× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Jamaat is unhappy with BNP for three reasons
hear-news
player
google_news print-icon

বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’

বিএনপির-ওপর-জামায়াত-নাখোশ-তিন-কারণে
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সে সময়ের চারদলীয় জোটের নেতারা এক মঞ্চে। ফাইল ছবি
২০০৬ সাল পর্যন্ত এই জোট দেশের জন্য উপকারী একটা জোট ছিল। ৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এবং সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়েছে। তার পরে আর ফিরে আসেনি।…(জোটের) প্রধান দলের নেতা তো বলেই ফেলেছেন, আমরা শরিয়া আইন সমর্থন করি না।… বিশেষ করে প্রধান দলের এই জোটকে কার্যকর করার তাদের চিন্তা নাই। তাদের যদি চিন্তা না থাকে, তাহলে তা হবে না: জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান

কুমিল্লায় রুকনদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল বক্তব্যে জোট ত্যাগের পেছনে পুরো দায় বিএনপিকে দিয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

তার দাবি, এই জোটকে অকার্যকর করে রেখেছিল প্রধান দল বিএনপি। বারবার দেনদরবার করেও তাদেরকে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেয়ানো যায়নি।

সেই সঙ্গে বিএনপি শরিয়া আইনে বিশ্বাস করে না বলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যে হতাশ হওয়ার কথা বলেন জামায়াত নেতা। প্রশ্ন তোলেন বিএনপির ক্ষমতায় থাকার শেষ দিন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের প্রসঙ্গ। সেদিনই এই জোট কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার কুমিল্লার রুকনদের উদ্দেশে ভার্চুয়ালি এই বক্তব্যে শফিকুর জানান, বিএনপির সঙ্গে জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত দলটির সঙ্গে আলোচনা করেই নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এটাও সিদ্ধান্ত হয় যে জোটে না থাকলেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকবে তাদের দল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য জোট ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে কিছু স্বীকার করতে চান না। আবার তিনি অস্বীকার করেছেন, এমনও নয়। বলেছেন, সময় এলে সবকিছু বলা যাবে।

জামায়াতের মুখপাত্র ও প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের বক্তব্যও একই। তার দাবি, তাদের আমিরের বক্তব্য আনুষ্ঠানিক নয়। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বিজ্ঞপ্তি আকারেই আসবে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির ভূমিকায় অসন্তোষ

জামায়াতের আমির একেবারে শুরুতেই বলেন, ‘আমরা এতদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। আপনারা ছিলাম শুনে হয়তো ভাবছেন কী হয়েছে এখন। হ্যাঁ, হয়ে গেছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই জোট দেশের জন্য উপকারী একটা জোট ছিল। ৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এবং সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়েছে। তার পরে আর ফিরে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু চিন্তা করে দেখেছি, এর পর থেকে এই জোট বাংলাদেশের জন্য আর উপকারী জোট নয়।’

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সে সময়ের বিএনপি সরকার। সে সময় সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের এই সরকারের প্রধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক থাকায় তাকে মেনে না নিয়ে আন্দোলনে ছিল আওয়ামী লীগ ও তার জোটের শরিকরা।

এর মধ্যে বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সেদিন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কর্মসূচি ছিল মুক্তাঙ্গন, গুলিস্তান ও পল্টন মোড় ঘিরে। বিএনপির কর্মসূচি ছিল নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। আর জামায়াতের অবস্থান ছিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে।

বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের লগি-বৈঠার পিটুনিতে মারা যায় জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন। সেদিন জামায়াত কর্মীরা মুহুর্মুহু গুলি করে কোনো রকমে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে পারলেও এই মৃত্যু তাদেরকে বিএনপির ওপর অসন্তুষ্ট করে।

বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
২০০৬ সালে পল্টনে লগি বৈঠা হাতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন প্রাণহানি হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পায়নি জামায়াত

এই সংঘর্ষ চলাকালেও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। জামায়াতের সে সময়ের আমির মতিউর রহমান নিজামী গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই তাকে বারবার ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীদের পাঠানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু দিনভর পুলিশের অবস্থান ছিল নামকাওয়াস্তে। আর বাহিনীটির সদস্যরা বরং আওয়ামী লীগ কর্মীদের কাছেই অবস্থান করছিলেন। কিন্তু বাধা দিচ্ছিলেন না।

জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের প্রাণহানির পর সন্ধ্যায় মোতায়েন হয় সে সময়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর।

ততক্ষণে সেদিনের সংঘর্ষের পর সে সময়ের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের প্রাধান্যের বিষয়টি উঠে আসে। এর কয়েক মাস পর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জারি হয় জরুরি অবস্থা। ওই মাসের ২২ জানুয়ারি হওয়ার কথা ছিল নবম সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপির ক্ষমতায় আসা ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

কিন্তু সেটি হয়নি। জরুরি অবস্থা জারির প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে যে ভোট হয়, তাতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর কয়েক বছরে জামায়াতের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির পাঁচ শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাসেম আলী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা ফাঁসিতে ঝুলেছেন।

বিচার চলাকালে মারা গেছেন গোলাম আযম, আবদুস সুবহান বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। আর আরেক শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা নিয়ে বন্দি।

এই দণ্ড কার্যকর রাজনীতিতে জামায়াতকে ঘিরে তৈরি হওয়া মিথ ভেঙে দিয়েছে। জামায়াত তার সমর্থকদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি করেছিল যে, কেউ তাদের নেতাদেরকে ফাঁসি দিতে পারবে না। এই চেষ্টা করা হলে আরব দেশগুলো বাংলাদেশের শ্রমিকদের ফেরত পাঠাবে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের আগের দিন থেকে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরুর হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু পরে দেখা গেল, জামায়াত আসলে কিছুই করতে পারেনি। এখন এমনকি দলীয় কার্যালয়গুলোও বন্ধ।

জোট নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা

জামায়াতের আমির বলেন, ‘এই জোটের সঙ্গে বিভিন্ন দল যারা আছে, বিশেষ করে প্রধান দল এই জোটকে কার্যকর করার তাদের চিন্তা নাই। তাদের যদি চিন্তা না থাকে, তাহলে তা হবে না।

‘এই বিষয়টা এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট, দিবালোকের মতো পরিষ্কার এবং তারা আমাদের সঙ্গে বসে এটা স্বীকার করেছে। …বছরের পর বছর এই ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।’

বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
কুমিল্লার রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বিএনপির সঙ্গে জোটে না থাকার পেছনে তিনটি কারণের কথা তুলে ধরেছেন

শফিকুর বলেন, ‘একটা জোটের সাথে কি কেয়ামত পর্যন্ত থাকব?... কোনো অ্যালায়েন্স আপনারা করবেন না, বাস্তবতাও নাই, পারবেনও না।’

বিএনপি ও জামায়াত আলাদা থাকলেও যোগাযোগ থাকবে বলে জানিয়ে দেন শফিকুল। বিএনপি যে তাদের দাবিতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের চেষ্টা করছে, তাতে জামায়াতের সায় থাকবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন বাস্তবতা হচ্ছে নিজস্ব অবস্থান থেকে আল্লাহর ওপর ভর করে পথ চলা। তবে হ্যাঁ জাতীয় স্বার্থে একই দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।’

শরিয়া আইন নিয়ে বিএনপির অবস্থানে ভেঙেছে হৃদয়

বছরের পর বছর ধরে দিয়ে আসা স্লোগান ‘আল্লাহর আইন চান, সৎলোকের শাসন চাই’ জামায়াত বলে না ২০০৮ সাল থেকে।

ওই বছর নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে আল্লাহর আইনের কথা তাদের গঠনতন্ত্র থেকে তুলে দিলেও শরিয়া আইনই তাদের রাজনীতির প্রধান বিষয়।

দলটির আশা ছিল, বিএনপিও এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগী হবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল এ নিয়ে যে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছন, তাতে হৃদয় ভেঙেছে জামায়াতের।

শফিকুর বলেন, ‘(জোটের) প্রধান দলের নেতা তো বলেই ফেলেছেন, আমরা শরিয়া আইন সমর্থন করি না।’

বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
বিএনপি শরিয়াহ আইনে বিশ্বাস করে না বলে গত নির্বাচনের আগে একটি ভারতীয় দৈনিককে বলেছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভোটের আগে আগে ভারতীয় প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফখরুল বলেন, ‘আমরা জামায়াতের ব্যাপারে প্রশ্নের সম্মুখীন হই। বিএনপি কিন্তু জামায়াত নয়। বিএনপি শরিয়া আইনে বিশ্বাস করে না। বিএনপি মৌলবাদেও বিশ্বাস করে না। জামায়াতের ব্যাপারে আমাদের কোনো মোহ নেই।’

এখন যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে সবাই চেষ্টা করার কথাও বলেন শফিকুর। বলেন, ‘যদি আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সে তওফিক দান করেন, তাহলে আগামী দিনগুলোতে আমাদেরকে অনেক বড় প্রস্তুতি নিতে হবে। অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করার জন্য।’

‘দোয়া করেন, এ সকল ত্যাগ যেন আল্লাহর দরবারে মঙ্গলজনক হয়। এ ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ পাক যেন আমাদের পবিত্র একটি দেশ দান করেন। যে দেশটা কোরআনের আইনে পরিচালিত হবে।’

আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়: জামায়াত

সেই রুকন সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও জামায়াত আমিরের জোট ছাড়ার বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলতে চান না কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘এটা জাতীয় ইস্যু। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দই কথা বলবেন। আমরা না।’

জামায়াতের আমিরের এই বক্তব্যের ভিডিও অনলাইনে ভেসে বেড়ালেও দলটির মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দও স্বীকার করতে চান না জোট ভাঙার বিষয়টি।

এক প্রশ্নে দলটির প্রচার সম্পাদক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা অফিশিয়াল বক্তব্য না। বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করে থাকে।‘

দলের রুকন সম্মেলনে আমিরের বক্তব্য যদি আনুষ্ঠানিক না হয়, তাহলে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কবে আসবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির তো শত শত বক্তব্য দেন। ব্যক্তি ও অফিশিয়াল বক্তব্য এক নয়। এ রকম যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে অফিশিয়ালি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানানো হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়মতো জানানোর কথা বলেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা সময়মতো জানাব। এ ব্যাপারে আমি কোনো কমেন্ট করব না।’

দুই দলের সম্পর্কের নানা সমীকরণ

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোটের আলোচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই। জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ে উল্লেখ আছে, তারা সে সময় ১০০টি আসন চেয়েছিল বিএনপির কাছে। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় জোট আর হয়নি। পরে অঘোষিতভাবে ৩৫টি আসনে জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিনিময়ে তারাও দেশের বাকি আসনগুলোতে বিএনপির হয়ে কাজ করেছে।

১৯৯৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত পুরোপুরি আলাদা নির্বাচন করে। তখন ভরাডুবি হয় জামায়াতের। তারা জেতে মাত্র তিনটি আসনে। এরপর বিএনপি ও জামায়াত দুই পক্ষই একে অপরের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালে জোটবদ্ধ হয় জামায়াত ও বিএনপি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং আজিজুল হকের ইসলামী ঐক্যজোট।

প্রথমে এরশাদ ও পরে আজিজুল হক জোট ছেড়ে দেন। তবে সমালোচনার মধ্যেও জামায়াতকে বিএনপি কখনও ছাড়তে রাজি হয়নি।

দুই বছর পর যে জাতীয় নির্বাচন হয়, তাতে এই জোটের ভূমিধস জয়ের পেছনে দুই দলের ভোট যোগ হওয়াই ছিল প্রধান কারণ।

তবে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবার জামায়াত সঙ্গ বিএনপির জন্য নেতিবাচক হিসেবেই ধরা দেয়। ওই নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বড় হয়ে ওঠার পর বিএনপি-জামায়াত জোটের ভরাডুবি হয়। স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে সঙ্গী করে ভোটে নেমে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী অবস্থানেও বড় ব্যবধানে হেরে যায় বিএনপি।

ওই নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি কমিটি গঠন করা হয় বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনার জন্য। এর মধ্যে ৯টি কমিটিই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধতাকে দায়ী করে, যা ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিমত।

নির্বাচনের পর বিএনপির তরুণ নেতারাও প্রকাশ্যেই দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দাবি তোলেন জামায়াত ছাড়ার।

বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
১৯৯৯ সালে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি যখন জোট করে, সে সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তাতে যোগ দেন। পরে এরশাদ সরে গেলে দলটিতে ভাঙন দেখা দেয়

তবে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবং নির্বাচনের পর সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে জামায়াতকে নিয়েই যোগ দেয় বিএনপি। আর ব্যাপক সহিংসতার পর বিএনপি নেতারা নানাভাবে জামায়াতকে দায় দেন।

ওই নির্বাচনের পর একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট কৌশলগত। সময় এলেই তিনি জামায়াতকে ত্যাগ করবেন।

এসব ঘটনায় আবার জামায়াত মনঃক্ষুণ্ন হয় বিএনপির প্রতি। যদিও তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য আসেনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচারের সময় বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতাও পায়নি জামায়াত। এ নিয়েও খেদ আছে দলের নেতাদের মধ্যে।

বিএনপি চারদলীয় জোট সম্প্রসারণ করে পরে ২০-দলীয় জোট গড়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আরও একটি জোট তারা করে গত সংসদ নির্বাচনের আগে।

এর মধ্যে বিএনপির জামায়াত ছাড়ার প্রসঙ্গ নানা সময়ই এসেছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সময় এলে তারা জামায়াতকে ছেড়ে দেবেন।

এর মধ্যে ২০২১ সালের শুরুতে বিএনপি এই জোট ত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে আর গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বড় উইকেট পড়ে গেছে: জামায়াত প্রসঙ্গে আ.লীগ নেতা
বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
বিএনপিকে ‘ছেড়ে গেছে’ জামায়াত, মন্তব্য নেই ফখরুলের
বিএনপি নেতাদের বেশির ভাগ রাজাকার পরিবারের: হানিফ
মধ্যরাতে চার বিএনপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
29 Institutions declared as Critical Information Infrastructure

২৯ প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষণা

২৯ প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষণা ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ অনুযায়ী রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সরকারি ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ অনুযায়ী রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড, সেতু বিভাগ, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জাতীয় ডাটা সেন্টার ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বিটিআরসি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং সেন্ট্রাল প্রকিউরেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট।

তালিকায় আরও রয়েছে- সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিটিসিএল, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ১৫ ধারায় বলা আছে- এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

আইনটির ১৬-এর (১) ধারায় বলা হয়েছে- মহাপরিচালক, এই আইনের বিধানাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালিত হইতেছে কি না তাহা নিশ্চিত করিবার জন্য প্রয়োজনে সময় সময় কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো পরিবীক্ষণ ও পরিদর্শন করিবেন এবং এতদসংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবেন।

১৬-এর (২) ধারায় বলা হয়েছে- এই আইনের আওতায় ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোসমূহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রতি বৎসর উহার অভ্যন্তরীণ ও বহিস্থ পরিকাঠামো পরিবীক্ষণপূর্বক একটি পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন সরকারের নিকট উপস্থাপন করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু মহাপরিচালককে অবহিত করিবে।

১৬-এর (৩) ধারায় বলা আছে- মহাপরিচালকের নিকট যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, তাহার অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে কোনো ব্যক্তির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ বা ক্ষতিকর, তাহা হইলে তিনি স্ব-প্রণোদিতভাবে বা কাহারও নিকট হইতে কোনো অভিযোগপ্রাপ্ত হইয়া উহার অনুসন্ধান করিতে পারিবেন।

১৬-এর (৪) ধারায় বলা হয়েছে- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিরাপত্তা পরিবীক্ষণ ও পরিদর্শন কার্যক্রম ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন করিতে হইবে।

আইন লংঘনের শাস্তি হিসেবে ১৭-এর (১) ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে– (ক) বে-আইনি প্রবেশ করেন, বা (খ) বে-আইনি প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতিসাধন বা বিনষ্ট বা অকার্যকর করেন অথবা করিবার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর (ক) দফা (ক)-এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং

(খ) দফা (খ)-এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃ পুনঃ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
IGP advises 24 hour security at Mandapam

সজাগ থাকুন, পূজামণ্ডপ ২৪ ঘণ্টা পাহারায় রাখুন: আইজিপি

সজাগ থাকুন, পূজামণ্ডপ ২৪ ঘণ্টা পাহারায় রাখুন: আইজিপি
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘যে সময় কেউ থাকে না, ঠিক সেই সময়টাতেই অপকর্ম ঘটায়। তাই পুরো সময়টা সজাগ থাকতে হবে। সারা দেশের মণ্ডপের জন্য আমার একই বার্তা।’

নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে কোনো অবস্থাতেই পূজামণ্ডপ ফাঁকা না রাখতে আয়োজকদের অনুরোধ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে রোববার সন্ধ্যায় এমন পরামর্শ দেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে একটি মহল সবসময়ই তৎপর রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলো কোনোভাবেই ফাঁকা রাখা যাবে না। কারণ তারা এই সুযোগেই অঘটন ঘটায়। সাধারণত দুষ্কৃতিকারীরা সরকার ও সমাজের সুনাম নষ্ট করতে পূজার সময় এমন সব ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

পুলিশপ্রধান বলেন, ‘যে সময় কেউ থাকে না, ঠিক সেই সময়টাতেই অপকর্ম ঘটায়। তাই পুরো সময়টা সজাগ থাকতে হবে। সারা দেশের মণ্ডপের জন্য আমার একই বার্তা।’

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তক থাকলেও পূজা কমিটির সহযোগিতা ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন আইজিপি।

আয়োজকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজেদের জনবল না থাকলে আনসার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। তবুও কোনোভাবে মণ্ডপে প্রতিমা ফাঁকা যাবে না।’

এ সময় আইজিপির সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি
এবারও আইজিপি র‌্যাব থেকে
অবসরে যাচ্ছেন আইজিপি বেনজীর
সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়ার চেষ্টা করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই: আইজিপি
স্বাধীনতার ৩০ বছরই আমরা গণতন্ত্রের দেখা পাইনি: আইজিপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
VAT exemption on edible oil for another 3 months

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস

ভোজ্যতেলে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা আরও ৩ মাস ভোজ্যতেলে ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ বাড়তে পারে। ছবি: নিউজবাংলা
বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর আরও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আবারও বাড়তে পারে।

ভোজ্যতেলের দাম যেন নতুন করে না বাড়ে, তাই ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা আরও তিন মাস বহাল রাখতে পারে বলে বাণিজ্য ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির মূল্য কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

‘তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি পেয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর আরও তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভোজ্যতেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ অব্যাহতি না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক-করহার বেড়ে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দামে প্রভাব পড়ে।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে গত ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় গত শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দরপতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে গত ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম।

তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকার ডলারের দর এখন ১০৬ টাকা।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দর নির্ধারিত আছে ১৯২ টাকা আর প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ঠিক করে দেয়া হয়েছে ১৩২ টাকা।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম অয়েল আমদানি করেন।

আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এ ছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

আরও পড়ুন:
১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার
দাম বাড়ানোর পর বাড়ছে সয়াবিনের সরবরাহ
সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৭ টাকা
ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল
১ লাখ ২৫ হাজার টন সয়াবিন তেল কিনছে টিসিবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Senior journalist Toab Khan is being laid to rest in Banani

বনানীতে শায়িত হচ্ছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান

বনানীতে শায়িত হচ্ছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান।
প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় তার কর্মস্থল তেজগাঁওয়ে নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে নেয়ার পর সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান।

সোমবার দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের দাফন অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় তার কর্মস্থল তেজগাঁওয়ে নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে নেয়ার পর সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

এরপর প্রবীণ সাংবাদিক তোয়াব খানের মরদেহ নেয়া হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে।

সেখানে তাকে রাখা হবে বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মরদেহ নেয়া হবে গুলশানে তার নিজ বাসভবনে।

বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

নিউজবাংলার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও উপদেষ্টা সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

সম্পাদকের মৃত্যুতে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোয়াব খান। সাংবাদিক হিসেবে সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন রয়েছে তার।

২০১৬ সালে একুশে পদক পান তোয়াব খান। একই বছর তাকে সম্মানীত ফেলো নির্বাচন করে বাংলা একাডেমি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন তোয়াব খান। পরে রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই তোয়াব খান বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন। ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে।

১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। ১৯৬৪ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচার হয় ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন তোয়াব খান। দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন যশস্বী এ সাংবাদিক।

নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সর্বশেষ তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণ
নতুন রূপে আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক তোয়াব খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
LPG price reduced by Tk 3 per kg

কেজিতে ৩ টাকা কমল এলপিজির দাম

কেজিতে ৩ টাকা কমল এলপিজির দাম
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত মাসের দাম কার্যকর হয়নি। সেক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি। আগেও আমরা ভোক্তা অধিকারকে দাম কার্যকর করার অনুরোধ করেছি।’

সেপ্টেম্বরে বাড়ার পরের মাসেই কমল সিলিন্ডারজাত তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম। কেজিতে পণ্যটির দাম কমেছে তিন টাকার সামান্য কম।

এখন থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডারে এলপিজির দাম কমেছে ৩৫ টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে এখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রোববার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এই দর ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন দর কার্যকর সম্পর্কে বাজারে নেতিবাচক উদাহরণ থাকলে ভোক্তাদের তা অভিযোগ আকারে বিইআরসিকে জানাতে অনুরোধ করেছেন সংস্থার চেয়ারম্যন আব্দুল জলিল।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, বিইআরসির সচিব খলিলুর রহমান খান।

গত মাসে সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার প্রয়োগ হয়নি বলে জানালে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত মাসের দাম কার্যকর হয়নি। সেক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি। আগেও আমরা ভোক্তা অধিকারকে দাম কার্যকর করার অনুরোধ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ভোক্তা যদি সরাসরি কমিশনে অভিযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে কেনার বিষয়ে পরিবেশকরা (ডিলার) কেউ কমিশনে অভিযোগ করেননি। নির্ধারিত দামে বিক্রি না হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেবে।’

চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক সময় খুচরা ব্যবসায়ী বোতল (সিলিন্ডার) বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিয়ে থাকে। কেউ যদি কেনা রশিদসহ আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

গ্যাস না পেয়েও প্রতি মাসে বিল দিচ্ছেন গ্রাহকরা, এ বিষয়ে কমিশনের কী করার আছে- জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘কোনো লিখিত অভিযোগ কমিশনে আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে।

‘সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির নতুন দাম ১০০ টাকা ১ পয়সা। এ হিসাবে বিভিন্ন পরিমাণের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৫৫ টাকা ৯২ পয়সা, যা আগে ছিল ৫৭ টাকা ৫৫ পয়সা।’

এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

সেপ্টেম্বরে খুচরায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম ছিল ১০২ টাকা ৮৮ পয়সা; সেই হিসাবে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ১২৩৫ টাকা খরচ করতে হচ্ছিল।

অক্টোবরে সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেন দাম যথাক্রমে ৫৯০ ডলার ও ৫৬০ ডলার। ৩৫ অনুপাত ৬৫ হিসাবে গড় মিশ্রণের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫৭০ ডলার।

এই হিসাবটি বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজি খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ১০০ টাকা ১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর খুচরায় ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ১২০০ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান বিইআরআই চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান জানান, বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা রেটিকুলেটেড পদ্ধতির দাম ঠিক করা হয়েছে প্রতি কেজি ৯৬ টাকা ৭৮ পয়সা। যানবাহনের জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত অটোগ্যাস প্রতি লিটার ৫৫ টাকা ৯২ পয়সা করা হয়েছে।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫০ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১২৫১ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৫০০ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৬০০ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮০০ টাকা, ২০ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২০০০ টাকা, ২২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২০১ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৪৯৯ টাকা, ৩০ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩০০০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৩০১ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৫০০ টাকা, ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন:
তিন মাস বাড়ার পর কমল এলপিজির দাম
‘যুদ্ধের প্রভাবে’ আবার বাড়ল এলপিজির দর
এলপিজির দাম সিলিন্ডারে বাড়ল ১৫১ টাকা
এলপিজির দাম সিলিন্ডারে বাড়ল ৬২ টাকা
সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমেছে নামেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Coast Guard has strengthened patrolling at Teknaf border to prevent Rohingya infiltration

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার টেকনাফ সীমান্তে কোস্ট গার্ডের টহল। ছবি: সংগৃহীত
মুনিফ তকি বলেন, ‘পাশের দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় বাংলাদেশের টেকনাফ সীমানায় যেন বিন্দুমাত্র বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, এ জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মানব পাচার, চোরাচালান, মাদকদ্রব্য পাচারসহ নতুনভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কোস্ট গার্ড।’

মিয়ানমার সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় নতুন করে কেউ যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য এ তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

রোববার বিকেলে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি এমন তথ্য জানান।

কিছুদিন থেকেই মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সেনাদের ছোড়া গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়েছে। গোলায় একজন নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।

এমন অবস্থায় কোস্ট গার্ডের বেশিসংখ্যক সদস্য সীমান্তে নিয়োজিত করেছেন।

মুনিফ তকি বলেন, ‘পাশের দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় বাংলাদেশের টেকনাফ সীমানায় যেন বিন্দুমাত্র বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, এ জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মানব পাচার, চোরাচালান, মাদকদ্রব্য পাচারসহ নতুনভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কোস্ট গার্ড।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগে অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড। সমুদ্রে সার্বক্ষণিক টহল জাহাজ মোতায়েনসহ টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত রাত-দিন নিয়মিত অত্যাধুনিক হাইস্পিড বোটের মাধ্যমে টহল চলমান রয়েছে।’

তিনি জানান, এ ছাড়া টেকনাফ, শাহপরী, বাহারছড়া ও সেন্টমার্টিনে বর্তমানে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক পরিস্থতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো প্রকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দেশের মানুষের জানমালের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

কোনো প্রকার গুজব বা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, এ জন্য নিজেদের গোয়েন্দা নজরদারিসহ সতর্ক অবস্থানের কথাও জানায় কোস্ট গার্ড।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের কুপিয়ে হত্যা
যুদ্ধের মাধ্যমে উন্নয়ন ধ্বংস করতে পারি না: কৃষিমন্ত্রী
মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাবেক মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা
ভুল করে গোলা ছুড়েছে মিয়ানমার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
RAB DGs opposite words of Home Minister about reforms

সংস্কার নিয়ে র‍্যাব ডিজির উল্টো কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংস্কার নিয়ে র‍্যাব ডিজির উল্টো কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমাদের জানতে হবে তারা অন্যায়টা কী করেছে। আর সংস্কারের কথা বলতে, র‍্যাব তো সব সময় সংস্কারের মধ্যেই আছে। আমরা সব কিছু আধুনিকায়ন করছি৷ যেটা প্রয়োজন সেটাই দিচ্ছি।’

নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বাহিনীটির সংস্কার দরকার নেই বলার পরের দিনই উল্টো বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, র‍্যাব সব সময়ই সংস্কারের মধ্যেই আছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে রোববার দুপুরে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় একটি জরিপের গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র‍্যাব যখন তৈরি হয়, র‍্যাবকে ট্রেনিং কিন্তু ইউএসএ দিয়েছে। কাজেই আমরা মনে করি, র‍্যাব যদি কোনো ভুল করে থাকে তবে সেগুলোও আমরা দেখছি। র‍্যাব কিংবা পুলিশ যারাই অপরাধযোগ্য কাজ করছে, তারা কখনও শাস্তির বাইরে যায়নি। এখনও অনেকসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য জেল খাটছে। কাজেই আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।’

তবে র‍্যাব কী অন্যায় করেছে সেটাও জানানো দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের জানতে হবে তারা অন্যায়টা কী করেছে। আর সংস্কারের কথা বলতে, র‍্যাব তো সব সময় সংস্কারের মধ্যেই আছে। আমরা সব কিছু আধুনিকায়ন করছি৷ যেটা প্রয়োজন সেটাই দিচ্ছি।’

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার র‍্যাবের সাত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগ ও রাজস্ব বিভাগ আলাদা আলাদা করে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়।

র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর তাদের পাঠানো রিপোর্ট পর্যালোচনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন তথ্য জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘র‍্যাব একটা এলিট ফোর্স। র‍্যাবে একটা দায়িত্ব আমরাই দিয়ে থাকি। তারা সে নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করে। যদি কেউ ভুল করে থাকেন, আমাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে, সেগুলো আমরা স্টাডি করছি। কারও যদি এখানে ইনভলভমেন্ট থাকে সেটিও আমরা দেখছি।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির ওপর হামলাকারী ‘অতি উৎসাহীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির অভিযোগের পর যুবদল নেতাকে তুলে নেয়ার কথা স্বীকার
ঘরের দরজা ভেঙে যুবদল নেতাকে তুলে নেয় র‍্যাব: বিএনপি
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব যাচাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাচেলেট আর কোনো প্রশ্ন করেননি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে