× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
A BNPR has divorced Ga Maya
hear-news
player
print-icon

একজন বিএনপিরে তালাক দিয়া গেছেগা: মায়া

একজন-বিএনপিরে-তালাক-দিয়া-গেছেগা-মায়া
জাতীয় শোক দিবস স্মরণে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ছবি: নিউজবাংলা
বিএনপির জোট থেকে জামায়াতের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে মায়া বলেন, ‘আজকে কিন্তু বিএনপিরে তালাক দিয়া একজন গেছেগা। হেরা বলে আগেই আমরা তালাক দিয়ে দিছি। বুঝলেন তো কারা?’ তখন সভাস্থল থেকে শ্রোতারা চিৎকার করে ‘জামায়াত’ বললে মায়া বলেন, ‘হেগো নাম আমি মুখে আনতে চাই না।’

বিএনপির সঙ্গে জামায়াত আর জোটবদ্ধ নয় বলে দলটির আমির শফিকুর রহমান একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তাকে তালাকের সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিরে তালাক দিয়া একজন গেছেগা।’

শফিকুর গত শনিবার কুমিল্লায় জামায়াতের একটি ইউনিটের সঙ্গে আলোচনায় যে বক্তব্য রাখেন, তা গণমাধ্যমে বড় খবর হয়ে আসে পরদিন। যদিও বিএনপি এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি এখনও আসেনি, তার পরেও রাজনীতিতে বিষয়টি তোলপাড় তুলেছে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতা। জাতীয় শোক দিবস স্মরণে এই সভার আয়োজন করে ১৪ দলের শরিক গণআজাদী লীগ।

বিএনপির জোট থেকে জামায়াতের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে মায়া বলেন, ‘আজকে কিন্তু বিএনপিরে তালাক দিয়া একজন গেছেগা। হেরা বলে আগেই আমরা তালাক দিয়ে দিছি। বুঝলেন তো কারা?’

তখন সভাস্থল থেকে শ্রোতারা চিৎকার করে ‘জামায়াত’ বললে মায়া বলেন, ‘হেগো নাম আমি মুখে আনতে চাই না।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হয় জামায়াত ও বিএনপি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং আজিজুল হকের ইসলামী ঐক্যজোট।

প্রথমে এরশাদ ও পরে আজিজুল হক জোট ছেড়ে দেন। তবে সমালোচনার মধ্যেও জামায়াতকে বিএনপি কখনও ছাড়তে রাজি হয়নি।

দুই বছর পর যে জাতীয় নির্বাচন হয়, তাতে এই জোটের ভূমিধস জয়ের পেছনে দুই দলের ভোট যোগ হওয়াই ছিল প্রধান কারণ।

তবে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবার জামায়াত সঙ্গ বিএনপির জন্য নেতিবাচক হিসেবেই ধরা দেয়। ওই নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বড় হয়ে ওঠার পর বিএনপি-জামায়াত জোটের ভরাডুবি হয়। স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে সঙ্গী করে ভোটে নেমে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী অবস্থানেও বড় ব্যবধানে হেরে যায় বিএনপি।

ওই নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি কমিটি গঠন করা হয় বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনার জন্য। এর মধ্যে ৯টি কমিটিই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধতাকে দায়ী করে, যা ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিমত।

নির্বাচনের পর বিএনপির তরুণ নেতারাও প্রকাশ্যেই দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দাবি তোলেন।

তবে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবং নির্বাচনের পর সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে জামায়াতকে নিয়েই যোগ দেয় বিএনপি। আর ব্যাপক সহিংসতার পর বিএনপি নেতারা নানাভাবে জামায়াতকে দায় দেন।

ওই নির্বাচনের পর একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট কৌশলগত। সময় এলেই তিনি জামায়াতকে ত্যাগ করবেন।

এসব ঘটনায় আবার জামায়াত মনঃক্ষুণ্ন হয় বিএনপির প্রতি। যদিও তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য আসেনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচারের সময় বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতাও পায়নি জামায়াত। এ নিয়েও খেদ আছে দলের নেতাদের মধ্যে।

বিএনপি চারদলীয় জোট সম্প্রসারণ করে পরে ২০-দলীয় জোট গড়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আরও একটি জোট তারা করে গত সংসদ নির্বাচনের আগে।

এর মধ্যে বিএনপির জামায়াত ছাড়ার প্রসঙ্গ নানা সময়ই এসেছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সময় এলে তারা জামায়াতকে ছেড়ে দেবেন।

এর মধ্যে ২০২১ সালের শুরুতে বিএনপি এই জোট ত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে আর গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি।

জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে জামায়াতের পাঁচ শতাংশের আশপাশে ভোট আছে। আর আওয়ামী লীগকে মোকাবিলায় এই ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে আসছিল বিএনপি।

মায়া কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে অপারেশন ক্র্যাক প্লাটুনের এই বীর যোদ্ধা বলেন, আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করি, তখনই জিয়াউর রহমানরা কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষে ভেতরে ভেতরে কাজ করতে ছিলেন। তারা পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ঘাপটি মারা অবস্থায় ছিলেন।

‘জিয়াউর রহমানরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। এরপরে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। এ হত্যার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান তার হাতকে রক্তে রঞ্জিত করেছেন। এরপরও যখন তারা দেখল তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে না, তখন তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যার সঙ্গে সরাসরি জিয়াউর রহমান জড়িত।’

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হতো না। আজকে তিনি ক্ষমতায় আছেন বলেই তাদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) ওপর ১৯ বার হামলা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে যে কারণে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক একই কারণে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বিএনপিকে ‘ছেড়ে গেছে’ জামায়াত, মন্তব্য নেই ফখরুলের
বিএনপি নেতাদের বেশির ভাগ রাজাকার পরিবারের: হানিফ
মধ্যরাতে চার বিএনপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব
বিএনপি-জামায়াতের সুরে কথা বলছে বামপন্থিরা: আমু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Sajeda Chowdhurys by election on November 5

সাজেদা চৌধুরীর আসনে ভোট হবে ইভিএমে

সাজেদা চৌধুরীর আসনে ভোট হবে ইভিএমে সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি সচিব বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১০ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর।’

আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সংসদীয় আসন ফরিদপুর-২-এর উপনির্বাচন হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএমে) একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অষ্টম কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তফসিল ঘোষণা করেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ইসি সচিব বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১০ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর।’

এই ভোটে খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাজেদা চৌধুরীর আসন শূন্য ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Disqualification of candidature if other is obstructed EC

অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি

অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আছে।’

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করা হলে বা বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ না এলে কীভাবে ব্যবস্থা নেব? সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে তো অভিযোগ করতে হবে কিংবা গণমাধ্যমে বিষয়টি এলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’

একজন প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পেপার কাটিং পেয়েছি, এই যে দেখলাম। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ, এখন আর কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আছে।’

সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জনশুমারির প্রাথমিক তথ্য নিয়ে আলোচনা করছি, চূড়ান্ত তথ্য পাইনি। চূড়ান্ত তথ্য পেলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ফেলব। নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে বসব। কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে বসতে হবে।

‘আমরা জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এ কাজটা করি। ওই সফটওয়্যারটা পুরোনো হয়ে গেছে, এটা আবার নতুন করে করতে হবে। আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় করে দিয়েছিল, ওরাই আবার করে দেবে।’

আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। রোববার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৬ সেপ্টেম্বর হবে প্রতীক বরাদ্দ।

দেশের ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে ১৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১ হাজার ৯৮০ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৫০ জন প্রার্থী আছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন অন্তত ২২ জন চেয়ারম্যান ও দুজন সাধারণ সদস্য।

আরও পড়ুন:
৩৩ বছরেও হয়নি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২২ জন
জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An opposition MP has asked the EC for EVMs

বিরোধিতাকারী এক এমপি ইসির কাছে ইভিএম চেয়েছেন

বিরোধিতাকারী এক এমপি ইসির কাছে ইভিএম চেয়েছেন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘১২ কোটি ভোটারের পরিপূর্ণ আস্থা আছে। হয়তো রাজনৈতিক কৌশল আছে। তবে তাদেরও অন্তরে আছে, মুখে নেই। কারণ অনেক দলই বিপক্ষে কথা বলছে, কিন্তু আমাদের কাছে এসে পক্ষে বলেছেন। একটি দলের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য আমাদের কাছে এসে লিখিত দরখাস্ত করেছেন তার এলাকায় ইভিএম দেয়ার জন্য। কাজেই এটা অন্তরে আছে, ওনারা ইভিএম বিশ্বাস করেন।’

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরোধিতাকারী একজন সংসদ সদস্য তার এলাকায় ভোটগ্রহণে এই যন্ত্র দেয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

সেই সংসদ সদস্যের নাম অবশ্য প্রকাশ করেননি তিনি। বলেছেন, ভোটাররাও এই যন্ত্রের বিরোধী না। কিছু দল রাজনৈতিক কারণে বিরোধিতা করছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর এসব কথা বলেন।

এই কমিশনার আরও বলেন, ‘১২ কোটি ভোটারের পরিপূর্ণ আস্থা আছে। হয়তো রাজনৈতিক কৌশল আছে। তবে তাদেরও অন্তরে আছে, মুখে নেই। কারণ অনেক দলই বিপক্ষে কথা বলছে, কিন্তু আমাদের কাছে এসে পক্ষে বলেছেন।

‘একটি দলের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য আমাদের কাছে এসে লিখিত দরখাস্ত করেছেন তার এলাকায় ইভিএম দেয়ার জন্য। কাজেই এটা অন্তরে আছে, ওনারা ইভিএম বিশ্বাস করেন।’

‘সব দল ভোটে আসবে’
ইভিএম নিয়ে বিতর্ক বা অন্য কোনো কারণে কোনো দল ভোট বর্জন করবে না বলে বিশ্বাস করেন মো. আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘৩৯টি দলই যে আছে, তারা সকলেই আসবে বলে আশা করি।...

ইভিএম ব্যবহারের কারণে কোনো দল নির্বাচন বয়কট করবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।’

নির্বাচন কমিশন ভোটে পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকবে বলেও নিশ্চয়তা দেন মো. আলমগীর। বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে অন্য দলের সঙ্গে নির্বাচন করবে অথবা অন্য একটি দলকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য অংশগ্রহণ করবে না... আমরা অবশ্যই ভোটের পরিবেশ তৈরি করব। আমাদের ভেতরে ও বাহিরে এক। আলাদা নেই কিছু।

‘রোডম্যাপে আমরা আমাদের চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার কথা উল্লেখ করেছি। কোনো কমিশনই কি এর আগে তা করেছে?

‘আমরা কনফিডেন্ট এই জন্য যে, এই রোডম্যাপ আমরা বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করলে সবাই আসবে।’

‘না দেখেই সমালোচনা, ভোটের তথ্য থাকবে এক বছর’
ইভিএম নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তারা না দেখেই কথা বলছেন বলেও মনে করেন মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘হয়তো জীবনে কোনোদিন দেখেনওনি, তারা টিভিতে কথা বলছেন। যারা পক্ষে বলছেন তারাও ভুল বলছেন।’

ইভিএমবিরোধীদের নানা সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। বলেন, ‘ইভিএমে ওভাররাইট করার সুযোগ নেই। এখানে ওভাররাইটের বিষয় নেই। কারও আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তার আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তার আগে তার পরিচিতি এনআইডি নম্বর দিয়ে শনাক্ত করা হবে। অথচ টক শোতে বলছেন ওভাররাইট করা যায়। অনেকে বলছেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এটাকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারেন।’

ইভিএম পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ আছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যেই চাইবেন আপনাদের সেটাই পরীক্ষা করতে দেব, দেশে-বিদেশের এক্সপার্ট নিয়ে আসেন, দেখেন।’

এই মেশিনে ভোট নেয়ার এক বছর সব উপাত্ত থাকে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার। বলেন, এর ফলে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এলে মামলা করা যায়।

তিনি বলেন, ‘বলা হয়, মামলা হলে কীসের ভিত্তিতে হবে। ভিপি ট্রেইল তো নেই। আমাদের ইভিএমে এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আছে। সেখানে এক বছর পর্যন্ত সিলগালা অবস্থায় থাকবে। এখানে থেকে কোন মার্কায়, কখন ভোট পড়েছে, কত ভোট পড়েছে সব প্রিন্ট করা যাবে।’

ভোটাররা ইভিএমে বিশ্বাস করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথাও দেখেছেন এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে, মিছিল করতে?

‘তারা তো ইভিএম দেখেনইনি। যারা লিখছেন তারা তো ইভিএম দেখেনইনি, শোনেনওনি। তার পরও লিখে ফেলছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পারলে ৩০০ আসনেই করতাম। ওই বললাম টাকা নাই। আবার ট্রেনিং শেষ করতে হবে। আমরা যদি আরও দুই বছর আগে আসতাম তাহলে ৩০০ আসনে করতাম।’

কারও বক্তব্য পাল্টায়নি ইসি
ইভিএম নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় তাদের বক্তব্য পাল্টে দেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও নাকচ করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘একটি বড় দল, তার সঙ্গে আরও চারটি দল সরাসরি চেয়েছে। শর্তসাপেক্ষে আরও, সব মিলিয়ে ১৭টি দল চাচ্ছে। তবু বলা হচ্ছে ইভিএম নিয়ে মতামত পাল্টে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা লিখলেন, তারা কি প্রমাণ করতে পেরেছেন?’

ইভিএমে খরচ একবারই
ইভিএম কিনতে বিপুল টাকা খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই যন্ত্র লাভজনক বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘একটা ব্যালট কিন্তু ছাপাতে হয়, ক্যারি করতে হয়, প্রচুর খরচ আছে। ইভিএমে একবার খরচ হয়।

‘এটা কিন্তু আমরা নানা নির্বাচনে ব্যবহার করি। ওই মামলা করার জন্য যে সময় থাকে, ওই সময় পর্যন্ত আমরা ওই ইভিএমটা রেখে দিই। সেই সময় শেষ হলেই কেবল আরেকটা নির্বাচনে ওই ইভিএমটা ব্যবহার করি।

‘ইভিএমে লাইফ টাইম ২০ বছর পর্যন্ত আছে। এটা আমাদের তো কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও ব্যবহার করছি। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করেছি। এই কমিশন আসার পর একটা নির্বাচনও ব্যালটে করিনি।’

ভোট নিয়ে আসছে ইসির অ্যাপ
নির্বাচন ব্যবস্থার নানা তথ্য উপাত্ত নিয়ে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে যাচ্ছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন। সবার জন্য উন্মুক্ত এই অ্যাপের নাম রাখা হতে পারে ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ’।

এই অ্যাপে আট ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। তবে অ্যাপ তৈরি বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে যা কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বলে জানান এক কমিশনার।

ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ তৈরি আগ্রহ প্রকাশ করে কমিশনার আলমগীর বলেন, ‘এতে আট ধরনের তথ্য থাকবে। কার ভোট কোন কেন্দ্রে, প্রার্থী কারা, নির্বাচনি এলাকার ম্যাপ, কোথায় কত ভোট পড়ল ও তার গ্রাফ, ফিগার; কোন প্রার্থী কোথায় এগিয়ে থাকল, সেগুলো থাকবে। কে জিতল সাথে সাথে জানতে পারবে। এটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।’

এজন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যাচাই করে মতামত দেবে।’

তবে এই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে বসব। কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন হয়েছে। সেগুলো নিয়ে বসতে হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Alleged gang rape of women candidate arrested 5 accused

নারী প্রার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ আসামিই গ্রেপ্তার

নারী প্রার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ আসামিই গ্রেপ্তার প্রতীকী ছবি
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, ‘আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে তিনি বাগমারা উপজেলায় যান। প্রচারণা শেষ হতে রাত হয়ে যায়। বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ ব্যক্তি তার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

আসন্ন রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে বাগমারা উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের এক প্রার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোটের প্রচারণা চালাতে গিয়ে ওই প্রার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী প্রার্থী ধর্ষণের পরের দিন ৮ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে জেলার বাগমারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

এই মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন বাগমারার সাইধারা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুর রহমান, আকবর হোসেন, বাহমনীগ্রামের সোহেল রানা, দুলাল হোসেন ও ফজলুর রহমান।

ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী প্রার্থী বলেন, ‘বাগমারার আউসপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গেলে আমাকে একটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরের দিন ৮ সেপ্টেম্বর আমি থানায় ধর্ষণ মামলা করি।

‘এরপর ওই দিনই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হই। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমি ওসিসিতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরি। এরপর আবারও আমি নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে শুরু করি। প্রচারণা এখনও অব্যাহত রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের পর থেকে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত আছি। কিন্তু মামলার পর শেষ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করায় আমি সন্তুষ্ট। যারা আমার সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, ‘আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে তিনি বাগমারা উপজেলায় যান। প্রচারণা শেষ হতে রাত হয়ে যায়। বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ ব্যক্তি তার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তিনি চিকিৎসা নেন।’

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গত শুক্রবার বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন শনিবার তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ধর্ষণের কথা স্বীকারও করেছে। ভুক্তভোগী নারী ওসিসিতে ভর্তি ছিলেন। এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আরও বিস্তারিত জানানো যাবে।

আরও পড়ুন:
নদীতে বল আনতে গিয়ে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ কিশোর
স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, কারাগারে ৩
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ-হত্যা দলিত ২ বোনকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
EC is removing Chittagong DC Mominur

চট্টগ্রামের ডিসিকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিচ্ছে ইসি

চট্টগ্রামের ডিসিকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিচ্ছে ইসি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন। ওনাকে আমরা রাখব না। সরিয়ে দেব।’

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী সময়ে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে বলে জানান এক কমিশনার।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বেগম রাশেদা সুলতানা এমন মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে আবারও ক্ষমতায় আসেন, সে জন্য গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান নিজ কার্যালয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এ জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীরও দোয়া করা উচিত বলেছেন তিনি। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর জয় চেয়েও মোনাজাত করেন।

জেলা পরিষদের ভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এই ডিসির পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান কমিশনার রাশেদা সুলতানা।

ইসি রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন। ওনাকে আমরা রাখব না। সরিয়ে দেব।’

তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন বলে জানান এই কমিশনার। বলেন, ‘এ জন্য তদন্ত হতে হবে। এটা লঘু শাস্তি নয়। এই মুহূর্তে করণীয় একটাই, তাকে সরিয়ে দেয়া। পরবর্তী সময়ে পরেরটা দেখা যাবে। এখন কাজ হলো উনাকে সরিয়ে দিয়ে উপযুক্ত অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘বিদ্রোহী যারা আসছে তারা একই দলেরই। দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ নির্বাচন নাই। তারপর প্রশাসক আসল। এই অবস্থায় তো চলা যায় না। প্রশাসক আর নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে কিন্তু অনেক পার্থক্য আছে। মন্ত্রণালয় থেকে বলার পর আমরা নির্বাচন দিলাম। আমাদের কাজ শুধু নির্বাচনটা নামানো। আমরা চাচ্ছি সবাই নির্বাচনে আসুক। কিন্তু কেউ যদি না আসে, কেমন করে তাদের আমরা আনব।’

এই কমিশনার বলেন, ‘দেশে অনেক ঘটনাই ঘটছে, তা কারোই আকাঙ্ক্ষিত নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নয়। কিন্তু অলিখিতভাবে অনেক কিছু হয়ে যায়। এটা বন্ধ করা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোরই কাজ। এটা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে এখন আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এসব কিন্তু আমরা আমলে নেব না। ইতিপূর্বেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
বন্ধ রোজ হ্যাভেনের অনিয়ম, ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি
ইসির রোডম্যাপে ১৪ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ১৯ পরিকল্পনা
জ্বরে ভুগছেন সিইসি
গাইডওয়ালে পলিথিনের বদলে কলাপাতা, জানতেন কাউন্সিলর
জাতীয় নির্বাচনে ইসির রোডম্যাপ বুধবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chairman of 19 Zilla Parishad is unopposed

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হচ্ছেন ১৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হচ্ছেন ১৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সিগঞ্জে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল। ছবি: নিউজবাংলা
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৬১ জেলার এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৬২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১ হাজার ৯৮৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে দেশের ১৯ জেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

৮ বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের সংখ্যাই বেশি। এ বিভাগে ৬ জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগ। দুই বিভাগেই তিনটি জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা একক প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৬১ জেলার এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৬২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১ হাজার ৯৮৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এদে মধ্যে চেয়ারম্যার পদে এক জন করে প্রার্থী রয়েছে ১৯ জেলায়।

যে ১৯ জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত: ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর; বরিশাল বিভাগে ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, রাজশাহী বিভাগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ; রংপুর বিভাগে লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুর ও ফেনী; সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও সিলেট এবং খুলনা বিভাগে বাগেরহাটে কোনো ভোট হচ্ছে না।

তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর।

আপিল নিষ্পত্তি হবে ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর। আর ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই এই নির্বাচনের ভোটার।

আরও পড়ুন:
৬১ জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা
দেশের ৬১ জেলা পরিষদে নির্বাচন ১৭ অক্টোবর
ডাস্টবিন নির্মাণে অনিয়ম, পালিয়েছেন ঠিকাদার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sajeda Chowdhurys seat is declared vacant

সাজেদা চৌধুরীর আসন শূন্য ঘোষণা

সাজেদা চৌধুরীর আসন শূন্য ঘোষণা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী: ফাইল ছবি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদের-২১২ ও ফরিদপুর-২ আসনটি ওই দিন (১১ সেপ্টেম্বর) শূন্য হয়েছে।

সদ্য প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নির্বাচনি আসন শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়।

সাজেদা চৌধুরীর নির্বাচনি এলাকা ফরিদপুর-২ আসনকে শূন্য ঘোষণা করে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদের-২১২ ও ফরিদপুর-২ আসনটি ওই দিন (১১ সেপ্টেম্বর) শূন্য হয়েছে।

এই আসনে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর) থেকে বিজয়ী হন।

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ আমলে তিনি বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যান।

তাকে সোমবার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাজেদা চৌধুরী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র নারী নেত্রী: জাফরুল্লাহ
‘একজন সত্যিকার অভিভাবক হারালাম’
শহীদ মিনারে সাজেদা চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা
ফরিদপুরে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রথম জানাজা
বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদা চৌধুরীর প্রয়াণ

মন্তব্য

p
উপরে