× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
EVM voting minimum 70 constituencies CC cameras in all centers
hear-news
player
google_news print-icon

ইভিএমে ভোট সর্বনিম্ন ৭০ আসনে, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

ইভিএমে-ভোট-সর্বনিম্ন-৭০-আসনে-সব-কেন্দ্রে-সিসি-ক্যামেরা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব কেন্দ্রে বসবে সিসি ক্যামেরা। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হাতে যে পরিমাণ ইভিএম আছে, সেগুলো দিয়ে এত আসনে ভোট করা সম্ভব নয়। এ কারণে নতুন মেশিন কিনতে হবে। তবে মেশিন কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তাও আছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ৭০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই কেন্দ্র দখল ঠেকাতে সবগুলোতেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা আছে।

এর আগে সর্বোচ্চ দেড় শ আসনে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা দিলেও সর্বনিম্ন কত আসনে হবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দেয়নি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি৷

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর নতুন এই তথ্য দেন। জানান, এর আগে স্থানীয় কিংবা জাতীয় নির্বাচনে যেসব এলাকায় মেশিনটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেই তা ব্যবহার হবে।

গত ২৩ আগস্ট কত আসনে ইভিএমে ভোট হবে, সেটি চূড়ান্ত না করলেও সংখ্যাটি দেড় শর বেশি হবে না বলে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ইভিএম নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও সমমনাদের, এমনকি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির আপত্তির মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘সর্বোচ্চ ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ইভিএম কেনার বিষয়টা কমিশনের না। ইসি সচিবালয় দেখছে। তারা হয়তো একটা গাইডলাইন চাইতে পারে আমাদের কাছে।’

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হাতে যে পরিমাণ ইভিএম আছে, সেগুলো দিয়ে এত আসনে ভোট করা সম্ভব নয়। এ কারণে নতুন মেশিন কিনতে হবে। তবে মেশিন কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তাও আছে।

কমিশনার আলমগীর বলেন, ‘প্রকল্প পাস না হলে বা বৈশ্বিক ক্রাইসিস পরিস্থিতিতে যদি অর্থ ছাড়া না হয়… হার্ডওয়্যার যদি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বিদেশ থেকে না আনতে পারে তাহলে তো হবে না। তবে আমাদের যে সক্ষমতা বর্তমানে আছে, এতে ৭০-৮০টি আসনে নিশ্চিত। আমাদের যা ইভিএম আছে তা দিয়ে ৭০-৮০টায় হবে।’

সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ভোট হবে বলেও জানান আলমগীর।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব কেন্দ্রে এই ক্যামেরা বসানোর চিন্তা আছে বলেও জানান মো. আলমগীর।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘৩০০ আসনের সব কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা রাখার ইচ্ছা আছে। সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। সম্ভব হলে সব ভোটকক্ষেই দেব।

‘আমরা এটা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেব। কারণ সংরক্ষণ, মেরামতের বিষয় আছে। ভোটের পর তারা সিডি দেবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেমন দিয়েছে। সেখানে সব কিছুর রেকর্ড থাকবে।’

সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত। এখন প্রকাশের অপেক্ষা। প্রিন্ট হলেই প্রকাশ হবে। সচিবালয় বিষয়গুলো দেখছে। ভুল থাকলে কেউ ধরিয়ে দিতে পারবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
EC notification canceling the jobs of those 85 election officers

ইসির সেই ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন

ইসির সেই ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন নির্বাচন ভবন। ফাইল ছবি
২০০৫ সালে ৩২০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। দলীয় বিবেচনায় যথাযথ যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকার পরও এসব নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চাকরি পাওয়া কর্মকর্তাদের আবার পরীক্ষা নেয়া হয়্। সে সময় এই ৮৫ জন ফেল করার পর তাদের নিয়োগ বতিল করা হয়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়ে ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত ৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি না থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হলো কমিশনের প্রজ্ঞাপনে।

গত সোমবার ইসির জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি হয়।

২০০৫ সালে ৩২০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। দলীয় বিবেচনায় যথাযথ যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকার পরও এসব নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চাকরি পাওয়া কর্মকর্তাদের আবার পরীক্ষা নেয়া হয়্। সে সময় এই ৮৫ জন ফেল করার পর তাদের নিয়োগ বতিল করা হয়।

পরে তারা আদালতে গেলে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল আদালত ২০১০ সালে ১২ এপ্রিল তাদের নিয়োগ দিতে বলে নির্বাচন কমিশনকে।

সেই আদেশ বলে নির্বাচন কমিশন ২০১০ সালের ১৩ মে ৮৫ কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চারটি লিভ টু আপিল করে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারক ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠান।

গত ১ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল আদালতের আদেশ বাতিল করে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এর ফলে সেই ৮৫ কর্মকর্তার চাকরি ফিরে পাওয়ার সব আশা শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার ইসির কনফারেন্সে যোগ দিতে সিইসিকে আমন্ত্রণ
আইএফআইসি ব্যাংকে সিডনিসানের ১০ হাজার সিসিটিভি
হাফেজ তাকরিমের অর্জনে গর্বিত মুশফিক
‘কারসাজির’ প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি
পুঁজিবাজারের আকার বাড়তেই থাকবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An initiative to reduce the complexity of fingerprinting in EVMs

ইভিএমে আঙ্গুলের ছাপের জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ

ইভিএমে আঙ্গুলের ছাপের জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ সব ভোটারের দুই হাতের ১০ আঙ্গুলের প্রতিটির ছাপই নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি। ছবি: সংগৃহীত
‘১০ আঙ্গুলের ছাপ নিলে যদি একটা আঙ্গুলও মিলে যায়, তবু ভোটার ভোট দিতে পারবে। এখন চার আঙ্গুলের ছাপ থাকায় অনেকেই মেলে না। তখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার তার আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্টকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেন। এ নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে, যে কারচুপির সুযোগ থেকে যায়। ওভাররাইট করা যায়। তাই ১০ আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হবে। একই সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ওই ক্ষমতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হবে।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে কিছু ভোটারের পরিচয় শনাক্তে আঙ্গুলের ছাপ না মেলার যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তার সমাধানে নতুন একটি চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ভোটারের দুই হাতের ১০ আঙ্গুলের প্রতিটির ছাপই নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। এর ফলে কোনো কোনা কোনো আঙ্গুলের ছাপ ইভিএম শনাক্ত করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আলমগীর বলেন, ‘১০ আঙ্গুলের ছাপ নিলে যদি একটা আঙ্গুলও মিলে যায়, তবু ভোটার ভোট দিতে পারবে। এখন চার আঙ্গুলের ছাপ থাকায় অনেকেই মেলে না। তখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার তার আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্টকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেন। এ নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে, যে কারচুপির সুযোগ থেকে যায়। ওভাররাইট করা যায়। তাই ১০ আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হবে। একই সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ওই ক্ষমতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হবে।’

ইভিএম আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সেই পরিচয় নিশ্চিত করার পরই ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে কিছু ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ মেলে না নানা জটিলতায়। তাদের পরিচয় শনাক্তে প্রিজাইডিং অফিসারের একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। ওই কেন্দ্রে শতকরা এক শতাংশ ভোটারের পরিচয় তিনি তার আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে নিশ্চিত করে দিতে পারেন।

এই এক শতাংশ ক্ষমতা নিয়ে ইভিএমবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সমালোচনা করে আসছে। তারা মনে করে, প্রিজাইডিং অফিসার এই এক শতাংশ ভোট কোনো বিশেষ দলের পক্ষে দিয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিতে পারেন।

কমিশনার আলমগীর বলেন, ‘ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে দুটো কাজ এক সঙ্গে হয়। ভোটারের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ব্যালট ইউনিটে ব্যালট ওপেন হয়ে যায়। তখন ভেতরে গেলেই ভোট দিতে পারবেন।

‘কারও আঙ্গুলের ছাপ যদি না মেলে… না মেলা কারণ হলো বয়স বেশি হলে, ভারী কাজ করলে বা হাত না থাকলে। এখন কেউ ভোট দিতে না পারলে সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়। সেজন্য প্রিজাইডিং অফিসার ভেটারের নাম, পরিচয়, এনআইডি নম্বর মিলিয়ে দেখেন। এরপর পরিচয় শনাক্ত হলে এনআইডি নম্বর ব্যালট ইউনিটে দেয়া হয়। এই তিনটা যদি মিলে যায় তবেই প্রিজাইডিং অফিসার ভোটারের পরিবর্তে নিজের আঙ্গুলের ছাপ দেন। তখন ব্যালট ইউনিট সচল হয়।

‘তিনি ভোট দিতে পারেন না। তিনি কেবল সচল করে দেন। সেটার রেকর্ডও আবার ইভিএমের মধ্যে থেকে যায়, যে কাকে এবং কয়জনকে তিনি এই সুযোগটা করে দিয়েছেন।’

ইভিএমে আঙ্গুলের ছাপের জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে কয়েকজন বক্তা দাবি করেছেন, প্রিজাইডিং অফিসাররা ৫০ শতাংশ ভোটারের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেন। এসব বক্তব্য খণ্ডন করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘টক শোতে কথা বলতে তো প্রমাণ লাগে না। কিন্তু আমাকে কথা বলতে হলে প্রমাণ লাগে। অনেকেই টক শোতে বলছেন ৫০ শতাংশ ক্ষমতা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। প্রমাণ দেখান আমরা মিলিয়ে দেখি, তাহলে শাস্তি হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে টক শোতে আলোচনা করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ওভাররাইট করা যায়। তো বিষয়টাই তো ভুল। ওভাররাইট করার তো কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টা ভোটারের পরিচয় নিশ্চিতের পর ব্যালট পেপার যেমন দেয়া হয়, এটাও তাই। মিসইউজ যাতে কোনোভাবে হতেই না পারে, সে জন্য এক শতাংশের বেশি আমরা দিই না।’

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এটি এক শতাংশের বেশি হতেও পারে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘৫০০ ভোটার কোনো কেন্দ্রে থাকলে ৫ জন ভোটারকে তিনি সুযোগটা দিতে পারবে না। ৬ নম্বর ভোটার আসলেও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সেটা পারেন না। কারণ প্রিজাইডিং অফিসারের আইনগত এবং টেকনিক্যালি সে সুযোগ থাকে না। এই অবস্থায় যদি প্রিজাইডিং পোলিং অফিসার, নির্বাচনি এজেন্ট সবাই একমত হন যে ওই ৬ নম্বর ব্যক্তিটি ভুয়া ভোটার নন, তখন প্রিজাইডিং অফিসার রিটার্নিং অফিসারকে ফোন করেন, তিনি আবার নির্বাচন কমিশনে ফোন করবেন। নির্বাচন কমিশন তখন একটা নতুন পাসওয়ার্ড দেন। সেই পাসওয়ার্ড দিলেই কেবল ওই ৬ নম্বর ব্যক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।’

‘এক শতাংশের ওপরে কোথাও লাগেও না। হঠাৎ কোনোখানে লাগে। এতগুলো নির্বাচন করলাম কেবল বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের একটা নির্বাচনে এমন বাড়াতে হয়েছিল।’

মো. আলমগীর বলেন, ‘ওভাররাইট করা যায়, প্রিজাইডিং ভোট দিয়ে দেয়; এই নানা রকম কথাবার্তা, ভুল ধারণা আছে তা দুর করতে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কমিশন বৈঠকে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওটা ১ শতাংশের ওপরে ওঠবে না কখনও। তবে কথাটা আরও স্পটিকরণ করা হবে, যেন ভুল ধারণা দূর হয়। এখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কাকে, কয়জনকে সুযোগটা দিলেন সে তথ্য কেবল ইভিএমে থেকে যায়। এখন এটার সঙ্গে সকলের স্বাক্ষরসহ ফিজিক্যাল ডকুমেন্টও রাখার চিন্তা ভাবনা হচ্ছে।’

ইভিএমের সুবিধা সম্পর্কে কমিশনার আলমগীর বলেন, ‘প্রথম কন্ডিশন হলো যার ভোট তিনিই দেবেন, এটা নিশ্চিত করা হয়। ভোটার উপস্থিত না হলে অন্য কারো ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। এটাই হলো ইভিএমের বিশেষত্ব। যন্ত্রই বলে দেয় কেউ ভোটার কি-না, অর্থ্যাৎ ফিঙ্গার প্রিন্ট যখন দেবে ইভিএমে সঙ্গে সঙ্গে নাম ছবি ভেসে ওঠবে। আর ওই কেন্দ্রের না হলে সেটাও বলে দেবে যে আপনি এই কেন্দ্রের ভোটার নন।’

আরও পড়ুন:
তুরুপের তাস ‘ইভিএম’
সব আসনেই কিছু কেন্দ্রে ইভিএম চায় জেপি
ইভিএমে ভোট সর্বনিম্ন ৭০ আসনে, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা
বদিউল আসলে কী চান, প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনারের
ইভিএম নিয়ে ইসির চ্যালেঞ্জে যাবেন না বদিউল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sajeda Chowdhurys by election on November 5

সাজেদা চৌধুরীর আসনে ভোট হবে ইভিএমে

সাজেদা চৌধুরীর আসনে ভোট হবে ইভিএমে সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি সচিব বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১০ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর।’

আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সংসদীয় আসন ফরিদপুর-২-এর উপনির্বাচন হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএমে) একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অষ্টম কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তফসিল ঘোষণা করেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ইসি সচিব বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১০ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর।’

এই ভোটে খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাজেদা চৌধুরীর আসন শূন্য ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Disqualification of candidature if other is obstructed EC

অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি

অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আছে।’

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করা হলে বা বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ না এলে কীভাবে ব্যবস্থা নেব? সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে তো অভিযোগ করতে হবে কিংবা গণমাধ্যমে বিষয়টি এলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’

একজন প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পেপার কাটিং পেয়েছি, এই যে দেখলাম। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ, এখন আর কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আছে।’

সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জনশুমারির প্রাথমিক তথ্য নিয়ে আলোচনা করছি, চূড়ান্ত তথ্য পাইনি। চূড়ান্ত তথ্য পেলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ফেলব। নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে বসব। কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে বসতে হবে।

‘আমরা জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এ কাজটা করি। ওই সফটওয়্যারটা পুরোনো হয়ে গেছে, এটা আবার নতুন করে করতে হবে। আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় করে দিয়েছিল, ওরাই আবার করে দেবে।’

আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। রোববার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৬ সেপ্টেম্বর হবে প্রতীক বরাদ্দ।

দেশের ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে ১৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১ হাজার ৯৮০ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৫০ জন প্রার্থী আছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন অন্তত ২২ জন চেয়ারম্যান ও দুজন সাধারণ সদস্য।

আরও পড়ুন:
৩৩ বছরেও হয়নি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২২ জন
জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An opposition MP has asked the EC for EVMs

বিরোধিতাকারী এক এমপি ইসির কাছে ইভিএম চেয়েছেন

বিরোধিতাকারী এক এমপি ইসির কাছে ইভিএম চেয়েছেন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘১২ কোটি ভোটারের পরিপূর্ণ আস্থা আছে। হয়তো রাজনৈতিক কৌশল আছে। তবে তাদেরও অন্তরে আছে, মুখে নেই। কারণ অনেক দলই বিপক্ষে কথা বলছে, কিন্তু আমাদের কাছে এসে পক্ষে বলেছেন। একটি দলের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য আমাদের কাছে এসে লিখিত দরখাস্ত করেছেন তার এলাকায় ইভিএম দেয়ার জন্য। কাজেই এটা অন্তরে আছে, ওনারা ইভিএম বিশ্বাস করেন।’

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরোধিতাকারী একজন সংসদ সদস্য তার এলাকায় ভোটগ্রহণে এই যন্ত্র দেয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

সেই সংসদ সদস্যের নাম অবশ্য প্রকাশ করেননি তিনি। বলেছেন, ভোটাররাও এই যন্ত্রের বিরোধী না। কিছু দল রাজনৈতিক কারণে বিরোধিতা করছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর এসব কথা বলেন।

এই কমিশনার আরও বলেন, ‘১২ কোটি ভোটারের পরিপূর্ণ আস্থা আছে। হয়তো রাজনৈতিক কৌশল আছে। তবে তাদেরও অন্তরে আছে, মুখে নেই। কারণ অনেক দলই বিপক্ষে কথা বলছে, কিন্তু আমাদের কাছে এসে পক্ষে বলেছেন।

‘একটি দলের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য আমাদের কাছে এসে লিখিত দরখাস্ত করেছেন তার এলাকায় ইভিএম দেয়ার জন্য। কাজেই এটা অন্তরে আছে, ওনারা ইভিএম বিশ্বাস করেন।’

‘সব দল ভোটে আসবে’
ইভিএম নিয়ে বিতর্ক বা অন্য কোনো কারণে কোনো দল ভোট বর্জন করবে না বলে বিশ্বাস করেন মো. আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘৩৯টি দলই যে আছে, তারা সকলেই আসবে বলে আশা করি।...

ইভিএম ব্যবহারের কারণে কোনো দল নির্বাচন বয়কট করবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।’

নির্বাচন কমিশন ভোটে পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকবে বলেও নিশ্চয়তা দেন মো. আলমগীর। বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে অন্য দলের সঙ্গে নির্বাচন করবে অথবা অন্য একটি দলকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য অংশগ্রহণ করবে না... আমরা অবশ্যই ভোটের পরিবেশ তৈরি করব। আমাদের ভেতরে ও বাহিরে এক। আলাদা নেই কিছু।

‘রোডম্যাপে আমরা আমাদের চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার কথা উল্লেখ করেছি। কোনো কমিশনই কি এর আগে তা করেছে?

‘আমরা কনফিডেন্ট এই জন্য যে, এই রোডম্যাপ আমরা বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করলে সবাই আসবে।’

‘না দেখেই সমালোচনা, ভোটের তথ্য থাকবে এক বছর’
ইভিএম নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তারা না দেখেই কথা বলছেন বলেও মনে করেন মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘হয়তো জীবনে কোনোদিন দেখেনওনি, তারা টিভিতে কথা বলছেন। যারা পক্ষে বলছেন তারাও ভুল বলছেন।’

ইভিএমবিরোধীদের নানা সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। বলেন, ‘ইভিএমে ওভাররাইট করার সুযোগ নেই। এখানে ওভাররাইটের বিষয় নেই। কারও আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তার আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তার আগে তার পরিচিতি এনআইডি নম্বর দিয়ে শনাক্ত করা হবে। অথচ টক শোতে বলছেন ওভাররাইট করা যায়। অনেকে বলছেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এটাকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারেন।’

ইভিএম পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ আছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যেই চাইবেন আপনাদের সেটাই পরীক্ষা করতে দেব, দেশে-বিদেশের এক্সপার্ট নিয়ে আসেন, দেখেন।’

এই মেশিনে ভোট নেয়ার এক বছর সব উপাত্ত থাকে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার। বলেন, এর ফলে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এলে মামলা করা যায়।

তিনি বলেন, ‘বলা হয়, মামলা হলে কীসের ভিত্তিতে হবে। ভিপি ট্রেইল তো নেই। আমাদের ইভিএমে এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আছে। সেখানে এক বছর পর্যন্ত সিলগালা অবস্থায় থাকবে। এখানে থেকে কোন মার্কায়, কখন ভোট পড়েছে, কত ভোট পড়েছে সব প্রিন্ট করা যাবে।’

ভোটাররা ইভিএমে বিশ্বাস করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথাও দেখেছেন এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে, মিছিল করতে?

‘তারা তো ইভিএম দেখেনইনি। যারা লিখছেন তারা তো ইভিএম দেখেনইনি, শোনেনওনি। তার পরও লিখে ফেলছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পারলে ৩০০ আসনেই করতাম। ওই বললাম টাকা নাই। আবার ট্রেনিং শেষ করতে হবে। আমরা যদি আরও দুই বছর আগে আসতাম তাহলে ৩০০ আসনে করতাম।’

কারও বক্তব্য পাল্টায়নি ইসি
ইভিএম নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় তাদের বক্তব্য পাল্টে দেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও নাকচ করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘একটি বড় দল, তার সঙ্গে আরও চারটি দল সরাসরি চেয়েছে। শর্তসাপেক্ষে আরও, সব মিলিয়ে ১৭টি দল চাচ্ছে। তবু বলা হচ্ছে ইভিএম নিয়ে মতামত পাল্টে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা লিখলেন, তারা কি প্রমাণ করতে পেরেছেন?’

ইভিএমে খরচ একবারই
ইভিএম কিনতে বিপুল টাকা খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই যন্ত্র লাভজনক বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘একটা ব্যালট কিন্তু ছাপাতে হয়, ক্যারি করতে হয়, প্রচুর খরচ আছে। ইভিএমে একবার খরচ হয়।

‘এটা কিন্তু আমরা নানা নির্বাচনে ব্যবহার করি। ওই মামলা করার জন্য যে সময় থাকে, ওই সময় পর্যন্ত আমরা ওই ইভিএমটা রেখে দিই। সেই সময় শেষ হলেই কেবল আরেকটা নির্বাচনে ওই ইভিএমটা ব্যবহার করি।

‘ইভিএমে লাইফ টাইম ২০ বছর পর্যন্ত আছে। এটা আমাদের তো কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও ব্যবহার করছি। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করেছি। এই কমিশন আসার পর একটা নির্বাচনও ব্যালটে করিনি।’

ভোট নিয়ে আসছে ইসির অ্যাপ
নির্বাচন ব্যবস্থার নানা তথ্য উপাত্ত নিয়ে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে যাচ্ছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন। সবার জন্য উন্মুক্ত এই অ্যাপের নাম রাখা হতে পারে ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ’।

এই অ্যাপে আট ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। তবে অ্যাপ তৈরি বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে যা কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বলে জানান এক কমিশনার।

ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ তৈরি আগ্রহ প্রকাশ করে কমিশনার আলমগীর বলেন, ‘এতে আট ধরনের তথ্য থাকবে। কার ভোট কোন কেন্দ্রে, প্রার্থী কারা, নির্বাচনি এলাকার ম্যাপ, কোথায় কত ভোট পড়ল ও তার গ্রাফ, ফিগার; কোন প্রার্থী কোথায় এগিয়ে থাকল, সেগুলো থাকবে। কে জিতল সাথে সাথে জানতে পারবে। এটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।’

এজন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যাচাই করে মতামত দেবে।’

তবে এই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে বসব। কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন হয়েছে। সেগুলো নিয়ে বসতে হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Alleged gang rape of women candidate arrested 5 accused

নারী প্রার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ আসামিই গ্রেপ্তার

নারী প্রার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ আসামিই গ্রেপ্তার প্রতীকী ছবি
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, ‘আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে তিনি বাগমারা উপজেলায় যান। প্রচারণা শেষ হতে রাত হয়ে যায়। বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ ব্যক্তি তার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

আসন্ন রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে বাগমারা উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের এক প্রার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোটের প্রচারণা চালাতে গিয়ে ওই প্রার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী প্রার্থী ধর্ষণের পরের দিন ৮ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে জেলার বাগমারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

এই মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন বাগমারার সাইধারা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুর রহমান, আকবর হোসেন, বাহমনীগ্রামের সোহেল রানা, দুলাল হোসেন ও ফজলুর রহমান।

ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী প্রার্থী বলেন, ‘বাগমারার আউসপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গেলে আমাকে একটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরের দিন ৮ সেপ্টেম্বর আমি থানায় ধর্ষণ মামলা করি।

‘এরপর ওই দিনই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হই। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমি ওসিসিতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরি। এরপর আবারও আমি নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে শুরু করি। প্রচারণা এখনও অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের পর থেকে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত আছি। কিন্তু মামলার পর শেষ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করায় আমি সন্তুষ্ট। যারা আমার সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, ‘আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে তিনি বাগমারা উপজেলায় যান। প্রচারণা শেষ হতে রাত হয়ে যায়। বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ ব্যক্তি তার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তিনি চিকিৎসা নেন।’

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গত শুক্রবার বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন শনিবার তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ধর্ষণের কথা স্বীকারও করেছে। ভুক্তভোগী নারী ওসিসিতে ভর্তি ছিলেন। এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আরও বিস্তারিত জানানো যাবে।

আরও পড়ুন:
নদীতে বল আনতে গিয়ে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ কিশোর
স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, কারাগারে ৩
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ-হত্যা দলিত ২ বোনকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
EC is removing Chittagong DC Mominur

চট্টগ্রামের ডিসিকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিচ্ছে ইসি

চট্টগ্রামের ডিসিকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিচ্ছে ইসি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন। ওনাকে আমরা রাখব না। সরিয়ে দেব।’

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী সময়ে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে বলে জানান এক কমিশনার।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বেগম রাশেদা সুলতানা এমন মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে আবারও ক্ষমতায় আসেন, সে জন্য গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান নিজ কার্যালয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এ জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীরও দোয়া করা উচিত বলেছেন তিনি। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর জয় চেয়েও মোনাজাত করেন।

জেলা পরিষদের ভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এই ডিসির পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান কমিশনার রাশেদা সুলতানা।

ইসি রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন। ওনাকে আমরা রাখব না। সরিয়ে দেব।’

তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন বলে জানান এই কমিশনার। বলেন, ‘এ জন্য তদন্ত হতে হবে। এটা লঘু শাস্তি নয়। এই মুহূর্তে করণীয় একটাই, তাকে সরিয়ে দেয়া। পরবর্তী সময়ে পরেরটা দেখা যাবে। এখন কাজ হলো উনাকে সরিয়ে দিয়ে উপযুক্ত অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘বিদ্রোহী যারা আসছে তারা একই দলেরই। দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ নির্বাচন নাই। তারপর প্রশাসক আসল। এই অবস্থায় তো চলা যায় না। প্রশাসক আর নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে কিন্তু অনেক পার্থক্য আছে। মন্ত্রণালয় থেকে বলার পর আমরা নির্বাচন দিলাম। আমাদের কাজ শুধু নির্বাচনটা নামানো। আমরা চাচ্ছি সবাই নির্বাচনে আসুক। কিন্তু কেউ যদি না আসে, কেমন করে তাদের আমরা আনব।’

এই কমিশনার বলেন, ‘দেশে অনেক ঘটনাই ঘটছে, তা কারোই আকাঙ্ক্ষিত নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নয়। কিন্তু অলিখিতভাবে অনেক কিছু হয়ে যায়। এটা বন্ধ করা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোরই কাজ। এটা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে এখন আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এসব কিন্তু আমরা আমলে নেব না। ইতিপূর্বেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
বন্ধ রোজ হ্যাভেনের অনিয়ম, ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি
ইসির রোডম্যাপে ১৪ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ১৯ পরিকল্পনা
জ্বরে ভুগছেন সিইসি
গাইডওয়ালে পলিথিনের বদলে কলাপাতা, জানতেন কাউন্সিলর
জাতীয় নির্বাচনে ইসির রোডম্যাপ বুধবার

মন্তব্য

p
উপরে