চা শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির বাইরে সুযোগ-সুবিধা হিসেবে যে খাদ্যসহায়তা পান, সেটি কেবল চাল ও আটার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার কোথাও কোথাও কেবল পাঁচ বছর ধরে টানা আটা দেয়ার তথ্য মিলেছে।
নিম্ন মজুরির কারণে এই চাল বা আটার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর অন্য খাবারগুলো জোগাড় করতে না পারায় শ্রমিক এবং তার শিশুদের ভগ্ন-স্বাস্থ্যের বিষয়টি সরকারি জরিপেই উঠে এসেছে।
আবার এই রেশনের বিষয়টি শর্তমুক্ত নয়। চাষের জন্য যাদের জমি ইজারা দেয়া হয়, তাদের দেয়া হয় না রেশন, মাঝেমধ্যে ‘শাস্তি’ দিতে বন্ধ রাখা হয় এই সুবিধা।
অথচ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি ওঠার পর মালিকদের পক্ষ থেকে বারবার বেতনের বাইরে অন্য সুযোগ-সুবিধাগুলোর মধ্যে বারবার রেশনের বিষয়টি তোলা হয়।
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি পূরণ হয়নি। তবে ‘মা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিক করে দেয়া ১৭০ টাকা মেনে নিয়ে কাজে ফিরেছেন। বলা হচ্ছে, এই মজুরির মতো আনুপাতিক হারে বাড়বে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, যে কারণে একেক জন শ্রমিক দিনে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পাবেন।
তবে এই হিসাবের ভেতর আছে দিনে ৭৬ টাকা ৯২ পয়সার আবাসন সুবিধা। তবে নিউজবাংলা দেখেছে, ভাঙাচোরা যেসব ঘরে থাকতে দেখা যায়, সেসব ঘর দিয়ে মাসে ২ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি দেখানো হলেও গ্রাম এলাকায় এই ধরনের ঘরে টাকার বিনিময়ে কেউ থাকতে চাইবেন কি না, সেটি বিতর্কের বিষয়। আর যেগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো, সেগুলোর ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি নয়।
রেশনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পুরুষ শ্রমিককে সপ্তাহে ৩.২৭ কেজি, তার পোষ্য নারীকে ২.৪৪ কেজি এবং দুজন শিশুকে ১.২২ কেজি করে সপ্তাহে ৬.৯৩ কেজি চাল বা আটা দেয়া হয়। নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমপরিমাণ রেশন পেলেও তাদের পোষ্যরা কিছু পান না। এ ছাড়া কোনো কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে রেশন কাটা হয়। কোনো শ্রমিকের ধানি জমি থাকলে তাকে রেশন দেয়া হয় না। অনিয়মিত শ্রমিকরাও তা পান না।
হবিগঞ্জের চাঁন্দপুর বাগানের শ্রমিক সুমন বাউড়ি বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে শুধু আটা দিয়েছে। এতে শ্রমিকদের ঠিকই চাল কিনতে হতো। গত মাস থেকে চাল দিচ্ছে।’
নারীনেত্রী সন্ধ্যা রাণী ভৌমিক বলেন, ‘শ্রমিকের বাচ্চা থাকলে আরও এক কেজি অতিরিক্ত দেয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিককে দেয়া হয় দুই কেজি করে। যাদের ধানি জমি আছে তাদের কানিপ্রতি দেড় কেজি করে কেটে নেয়া হয়।’
সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সনকা সাঁওতাল বলেন, ‘যে রেশন দেয় তার মান ভালো না। আমরা কোনো রকমভাবে খেলেও আপনারা পারবেন না। এ ছাড়া বছরের পর বছর কি আটা খেয়ে থাকা যায়?’
তেলিয়াপাড়া বাগানের শ্রমিক মুরতি পাল বলেন, ‘পাঁচ বছর ধইরা শুধু আটা দিছে। এই আটা খাইয়া কত থাকমু। চাল কিনে খাওয়ার সামর্থ্যও আমার নেই। তবুও ১২০ টাকা মজুরি থেকেই মাঝে মাঝে চাল কিনছি। গত মাস থেকে চাল দিতেছে। এ মাসে চাল কিনতে লাগছে না ‘
সিলেটের সরকারি লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক রমনী ভূমিজ। স্বামী মারা গেছেন। দুই শিশুসন্তান নিয়ে সংসার। তিনি রেশন হিসেবে পান আটা। তবে নিজের জন্য রেশন পেলেও সন্তানদের জন্য পান না।
রমনী বলেন, ‘বাগানের পুরুষ শ্রমিকরা স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য রেশন পায়। কিন্তু আমরা পাই না। এই বৈষম্য কেন? আমরা কি কাজ করি না? আমাদের কি ছেলেমেয়েরে খাওয়াতে হয় না?’
লাক্কাতুরা বাগানেরই শ্রমিক বিমল মোদী। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে ঝড়ে একটা গাছ আমার ঘরের ওপর পড়েছিল। আমি সেই গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি। এ কারণে আমাকে এক সপ্তাহ রেশন দেয়া হয়নি।’
দলদলি বাগানের শ্রমিক ড্যানি নায়েক বলেন, ‘আমাদের বাগানে রেশন হিসেবে কেবল আটা দেয়া হয়। এসব আটাও খুব নিম্নমানের। কিন্তু শ্রমিকদের আটা থেকে চাল বেশি দরকারি।’
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের মজুরি বাড়িয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন মালিকপক্ষ যে সুবিধা দেয়ার কথা, সেগুলো ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে কি না তা তদারক করতে একটি কমিটি করে দেয়ার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।’
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘বাগানের সব শ্রমিক রেশন পান না। কেউ এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে রেশন পান না। এই যে তারা এতদিন আন্দোলন করেছেন, এই দিনগুলোর রেশন পাবেন না। এ ছাড়া যাদের চাষের জন্য জমি দেয়া হয়, তাদের রেশন দেয়া হয় না। ১২ বছরের ওপরের শিশুদেরও রেশন দেয়া হয় না।’
রেশনের ব্যাপারে চা সংসদের সিলেট ভ্যালির সভাপতি জি এম শিবলি বলেন, ‘শ্রম আইন মেনেই চা শ্রমিকদের ভর্তুকি মূল্যে রেশনসহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হয়। সব শ্রমিকই রেশন পান। শ্রমিকদের পোষ্যদেরও রেশন দেয়া হয়। এ ছাড়া অবসরে যাওয়া শ্রমিকরাও এ সুবিধা পেয়ে থাকেন।’
ছবি: সংগৃহীত
কবরের মধ্যে জীবিত আছেন ভেবে ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিনের মাথায় মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা৷ যা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মরিয়ম ওই একই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিনী তাসনুর বেগমের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ে ছিলেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্রগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। এবং চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে,এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভীর জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে,এটি অবাস্তব।
অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন।
আরও জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে,পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে,যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন তারা।
প্রতিবেশী মো.লোকমান লাহারি বলেন,প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্রগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতো মরিয়ম। কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পাশ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুইদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন,পড়ে তাকে তার বাবা মা ডাক্তার দেখিয়েছিল। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হটাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষন পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।
পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো.কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে,আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। 'কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে,কবর খোড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি'।
এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম,মো.নাজিম,সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন,আমরা শুনেছি সে নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধির ঘ্রাণ বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুড়েছে,বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম সে কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, 'সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল,এবং সন্দেহ দূর হয়েছে'।
এনিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন,মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই।
ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের মধ্যে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।’
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আলোচিত প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজের আদালত এ মামলায় চার্জগঠন করেন। একই সাথে আগামী ৯ জুলাই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদক সৈয়দ আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছিল। আবেদ আলীর ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আবেদ আলীর ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে দুদক। পিএসসির প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত বিশাল এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। চার্জগঠনের মাধ্যমে এখন সেই দুর্নীতির বিচারের পথ প্রশস্ত হলো।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগর পাড় ও খালের ধারে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রতিবেশী আবির আলীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়। শিশুর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, শিশুটির পরিবারের বাসার ভাড়াটে আবির আলীই এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি জালাল উদ্দিন জানান যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা সংকেত জারির নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া অফিসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।”
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ এলাকাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে নৌযান চলাচল ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে রেললাইনের পাশে থেকে নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার শাহাগোলা রেলস্টেশনের এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করছেন।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশির এর ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার মাথায় গুরুত্বর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে দুদক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রত্যর্পণ পত্র পাঠানো হয়েছে। এটি আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই আবেদনটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়াতে এবং প্রক্রিয়াটি সহজ করতে প্রত্যর্পণ আবেদনপত্রটি ইংরেজি ও আরবি—এই দুটি ভাষায় অনুবাদ করে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুদক কার্যালয়ে আসে। প্রতিনিধিদলটি সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অনুসন্ধান ও মামলার অগ্রগতির বিষয়ে দুদকে গঠিত সংশ্লিষ্ট বিশেষ টিমের সঙ্গে বৈঠক করে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার আছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতাসহ কূটনৈতিক ও আইনি চ্যানেলগুলো ব্যবহার করছে সরকার।
মন্তব্য