× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is evasion in the name of ration
hear-news
player
google_news print-icon
চা শ্রমিকের বঞ্চনা-২

রেশনের নামেও চলে ফাঁকিবাজি

রেশনের-নামেও-চলে-ফাঁকিবাজি
চা শ্রমিকদের অভুক্ত বা অল্প আহারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের দেখলেই। হবিগঞ্জের একটি চা বাগান থেকে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের এই ছবি।
পুরুষ শ্রমিককে সপ্তাহে ৩.২৭ কেজি, তার পোষ্য নারীকে ২.৪৪ কেজি এবং দুজন শিশুকে ১.২২ কেজি করে সপ্তাহে ৬.৯৩ কেজি চা বা আটা দেয়া হয়। নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমপরিমাণ রেশন পেলেও তাদের পোষ্যরা কিছু পান না। এ ছাড়া কোনো কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে রেশন কাটা হয়। কোনো শ্রমিকের ধানি জমি থাকলে তাকে রেশন দেয়া হয় না। অনিয়মিত শ্রমিকরাও তা পান না।

চা শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির বাইরে সুযোগ-সুবিধা হিসেবে যে খাদ্যসহায়তা পান, সেটি কেবল চাল ও আটার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার কোথাও কোথাও কেবল পাঁচ বছর ধরে টানা আটা দেয়ার তথ্য মিলেছে।

নিম্ন মজুরির কারণে এই চাল বা আটার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর অন্য খাবারগুলো জোগাড় করতে না পারায় শ্রমিক এবং তার শিশুদের ভগ্ন-স্বাস্থ্যের বিষয়টি সরকারি জরিপেই উঠে এসেছে।

আবার এই রেশনের বিষয়টি শর্তমুক্ত নয়। চাষের জন্য যাদের জমি ইজারা দেয়া হয়, তাদের দেয়া হয় না রেশন, মাঝেমধ্যে ‘শাস্তি’ দিতে বন্ধ রাখা হয় এই সুবিধা।

অথচ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি ওঠার পর মালিকদের পক্ষ থেকে বারবার বেতনের বাইরে অন্য সুযোগ-সুবিধাগুলোর মধ্যে বারবার রেশনের বিষয়টি তোলা হয়।

দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি পূরণ হয়নি। তবে ‘মা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিক করে দেয়া ১৭০ টাকা মেনে নিয়ে কাজে ফিরেছেন। বলা হচ্ছে, এই মজুরির মতো আনুপাতিক হারে বাড়বে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, যে কারণে একেক জন শ্রমিক দিনে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পাবেন।

তবে এই হিসাবের ভেতর আছে দিনে ৭৬ টাকা ৯২ পয়সার আবাসন সুবিধা। তবে নিউজবাংলা দেখেছে, ভাঙাচোরা যেসব ঘরে থাকতে দেখা যায়, সেসব ঘর দিয়ে মাসে ২ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি দেখানো হলেও গ্রাম এলাকায় এই ধরনের ঘরে টাকার বিনিময়ে কেউ থাকতে চাইবেন কি না, সেটি বিতর্কের বিষয়। আর যেগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো, সেগুলোর ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি নয়।

রেশনের নামেও চলে ফাঁকিবাজি
একটি ঘরে শ্রমিকের রান্নার আয়োজন

রেশনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পুরুষ শ্রমিককে সপ্তাহে ৩.২৭ কেজি, তার পোষ্য নারীকে ২.৪৪ কেজি এবং দুজন শিশুকে ১.২২ কেজি করে সপ্তাহে ৬.৯৩ কেজি চাল বা আটা দেয়া হয়। নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমপরিমাণ রেশন পেলেও তাদের পোষ্যরা কিছু পান না। এ ছাড়া কোনো কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে রেশন কাটা হয়। কোনো শ্রমিকের ধানি জমি থাকলে তাকে রেশন দেয়া হয় না। অনিয়মিত শ্রমিকরাও তা পান না।

হবিগঞ্জের চাঁন্দপুর বাগানের শ্রমিক সুমন বাউড়ি বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে শুধু আটা দিয়েছে। এতে শ্রমিকদের ঠিকই চাল কিনতে হতো। গত মাস থেকে চাল দিচ্ছে।’

নারীনেত্রী সন্ধ্যা রাণী ভৌমিক বলেন, ‘শ্রমিকের বাচ্চা থাকলে আরও এক কেজি অতিরিক্ত দেয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিককে দেয়া হয় দুই কেজি করে। যাদের ধানি জমি আছে তাদের কানিপ্রতি দেড় কেজি করে কেটে নেয়া হয়।’

সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সনকা সাঁওতাল বলেন, ‘যে রেশন দেয় তার মান ভালো না। আমরা কোনো রকমভাবে খেলেও আপনারা পারবেন না। এ ছাড়া বছরের পর বছর কি আটা খেয়ে থাকা যায়?’

রেশনের নামেও চলে ফাঁকিবাজি
যেসব শ্রমিক ইজারা দিয়ে জমি চাষ করে তাদের রেশন সুবিধা দেয়া হয় না

তেলিয়াপাড়া বাগানের শ্রমিক মুরতি পাল বলেন, ‘পাঁচ বছর ধইরা শুধু আটা দিছে। এই আটা খাইয়া কত থাকমু। চাল কিনে খাওয়ার সামর্থ্যও আমার নেই। তবুও ১২০ টাকা মজুরি থেকেই মাঝে মাঝে চাল কিনছি। গত মাস থেকে চাল দিতেছে। এ মাসে চাল কিনতে লাগছে না ‘

সিলেটের সরকারি লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক রমনী ভূমিজ। স্বামী মারা গেছেন। দুই শিশুসন্তান নিয়ে সংসার। তিনি রেশন হিসেবে পান আটা। তবে নিজের জন্য রেশন পেলেও সন্তানদের জন্য পান না।

রমনী বলেন, ‘বাগানের পুরুষ শ্রমিকরা স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য রেশন পায়। কিন্তু আমরা পাই না। এই বৈষম্য কেন? আমরা কি কাজ করি না? আমাদের কি ছেলেমেয়েরে খাওয়াতে হয় না?’

লাক্কাতুরা বাগানেরই শ্রমিক বিমল মোদী। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে ঝড়ে একটা গাছ আমার ঘরের ওপর পড়েছিল। আমি সেই গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি। এ কারণে আমাকে এক সপ্তাহ রেশন দেয়া হয়নি।’

দলদলি বাগানের শ্রমিক ড্যানি নায়েক বলেন, ‘আমাদের বাগানে রেশন হিসেবে কেবল আটা দেয়া হয়। এসব আটাও খুব নিম্নমানের। কিন্তু শ্রমিকদের আটা থেকে চাল বেশি দরকারি।’

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের মজুরি বাড়িয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন মালিকপক্ষ যে সুবিধা দেয়ার কথা, সেগুলো ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে কি না তা তদারক করতে একটি কমিটি করে দেয়ার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘বাগানের সব শ্রমিক রেশন পান না। কেউ এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে রেশন পান না। এই যে তারা এতদিন আন্দোলন করেছেন, এই দিনগুলোর রেশন পাবেন না। এ ছাড়া যাদের চাষের জন্য জমি দেয়া হয়, তাদের রেশন দেয়া হয় না। ১২ বছরের ওপরের শিশুদেরও রেশন দেয়া হয় না।’

রেশনের ব্যাপারে চা সংসদের সিলেট ভ্যালির সভাপতি জি এম শিবলি বলেন, ‘শ্রম আইন মেনেই চা শ্রমিকদের ভর্তুকি মূল্যে রেশনসহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হয়। সব শ্রমিকই রেশন পান। শ্রমিকদের পোষ্যদেরও রেশন দেয়া হয়। এ ছাড়া অবসরে যাওয়া শ্রমিকরাও এ সুবিধা পেয়ে থাকেন।’

আরও পড়ুন:
নেচে-গেয়ে বাড়তি মজুরি উদযাপন চা শ্রমিকদের
হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন সোমবার
কাজে ফিরেছেন সিলেট-মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা
মজুরি ১৭০ টাকাতেই খুশি চা শ্রমিকরা
১৭০ টাকা মজুরি: নেতারা খুশি, শ্রমিকদের সিদ্ধান্ত রাতে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Load shedding has doubled since the grid disaster

গ্রিড বিপর্যয়ের পর লোডশেডিং বেড়ে দিগুণ

গ্রিড বিপর্যয়ের পর লোডশেডিং বেড়ে দিগুণ লোডশেডিং। অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। শুক্রবার সকাল ১১টা, বেলা ১টা ও বিকেল ৪টায় তিনদফা লোডশেডিং হয়। প্রতিবারই বিদ্যুৎ ছিল না ঘণ্টা বা তার বেশি সময়।

গত তিনদিন ধরে এমন লোডশেডিং হচ্ছে জানিয়ে দক্ষিণ সুরমার কুশিঘাট এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন বলেন, ‘মাসখানেক ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। লোডশেডিং অনেকটা কমেছিল। তবে গত দিনদিন ধরে তা আবার বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা হচ্ছে লোডশেডিং।’

লোডশেডিং বাড়ার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও। তাদের দাবি, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর থেকেই লোডশেডিং বেড়েছে। বিপর্যয়ের পর এখনও সবগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু না হওয়া এবং গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এতে করে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে লোডশেডিং প্রায় দিগুণ বেড়েছে। তবে দুই তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

গত মঙ্গলবার বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চল জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ পাঁচটি বিভাগ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ফিরলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি।

গ্রিড বিপর্যয়ের পর এর সঙ্গে সংযুক্ত সব বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে কয়েকটি এখনও চালু করা যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটের কুমারগাওয়ের ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা যায়নি।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার গত জুলাই থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯ জুলাই থেকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হয়। দিনে এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি তখন। সিলেটের অনেক জায়গায় দিনে ১২-১৩ ঘণ্টাও লোডশেডিং হতো সেসময়।

তবে অক্টোবর থেকে অনেকটাই উন্নতি হতে থাকে এ পরিস্থিতির। কমে আসছে লোডশেডিং। জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর তা আবারও ফিরে এসেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জোনের ৮টি গ্রিডে শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪২০ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ ছিল ২৬০ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ছিল পল্লী বিদ্যুতে। শুক্রবার পল্লী বিদ্যুতের সিলেট অঞ্চলে ২৩৮ মেগাওয়াট চাহিদার বদলে সরবরাহ ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট।

পল্লী বিদ্যুতে ঘাটতি বেশি থাকায় শহরের চাইতে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং হচ্ছে বেশি।

সিলেটের জকিগঞ্জের আটগ্রাম এলাকার বাসিন্দা কল্লোল দাস বলেন, ‘বুধবার থেকে দিনে ৯-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। রাতে লোডশেডিং হচ্ছে বেশি।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির শুক্রবার বলেন, ‘গ্রিড লাইনে বিপর্যয়ের পর থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে। আগে যেখানে দিনে ঘাটতি ছিল ২০ শতাংশ এখন তা ৪৫ শতাংশের মতো হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘাটতির কারণ সম্পর্কে আমাদের নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তবে যতদূর জানতে পেরেছি, গ্রিড বিপর্যয়ে বন্ধ হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবগুলো এখনও চালু হতে পারেনি। সিলেটের কুমারগাওয়ের ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রও এখনও বন্ধ আছে। এ ছাড়া গ্যাসের চাপও অনেক কমে গেছে। এসব কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে।’

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাদির বলেন, ‘দুই একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

কুমারগাওয়া ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গ্রিড বিপর্যয়ের পর আমার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। এতে এখানে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে এখনও এটি চালু করা যায়নি। তবে আশা করছি শনিবারের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ এখনও অজানা
গ্রিড বিপর্যয় নাশকতা কি না দেখছে সরকার
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসছে
ব্ল্যাকআউট যেভাবে
এটিএম বুথে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Excitement of life in Karam festival

কারাম উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাস

কারাম উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাস সাপাহারে শুক্রবার বিকেলে কারাম উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ছবি: নিউজবাংলা
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারাম উৎসব আয়োজন নিছক বিনোদনের জন্য নয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার বিশেষ উদ্যোগ। আগে ছোট আকারে কারাম উৎসব আয়োজন হলেও এখন ব্যাপক পরিসরে হচ্ছে।’

‘কারাম উৎসব সমতলে বসবাস করা নৃ-গোষ্ঠীর প্রাণের উচ্ছ্বাস। এ উৎসব বরেন্দ্র অঞ্চলকে মিলন মেলায় পরিণত করে।’

শুক্রবার বিকেলে নওগাঁর সাপাহারে কারাম উৎসবে শামিল হয়ে এ কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

উপজেলার মদনশিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কারাম উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারাম উৎসব আয়োজন নিছক বিনোদনের জন্য নয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার বিশেষ উদ্যোগ। আগে ছোট আকারে কারাম উৎসব আয়োজন হলেও এখন ব্যাপক পরিসরে হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সব নাগরিকের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি রয়েছে। তাদের উন্নয়নে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।’

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাক মাদলের তালে নাচ-গান আর পূজা অর্চণার মধ্য দিয়ে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, পাহান, মালো, মাতোসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক এই উৎসব উদযাপন করা হয়।

উৎসবে বিভিন্ন উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ৮২টি সাংস্কৃতিক দল তাদের নিজস্ব গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। পরে মন্ত্রী নৃত্যানুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভুট্টু পাহান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল খালেক, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন মণ্ডল, পোরশার ইউএনও মো. জাকির হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁও হোটেলে ৫ দিনের ভারতীয় খাবার উৎসব
তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
কুমিল্লার সেই মণ্ডপে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতায় পূজা: বাহার
শামীমকে শুভেচ্ছা জানাল শাকিবের এসকে ফিল্মস
কুষ্টিয়ায় ৩ দিনের আনন্দ উৎসব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 passengers fined for carrying hilsa

ইলিশ বহনের দায়ে ২ বিমানযাত্রীকে জরিমানা

ইলিশ বহনের দায়ে ২ বিমানযাত্রীকে জরিমানা বিমানযাত্রীদের কার্টন থেকে উদ্ধার করা ইলিশ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছেন বাবুগঞ্জের ইউএনও। ছবি: নিউজবাংলা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও নুসরাত ফাতিমা দুইজনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বরিশালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ বহনের দায়ে দুই বিমান যাত্রীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার বরিশাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইলিশসহ তাদেরকে আটক করে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

জরিমানা দেয়া দুই বিমান যাত্রী হলেন আলমগীর ও মানষ।

বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সকালে বরিশাল বিমানবন্দরে আসেন যাত্রী আলমগীর ও মানষ। তাদের কার্টন স্ক্যান করে আটটি ইলিশ পাওয়া যায়। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বহনের দায়ে দুইজনকে আটক করে বরিশাল মহানগরের এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ দুই যাত্রীকে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও নুসরাত ফাতিমা দুইজনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কার্টন থেকে উদ্ধার করা আটটি ইলিশ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইলিশের রাজ্যে ক্রেতাদের মনে হাহাকার
ইলিশের দাম কমেছে
৭ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে আইনি নোটিশ
বাংলাদেশের উপহারের ইলিশের দাম কত কলকাতার বাজারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 members of juvenile gang arrested

কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার রাজধানীর পল্লবীর কিশোর গ্যাংয়ের তিনহনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা
ডিআইজি বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর পল্লবীর সি-ব্লক এলাকায় চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবের উপর হামলা করে কিশোর গ্যাং জুনিয়র গ্রুপের প্রধান রমজান তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা পেছন থেকে রাকিবের পিঠের নিচের অংশে ছুরি মারে। গুরুতর আহত রাকিবের মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর এলাকায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে জুনিয়র গ্যাংয়ের হামলায় সিনিয়র গ্যাংয়ের সদস্য এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিব গুরুতর আহত হয়। ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং দলের প্রধানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, আশুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কিশোর গ্যাং জুনিয়র গ্রুপের প্রধান মো. রমজান, আল আমিন, ইসমাইল হোসেন ওরফে পপকন, বিজয় ও মো. ইয়াসিন আরাফাত ওরফে সাইমন।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর পল্লবীর সি-ব্লক এলাকায় চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবের উপর হামলা করে কিশোর গ্যাং জুনিয়র গ্রুপের প্রধান রমজান তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা পেছন থেকে রাকিবের পিঠের নিচের অংশে ছুরি মারে। গুরুতর আহত রাকিবের মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। হামলায় আহত হওয়ার আগে রাকিব পাঁচটি পরীক্ষা দিয়েছিল। ৬ষ্ঠ পরীক্ষার দিন হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পরীক্ষা দেয়ার জন্য নিয়ে গেলেও পরীক্ষার সময় সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়ে, পরে তাকে পরীক্ষার হল থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান মোজাম্মেল হক।

ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক জানান, হামলায় আহত রাকিবের মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্তসহ শরীরের নিচের অংশ পুরোপুরি অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় রাকিবের বাবা আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তার কিশোরদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পল্লবী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে গ্যাং গড়ে উঠেছে। সেখানে সিনিয়র গ্রুপ জুনিয়র গ্রুপ নামে দুটি পৃথক কিশোর গ্যাং রয়েছে, যারা এলাকায় ইভটিজিং, ছোটখাট ছিনতাইসহ মাদক সেবন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে জড়িত। এই দুইটি গ্রুপ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সার্বক্ষণিক হাঙ্গামায় জড়িয়ে থাকে। আহত রাকিব সিনিয়র গ্রুপের সদস্য। গ্রেপ্তারকৃতরা জুনিয়র গ্রুপের সদস্য।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার কয়েকদিন আগে জুনিয়র গ্রুপের সদস্য রমজান, আল আমিন, বিজয়, ইয়াসিনসহ আরও ৫-৬ জন মিলে মিরপুর-১২, ডি ব্লকে ধুমপান করার সময় পাশ দিয়ে সিনিয়র গ্রুপের কয়েকজন সদস্য গেলে আসামিরা তাদেরকে কোনো প্রকার সম্মান দেখায়নি। সে সময় সিনিয়র গ্রুপের সদস্যরা তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকিসহ ধস্তাধস্তি ও চড়-থাপ্পড় মারে।

আরও পড়ুন:
উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত দপ্তরি
‘কিশোর গ্যাং সদস্য’দের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
গাজীপুরে ৯ ডাকাত গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
মানিকগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫
স্ত্রীর সঙ্গে পুড়ে ‘মৃত’ ব্যক্তিকে ৫০ দিন পর গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Global food crisis will not harm Bangladesh Foreign Minister

বৈশ্বিক খাদ্য সংকটে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বৈশ্বিক খাদ্য সংকটে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুল কালাম। ফাইল ছবি
দুইদিনের সফরে শুক্রবার বিকেলে সিলেটে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেন বলেছেন, করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির কারণে আগামীতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা থাকলেও এতে বাংলাদেশের খুব ক্ষতি হবে না।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও খালি থাকবে না। সরকার খাদ্য নিশ্চয়তার চেষ্টা করছে। খাদ্য ম্যানেজ করতে পারলে অন্যকিছুও ম্যানেজ করা সম্ভব।’

শুক্রবার বিকেলে সিলেট নগরে সরকারের একটি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বলেছে, আমাদের জিডিপি খুব ভালো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের জিডিপি যেখানে ৩ পার্সেন্টের মতো, সেখানে আমাদের ৬ এর ওপরে। বাংলাদেশ সবসময় বাস্তবতার নিরিখে কাজ করে। তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

এর আগে সিলেটের আম্বরখানা-টুকেরবাজার সড়কের সংস্কার ও ফোর-লেন কাজের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সড়কটির ৬ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

দুইদিনের সফরে শুক্রবার বিকেলে সিলেট আসেন তিনি।

আরও পড়ুন:
হাই লেভেল ভিজিট সম্ভব ছিল না পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: তথ্যমন্ত্রী
ভারত সফর থেকে কেন বাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মোমেনকে নিয়ে ভুল তথ্য ভারতীয় মিডিয়ায়
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে নেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে হতে পারে ৭ চুক্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bholavala Monir is the master of stealing

চুরিতে ওস্তাদ ‘ভোলাভালা’ মনির

চুরিতে ওস্তাদ ‘ভোলাভালা’ মনির অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার মনির হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
তেজগাঁও অঞ্চলের ডিসি জানান, মনির দেখতে ভোলাভালা ভবঘুরে টাইপে। তবে তার এই চেহাররা আড়ালে এক চোর। সম্প্রতি ৪-৫টি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় তার নাম পাওয়া গেছে।

অনাথ ও পথশিশুদের আশ্রয় এবং পড়াশোনা করতে সহযোগিতা করা প্রতিষ্ঠানের টাকা চুরি করে জুয়া খেলেন, নেশা করেন, আবার দানও করেন মনির হোসেন। অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গেও জড়িত মনির।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের ৩ নম্বর সড়কের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাইটস অ্যান্ড সাইট ফর চিলড্রেন (আরএসসি) অনাথ ও পথশিশুদের আশ্রয় এবং পড়াশোনা করতে সহযোগিতা করে।

গত শনিবার মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানের অফিস রুমের গ্রিল কেটে প্রবেশ করে আলমারি থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা চুরি করে নিয়েছে অজ্ঞাত এক চোর। এই ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুন নাসের রোমেল বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় চুরির মামলা করেন।

এই ঘটনায় জড়িত মনির হোসেন নামের এক পেশাদার চোরকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের পশ্চিম বাংলানগর গ্রামে। এ সময় চুরি যাওয়া ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড ৩ নম্বরের একটি বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান রাইটস অ্যান্ড সাইট ফর চিল্ড্রেন অসহায় ও পথশিশুদের আশ্রয়, পড়াশোনা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। এই প্রতিষ্ঠানের অফিসের গ্রিল কেটে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোর। তদন্তে নেমে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জ তারানগর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাত লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।’

আজিমুল হক আরও বলেন, ‘মনির বিপুল পরিমাণ টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর এই টাকা দিয়ে জুয়া খেলে অনেক টাকা নষ্ট করেছে। কিছু টাকা নেশার পেছনে খরচ করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝেও দান করেছে।’

মনির পেশাদার চোর উল্লেখ করে তেজগাঁও অঞ্চলের ডিসি জানান, মনির দেখতে ভোলাভালা ভবঘুরে টাইপে। তবে তার এই চেহাররা আড়ালে এক চোর। সম্প্রতি ৪-৫টি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় তার নাম পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনির। তাকে মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির বাসা থেকে ৪৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি
হাতকড়া নিয়ে লাফ, ফের গ্রেপ্তার জঙ্গলে
মাস্টার চাবি বানিয়ে ৫০০ বাইক চুরি
রিজার্ভ চুরির মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন ২ অক্টোবর
‘চুরি করা’ ১৬ শ লিটার ডিজেলসহ গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Stabbed while praying in the mosque

মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ছুরিকাঘাত

মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ছুরিকাঘাত বাঘা থানা। ছবি: সংগৃহীত
জমিসংক্রান্ত একটি মামলার সাক্ষী তাপস। এর জেরেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান বাঘা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন।

রাজশাহীর বাঘায় মসজিদের ভেতরে নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সুচিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

৩৭ বছর বয়সী আহত আবু ফজল সিদ্দিক তাপস অগ্রণী ব্যাংকের বাজুবাঘা শাখার কর্মচারী এবং উপজেলার উত্তর কলিগ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় তাপসকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম জমজমকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বাঘা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলিগ্রাম জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন তাপস। ঈমামের পেছনে ফরজ নামাজ আদায় করার সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম জমজম মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে তাপসকে পেছন থেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এতে তাপসের বাম হাতে মারাত্মক জখমের সৃষ্টি হয়।

পরে মসজিদের মুসল্লিরা তাপসকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বাঘা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় রাতেই আহতের ভাই আবু বাশার জমজমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে শুক্রবার ভোরে ওই গ্রামেরই একটি আম বাগান থেকে জমজমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জমিসংক্রান্ত একটি মামলার সাক্ষী তাপস। এই বিরোধের জেরেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
যাত্রাবাড়ীতে চালককে ছুরিকাঘাত করে রিকশা ছিনতাই
‘মাদকসেবীর’ ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
দ্বিতীয় স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত
বাড়ি ফেরার পথে চেয়ারম্যানকে ছুরিকাঘাত
জমি বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে খুন

মন্তব্য

p
উপরে