× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
I will not answer whatever Fakhrul writes about leaving the alliance of Jamaat
hear-news
player
google_news print-icon

উত্তর দেব না, যা খুশি লেখেন, জামায়াতের জোটত্যাগ নিয়ে ফখরুল

উত্তর-দেব-না-যা-খুশি-লেখেন-জামায়াতের-জোটত্যাগ-নিয়ে-ফখরুল
নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
‘আপনারা বলতে পারেন, জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি উত্তর দেব না। জিজ্ঞাসা করাটা আপনাদের যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক তেমনি উত্তর না দেয়াটাও আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আপনারা গণতান্ত্রিকভাবে যা খুশি বলতে পারেন, লিখে দেন নো প্রবলেম।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা নিয়ে কিছুই বলতে চান না বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, এ বিষয়ে জবাব না দেয়ার সিদ্ধান্ত তার গণতান্ত্রিক অধিকার।

জামায়াতের কুমিল্লা শাখার একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেয়া শফিকুরের বক্তব্য রাজনীতিতে তোলপাড় তোলার পরদিন সোমবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ফখরুল। তিনি দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে ডাকা এই আয়োজনে সাংবাদিকরা তার কাছে জামায়াতের জোট ত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন রাখেন।

তবে জবাব আসেনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন, জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি উত্তর দেব না। জিজ্ঞাসা করাটা আপনাদের যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক তেমনি উত্তর না দেয়াটাও আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আপনারা গণতান্ত্রিকভাবে যা খুশি বলতে পারেন, লিখে দেন নো প্রবলেম।’

১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া জামায়াতের সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরেই ভালো ছিল না। ২০২১ সালের শুরুতে বিএনপি এই জোট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।

এর মধ্যে গত শনিবার কুমিল্লার রুকনদের উদ্দেশে ভার্চুয়ালি এই বক্তব্যে শফিকুর জানান, বিএনপির সঙ্গে জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত দলটির সঙ্গে আলোচনা করেই নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এটাও সিদ্ধান্ত হয় যে জোটে না থাকলেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকবে তাদের দল।

জোট ভাঙার দায় স্পষ্টতই বিএনপির ঘাড়ে চাপান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘এই জোটের সঙ্গে বিভিন্ন দল যারা আছে, বিশেষ করে প্রধান দল এই জোটকে কার্যকর করার তাদের চিন্তা নাই। তাদের যদি চিন্তা না থাকে, তাহলে তা হবে না।

‘এই বিষয়টা এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট, দিবালোকের মতো পরিষ্কার এবং তারা আমাদের সঙ্গে বসে এটা স্বীকার করেছে। …বছরের পর বছর এই ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।’

উত্তর দেব না, যা খুশি লেখেন, জামায়াতের জোটত্যাগ নিয়ে ফখরুল
কুমিল্লার রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বিএনপির সঙ্গে জোটে না থাকার পেছনে তিনটি কারণের কথা তুলে ধরেছেন

জোট কার্যকর নিয়ে বিএনপির উদ্যোগের অভাব ছাড়াও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠাধারী আওয়ামী লীগ-নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দলের নেতাকর্মীদের প্রাণহানির দিন সে সময় সরকারে থাকা বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু চিন্তা করে দেখেছি, এর পর থেকে এই জোট বাংলাদেশের জন্য আর উপকারী জোট নয়।’

সেই সঙ্গে বিএনপি শরিয়া আইনে বিশ্বাসী নয় বলে মির্জা ফখরুল ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে নাখোশ হওয়ার কথাও বলেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ‘(জোটের) প্রধান দলের নেতা তো বলেই ফেলেছেন, আমরা শরিয়া আইন সমর্থন করি না।’

জামায়াতের জোট ত্যাগের এই সিদ্ধান্ত গত দুই যুগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই জোটবদ্ধ রাজনীতি ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে নানা ঘটনা তৈরি করে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হয় জামায়াত ও বিএনপি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং আজিজুল হকের ইসলামী ঐক্যজোট।

প্রথমে এরশাদ ও পরে আজিজুল হক জোট ছেড়ে দেন। তবে সমালোচনার মধ্যেও জামায়াতকে বিএনপি কখনও ছাড়তে রাজি হয়নি।

দুই বছর পর যে জাতীয় নির্বাচন হয়, তাতে এই জোটের ভূমিধস জয়ের পেছনে দুই দলের ভোট যোগ হওয়াই ছিল প্রধান কারণ।

তবে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবার জামায়াত সঙ্গ বিএনপির জন্য নেতিবাচক হিসেবেই ধরা দেয়। ওই নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বড় হয়ে ওঠার পর বিএনপি-জামায়াত জোটের ভরাডুবি হয়। স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে সঙ্গী করে ভোটে নেমে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী অবস্থানেও বড় ব্যবধানে হেরে যায় বিএনপি।

উত্তর দেব না, যা খুশি লেখেন, জামায়াতের জোটত্যাগ নিয়ে ফখরুল
১৯৯৯ সালে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে গঠিত হয় চারদলীয় জোট। পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেই জোট ছেড়ে চলে গেলেও দলের একাংশ থেকে যায়

ওই নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি কমিটি গঠন করা হয় বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনার জন্য। এর মধ্যে ৯টি কমিটিই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধতাকে দায়ী করে, যা ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিমত।

নির্বাচনের পর বিএনপির তরুণ নেতারাও প্রকাশ্যেই দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দাবি তোলেন।

তবে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবং নির্বাচনের পর সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে জামায়াতকে নিয়েই যোগ দেয় বিএনপি। আর ব্যাপক সহিংসতার পর বিএনপি নেতারা নানাভাবে জামায়াতকে দায় দেন।

ওই নির্বাচনের পর একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট কৌশলগত। সময় এলেই তিনি জামায়াতকে ত্যাগ করবেন।

এসব ঘটনায় আবার জামায়াত মনঃক্ষুণ্ন হয় বিএনপির প্রতি। যদিও তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য আসেনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচারের সময় বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতাও পায়নি জামায়াত। এ নিয়েও খেদ আছে দলের নেতাদের মধ্যে।

বিএনপি চারদলীয় জোট সম্প্রসারণ করে পরে ২০-দলীয় জোট গড়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আরও একটি জোট তারা করে গত সংসদ নির্বাচনের আগে।

এর মধ্যে বিএনপির জামায়াত ছাড়ার প্রসঙ্গ নানা সময়ই এসেছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সময় এলে তারা জামায়াতকে ছেড়ে দেবেন।

জামায়াতের জোট ছাড়ার বিষয়ে শফিকুরের বক্তব্য আসার দিন মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমকে কিছু বলতে রাজি হননি। নিউজবাংলা যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমরা সময়মতো জানাব। এ ব্যাপারে আমি কোনো কমেন্ট করব না।’

বিএনপির কর্মসূচি বাড়ল

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল জানান, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি গত ২২ আগস্ট থেকে চলমান রয়েছে, এই কর্মসূচির সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর্মসূচিতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। যেসব জেলা উপজেলা ইউনিয়ন মহল্লায় কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি, সেসব স্থানে চলমান কর্মসূচি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।’

চলমান কর্মসূচির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কর্মসূচিতে জনগণের সম্পৃক্ততা দেখে আওয়ামী লীগ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের চরিত্র যে সন্ত্রাসী চরিত্র সেটা আরও একবার উদ্ভাসিত হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগের রক্তেই সন্ত্রাস আছে। দলটি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। বল প্রয়োগ ছাড়া তাদের টিকে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।’

ক্ষমতাসীন দল দমননীতির আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, 'কিছুদিন আগে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বললেন, কাউকেই গ্রেপ্তার করা হবে না। সভা সমাবেশ সবকিছু করতে দেয়া হবে। কিন্তু তার উল্টো রূপ দেখা যাচ্ছে। এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। তারা কথা বলবে একটা, কাজ করবে আরেকটা। এভাবেই তারা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।'

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I have opened alliance with Jamaat BNP leader

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: নিউজবাংলা
‘যারা ধর্মীয় রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট হয়েছিল’ উল্লেখ করে টুকু বলেন, এর অর্থ এই না যে আওয়ামী সারাজীবন বিএনপি-জামায়াত বলবে। আমরা ওপেন করে দিয়েছি। যুগপৎ আন্দোলন করব। যার যা শক্তি আছে তা নিয়ে মাঠে আসব।’

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি এও বলেছেন, এক সময় নির্বাচনি জোট হয়েছিল বলে সারা জীবন বিএনপি-জামায়াত বলতে হবে এমন নয়।

বিএনপির সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে জামায়াতের একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে দলটির আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখার পর বিএনপির কোনো নেতা এই প্রথম সরাসরি বক্তব্য রাখলেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন নয়’ বিষয়ে এই সভার আয়োজন করে বিএনপিপন্থি সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম।

টুকু অবশ্য কিছুদিন আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেই বক্তব্য ছিল অনেকটাই পরোক্ষ, যার যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব।

‘যারা ধর্মীয় রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট হয়েছিল’ উল্লেখ করে এবার টুকু বলেন, এর অর্থ এই না যে আওয়ামী সারাজীবন বিএনপি-জামায়াত বলবে। আমরা ওপেন করে দিয়েছি। যুগপৎ আন্দোলন করব। যার যা শক্তি আছে তা নিয়ে মাঠে আসব।‘

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট চলছে সেই ১৯৯৯ সাল থেকে। সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক দলটি আমির শফিকুর রহমান একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে দলের কর্মীদেরকে জানান, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে গেছে। দুই দল যুগপৎ আন্দোলন করবে, কিন্তু জোটে আর নেই।

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা
বিএনপির সঙ্গে জামায়াত যে আর জোটবদ্ধ নয়, সেটি আগস্টের শেষে দলটির একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জানান দলটির আমির শফিকুর রহমান। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসছিল না

আগস্টের শেষে কুমিল্লার একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে ভার্চুয়াল আলোচনায় জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এতদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। আপনারা ছিলাম শুনে হয়তো ভাবছেন কী হয়েছে এখন। হ্যাঁ, হয়ে গেছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই জোট দেশের জন্য উপকারী একটা জোট ছিল। ৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এবং সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়েছে। তার পরে আর ফিরে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু চিন্তা করে দেখেছি, এর পর থেকে এই জোট বাংলাদেশের জন্য আর উপকারী জোট নয়।’

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসছিল না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি কিছু বলবেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এও বলেন, এ নিয়ে কিছু না বলা তার গণতান্ত্রিক অধিকার।

জামায়াত ও বিএনপিকে একসঙ্গে উচ্চারণ করায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করেন টুকু। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে হাইফেন যুক্ত করে ফেলেছে। গতকালও দেখলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জামায়াত-বিএনপি। কিন্তু বিএনপি অন্য একটা আদর্শের দল। তাদের সঙ্গে (জামায়াত) যুক্ত করার কিছু নেই। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল।’

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা
১৯৯৯ সালে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি যখন জোট করে, সে সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তাতে যোগ দেন। পরে এরশাদ সরে গেলে দলটিতে ভাঙন দেখা দেয়

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে দলটির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘জোট করে সবাইকে এক সঙ্গে নেয়া যায় না। এখানে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকে। আমরা ২০১৮ সালে তা দেখেছি। অমুক আছে, তমুক নেই। সেটা উপলব্ধি করে তারেক রহমান বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলন করব। এই যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল সেটা উঠে গেছে। এখন আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেই রাজপথে আন্দোলন করব। এবার জয় লাভ করব।’

সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত বলে মনে করেন টুকু। বলেন, ‘আন্দোলনের শুরুতে আমাদের পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করল। আমাদের জীবনে দেখি নাই আন্দোলনের শুরুতে ৫ জনকে জীবন দিতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আয়োজক সংগঠনের সংগঠনের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদ।

আরও পড়ুন:
সহিংসতা মামলায় জামায়াত নেতা শামসুল গ্রেপ্তার
উত্তর দেব না, যা খুশি লেখেন, জামায়াতের জোটত্যাগ নিয়ে ফখরুল
ভিন্ন নামে এলেও জামায়াতের ‘নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই’
বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
বিএনপিকে ‘ছেড়ে গেছে’ জামায়াত, মন্তব্য নেই ফখরুলের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League attack on memorial meeting of BUET student Abrar Fahad in DU

ঢাবিতে আবরার স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা

ঢাবিতে আবরার স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা। ছবি: নিউজবাংলা
আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই স্মরণসভায় অংশ নেয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত স্মরণসভায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে পণ্ড হয়ে গেছে স্মরণসভা।

আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই স্মরণসভায় অংশ নেয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও।

সেখানেই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।

ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদের দাবি, ছাত্রলীগের এই হামলায় অধিকার পরিষদের ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তারা সবাই বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা বিকেল ৩টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমাদের স্মরণসভার প্রোগ্রাম শুরু করি। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান এবং সুজন শেখ নামের একজন শিক্ষার্থী প্রোগ্রামস্থলে এসে আমাদের প্রোগ্রাম করতে নিষেধ করেন।

‘এ সময় তিনি বলেন, আবরার বুয়েটের শিক্ষার্থী। তাই আমরা তার কোনো স্মরণসভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে করতে পারব না। এ সময় আল আমিন রহমান আমাদের সবার আইডি কার্ড দেখতে চান। পরে আমরা তাকে সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চলে যায়। আর আমরা আমাদের প্রোগ্রাম শুরু করে দেই।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরে সাড়ে ৩টার দিকে যখন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বক্তব্য রাখছিলেন তখন আল আমিন রহমান এবং সুজন শেখের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরের ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে প্রোগ্রাম উপলক্ষে আনা বেশ কিছু চেয়ারও তারা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।’

এই বিষয়ে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী স্মরণসভা শুরু করার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতে আমাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আমাদের অন্তত ১০ জন আহত, দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। একজন রিকশা চালকেরও মাথা ফেটে গেছে।’

‘আহতদের ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা কোনো দলীয় ব্যানারেও এই প্রোগ্রাম করিনি, আমরা প্রোগ্রাম করেছি আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের ব্যানারে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলায় ধিক্কার জানাই।’

হামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এম এম মহিন উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান, সাংগঠনিক নাজিম উদ্দীন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল আমিন রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক শিমুল খান, আব্দুর রাহিম, জুহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা, সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখা ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অংশ নেয়।

হামলার পর প্রোগ্রাম উপলক্ষে আনা ব্যানার পুড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনার সময় পাটকেলের আঘাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীনও আহত হয়।

ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান বলেন, 'তারা (ছাত্র অধিকার) ক্যাম্পাসে বহিরাগত, মৌলবাদীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করতে আসি তারা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কিনা। এ সময় তারা কিছু না দেখিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করে।'

আরও পড়ুন:
কওমি মাদ্রাসায় ঢুকল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
৩৯ বছর পর ঢাবিতে আ.লীগপন্থি নীল দলের নিরঙ্কুশ জয়
শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজ দিতে ঢাবিতে ‘সাপোর্ট ইউনিট’
না জানিয়ে ঢাবি ছাত্রদলের কমিটিতে পদ, ক্ষুব্ধ কানেতা
‘পচা মাংস’ দেয়ায় ঢাবি হলের দোকানে ভাঙচুর, মারধর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The prime minister wants to go to the election like an election Fakhrul

নির্বাচনের মতো নির্বাচনে যেতে চাই, প্রধানমন্ত্রীকে ফখরুল

নির্বাচনের মতো নির্বাচনে যেতে চাই, প্রধানমন্ত্রীকে 
ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
কেউ ভোটে না এলে কিছু করার নেই বলে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপি নেতা বলেন, ‘ওনারা তো চানই যে বিরোধী দল না আসুক। ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার বদভ্যাস হয়ে গেছে ওনাদের।’ সে সুযোগ আপনারা দেবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলেছি, এই ইলেকশন জনগণ মানবে না।’

কোনো দল না এলেও ভোট হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখার পর দিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে তারা নির্বাচনে যেতে চান। কিন্তু সেটি হতে হবে নির্বাচনের মতো নির্বাচন। তামাশা হলে চলবে না।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন তামাশা হওয়ার জন্য তো না যে ভোটের আগের রাতে নির্বাচন হয়ে গেল, ভোট নিয়ে চলে গেল, একজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে দিল।…কেউ আসলে তিনি ক্যামপেইন করতে নামতে পারবেন না, তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হবে, দেশে একটা অরাজনীতিকরণ করা হবে, এটা তো হতে পারে না।’

শুক্রবার দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অন্য এক প্রসঙ্গে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আগের দিনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এবং ভোট বর্জনের হুমকির বিষয়ে এক প্রশ্নে সরকার প্রধান বলেছেন, ‘নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কে করবে না। সেখানে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। রাজনীতি করতে হলে দলগুলো নিজের সিদ্ধান্ত নেবে।’

এমনকি এবার আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে সংলাপেরও কোনো উদ্যোগ নেবে না বলে জানিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুল বলেন, ‘ওনারা তো চানই যে বিরোধী দল না আসুক। ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার বদভ্যাস হয়ে গেছে ওনাদের।’

সে সুযোগ আপনারা দেবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলেছি, এই ইলেকশন জনগণ মানবে না।’

আগেরদিনের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আর কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে? আগুন দিয়ে পোড়ানো, মানুষ খুন করা, বোমা মারা, গ্রেনেড মারা-সব জায়গাতে তো আছে। তারা যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, ভোট চাইতে আসছেন, আমার এই অবস্থা। কী জবাব দেবে বিএনপি? এজন্যই বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়ায়। দেশের মানুষের কাছে যায় না।’

জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ভয় পাওয়ার প্রশ্ন নেই। উল্টো তারা ভীত হয়ে আছে। তারা সন্ত্রস্ত আছে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহরে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এটা হচ্ছে মূল কথাটা। সে জন্য তারা কলা কৌশল, বিভিন্ন রকম কৌশল নিয়ে জনগণকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে দিয়েছে ভোটদান থেকে। মানুষই তো ভোট দিতে যায় না কেউ।’

নির্বাচনের মতো নির্বাচনে যেতে চাই, প্রধানমন্ত্রীকে 
ফখরুল
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া ভোটে না আসার বিষয়ে বিএনপির ঘোষণা নিয়ে আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেউ ভোটে না এলে কিছু করার নেই

একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদের মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার মতো কোনো পুঁজি নেই। আপনারা ভোটে জিততে পারবেন না, এ কারণেই ভোটে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন।’

জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এটা তো অনেক দিন ধরে বলছে। আজ নতুন কথা বলছে না। রাজনৈতিক দল তার কথা বলবেন। শেখ হাসিনাও তার কথা বলবেন। এভাবে টিকে আছেন তিনি। জনগণকে প্রতারণা করে, মিথ্যা বলে ভয় ভীতি দেখিয়ে তিনি টিকে আছেন।’

বিএনপি যে সরকারপতনের একদফা আন্দোলনের কথা বলছে, সেটি কবে শুরু হবে- জানতে চাইলে ফখরুল কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেননি। বলেন, ‘সময়টা তো বলা যাবে না। আমরা আলোচনা করছি। আলোচনা যখন শেষ হবে, যখন সময়টা আসবে, তখন।’

বিএনপি যে আলোচনা করছে, তাতে আওয়ামী লীগকে ডাকা হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা? আমরা কেন সংলাপে ডাকব? আমরা তো দাবি দিচ্ছি, এই দাবিগুলো মানতে হবে। আমাদের তাদের সঙ্গে তো সংলাপের প্রশ্নই নেই।

‘আমরা আলাপ করছি তাদের সঙ্গে যারা এই সরকারকে মানে না, যারা মনে করে এই সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমরা সংলাপ করছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের কোনো সুযোগ নেই।

‘দে মাস্ট লিভ, তাদেরকে চলে যেতে হবে। আমরা বারবার বলেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ক্ষমতা দিতে হবে।’

-তারা যদি নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় ডাকে?

‘প্রশ্নই উঠে না। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।’

‘অবরোধ আসা উচিত সরকারের ওপর’

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অন্য এক প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমি বরাবর এই কথাটা বলে আসছি যে, স্যাংশনটা আসা উচিত বর্তমান সরকারের ওপর। কারণ, যা কিছু হচ্ছে সরকারের নির্দেশেই হচ্ছে। এখানে তো মন্ত্রণালয় জড়িত, তাদের যে হাইকমান্ড, সেখান থেকেই আসার পর সব কিছু করা করা হয়।

‘মূল উদ্দেশ্যটা কী, উদ্দেশ্যটা হচ্ছে বিরোধী দলকে দমন করা। যাতে আন্দোলন না হয়, তারা যে অবৈধভাব ক্ষমতা দখল করে আছে, তার বিরুদ্ধে যেন কোনো প্রতিবাদ না হয়, সোচ্চার না হয়, জনগণ যাতে রাস্তায় বের হতে না পারে, সে জন্য তারা এই কাজগুলো করছে।’

বিএনপির আন্দোলনে পুলিশের গুলির কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘ভোলাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে আন্দালন, সেখানে তারা গুলি করে হত্যা করেছে। নারায়ণগঞ্জে করেছে, মুন্সিগঞ্জে করেছে। তারা বৃষ্টির মতো গুলি করছে। জনগণের সমর্থন যখন তাদের পক্ষে নেই, তখন তারা মরিয়া হয়ে গেছে।

‘গোটা জাতিই হুমকির মুখে পড়েছে। একটি বাহিনীর ওপর স্যাংশন দেয়া মানে কী? গোটা জাতির ওপর স্যাংশন দেয়া। আমরা আগেই বলেছি, এটা আমাদের জন্য লজ্জা, এটা কলঙ্কের যে আমাদের একটা বাহিনী, তার ওপর স্যাংশন এসেছে। এই স্যাংশন তো আমরা আশা করিনি।’

বিরোধী দলের নেতা, সংগঠন ও দাতাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশের অনুরোধ

সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়া একটি বেতার বার্তা ভাইরাল হয়েছে জানিয়ে ফখরুল দাবি করেন, রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার গত ২৫ সেপ্টেম্বর জেলার সব থানার ওসিদেরকে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল ও সংগঠনের নেতা, সংগঠক এমনকি দাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার সদরদপ্তরের নির্দেশেই এই বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশের সব জেলার পুলিশ সুপাররাই থানার ওসিদের একই নির্দেশ দিয়েছেন।’

নির্বাচনের মতো নির্বাচনে যেতে চাই, প্রধানমন্ত্রীকে 
ফখরুল
ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি বিএনপির অন্য নেতারা।

এই নির্দেশনাকে অত্যন্ত ভয়ংকর, অপ্রত্যাশিত, অসাংবিধানিক, এখতিয়ার বহির্ভূত, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণবিধি পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক দল তথা গণমানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আন্দোলন সমাবেশ করার মৌলিক অধিকার বিরোধী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধান, কিংবা দেশের অন্য কোন প্রচলিত আইন বা বিধি বিধানের আওতায় তারা করতে পারেনা। পুলিশ সুপার তার আওতাধীন ওসিদের নিকট বেতার বার্তা বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় যে সব তথ্য চেয়েছেন, তা যে কোনো মানদণ্ডে বেআইনি, স্বেচ্ছাচারি এবং অননুমোদিত পদক্ষেপ। এ

ফখরুল বলেন, ‘উল্লিখিত বেতার বার্তার বিষয়বস্তু থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থসমূহ বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে একটি নীল নকশার অধীনে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দমন করার জন্য একযোগে কাজ করছে।’

যেসব ‘অতি উৎসাহী দলবাজ কর্মকর্তা‘সরকারি পদবির অপব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে দেশের সচেতন নাগরিকরা চিহ্নিত করে রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে ‘না’ বোধক জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে এবং বাহিনীগুলোকে জানিয়ে দিয়েছি যে, এসব কর্মকাণ্ড বেআইনি। তারা যেন এসব কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখেন।’

অন্য এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, পুলিশের এই নির্দেশ অসাংবিধানিক এ কারণে যে, সংবিধান অনুযায়ী যে কারও কোনো দল করার, সমর্থন করার এমনকি অনুদান দেয়ার অধিকার আছে। এটা সারা দুনিয়ায় স্বীকৃত।

বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল‌ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দেবী দুর্গার আবির্ভাব সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায়: ফখরুল
সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্ব চান অলি
আন্দোলনে সাফল্য নির্ভর করে ঢাকার ওপর: তৃণমূল বিএনপি
যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ঐকমত্য
বিএনপি-কল্যাণ পার্টি সংলাপ, আন্দোলনে ঐকমত্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Will BNP save the country with the enemies of democracy freedom who

গণতন্ত্র-স্বাধীনতার শত্রুদের নিয়ে বিএনপি নাকি দেশ উদ্ধার করবে: কাদের

গণতন্ত্র-স্বাধীনতার শত্রুদের নিয়ে বিএনপি নাকি দেশ উদ্ধার করবে: কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এদেশের জন্য রক্ত দেয়নি বরং তারা মানুষের রক্ত নিয়েছে। শোষণ করেছে, স্বস্তি দেয়নি।’

বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি এখন গণতন্ত্রের কথা বলে, গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার শত্রুদের নিয়ে নাকি তারা দেশ উদ্ধার করবে।’

নিজ বাসভবনে শুক্রবার ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এদেশের জন্য রক্ত দেয়নি বরং তারা মানুষের রক্ত নিয়েছে। শোষণ করেছে, স্বস্তি দেয়নি।

‘বিএনপির হাতে এদেশ নিরাপদ নয়, দেশের মানুষকে মুক্ত করার নামে তারা শৃঙ্খল পরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

দলটি অতীতে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আদর্শকে শৃঙ্খলিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতাকে বিএনপি ক্ষমতার জন্য ব্যবহার করেছে।’

হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর রক্তে বিএনপির হাত রঞ্জিত বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, ‘আসলে বিএনপি দেশ ধ্বংসের এজেন্ডা নিয়ে এসেছে, তারা সব পরাজিত অপশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে।’

দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও তার দোসরদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ।’

১৭ অক্টোবর হতে যাচ্ছে জেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে দলের সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সরকার কেন, কার কাছে পদত্যাগ করবে: ফখরুলকে কাদের
লাশ ফেলে আন্দোলন জমানোর অশুভ তৎপরতায় বিএনপি: কাদের
তত্ত্বাবধায়ক ফিরে আসা আপাতত সম্ভব নয়: কাদের
রাজপথ বিএনপির পৈতৃক সম্পত্তি নয়: কাদের
বিএনপি নিজেদের মারামারিতে সরকারকে দায় দিচ্ছে: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP went to court for Shaons murder

শাওন হত্যায় আদালতে গেল বিএনপি

শাওন হত্যায় আদালতে গেল বিএনপি মুন্সীগঞ্জের সংঘর্ষে নিহত যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন। ছবি: সংগৃহীত
বাদী সালাহ্ উদ্দিন খান বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আমি মামলার বাদী হয়েছি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে মামলা করেননি, তারা পরে এ মামলার সঙ্গে যুক্ত হবেন।’

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে মুন্সীগঞ্জের আদালতে আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে হত্যা মামলা নিতে এ আবেদন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালত-১ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার এ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য ১০ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে এ মামলা বলে দাবি করেছেন বাদী মো. সালাহ্ উদ্দিন খান।

শাওন হত্যায় আদালতে গেল বিএনপি
মুন্সীগঞ্জের আমলী আদালতে আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন। তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে আসছেন স্বজন ও বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, শাওনের মৃত্যু হয়েছে ইটের আঘাতে।

সংঘর্ষের এ ঘটনায় সদর থানার এসআই মাঈনউদ্দিন ও শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এতে বিএনপির দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগ জমা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মামলা ও তথ্য সংরক্ষন কর্মকর্তা মো. সালাহ্ উদ্দিন খান। তিনি কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালতে দেয়া অভিযোগে আসামি করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ-উ-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অর্থ) সুমন দেব, সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামানসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে। এছাড়াও ৪০-৫০ জন পুলিশ সদস্য ও সরকার দলীয় ২০০-৩০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে শাওন হত্যায়।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান আল-মামুন বলেন, ‘২১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশ চলছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ-উল-ইসলাম ঢুকে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার কেড়ে নেন। তিনি পা দিয়ে ব্যানার মাড়ান এবং পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। তখন শাওনের কপালের ডান দিকে গুলি করা হয়।’

বাদী সালাহ্ উদ্দিন খান বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আমি মামলার বাদী হয়েছি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে মামলা করেননি, তারা পরে এ মামলার সঙ্গে যুক্ত হবেন।’

আরও পড়ুন:
কোন্দলে বিএনপির সভা পণ্ড
বাংলাদেশ পুলিশের জন্য রাজস্থানি ঘোড়া  
৯৬-এর আলোকে তত্ত্বাবধায়কের রূপরেখা করছে বিএনপি
কেবল বিদ্যুৎ নয়, সব কিছুতেই জাতি বিপর্যয়ে: ফখরুল
খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ ২২ অক্টোবর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bathed with milk to get rid of stigma Chhatra League leader

কলঙ্কমুক্ত হতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি: ছাত্রলীগ নেতা

কলঙ্কমুক্ত হতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি: ছাত্রলীগ নেতা
আরমিন বলেন, ‘আমার ১২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৭টি মামলার আসামি হয়ে দুবার কারাবরণ করেছি। এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত জেলে বসে দিয়েছি। অথচ আমাকে মূল্যায়ন না করে মূল্যায়ন করা হয়েছে জামায়াত-বিএনপি থেকে উঠা আসা ছেলেদের। তাই নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা। দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন- এমনটিই বলছেন অভিমানী এই ছাত্র নেতা।

২২ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশু জগ ভর্তি দুধ ছাত্রলীগ নেতার মাথায় ঢালছে আর তা সারা শরীরে মেখে নিচ্ছেন তিনি। যিনি ভিডিওটি ধারণ করছেন তিনি প্রশ্ন করছেন আরও রাজনীতি করবা? এ সময় হাত নেড়ে না করেন ওই ছাত্রলীগ নেতা।

দুধ দিয়ে গোসল করা এই ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. আরমিন মিয়া। তার বাড়ি উপজেলা সদরের বড়বাড়ি এলাকায়। পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি আপলোড করেছেন আরমিন নিজেই। সেই পোস্টে তাকে দুঃসময়ের ত্যাগী এবং কারা নির্যাতিত নেতা উল্লেখ করে এই নেতাকে মূল্যায়ন না করায় দুঃখ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কেউ আবার এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়ে মন্তব্য করেছেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে আরমিন লেখেন, ‘১২ বছর ছাত্রলীগ থেকে আমার অর্জন ৭ টা মামলার আসামী, সর্বোচ্ছ গ্রাইন্ড নিয়ে গত ১ বছর পুলিশের হয়রানী। বিদায় বেলায় পেশাগত জীবনে পঙ্গু, শূন্য পকেটে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিলাম। ছাত্রদল আগত,বিএনপি পরিবার থেকে আগত কারো কাছে আত্নসমর্পণের চেয়ে বিদায় নেওয়া বেটার সিদ্ধান্ত, রাজনীতিটা বুক দিয়ে নয়, আবেগ দিয়ে করেছি,আবেগে ভেজালের স্থান নেই। ভাল থাকবেন প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ভালবাসার সুলতান গ্যাং...দ্যা কোল্ড ব্লাডেড মার্ডারার। প্রকৃতি কাউকে খালি হাতে ফেরায় না,প্রকৃতি সঠিক সময়ে ফিরিয়ে দেয়,দিবে, অপেক্ষায় থাকলাম।’ (বানান অপরিবর্তিত)

ছাত্রলীগ নেতার এই পোস্টে পুলিশি নির্যাতনের একটি ছবি যোগ করে মোহাম্মদ পায়েল ফেরদৌসী নামে একজন লেখেন, ‘এই সেই আরমিন, যে নিজের জীবন বাজি রেখে সাবেক সাংসদকে রক্ষা করেছিল। জেলেও গেল। কোথায় তার প্রতিদান? সেও কিন্তু আজ অভিমানীদের কাতারে চলে গেল...’

মো. নাঈম খান নামে একজন লেখেন, ‘দিনশেষে ত্যাগী কর্মীদের হতাশ আর নিরাশ হওয়া ছাড়া তারা কিছুই পায় না...তারপরেও ছাত্রলীগের প্রতিটা কর্মী অনেক কষ্ট বেদনা বুকে ধারণ করে সংগঠনটি করে। আপনার অনেক শ্রম-ঘাম ছিল, তারা আপনাকে সঠিক মূল্যায়ন করে নাই। আপনার জন্য দোয়া ও শুভ কামনা রইল।’

নিউজবাংলাকে যা বলছেন অভিমানী আরমিন, ‘আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলাম। এছাড়াও আরও যে পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন তাদের মধ্যে আমি সিনিয়র। কিন্তু বুধবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজ উমান খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাজমুল আলমকে সভাপতি ও তোফায়েল আহমেদ তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। যেটা আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাই। এই কমিটিতে যাদেরকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে তারা আমার জুনিয়র। কমিটিতে জুনিয়রদেরকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেখে আমাকে করা হয়েছে ১ নম্বর সহসভাপতি।’

এতে তাকে সম্মানিত না করে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। বলেন, ‘আমার ১২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৭টি মামলার আসামি হয়ে দুবার কারাবরণ করেছি। এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত জেলে বসে দিয়েছি। অথচ আমাকে মূল্যায়ন না করে মূল্যায়ন করা হয়েছে জামায়াত-বিএনপি থেকে উঠা আসা ছেলেদের। তাই নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি।’

রাজনীতিতে আপনি থাকছেন কিনা এমন প্রশ্নে বলেন, ‘রাজনীতিতে ছিলাম, আছি, থাকব।’ নিজেকে খানিকটা শান্ত্বনা দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা প্রকৃত অর্থে সংগঠনকে ভালবেসে মনেপ্রাণে ছাত্রলীগটা করেন তাদের সমন্বয়েই পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কোনো জায়গায় যখন কোনো একটি ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয় তখন সবাইকে তো আর সমানভাবে খুশি করা সম্ভব হয় না। এই ক্ষেত্রে একটি অংশের মধ্যে নানান ধরনের মান অভিমান থাকবেই।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন উল্লেখ করে আরমিনের এমন কাণ্ডকে তার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে বন্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে ঘুরছে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ
ফরিদপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের ৩ জন গ্রেপ্তার
রিভাও তো মানুষ, ভুল করতেই পারে: তিলোত্তমা
শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিল ছাত্রলীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP meeting in Kondale

কোন্দলে বিএনপির সভা পণ্ড

কোন্দলে বিএনপির সভা পণ্ড নালিতাবাড়ীতে অন্তকোন্দলে বিএনপির পরিচিতি সভা পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
নালিতাবাড়ী থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, ‘বিএনপির দুই গ্রুপ একই স্থানে সভা ডাকায় গন্ডগোলের শঙ্কা দেখা দেয়। একারণে সেখানে সভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া মধুটিলা ইকোপার্ক বিনোদনের স্থান, সেখানে সভা-সমাবেশ করা ঠিক না।’

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অন্তকোন্দলে সংঘর্ষের শঙ্কায় বিএনপির সভা পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি পরিচিতি সভা ডাকে। একই স্থানে শ্রমিকদল সভা আহ্বান করায় সংঘর্ষের শঙ্কায় সব কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কমিটির পরিচিতি সভা করার জন্য ইউনিয়ন বিএনপি চিঠি বিতরণ করে।

চিঠিতে পোড়াগাঁও ইউনিয়ন শ্রমিকদলের নেতাদের নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারাও শ্রমিকদলের কমিটি পুনর্গঠনের জন্য একই স্থানে সভা ডেকে চিঠি দেয়।

বিকেলে উপজেলা বিএনপির নেতারা সভাস্থলে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কায় পুলিশ গিয়ে সভা পণ্ড করে দেয়।

এ বিষয়ে পোড়াগাঁও ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল মুন্সি বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের কমিটি পুনর্গঠনের জন্য মূলদলের আগেই ৩ অক্টোবর চিঠি বিলি করে সভা আহ্বান করি। আর মূলদলের চিঠিতে সভার তারিখ ছিল না।’

পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় একটু সমস্যার কারণে পরিচিতি সভা স্থগিত করা হয়েছে।’

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, ‘বিএনপির দুই গ্রুপ একই স্থানে সভা ডাকায় গন্ডগোলের শঙ্কা দেখা দেয়। একারণে সেখানে সভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া মধুটিলা ইকোপার্ক বিনোদনের স্থান, সেখানে সভা-সমাবেশ করা ঠিক না।’

আরও পড়ুন:
৯৬-এর আলোকে তত্ত্বাবধায়কের রূপরেখা করছে বিএনপি
কেবল বিদ্যুৎ নয়, সব কিছুতেই জাতি বিপর্যয়ে: ফখরুল
খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ ২২ অক্টোবর
দেবী দুর্গার আবির্ভাব সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায়: ফখরুল
সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্ব চান অলি

মন্তব্য

p
উপরে