× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Why do those who measure the length of womens dresses wear yellow at their weddings Deepu Moni
hear-news
player
google_news print-icon

নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপলে বিয়েতে গায়ে হলুদ কেন: দীপু মনি

নারীর-পোশাকের-দৈর্ঘ্য-মাপলে-বিয়েতে-গায়ে-হলুদ-কেন-দীপু-মনি
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ভূখণ্ডে সনাতন ধর্মের মানুষরা উলুধ্বনি দেয়। এগুলো সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। এই যে বিয়েতে গায়ে হলুদ দেয়া হয়, এটা মুসলিম বিয়ের কোন অংশ বলেন? কোথায়? খালি তো কবুল পড়া, সাক্ষ্য দেয়া ও দোয়া পড়া। তার বাইরে মুসলিম বিয়েতে আর তো কিছু নেই।’

নারীর কথিত ছোট পোশাকের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে সম্প্রতি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষার্থীর মানববন্ধনের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মন্ত্রী বলেছেন, আধুনিক বিশ্বে যখন রোবোটিক্স আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কথা বলার সময়, তখন কিছু গোষ্ঠী নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপতে ব্যস্ত।

যারা ইসলামের কথা বলে নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপেন, তারা তাদের সন্তানের বিয়েতে গায়ে হলুদের আয়োজন কেন রাখেন- সে প্রশ্নও ছুড়েছেন তিনি।

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ইরাব) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় এক ধরনের সাম্প্রদায়িক আচরণ দেখছি। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইদানীং…কিছুদিন আগে একবার টিপ নিয়ে এক ধরনের কথা ওঠে। এখন হঠাৎ করে আবার নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে কথা হচ্ছে।’

মন্ত্রী দাবি করেন, এই বিষয়গুলো বাংলাদেশে মীমাংসিত।

তিনি বলেন, ‘মীমাংসিত বিষয়গুলোকে কারা কাদের স্বার্থে, কোন স্বার্থে অমীমাংসিত করছে এবং কারা এগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করছে?

'বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন রোবোটিক্স নিয়ে কথা বলব, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কথা বলব। এখন তো নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য নিয়ে কথা বলার সময় না। কপালে টিপ আছে কি নেই—এটা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে না।’

একজন ব্যক্তিকে ধর্মের পরিচয়ে আলাদা করে মাপার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘আমি আগে বাঙালি নাকি আগে মুসলমান—এটি কোনও প্রশ্নের বিষয় না। আমি বাঙালিও, আমি মুসলমানও। সমস্যাটা কী?’

মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানরাও উলুধ্বনি দেয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ভূখণ্ডে সনাতন ধর্মের মানুষ উলুধ্বনি দেয়। এগুলো সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। এই যে বিয়েতে গায়ে হলুদ হয়, এটা মুসলিম বিয়ের কোন অংশ বলেন? কোথায়? খালি তো কবুল পড়া, সাক্ষ্য দেয়া ও দোয়া পড়া। তার বাইরে মুসলিম বিয়েতে আর তো কিছু নেই।

‘যারা ইসলাম-ইসলাম করে পাগল করে ফেলছেন, এইটার দৈর্ঘ্য এত হতে হবে, এইটার প্রস্থ এত হতে হবে—এটা নিয়ে যারা বলেন, আমরা তো দেখি তাদের ছেলে-মেয়ের বিয়েতে গায়ে গলুদ হচ্ছে, সবই হচ্ছে।’

এসব সংস্কৃতির অংশ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি মানব, কিন্তু টিপ দেয়ার সংস্কৃতি মানব না, ছেলেমেয়েরা গান শিখবে, কবিতা আবৃত্তি করবে, সেটাকে মানব না—এ দ্বিচারিতার কোনো অর্থ নেই। সমাজে এই দ্বিচারিতা কারা নিয়ে আসছে, কারা সেটিকে প্রমোট করছে, সেটি কিন্তু আমরা সবাই জানি। আমরা মুখ ফুটে বলি না।’

আর এসবকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতেও নারাজ তিনি।

দীপু মনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্র বলব; গণতন্ত্র মানে যদি হয় ওই ধর্মকে অপব্যবহার করে মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা, পূজার সময় গিয়ে প্রতিমা ভেঙে দিয়ে আসা, তাহলে আমাদের ওই রকম গণতন্ত্রের মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে।

‘আমি যদি আমার সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা চাই, আমি যদি সবার অধিকার চাই, সবার কথা বলার অধিকার চাই, সবার স্বাধীনভাবে চলার অধিকার চাই; তাহলে এটার সঙ্গে ওই কূপমণ্ডূকতা, কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতা যায় না।’

আরও পড়ুন:
বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করেছে : শিক্ষামন্ত্রী
নতুন শিক্ষাক্রমে সপ্তাহ হবে ৫ দিনে: শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করার চিন্তা
লুটের রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Towab Khans contribution to the development of media is outstanding GM Quader

গণমাধ্যমের উন্নয়নে তোয়াব খানের অবদান অসামান্য: জি এম কাদের

গণমাধ্যমের উন্নয়নে তোয়াব খানের অবদান অসামান্য: জি এম কাদের সাংবাদিক তোয়াব খান। ফাইল ছবি
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের গণমাধ্যমের উন্নয়নে তোয়াব খান অসামান্য অবদান রেখেছেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তোয়াব খানের মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যমে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা সহসা পূরণ হওয়ার নয়।’

দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

শনিবার এক শোকবার্তায় প্রয়াতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের গণমাধ্যমের উন্নয়নে তোয়াব খান অসামান্য অবদান রেখেছেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তোয়াব খানের মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যমে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা সহসা পূরণ হওয়ার নয়।’

তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সোমবার তাকে দাফন করা হবে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে
তোয়াব খানের শূন্যতা অপূরণীয়: রাষ্ট্রপতি
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rain is forecast from the night of low pressure over the sea

সাগরে লঘুচাপ, রাত থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস

সাগরে লঘুচাপ, রাত থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক শনিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাগরে আজ লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। রাত থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঢাকায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে ভোরের দিকে।’

উত্তর ও তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে শনিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় রাতের শেষ ভাগে বৃষ্টি হতে পারে। সে সুবাদে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা কমে আসবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এর আগে শুক্রবার জানায়, ‘শনিবার ভোর থেকে লঘুচাপের সৃষ্টি হবে। এর প্রভাবে শনিবার ও রোববার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হবে। কমে আসবে গরমের তীব্রতা। তবে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূল সংলগ্ন এলাকা ছাড়া দেশের অন্যত্র সেভাবে বৃষ্টির দেখা মেলেনি।

শনিবার ভোলায় ৬০, সন্দ্বীপে ৫৪ ও নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, হাতিয়া ও ভোলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৫ মিলিমিটারের কাছাকাছি। এর বাইরে দেশের অন্য কোথাও বৃষ্টির দেখা মেলেনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত হয়েছে প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সমান। সারাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক শনিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাগরে আজ লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। রাত থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঢাকায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে ভোরের দিকে।

‘দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে কাল থেকে বৃষ্টি হবে। যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হবে সেখানে গরমের তীব্রতা কমে যাবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আরও পড়ুন:
বৃষ্টি না হওয়ায় দুই আবহাওয়াবিদ বরখাস্ত
নিম্নচাপ ঝাড়খণ্ডে, দুর্বল হচ্ছে ক্রমশ
দ‌ক্ষিণের নিম্নাঞ্চল প্লা‌বিত, সব নদী বিপৎস‌ীমার উপরে
এবার বর্ষায় অস্বাভাবিক কম বৃষ্টি
ভারি বৃষ্টি বৃহস্পতিবার থেকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No toll collection on roads and highways

সড়ক-মহাসড়কে টোল আদায় নয়

সড়ক-মহাসড়কে টোল আদায় নয় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল। ফাইল ছবি
হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের হওয়া রিট পিটিশনের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ব্যতিরেকে কোনো সড়ক বা মহাসড়ক থেকে টোল আদায় না করতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

টার্মিনাল ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে কোনো টোল আদায় না করতে সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মেয়র ও সব পৌরসভার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-৪৬৪০/২০২২ এর গত ২১/০৪/2022 তারিখের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ব্যতিরেকে কোনো সড়ক বা মহাসড়ক থেকে টোল উত্তোলন না করার জন্য সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের রেকর্ড
তবু টোলে এগিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু
কুমিল্লার ৯৬ কিলোমিটারে স্বস্তি
যানজট নেই, তবুও চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে দুর্ভোগ
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার বারে গরুর ট্রাকের ধাক্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Coalition demands promulgation and implementation of road rules

সড়ক আইনের বিধিমালা জারি ও বাস্তবায়ন দাবি কোয়ালিশনের

সড়ক আইনের বিধিমালা জারি ও বাস্তবায়ন দাবি কোয়ালিশনের শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে রোড সেফটি কোয়ালিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ছবি: নিউজবাংলা
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। চার বছর পার হলেও তা বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সড়ককে নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও আইনের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

সড়দ দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা জারি ও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ। কোয়ালিশন মনে করে, সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। ফলে ক্রমাগত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা ৮টি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই কোয়ালিশন শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানিয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের সদস্য সংস্থাগুলো হলো- নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বুয়েট), রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং ইম্প্রেসিভ কমিউনিকেশন লিমিটেড।

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। চার বছর পার হলেও তা বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সড়ককে নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও আইনের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত জারি ও এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যে মিল নেই। সেকেন্ডারি ডাটা গণমাধ্যম থেকে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়। সঠিক তথ্য নির্ধারণে সরকারিভাবে পরিসংখ্যান রাখা উচিত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০১৮-এর তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। এর ৯০ ভাগই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট) ম্যানেজার এম. খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এর সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা ও ক্ষতির ব্যাপকতা বহুমাত্রিক হওয়ায় সরকারের একার পক্ষে তা নিরসন করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অন্যতম হলো সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণয়ন। এই আইনের কিছু সবল দিক থাকলেও এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে প্রচুর। যার মধ্যে অন্যতম হলো- আইনটিতে হেলমেট পরিধানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এর মানদণ্ড ও ব্যবহারবিধি উল্লেখ নেই।

আইনে গতিসীমা লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান থাকলেও গতিসীমা নির্ধারণ, এর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা এবং গাইডলাইন সন্নিবেশিত হয়নি। যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ও শিশুদের ক্ষেত্রে চাইল্ড রেস্ট্রেইন্ট বা শিশুদের জন্য নিরাপদ বা সুরক্ষিত আসন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাও আইনটিতে সংযোজন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গ্লোবাল হেলথ্ অ্যাডভোকইস ইনকিবিউটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম, ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, বিএনএনআরসি'র প্রধান নির্বাহী এএইচএম বজলুর রহমান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর রেজওয়ান নবীন, ইমপ্রেসিভ কমিউনিকেশনস লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিবুজ্জামান প্রমুখ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Toab Khan is an explorer of the times in journalism

সাংবাদিকতায় কালের অভিযাত্রী তোয়াব খান

সাংবাদিকতায় কালের অভিযাত্রী তোয়াব খান
ত্রিকালদর্শী এক স্বপ্নীল মানুষ ছিলেন তোয়াব খান। ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ ও একজন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি। অনিয়ম, দুর্নীতি, মৌলবাদ, জঙ্গিতন্ত্রসহ দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে তার সাংবাদিকতা ছিল আপসহীন ও তেজদীপ্ত।

চলে গেলেন সাংবাদিকতার বটবৃক্ষ তোয়াব খান। শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিংবদন্তি সাংবাদিক তোয়াব খান বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে দ্যুতি ছড়ানো গুণীজন ছিলেন।

১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে তিনি দৈনিক সংবাদ-এর বার্তা সম্পাদক হন। এরপর ১৯৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচারিত হয় ‘পিন্ডির প্রলাপ’ নামক অনুষ্ঠান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন। পরে তিনি প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক জনকণ্ঠ প্রকাশের দিন থেকেই প্রায় তিনি পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। জীবনের শেষ দিনটি তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক ছিলেন। তবে মানুষের কাছে তার পরিচয় জনকণ্ঠ-এর তোয়াব খান হিসেবেই। ২০১৬ সালে সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’ পান এই গুণী সাংবাদিক।।

ত্রিকালদর্শী এক স্বপ্নীল মানুষ ছিলেন তোয়াব খান। ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ ও একজন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি। অনিয়ম, দুর্নীতি, মৌলবাদ, জঙ্গিতন্ত্রসহ দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে তার সাংবাদিকতা ছিল আপসহীন ও তেজদীপ্ত। সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, রিপোর্টিং, ফিচারসহ অন্যান্য পাতায় নিঃসংকোচে লেখা প্রকাশে দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দিতেন।

কখনও সক্রিয় রাজনীতি করেননি। তবে রাজনীতির কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আগ্রহী ছিলেন। তার নীতি ও নৈতিকতা ছিল প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার। সাংবাদিকতার ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সঙ্গে স্মৃতিময় ঘটনা, স্বাধীনতাপূর্ব এবং পরবর্তী রাজনীতির নানা স্মৃতিময় ঘটনা তার কাছ থেকে শুনেছি। তিনি ছিলেন গুণীজন, সাংবাদিকতায় তার অবদান জীবিত অবস্থায়ই তিনি প্রমাণ দিয়ে গেছেন।

তোয়াব খানের সাংবাদিকতা ও জীবনসংগ্রাম আমার সাংবাদিকতা জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলতেন, সাংবাদিকতার দায়বন্ধতা সব সময় পাঠকের কাছে। কোনো সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল বা সরকারের কাছে নয়। সাংবাদিকদের পরীক্ষা দিতে হয় প্রতিদিন। তাই সংবাদ পরিবেশনে অতিমাত্রায় সচেতন হওয়া জরুরি। বলতেন, পাঠক যেমন কাগজের মূল প্রাণ, তেমনি তারা বিশ্লেষক ও বিচারক। আমার সাংবাদিকতার পরিপূর্ণতা তার কাছে। ২০০৯ সালে জনকণ্ঠ-এর সম্পাদকীয় বিভাগে যোগ দিয়ে প্রথম দিকেই তার নজর কেড়েছিলাম একটি ধারাবাহিক লেখা সম্পাদনা করতে গিয়ে। লেখাটির সম্পাদনা দেখে তোয়াব ভাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বেশ ভালো করেছ। সব লেখাই এভাবে দেখে ছাড়বে।’ সেই থেকে বিশ্বাস আর কাজের প্রতি আন্তরিকতায় বিশ্বস্ত হই। প্রায়ই সম্পাদকীয় ও চতুরঙ্গ পাতা দেখাতে গেলে বলতেন, ‘লেখাগুলো তুমি পড়েছ তো?’ বড় লেখা কীভাবে সীমিত শব্দের মধ্যে আনতে হয়, অপ্রয়োজনীয় ও একাধিকবার ব্যবহৃত শব্দ বর্জন করে বিকল্প শব্দের ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন। বাক্যের যোগ্যতা হারায় এমন কোনো শব্দ ব্যবহার না করার কথা বলতেন। অনেক ক্ষেত্রে শব্দ ধরে দেখিয়ে দিতেন। যেদিন আমার সম্পাদকীয় লেখার পালা ছিল, সেদিন সম্পাদকীয়টিতে কোনো অসংগতি থাকলে মার্ক করে পরিবর্তন এবং পরিমার্জনের কথা বলতেন। আসলে জনকণ্ঠ-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করতে গিয়ে নতুনভাবে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি ছিল তোয়াব খানের কাছে।

২০১৯ সালে আমি জনকণ্ঠ ছেড়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) যোগ দিই। তোয়াব খান চাননি আমি জনকণ্ঠ ছেড়ে আসি। তিনি আমার অব্যাহতিপত্র ১৫ দিন ধরে রেখে দিয়েছিলেন। বললেন, ‘তোমার ব্যাপারে আমি মালিকের সঙ্গে কথা বলব। তুমি চলে যাও আমি চাই না।’

সর্বশেষ তিনি জনকণ্ঠ-এ আমাকে পার্টটাইমও রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চাকরির শর্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পিআইবিতে যোগদানের পরও তোয়াব ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হতো। পিআইবির সাময়িকী নিরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ (‘আমার তীর্থযাত্রা’) ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক তার দুটি লেখা আমরা প্রকাশ করেছিলাম। সর্বশেষ সিনিয়র সাংবাদিক আলী হাবীব ভাইকে দিয়ে তার একটি সাক্ষাৎকার করিয়ে নিরীক্ষায় প্রকাশ করেছিলাম। তোয়াব ভাইকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত বহু স্মৃতি আজও অমলিন।

আমার মতো বহু সাংবাদিকের কাছে তোয়াব খান একটি অহংকারের নাম। কারণ সাংবাদিকতায় তিনি সাধারণ থেকে অসাধারণ। সাংবাদিকতার প্রতিটি স্তরে তিনি প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে পরিণত হয়েছিলেন মহীরুহে। তাই একজন শারীরিক তোয়াব খানের চলে যাওয়া মানে সবশেষ নয়। সাংবাদিকতায় তার বর্ণাঢ্য জীবনই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল। তোয়াব খান হারিয়ে যাওয়ার নয়, কারণ তার ব্যাপ্তি গণমাধ্যমব্যাপী, তিনি যে সাংবাদিকতায় কালের অভিযাত্রী।

লেখক: সহকারী সম্পাদক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)

আরও পড়ুন:
কোয়াড বিতর্ক
আল কায়েদা ও হেফাজত
রাষ্ট্রীয় হেফাজত
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সক্ষমতা
পশ্চিমাদের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Efforts are on to bring back Bangabandhus killer Rashed Chowdhury Prime Minister

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী খুনিদের আশ্রয় দেওয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলে। খুনিরা এমনকি চার বছরের শিশু ও নারীসহ শিশুদেরও রেহাই দেয়নি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যুদ্ধাপরাধী রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে।

‘আমরা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দেশটির কাছে অনুরোধ করছি।’

একজন খুনিকে আশ্রয় দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী খুনিদের আশ্রয় দেয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলে। খুনিরা এমনকি চার বছরের শিশু, নারীদেরও রেহাই দেয়নি।’

বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘কিছু সংস্থা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে এবং দুই ভারতীয়র নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা দিয়েছে, কিন্তু তাদের এখন বিএনপির মিছিলে দেখা যাচ্ছে। আমাদের দ্বারা নির্মিত ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধার জন্য কিছু লোক প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যা খুশি বলছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।

‘এ রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে কিছু বাংলাদেশি, যারা বিভিন্ন অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং যারা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বজন।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ
প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন নভেম্বরে
রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
‘প্রধানমন্ত্রীর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে’
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিটিভিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Toab Khans death leaves void in media unfillable President

তোয়াব খানের শূন্যতা অপূরণীয়: রাষ্ট্রপতি

তোয়াব খানের শূন্যতা অপূরণীয়: রাষ্ট্রপতি বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খান ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোয়াব খান ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।’

দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোয়াব খান ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।’

রাষ্ট্রপতি তোয়াব খানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শনিবার দুপুরে মৃত্যু হয় বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

বিশিষ্ট এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মহাপরিচালক এবং দৈনিক জনকণ্ঠসহ গণমাধ্যমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশপ্রেম এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। আজীবন সংগ্রামী এ গুণী সাংবাদিক তার স্বীয় কর্মের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণ
নতুন রূপে আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক তোয়াব খান

মন্তব্য

p
উপরে