× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
What is the guarantee that Mushtaq Saimra will not come again
hear-news
player
print-icon

‘মোশতাক, সায়েমরা আবার আসবে না, নিশ্চয়তা কী’

মোশতাক-সায়েমরা-আবার-আসবে-না-নিশ্চয়তা-কী
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বোয়াফ আয়োজিত ‘রক্তাক্ত আগস্ট ও মায়ের কান্না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ সামনে নিয়ে আসা না গেলে এখনও যে মোস্তাক জন্মাবে না, আবার যে জিয়া জন্মাবে না, আবারও যে জুডিশিয়ারি ইতিহাসের কলঙ্ক রচনাকারী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমরা আসবেন না এই গ্যারান্টি কিন্তু আমরা কেউ দিতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে এসেছেন বলে সাহস নিয়ে বিচার করেছেন। অন্যথায় এই বিচার হতো না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার এখনও হয়নি জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ সামনে নিয়ে আসতে হবে। সেটা সামনে আনা না গেলে এখনও মোশতাক, জিয়া, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমরা যে ফিরে আসবেন না এই গ্যারান্টি কিন্তু আমরা কেউ দিতে পারি না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) আয়োজিত ‘রক্তাক্ত আগস্ট ও মায়ের কান্না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সোমবার তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার এখনও হয়নি। তাই যাদের বিচার হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে এখনও অভিযোগপত্র হতে পারে বলে মনে করেন মন্ত্রী রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের যারা কুশীলব, তাদের সবার বিচার হয়নি। এই ঘটনায় যারা বেনিফিশিয়ারি তাদের বিচার হয়নি। বঙ্গবন্ধুকে প্রটেকশন দেয়ার জন্য সিভিল এবং ল ইনফোর্সমেন্ট এজেন্সির যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তারা কি ব্যর্থ হয়েছেন নাকি নিজেদের কচ্ছপের মতো গুটিয়ে রেখেছিলেন, তাদেরও বিচার করা হয়নি। তাই বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে অসম্পূর্ণ। পূর্ণাঙ্গ বিচার হয়নি।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এর সাব সেকশন টু এর স্মল বি অনুসারে, এখনো চার্জশিট হতে পারে। যারা মারা গেছে, তাদের বিচার হবে না, তবে ততটুকু দেখা যেতে পারে, তিনি জড়িত এই তথ্য পাওয়া গেছে। যেহেতু তিনি মারা গেছেন, তাই তার বিচার করা গেল না।’

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ সামনে নিয়ে আসা না গেলে এখনও যে মোস্তাক জন্মাবে না, আবার যে জিয়া জন্মাবে না, আবারও যে জুডিশিয়ারি ইতিহাসের কলঙ্ক রচনাকারী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমরা আসবেন না এই গ্যারান্টি কিন্তু আমরা কেউ দিতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে এসেছেন বলে সাহস নিয়ে বিচার করেছেন। অন্যথায় এই বিচার হতো না।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন অফিসার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ মোশতাক আহমেদসহ অন্যরাও জড়িত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ তিন দশকেও সে হত্যাকাণ্ডের বিচার আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত পাঁচজনের ফাঁসি হয়। অন্য আসামিরা এখনও দণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছে।

আলোচনায় আপিল বিভাগের (অবসরপ্রাপ্ত) বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আসামিদের বর্ণনা ও সাক্ষী অনুযায়ী যারা নাটের গুরু, তাদের বিচার হয়নি। এই মামলার নাটের গুরু ছিলেন জিয়া। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে জিয়া কোনো দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের চর। একাত্তরের পর থেকেই জিয়ার লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক স্বদেশ রায়, বীরপ্রতীক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সাংসদ নবী নেওয়াজ খাঁন, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের (বোয়াফ) সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটালেন প্রধান বিচারপতি
বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের পিতার মৃত্যু
সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারকের করোনা
অবসরের পর প্রধান বিচারপতির ভাতা ৭০ হাজার টাকা
বিচার বিভাগ শক্ত থাকলে শক্তিশালী হয় গণতন্ত্র: প্রধান বিচারপতি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Deputy Leader of Parliament Amu Tofail Matia in discussion

সংসদ উপনেতা: আলোচনায় আমু, তোফায়েল, মতিয়া

সংসদ উপনেতা: আলোচনায় আমু, তোফায়েল, মতিয়া আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান তিন নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরী।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, সংসদ উপনেতা হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি যেহেতু বাম রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন সে কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে উপনেতা না-ও করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বা তোফায়েল আহমেদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।

প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর পদটি পূরণ করাটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তার মৃত্যুতে সংসদে শূন্য হওয়া পদটিতে কে আসছেন তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেসব আলোচনায় সর্বাগ্রে রয়েছে দলের বর্ষীয়ান তিন নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরীর নাম।

ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা, দলে অবদান এবং সংসদে উপস্থিতির হার বিবেচনা করে এই পদে মনোনয়ন দেবেন দলের সভাপতি, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, সংসদ উপনেতা ইস্যুতে দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। দলের সভাপতি দেশে ফেরার পর তিনি সিনিয়র নেতাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

শাসক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, সংসদ উপনেতা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তি। তবে মতিয়া চৌধুরী যেহেতু বাম রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন, সে কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে উপনেতা না-ও করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বা তোফায়েল আহমেদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, সাজেদা চৌধুরীর জায়গায় মতিয়া চৌধুরী হতে পারেন সংসদ উপনেতা। সংসদে যে আসন বিন্যাস তাতে সাজেদা চৌধুরীর পরের আসনটি মতিয়া চৌধুরীর। এ ছাড়া ব্যক্তিজীবনে সৎ, নির্লোভ ও কর্মঠ মতিয়া চৌধুরী বেশ আগে থেকেই শেখ হাসিনার গুডবুকে রয়েছেন।

‘বিশেষ করে এক-এগারো সময়কালে মতিয়া চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয় এবং সাহসী। শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম রাজপথে নেমেছিলেন। ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভা থেকে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিনিয়র নেতাদের বাদ দেন, তখন একমাত্র মতিয়া চৌধুরীকে মন্ত্রিসভার মধ্যে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভাতেও তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই দায়িত্বে তিনি সাফল্যের স্বাক্ষরও রাখেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় বাদ পড়েন মতিয়া চৌধুরী। তার পরও তিনি দলে সক্রিয়। দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়ার পাশাপাশি দলের প্রায় সব কর্মসূচিতেই তার উপস্থিতি থাকে।

এ বিষয়ে মতিয়া চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করি না। দল যখন যে দায়িত্ব দেবে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। আর সংসদ উপনেতা নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির এক নেতা জানান, দল ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পর সংসদে উপস্থিতির ক্ষেত্রেও মতিয়া চৌধুরী এক-এগারোতে শেখ হাসিনা যখন জেলে ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মতিয়া চৌধুরী দল পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

অন্য দুই সিনিয়র নেতার মধ্যে আমির হোসেন আমু ১৪ দলের মুখপাত্র এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আর তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পর সম্প্রতি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, মন্ত্রী পদমর্যাদার সংসদ উপনেতার জন্য সংসদে অফিস রয়েছে। মন্ত্রীদের মতো সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেন সংসদ উপনেতা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Constitution is not a religious text that cannot be changed Nur

সংবিধান ধর্মীয় গ্রন্থ না যে পরিবর্তন করা যাবে না: নুর

সংবিধান ধর্মীয় গ্রন্থ না যে পরিবর্তন করা যাবে না: নুর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। ছবি: নিউজবাংলা
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ‘সরকারি দলের সিনিয়র নেতারা গোঁয়াড়ের মতো কথা বলছেন। তারা বলছেন যে সংবিধান থেকে এক চুল নড়া যাবে না। আপনারা বহু চুল নাড়িয়ে সংবিধানটাকে কাটা-ছেঁড়া করেছেন। জনগণ চাইলে এক চুল না বহু চুল আপনাদের নড়তে হবে।’

‘সংবিধান ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। যুগে যুগে কালে কালে সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে। এই সংবিধানের ১৭টা সংশোধনী ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। প্রয়োজনে আরও ১৭টা হবে।’

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর শনিবার এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংবিধান সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদ।

সভায় নুর বলেন, ‘সরকারি দলের সিনিয়র নেতারা গোঁয়াড়ের মতো কথা বলছেন। তারা বলছেন যে সংবিধান থেকে এক চুল নড়া যাবে না। আপনারা বহু চুল নাড়িয়ে সংবিধানটাকে কাটা-ছেঁড়া করেছেন। এখন বলছেন এক চুল নড়া যাবে না। জনগণ চাইলে এক চুল না বহু চুল আপনাদের নড়তে হবে। সংবিধানের ধারা পরিবর্তন হবে নাকি পুরো সংবিধান পরিবর্তন হবে সেই আলোচনা জোরেশোরে তোলা দরকার।’

ডাকসুর এই সাবেক ভিপি বলেন, ‘দেশের শিক্ষিত মহল, সুশীল সমাজ যারা দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিয়ে ভাবেন তাদের কনসার্ন এখন এই জায়গায়- দেশটা যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে এখান থেকে উত্তরণটা কীভাবে?

‘শুধু একটি নির্বাচন দিয়ে উত্তরণ সম্ভব নয়। এক দলকে ক্ষমতা থেকে ফেলে আরেক দলকে ক্ষমতায় নিলেও এই অবস্থার উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে যেভাবে কুক্ষিগত করেছে এবং সব জায়গায় যেভাবে দলীয়করণ করেছে তাতে করে একে ফেলে আরেকজনকে চেয়ারে বসিয়ে দিলে সে-ও একই চর্চায় এগিয়ে যাবে।

‘অবশ্যই আমরা এই সরকারের পরিবর্তন চাই। সঙ্গে সঙ্গে এই সরকার গত ১৩ বছরে যেভাবে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকিয়েছে সেটারও পরিবর্তন চাই।’

প্রশ্ন তুলে নুর বলেন, ‘এক পক্ষ রাস্তায় নামছে। আরেক পক্ষ পিটিয়ে নাক-মুখ ফাটিয়ে দিচ্ছে। আর পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। যাদের হাতে বন্দুক থাকার নিয়ম নেই তারাও সিনেমার স্টাইলে গুলি চালাচ্ছে। মানুষ মেরে ফেলছে। এই বর্বতার শেষ কোথায়?

‘বিরোধী দল প্রতিবাদ করবে। সেটা দেখার জন্য পুলিশ আছে। সরকার কেন হুমকি দেবে- রাজপথে দেখে নেয়া হবে, প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে?’

গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের বুড়ো রাজনীতিবিদদের ভাষা ছাত্র-যুব সংগঠনের মাস্তানদের মতো। তারা বলছেন- ফাইনাল খেলা তো তারা খেলতেই পারবে না লীগ খেলেই বিদায় হবে।

‘আপনারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে জুয়া খেলায় পরিণত করেছেন। সংসদকে ফান ক্লাব বানিয়েছেন। সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া, সংবিধান নতুন করে রচনা ছাড়া এ জাতির মুক্তি নেই।’

আরও পড়ুন:
জীবন দিয়ে হলেও সরকার হটাবেন নুর
নুরের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দিলেন না ফখরুল
‘বিএনপির হাতে ক্ষমতা দেয়া যাবে না’
নুরকে ঘিরে গণঅধিকার পরিষদে কোন্দল
জনগণের কাছে মাফ চেয়ে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন: নুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
National Parliament will be bicameral if BNP comes to power Rumin

বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষের: রুমিন

বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষের: রুমিন রাজশাহীতে এক সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: নিউজবাংলা
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এককক্ষীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতায় এলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। তাই আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হলে মৌলিক পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করি না। এর জন্য পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার মেরামত দরকার। তাই সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গড়ে তুলব।’

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

রাজশাহীতে ‘জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপরবর্তী জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ অপরিহার্য’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের আয়োজনে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর একটি হোটেলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশে ধ্বংস করা হয়েছে নির্বাচনব্যবস্থা, ধ্বংস করা হয়েছে সমাজের মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দলীয়করণ করা হয়েছে।

‘এককক্ষীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতায় এলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। তাই আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হলে মৌলিক পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করি না। এর জন্য পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার মেরামত দরকার। তাই সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় আন্দোলন এবং একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের আন্দোলন কখনই এক রকম হয় না। আওয়ামী স্বৈরশাসক পুলিশ না থাকলে কতক্ষণ মাঠে টিকে থাকবে সেটিই বড় প্রশ্ন।’

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এখন সময়ের দাবি। পৃথিবীর উন্নত ও অনুসরণযোগ্য অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রচলন রয়েছে। তাই বাংলাদেশে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গড়ে তোলা জরুরি।’

বাংলাদেশে নির্বাচনব্যবস্থা এরই মধ্যে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিডিয়া সেল সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

সঞ্চালনা করেন সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার বদলা: ফখরুল
‘গুলিতে নিহত শাওনের চিকিৎসায় বাধা দেয় ছাত্রলীগ ও পুলিশ’
সশস্ত্র মিছিল ও হামলায় ছাত্রলীগ, মামলা বিএনপির বিরুদ্ধে
সরকার চেষ্টা করেও বিএনপিকে দুর্বল করতে পারেনি: মোশাররফ
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two Jamaat leaders arrested jihadi books recovered

দুই জামায়াত নেতা আটক, জিহাদি বই উদ্ধার

দুই জামায়াত নেতা আটক, জিহাদি বই উদ্ধার আটক জামায়াত নেতাকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ বলেন, ‘বই দোকানকে জেলা জামায়াতের কার্যালয় বানানো হচ্ছে। এটি জামায়াতের কার্যালয় বা অফিস নয়।  এটি একটি বইয়ের দোকানমাত্র। ওই দোকানের মালিক সুমন। যেটার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সর্ম্পক নেই।’

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই জামায়াত নেতাকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় সদর থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক ও হাজিরহাট ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আবদুর রহমান ও জেলা জামায়াত কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. সুমন।

তবে জামায়াতের দাবি, তাদের কোনো কার্যালয় নেই, পুলিশ একটি বইয়ের দোকানকে তাদের কার্যালয় বলে দাবি করেছে।

পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুর দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় মক্কা হোটেলের পেছনে টিনশেডের একটি সেমি পাকা ভবনে নিবন্ধন হারানো দলটি জেলা কার্যালয় নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হয় বলে খবর ছিল।

বিকেলে সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল হক ও এসআই হাবিব এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালান।

দুজনকে আটকের পাশাপাশি কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, চাঁদা আদায়ের রসিদ ও খরচের রসিদ জব্দ করে পুলিশ।

কয়েকজন সদস্যের পূরণ করা ফরমও উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ বলেন, ‘বই দোকানকে জেলা জামায়াতের কার্যালয় বানানো হচ্ছে। এটি জামায়াতের কার্যালয় বা অফিস নয়। এটি একটি বইয়ের দোকানমাত্র। ওই দোকানের মালিক সুমন। যেটার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আবদুর রহমান ওই দোকানের পাশে ভাড়া থাকেন। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের ওই নেতা। আটক ব্যক্তি মাদ্রাসার শিক্ষক বলেও জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল জেলা জামায়াত। তারা সেখানে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।’

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ভিন্ন নামে এলেও জামায়াতের ‘নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই’
বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
বিএনপিকে ‘ছেড়ে গেছে’ জামায়াত, মন্তব্য নেই ফখরুলের
বিএনপি-জামায়াতের সুরে কথা বলছে বামপন্থিরা: আমু
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জামায়াতের মিছিল, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Talking about putting people in power not BNP Fakhrul

বিএনপি নয়, জনগণকে ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি: ফখরুল

বিএনপি নয়, জনগণকে ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি: ফখরুল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শাওন, আব্দুর রহিম ও নুর আলমের মৃত্যুতে জনমানুষের যে দাবি উঠেছে, যে আন্দোলন-অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি না। দেশ রক্ষার কথা বলছি। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি। কারণ ক্ষমতার মালিক জনগণ। তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চাই। মানুষের জীবনের অধিকার চাই, নিরাপত্তা চাই।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যুবদল নেতা শাওনের মৃত্যুর প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী যুবদল এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। কথায় কথায় গুলি করবেন, কথায় কথায় ফেলে দেবেন, আগুন জ্বালিয়ে দেবেন- দেশের মানুষ আর সহ্য করবে না।

‘আসুন, সব রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন করে তুলি। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করি।’

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার কথা, এখনও সময় আছে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং তাদের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট গঠিত হোক।’

ফখরুল বলেন, ‘রক্ত ঝরিয়ে, ভয় দেখিয়ে, খুন করে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায়। মুন্সীগঞ্জে তারা শাওনকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা বিএনপি নেতার কারখানা জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেখানে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এভাবে সারা দেশে ত্রাস সৃষ্টি করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ছয় শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

‘শাওন, আব্দুর রহিম ও নুর আলমের মৃত্যুতে জনমানুষের যে দাবি উঠেছে, যে আন্দোলন-অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজ শাওনের বাবার কণ্ঠে আমরা আহাজারি শুনিনি, তার চোখে অশ্রু দেখিনি। তার চোখে আগুন দেখেছি। বজ্র কণ্ঠে তিনি বলছেন- আমি আপোষ করব না।

‘শাওনের বাবাকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাকে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে- তুমি বলো যে পেছন থেকে ইটের আঘাতে সে (শাওন) মারা গেছে। তুমি বলো তাকে বিএনপির লোকেরাই মেরেছে।

‘শাওনের ডেথ সার্টিফিকেটে পরিষ্কার করে বলা বলা হয়েছে যে ম্যাসিভ ব্রেইন ইনজুরি ডিউ টু গান শট। বন্দুকের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শাওনের বাবা তোয়াব বলেন, ‘আমার ছেলে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে নিহত হয়েছে। যারা আমার সন্তানকে হত্যা করেছে তারা জনগণের অধিকারকে হত্যা করেছে। আমাকে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। আপনারাই আমার ভরসা। আপনারা আমার পাশে থাকলে কোনো শক্তিকেই আমি ভয় পাই না।’

যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞায় র‍্যাব: ফখরুল
সংঘর্ষের মামলায় ৩ নম্বর আসামি শাওন
যুবদল কর্মী শাওনের দাফন
সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার বদলা: ফখরুল
‘গুলিতে নিহত শাওনের চিকিৎসায় বাধা দেয় ছাত্রলীগ ও পুলিশ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Status of media is like walking in wheelchair Gayeshwar

গণমাধ্যমের অবস্থা হুইল চেয়ারে চলার মতো: গয়েশ্বর

গণমাধ্যমের অবস্থা হুইল চেয়ারে চলার মতো: গয়েশ্বর শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা
গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দেশ থেকে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। যারা এই টাকাটা পাচার করেছে তারা তা আয় করেছে। এই আয়টার নামই লুটপাট। আর সেটা করা হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র একে অন্যের পরিপূরক। দেশে এখন এর কোনোটাই নেই। গণমাধ্যমের অবস্থা এখন হুইল চেয়ারে চলার মতো।

‘গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর রায় বলেন, ছোট্ট একটা দেশ থেকে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। যারা এই টাকাটা পাচার করেছে তারা তা আয় করেছে। এই আয়টার নামই লুটপাট। আর সেটা করা হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

‘বড় বড় প্রকল্প করছে। করোনার সময়ে ৫০ টাকার জিনিসও ৫০০ টাকায় কেনা হয়েছে। আর বালিশ-পর্দার কথা তো সবাই জানে। আজকের সরকার আলিবাবা চল্লিশ চোরকেও হার মানিয়েছে। তারা চুরি করছে, লুটপাট করছে, ডাকাতি করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সংবাদপত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে বিরোধী দলের চেয়েও তারা অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে সরকারকে বেশি চাপে রাখতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সমালোচিত, বিরোধী দলে থাকলেও সমালোচিত। ক্ষমতাসীন দলের লোকদের প্রশংসা ব্যতীত অন্য কথা বললেই কারও হাত-পা কাটা যায়, কেউ গুম হয়ে যায়। বিএনপির বিরুদ্ধে লিখলে আর যাই হোক এগুলো হয় না।’

আরও পড়ুন:
বিএনপি ভোটে চলে যায় কি না, সন্দেহ গয়েশ্বরের
যে কদিন আছেন চুপচাপ বসে থাকেন, চা-টা খান: ইসিকে গয়েশ্বর
বিএনপি খুনির দল না, ভয় পাবেন না: আ.লীগকে গয়েশ্বর
পদ্মা সেতু জীবনের নিরাপত্তা দেয় না: গয়েশ্বর
যেনতেনভাবে নির্বাচন করতে দেব না: গয়েশ্বর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ban on RAB for obeying governments unjust orders Fakhrul

সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞায় র‍্যাব: ফখরুল

সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞায় র‍্যাব: ফখরুল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সহস্রাধিক মানুষকে তারা হত্যা করেছে। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং করেছে। সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে গিয়ে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা পড়েছে। সাতজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা পড়েছে, যা নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা নির্দেশদাতা। সবার আগে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসা প্রয়োজন।’

‘এলিট ফোর্স র‍্যাব, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে যারা এক সময় দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়েছিল। এই সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে গিয়ে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা পড়েছে। এই নির্দেশদাতাদের ওপরই আগে নিষেধাজ্ঞা আসা প্রয়োজন ছিল।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষে বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শাওন আব্দুর রহিম নূরে আলমের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া যাবে না। তাদের রক্তের প্রতি সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, ভালবাসা জানাতে চাই। আর সেজন্য এই ভয়াবহ দানব সরকারকে প্রতিহত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র হরণকারীরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন লজ্জা-ধিক্কার ছাড়া কিছুই আশা করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন- যুদ্ধ চাই না, নিষেধাজ্ঞা চাই না। কেউ চায় না যুদ্ধ, কেউ চায় না নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তার (প্রধানমন্ত্রী) মুখে এটা মানায় না। তিনি নিজে এই দেশে হত্যার সঙ্গে জড়িত।

‘গুম হয়ে গেছে আমাদের ছয় শতাধিক মানুষ। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম থেকে শুরু করে আমাদের ছাত্রদলের অসংখ্য ছেলে গুম হয়ে গেছে। মা-বাবা জানেন না তারা কোথায়। শত শত মানুষকে থানায় নিয়ে গিয়ে তারা পঙ্গু করে দিয়েছে।

‘সহস্রাধিক মানুষকে তারা হত্যা করেছে। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং করেছে। সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে গিয়ে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা পড়েছে। সাতজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা পড়েছে, যা নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা নির্দেশদাতা। সবার আগে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসা প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে জনগণ দিয়ে দিয়েছে। মানুষ বলে দিয়েছে- তোমাদেরকে আর দরকার নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে। আর তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। এজন্য তরুণদের জেগে উঠতে হবে, দেশের মানুষকে জেগে উঠতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আগে উন্নয়নের কথা খুব বেশি বলত; এখন একটু কম বলে। উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না যদি সেখানে গণতন্ত্র না থাকে। আর গণতন্ত্র কখনোই ফলপ্রসূ হবে না, যদি সেখানে পাল্টা পার্টির সিস্টেম না থাকে এবং মানুষ ভোট দিতে না পারে।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘একজন ছাড়া কোনো ব্যক্তি নেই বাংলাদেশে। এক ব্যক্তির শাসন, এক ব্যক্তির মতবাদ, এক ব্যক্তির সব। কিন্তু এ ধরনের কর্তৃত্ববাদ, এ ধরনের ফ্যাসিবাদ কখনোই টেকে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গত ১৪ বছরে যারা সরকারে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে। বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাস বিকৃত করে শুধু তাদের স্বার্থে নতুন করে ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা করছে।

এর আগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতায়‌ বিজয়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
‘গুলিতে নিহত শাওনের চিকিৎসায় বাধা দেয় ছাত্রলীগ ও পুলিশ’
সরকার চেষ্টা করেও বিএনপিকে দুর্বল করতে পারেনি: মোশাররফ
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু
চাকরি থাকবে না, প্রশাসনের প্রতি গয়েশ্বর
বিএনপি নেতার কারখানায় আগুন কীভাবে

মন্তব্য

p
উপরে