× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Disappearance murder started in the hands of Zia Prime Minister
hear-news
player
print-icon

গুম-খুনের শুরু তো জিয়ার হাতে: প্রধানমন্ত্রী

গুম-খুনের-শুরু-তো-জিয়ার-হাতে-প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক গুম দিবসে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইবি
‘আজকে গুম-খুনের কথা বলে। গুম-খুন তো এ দেশে সৃষ্টি করেছে জিয়াউর রহমান। আমাদের মহানগর ছাত্রলীগের মফিজ বাবুকে যে তুলে নিয়ে গেল, কই তার লাশ তো এখনও তার পরিবার পায়নি। ঠিক এভাবে সারা বাংলাদেশে আমাদের অনেক নেতাদেরকে হত্যা করেছে।’

দেশে গুম-খুন এবং ভোট কারচুপি নিয়ে সরকারকে বিএনপি যে ক্রমাগত আক্রমণ করে আসছে, তার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গুমের শুরু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। সে সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হদিস আজও মেলেনি।

আন্তর্জাতিক গুম দিবসে মঙ্গলবার বিএনপির নেতারা যখন নানা কর্মসূচিতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের পেছনে সরকারের হাত থাকার অভিযোগ করছিলেন, সে সময় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা।

জাতীয় শোক দিবস স্মরণে এই আলোচনার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে গুম-খুনের কথা বলে। গুম-খুন তো এ দেশে সৃষ্টি করেছে জিয়াউর রহমান। আমাদের মহানগর ছাত্রলীগের মফিজ বাবুকে যে তুলে নিয়ে গেল, কই তার লাশ তো এখনও তার পরিবার পায়নি। ঠিক এভাবে সারা বাংলাদেশে আমাদের অনেক নেতাদেরকে হত্যা করেছে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করতে গেছি কীসের জন্য? গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। ৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতা তো ছিল ক্যান্টনমেন্টে বন্দি। মানুষের কাছে তো আর ক্ষমতা ছিল না। গণতন্ত্র হচ্ছে মানুষের শক্তি। মানুষের কাছে ছিল না, ছিল ক্যান্টনমেন্টে আটকা।’

ভোট কারচুপির অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কারচুপি সৃষ্টিই তো করেছে জিয়াউর রহমান। তারপর একের পর এক যারা এসেছে উর্দি পরে ক্ষমতায় বসে দল বানিয়েই উর্দি খুলে রাজনীতিবিদ হয়ে গেছে। কিন্তু রাজনীতিবিদদের গালি দিয়েই তো ক্ষমতায় গেছে। তো দেশের উন্নতিটা করবে কোথায়?’

আওয়ামী লীগ বহু প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দেশের মানুষের সমর্থন ও ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়েছে বলেও জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে সরকারে এসেছি বলেই তো আজকে দেশটাকে আমরা উন্নতি করতে পেরেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।’

১৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয় পড়েন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এ সময় পোডিয়ামে দাঁড়ানো শেখ ফজলুল হক মনির দুই ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশকে পাশে এনে দাঁড় করান।

বলেন, ‘আর সেই হত্যার পর বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। মামলা করার অধিকার ছিল না।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আজকে অনেকের অনেক কথা শুনি। আমি এখন সরকারে আছি। মানবাধিকারের কথা শোনায়, মানবাধিকার নিয়ে আমাদেরকে তত্ত্ব, জ্ঞান দেয়। এ রকম তো কতজনের কথা শুনি। আমার কাছে যখন এই কথা বলে, দোষারোপ করে তারা কি একবার ভেবে দেখে আমাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল, যারা আমরা আপনজন হারিয়েছি। স্বজনহারা বেদনা নিয়ে আমরা কেঁদে বেড়িয়েছি।’

সে সময় বঙ্গবন্ধু পরিবারসংশ্লিষ্ট সবাই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারও প্রতি আমি কোনো দোষারোপও করি না, কিছুই করি না। কিন্তু বাংলাদেশে তো এই ঘটনা ঘটেছে। এটা তো আপনাদের মনে রাখতে হবে।

‘আমরা যারা স্বজন হারিয়েছি, আমরা তো হারিয়েছি। কিন্তু আমি যখন চিন্তা করি আমার দেশ কী হারিয়েছিল, এই বাঙালি জাতি বাঙালি হিসেবে মর্যাদা পাবে, এই বাঙালি জাতি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, একটি জাতি, বাঙালি জাতি—বঙ্গবন্ধু সৃষ্টি করে দিয়ে গেছেন।’

বাঙালি কখনও তাকে হত্যা করতে পারে এটা বঙ্গবন্ধু কখনও বিশ্বাস করতেন না বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আর এই বিশ্বাসঘাতক যারা, আজকে যখন তাদের দল হয়ে গেছে, তাদের লোক হয়ে গেছে, তারা বড় বড় কথা বলে। আজকে আপনারা দেখছেন, সারা পৃথিবীজুড়ে কিছু লোক আছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা রকম অপকর্ম করে যাচ্ছে। এরা কারা? যারা এই দেশে বিভিন্ন অপরাধ করে দেশ থেকে ভেগেছে, হয় যুদ্ধাপরাধী, যাদের বিচার আমরা করেছি তাদেরই ছেলেপেলে, ১৫ আগস্টের খুনি যাদের আমরা বিচার করেছি তাদেরই আপনজন আর কিছু অপরাধী যারা এখান থেকে অপরাধ করে পালিয়ে যেয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করে বেড়াচ্ছে। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।’

‘কী ছিল বিএনপির আমলের অবস্থা?’

বিএনপির শাসনামালে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের টানা এক যুগে দেশের বদলে যাওয়ার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, ‘যতই আপনি উন্নতি করেন আর যা-ই করেন কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না। কোনো কিছু তারা ভালোভাবে দেখতে পারে না। কী অবস্থা ছিল ঢাকা শহরের বিএনপির আমলে?’

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের এই পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা যুদ্ধাপরাধী বা সেই যুদ্ধাপরাধীদের আওলাদ যারা আছে তারা, ১৫ আগস্টের ঘাতকে যারা পরিকল্পনা করেছে তারা এবং স্বাধীনতাবিরোধী—এদেরই প্রচেষ্টা সব সময় বাংলাদেশকে টেনে নিচে নামান।’

‘বিদ্যুতের সংকট ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে’

বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গত দুই মাসের সংকট নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হলো একে তো করোনা। এই করোনার সময়ে মহামারি, অতিমারির কারণে যেখানে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা, তার ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এই যুদ্ধের সঙ্গে হলো আমেরিকার স্যাংশন। আমেরিকা স্যাংশন দিয়ে রাশিয়ার কতটুকু ক্ষতি করতে পেরেছে আমি জানি না, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এমনকি আমেরিকার মানুষকেও’

উন্নত দেশগুলো এই সংকটকালে ধুঁকছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা, ইউরোপ, ইংল্যান্ড—প্রত্যেকটা দেশ উন্নত দেশ, বিদ্যুতের অভাব। নির্দেশ দেয়া হয়েছে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। পানির অভাব। ইংল্যান্ডে তো বলে দিয়েছে রোজ গোসল করতে পারবে না, রোজ কাপড় ধুতে পারবে না, অল্প সময়ের জন্য করতে পারবে।

‘জার্মানিতে গরম পানি ব্যবহার করতে পারবে না কেউ। কারণ, বিদ্যুতের অভাব, পানির অভাব। আগামী শীতকালে তাদের কী অবস্থা হবে সেটা নিয় শঙ্কিত তারা সবাই। আমেরিকাতেও একই অবস্থা, তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। খাবারের দাম বেড়ে গেছে। সারা বিশ্বের খাদ্যের অভাব। সমগ্র বিশ্বে খাদ্যের অভাব। ইংল্যান্ডের মানুষ যারা তিন বেলা খেত, এক বেলার খাবার বাদ দিতে হয়েছে তাদেরকে। তারা এখন মাত্র দুই বেলা খেতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বেজুড়ে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। যুদ্ধের তো এটাই ফলাফল। স্যাংশনের তো এটাই রেজাল্ট। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুর্ভাগ্য। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

জ্বালানি সাশ্রয়, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে শুরু করে পানি ব্যবহারে, জ্বালানি তেল ব্যবহারে সবাইকে কিন্তু সাশ্রয়ী হতে হবে। এক ফোঁটা পানি যেন অতিরিক্ত (খরচ) না হয়।

‘আমরা যদি এখন থেকে সাশ্রয়ী না হই, আগামী দিনে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বব্যাপী যে মন্দা সৃষ্টি হয়েছে তার ধাক্কায় আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘সারা বিশ্বব্যাপী কিন্তু দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি। কিন্তু আমাদের যেহেতু মাটি আছে, মানুষ আছে, আমাদের মাটি উর্বর, এ জন্য আমি সবাইকে আহ্বান করেছি যার যতটুকু জমি আছে, যে যা পারেন নিজেরা উৎপাদন করেন। যাতে বিশ্বের খাদ্য মন্দাটা আমাদের ওপর এসে না পড়ে।

‘যেটা আমরা আমদানি করতে পারব না, তার বিকল্প দেশে উৎপাদন করে যেন আমরা আমাদের ক্ষুধা নিবৃত করতে পারি, সে জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

জ্বালানি তেলের দরবৃদ্ধির ব্যাখ্যা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তেল আমরা বেশি দামে কিনি। কম দামে এখানেই দিই, ভর্তুকি দিই। কিন্তু সেই তেল প্রতিবেশী দেশে চলে যায়। যার জন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়াতে হয়েছে সত্য। তারপরও আমাদের চেষ্টা আছে যে মানুষের কষ্টটা দূর করার।

‘গতকাল আপনারা জানেন, অনেক হিসাব-নিকাশ করে আমরা দেখলাম যে স্মাগলিংটা বন্ধ হয়ে গেছে, আমরা কিছু সাশ্রয় করতে পারছি, আমরা তেলের দাম ইতিমধ্যে ৫ টাকা করে কমিয়ে দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সব সময় মানুষের দিকে তাকানো।’

আরও পড়ুন:
দেশে গুম কি কমছে
গুমের পর পাচার হন সালাউদ্দিন: ফখরুল
‘গুমের’ অনেকে পালিয়েছে, অনেকে আত্মগোপনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
RAB doesnt fire unless forced outgoing DG

বাধ্য না হলে র‌্যাব গুলি ছোড়ে না: বিদায়ী ডিজি

বাধ্য না হলে র‌্যাব গুলি ছোড়ে না: বিদায়ী ডিজি সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের বিদায়ী ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাবের বিদায়ী ডিজি বলেন, ‘সিচ্যুয়েশন যেমন ডিমান্ড করে, আমরা ঠিক তেমন ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এমন কখনও হয় না যে, কেউ আমাদের ধাক্কা দিল আর আমরা গুলি করে দিলাম। র‌্যাবের প্রত্যেক সদস্যকে এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে একেবারেই বাধ্য না হলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা কখনও গুলি ছোড়েন না বলে দাবি করেছেন বাহিনীর বিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বুধবার সকালে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবি করেন।

৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশের ৩১তম মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে করা প্রশ্নে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘র‌্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেখানে যেটুকু প্রয়োজন পড়ে, আইন মেনে সেটুকু শক্তি প্রয়োগ করে। আমরা যখন আক্রান্ত হই, তখনই আমাদের পাল্টা জবাব দিতে হয়।

‘সিচ্যুয়েশন যেমন ডিমান্ড করে, আমরা ঠিক তেমন ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এমন কখনও হয় না যে, কেউ আমাদের ধাক্কা দিল আর আমরা গুলি করে দিলাম। র‌্যাবের প্রত্যেক সদস্যকে এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এলিট ফোর্স হিসেবে আমাদের সবসময় চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা তাদের অপরাধ সংগঠিত করার জন্য তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে থাকে। আমরা তাদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের হাতে ধরা না পড়তে ও আমাদের বাধা অতিক্রম করে অপরাধকাজ সংঘটিত করতে আমাদের ওপর হামলা করে বসে। তখন বাধ্য হয়ে র‌্যাব সদস্যরা তাদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন।’

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘এতে যে শুধু অপরাধীরাই আহত বা নিহত হয় বিষয়টা কিন্তু তেমন না। আমাদের অনেক র‌্যাব সদস্য আহত, নিহত হয়েছেন। অনেকের অঙ্গহানি হয়ে চাকরি করার সক্ষমতা হারিয়েছে। তাছাড়া এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দেশের প্রচলিত আইনেও ঘটনার তদন্ত হয়।

‘ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সুরতহাল করে, মর্গে ডাক্তার পোস্টমোর্টেম করে, এরপর আদালত আইনজীবিরা আর্গুমেন্ট করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক বিচার করেন। এর কোনটির সঙ্গে র‌্যাব জড়িত থাকে না। র‌্যাব যদি অযথাই এমন কোনো ঘটনা ঘটাতো তাহলে দেশের আইনেইতো শাস্তি হতো।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে দ্রুতই এর সুরাহা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন র‌্যাবের বিদায়ী মহাপরিচালক।

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করে থাকে। এ সময় কমিশনের নির্দেশনার বাইরে যাবার কোন সুযোগ নেই।

‘পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল ইউনিট কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কখনো কাজ করে না। তারা শুধু নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির কোনো অবনতি না ঘটে সেজন্য কাজ করে।’

এর আগে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে নিজের দুই বছরের বেশি সময়ের দায়িত্বে পালনরত অবস্থায় র‌্যাবের অর্জন তুলে ধরেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। করোনা মহামারির সময়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণের পাশে থাকা র‌্যাবের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও এটিকেই র‌্যাবের সবচেয়ে বড় সফলতা এবং সাধারণের র‌্যাবের প্রতি আস্থার প্রতীক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব দেয়ায় প্রাধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

আরও পড়ুন:
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আয়ুর্বেদিক ওষুধের নামে মাদক বিক্রি
র‌্যাবের এয়ার উইং পরিচালকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
School girl arrested in rape case 2

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আরিফুর বলেন, ‘ঘটনা জানার পরে ওই মেয়ের মা দুইজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

খাগড়াছড়িতে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খাগড়াছড়ি সদর থানায় ওই ছাত্রীর মা মঙ্গলবার রাতে মামলার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা এলাকার ধনিময় ত্রিপুরা ও একই উপজেলার তাইন্দং হেডম্যান পাড়ার সমুয়েল ত্রিপুরা।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মেয়েকে রেখে গ্রামের বাড়িতে যান পরিবারের অন্য সদস্যরা। রাতে বাসার বাইরের টয়লেটে আসার সময় ওই ছাত্রীকে নিজেদের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা।

ওসি আরিফুর বলেন, ‘ঘটনা জানার পরে ওই মেয়ের মা দুইজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
খনি দুর্নীতি: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ফের পেছাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Accused absconding from hanging arrested

ফাঁসির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ফাঁসির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার আসামি গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের ব্রিফিং। ছবি: নিউজবাংলা
‘গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল শহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলমের। পরে তারা একটি এনজিও খোলেন অংশীদারিত্বে। লোভের বশবর্তী হয়ে এনজিওর পুরো মালিকানা পেতেই শাহিন খুন করেন শহীদুলকে।’

বন্ধুকে হত্যায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামি শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

প্রায় ৬ বছর আত্মগোপনে থাকা এ আসামিকে সোমবার মানিকগঞ্জ ঘিওর থানার বড়টিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যা মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল শহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলমের। পরে তারা একটি এনজিও খোলেন অংশীদারিত্বে। লোভের বশবর্তী হয়ে এনজিওর পুরো মালিকানা পেতেই শাহিন খুন করেন শহীদুলকে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর শাহিন ও তার সহযোগিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। এক পর্যায়ে শাহিন জামিন নিয়ে পালিয়ে যান।’

র‍্যাব জানায়, ৬ বছর ধরে নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপনে ছিলেন শাহিন আলম।

২০০১ সালে আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টে চাকরি করার সময় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে শহীদুল ও শাহিনের। শহীদুল আগে একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে দুজনে মিলে এনজিও প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন।

২০০৪ সালে ঢাকা জেলার ধামরাই গোয়াড়ীপাড়ায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে তারা ‘বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা চালু করেন। গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে তারা এনজিওর কাজ চালাতে থাকেন।

দুজন নারী কর্মী নিয়োগ দিয়ে ধামরাই এলাকায় তারা কার্যক্রম বাড়াতে থাকেন। চারটি প্রোগ্রামে ৪৫০ জন সদস্য সংগ্রহ করে সঞ্চয়, ঋণদান এবং ফিক্সড ডিপোজিট কার্যক্রম চালান।

শহীদুলের দক্ষতায় অল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয় সংস্থাটি। লোভের ভশে শাহিন নিজের কব্জায় সবকিছু নেয়ার চেষ্টা করেন। তারই এক পর্যায়ে খুন করেন শহীদুলকে।

মামলায় বলা হয়েছে, আসামি শাহিন তার মামাতো ভাই টাঙ্গাইলের সন্ত্রাসী রাজা মিয়াকে নিয়ে শহীদুলকে হত্যার পরিকল্পনা নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৬ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় শাহিন নিজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা নামক জায়গায় ডেকে নেন শহীদুলকে। সেখানে নম্বরবিহীন মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করছিলেন রাজা মিয়া। সাহেদ, কুদ্দুস, বিষ্ণু সুইপার ও ড্রাইভার রহম আলী ছিলেন তার সঙ্গে।

রাতে শহীদুল যেতে না চাইলে আসামিরা তাকে বাসায় নামিয়ে দেয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসে তুলে নেন। কিছুক্ষণ পর শহীদুলের গলায় রশি পেচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন আসামিরা। এরপর শহীদুলের নিথর দেহ নিয়ে তারা কালামপুর, সাটুরিয়া হয়ে নির্জনস্থান বেতুলিয়া ব্রীজের কাছে যান।

মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহীদুলকে জবাই করা হয়। সেখানে দেহ ফেলে রেখে বিচ্ছিন্ন মাথা পলিথিনে ভরে নাগরপুরের জগতলা নামক স্থানে পুঁতে রাখে।

পরদিন সাটুরিয়া থানা পুলিশ মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে একটি হত্যা মামলা করে। এর দুইদিন পর শহীদুলের মস্তক উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

শহীদুল হত্যা মামলায় সাটুরিয়া থানা পুলিশ দুই এনজিও কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। এরপর পুলিশ শাহিনকে গ্রেপ্তার করে। শাহিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার বিস্তারিত তথ্য জানান। শাহিন আলম ১০ বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৬ সালে জামিন পান। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

শহীদুল হত্যা মামালার রায়ে ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর আদালত শাহিন আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার ৪ সহযোগি সাহেদ, রাজা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস ও বিষ্ণু সুইপারকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

ফাঁসির আসামি শাহিন আলমকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে।

আরও পড়ুন:
২১ বছর লুকিয়ে ছিলেন স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
৬ মাসের সাজা এড়াতে পালিয়ে ছিলেন ৮ বছর
‘সরল বিশ্বাসে খেতা শাহকে আশ্রয় দিয়ে খুইয়েছি স্ত্রী’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 11 years of rape and murder 9 people get life

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সদরে ১১ বছর আগে গৃহবধুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন বিষয়খালী এলাকার মোহাম্মদ রসুল, শরিফুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, গোলাম রসুল, আব্দুল আজিজ, আজিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও আব্দুল বাতেন। এদের মধ্যে শরিফুল ও আমিরুল ইসলাম পলাতক আছেন।

মামলার আরেক আসামি মো. আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে।

২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ হত্যার নিহতের স্বামী পরদিন আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার বাদী নিহতের স্বামী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও বিচার পেয়ে আমরা খুশি। এই রায় যেন কার্যকর হয়।’

আরও পড়ুন:
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
জমি নিয়ে বিরোধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেশীর আমবাগানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত মরদেহ
চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Protests over deaths in police custody in Tangail

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা
লেবু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ভালো মানুষকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। কীভাবে রশি তার কাছে গেলো? এটা আত্মহত্যা না হত্যা করা হয়েছে।’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় একটি বাজারে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধও করেন।

পুলিশের দাবি, সেই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

সখিনা আক্তার নামে এক নারীকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেবু মিয়া ও সেই নারীর সাবেক স্বামী মফিজুর রহমানকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সখিনা আক্তারের। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে থাকতেন। পুত্রবধূ বাড়িতে যাওয়ায় গত রোববার রাতে সখিনা বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতের কোনো এক সময় তার ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন বেলা ১২ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাঁশতৈল ফাড়ি পুলিশ। এই ঘটনায় মফিজুর ও লেবুকে আটক করে রাতে ফাঁড়ির হাজাতখানায় রাখা হয়।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে লেবু মিয়ার গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।’

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে
বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে মারা যান লেবু মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

লেবু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ভালো মানুষকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। কীভাবে রশি তার কাছে গেলো? এটা আত্মহত্যা না হত্যা করা হয়েছে।’

এই ঘটনায় বিক্ষোভ দেখানো মাসুদ মিয়া বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা না, হত্যা করা হয়েছে। তিনি মানসিক রোগী না যে আত্মহত্যা করবেন। তিনি ভালো মানুষ। তাকে বেধরক মারপিটের কারণে মারা গেছে।’

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘বিষয়টি মর্মান্তিক। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই আসলে বোঝা যাবে তার মৃত্যুটা কীভাবে হয়েছে।

‘যেহেতু ঘটনা স্পর্শকাতর তাই ঘটনা তদন্ত পূর্বক সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

লেবুর স্ত্রীর অভিযোগ, পরিবারকে না জানিয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
হেফাজতে মৃত্যু: রামপুরায় সড়কে বিক্ষোভ, যানজট
হেফাজতে মৃত্যু: লাশ হস্তান্তর নিয়ে স্বজন-পুলিশের বিপরীত বক্তব্য
হাতিরঝিল থানা হেফাজতে মৃত্যু: ২ পুলিশ বরখাস্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
PBI chiefs case against Babul

বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা

বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানমণ্ডি মডেল থানায় আজ একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী পিবিআই প্রধান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইলিয়াছ হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

বনজ কুমার মজুমদার মামলার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানমণ্ডি মডেল থানায় আজ একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী পিবিআই প্রধান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।’

ধানমন্ডি মডেল থানায় আজ একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদি পিবিআই প্রধান। মামলা নম্বর-২৪। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেন আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন- পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

আরও পড়ুন:
বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Employees should be moderate in using social media

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্ট, ছবি, অডিও-ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ একাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সব পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক, সব উপ-পরিচালক/বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই, সব উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা/ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় নির্ধারণ করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়াও নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমে দাপ্তরিক ও ব্যক্ষিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে।

যেসব নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য

p
উপরে