× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The driver Hepler was killed in the collision between the two trucks
hear-news
player
print-icon

দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক-হেলপার নিহত

দুই-ট্রাকের-সংঘর্ষে-চালক-হেলপার-নিহত
প্রতীকী ছবি
ওসি জানান, সকাল ৮টার দিকে ঢাকামুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাক শাহপুর এলাকায় এলে সিলেটমুখী অপর একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার শাহপুর এলাকায় সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার রুবেল হোসেন ও একই জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার আহাদ আলী। এর মধ্যে রুবেল ট্রাকচালক ও আহাদ হেলপার।

ওসি জানান, সকাল ৮টার দিকে ঢাকামুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাক শাহপুর এলাকায় এলে সিলেটমুখী অপর একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ঢাকামুখী ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হন।

মাঈনুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে ও মাধবপুর থানা পুলিশ আহত অপর ট্রাকের হেলপার মাজেদকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
লেগুনার ধাক্কায় দম্পতিসহ অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত
মধ্যরাতে প্রাইভেট কার ধাক্কায় চবি শিক্ষক নিহত
সড়ক পারের সময় গাড়ির ধাক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিহত
চকরিয়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ কেন নয়: হাইকোর্ট
শ্যামলীর বাসচাপায় মৃত বেড়ে ৩

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A Leagues conflict behind house attacks and looting in Singra

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব নাটোরের সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া বাজারে সোমবারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর। ছবি: নিউজবাংলা
ফেসবুকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর পোস্ট ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার গুঞ্জন উঠলেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই তা নাকচ করেছে। বলেছে, বিগত উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।

নাটোরের সিংড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এই হামলার ভিকটিমরাও ক্ষমতাসীন দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অবশ্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফা জেসমিন কণিকার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলার রূপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

সরেজমিন এলাকাবাসী, প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাটির ভিকটিম কোনো সংখ্যালঘু পরিবার নয়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে দুই ইউপি সদস্যের পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই হামলা-লুটপাটে নেতৃত্ব দেন সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ হোসেন ও ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। আর তাকে মদদ দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম।

এ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন কণিকা। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সহসভাপতি পোস্টে যোগ করেন, ‘এসব তথ্য সাংবাদিক ভাইদের নিকট থেকে প্রাপ্ত।’

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব
ইউপি সদস্যের কার্যালয়েও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

কণিকা পোস্টে লেখেন-

‘নাটোরের সিংড়ায় ৩নং ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের নেতৃত্বে পাকুরিয়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২টি বাড়ি ও ৬টি দোকানে ১৯৭১ ও ২০০১-এর মত ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মুক্তা ঠাকুর এবং মানিক ঠাকুরের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। লুটপাটের মালপত্র ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়।

‘গতকাল সোমবার বিকাল ৪টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরিফ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এ তাণ্ডব চালায় তার সমর্থকরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।

‘গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই আরিফ চেয়ারম্যান ৭টি ইউনিয়নে ঘোড়া মার্কার বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছে। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকেই। প্রতিটি ইউনিয়নে তারা একইভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমন, নির্যাতন, নিপীড়ন চালাচ্ছে। দল এবং প্রশাসন এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি।

‘নির্যাতিতদের ভাষ্যমতে, তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আধ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেছে। কিন্তু সিংড়া থানা পুলিশ ফোন রিসিভ করেনি। লুটপাটের পর সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ কথা বলারও সাহস পাচ্ছে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনের কাছে আমি এই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।’

প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সিংড়ায় তোলপাড় শুরু হয়। সিংড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয় উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় ওঠে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। আর তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতেও আঘাত করেছে।

এ প্রসঙ্গে আরিফা জেসমিন কণিকা বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছে হামলার বিষয়টি শুনে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েছি আমি। কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলিনি বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে তাও উল্লেখ করিনি।’

এ বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। এটাকে কেউ কেউ ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

ফেসবুকে স্ত্রীর পোস্ট দেয়ার বিষয়ে পলক বলেন, ‘ফেসবুকের পোস্ট যার যার নিজস্ব বিষয়। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব
নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরুর পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান, নাটোর পৌরসভার মেয়র ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উমা চৌধুরী জলি, সিংড়ার পৌর মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার, থানার ওসি নুর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যের পূর্ববিরোধের জের ধরে। মূলত ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকেই এটি ঘটেছে। কোনোক্রমেই সাম্প্রদায়িক কোনো হামলা নয়। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘জাহাঙ্গীর মেম্বার ও আলিফ মেম্বার এখানে ইলেকশন করেছেন। নির্বাচনে জাহাঙ্গীর নির্বাচিত হয়েছেন। তখন থেকেই তাদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এখানে একটি মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ দুজনের মাঝে আবারও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে আলিফ মেম্বার তার লোকজন নিয়ে জাহাঙ্গীরের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।

‘এ ঘটনায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা মামলা নিয়েছি। যারা এই অঘটন ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার আলিফ হোসেন ও ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে পাকুরিয়া বাজারে এসে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়, সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তা লাল চক্রবর্তীর মার্কেট এবং অ্যাডভোকেট মানিক লাল চক্রবর্তী চেম্বারসহ ৮ থেকে ১০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা পাকুরিয়া বাজারে দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে মুক্তা লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতা-কর্মীরা প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার হাইব্রিড আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকুরিয়া বাজারে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তবে এটা কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।’

মুক্তা লাল চক্রবর্তীর বড় ভাই অ্যাডভোকেট মানিক লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের সমর্থনে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ভোটে জয়ী হয়। এর পর থেকেই চেয়ারম্যান আরিফের সমর্থকরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। আর প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালিয়েছে। আমার চেম্বার ভাঙচুর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি লুটপাট করেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও সময়মতো সাহায্য পাইনি। তবে এটা কোনো সাম্প্রদায়িক ইস্যু নয়।’

বর্তমান ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি। হামলাকারীরা বাজারে তাণ্ডব চালিয়েছে। আমার দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলিফ হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জের ধরে ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পক্ষ থাকলে নাম আসবেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি বিচলিত নই।’

ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। প্রথম থেকেই ঘটনাটি সম্প্রদায়িক ইস্যুতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

‘সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফা জেসমিন কণিকার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তিনি কেন যে আমাকে দেখতে পারেন না তা আমি নিজেও জানি না। ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক তা আমিও চাই। দুই মেম্বারের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে আমার জড়ানোর প্রশ্নই আসে না।’

সিংড়া থানার ওসি নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনায় মুক্তা লাল চক্রবর্তী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনের নামে একটি মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ ও সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The youth was chased and hacked to death

যুবককে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা

যুবককে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা
নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে শেখ মর্তুজার পদ আছে।’

বগুড়ার শেরপুরে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শেরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সন্ধ্যার দিকে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

৩৫ বছরের শেখ মর্তুজা অভি উপজেলার খন্দকারপাড়ার হোসেন কামাল ফুয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে হাট-বাজার ইজারা ও স্টক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়াও শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির নেতা ছিলেন।

তার উপর হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন ছিলিমপুর মেডিক্যাল ফাঁড়ির এএসআই লালন হোসেন।

তিনি বলেন, ‘শেখ মর্তুজাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সন্ধ্যায় শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। মরদেহ হাসপাতালের ম‌র্গে রাখা আছে।’

শেরপুর থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার স্থানীয়ের বরাতে জানান, সন্ধ্যায় শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিজের বাইক পরিস্কার করতে নিয়ে আসেন মর্তুজা। তখন ক‌য়েকজন অস্ত্রসহ হামলা করলে তিনি দৌঁড়ে কাছের একটি জঙ্গলের দিকে যেতে নেন। ধাওয়া করে সেখানে তাকে ধরে এলোপাতারি কু‌পি‌য়ে দুর্বৃত্তরা পা‌লি‌য়ে যায়।

স্থানীয়রা মর্তুজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি বলেন, ‘পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত‌্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জ‌ড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।’

নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে শেখ মর্তুজার পদ আছে।’

আরও পড়ুন:
ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা
ঘোড়াঘাটের ইউএনওকে হত্যাচেষ্টার রায় ৪ অক্টোবর
সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব
‘চাচার প্রতি ক্ষোভে’ চাচাতো ভাইকে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The mother found the sons bloody body in the garden

ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা

ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল থেকে নিখোঁজ লাবন। বুধবার বেলা ১২টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি লেবু বাগানে লাবনের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পান তার মা।

শেরপুরে নিখোঁজের পরদিন স্কুলছাত্রের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের সূবর্ণচর গ্রামের বাড়ির পাশে লেবু বাগান থেকে বুধবার দুপুরে উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।

নিহত ১৩ বছরের নাঈম ইসলাম লাবন সূবর্ণচর গ্রামের মাসুদ আলীর ছেলে। ঘুঘুরাকান্দি মডেল অ্যাকাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত সে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হান্নান মিয়া এসব নিশ্চিত করেছেন।

স্বজনদের বরাতে তিনি জানান, লাবন মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যায়। সন্ধ্যায় পর বাড়ি না ফেরায় তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে পরিবার। বুধবার বেলা ১২টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি লেবু বাগানে লাবনের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পান তার মা।

পুলিশে তার মরদেহ শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।

লাবনের বাবা মাসুদ মিয়া জানান, ছেলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের ছ্যাকা দেয়ার চিহ্ন দেখেছেন। পুরুষাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা হান্নান জানান, যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন:
‘চাচার প্রতি ক্ষোভে’ চাচাতো ভাইকে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
জমি নিয়ে বিরোধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেশীর আমবাগানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
More than 400 people are missing in Chandpur Sadar in 9 months

চাঁদপুর সদরে ৯ মাসে নিখোঁজ চার শতাধিক

চাঁদপুর সদরে ৯ মাসে নিখোঁজ চার শতাধিক চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৯ মাসে নিখোঁজের জিডি হয়েছে চার শতাধিক। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি আবদুর রশিদ বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের ঘর ছাড়ার মূল কারণ সামাজিক অবক্ষয় এবং সোস্যাল মিডিয়া। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় চার শতাধিক নিখোঁজের ডায়রি হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে দুই শতাধিক। বাকিগুলো তদন্তাধীন।’

চাঁদপুরে সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনায় বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা। শিশু, বিবাহিত নারী ও কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় চলতি বছরের নয় মাসে সদর থানায় চার শতাধিক ডায়েরি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুধী সমাজ।

আহমদ উল্লাহ তানভীর চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ তিনি। সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সময় কাটছে দুশ্চিন্তায়।

তানভীরের বাবা আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমার ছেলে মাস্টার্স পাস করার পর কোনো চাকরি পাচ্ছিল না। আমি, ওর মা ও বোন বিভিন্ন সময় তাকে চাকরির জন্য বলতাম। এ নিয়ে আমার ছেলে মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকত। হঠাৎ করে সে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

‘অনেক চেষ্টা করেও ছেলের খোঁজ পাইনি। ছেলে বাড়ি ছাড়ার পর দুশ্চিন্তা করেই ওর মা মারা যায়। আমরা ওর অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী নিখোঁজের ঘটনায় চার শতাধিক সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে থানায় এসব জিডি করে।

নিখোঁজদের মধ্যে পরকীয়া ও প্রেম-ভালবাসা এবং পারিবারিক কলহে ঘর ছাড়ার সংখ্যাই বেশি। সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভূমিকার পাশাপাশি পরিবারের লোকজনদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছে সুশীল সমাজ।

নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় ঘর ছেড়েছে কথিত প্রেমিক যুগল। পারিবারিক কলহেও অনেকে ঘরছাড়া। পরকীয়ার ঘটনাও আছে। তবে নিখোঁজদের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন, বৃদ্ধা ‌এবং শিশুও রয়েছে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইয়াহ ইয়া খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের অধিক সচেতন হতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে- এমন সব তথ্য অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আমাদের সময়ে সময়ে জানানো উচিত।’

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, ‘ইদানীং দেখা যাচ্ছে তরুণ সমাজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই শোনা যায় অমুককে খুঁজে যাওয়া যাচ্ছে না। ‘এক্ষেত্রে পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রশিদ বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের ঘর ছাড়ার মূল কারণ সামাজিক অবক্ষয় এবং সোস্যাল মিডিয়া। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় চার শতাধিক নিখোঁজের ডায়রি হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে দুই শতাধিক। বাকিগুলো তদন্তাধীন।’

আরও পড়ুন:
১৫ দিন ধরে একসঙ্গে নিখোঁজ কুমিল্লার ৭ শিক্ষার্থী
‘নিখোঁজ’ সেই পুলিশ সদস্য এখন নেদারল্যান্ডসে হোটেল বয়
‘আমার পাপাকে ফিরিয়ে দিন’
আমার মেয়েকে জীবিত ফেরত চাই: সুকন্যার মা
নদীতে নিখোঁজ দুই শিশুর একজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Japa Vice President Manik expelled

জাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট মানিককে বহিষ্কার

জাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট মানিককে বহিষ্কার একেএম আব্দুর রউফ মানিক। ছবি: সংগৃহীত
আব্দুর রউফ মানিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব। আমাকে রওশন এরশাদ ভোট করার অনুমতি দিয়েছেন। এ কারণে দল আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বহিষ্কারের পর এবার দল থেকে বাদ পড়লেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান একেএম আব্দুর রউফ মানিক।

বুধবার জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট গোলাম মোহাম্মদ কাদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে মানিককে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/(১) ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো- যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

একেএম আব্দুর রউফ মানিক টানা আট বছর সাবেক রংপুর পৌরসভার মেয়র ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে একেএম আব্দুর রউফ মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব। আমাকে রওশন এরশাদ ভোট করার অনুমতি দিয়েছেন। এ কারণে দল আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি
রওশন এরশাদ তার ছেলে ও দুই-একজনের কাছে জিম্মি: চুন্নু
রাঙ্গাদের ফেরাতে কাদেরকে চিঠি রওশনের
রওশনকে অপসারণ: এবার পাল্টা চিঠি পাঠাবেন রাঙ্গা
জাতীয় পার্টি থেকে রাঙ্গাকে অব্যাহতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One was serving the sentence of the other this time both of them were facing punishment

একের সাজা খাটছিলেন আরেক, এবার শাস্তির মুখে দুজনই

একের সাজা খাটছিলেন আরেক, এবার শাস্তির মুখে দুজনই আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ হেফাজতে জুয়েল (বায়ে) ও জাকির। ছবি: নিউজবাংলা
কোর্ট ওসি জানান, আদালতের শুনানিতে প্রকৃত অপরাধী জুয়েলের আইনজীবীকে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ ঘটনার ব্যাখা দিতে বলা হয়।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাকিরের পরিবর্তে ছদ্মনাম ধারণ করে সাজা ভোগ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন জুয়েল নামে আরেকজন।

এ অবস্থায় প্রকৃত আসামিকে জেলে পাঠানোর পাশাপাশি জুয়েলের বিরুদ্ধেও মামলা করার আদেশ দিয়েছে আদালত।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামছুর রহমানের আদালত বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেয়।

এ সময় মাদক মামলা থেকে জুয়েলকে অব্যহতি দেয়া হলেও জাকিরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মাদক মামলাটির সাজাপ্রাপ্ত জাকির বন্দর উপজেলার নূরবাগ এলাকার সামেদ মিয়ার ছেলে। তার পরিবর্তে আসামি সেজে সাজা ভোগ করতে যাওয়া জুয়েল বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের আলাউদ্দিনের ছেলে।

আদালত পুলিশের পরির্দশক আসাদুজ্জামান জানান, মাদক মামলার মূল আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তাকে সহ তার হয়ে সাজাভোগ করতে আত্মসমর্পণ করা জুলেকেও আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় দুজনের কথায় বেমিল পান বিচারক।

পরে জাকিরের হয়ে সাজা ভোগ করতে আসা জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতের কার্য ধারায় ভুয়া আসামি সেজে প্রতারণা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায় ফতুল্লা মডেল থানায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী জহিরুল ইসলামকে মামলা করার নির্দেশ দেয় আদালত।

কোর্ট ওসি জানান, শুনানিতে জুয়েলের আইনজীবীকে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ ঘটনার ব্যাখা দিতে বলা হয়।

এ সময় রোকেয়া সুলতানা নামে ওই আইনজীবী আদালতকে জানান, জুয়েল তার কাছে গিয়ে দাবি করেন- তিনি জাকির। মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি জানতেন না যে জুয়েল মিথ্যা বলছে। এ কারণে তিনি তাকে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন আবেদন করেন।

তবে যাচাই-বাছাই না করে জুয়েলকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করায় আদালতে ক্ষমা চান রোকেয়া সুলতানা। পরে আদালত তাকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে আইনজীবী রোকেয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাকিরের স্ত্রী জানান, জাকির দুই বার বিদেশে গেছেন। বর্তমানে ভাতের হোটেলের ব্যবসা করেন। তবে জুয়েলকে তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন।

জুয়েলের পাশের এলাকার বাসিন্দা নিজাম মিয়া বলেন, ‘জুয়েল ও জাকির একে অপরের পূর্ব পরিচিত। জুয়েল বিভিন্ন মামলায় এর আগে একাধিকবার জেল খেটেছে। ছোটখাটো অর্থ তাদের মধ্যে লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।’

একের সাজা খাটছিলেন আরেক, এবার শাস্তির মুখে দুজনই

ওই মাদক মামলা থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের রসূলবাগ এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ জাকিরকে আটক করে পুলিশ। পরে জাকির পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন যে- তিনি বিদেশ থেকে ফিরে মাদক বিক্রি শুরু করেছেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেন বন্দর থানার তখনকার এসআই মোকলেছুর রহমান। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে যান জাকির। পরে ওই বছরই ৩ মে আদালত থেকে জামিন পান জাকির। এরপর থেকে হাজিরা দিচ্ছিলেন।

২০১৭ সালের ৮ আগস্ট আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পংকজ কান্তি সরকার। পরে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোরর সবশেষ আদালতে হাজিরা দেন জাকির। এরপর থেকেই তিনি পলাতক। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী জহিরুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের ১০ আগস্ট জাকিরের অনুপস্থিতিতে ওই মামলার রায় হয়। রায়ে জাকিরকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়।

তবে গত ১২ সেপেম্বর জুয়েল নামের ওই ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে দাবি করেন তিনিই সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকির। এ সময় তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জুয়েলকে কারাগারে পাঠায়।

তিনদিন পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, তিনি জাকির নন। তার নাম জুয়েল। এ নিয়ে কারাকর্তৃপক্ষ আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক মামলায় ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট থেকে ৩ মে পর্যন্ত যে আসামি কারাগারে ছিলেন তার সঙ্গে বর্তমানে আত্মসর্মপন করা ব্যক্তির কোনো মিল নেই। কারাগারের নথি ও ছবিতেও অমিল রয়েছে।

এ ছাড়া কারাগারের নিবন্ধন বইয়ে পাওয়া গেছে, আত্মসর্মপন করা ব্যক্তির নাম জুয়েল। তিনি ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ১০ সেপেম্বর পর্যন্ত অন্য আরেকটি মামলায় জেলে ছিলেন।

একজনের সাজা আরেকজন ভোগ করতে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন নারায়ণগঞ্জের জেলার শাহ্ রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল জানায়, তিনি ছদ্মনামে জাকিরের সাজা ভোগ করতে এসেছেন। আদালত আমাদের প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর শুনানি করে। ওইদিন মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পূর্ণরায় পরোয়ানা জারি করা হয়।

‘গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মূল আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হলে আজ শুনানি হয়।’

আরও পড়ুন:
ভূমির কুতুবের জামিন বাতিল
ভূমির কুতুবের জামিন নিয়ে আদেশ বুধবার
আদালত প্রাঙ্গণে হামলায় আহত দুই সাংবাদিক
আদালতে মিথ্যা বলে ফেঁসে গেলেন ২ জন
কুয়াকাটায় ৮ ঘণ্টা পর চালু হলো হোটেল-রেস্তোরাঁ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 madrasa students were not found even in 9 days

৯ দিনেও খোঁজ মেলেনি ৩ মাদ্রাসাছাত্রের

৯ দিনেও খোঁজ মেলেনি ৩ মাদ্রাসাছাত্রের হবিগঞ্জের একটি মাদ্রাসার নিখোঁজ তিন ছাত্র জাকারিয়া, রাহিম ও ওয়াহিদ (বাঁ থেকে)। ছবি: সংগৃহীত
হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম বলেন, ‘তিনজন ছাত্রই ব্যবহার ও লেখাপড়ায় খুব ভালো। কোনোদিন তাদের ধমকও দিতে হয়নি। কিন্তু কেন বা কার প্ররোচনায় তারা পালিয়ে গেল, সেটা বুঝতে পারছি না।’

হবিগঞ্জের বাহুবলে নিখোঁজের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি তিন মাদ্রাসাছাত্রের। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবার ও স্বজনদের।

মাদ্রাসাছাত্রদের উদ্ধারের জন্য বাহুবল মডেল থানায় ছাত্রদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তিন ছাত্রকে উদ্ধারে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিখোঁজ তিন কিশোর বাহুবল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের হাফেজ আব্দুস শহিদের ছেলে ১৩ বছরের জাকারিয়া মিয়া, নিজগাঁও গ্রামের পাকু মিয়ার ১৪ বছরের ছেলে আব্দুল ওয়াহিদ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব কাটাখালী গ্রামের মৃত ফিরোজ আলীর ১৪ বছরের ছেলে রাহিম উদ্দিন।

তারা তিনজনই বাহুবল জামেয়া মাহমুদিয়া হামিদনগর মাদ্রাসার ছাত্র।

জামেয়া মাহমুদিয়া হামিদনগর মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম বলেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে তিনজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আমরা ওইদিনই তিন ছাত্রের পরিবারকে বিষয়টি জানাই।’

জাকারিয়া, ওয়াহিদ ও রাহিমের অভিভাবকরা তাদের নিজ নিজ আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সব স্থানে সন্ধান করেছেন, কিন্তু পাননি।

২২ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ জাকারিয়ার বাবা হাফেজ আব্দুস শহিদ, ওয়াহিদের বাবা পাকু মিয়া ও রাহিম উদ্দিনের বড় ভাই সাইদ আহমদ বাহুবল মডেল থানায় তিনটি জিডি করেন।

হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম বলেন, ‘তিনজন ছাত্রই ব্যবহার ও লেখাপড়ায় খুব ভালো। কোনোদিন তাদের ধমকও দিতে হয়নি। কিন্তু কেন বা কার প্ররোচনায় তারা পালিয়ে গেল, সেটা বুঝতে পারছি না।’

নিখোঁজ রাহিম উদ্দিনের বড় ভাই সাইদ আহমদ বলেন, ‘আমার ছোট ভাই রাহিমসহ তিন মাদ্রাসাছাত্র আজ ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে হন্যে হয়ে ঘুরছি। কিন্তু কোনো সন্ধান পাচ্ছি না।’

এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের কাছে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। ফুটেজে দেখা যায় নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী একটি ট্রেনে উঠে ঢাকামুখী চলে গেছে। তাদের সঙ্গে আর কোনো লোক ছিল না। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছে। আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
‘আমার পাপাকে ফিরিয়ে দিন’
আমার মেয়েকে জীবিত ফেরত চাই: সুকন্যার মা
নদীতে নিখোঁজ দুই শিশুর একজনের মরদেহ উদ্ধার
সমুদ্রে গোসলে নেমে কলেজছাত্র নিখোঁজ
সিলেটে সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ‘নিখোঁজ’

মন্তব্য

p
উপরে