× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Sheikh Hasinas home is the couch decorator
hear-news
player
google_news print-icon

‘পালঙ্কের রূপকার’কে শেখ হাসিনার বাড়ি

পালঙ্কের-রূপকারকে-শেখ-হাসিনার-বাড়ি
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার আদলে গড়া পালঙ্ক উপহার পেয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবতে থাকেন কীভাবে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী হারুনুর রশীদ মাতুব্বরের জন্য কিছু করা যায়। ফিরতি উপহার হিসেবে তাকে বাড়ি করে দেয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার নির্দেশনা ও অর্থায়নে আমরা বাড়িটির নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধান করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে একটি বাড়ি পেলেন ‘নৌকার পালঙ্কের রূপকার’খ্যাত হারুনুর রশীদ মাতুব্বর। তবে এটি সরকারি হিসেবে নয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে তাকে উপহার দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

মাদারীপুরের পৈতৃক ভিটায় বৃহস্পতিবার এই বাড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে।

হারুন মাতুব্বরের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার সিরাজচরে। তবে তিনি থাকেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার বাড়ি নির্মাণের তদারকি করেন। বৃহস্পতিবার বাড়িটি উদ্বোধনের সময়ও তিনিসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশেই গৃহহীনদের বাড়ি করে দিচ্ছেন। হারুনুর রশীদ মাতুব্বরের উপহার পেয়ে তিনি ভাবতে থাকেন কীভাবে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী মানুষটির জন্য কিছু করা যায়। তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পর ফিরতি উপহার হিসেবে তাকে বাড়ি করে দেয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার নির্দেশনা এবং অর্থায়নে আমরা এ বাড়ির নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধান করি।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, কাঠমিস্ত্রি হারুনুর রশীদ মাতুব্বর শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আসেন নৌকার আদলে একটি পালঙ্ক তৈরি করে তা সজীব ওয়াজেদকে উপহার দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর।

‘পালঙ্কের রূপকার’কে শেখ হাসিনার বাড়ি

দৃষ্টিনন্দন পালঙ্কটি তিনি তৈরি করেন আট বছর ধরে। জয়কে উপহার দেয়ার জন্যই ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়ে তিনি পালঙ্কটি বানান। এটি দেখলে তার মেধা, শ্রম ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় মেলে। অনেকেই বলছেন, এই পালঙ্ক ভবিষ্যতে হতে পারে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

সূত্রমতে, আজ থেকে প্রায় ৯ মাস আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ট্রাকে করে পালঙ্কটি নিয়ে হাজির হন হারুন। তিনি সেটি উপহার হিসেবে সজীব ওয়াজেদকে দিতে চান বলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াকে জানান। বিপ্লব বড়ুয়া তাকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কোনো উপহার গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

তাতেও দমে না গিয়ে হারুন ট্রাকসহ কার্যালয়ের সামনে দুদিন ধরে অবস্থান করতে থাকেন। তখন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিপ্লব বড়ুয়াকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে বলেন।

বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতিকে জানালে তিনিও প্রথমে এটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তিনি বিপ্লব বড়ুয়াকে বলেন, এভাবে উপহার গ্রহণ করলে অনেকেই উপহার নিয়ে আসতে থাকবে, যা কাম্য নয়। সেটা হারুনকে জানানো হলেও তিনি উপহার দেয়ার বিষয়ে অনড় থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী তখন বিপ্লব বড়ুয়াকে জানতে বলেন যে হারুনুর রশীদ মাতুব্বর কিছু চান কি না। জবাবে ওই কাঠমিস্ত্রি জানান, তিনি কিচ্ছু চান না। টানা অবস্থান করায় প্রতিদিন ট্রাক ভাড়া বাড়ছে। তাই উপহারটা যেন দ্রুত গ্রহণ করা হয়।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী এই উপহারের পালঙ্ক গ্রহণে সম্মত হন। উপহার গ্রহণের পর তিনি বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিপ্লব বড়ুয়াকে পালঙ্ক নির্মাতার জন্য কী করা যায় সে বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেন।

‘পালঙ্কের রূপকার’কে শেখ হাসিনার বাড়ি

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া নিউজবাংলাকে জানান, তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে ওই কাঠমিস্ত্রির অবস্থা দিন এনে দিনে খাওয়ার মতো। বাড়ি মাদারীপুরে হলেও তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্যবসা করেন। তার অর্থনৈতিক অবস্থা এতই খারাপ যে, নিজের বাড়ি নির্মাণের সামর্থ্য নেই।

এসব তথ্য প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি হারুনুর রশীদ মাতুব্বরকে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশ দেন।

‘পালঙ্কের রূপকার’কে শেখ হাসিনার বাড়ি

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, পালঙ্কটি গ্রহণের পর সেটি টুঙ্গিপাড়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৈতৃক বাড়িতে তার দাদা শেখ লুৎফর রহমান যে কক্ষে থাকতেন সেই কক্ষে রাখা হয় এটি। পরে সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে এলে বঙ্গবন্ধুকন্যা ছেলেকে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে পালঙ্কটি দেখান। নৌকার নকশায় বানানো এ পালঙ্ক দেখে অভিভূত হন জয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে বাড়ি পেয়ে হারুনুর রশীদ মাতুব্বর অভিভূত। নিউজবাংলার কাছে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। কিন্তু রুটি-রুজিতে ব্যস্ত থাকায় সেভাবে দল করতে পারি না, দলকে কিছু দিতেও পারি না। তাই বঙ্গবন্ধুর নাতির জন্য মনের মাধুরী, মিস্ত্রি জীবনের পুরো সৃষ্টিশীলতা আর পরিশ্রম দিয়ে অনেক দিন ধরে পালঙ্কটি বানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ফিরতি উপহার হিসেবে বাড়ি দিয়েছেন। এটা পেয়ে তিনি অভিভূত। আমি শেখ হাসিনা ও জয়কে প্রাণভরে দোয়া করি।’

আরও পড়ুন:
গুম-খুনের শুরু তো জিয়ার হাতে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে জ্বালানি চুক্তি চাইবে ঢাকা
ফজলে রাব্বীর মৃত্যু আ.লীগের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: প্রধানমন্ত্রী
‘শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন’
চা-শিল্প মালিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শনিবার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Sheikh Hasina is God who cannot be criticized Fakhrul

শেখ হাসিনা কি গড যে সমালোচনা করা যাবে না: ফখরুল

শেখ হাসিনা কি গড যে সমালোচনা করা যাবে না: ফখরুল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
রাজবাড়ীতে মহিলা দল নেত্রী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কী অপরাধ? অপরাধ, তিনি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন, লিখেছেন হাসিনার বিরুদ্ধে? কেন? আপনি কি গড, বিধাতা যে, আপনার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলা যাবে না? একটা গণতান্ত্রিক দেশে যে কারও সমালোচনা করার অধিকার আছে। প্রত্যেকটি মানুষের রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা যাচ্ছে না অভিযোগ করে কেন এমনটি হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কি গড, বিধাতা, সৃষ্টিকর্তা যে তার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না?’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি দেশব্যাপী আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে এই মিছিল করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।

গত জুলাই থেকে নানা কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে ভোলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম, মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন, নারায়ণগঞ্জ যুবদল নেতা শাওন প্রধান এবং বেনাপোল পৌর সভার ৩৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মো. আব্দুল আলিম নিহত হয়েছেন।

তাদের স্মরণে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোক মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আরামবাগ হয়ে আবারও কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এই মিছিলকে ঘিরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ এর আশ-পাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার বলায় গড়ে তোলে। কর্মসূচিকে ঘিরে আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটও তৈরি হয়।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ফখরুল এই কথাগুলো বলেন ফেসবুকে লেখালেখির কারণে এক মামলায় রাজবাড়ীর মহিলা দল নেত্রী সোনিয়া আক্তার স্মৃতিক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে।

রাজবাড়ীর মিজানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সামসুল আরেফিন চৌধুরী থানায় জমা দেয়া এক অভিযোগে বলেন, সোনিয়া প্রধানমন্ত্রীর সুনাম নষ্টে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করেন।

পৌর এলাকার বেড়াডাঙ্গার বাসা থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার আদালতে তোলা হলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তোলে ফখরুল বলেন, ‘কী অপরাধ? অপরাধ, তিনি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন, লিখেছেন হাসিনার বিরুদ্ধে? কেন? আপনি কি গড, বিধাতা যে, আপনার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলা যাবে না? একটা গণতান্ত্রিক দেশে যে কারও সমালোচনা করার অধিকার আছে। প্রত্যেকটি মানুষের রয়েছে।’

‘অস্তিত্বের জন্য সরকার পতন ছাড়া বিকল্প নেই’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজকে আমাদের অস্তিত্বের জন্য, আমাদের বাঁচার জন্য এবং আমাদেরকে রক্ষা করবার জন্য আমাদের কোনো বিকল্প নাই। এই হাসিনা সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‘এই সরকারকে আর কোনো সময় দেয়া যায় না। এই সরকার জাতির জন্য একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। সে জন্য এ দেশের মানুষ জেগে উঠেছে, জেগে উঠেছে আমাদের তরুণ-যুবকেরা। আজকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব, পেছনে ফিরব না।’

বিএনপির নিহত ৫ নেতার স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা এ দেশকে স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। তারা মিছিলে থেকে এই দানবীর সরকারের পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। আর অসংখ্য আহত হয়েছে। কারও চোখ চলে গেছে এবং কারও বুক চলে গেছে। অসংখ্য মামলা হয়েছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন থেমে থাকেনি।

‘এই স্বৈরাচারি সরকারের পতনের লক্ষ্যে প্রতিদিন এবং তাকে সরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে মিছিলে মিছিলে আরও মানুষ বাড়ছে।’

ফখরুল বলেন, 'এই সরকারকে বাধ্য করব পদত্যাগ করতে, পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা প্রদান করতে। সংসদ বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যে দিয়ে জনগণের ভোটে নতুন সংসদ গঠন করে নতুন সরকার গঠন করা হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মতো করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অনেক রক্ত আমরা দিয়েছি। আমরা আরও রক্ত দেব। কিন্তু এদেশের মানুষকে আমরা মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন
সরকার ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষণা করেছে, তার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব। দাবি করেন, দুর্নীতি ও চুরি ঢেকে রাখাই এর উদ্দেশ্য।

ফখরুল বলেন, ‘মানুষ যাতে সঠিক তথ্য জানতে না পারে, আমাদের গণমাধ্যম যাতে এই সরকারের দুর্নীতি প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য সার্কুলার দিয়ে ২৯টি বিভাগকে, তাদের কাছ থেকে কোনো খবর নেয়া যাবে না।

‘তারা কাউকে কোন খবর দেবে না। এর অর্থ হচ্ছে, তাদের যে দুর্নীতি ও চুরিকে ঢেকে রাখবার জন্য এবং সঠিক খবর থেকে তারা সমস্ত দেশ এবং জাতিকে বঞ্চিত রাখতে চায়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তর করা হবে। সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।’

বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মীর সরফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শিরিন সুলতানা, নাজিম উদ্দিন আলম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
৯৬-এর আলোকে তত্ত্বাবধায়কের রূপরেখা করছে বিএনপি
দুর্নীতিতে গ্রিড বিপর্যয় হলে ২০০৩ স্মরণ করুন: ফখরুলকে কাদের
কেবল বিদ্যুৎ নয়, সব কিছুতেই জাতি বিপর্যয়ে: ফখরুল
দেবী দুর্গার আবির্ভাব সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায়: ফখরুল
বিএনপি হাঁটুভাঙা দল নয়: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP is lying about grid disaster Hanif

গ্রিড বিপর্যয় নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি: হানিফ

গ্রিড বিপর্যয় নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি: হানিফ কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি: নিউজবাংলা
‘সরকারের বিরুদ্ধে বলার মতো কিছু না পেয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও দিতে পারেনি। এই ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ঢাকতে এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে।’

বিদ্যুতের গ্রিড বিপর্যয় নিয়ে বিএনপি নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, ‘বিদ্যুতের গ্রিড বিপর্যয় একটি দুর্ঘটনা। এ নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছেন মির্জা ফখরুলরা। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে। চাহিদার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের।

‘সরকারের বিরুদ্ধে বলার মতো কিছু না পেয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও দিতে পারেনি। এই ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ঢাকতে এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক দল, জামায়াত তাদের পরিপূরক। একই মায়ের দুই সন্তান। সেই দলের নেতাদের মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অভিযোগ মানায় না। বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের আনুকূল্য পেতে তারা এসব বলছে।’

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আকম সরোয়ার জাহান বাদশাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় স্কুল কলেজের কয়েক শ ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়।

গ্রিড বিপর্যয়

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে ইস্টার্ন গ্রিড ফেল করার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার পর সন্ধ্যা থেকে জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

বেলা ২টা ৪ মিনিটে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর ২টা ৩৬ মিনিটে আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন চালুর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়। এবং সতর্কতার সঙ্গে সেটা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলমান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The cause of the grid failure is still unknown

গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ এখনও অজানা

গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ এখনও অজানা গ্রিড বিপর্যয়ে মঙ্গলবার দেশের অর্ধেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের প্রায় অর্ধেক অংশ দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর আগে কয়েক বার ছোট পরিসরে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর। সেবার সারাদেশ ১৭ ঘণ্টা ব্লাকআউট ছিল।

বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ দুই দিনেও পরিষ্কার হয়নি। ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত মানুষের ত্রুটির (হিউম্যান ফল্ট) কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেডের তদন্ত কমিটির প্রধান মো. ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরী।

তবে প্রাথমিক তদন্তে এসেছে বড় বিপর্যয় ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার ‘গ্রিড ট্রিপ’ এর ঘটনা ঘটে।

তদন্ত কমিটির প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় প্রত্যেকটি পাওয়ার প্ল্যান্টেই কিছু না কিছু ঘটেছে। কেনো সেটি ঘটেছে বা ওইসব ঘটনার সঙ্গে কোনো বিশেষ ত্রুটির সম্পর্ক আছে কিনা- আমরা অনুসন্ধান করছি।’

বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শন শুরু করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এর আগে তারা ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও যান।

ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও যাব। কেন্দ্রগুলো থেকে আমরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছি। এগুলো পর্যালোচনা করা হবে। তবে এখনই গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা যাবে না। সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত চলছে।’

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের প্রায় অর্ধেক অংশ দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর আগে কয়েক বার ছোট পরিসরে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর। সেবার সারাদেশ ১৭ ঘণ্টা ব্লাকআউট ছিল।

স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম চালু না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঝুঁকি থাকবে বলে মনে করেন বিদ্যুৎখাত বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পুরোনো আমলে অ্যানালগ পদ্ধতির লোড ব্যবস্থাপনাই জাতীয় গ্রিডকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

কেন এমনটা ঘটে

বিদ্যুৎ প্রবাহ লাইনে চলমান ফ্রিকোয়েন্সিতে তারতম্য ঘটলেই ব্লাক আউটের ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে নিজ থেকেই ‘গ্রিড ট্রিপ’ ঘটে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশে ৫০ মেগাহার্টজ তরঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। কোনো কারণে এটি বেড়ে কিংবা কমে গেলে গ্রিড ট্রিপের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মঙ্গলবারের ব্ল্যাকআউটের মূল কারণ ছিল এই গ্রিড ট্রিপ।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি সাবস্টেশনের মাঝখানে যে ইন্টারকানেকশন রয়েছে, সেখানেই মূলত সমস্যা। তবে সমস্যাটা কেন হল সেটা এখনও জানা যায়নি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী ইয়াকুব এলাহি চৌধুরী জানান, দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওয়ার কন্টোল রুমগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সব পরীক্ষা শেষে বিপর্যয়ের কারণ জানা যাবে।

৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের নভেম্বরের ব্ল্যাকআউটের পর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনে কারিগরি ত্রুটি, দায়িত্বপালনে সীমাবদ্ধতা এবং নির্দেশ পালনে অবহেলাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল করা, কারিগরি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ২০ দফা সুপারিশ করা হয়। তবে আট বছরেও বেশির ভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

২০১৭ সালে গ্রিড বিপর্যয়ে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল দেশের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩২ জেলা। সর্বশেষ গত মাসে গ্রিড বিপর্যয়ে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল অঞ্চল ৪০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।

এর আগে ২০০২, ২০০৭, ২০০৯ সালেও গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন:
গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা
গ্রিড বিপর্যয় নাশকতা কি না দেখছে সরকার
দুর্নীতিতে গ্রিড বিপর্যয় হলে ২০০৩ স্মরণ করুন: ফখরুলকে কাদের
সংযোগ কেটেও বকেয়া পাচ্ছে না বিদ্যুৎ কোম্পানি
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Laguna driver died in Hazaribagh tire explosion

হাজারীবাগে লেগুনার চাকা বিস্ফোরণে চালকের মৃত্যু

হাজারীবাগে লেগুনার চাকা বিস্ফোরণে চালকের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
নিহতের নাম সুজন মিয়া। ২৬ বছরের সুজন লেগুনার চালক ছিলেন। চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলার মহেশপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তিনি।

রাজধানীতে হাজারীবাগে লেগুনার চাকা বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মেডিক্যালে। বেড়িবাঁধে বুধবার দুপুর ১২টা দিকে চাকায় হাওয়া দেয়ার সময় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাম সুজন মিয়া। ২৬ বছরের সুজন লেগুনার চালক ছিলেন। চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলার মহেশপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তিনি।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া এসব নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

লেগুনার মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাকায় হাওয়া দেয়ার সময় বিকট শব্দে তা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান সুজন। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সে মারা যায়।’

আরও পড়ুন:
মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Electoral code of conduct to be followed A league to EC

নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে হবে: আ.লীগকে ইসি

নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে হবে: আ.লীগকে ইসি গাইবান্ধা-৫ আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন গণসংযোগ করছেন। ছবি: নিউজবাংলা
‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোথাও কোথাও নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে মর্মে নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ কোথাও কোথাও নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, রঙিন পোস্টার মুদ্রণ করে প্রচার করছে এবং পোস্টারে নেতা-নেত্রীর ছবিও ছাপানো হচ্ছে। এছাড়াও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিভিন্ন জনসভায় নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

৬১ জেলা পরিষদ ও গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আচরণবিধি মেনে চলতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে দেখা করে নানা অভিযোগ করার পর কমিশনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যে প্রধান দলটির পরিচালনা করেন, তাদের কাছে বার্তা দেয়া হয়ে গেছে যে আপনাদের দলের কোনো সদস্য যাতে আচরণবিধি না ভাঙে, সে জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।’

নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জ্বি, জ্বি’।

ক্ষমতাসীন দলের সেক্রেটারি বরাবর পাঠানো হয়েছি কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নামটা বললাম না। তবে অলরেডি দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। কিছুক্ষণ পরে আপনারা টের পেয়ে যাবেন তারা সতর্ক হয়ে গেছে।’

আলমগীর বলেন, ‘সরকার তো দেশ চালায়। তবে আমরা যেটা বলব সেটা তো তারা সাংবিধানিকভাবে তারা মানতে বাধ্য। সরকারি দায়িত্ব হিসেবে এটা মানতে হবে।'

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দুই/চারটি জেলা থেকে অভিযোগ আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কড়া নির্দেশ দিয়েছে যদি কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করে, তাদেরকে বলতে হবে আপনারা অতিসত্ত্বর এলাকা ত্যাগ করবেন। এলাকায় থাকতে পারবেন না। এই ভোটে তো তিনি ভোটার না। ভোটার হিসেবে এলাকায় থাকবার সুযোগ নাই।’

তিনি বলেন, ‘শুধু গাইবান্ধা না, যেকোনো ধরনের নির্বাচন থেকে আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে থাকি যে, যারা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, বিশেষ করে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা, তারা প্রচারে আছেন। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যিনি থাকেন, তাকে ভয়-ভীতি দেখানো- এ ধরনের অভিযোগ করে থাকেন।

‘সে ব্যাপারে আমাদের কড়া নির্দেশ আমরা লিখিতভাবে দিয়েছি। আগামী শনিবার এ উপলক্ষে আমরা প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আহ্বান করেছি আসার জন্য। সে সময় নির্বাচন সুষ্ঠু-সুন্দর করার জন্য ম্যাসেজটি দেয়া হবে একেবারে সামনাসামনি।

‘যদি কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকেন, তাহলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ওনারা যদি করতে ব্যর্থ হন, আর তার কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে আসে, তাহলে যে আইন রয়েছে, আমরা কিন্তু সেটি প্রয়োগ করতে পিছপা হবো না।’

নির্বাচন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন কমিশনার আলমগীর।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে, সে ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয় হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছি। রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেব।’

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি

কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক আসাদুজ্জামান আরজু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আচরণবিধির লঙ্ঘন হলে কঠোর হবে কমিশন।

আগামী ১৭ অক্টোবর দেশের ৬১ জেলা পরিষদে এ ভোট হবে। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে নির্বাচন করবেন তাদের প্রতিনিধি।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোথাও কোথাও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে মর্মে নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ কোথাও কোথাও নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, রঙিন পোস্টার মুদ্রণ করে প্রচার করছে এবং পোস্টারে নেতা-নেত্রীর ছবিও ছাপানো হচ্ছে। এছাড়াও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিভিন্ন জনসভায় নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

নির্দেশনা আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন এসব আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ইসির সেই ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন
রাশিয়ার ইসির কনফারেন্সে যোগ দিতে সিইসিকে আমন্ত্রণ
আইএফআইসি ব্যাংকে সিডনিসানের ১০ হাজার সিসিটিভি
হাফেজ তাকরিমের অর্জনে গর্বিত মুশফিক
‘কারসাজির’ প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fear of famine in the world the countrys economy is strong Prime Minister

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
‘প্রত্যেকের মাঝে কিন্তু এই ধরনের একটা আশঙ্কা। সবাই এ কথা বলেছে যে ২০২৩ সাল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত একটা দুর্যোগময় সময় এগিয়ে আসছে, এমনকি বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষও দেখা দেবে, এমন শঙ্কা সকলের মনে আছে। এ নিয়ে সবাই চিন্তিত ও আতঙ্কিত।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী বছর সারা বিশ্বের জন্য ‘অত্যন্ত দুর্যোগময়’ হতে পারে বলে শঙ্কা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দেশের অর্থনীতি ‘যথেষ্ট শক্তিশালী’ আছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

গত ছয় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেকটা কমে গেলেও এখনও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আছে বলে মনে করেন সরকার প্রধান।

গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, এই সফরে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে যাদের সঙ্গেই দেখা হয়েছে, সবাই অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকের মাঝে কিন্তু এই ধরনের একটা আশঙ্কা। সবাই এ কথা বলেছে যে ২০২৩ সাল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত একটা দুর্যোগময় সময় এগিয়ে আসছে, এমনকি বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষও দেখা দেবে, এমন শঙ্কা সকলের মনে আছে। এ নিয়ে সবাই চিন্তিত ও আতঙ্কিত।’

‘দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট সচল’
দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একদিকে করোনাকালীন সংকট, আরেকদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এবং স্যাংশন, পাল্টা স্যাংশন। এর মাঝেও আমাদের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট সচল রাখতে পেরেছি। এটা আমার কথা না, আন্তর্জাতিক নানা সংস্থাও সে কথা বলছে।

‘শুধু এটুকু বলব, আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে লং টার্ম, মিডিয়াম টার্ম, বা ইমিডিয়েট, যেকোনো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের কোনো রিস্ক নেই। আমি কথা দিতে পারি। এটুকু ব্যবস্থা আমরা নিতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতির যে টার্গেট আমরা নির্দিষ্ট করেছি, সেটা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হব, এ ব্যাপারে সবাইকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই। এরপর যদি মহাদুর্যোগ দেখা দেয়, এমনিতেই সারা বিশ্ব তো কষ্ট পাচ্ছে। তাতে বেশি কিছু বলার নেই। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী আছে, এটুকু আশ্বাস আমি দিতে পারি।’

উৎপাদন করুন, অপচয় করা যাবে না
দুচিন্তা না করে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সাশ্রয়ী হওয়ার তাগিদও দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘দুশ্চিন্তা তো মানসিক ব্যাপার, কার কী মানসিকতা তার ওপরও নির্ভর করে। তবে সকলে মিলে যদি এই চিন্তা করে যে, না, দেশটা আমাদের, এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সেইক্ষেত্রে আমাদের অপচয় করলে হবে না।

‘তারপরও দেশবাসীর কাছে আমি বারবার আহ্বান করেছি, আপনারা যার যেখানে যতটুকু জমি আছে, বা জলাধার আছে, সেখানে যেন কিছু না কিছু উৎপাদন করে। কারণ, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টা বেশি বিবেচনা করা দরকার।’

প্রতিটি ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি ব্যবহার, খাদ্য ব্যবহার, প্রতিটি ব্যবহারে সবাই যেন একটু সাশ্রয়ী হয়। কারণ আগামী সংকটটা যেন আমাদের সেভাবে না দেখা দেয়।’

রিজার্ভ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ
যে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারের দিকে ছুটছিল আট মাসের মধ্যে তা ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে এবং তা ক্রমহ্রাসমান।

তবে রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভ এখনও যথেষ্ট। আমাদের যে রিজার্ভ আছে, যদি কোনো সংকট দেখা দেয়, পাঁচ মাসের খাদ্য কেনার মতো রিজার্ভ আমাদের আছে। রিজার্ভ হিসাব করা হয় এ কারণে যে, কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে আপনার তিনমাসের খাদ্য কেনার সংগতি আছে কি না। আমাদের সেখানে পাঁচ মাসের আছে।’

বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধে ভবিষ্যতেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমরা যত ঋণ নেই, বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত কখনও কোনোদিন খেলাপি হয়নি। যত সমস্যা থাক আমরা কিন্তু সময়মতো ঋণ পরিশোধ করি। যখন ঋণ পরিশোধ করি আমাদের রিজার্ভ তখন কিছুটা কমে যায়। করোনাভাইরাসের সময় যখন অনেক কার্যক্রম বন্ধ ছিল, আমরা যথেষ্ট রিজার্ভ বাড়াতে পেরেছিলাম।’

বাজেটের সমস্যা হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সমস্ত প্রকল্পগুলো একান্তভাবে আমাদের জরুরি সে প্রকল্পগুলো এবং অধিক টাকা দিয়ে দ্রুত শেষ করে সেখান থেকে রিটার্ন পাওয়া যায়, সেই ধরনের প্রকল্পগুলো আমরা দ্রুত শেষ করে দিচ্ছি।

‘আমরা দেখি ওই প্রকল্পটা আমাদের দেশের জন্য কতটা প্রযোজ্য, কত টাকা খরচ করতে হবে, কত টাকা ঋণ নিতে হবে, কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আমার কত টাকা রিটার্ন আসবে। রিটার্ন ভালো পাব, সেটা গ্রহণ করি, বাকিগুলো করি না।’

গণমাধ্যম নিয়ে মাথাব্যথা নেই
গণমাধ্যমের সমালোচনা নিয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কিছু কিছু পত্রিকা আছে, তাদের বোধ হয় সারা জীবনই বাংলাদেশের খারাপ কথাটা বলতে পারলে তারা স্বস্তি পায়। এটা আমি যুগ যুগ ধরে দেখছি। এরকম ধরনের মানুষ থাকে। সবসময় নেতিবাচক চিন্তা অথবা বলতে হবে যে পরশ্রীকাতরতায় ভোগে।

‘বাংলাদেশ যত ভালো করুক, তাদের চোখে ভালো হওয়া যাবে না। তবে সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমি সেটা নিয়ে চিন্তাও করি না। আমার লক্ষ্য থাকে যে, জনগণের ওপর আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে, আমি যে কাজটা করছি জনগণ কতটা লাভবান হলো, জনগণের কষ্ট যাতে না হয়, সেদিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিই।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
By participating in the voting the protest of the EVM will be zapar

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা
ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরোধী হলেও এই যন্ত্রে ভোট হতে যাওয়া গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ জানিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই ভোটে অংশ নিচ্ছে তারা।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইভিএমের নির্বাচনের পক্ষে না। গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনটা ইভিএমে হবে। কিন্তু আমাদের পার্টির কালচার আছে আমরা নির্বাচন বর্জন করি না। নির্বাচন বর্জন করাকে আমরা মনে করি গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা। তাই আমরা প্রতিবাদ হিসেবে সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

‘আমরা বলছি, এই নির্বাচনটা যদি ফেয়ার করতে পারেন, মানুষের কিছুটা আস্থা আসতে পারে। নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন সেই বিষয়ে আমরা তাদের বলেছি। তারাও আমাদের বলেছে।’

ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।

‘আগামী নির্বাচনে কী করব সেটা পরিস্থিতির উপর সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ভোট বর্জনের রাজনীতি করি না। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে গত ২৪ জুলাই গাইবান্ধা-৫ আসন শূন্য হয়৷ আগামী ১২ অক্টোবর এ আসনে ভোট হবে।

এই নির্বাচন ছাড়াও জাপা প্রতিনিধি দল কথা বলে আগামী ১৭ অক্টোবর হতে যাওয়া ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে। এই নির্বাচনে ভোটার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা, যাদের সিংহভাগই নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন, কেউ কেউ দলের বিদ্রোহী নেতা।

গাইবান্ধা উপনির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। তবে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চুন্নু বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলা পরিষদে অনেক এমপিরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা করছেন। নির্বাচনকাজে বাধা দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের প্রার্থীদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা বলছে জোর করে ভোট নিয়ে নেবেন। যারা জাতীয় পার্টির এজেন্ট হবে তাদের এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না।’

ভোটে সব কেন্দ্রে সিসিটিভির ক্যামেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান জাপা নেতা।

সিইসি কী বলেছেন, জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘তারা বলেছেন ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে, সৎ থেকে ভালো নির্বাচন দেয়ার মতো মানসিকতা আছে, ইচ্ছা আছে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলনটা জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং গাইবান্ধা ভোটে দেখতে চাই।

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের বলেছেন, তারা আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে খুবই অনড় ও শক্ত অবস্থানে আছেন। সিইসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত সংসদের উপনির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহার করার কথা রয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কমিশন সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আরেক প্রশ্নে চুন্নু বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজকে পর্যন্ত কোনো নির্বাচন শতভাগ ফেয়ার হয়েছে বলে কেউ বলতে পারবে না। সব নির্বাচনেই কম-বেশি হয়েছে। যখন যেই দল নির্বাচনে জিতে তখন তারা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে এবং বাকিরা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়নি।

‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও নির্বাচন ফেয়ার হয় না। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমরা বলছি, বর্তমান সিস্টেমে নির্বাচন ফেয়ার করা সম্ভব না। একমাত্র নির্বাচন সিস্টেম যদি পরিবর্তন করা হয়, যদি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলেই শতভাগ ফেয়ার নির্বাচন করা সম্ভব। তবে আমরা চাই বেশিরভাগ নির্বাচন ফেয়ার হোক।'

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টি এখন কারও দালালি করে না: চুন্নু
জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন
রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা
জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
ব্যানারে নেতার ছবি না থাকায় জাপার ২ গ্রুপে সংঘর্ষ

মন্তব্য

p
উপরে