× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
11 recommendations to protect the environment in the conference of A League
hear-news
player
google_news print-icon

আ.লীগের কনফারেন্সে পরিবেশ রক্ষায় ১১ সুপারিশ

আলীগের-কনফারেন্সে-পরিবেশ-রক্ষায়-১১-সুপারিশ
‘সবুজ বাংলাদেশ: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে থিম স্পিকার ছিলেন পরিবেশবিদ অধ্যাপক আতিক রহমান। প্ল্যানারি স্পিকার ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ব্যাঞ্জামিন হাওডেন ও জাপানের পরিবেশবিদ অধ্যাপক হিরোওকু মাতসুদা। এছাড়াও ২০ দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এতে অংশ নেন।

দেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সঠিক আইন প্রণয়ন ও তার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা। তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। কনফারেন্সে ১১ দফা সুপারিশ গৃহীত হয়েছে।

‘সবুজ বাংলাদেশ: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এই কনফারেন্সের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশে আসার পরই সবুজ বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে কৃষক লীগ গঠনের মাধ্যমে তিনি সারাদেশে বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত পয়লা আষাঢ়ে তিনি এই কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি।

‘প্রতি বছর মানুষ বাড়ছে আর কৃষি জমি কমছে। শিল্প-কারখানা ও স্থাপনা নির্মাণ এবং রাস্তাঘাট-অবকাঠামো উন্নয়নের ফলেও কৃষি জমি কমছে। এজন্য মানুষকে সচেতন করা দরকার। আইন থাকলেও কৃষি জমি রক্ষায় এর প্রয়োগ নেই। এজন্য নতুন একটি আইনের কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে কৃষি জমি রক্ষা করা যায়।’

টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই বলেও মত প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যে দল এই সাবজেক্টের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এটা করছে না।’

তিন দিনব্যাপী সেমিনারে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সেমিনারে অংশ নেয়া সদস্যদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার বজলুল হক।

আ.লীগের কনফারেন্সে পরিবেশ রক্ষায় ১১ সুপারিশ

কনফারেন্সের উদ্বোধনী অধিবেশন শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বিভিন্ন বিভাগ এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্সেস (কারস)-এ একযোগে পরিবেশ বিষয়ক ভিন্ন ভিন্ন সায়েন্টিফিক বিষয়ে আলোচনা, সেশন, পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

কনফারেন্সে থিম স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা পরিবেশবিদ অধ্যাপক আতিক রহমান। প্ল্যানারি স্পিকার ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ব্যাঞ্জামিন হাওডেন এবং জাপানের পরিবেশবিদ অধ্যাপক হিরোওকু মাতসুদা।

এছাড়াও ২০টি দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানীদের মতামতের ভিত্তিতে বেশকিছু সুপারিশ গৃহীত হয়:

১. পরিবেশগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে এবং বাংলাদেশের সব বড় ও দূষণপ্রবণ শহরে এটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা নিতে হবে।

২. বাংলাদেশকে বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখতে শিল্প এলাকায় যথাযথ বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা প্রয়োজন।

৩. মোটর গাড়ি, বিমান, ট্রেন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গমন, বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইটভাটা, অনাবৃত জ্বালানি, কঠিন বর্জ্য ডাম্পিং সঠিক আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

৪. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং দেশের পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া।

৫. সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরা তীব্রতর হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৬. পরিবেশ সংক্রান্ত যথাযথ উন্নয়ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।

৭. নবায়নযোগ্য, টেকসই, জৈব উপাদান, জৈব রাসায়নিক এবং জৈব জ্বালানি উন্নয়নের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইডের অতিরিক্ত নির্গমন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
RAB has been trained on the advice of the United States Prime Minister

র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
‘র‌্যাবের ওপরে তারা যখন স্যাংশন দিল, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে র‌্যাব সৃষ্টি করেছে কে? র‌্যাব সৃষ্টি তো আমেরিকার পরামর্শ। আমেরিকা র‌্যাব সৃষ্টি করার পরামর্শ দিয়েছে। আমেরিকা তাদের ট্রেনিং দেয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র, তাদের হেলিকপ্টার, এমনকি তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, আইসিটি সিস্টেম-সবই আমেরিকার দেয়া।’

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র‌্যাব গঠন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের দেয়া প্রশিক্ষণ অনুযায়ী র‌্যাব তার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে র‌্যাব বিশেষ ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্র ‘নাখোশ’ হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তুলেছেন সরকারপ্রধান।

গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘র‌্যাবের ওপরে তারা যখন স্যাংশন দিল, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে র‌্যাব সৃষ্টি করেছে কে? র‌্যাব সৃষ্টি তো আমেরিকার পরামর্শ। আমেরিকা র‌্যাব সৃষ্টি করার পরামর্শ দিয়েছে। আমেরিকা তাদের ট্রেনিং দেয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র, তাদের হেলিকপ্টার, এমনকি তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, আইসিটি সিস্টেম-সবই আমেরিকার দেয়া।’

একজন গণমাধ্যমকর্মী সরকার প্রধানের কাছে প্রশ্ন রাখেন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোনো টানাপড়েন চলছে কি না। গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানো, র‌্যাবের ওপর দেশটির নিষেধাজ্ঞাসহ নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই প্রশ্ন রাখেন সেই গণমাধ্যমকর্মী।

পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকা যখন স্যাংশন দেয় বা কোনো কথা বলে, বা অভিযোগ আনে, আমার একটাই কথা, যেমন আপনারা ট্রেনিং দিয়েছেন, তেমন তারা কার্যক্রম করেছে। এখানে আমাদের করার কী আছে? আপনাদের ট্রেনিংটা যদি একটু ভালো হতো, তাহলে না কথা ছিল।’

র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী
এলিট ফোর্স র‌্যাবের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি

‘আমরা শাস্তি দেই, যুক্তরাষ্ট্র দেয় না’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে বাংলাদেশে তার শাস্তির বিধান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে তেমন নজির নেই বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সে র‌্যাব হোক, পুলিশ হোক, আর্মি হোক, যে হোক, কেউ যদি অপরাধ করে তার কিন্তু বিচার হয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনারা দেখেছেন পুলিশ ইচ্ছে মতো গুলি করে মারলেও তাদের কিন্তু সহসা বিচার হয় না।

‘শুধু একটা বিচার হলো, আমেরিকার লোক সবাই যখন আন্দোলনে নামল, তখন ওই একটা বিচারই বোধ হয় তারা সারাজীবনে করতে পেরেছে। তা না হলে তো তারা কথায় কথায় গুলি করে মেরে ফেলে দেয়।

‘একটা বাচ্চা পকেটে হাত দিল, গুলি করে মেরে ফেলে দিল। একটা খেলনা পিস্তল নিয়ে তাকে মেরে ফেলে দিল। আমাদের কতজন বাঙালি মারা গেছে, সেখানে কিন্তু তারা কিছু বলেনি। সেই কথাগুলো আমি স্পষ্ট তাদেরকে বলেছি। আমি কিন্তু বসে থাকিনি। আমি মনে করি এটা আমাদের বলার কথা।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের নিয়ে চিন্তা করা উচিত’

অন্য এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ‘স্যাংশন তারা কতোটুকু তুলবে জানি না। তবে স্যাংশন দিয়ে তারা ক্ষতি যতটা করেছে, আমরা যাদের দিয়ে এ দেশে সন্ত্রাস দমন করেছি, তাদের ওপর স্যাংশন দেয়ার অর্থটা কী? সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া?

‘আমার এটাও প্রশ্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, তাহলে কী সন্ত্রাস দমনে তারা নাখোশ? ৪০ বছর ধরে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, সেই তালেবানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে ভেগে চলে আসল আমেরিকার সৈন্যরা।’

যুক্তরাষ্ট্র ‘নিজেদের ব্যর্থতা’ স্বীকার করে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিয়েতনামে ৩০ বছর যুদ্ধ করল, বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের মদদ দিল, সেভেন ফ্লিট পাঠাতে চাইল। আমরা কিন্তু আমাদের দেশ স্বাধীন করেছি। তাদের নিজেদের চিন্তা নিজেদের করা উচিত।

‘এখন ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে সমানে মদদ দিয়ে যাচ্ছে, স্যাংশন দিচ্ছে। স্যাংশন দিয়ে কার ক্ষতি হচ্ছে? সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। কথায় কথায় একটা দেশ আরেকটা দেশকে স্যাংশন দেয় এটা কেমন কথা?’

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়—আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সমস্যা থাকতে পারে, থাকে। কিন্তু কারও সঙ্গে আমরা ঝগড়া বিবাদে যাই না। যুক্তরাষ্ট্র সময়ে সময়ে আমাদের ওপর নানা ধরনের স্যাংশন, অথবা একসময় জিএসপি বাদ দিল, নানা রকমের ঘটনা ঘটায়।’

গুম প্রসঙ্গে মরিয়ম মান্নান, ফরহাদ মজহারের কথা স্মরণ

বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে যে গুমের অভিযোগ আনেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘কয়েকটা আন্তর্জাতিক সংস্থা খুব উৎফুল্ল, গুম-খুন, গুম-খুন, গুম-খুন। গুমের হিসাব যখন বের হতে শুরু করল তখন তো দেখা গেল সব থেকে বেশি গুম জিয়াউর রহমানের আমলেই শুরু। তারপর থেকে তো চলছে। তারপর আমরা যখন তালিকা চাইলাম, ৭৬ জনের তালিকা পাওয়া গেল। আর এই ৭৬ জনের মধ্যে কী পাওয়া গেছে, সেটা আপনারা নিজেরাই ভালো জানেন।’

সম্প্রতি মাকে গুম করার দাবি তুলে পরে বিব্রতকর অবস্থায় পড়া মরিয়ম মান্নানের ঘটনাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। উঠে আসে কবি ফরহাদ মজহারের গুমের ঘটনাও, যাকে গুম করার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়ের পর দেখা যায়, তিনি খুলনায় রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়াদাওয়া করছেন, এমনকি বান্ধবীকে টাকাও পাঠান মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর মধ্যে এমনও আছে, মাকে লুকিয়ে রেখে অন্যজনকে শায়েস্তা করতেও মাকে খুন করেছে, গুম করেছে, সে ঘটনাও বের হয়ে যাচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই, আপনারা খুঁজে খুঁজে সেগুলো বের করেন, আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদেরকে ধরে। কেউ বোনকে লুকিয়ে রেখে, গুম হয়েছে সেটা বলে। কেউ ঢাকা থেকে চলে গেলেন খুলনা। বলা হলো তাকে গুম করা হয়েছে। দেখা গেল নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে খুলনায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে তালিকা, সে তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ভারত থেকে পলাতক কিছু আসামি, তাদের নামও সেই তালিকায়। এটা কেমন করে হয়?’’

গুমের তালিকায় কোনো কোনো নাম আমেরিকায় লুকিয়ে আছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সে রকমও তথ্য আছে। বিষয়গুলো তাদের সামনে তুলে ধরেছি, এই যে গুম গুম করেন আগে দেখেন সেটা কী কারণে?’

এসময় সংবাদকর্মীদের ওপও ক্ষোভ ঝাড়েন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘গুমের ঘটনা যখনই ঘটে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে। সেই নিউজটা আসেই না বা পত্রিকায়ও আপনারা সেটা বড় করে দেখান না। গুমটা যতো বড় করে দেখান, গুমটা যখন উদ্ধার হয়, ওটা যদি সমানভাবে দেখাতেন তাহলে তো বাংলাদেশের এই বদনামটা হতো না।’

অপপ্রচারের অভিযোগ

দেশের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগও আনেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা যেসব স্টেটে থাকে সেখানকার স্থানীয় সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, তাদের কাছে নানা রকম বানোয়াট মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে। দিয়ে দিয়ে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে।

‘আর সেই সঙ্গে দেশের বদনাম করে। যারা করে তারা নিজেরা একেকটা অপকর্ম করে কিন্তু দেশ ছাড়া। কোনো না কোনো অপরাধে তারা অপরাধী অথবা চাকরিচ্যুত।’

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও তাদের প্রজন্মরাও এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই

জাতিসংঘেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘আমি কিন্তু আমার বক্তৃতায় এ কথা স্পষ্টভাবে বলে আসছি, এটাও বলেছি এ যুদ্ধ থামাতে হবে। শুধু অস্ত্র প্রতিযোগিতা আর যুদ্ধ করে শুধু অস্ত্র প্রস্তুতকারী বা বিক্রিকারী দেশ লাভবান হবে আর আমাদের মতো সাধারণ দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে, কষ্ট পাবে, আমাদের দেশ কেন, ইউরোপের মানুষ তো কষ্টে আছে।’

দেশে দেশে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনে বিদ্যুতের দাম ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আমি যদি ৪০ পার্সেন্ট বৃদ্ধি করি আপনারা কেমনভাবে চিল্লাবেন? একটা উন্নত দেশ, তাদের সবকিছুই বিদ্যুতে, বাড়ির দরজাও খুলে বিদ্যুতে, চুলাও জ্বলে বিদ্যুতে সবই, আমাদের তো এখনও তা না। আমেরিকারও একই অবস্থা। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে।’

ইউরোপ কয়লা নিয়ে এত কথা বলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিরে গেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের ওপরেই প্রচণ্ড চাপ। অনেক কথা শুনতে হয়েছে। আমি তো কোনো চাপের কাছে মাথা নত করিনি। যেটা আমার প্রয়োজন সেটা আমি করব। হ্যাঁ তাতে আমার দেশের এনভায়রনমেন্ট নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে আমি সচেতন। সেটা যে হচ্ছে না, তার প্রমাণও আমি দিয়েছি। আন্তর্জাতিক বহু ফোরামে এটা নিয়ে তর্ক হয়েছে। এখন পেলে জিজ্ঞেস করতাম, এখন আপনারা কী বলবেন, সেই আদিযুগেই তো ফিরতে হলো?’

আরও পড়ুন:
বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী
বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা
সব ধর্মকে সম্মান দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
By participating in the voting the protest of the EVM will be zapar

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা
ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরোধী হলেও এই যন্ত্রে ভোট হতে যাওয়া গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ জানিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই ভোটে অংশ নিচ্ছে তারা।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইভিএমের নির্বাচনের পক্ষে না। গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনটা ইভিএমে হবে। কিন্তু আমাদের পার্টির কালচার আছে আমরা নির্বাচন বর্জন করি না। নির্বাচন বর্জন করাকে আমরা মনে করি গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা। তাই আমরা প্রতিবাদ হিসেবে সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

‘আমরা বলছি, এই নির্বাচনটা যদি ফেয়ার করতে পারেন, মানুষের কিছুটা আস্থা আসতে পারে। নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন সেই বিষয়ে আমরা তাদের বলেছি। তারাও আমাদের বলেছে।’

ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।

‘আগামী নির্বাচনে কী করব সেটা পরিস্থিতির উপর সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ভোট বর্জনের রাজনীতি করি না। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে গত ২৪ জুলাই গাইবান্ধা-৫ আসন শূন্য হয়৷ আগামী ১২ অক্টোবর এ আসনে ভোট হবে।

এই নির্বাচন ছাড়াও জাপা প্রতিনিধি দল কথা বলে আগামী ১৭ অক্টোবর হতে যাওয়া ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে। এই নির্বাচনে ভোটার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা, যাদের সিংহভাগই নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন, কেউ কেউ দলের বিদ্রোহী নেতা।

গাইবান্ধা উপনির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। তবে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চুন্নু বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলা পরিষদে অনেক এমপিরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা করছেন। নির্বাচনকাজে বাধা দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের প্রার্থীদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা বলছে জোর করে ভোট নিয়ে নেবেন। যারা জাতীয় পার্টির এজেন্ট হবে তাদের এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না।’

ভোটে সব কেন্দ্রে সিসিটিভির ক্যামেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান জাপা নেতা।

সিইসি কী বলেছেন, জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘তারা বলেছেন ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে, সৎ থেকে ভালো নির্বাচন দেয়ার মতো মানসিকতা আছে, ইচ্ছা আছে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলনটা জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং গাইবান্ধা ভোটে দেখতে চাই।

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের বলেছেন, তারা আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে খুবই অনড় ও শক্ত অবস্থানে আছেন। সিইসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত সংসদের উপনির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহার করার কথা রয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কমিশন সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আরেক প্রশ্নে চুন্নু বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজকে পর্যন্ত কোনো নির্বাচন শতভাগ ফেয়ার হয়েছে বলে কেউ বলতে পারবে না। সব নির্বাচনেই কম-বেশি হয়েছে। যখন যেই দল নির্বাচনে জিতে তখন তারা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে এবং বাকিরা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়নি।

‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও নির্বাচন ফেয়ার হয় না। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমরা বলছি, বর্তমান সিস্টেমে নির্বাচন ফেয়ার করা সম্ভব না। একমাত্র নির্বাচন সিস্টেম যদি পরিবর্তন করা হয়, যদি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলেই শতভাগ ফেয়ার নির্বাচন করা সম্ভব। তবে আমরা চাই বেশিরভাগ নির্বাচন ফেয়ার হোক।'

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টি এখন কারও দালালি করে না: চুন্নু
জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন
রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা
জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
ব্যানারে নেতার ছবি না থাকায় জাপার ২ গ্রুপে সংঘর্ষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I am ready to leave Sheikh Hasina

বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা

বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
‘ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে কিন্তু আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার মধ্য দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন এখন তিনি বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত।

আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনে একজন কাউন্সিলরও যদি আপত্তি তোলেন তিনি আর নেতৃত্বে থাকবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে কিন্তু আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলর যদি বলে যে আমাকে চায় না, আমি কোনোদিনও থাকব না। এটা যেদিন থেকে আমার অবর্তমানে আমাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট করেছিল, তখন থেকে এই শর্তটা মেনে যাচ্ছি।’

ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। গত ৪ অক্টোবর রাতে তিনি দেশে ফেরেন।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন। সেই ব্রিফিংয়ে সফরের বিষয়ে একটি সাধারণ বিবৃতি থাকে। এরপর থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতির সম্পর্কে সরকার প্রধানের বক্তব্য উঠে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলন নিয়ে এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতেও প্রস্তুত তিনি। বলেন, ‘এটা ঠিক, দীর্ঘ দিন হয়ে গেছে। আমি চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক। নেতৃত্ব কাউন্সিলররা সাধারণত ঠিক করে, নির্বাচিত করে। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমার তো আসলে সময় হয়ে গেছে।’

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টিও ওঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। কিন্তু জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করি। এখন একটানা তিনবার অর্থাৎ ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে আজকে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটানা গণতন্ত্র অব্যাহত আছে। এর মধ্যে অনেক চড়াই উৎরাই, খুন-খারাপি, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে অগ্নিসন্ত্রাসসহ নানা কিছু ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ
প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন নভেম্বরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Think of automating the system to avoid grid disruption

গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা

গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দোকানে চার্জার লাইটে চলছে ব্যবসা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। আমরা আস্তে আস্তে সিস্টেম অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। অটোমেশন হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। ভবিষ্যতে এ ঘটনাটা আমাদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে।’

গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনা এড়াতে সিস্টেম অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয়) দিকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনেকগুলো ঘটনা মানুষের ঘটানো থাকে, আবার মানুষের ঘটনা থাকে না। এ বিষয়গুলো ভেরি টেকনিক্যাল। টেকনিক্যাল যে সমস্যাগুলো থাকে সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত গ্রিড সেভাবে আনস্টেবল হয়নি। আগের তদন্তগুলো মাথায় রেখে সেই পর্যায়ে ওই জায়গাগুলো স্টেবল করার জন্য।

‘এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। আমরা আস্তে আস্তে সিস্টেম অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। অটোমেশন হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। ভবিষ্যতে এ ঘটনাটা আমাদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৪ অক্টোবর দুপুর ১টায় ১১ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট এবং দুপুর ২টায় ১১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে যথাক্রমে ১০ হাজার ১৯২ মেগাওয়াট এবং ১০ হাজার ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলের পুরো অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট জোন একযোগে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।’

ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল কার্যক্রম শুরু হয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার ৩২ মিনিটের মধ্যে ২টায় ৩৬ মিনিটে সিরাজগঞ্জের আশুগঞ্জে ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং ২টা ৪৩ মিনিটে ঘোড়াশাল জিআইএস থেকে ঘোড়াশাল এআইএস ২৩০ কেভি লাইন চালু করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে গণভবন ও ৫টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ)।

‘রাত ৯টার মধ্যে সম্পূর্ণ পূর্বাঞ্চলের গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়। রাত ৯টায় চাহিদা বিপরীতে সারা দেশে ৮ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ রেকর্ড করা হয় যা রাত ১২টায় বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। প্রকৌশলীদের কর্মতৎপরতায় ৭ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ রেস্টরেশন (সংযোগ পুনর্বহাল) সম্পন্ন করা হয়েছে।’

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ৫ অক্টোবর ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট গ্রিড উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

‘ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধোনে দেখা যায় যে ওই সময়ে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় এবং পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তি উৎপাদন থাকায় পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আশুগঞ্জে ২৩০ কেভির দুটি সার্কিট এবং ঘোড়াশালের এআইএস থেকে ঘোড়াশাল জিআইএস ২৩০ কেভির সার্কিট ট্রিপ করায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের নিচে নেমে যায়। আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সিজনিত কারণে গ্রিড আনস্টেবল হয়ে পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ট্রিপ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়।

‘গ্রিড বিপর্যয় হলেও গ্রিড সিস্টেম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ফিজিক্যাল ড্যামেজ হয়নি। সে জন্য কমিটির গ্রিড সিস্টেমের বিভিন্ন প্রটেকশন ডাটা, ট্রিপিং রেকর্ড, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনার ডাটার পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটনে কিছু সময় প্রয়োজন হচ্ছে। আশা করছি এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়। আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও পরিকল্পনা চলছে।’

আরও পড়ুন:
চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে পরমাণু থেকে: ইয়াফেস ওসমান
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
দেড় ঘণ্টার বৈঠকে জ্বলেছে বরিশাল নগরীর সড়ক বাতি
অন্য মেয়রদের বিদ্যুৎ বিল দেবেন না সাদিক
আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বরিশালের ৩০ ওয়ার্ডের রাস্তা অন্ধকার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government is looking into whether the grid disaster is sabotage or not

গ্রিড বিপর্যয় নাশকতা কি না দেখছে সরকার

গ্রিড বিপর্যয় নাশকতা কি না দেখছে সরকার প্রতীকী ছবি
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দুটি জিনিস। একটা হলো এখনও পলিটিক্যাল পার্সনদের কাছে যেটা শুনতেছি, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এটা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বললেন। আরও হবে মানে কিন্তু এখানে অন্য রকম ষড়যন্ত্রের কথা। উনি জানেন কীভাবে? জানেন কীভাবে ভবিষ্যতে আরও হবে, এত বছর হলো না। যে ব্যক্তিটা তার নিজের আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, ট্রান্সমিশনের লাইন তো বাদই দিলাম। একমাত্র খাম্বা এবং পুল ছাড়া কিছুই লাগাতে পারেনি। উনি কিন্তু পণ্ডিতের মতো কথা বলে দিলেন, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এখানে কোনো অন্য রকম নাশকতা আছে কি না, সেটাও যাচাই-বাছাই চলছে।’

গ্রিড বিপর্যয়ে দেশের অর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দুটি জিনিস। একটি হলো এখনও পলিটিক্যাল পার্সনদের কাছে যেটা শুনতেছি, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এটা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বললেন। আরও হবে মানে কিন্তু এখানে অন্য রকম ষড়যন্ত্রের কথা। উনি জানেন কীভাবে? জানেন কীভাবে ভবিষ্যতে আরও হবে, এত বছর হলো না। যে ব্যক্তিটা তার নিজের আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, ট্রান্সমিশনের লাইন তো বাদই দিলাম।

‘একমাত্র খাম্বা এবং পুল ছাড়া কিছুই লাগাতে পারেনি। উনি কিন্তু পণ্ডিতের মতো কথা বলে দিলেন, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এখানে কোনো অন্য রকম নাশকতা আছে কি না, সেটাও যাচাই-বাছাই চলছে। এটা হচ্ছে একটা বিষয়। আর দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে অবশ্যই টেকনিক্যাল সাইটটাও আমরা দেখতেছি।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ঘটনাটি ছিল এক রকম। আর এই ঘটনাটি অন্য রকম। দুইটা দুই রকম ঘটনা। ওইখান থেকে যা নেয়ার, তার থেকে অনেক দূর পিজিসিবি অ্যাডভান্স লেভেলে চলে গেছে। পাওয়ার রিস্টোর করতে মানে কত দ্রুত আনতে পারি, বিভিন্ন উন্নত বিশ্বে কয়েক দিন আগে রেকর্ড আছে, তিন-চার দিন লেগে গেছে, কিন্তু আমরা সেদিকে যাচ্ছি না।

‘সবাই একসঙ্গে কাজ করার কারণে কিন্তু আমরা দ্রুততার সঙ্গে আনতে পেরেছি। এক ঘণ্টা পর থেকেই কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছিল রিস্টোর করা। এটা একটি বড় জিনিস। অবশ্যই টেকনিক্যাল ফল্ট এখানে আছে।

‘একদম পিন টু পিন যদি আমরা ধরতে যাই, তাহলে একটু সময় লাগবে। এ কারণে আমি দুটি কমিটি করে দিয়েছি। একটি কমিটি হলো বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরের লোক, আরেকটি কমিটি হলো বিদ্যুৎ বিভাগের বাইরের লোক।’

বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড ফেল করায় দেশের অর্ধেক অংশ মঙ্গলবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি পাওয়ার গ্রিডের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, এই গ্রিডের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে এই চার বিভাগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
শাহজালালে কার্যক্রম চলছে জেনারেটরে
জেলা শহরে বিদ্যুৎ ফিরছে দ্রুত, ঢাকায় দেরি
বিদ্যুৎহীন জীবন কাটাবেন যেভাবে
বিদ্যুৎ ফিরেছে বঙ্গভবনে, আলো ফিরছে দেশে
গ্রিড বিপর্যয়েও সচল বন্দর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Roshan explained the calling of Japa conference

জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন

জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থিদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও বার্তা দেন দলটি প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। ছবি: নিউজবাংলা
কাউন্সিল ডাকার কারণ উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘কাউন্সিলটা ডেকেছি তার কারণ অনেক আছে, বিশেষ করে কিছু কিছু লোকের সঙ্গে...। গত কাউন্সিলে আমাদের গঠনতন্ত্রকে পরিবর্তন করে দিয়েছে, যেখানে যেখানে যার যত ক্ষমতা ছিল তা খর্ব করে দেয়া হয়েছে। এবং অনেক জায়গায় সংশোধন করে নতুন করে গঠনতন্ত্র আনা হয়েছে, এটা ঠিক হয় নাই।’

বিদেশে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ হঠাৎ করে ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলন ডাকার কারণ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থিদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় তিনি সম্মেলন (কাউন্সিল) ডাকার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

যদিও রওশন এরশাদের কাউন্সিল ডাকাকে সম্পূর্ণ অবৈধ, অনৈতিক ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি বলেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

ভিডিও বার্তায় রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমার স্বাস্থ্য আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছে, আমি এখন অনেকটা সুস্থ। পায়ের গিরায় সমস্যা আছে, এখান থেকে সেটার জন্য আমি ফিজিওথেরাপি নিচ্ছি। আর সব কিছু ভালো আছে, আমার ক্যানসার তো নাই ইনশাআল্লাহ।’

কাউন্সিল ডাকার কারণ উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘কাউন্সিলটা ডেকেছি তার কারণ অনেক আছে, বিশেষ করে কিছু কিছু লোকের সঙ্গে...। গত কাউন্সিলে আমাদের গঠনতন্ত্রকে পরিবর্তন করে দিয়েছে, যেখানে যেখানে যার যত ক্ষমতা ছিল তা খর্ব করে দেয়া হয়েছে। এবং অনেক জায়গায় সংশোধন করে নতুন করে গঠনতন্ত্র আনা হয়েছে, এটা ঠিক হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের মৃত্যুর পর পার্টিটা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, এখন আমার মনে হয় পার্টিটা ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে না। সে জন্য পার্টিটাকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে। আমার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলছি। যাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছি তাদের সঙ্গে আমি টেলিফোনে সব সময় যোগাযোগ করি। এবং চিঠিপত্রের মারফতে যোগাযোগ করি।’

তিনি বলেন, পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে, পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যাতে করে আমরা আগামী নির্বাচন ভালোভাবে করতে পারি। আমাদের দলের বেশির ভাগ লোকেরই বয়স হয়েছে, নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই আনতে হবে, যারা সরকারি কর্মকর্তা আছেন, রিটায়ের্ড করেছেন তাদেরও আনতে হবে। বেসামরিক কর্মকর্তা আছেন তাদের আনতে হবে, তাদের আনার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানাতে হবে। আহ্বান জানাতে হবে। আগামী ইলেকশনে (কাউন্সিল) আমি অবশ্যই নেতা-কর্মীদের ম্যানডেট নিচ্ছি। জাতীয় পার্টির পতাকাতলে আসার জন্য যারা ব্যস্ত, যারা পার্টি থেকে বহিষ্কার হয়ে গেছেন, যারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন, তারা সক্রিয় হচ্ছেন। এখন আবার জাতীয় পার্টি করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।’

ইভিএমে নির্বাচন হলেও ভোট করব

ইভিএম নিয়ে জাতীয় পার্টির বর্তমান নেতৃত্ব যখন ব্যাপক সমালোচনায় মুখর তখন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ওই ভিডিও বার্তায় জানালেন তিনি ইভিএমে নির্বাচন হলেও ভোট করবেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই করব, ইভিএম হলেও নির্বাচন করব, সারা বিশ্বে এখন ইভিএমে নির্বাচন হচ্ছে। কাজেই আমাদের দেশে এটা হবে তা তো নতুন কথা নয়। যখন আমরা ফাইভজি ব্যবহার করছি, সেখানে ইভিএম ব্যবহার করতে সমস্যা কী।’

‘এখানে যারা নির্বাচনে জয় পায় তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে আর যারা হেরে যায় তারা বলে কারচুপি হয়েছে। সুতরাং আমরা ইভিএমে নির্বাচন করব। আগামী মাসে (অক্টোবর) আমি দেশে ফিরে আসব ইনশাআল্লাহ।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের বলব, ‘আপনারা দুর্দিনে আমাদের পাশে ছিলেন এখনও আছেন, তারা পার্টিকে শক্তিশালী করবে, সেই বিশ্বাস আমার আছে, তারা নিশ্চয়ই কাজ করবে।’

তিনি বলেন, আমি রংপুরবাসীর জন্য বলছি, তারা দুর্দিনে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে। এরশাদকে সহযোগিতা করেছে।

একদিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদপত্নী বেগম রওশন এরশাদ, অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার ভাই জি এম কাদের। দুজনের বিপরীতমুখী অবস্থানে ভাঙনের কবলে দল। ওদিকে জাতীয় নির্বাচনের দামামা বাজার অপেক্ষা। এই সময়ে এই দ্বন্দ্ব দলটিকে নতুন কোনো সংকটে ফেলে কি না, তা নিয়ে আছে আলোচনা।

সমস্যার শুরু গত ৩১ আগস্ট। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ হঠাৎ করেই আগামী ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলন ডেকে বসেন। সেটি আবার জানতেন না দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সেদিনই বিষয়টি স্পষ্ট করেন তার অনুসারী নেতারা।

পরদিন জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল বৈঠক করে রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরাতে স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীকে চিঠি দেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এরশাদ অনুসারী হিসেবে পরিচিত হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলের মধ্যে যে সংকট, তা আসলে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে। অতীতেও নির্বাচন এলেই দলটিতে এমন সংকট দেখা গেছে। আগামী দিনে কারা ক্ষমতায় থাকবে, সেদিকেই দৃষ্টি এখন দলের। এ কারণেই বেশ কিছু কৌশল নিয়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

আরও পড়ুন:
রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা
জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পূজার নিরাপত্তা লজ্জার: জি এম কাদের
কে আর ইসলামকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি
‘আগামী নির্বাচন হবে সহিংসতার-জবরদস্তির, মেসেজ পাচ্ছি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister is coming to the press conference in the afternoon

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বিকেলে

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।

সদ্যঃসমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।

সরকারপ্রধানের প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বার্তা সংস্থা বাসসকে বুধবার এ তথ্য জানান।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ৪ অক্টোবর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রায় তিন সপ্তাহের সফর শুরু হয়। দেশটিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসনে আরোহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডন ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন পার্শ্ব বৈঠকেও অংশ নেন।

পরবর্তী সময়ে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরেন সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ
প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন নভেম্বরে
রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে