× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The teacher was not allowed to go to the class for misbehaving
hear-news
player
google_news print-icon

‘অশালীন আচরণ করায়’ শিক্ষককে ক্লাসে যেতে মানা

অশালীন-আচরণ-করায়-শিক্ষককে-ক্লাসে-যেতে-মানা
প্রধান শিক্ষক রউফ জানান, নূরুলের বিরুদ্ধে ক্লাসে অশালীন আচরণের অভিযোগ ইউএনওর কাছে জানান এক ছাত্রীর বাবা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে নূরুলকে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে বলেন।

নেত্রকোণার মদনে স্কুলছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে এক শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীরপুর টি আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে এই নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সভাপতিও।

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রউফ এসব নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত নূরুল আমিন আজাদ ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক রউফ জানান, নূরুলের বিরুদ্ধে ক্লাসে অশালীন আচরণের অভিযোগ ইউএনওর কাছে জানান এক ছাত্রীর বাবা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে নূরুলকে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে বলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক জানান, সোমবার শিক্ষক নূরুল নবম শ্রেণির ক্লাস নেয়ার সময় বই না আনায় কয়েক শিক্ষার্থীর উপর ক্ষিপ্ত হন। কয়েক ছাত্রীর গায়ে হাত তুলেন ও অশালীন ব্যবহার করেন। বাড়িতে গিয়ে তারা ঘটনা জানালে এক অভিভাবক ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

ওই অভিভাবক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই শিক্ষক আগেও বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের হয়রানি ও অশালীন আচরণ করেছেন। ক্লাসে বই না আনলে অথবা তার কাছে প্রাইভেট না পড়লেও তিনি কটুক্তি এবং ইভটিজিংমূলক কথাবার্তা বলেন। তার আচরণে অনেক ছাত্রী লজ্জায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’

ইউএনও ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘আমি অভিযোগ পাওয়ার পরই বিদ্যালয়ে গিয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা শিক্ষকের এমন আচরণের কথা স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশও (শোকজ) দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা অফিসারকেও চিঠি দেয়া হচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক নূরুল আমিন বলেন, ‘ইংরেজি বই না আনায় আমি শাস্তি হিসেবে ছাত্রীদের একে অপরকে থাপ্পর দিতে বলেছিলাম। এখন ছাত্রীরা বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখা করছে।’

আরও পড়ুন:
আইসিটি শিক্ষকদের গণবিজ্ঞপিতে আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ
জামিন পেলেন শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন
শিক্ষকের ‘ধর্ম অবমাননা’ তদন্ত করবে স্কুল
শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছেই
সালাম না নেয়ায় ‘ধর্ম অবমাননা’, আতঙ্কে স্কুলশিক্ষক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
UGC wants e documents in universities

বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-নথি চায় ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-নথি চায় ইউজিসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ই-নথি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
দিল আফরোজা বলেন, ই-নথি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকেই ইন্টারন্টে সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে নথি নিষ্পন্ন করা যাচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে গতি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-নথি ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ই-নথি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম এ আহ্বান জানান।

দিল আফরোজা বলেন, ই-নথি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকেই ইন্টারন্টে সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে নথি নিষ্পন্ন করা যাচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

সহজে ও দ্রুততম সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ই-নথি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমডোর শেখ ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসন, মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম খালেদ ইকবাল ও ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, আইসিটি সেলের পরিচালকসহ ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ই-নথি ব্যবস্থা কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাগজের ফাইলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। এই ব্যবস্থায় নথিসংক্রান্ত সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকে, ফলে দ্রুততম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।’

তিন দিনের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল অফিস ম্যানেজমেন্ট, ই-নথি সিস্টেম, প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, ডাক আপলোড প্রক্রিয়া, ডাক ব্যবস্থাপনা, ডাক নথিতে উপস্থাপন পদ্ধতি, নথি ও পত্রজারি, নথি ব্যবস্থাপনা এবং নথি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা হবে।

প্রশিক্ষণে সেশন পরিচালনা করবেন ইউজিসির আইএমসিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, একই বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ এবং প্রোগ্রামার দ্বিজন্দ্র চন্দ্র দাস।

আরও পড়ুন:
এপিএতে সই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্তে ইউজিসি
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আসছে নীতিমালা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How is the child who gives news in the madrasa?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’ ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী। ছবি: সংগৃহীত
১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন: ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী

হাফিজি মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বেধড়ক মারধর নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন একজন ধর্মীয় বক্তা। তিনি আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে সন্তানদের না পাঠানোর অনুরোধও করেছেন। বলেছেন, যেভাবে মাদ্রাসায় নির্যাতন করা হয়, তার খানিকটা তার ওপর করা হলে তার ইমান থাকত না।

শিশুদের হাফেজখানায় না দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ম্যাজিস্ট্রেট বানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, হাফেজ বানালে জাতির কোনো লাভ হয় না।

তিনি বলেন, কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ বানানো বাধ্যতামূলক বা ফরজ না। ফরজ হচ্ছে কোরআন সঠিকভাবে এক পারা শেখানো। সবাই এক পারা শিখলেই গোটা দেশ পাল্টে যাবে।

এই ধর্মীয় বক্তার নাম রফিক উল্লাহ আফসারী। বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামে।

তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা কামিল মাদ্রাসায় চাকরি করেন। পাশাপাশি ওয়াজ করেন।

সেই এলাকাটা অনেকটা নোয়াখালী লাগোয়া। তার ভাষা নোয়াখালীবাসীর মতো।

এই ধর্মীয় বক্তা মাদ্রাসায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুদের পেটালে সরাসরি থানায় যেতে বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে সরকার যেন এসব মাদ্রাসায় নজরদারি করে, সেই দাবি তুলেছেন।

রফিক আফসারী নিজেও তার সন্তানকে মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। এর পরই সেখানকার চিত্র জানতে পেরেছেন বলে জানান। বলেন, তিনি নানা অভিযোগের বিষয়ে স্বচক্ষে দেখতে নানা কৌশলে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন।

সম্প্রতি তার একটি ওয়াজের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এর পর থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। বহুজন বলছেন, মাদ্রাসায় নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে অন্তত একজন আলেম মুখ খুলেছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

তবে এই ওয়াজেই আফসারী শঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব বক্তব্য দেয়ার কারণে তার ওপর চড়াও হবেন কওমিপন্থিরা।

যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, ওয়াজে যে শঙ্কার কথা তিনি বলেছিলেন, সেটি সত্য হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় কওমিপন্থিদের রোষানলের কারণে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

কওমি মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী শিশুকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় মায়ের করা মামলায় এক শিক্ষককে গত বছর ১৮ মার্চ কারাদণ্ড দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালত। সেই বছর হাটহাজারীর এক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে পেটানোর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

‘হাফেজ বানিয়ে লাভ কী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানান’

হাফেজি পড়ে জাতির কোনো লাভ হয় না বলে মনে করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত স্টাডি করে দেখেন, কয়জন মানুষ হইছে, জাতিকে কিছু দিতে পারছে। পারছে?

‘১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন।’

তিনি বলেন, ‘হাফেজ কোনটা বড় আলেম হইছে দেখান না। আপনি পড়ান কম, যাতে এক পারা হাফেজ হলেও ছেলেটা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

এই সত্য তুলে আনায় হুজুররা গালিগালাজ করবে জানিয়ে আফসারী বলেন, তাতে তার আক্ষেপ নাই। তিনি বলেন, ‘করুক তাতে কী? আমার আল্লাহ যদি আমার প্রতি খুশি থাকে, আমার কারণে যদি একটা ছেলে মাইর থেকে বাঁচে, এই আনন্দ আমি রাখি কোথায়?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

জামালপুরের ইসলামপুরে তিন মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। ফাইল ছবি

‘আমার কারণে যদি একটা ছেলে কয়, আফসারী ভাইয়ের বক্তব্যের কারণে আমি এই নির্যাতন থেকে বাঁচি আইছি, দেখবেন যে সে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে যাবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে যাবে।

‘খালি হুজুর হইলে যে খেদমত করা যাইব, সেটাও তো নয়। পুলিশ অফিসার হইলেও তো খেদমত করতে পারব। প্রত্যেকের অবদান আছে একটি দেশ বিনির্মাণের জন্য।’

‘মাদ্রাসায় বাচ্চারা কেমন আছে খবর রাখেন?’

মানুষ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় শিশু পাঠানোর পর সেখানে তারা কেমন আছে, সেই খোঁজ নেয়ার তাগিদ দেন রফিক আনসারী। বলেন, পিটুনি ছাড়াও যেনতেন থাকার জায়গা, নিম্নমানের খাবারের কারণে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আফসারী বলেন, ‘যে মারটা দেয় ভাই! খবর নেন? সরল বিশ্বাসে আপনেরা হাফিজি মাদ্রাসায় দিয়ালান। কত মাইর দেয়! এই ছোট পোলাইনগুলার বদ দোয়া…। প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হলে সরকার হ্যাতেরে দুইটা বছর ট্রেনিং দেয়, পিটিআইয়ের ট্রেনিং দেয়, আগে শেখ, পরে পড়াইস। হ্যাতেরা তো হেফজ হইয়াই দৌড় দিয়া হাফিজি মাদ্রাসায় আয় তামা করে লায় পোলাইনগুলারে পিডায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার চোখে দেখা, হাজার হাজার প্রতিবন্ধী, ব্রেইন আউট…। মা-বাপেও হেরে দেয়া লাই, বান্দি (বেঁধে) দিয়া হেরে দেয়া লাই। এবার হুজুরে কয়, গেছসনি আব্বার বাইত? দিছে কি হে জায়গা?

‘আল্লারে পোলা নিজের মাথা নিজে ওয়ালের লগে ফিডে (পেটায়)। কত কষ্ট পাইলে হেতে তিন তলাত্তন (তিনতলা থেকে) ঝাঁপ দিয়া মরে?’

আফসারী বলেন, ‘প্রবাসী যারা শুনতেছেন, আপনাগো বউরা তো দিয়া দেয় মাদ্রাসায় মানুষ করবার লাই। আপনার পোলারা কি সুখে আছে, চায় লইয়েন (দেখে যাবেন)। জীবনেও মানুষ হবে না। মার কাছে থাকব। হ্যাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা পারে পড়ব।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’
হাফিজি মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

‘এই ল্যাদা (ছোট) পোলাপানের হার্ট নষ্ট করিয়া লায়…। ডাইলের (ডাল) পানি খায় (খেয়ে) হুজুরগোর ঘেটি (ঘাড়) মোটা মোটা হই গেছে। আর পোলাইনটিরে কী কইচ্ছে?’

১০০টির মধ্যে ৯৮টিতেই মারধর চললেও শিশুরা ভয়ে কিছু বলে না বলেও জানান আফসারী। বলেন, ‘আপনি যখন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। হুজুর সুন্দর করি বলবে কেমন আছেন। পুতেও কয় না। এমন মেডিসিন খাওয়ার দিছে। ডরে (ভয়) কয় না। এডি (হুজুর) জেএমবির থেকেও আরও বেশি ভয়ংকর। আর হুতেরে ফোন দিলে কয়, আব্বু ফোন দিলে আরে মারিয়ালাইব। এমন সিস্টেম করে ডরে বাড়িও কয় না।’

পিটুনিতে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে ছাত্ররা

নিজের এক স্বজনের কথা তুলে ধরে আফসারী বলেন, ‘আমার আত্মীয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে সে একজন। এখন ব্রেইন আউট, কী কী বলে।

‘সেই ছেলে বলে- মাগো, বেড়াইতাম আইতাম, আব্বা আমারে বাইন্দা মসজিদে আনত। মাগো হেইনো (সেখানে) আমার কী মাইর দিত গো মা! আমি কইলে তো বিশ্বাস করতা না। কইতেন পড়ার ডরে আমি এইডি কই। আমার তো ব্রেইন আউট কইরালাইছে।’

নিজের সহকারী মো. জহিরের ভাগনেরও একই অবস্থা হয়েছিল বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘তার এক ভাগিনা, হাতে তো মারে না।’

রফিক আনসারী তার মাথা নিচু করে দেখান। বলেন, ‘সিস্টেম করে কয় মোহাম্মদ, এমনে থাক।

(শিশুটা) কান্দি (কেঁদে) উডি হয়, ‘হুজুর আমার দম গেছে গা তো।’

‘মাথা উডলে গো গেডির (ঘাড়ে) বাইরে পিডব।

‘তুই এমনে থাহস না, ৩০ সেকেন্ডে স্ট্রোক করবি।

‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই।

‘এরপর মাথা উডায়।

‘এরপর আবার তারে মাথা নিচে নামায়। এরপর বাচ্চাডা আবার বলে, ‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই। এভাবে বাচ্চাডা প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে এখন।’

‘এমনে মারলে আমার ইমান থাকত না’

হাতের আঙুলে পেটানোর ভঙ্গি দেখিয়ে আফসারী বলেন, ‘হ্যায় হায় রে… গিরাবায় মারে। আমারেও যদি গিরাবায় মারে আমি ইমান রাখতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আপনার হুতেরে সিজদার মধ্যেও পিডায়। বলে সিজদা দে, আর মারে। আহারে লেদা পোলাডা।…সেদিন এক ভিডিওতে দেখছি, এক হুজুরে পাজাকোলা করে এক বাচ্চারে ধইরা রাখছে, আর আরেক হুজুরে রুল দিয়া পায়ের পাতার মধ্যে মারছে। কত জোরে কাঁদছে বাচ্চাটা, মাগো, মাগো, মাগো। বইলা বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়।’

যত ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটে, তার মধ্যে হাতে গোনা এক-দুইটাই প্রকাশ হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, এক কোটির মধ্যে আল্লাহ দুই-একটা বাইর কইরা দেয়, দেখায়, তোদের পোলারে এভাবে পিডায়।’

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের মারা নিষিদ্ধ বলে তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘নবী মারছে? সাহাবা একরাম মারছে?'

গভীর রাতে শিশুদের জোর করে ঘুম ভাঙানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাগো, লেদা (ছোট) পোলারে ৩টায় উঠায় দেয় পড়বার লাই (পড়ার জন্য)। হ্যাতের ওপর (যার ওপর) নামাজ ফরজ হয় নাই, অথচ তাকে দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ায়! হ্যাতের মাথায় আবার পাগড়ি দিয়া বাইন্দা লয়, ওমা এইটা কী জিনিস?’

‘প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে’

অভিভাবকদের চুপ থাকার কোনো কারণ দেখছেন না রফিক আনসারী। বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে। প্রত্যেক অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রিপোর্ট করবেন। মারব, আর ডাইরেক্ট যাবেন থানায়। এই হুজুরের আর দরকার নাই।’

তার কথা না শুনে মাদ্রাসায় দিতে থাকলে কী হবে, সেটি জানিয়েও সতর্ক করেন আফসারী। বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যায় ভুগবেন। বাচ্চা প্রতিবন্ধী হই যাইব। একটা বাচ্চা যদি অসুস্থ হয়, লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি। আপনার পারিবারিক অশান্তির কারণ হবে। কোনো অবস্থায় আবাসিক রাখবেন না। আফসারী কইলেও হ্যাতের কাছেও দিয়েন না। বাচ্চারে মায়ের কোলের মধ্যে হুতাইবেন।

‘সমাজসেবা অধিদপ্তরে এগুলার জন্য মামলা দিবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররে কইবেন, কীয়ের মাদ্রাসা দিছে? খেলার জায়গা কই। প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুলের দিকে তাকিয়ে দেখিয়েন, কত সুন্দর মাঠ আছে।

‘পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে আমাদের এই প্রাইমারি স্কুল। আমরা প্রাইমারি স্কুল থেকে মানুষ হইছি। ফাইভ পাস করে তারপর মাদ্রাসায় আইছি।’

‘সব কথা বলাও যায় না’

মেয়েদের মাদ্রাসায় কী হয়, সেটির বিষয়ে আফসারী কথা শুরু করেও শেষ করেননি। বলেন, সব কিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট মাইয়ার বোর্ডিংয়ে দেন। রুমের চাবি কয়টা কইতে পারবেননি? ১৮টা। সব কথা তো টেলিভিশনে বলা যায় না। কী কইতাম। জাতিটারে ধ্বংস করি দিতেছে তো। কোনো অবস্থায় বোর্ডিংয়ে দিবেন না। কাছে রাইখব্যান।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘কোনো হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্রকে আপনে বোর্ডিংয়ে দিয়েন না। মার কলিজার মধ্যি হুতি ঘুম যাইব, দিনের বেলা পড়ব’- বারবার এই কথাটি বলেন তিনি।

ভালো খাবার না দিয়ে মিথ্যা শেখানো হয়’

রফিক আনসারী বলেন, ‘বিকেল বেলা খেলতে দেয় না, লক্ষ লক্ষ মাসুম বাচ্চারে জবেহ করে দিছে তারা।’

শিশুদের ভালো না খেতে দিলেও তাদের মিথ্যা কথা শেখানো হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘পাঙ্গাশ মাছ দেয়। আর শেখায় মাংসের কথা বলতে।’

এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি হাসতে থাকলে তার উদ্দেশে আনসারী বলেন, ‘আমার রক্ত গরম হয়ে যায়, কলিজা ছিদ্র হয়ে যায়, আর আপনি হাসেন!’

তিনি বলেন, ‘(মা বলে) কিরে পুত কী দিয়া খাওয়াইছে? কয় গোশত। আসলে এক মাসের খানাতেও নাই গোশত। কত সেয়ানার সেয়ানা আমরা। আঁই (আমি) তো এইডি শিখছি, শিইখ্যাই তো কইলাম।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

ঢাকার সাভারের মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলার পলাতক আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আলামিন হাসান সাইমকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ফাইল ছবি

শিশুরা মায়ের কাছে থাকাই উত্তম উল্লেখ করে আনসারী বলেন, ‘মায়ের কাছে থাকলে বিকেলে একটু আমড়া খাইত, আমলকী খাইত, ১০০ কেজি আপেলের চেয়ে শক্তিশালী। একটা ডিম খাওয়াইত মা। পোলাপানেরে মা কত যত্ন করি খাওয়ায়। হেয়ান হ্যাতে শুইয়া রইছে মশারিও তো নাই।’

মুরাদনগরে একটি মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ল্যাদা পুলারা কাশতে আছে। ঘরে কাশলে তো মা উঠি যাইত ঘুমেত্তে। বাড়িত থাকলে তো আমি উঠে উঠে দেখি, ফ্যানটা জোরে চলেনি, আমার পুলায় কাশি দিল কেন?

‘এই সার্ভিসটা কি হুজুরে দিব তরে? তুই তোর হুতেরে হত্যা করিয়া লাইছত, বোর্ডিংয়ে দিয়ে।’

সরকারকে নজরদারির তাগিদ

যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসা দোকানের মতো করে ফেলছে মন্তব্য করে আফসারী বলেন, ‘মার্কেটের ভেতরে মাদ্রাসা। আল্লাহ, সরকার এগুলোর দিকে নজরদারিও করার তওফিক দাও।’

এসব বক্তব্য দেয়ায় সমালোচনা হবে, সেটি আগেই উল্লেখ করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘কাইল সকালে এই ভিডিও দেখব আর আমারে হুজুরেরা গাইল্যায়া শেষ করি দিব। কইব, হ্যাতে ইসলামবিদ্বেষী।’

তিনি বলেন, 'আমার পুতেরে হেফজ পড়ানে সব গুমর আল্লায় আমারে শিখায়ালাইছে। তিন-চারবার আমার পুতের নাম কাডিয়ালায়। দুঃখ কারে কই, আমার মতো সচেতন, প্রভাবশালী একজন অভিভাবকের সঙ্গে যদি হুজুরে এসব করে, তাহলে গরিব পোলাপানরে তো হুজুরে পাত্তাও দেয় না।'

আরও পড়ুন:
আজব মাদ্রাসায় সুপারের তেলেসমাতি
কুমিল্লা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান জামাল নাসের
বামপন্থায় কীভাবে দীক্ষিত হচ্ছে কওমি ছাত্ররা?
অন্তর্দ্বন্দ্বে বেহাল উত্তরাঞ্চলের নামি বিদ্যাপীঠ
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SSC questions not leaked Education Minister

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। কোনোভাবেই ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিক শিক্ষা থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নৈতিক শিক্ষা অবশ্যই সঠিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে গত চার বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।’

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সম্প্রীতি সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার দিনাজপুরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব অনেক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট একসঙ্গে নিয়ে গেছেন। এটি কী কারণে হলো, সেই বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। সেই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। কোনোভাবেই ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিক শিক্ষা থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নৈতিক শিক্ষা অবশ্যই সঠিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন।

আরও পড়ুন:
‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’ এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস
প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা
এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩

মন্তব্য

বাংলাদেশ
7 students could not take the exam the central secretary was exempted

পরীক্ষা দিতে পারেনি ৭ শিক্ষার্থী, কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি

পরীক্ষা দিতে পারেনি ৭ শিক্ষার্থী, কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি পরীক্ষা দিতে না পারা সাত শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার ছিল জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার দিন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর পরীক্ষা দিতে যায় চরআবদুল্যাহ ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন, আকিব হোসেন, তাজরিন জাহান, আরমান হোসেন, রুমানা আক্তার, শরীফুল ইসলাম ও নুশরাত জাহান ইতি।

লক্ষ্মীপুরে রামগতিতে দাখিলের ৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তৈয়ব আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া চরআবদুল্যাহ মাদ্রারাসাতুল জামেয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল হাকিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে জীববিজ্ঞান বিষয়ে ৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলেও অন্য বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।

আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদেরও গাফিলতি ছিল। তারা রেগুলার মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া না থাকায় এ সমস্যা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার দিন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর পরীক্ষা দিতে যায় চরআবদুল্যাহ ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন, আকিব হোসেন, তাজরিন জাহান, আরমান হোসেন, রুমানা আক্তার, শরীফুল ইসলাম ও নুশরাত জাহান ইতি।

দেরিতে যাওয়ায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষা দিতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা হলে অনুপস্থিত থাকায় হল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে নয় শিক্ষার্থীর দুইজন পরীক্ষা শুরু ১৫ মিনিট পর উপস্থিত হন। বাকিরা যথা সময়ে উপস্থিন না হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (একাডেমিক সুপারভাইজার) তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খামখেয়ালীপনার কারণে তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি।

পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায়।

শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘চরআবদুল্যাহ ফাজিল মাদ্রাসার বিজ্ঞান বিভাগের ৯ শিক্ষার্থী অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে কৃষিশিক্ষা বিষয়টি পাঠ্য হিসেবে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অংশ নিলেও প্রবেশপত্রে জীববিজ্ঞান এসেছে। প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয় জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। এ কারণে নিয়মিত ক্লাসও হয়নি। এ জন্য নবম-দশম শ্রেণির দুবছরে একদিনও জীববিজ্ঞানের ক্লাস করাননি। জীববিজ্ঞান পরীক্ষা হবে না। স্যারের কথামত জীববিজ্ঞান পড়ি নাই।’

আরেক শিক্ষার্থী রুমানা আক্তার বলেন, ‘এ ছাড়া প্রাক নির্বাচনি ও নির্বাচনি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান পরীক্ষা নেয়া হয়নি। অ্যাডমিট কার্ডে জীববিজ্ঞান আসায় বিষয়টি অবগত করলেও বিজ্ঞান শিক্ষক রবি শংকর ও অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হাকিম জীববিজ্ঞান পরীক্ষা হবে না বলে আমাদের নিশ্চিত করেছেন।’

অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্র সচিব ও আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা তৈয়ব আলী বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর পর অনুপস্থিত দেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এরপর ৯ পরীক্ষার্থীর দুইজন পরীক্ষা শুরু ১৫ মিনিট পর আসলে অন্যরা সময় মতো না আসায় পরীক্ষা নেয়া হয়নি। এর বেশি কিছু আমি অবগত নয়। এইখানে আমার কোনো অবহেলা ছিল না।’

চরআবদুল্যাহ মাদ্রারাসাতুল জামেয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল হাকিমকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

ইউএনও এসএম শান্তুনু চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় কেন্দ্র সচিব পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে পারেনি শিক্ষার্থীদের।’

আরও পড়ুন:
‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’ এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস
প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা
এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League gave bicycles to 76 students on the occasion of Sheikh Hasinas birthday

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিল ছাত্রলীগ

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিল ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বৃহস্পতিবার ৭৬ ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার দিয়েছে ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা
প্রথমেই ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল উপহারের জন্য আবেদন ফর্ম বিতরণ করা হয় এবং পরে চূড়ান্তভাবে ৭৬ জন ছাত্রীকে ক্রমিক নম্বর সংবলিত টোকেন দেয়া হয়। এসব ছাত্রী প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘জন্মদিনের শুভেচ্ছা চিঠি’ লিখেন। তাদের মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই উপহার দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হল, ইডেন কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অফ অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের ছাত্রীদের শিক্ষা অনুষঙ্গ হিসেবে এই উপহার দেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী।

ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ এবং আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রথমেই ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল উপহারের জন্য আবেদন ফর্ম বিতরণ করা হয় এবং পরে চূড়ান্তভাবে ৭৬ জন ছাত্রীকে ক্রমিক নম্বর সংবলিত টোকেন দেয়া হয়।

এসব ছাত্রী প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘জন্মদিনের শুভেচ্ছা চিঠি’ লিখেন। তাদের মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই উপহার দেয়া হয়।

উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা ‘দুর্যোগ দুর্বিপাকে, সংকট সংশয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ শীর্ষক ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে
ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব
চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের
ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের ‘আমরণ অনশন’ টিকল ১ ঘণ্টা
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Application for admission in batch 17 27 October

গুচ্ছে ভর্তির আবেদন ১৭-২৭ অক্টোবর

গুচ্ছে ভর্তির আবেদন ১৭-২৭ অক্টোবর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আবেদন সংক্রান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে ১৪ অক্টোবর। প্রতি ইউনিটে আবেদন ফি ৫০০ টাকা এবং জামানত ৫ হাজার টাকা।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ১৭ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে ১৪ অক্টোবর।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক উপাচার্যদের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

ড. ইমদাদুল হক বলেন, ‘গুচ্ছের ভর্তি কার্যক্রমের আবেদন শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আবেদন সংক্রান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ১৪ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে। কোটায় ভর্তির জন্য সর্বনিম্ন নম্বর ৩০। অর্থাৎ ৩০-এর নিচে যারা আছে তাদের কোটায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই।

‘প্রতি ইউনিটে আবেদন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন আলাদাভাবে শুরু হবে কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে মেধাতালিকা প্রস্তুত হবে। অনলাইনে সফটওয়ারের মাধ্যমে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে।’

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আগে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতো। এতে অনেক টাকা খরচ হতো। এবার ৫ হাজার টাকা জামানত রাখা হবে। সবশেষ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে সেখানে এই টাকা সমন্বয় করে দেয়া হবে।

এবার এক আবেদনেই ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে। এজন্য প্রতি ইউনিট বাবদ ৫০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এছাড়া ভর্তির সুযোগ পেলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। ভর্তি নিশ্চায়ন ছাড়া কেউ ভর্তির সুযোগ পাবেন না।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা শনিবার
গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে সেরা দিগন্ত, আগ্রহ অর্থনীতিতে
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটে পাস ৫৫.৬৩%
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের প্রশ্ন নিয়ে নানা ‘প্রশ্ন’
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
60 students in hospital after drinking water at school

স্কুলে পানি খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

স্কুলে পানি খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে স্কুলে পানি পান করে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
মোহম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করার পর প্রথমে চারজন ও পরে আরও তিনজন হাসপাতালে আসে পেট ব্যথা ও বমির লক্ষণ নিয়ে। তাদের মধ্যে তিনজন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি স্কুলের টিউবওয়েলের পানি পান করে ৬০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার সকালে উপজেলার শিতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজবাংলাকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মোহম্মদ আসাদুজ্জামান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করার পর প্রথমে চারজন ও পরে আরও তিনজন হাসপাতালে আসে পেট ব্যথা ও বমির লক্ষণ নিয়ে। তাদের মধ্যে তিনজন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

ওই চিকিৎসকের ধারণা, পানিতে বিষাক্ত কিছু বা ছত্রাক নাশক কোনো রাসায়নিক মেশানো হতে পারে। সে ধরনের লক্ষণই দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পানি সংগ্রহ করেছি। তার নমুনা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য। এই সাত জনের বাইরে যারা এসেছে, তারা আতঙ্কিত হয়ে ভর্তি হয়েছে। আমরা সবাইকে চিকিৎসা দিচ্ছি। ৬০ জনই এখন শঙ্কামুক্ত।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া বলেন, ‘পিপাসা লাগলে কয়েকজন বান্ধবী মিলে পানি খাই। টিউবওয়েলের পানি খাওয়ার পর থেকে পেট ব্যথা করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ৩০ মিনিটের মধ্যে অসুস্থ্যতা বোধ করি। তখন স্কুল থেকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নেয়া হয় আমাদের।’

এ বিষয়ে জানতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাফুর রহমান বলেন, ‘স্কুলে অ্যাসেম্বলি শেষে একটি এক ক্লাস হয়, এরপর ছাত্রীরা পানি খাওয়ার পর এমন ঘটনা ঘটে। সে সময় আমি স্কুলে ছিলাম না৷ স্কুলে ক্লাস শুরু হলে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিকে গিয়েছিলাম। কেন এমন হলো আমরা সেটি তদন্ত করে দেখছি।’

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলে টিউবওয়েলের পানি পান করে ৬ জনের মতো শিক্ষার্থী প্রথমে অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষকে টিউবওয়েলের পানি পান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলি, পরে পুলিশকে জানাতে বলি। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তারা শঙ্কামুক্ত। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কোনো বিষ জাতীয় কিছু মেশানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমনটি জানিয়েছেন। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি।’

মন্তব্য

p
উপরে