতিসৌধের ওপরে চলে মাদকের আড্ডা।

বর্তমানে আশপাশে ভ্রাম্যমাণ হকার খাবারের পসরা সাজিয়ে বসায় এমনিতেই পার্কের চারপাশের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পথে। নিয়মিত পার্কে আসা লোকজন বলছে, স্থায়ীভাবে এখানে খাবারের দোকান হলে পার্কের সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। তখন মানুষের হাঁটাচলা করার সুযোগও আর থাকবে না। দোকান হলে পার্কের গাছগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পার্কে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে আসেন লক্ষ্মীবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক হাসান কনক। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমার ডায়াবেটিস। ৪০ বছর হলো এ পার্কে হাঁটাহাঁটি করি। এ পার্ক ছাড়া আশপাশে আর কোনো ফাঁকা জায়গা নাই। আমরা কোনোভাবে এ পার্কে ক্যাফে বা দোকান তুলতে দেব না।’

আফরোজা বেগম নামের আরেক এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার অলিগলিতে হাঁটা যায় না। তাই প্রতিদিন সকালে এখানে আসি। নিয়মিত হাঁটা লাগে। যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে বেশি দিন আর এখানে হাঁটাচলার পরিবেশ থাকবে না। এটা কোনোভাবেই নাগরিক সেবা হতে পারে না। এখানে ক্যাফে তৈরির কোনো প্রয়োজনই নেই।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউছুব ওসমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার বুক চিতিয়ে থাকা এই পার্কটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পার্কের মাঝে রাতের আঁধারে চালাচ্ছে দোকান নির্মাণের কাজ। এখনও যে মানুষজন এখানে এসে একটু শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়, কয়েক দিন পর আর তার সুযোগও থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এখন আর জনগণের জন্য কাজ করে না। সামাজিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন না করে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলেন, ‘আমরা আমাদের সব পার্ক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ইজারার আওতায় নিয়ে আসছি, যাতে পার্কগুলো ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় বাহাদুর শাহ পার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্কের মাঝখানে একটি ফুড ব্যান্ড থাকবে। তারা খাবার বিক্রি করবে এবং পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এতে করে পার্কটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
১১ জেব্রার মৃত্যুতে মামলা
উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক
সাফারি পার্কে এবার আফ্রিকান লেমুরের মৃত্যু
ঘাসে অতিরিক্ত নাইট্রেটের প্রভাবে গাজীপুরে জেব্রার মৃত্যু
সাফারি পার্কে ১১ জেব্রার মৃত্যু: হচ্ছে ফৌজদারি মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
12 thousand tons of vegetables in one village

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি তোলা সবজি বাছাই করে বাজারে নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ সরবরাহ করা হয়।’

মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, বেগুন, করলাসহ হরেক রকম সবজির ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। সবজি তোলা, সেগুলো বাছাই করে বাজারে নিয়ে যেতেই ব্যস্ত কেউ কেউ। কেউ আবার সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মাশকাটা ধনপোতা গ্রামের কৃষকরা।

গ্রামটি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নে। গ্রামটিতে বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার টন সবজি। আর এগুলো বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে। এখান থেকেই বছরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সবজি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের ধনপোতা, খরিবনিয়া, চাকুলি ও কুমারখালী বিল। এই চার বিলের ১৪০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, বেগুন, করলা, তরমুজ, বাঙ্গিসহ নানা জাতের সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় চার শতাধিক কৃষক।

মৎস্য ঘেরের পাড়ে উৎপাদিত এসব সবজিতে কোনো প্রকার রাসায়নিক, কীটনাশক ও সার দেয়া হয় না। প্রাকৃতিক বালাইনাশক ও জৈব সার ব্যবহার করে এসব সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান এখানকার কৃষকরা।

ধনপোতা গ্রামের কৃষক জীবন পাল বলেন, ‘আমাদের এই গ্রামের আশপাশের চারটি বিলে আমরা চার শতাধিক কৃষক মৎস্য ঘেরে মাছ ও সবজি চাষ করি। আমরা মাছের ঘেরে লাইলে সবজি চাষ করার কারণে সবজিতে কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না। কারণ এ ধরনের কীটনাশক বা সার পানিতে পড়লে মাছ মারা যাবে।’

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

তিনি বলেন, ‘আমি সবজির পাইকারি ব্যবসাসহ নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি ঢাকা, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আড়তে বিক্রি করি। এই সবজি বিক্রির টাকা দিয়েই আমি একটি বাড়ি করেছি ও একটি মোটরসাইকেল কিনেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে আমার আয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।’

একই গ্রামের কৃষক বাসু দেব বলেন, ‘রাসায়নিক সারের বদলে আমরা ভার্মি কমপোস্ট ও জৈব সার এবং কীটনাশকের বদলে নীম পাতার রস দিয়ে প্রাকৃতিক বালাইনাশক স্প্রে করি। এ ছাড়া মেহগনি গাছের ফলের বিজ দিয়ে স্প্রে করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আমাদের চাষ করা প্রায় প্রতিটি সবজির ব্যাপক ফলন হচ্ছে। এতে আমাদের মাছের চেয়ে সবজিতে বেশি লাভ হচ্ছে।’

কৃষক মকবুল শেখ বলেন, ‘ফকিরহাট কৃষি অফিস থেকে আমাদের গ্রামের চার শতাধিক কৃষককে বিভিন্ন সময় মাছের ঘেরে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসার এসে আমাদের হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে উচ্ছ ফলনশীল বীজ। সব মিলিয়ে সবজি চাষে আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষই এখন স্বাবলম্বী। কেউ বেকার বসে নেই।’

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ সরবরাহ করা হয়।

‘এর সুফল হিসেবে বছরে চারটি বিল থেকেই উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার টন সবজি। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি।’

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সুবাদে পাইকার সবজি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করছেন। ধনপোতা গ্রামের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে সবজির পাইকারি হাট। কৃষকরা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে ওই স্থানগুলোতে রাখেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাক করে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফকিরহাট উপজেলাকে কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। আশা করছি ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের দেখে অন্য কৃষকরাও বিষমুক্ত সমন্বিত কৃষিতে আগ্রহী হবেন।’

আরও পড়ুন:
তিন বছরে মাল্টার বাগানে ফলন ৩ গুণ
কলা চাষে লাভবান নাটোরের চাষিরা 
ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা
‘বড় বিপদে আছি বাপু’
ব্রহ্মোত্তর এখন সবজির গ্রাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How is the child who gives news in the madrasa?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’ ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী। ছবি: সংগৃহীত
১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন: ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী

হাফিজি মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বেধড়ক মারধর নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন একজন ধর্মীয় বক্তা। তিনি আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে সন্তানদের না পাঠানোর অনুরোধও করেছেন। বলেছেন, যেভাবে মাদ্রাসায় নির্যাতন করা হয়, তার খানিকটা তার ওপর করা হলে তার ইমান থাকত না।

শিশুদের হাফেজখানায় না দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ম্যাজিস্ট্রেট বানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, হাফেজ বানালে জাতির কোনো লাভ হয় না।

তিনি বলেন, কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ বানানো বাধ্যতামূলক বা ফরজ না। ফরজ হচ্ছে কোরআন সঠিকভাবে এক পারা শেখানো। সবাই এক পারা শিখলেই গোটা দেশ পাল্টে যাবে।

এই ধর্মীয় বক্তার নাম রফিক উল্লাহ আফসারী। বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামে।

তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা কামিল মাদ্রাসায় চাকরি করেন। পাশাপাশি ওয়াজ করেন।

সেই এলাকাটা অনেকটা নোয়াখালী লাগোয়া। তার ভাষা নোয়াখালীবাসীর মতো।

এই ধর্মীয় বক্তা মাদ্রাসায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুদের পেটালে সরাসরি থানায় যেতে বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে সরকার যেন এসব মাদ্রাসায় নজরদারি করে, সেই দাবি তুলেছেন।

রফিক আফসারী নিজেও তার সন্তানকে মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। এর পরই সেখানকার চিত্র জানতে পেরেছেন বলে জানান। বলেন, তিনি নানা অভিযোগের বিষয়ে স্বচক্ষে দেখতে নানা কৌশলে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন।

সম্প্রতি তার একটি ওয়াজের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এর পর থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। বহুজন বলছেন, মাদ্রাসায় নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে অন্তত একজন আলেম মুখ খুলেছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

তবে এই ওয়াজেই আফসারী শঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব বক্তব্য দেয়ার কারণে তার ওপর চড়াও হবেন কওমিপন্থিরা।

যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, ওয়াজে যে শঙ্কার কথা তিনি বলেছিলেন, সেটি সত্য হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় কওমিপন্থিদের রোষানলের কারণে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

কওমি মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী শিশুকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় মায়ের করা মামলায় এক শিক্ষককে গত বছর ১৮ মার্চ কারাদণ্ড দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালত। সেই বছর হাটহাজারীর এক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে পেটানোর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

‘হাফেজ বানিয়ে লাভ কী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানান’

হাফেজি পড়ে জাতির কোনো লাভ হয় না বলে মনে করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত স্টাডি করে দেখেন, কয়জন মানুষ হইছে, জাতিকে কিছু দিতে পারছে। পারছে?

‘১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন।’

তিনি বলেন, ‘হাফেজ কোনটা বড় আলেম হইছে দেখান না। আপনি পড়ান কম, যাতে এক পারা হাফেজ হলেও ছেলেটা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

এই সত্য তুলে আনায় হুজুররা গালিগালাজ করবে জানিয়ে আফসারী বলেন, তাতে তার আক্ষেপ নাই। তিনি বলেন, ‘করুক তাতে কী? আমার আল্লাহ যদি আমার প্রতি খুশি থাকে, আমার কারণে যদি একটা ছেলে মাইর থেকে বাঁচে, এই আনন্দ আমি রাখি কোথায়?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

জামালপুরের ইসলামপুরে তিন মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। ফাইল ছবি

‘আমার কারণে যদি একটা ছেলে কয়, আফসারী ভাইয়ের বক্তব্যের কারণে আমি এই নির্যাতন থেকে বাঁচি আইছি, দেখবেন যে সে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে যাবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে যাবে।

‘খালি হুজুর হইলে যে খেদমত করা যাইব, সেটাও তো নয়। পুলিশ অফিসার হইলেও তো খেদমত করতে পারব। প্রত্যেকের অবদান আছে একটি দেশ বিনির্মাণের জন্য।’

‘মাদ্রাসায় বাচ্চারা কেমন আছে খবর রাখেন?’

মানুষ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় শিশু পাঠানোর পর সেখানে তারা কেমন আছে, সেই খোঁজ নেয়ার তাগিদ দেন রফিক আনসারী। বলেন, পিটুনি ছাড়াও যেনতেন থাকার জায়গা, নিম্নমানের খাবারের কারণে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আফসারী বলেন, ‘যে মারটা দেয় ভাই! খবর নেন? সরল বিশ্বাসে আপনেরা হাফিজি মাদ্রাসায় দিয়ালান। কত মাইর দেয়! এই ছোট পোলাইনগুলার বদ দোয়া…। প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হলে সরকার হ্যাতেরে দুইটা বছর ট্রেনিং দেয়, পিটিআইয়ের ট্রেনিং দেয়, আগে শেখ, পরে পড়াইস। হ্যাতেরা তো হেফজ হইয়াই দৌড় দিয়া হাফিজি মাদ্রাসায় আয় তামা করে লায় পোলাইনগুলারে পিডায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার চোখে দেখা, হাজার হাজার প্রতিবন্ধী, ব্রেইন আউট…। মা-বাপেও হেরে দেয়া লাই, বান্দি (বেঁধে) দিয়া হেরে দেয়া লাই। এবার হুজুরে কয়, গেছসনি আব্বার বাইত? দিছে কি হে জায়গা?

‘আল্লারে পোলা নিজের মাথা নিজে ওয়ালের লগে ফিডে (পেটায়)। কত কষ্ট পাইলে হেতে তিন তলাত্তন (তিনতলা থেকে) ঝাঁপ দিয়া মরে?’

আফসারী বলেন, ‘প্রবাসী যারা শুনতেছেন, আপনাগো বউরা তো দিয়া দেয় মাদ্রাসায় মানুষ করবার লাই। আপনার পোলারা কি সুখে আছে, চায় লইয়েন (দেখে যাবেন)। জীবনেও মানুষ হবে না। মার কাছে থাকব। হ্যাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা পারে পড়ব।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’
হাফিজি মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

‘এই ল্যাদা (ছোট) পোলাপানের হার্ট নষ্ট করিয়া লায়…। ডাইলের (ডাল) পানি খায় (খেয়ে) হুজুরগোর ঘেটি (ঘাড়) মোটা মোটা হই গেছে। আর পোলাইনটিরে কী কইচ্ছে?’

১০০টির মধ্যে ৯৮টিতেই মারধর চললেও শিশুরা ভয়ে কিছু বলে না বলেও জানান আফসারী। বলেন, ‘আপনি যখন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। হুজুর সুন্দর করি বলবে কেমন আছেন। পুতেও কয় না। এমন মেডিসিন খাওয়ার দিছে। ডরে (ভয়) কয় না। এডি (হুজুর) জেএমবির থেকেও আরও বেশি ভয়ংকর। আর হুতেরে ফোন দিলে কয়, আব্বু ফোন দিলে আরে মারিয়ালাইব। এমন সিস্টেম করে ডরে বাড়িও কয় না।’

পিটুনিতে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে ছাত্ররা

নিজের এক স্বজনের কথা তুলে ধরে আফসারী বলেন, ‘আমার আত্মীয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে সে একজন। এখন ব্রেইন আউট, কী কী বলে।

‘সেই ছেলে বলে- মাগো, বেড়াইতাম আইতাম, আব্বা আমারে বাইন্দা মসজিদে আনত। মাগো হেইনো (সেখানে) আমার কী মাইর দিত গো মা! আমি কইলে তো বিশ্বাস করতা না। কইতেন পড়ার ডরে আমি এইডি কই। আমার তো ব্রেইন আউট কইরালাইছে।’

নিজের সহকারী মো. জহিরের ভাগনেরও একই অবস্থা হয়েছিল বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘তার এক ভাগিনা, হাতে তো মারে না।’

রফিক আনসারী তার মাথা নিচু করে দেখান। বলেন, ‘সিস্টেম করে কয় মোহাম্মদ, এমনে থাক।

(শিশুটা) কান্দি (কেঁদে) উডি হয়, ‘হুজুর আমার দম গেছে গা তো।’

‘মাথা উডলে গো গেডির (ঘাড়ে) বাইরে পিডব।

‘তুই এমনে থাহস না, ৩০ সেকেন্ডে স্ট্রোক করবি।

‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই।

‘এরপর মাথা উডায়।

‘এরপর আবার তারে মাথা নিচে নামায়। এরপর বাচ্চাডা আবার বলে, ‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই। এভাবে বাচ্চাডা প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে এখন।’

‘এমনে মারলে আমার ইমান থাকত না’

হাতের আঙুলে পেটানোর ভঙ্গি দেখিয়ে আফসারী বলেন, ‘হ্যায় হায় রে… গিরাবায় মারে। আমারেও যদি গিরাবায় মারে আমি ইমান রাখতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আপনার হুতেরে সিজদার মধ্যেও পিডায়। বলে সিজদা দে, আর মারে। আহারে লেদা পোলাডা।…সেদিন এক ভিডিওতে দেখছি, এক হুজুরে পাজাকোলা করে এক বাচ্চারে ধইরা রাখছে, আর আরেক হুজুরে রুল দিয়া পায়ের পাতার মধ্যে মারছে। কত জোরে কাঁদছে বাচ্চাটা, মাগো, মাগো, মাগো। বইলা বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়।’

যত ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটে, তার মধ্যে হাতে গোনা এক-দুইটাই প্রকাশ হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, এক কোটির মধ্যে আল্লাহ দুই-একটা বাইর কইরা দেয়, দেখায়, তোদের পোলারে এভাবে পিডায়।’

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের মারা নিষিদ্ধ বলে তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘নবী মারছে? সাহাবা একরাম মারছে?'

গভীর রাতে শিশুদের জোর করে ঘুম ভাঙানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাগো, লেদা (ছোট) পোলারে ৩টায় উঠায় দেয় পড়বার লাই (পড়ার জন্য)। হ্যাতের ওপর (যার ওপর) নামাজ ফরজ হয় নাই, অথচ তাকে দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ায়! হ্যাতের মাথায় আবার পাগড়ি দিয়া বাইন্দা লয়, ওমা এইটা কী জিনিস?’

‘প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে’

অভিভাবকদের চুপ থাকার কোনো কারণ দেখছেন না রফিক আনসারী। বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে। প্রত্যেক অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রিপোর্ট করবেন। মারব, আর ডাইরেক্ট যাবেন থানায়। এই হুজুরের আর দরকার নাই।’

তার কথা না শুনে মাদ্রাসায় দিতে থাকলে কী হবে, সেটি জানিয়েও সতর্ক করেন আফসারী। বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যায় ভুগবেন। বাচ্চা প্রতিবন্ধী হই যাইব। একটা বাচ্চা যদি অসুস্থ হয়, লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি। আপনার পারিবারিক অশান্তির কারণ হবে। কোনো অবস্থায় আবাসিক রাখবেন না। আফসারী কইলেও হ্যাতের কাছেও দিয়েন না। বাচ্চারে মায়ের কোলের মধ্যে হুতাইবেন।

‘সমাজসেবা অধিদপ্তরে এগুলার জন্য মামলা দিবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররে কইবেন, কীয়ের মাদ্রাসা দিছে? খেলার জায়গা কই। প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুলের দিকে তাকিয়ে দেখিয়েন, কত সুন্দর মাঠ আছে।

‘পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে আমাদের এই প্রাইমারি স্কুল। আমরা প্রাইমারি স্কুল থেকে মানুষ হইছি। ফাইভ পাস করে তারপর মাদ্রাসায় আইছি।’

‘সব কথা বলাও যায় না’

মেয়েদের মাদ্রাসায় কী হয়, সেটির বিষয়ে আফসারী কথা শুরু করেও শেষ করেননি। বলেন, সব কিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট মাইয়ার বোর্ডিংয়ে দেন। রুমের চাবি কয়টা কইতে পারবেননি? ১৮টা। সব কথা তো টেলিভিশনে বলা যায় না। কী কইতাম। জাতিটারে ধ্বংস করি দিতেছে তো। কোনো অবস্থায় বোর্ডিংয়ে দিবেন না। কাছে রাইখব্যান।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘কোনো হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্রকে আপনে বোর্ডিংয়ে দিয়েন না। মার কলিজার মধ্যি হুতি ঘুম যাইব, দিনের বেলা পড়ব’- বারবার এই কথাটি বলেন তিনি।

ভালো খাবার না দিয়ে মিথ্যা শেখানো হয়’

রফিক আনসারী বলেন, ‘বিকেল বেলা খেলতে দেয় না, লক্ষ লক্ষ মাসুম বাচ্চারে জবেহ করে দিছে তারা।’

শিশুদের ভালো না খেতে দিলেও তাদের মিথ্যা কথা শেখানো হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘পাঙ্গাশ মাছ দেয়। আর শেখায় মাংসের কথা বলতে।’

এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি হাসতে থাকলে তার উদ্দেশে আনসারী বলেন, ‘আমার রক্ত গরম হয়ে যায়, কলিজা ছিদ্র হয়ে যায়, আর আপনি হাসেন!’

তিনি বলেন, ‘(মা বলে) কিরে পুত কী দিয়া খাওয়াইছে? কয় গোশত। আসলে এক মাসের খানাতেও নাই গোশত। কত সেয়ানার সেয়ানা আমরা। আঁই (আমি) তো এইডি শিখছি, শিইখ্যাই তো কইলাম।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

ঢাকার সাভারের মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলার পলাতক আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আলামিন হাসান সাইমকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ফাইল ছবি

শিশুরা মায়ের কাছে থাকাই উত্তম উল্লেখ করে আনসারী বলেন, ‘মায়ের কাছে থাকলে বিকেলে একটু আমড়া খাইত, আমলকী খাইত, ১০০ কেজি আপেলের চেয়ে শক্তিশালী। একটা ডিম খাওয়াইত মা। পোলাপানেরে মা কত যত্ন করি খাওয়ায়। হেয়ান হ্যাতে শুইয়া রইছে মশারিও তো নাই।’

মুরাদনগরে একটি মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ল্যাদা পুলারা কাশতে আছে। ঘরে কাশলে তো মা উঠি যাইত ঘুমেত্তে। বাড়িত থাকলে তো আমি উঠে উঠে দেখি, ফ্যানটা জোরে চলেনি, আমার পুলায় কাশি দিল কেন?

‘এই সার্ভিসটা কি হুজুরে দিব তরে? তুই তোর হুতেরে হত্যা করিয়া লাইছত, বোর্ডিংয়ে দিয়ে।’

সরকারকে নজরদারির তাগিদ

যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসা দোকানের মতো করে ফেলছে মন্তব্য করে আফসারী বলেন, ‘মার্কেটের ভেতরে মাদ্রাসা। আল্লাহ, সরকার এগুলোর দিকে নজরদারিও করার তওফিক দাও।’

এসব বক্তব্য দেয়ায় সমালোচনা হবে, সেটি আগেই উল্লেখ করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘কাইল সকালে এই ভিডিও দেখব আর আমারে হুজুরেরা গাইল্যায়া শেষ করি দিব। কইব, হ্যাতে ইসলামবিদ্বেষী।’

তিনি বলেন, 'আমার পুতেরে হেফজ পড়ানে সব গুমর আল্লায় আমারে শিখায়ালাইছে। তিন-চারবার আমার পুতের নাম কাডিয়ালায়। দুঃখ কারে কই, আমার মতো সচেতন, প্রভাবশালী একজন অভিভাবকের সঙ্গে যদি হুজুরে এসব করে, তাহলে গরিব পোলাপানরে তো হুজুরে পাত্তাও দেয় না।'

আরও পড়ুন:
আজব মাদ্রাসায় সুপারের তেলেসমাতি
কুমিল্লা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান জামাল নাসের
বামপন্থায় কীভাবে দীক্ষিত হচ্ছে কওমি ছাত্ররা?
অন্তর্দ্বন্দ্বে বেহাল উত্তরাঞ্চলের নামি বিদ্যাপীঠ
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

মন্তব্য

p
উপরে