× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Avocado will be cultivated in Madripur
hear-news
player
google_news print-icon

মাদারীপুরে চাষ হবে অ্যাভোকাডো

মাদারীপুরে-চাষ-হবে-অ্যাভোকাডো
দক্ষিণাঞ্চলে মাদারীপুরেই প্রথম চাষ হচ্ছে অ্যাভোকাডোর। ছবি: নিউজবাংলা
মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারে ২০১৮ সালে তিনটি অ্যাভোকাডো গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে একটি মারা যাওয়ায় এখন রয়েছে দুটি। এ বছর তাতে দুই শতাধিক ফল এসেছে।

অ্যাভোকাডো মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার ফল হলেও বাংলাদেশেও এর চাষ সীমিতভাবে শুরু হয়েছে। মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারে দুটি গাছে ফল ধরেছে দুই শয়ের মতো। দক্ষিণাঞ্চলের মাদারীপুরেই প্রথম চাষ হচ্ছে অ্যাভোকাডো।

অনেকে কৌতূহল নিয়ে দেখতে ও কিনতে আসেন ফলগুলো। ভেষজগুণে ভরপুর ফলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

অ্যাভোকাডো গাছটি ১০ ফুট উচ্চতার। তাতে থোকায় থোকায় ঝুলছে চকচকে সবুজ রঙের ফল। দেখতে অনেকটা পেয়ারা বা নাশপাতির মতো। একেকটির ওজন প্রায় আধা কেজি। পাতার ফাঁকে হাওয়ায় দোল খাচ্ছে ফলগুলো।

দামি এ ফল ঘিরে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। অনেকে দাঁড়িয়ে দেখেন ফলগুলো। অনেকে ভালো লাগা থেকে কিনে রোপণ করতে চান এটি।

কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মফেল মাতুব্বর বলেন, ‘বিদেশি এই ফলের নাম শুনে আসছি। এসে ফলটা দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেল। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু হবে। কিন্তু খাওয়ার উপায় নেই। কর্তৃপক্ষের কাছে অগ্রিম টাকা দিলেও যদি এক বা দুটি গাছ দিত, তাহলে কিনে নিতাম। আশা করি, ভবিষ্যতে গাছ কিনে বাড়িতে লাগাতে পারব।’

আল-আমীন মোল্লা নামে আরেক দশনার্থী বলেন, ‘আমি মাদারীপুর হর্টিকালচারে এসে বিভিন্ন রকমের ফল দেখেছি। তার মধ্যে অ্যাভোকাডো ফলটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। এখানকার কৃষিবিদদের কাছে শুনলাম এই ফলটিতে অনেক পুষ্টিগুণ। আমার খুব ইচ্ছা এটির একটি চারা আমি বাসায় লাগাব।’

উদ্যানতত্ত্ববিদ শাকির আহম্মেদ বলেন, ‘ অ্যাভোকাডো খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি প্রচুর ভিটামিনে ভরপুর। এ ফলটি সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের হর্টিকালচারগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি যেহেতু দামি একটি ফল এবং সম্ভাবনাময়, তাই যারা নতুন কৃষি উদ্যোক্তা আছেন, তারা এগিয়ে এলে ভালো কিছু করতে পারবেন বলে আমি মনে করি।’

মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক এস এম সালাহউদ্দিন বলেন, ‘২০১৮ সালে তিনটি গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে একটি মারা যাওয়ায় এখন রয়েছে দুটি অ্যাভোকাডো গাছ। এ বছর দুটি গাছে দুই শতাধিক ফল এসেছে। বিশেষ যত্নে এ গাছের পরিপক্ব ফলের ওজন ৪০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত।

‘অ্যাভোকাডো ফলে ২২ প্রকারের ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এতে ক্যানসার প্রতিরোধের উপাদানও বিদ্যমান। এ ছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ ওষুধ হিসেবে এটি কাজ করে। কলম ও বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে সাধারণ চাষিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

‘দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু এই গাছ বেড়ে ওঠার উপযোগী। তাই পুষ্টিগুণসম্পন্ন এ ফলের প্রসার ঘটাতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ প্রণোদনার দাবি মাদারীপুরবাসীর।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
12 thousand tons of vegetables in one village

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি তোলা সবজি বাছাই করে বাজারে নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ সরবরাহ করা হয়।’

মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, বেগুন, করলাসহ হরেক রকম সবজির ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। সবজি তোলা, সেগুলো বাছাই করে বাজারে নিয়ে যেতেই ব্যস্ত কেউ কেউ। কেউ আবার সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মাশকাটা ধনপোতা গ্রামের কৃষকরা।

গ্রামটি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নে। গ্রামটিতে বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার টন সবজি। আর এগুলো বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে। এখান থেকেই বছরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সবজি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের ধনপোতা, খরিবনিয়া, চাকুলি ও কুমারখালী বিল। এই চার বিলের ১৪০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, শসা, বেগুন, করলা, তরমুজ, বাঙ্গিসহ নানা জাতের সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় চার শতাধিক কৃষক।

মৎস্য ঘেরের পাড়ে উৎপাদিত এসব সবজিতে কোনো প্রকার রাসায়নিক, কীটনাশক ও সার দেয়া হয় না। প্রাকৃতিক বালাইনাশক ও জৈব সার ব্যবহার করে এসব সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান এখানকার কৃষকরা।

ধনপোতা গ্রামের কৃষক জীবন পাল বলেন, ‘আমাদের এই গ্রামের আশপাশের চারটি বিলে আমরা চার শতাধিক কৃষক মৎস্য ঘেরে মাছ ও সবজি চাষ করি। আমরা মাছের ঘেরে লাইলে সবজি চাষ করার কারণে সবজিতে কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না। কারণ এ ধরনের কীটনাশক বা সার পানিতে পড়লে মাছ মারা যাবে।’

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

তিনি বলেন, ‘আমি সবজির পাইকারি ব্যবসাসহ নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি ঢাকা, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আড়তে বিক্রি করি। এই সবজি বিক্রির টাকা দিয়েই আমি একটি বাড়ি করেছি ও একটি মোটরসাইকেল কিনেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে আমার আয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।’

একই গ্রামের কৃষক বাসু দেব বলেন, ‘রাসায়নিক সারের বদলে আমরা ভার্মি কমপোস্ট ও জৈব সার এবং কীটনাশকের বদলে নীম পাতার রস দিয়ে প্রাকৃতিক বালাইনাশক স্প্রে করি। এ ছাড়া মেহগনি গাছের ফলের বিজ দিয়ে স্প্রে করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আমাদের চাষ করা প্রায় প্রতিটি সবজির ব্যাপক ফলন হচ্ছে। এতে আমাদের মাছের চেয়ে সবজিতে বেশি লাভ হচ্ছে।’

কৃষক মকবুল শেখ বলেন, ‘ফকিরহাট কৃষি অফিস থেকে আমাদের গ্রামের চার শতাধিক কৃষককে বিভিন্ন সময় মাছের ঘেরে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসার এসে আমাদের হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে উচ্ছ ফলনশীল বীজ। সব মিলিয়ে সবজি চাষে আমাদের ভাগ্য বদলে গেছে। গ্রামের প্রতিটি মানুষই এখন স্বাবলম্বী। কেউ বেকার বসে নেই।’

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের মৎস্য ঘেরের পাড়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ সরবরাহ করা হয়।

‘এর সুফল হিসেবে বছরে চারটি বিল থেকেই উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার টন সবজি। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি।’

এক গ্রামে ১২ হাজার টন সবজি

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সুবাদে পাইকার সবজি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করছেন। ধনপোতা গ্রামের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে সবজির পাইকারি হাট। কৃষকরা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে ওই স্থানগুলোতে রাখেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাক করে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফকিরহাট উপজেলাকে কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। আশা করছি ধনপোতা গ্রামের কৃষকদের দেখে অন্য কৃষকরাও বিষমুক্ত সমন্বিত কৃষিতে আগ্রহী হবেন।’

আরও পড়ুন:
তিন বছরে মাল্টার বাগানে ফলন ৩ গুণ
কলা চাষে লাভবান নাটোরের চাষিরা 
ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা
‘বড় বিপদে আছি বাপু’
ব্রহ্মোত্তর এখন সবজির গ্রাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cow Lumpy Skin Disease Spread Fear of Farmers

গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের আতঙ্ক

গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের আতঙ্ক লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত একটি গরু। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান জানান, রোগটি সাধারণত বর্ষাকালেই বেশি হয়। শীত এলে এর প্রকোপ কমে যাবে।

গত ঈদুল আজহায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার গবাদিপশু বিক্রি করেছেন মেহেরপুর জেলার খামারি ও চাষিরা। তবে এসব খামারি ও চাষির কপালে এবার চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে লাম্পি স্কিন নামে গরুর একটি রোগ। ভাইরাসবাহিত লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাবে এখন দিশেহারা তারা।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন, লাম্পি স্কিন ডিজিস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি মারাত্মক কোনো রোগ না। মশা-মাছিবাহিত এই রোগটি নিয়মিত ওষুধ খাওয়ালে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়।

রোগটির বর্ণনা দিয়ে গাংনী উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের খামারি আব্দুল জাব্বার বলেন, ‘আমার খামারের গরুর শরীরে হঠাৎ করে টিউমারের মতো গুটি গুটি কী যেন বের হয়েছে! এটা হওয়ার পর থেকেই খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়ে শুধু ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। পশু ডাক্তারকে দেখিয়েছি, তারা ওষুধ দিয়েছে। দেড় সপ্তাহ হয়ে গেছে। গরুর শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

গাভী নিয়ে একই সমস্যায় পড়েছেন বাওট গ্রামের গরু পালনকারী জায়েদা খাতুন। তার গাভী প্রতিদিন দেড় কেজি দুধ দেয়। কিন্তু ছয় দিন ধরে গাভীটির চামড়ায় ছোট ছোট টিউমারের মতো গুটি বের হয়েছে এবং যথারীতি খাওয়া-দাওয়াও কমিয়ে দিয়েছে। এতে কমে গেছে দুধের পরিমাণও।

সদর উপজেলার গরু চাষি রিপন আলীও এ ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক মাস ধরে আমার গাভীর গায়ে গুটি বের হয়েছে। ডাক্তার প‍্যারাসিটামল আর হিস্টাসিন বড়ি দিয়েছেন। তা-ই খাওয়াচ্ছি। তবে এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও সারেনি।’

বামন্দী গ্রামের পল্লি চিকিৎসক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিনই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু নিয়ে আসছেন খামারিরা। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে সেরে উঠতে মাসখানেক সময় লাগছে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে ব‍্যথা অনুভূত হয়।’

জেলার ঐতিহ্যবাহী পশুহাট ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, সোম ও শুক্রবার হাট বসে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে গরু-ছাগল কিনতে আসেন বেপারিরা। তবে বতর্মানে হাটে প্রচুর পরিমাণে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু আসছে। সেই গরুগুলো বাইরের বেপারিরা কিনতে চাইছেন না।

তবে এই রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান।

তিনি জানান, দেশের অনেক জেলার মতো মেহেরপুরেও সম্প্রতি লাম্পি স্কিন ডিজিস দেখা দিয়েছে। মূলত রোগটি মশা, মাছি, আক্রান্ত পশুর ব্যবহৃত নিডল ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে গরু থেকে গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত গরুটিকে অবশ‍্যই কোয়ারেন্টিন করে চিকিৎসা নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, রোগটি সাধারণত বর্ষাকালেই বেশি হয়। শীত এলে এর প্রকোপ কমে যাবে। আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা শুরুর ২৫ দিনের মধ‍্যে রোগটি সেরে যায়। সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগটিকে এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:
৩০ মণের ইউটিউবার, ৩২ মণের চিরকুমার
দাম শুনে, ছবি তুলে চলে যাচ্ছেন ক্রেতারা
গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা
প্রাইভেটকারে গরু চুরি, গাড়ি জব্দ
অজানা রোগে মরছে গরু, দুগ্ধ গ্রামে আতঙ্ক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government is buying 90 thousand tons of urea fertilizer

৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার

৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি থেকে কেনা হচ্ছে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কাফকো, কাতারের মুনতাজাত ও সৌদি আরবের সেবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার টন করে ইউরিয়া সার কেনা হবে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বুধবার এ বিষয়ক দরপ্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

চাহিদা মেটাতে ৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার। সৌদি আরব, কাতার ও দেশীয় এক প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার কেনা হবে। এ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকার বেশি।

বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দরপ্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক এ তথ্য জানান।

জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। এতে খরচ হবে ১৯৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এছাড়া বিসিআইসির মাধ্যমে কাতারের মুনতাজাত থেকে আনা হবে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর বাইরে বিসিআইসির মাধ্যমে সৌদি আরবের সেবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্ট কোম্পানি থেকে ২০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হবে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার।

মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে বিসিআইসির মাধ্যমে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) জন্য ৩০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে খরচ হবে প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উল্লিখিতসহ মোট ছয়টি দর প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মোট অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার ২১৬ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৩৭৮ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৭ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ ৬৪৯ কোটি ৮০ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৯ টাকা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10 feet chichinga in the loft of bliss

পরমানন্দের মাচায় ১০ ফুটের চিচিঙ্গা

পরমানন্দের মাচায় ১০ ফুটের চিচিঙ্গা খুলনার কৃষক পরমানন্দের মাচায় ১০ ফুট লম্বা চিচিঙ্গা। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি কোনো বীজ দেশে আনতে গেলে আমাদের সরকারের অনুমতি লাগে। কেরালার জাতের চিচিঙ্গা বীজ দেশে আনার অনুমতি এখনও নেই। পরমানন্দ ভারত থেকে বীজ এনে চাষাবাদ করে ফলন পেয়েছেন, এটা ভালো দিক।’

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ডেওয়াতলা গ্রামের কৃষক পরমানন্দের বাড়ির উঠানেই লাগানো হয়েছে ভারতীয় কেরালা জাতের চিচিঙ্গা। তার বাগানের মাচায় এই জাতের প্রতিটি চিচিঙ্গা হয়েছে ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা।

কৃষি বিভাগ বলছে, উচ্চফলনশীল হওয়ায় জাতটি দেশে ব্যাপকভাবে চাষ করা যায় কি না সে চিন্তা করছে তারা।

কৃষক পরমানন্দ বলেন, ‘আমি সাড়ে তিন বছর ভারতের কেরালায় চাষাবাদের কাজ করেছি। সেখানে আমি কফি, গোলমরিচ, এলাচ চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ফেরার সময় কেরালা জাতের দুটি বীজ ৫০ রুপিতে কিনে আনি। বাড়িতে সেই বীজ দুটি লাগিয়ে দিই। কোনো প্রকার সার বা কীটনাশক ছাড়াই গাছ দুটি বড় হয়েছে। পরে ফলন শুরু হয়।’

এসব চিচিঙ্গা সাধারণত কিছুটা বড় হয় বলে জানান পরমানন্দ। বলেন, ‘আমার দুটি গাছে এ পর্যন্ত ২০টি চিচিঙ্গা হয়েছে। প্রত্যকটি ৭ ফুটের বেশি লম্বা ছিল। আর ওজন ছিল ৩ থেকে ৫ কেজি। এটা খেতে খুব মিষ্টি। দেশীয় জাতের থেকে স্বাদও বেশি। কেরালায় এই চিচিঙ্গা খুবই যত্ন করে চাষ করা হয়। সেখানে চিচিঙ্গার আকার আরও বড় হয়।’

কৃষক পরমানন্দ তিনটি চিচিঙ্গা পাকানোর জন্য রেখে দিয়েছেন। তা দিয়ে তিনি বীজ তৈরি করবেন বলে জানান নিউজবাংলাকে।

তিনি বলেন, ‘তিনটি চিচিঙ্গা থেকে প্রচুর বীজ পাওয়া যাবে। সে বীজ দিয়ে আগামী বছর আবারও চাষ করব। ভালো ফলন হলে সবার মধ্যে এই বীজ বিলিয়ে দেব।’

এই জাতের চিচিঙ্গা চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার ঘটাতে চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ।

বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি কোনো বীজ দেশে আনতে গেলে আমাদের সরকারের অনুমতি লাগে। কেরালার জাতের চিচিঙ্গা বীজ দেশে আনার অনুমতি এখনও নেই। পরমানন্দ ভারত থেকে বীজ এনে চাষাবাদ করে ফলন পেয়েছেন, এটা ভালো দিক।’

নিজেরা না আনলেও কৃষক পরমানন্দকে বীজ তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাকে বীজ রাখতে পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আমরা এই বীজ ছড়িয়ে দিতে চাই। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের এই চিচিঙ্গা চাষাবাদে উৎসাহি করতে চাই। কৃষকরা এটা গ্রহণ করলে আমরা সরকারের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্য আলোচনা করব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা কর্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এর আগেও খুলনার পাইকগাছায় এক কৃষক লম্বা চিচিঙ্গার চাষ করেছিলেন। সেই বীজ থেকে পরের বছর আবারও চিচিঙ্গা হয়েছিল। আমরা অনেক কৃষকের মাঝে বীজটি বিলিয়েছি। এখন ব্যাপকভাবে কী করে বীজটি চাষাবাদের আওতায় আনা যায় সেই চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন রাশেদুল হাসান
৯ পণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্তে কৃষিমন্ত্রীর দ্বিমত
সারের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনকে দুষলেন কৃষিমন্ত্রী
গুচ্ছভর্তিতে ৮ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৬ হাজার আবেদন
গম-ভুট্টা চাষিদের জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Accomplishing Aman Abad target Ministry of Agriculture

আমন আবাদের লক্ষ্য পূরণ: কৃষি মন্ত্রণালয়

আমন আবাদের লক্ষ্য পূরণ: কৃষি মন্ত্রণালয় আমনের ক্ষেতে কাজ করছেন একজন। ফাইল ছবি
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, খরা আর অনাবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তাকে পেছনে ফেলে চলমান মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন হয়েছে।

অনাবৃষ্টির মধ্যেও আমন ধান আবাদে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার পুরোটাই অর্জন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, চলতি বছর ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ কোটি ৬৩ লাখ টন চাল।

মন্ত্রণালয় বলছে, খরা আর অনাবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তাকে পেছনে ফেলে চলমান মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে আমন আবাদ হয়েছিল ৫৬ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ টন। গত বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে আবাদ হয়েছিল ৫৭ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে, আর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৫০ লাখ টন চাল।

সে হিসাবে এবার গত দুই বছরের চেয়েও বেশি উৎপাদন হচ্ছে আমন ধান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, খরা আর কম বৃষ্টিপাতের কারণে আমন আবাদ করা প্রায় ১৫ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দিতে হয়েছে। সেচকাজে প্রায় ৬ লাখ ৭৪ হাজার গভীর নলকূপ, অগভীর নলকূপ, এলএলপিসহ বিভিন্ন সেচযন্ত্র ব্যবহার হয়েছে। দেশে সেচযন্ত্রের সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি।

আরও পড়ুন:
প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ
ধানপাতা খাচ্ছে মাজরা পোকা
পানির নিচে বীজতলা, আমন আবাদে বিপর্যয়ের শঙ্কা
বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ
আমনের ফলন ‘ভালো’, কৃষকের মুখে হাসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Serina Begum is cultivating the land with barga

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম সেরিনা বেগমের নিজের জমিতে চাষ করা পাট। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়লেও অনেকটা কৃষি শ্রমিক হিসাবেই নারীরা কাজ করেন জমিতে। তবে সেরিনা বেগম কিছুটা এগিয়ে আছেন, তিনি নিজেই জমি বর্গা (জমি মালিকের কাছে লিজ নেয়া) নিয়ে চাষাবাদ করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মর্দনা-বিরামপুর গ্রামের রাস্তায় খুব সকালে গ্রামের নারীরা পাটের আঁশ ছড়ানোতে ব্যস্ত। একজন নারীকে দেখা গেল ছড়ানো পাটের আঁশ বিলের পানিতে ধুয়ে রাখছেন। তাকে আঁশ ছড়ানোর কাজও করতে দেখা গেল।

এক হাতে সব কাজই করছেন তিনি। কাছে যেতেই নাম জানালেন সেরিনা বেগম। অন্য নারীরা অন্যের জমির পাটের আঁশ ছাড়ালেও সেরিনা বেগম জানান তিনি নিজের জমিতে চাষ করা পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন।

সেরিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয় বেশ কিছুক্ষণ। জানালেন, এক বিঘা জমি আধি ভাগে (ফসলের অর্ধেক জমির মালিকের) নিয়ে এবার পাটের আবাদ করেছেন তিনি। জমি চাষ দেয়া, বীজ বোনাসহ বিভিন্ন কাজ নিজেই করেছেন, সেই সঙ্গে ছিল শ্রমিকও।

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম

সার বীজ কেনাসহ সব মিলিয়ে সেরিনা বেগমের এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। সেরিনা আশাবাদি, তার জমিতে এবার ১২ মণ পাট হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই পাট চাষ করেছি। প্যাট-মানুষ লিয়্যা খরচ হয়্যাছে ৭ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। আর নিজে খ্যাটাছি। এখন আশা করছি ১০-১২ মণ মতো পাট যদি হয়, আর যদি ২৫০০ টাকা দাম প্যায়, তাহলে কিছু লাভ হবে।’

সেরিনা বলেন, অর্ধেক পাট পাবেন জমির মালিক, অর্ধেকটা তার। নিজেই কেন পাট চাষ করতে গেলেন এমন প্রশ্নে এ নারীর উত্তর, ‘পাটে ভালোই লাভ, তাই জমিটা বর্গা লিয়্যা পাট লাগাল ছিলাম। যায় হোক, ভালোই হয়্যাছে, এখন পাটটা শুখিয়া বেঁচতে পারলেই হয়, যা আসে তাই লাভ। বসে থাকলে তো কেউ খ্যাতে দিবে না, কর্ম করায় খ্যাতে হবে, হামি জমি বর্গা লিয়্যাই কৃষি কাজ করছি।’

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম

পাশেই ছিল সেরিনার মা বিবিজান বেগম। তিনি জানান, তার মেয়ের স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে সংসারের বোঝা পুরোটাই সেরিনার ওপর। চার মেয়ে ও এক ছেলে সেরিনার। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। এখন ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকেন তিনি।

আগামীতে আরো বেশি জমিতে চাষাবাদ করবেন কিনা জানতে চাইলে সেরিনা বেগম জানান, এবার এক বিঘা জমিতে পাটের চাষাবাদ করেছেন। এরপর অন্য ফসলও করবেন। সেই সঙ্গে আরও কয়েক বিঘা জমি বর্গা নেয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে এ কাজ করেই তার সংসার চলে যায়।

কৃষি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়লেও অনেকটা কৃষি শ্রমিক হিসাবেই নারীরা কাজ করেন জমিতে। তবে সেরিনা বেগম কিছুটা এগিয়ে আছেন, তিনি নিজেই জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। যুক্ত থাকছেন চাষবাদ থেকে উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রির সবগুলো ধাপের সঙ্গেই।

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম

আগ্রহ বাড়ছে পাট চাষে

বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবং অন্য ফসলের থেকে পাটে কৃষক কিছুটা লাভবান হওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। কৃষকরা বলছেন, এক বিঘা পাট চাষে ধানের চেয়ে খরচ কম, সেই সঙ্গে পাট বিক্রি করে লাভ হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যার অধিকাংশ জমির পাটই কেটে ফেলা শেষ হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার রাকিব উদ্দীন, ওমর ফারুকসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, এক বিঘা পাট চাষাবাদে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। পাট বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। অন্য দিকে এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ লাভের কারণেই অনেকে জমিতে অন্য ফসল না করে পাট চাষাবাদ করছেন।

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, জেলায় গত বছর ৩ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছিল, এবার তা হয়েছে ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টরে। কিছুটা দেরিতে কাটা হলেও এখন প্রায় অধিকাংশ পাটই কাটা শেষ হয়েছে।

পাটের দাম গত বছর ছিল ২২০০-২৬০০ টাকা মণ। এ বছর সেটা শুরুই হয়েছে ২৫০০-২৬০০ টাকা মণ দরে। এ দাম আগামীতে আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। বাজারে ভাল দাম ও দ্রুত কৃষক পাট বিক্রির টাকা ঘরে তুলতে পারায় দিন দিন পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছেন সেরিনা বেগম

পাটকাঠিও লাভজনক

পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজ করেন সাধারণত গ্রামের নারী ও ছোটরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবসর পেলে পুরুষরাও হাত লাগান। পাটকাঠি জ্বালানী হিসাবে বেশ ব্যবহৃত হয়। আর এ কারণে পাটের এ মৌসুমে গ্রামের নারীসহ অনেকেই আঁশ ছড়ানোর কাজ করে থাকেন। কারণ এ কাজে আঁশ ছড়নো পাটকাঠিই পরিশ্রমিক, আর মালিকের থাকে পাট।

আরও পড়ুন:
সবজির চারার গ্রামে ক্রেতাশূন্যতায় হতাশা
আগাম জাতের শিমে হাসছেন নওগাঁর চাষিরা
আবার দক্ষিণে দিশা
দেশে তৈরি হচ্ছে ২৮২ ধরনের পাটজাত পণ্য
পানির অভাবে স্বপ্ন মলিন সোনালি আঁশ চাষির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Napier is a multi billion dollar business

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে বলছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

এক সময়ের অনাবাদি কিংবা সড়কের পাশের পতিত জমিও এখন দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে আধুনিক বা বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের কল্যাণে। এই বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুরে।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

তাদের একজন হলেন বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর এলাকায় বাসিন্দা আপেল মাহমুদ। ৭ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা ১৭ হাজার টাকা করে ইজারা নিয়ে কাঠমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে এখন পুরোদমে খামারি হয়েছেন। ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালনের পাশাপাশি ঘাস চাষকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন।

নিজের এলাকার মহিপুর বাজারে এক স্কুল মাঠে প্রতিদিন বেলা তিনটার দিকে ঘাসের হাট বসে; সেখানে বছরের প্রায় প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক।

সম্প্রতি এই হাটে ঘাস বিক্রি করতে করতে আপেলের সঙ্গে আলাপ হয়। জানান, আট থেকে দশ বছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এই কাজ করে সংসার চলে কিন্তু প্রশান্তি মেলে না। এক সময় এমন চিন্তা থেকেই পেশা বদল করেছেন। জমানো টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে শুরু করলেন ঘাস চাষ। বছর শেষে প্রায় ২ লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করেন এই জমি থেকেই।

লাভের দিক বিবেচনায় নিয়ে এরপর আপেল মাহমুদ ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালন শুরু করেন। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই তিনি ঘাস চাষ আর গরু পালন করছেন। ঘাস চাষের জমির পরিধি বেড়ে ৭ বিঘায় এসেছে। জীবনযাপনের জন্য প্রথমে ঘাস চাষ শুরু করলেও আপেল এখন এটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন; যেখানে খামারের গরুর জন্য ঘাস চাষও হচ্ছে, একই সঙ্গে অন্যদের গরুর প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আপেলের মতে, এক সঙ্গে গরু পালন আর ঘাস চাষের মধ্যে খামারিদের ব্যাপক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শুধু শেরপুর উপজেলায় গরু পালনের অন্তত ২ হাজার জন খামারি রয়েছেন। এখানে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। শুধু উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া এই তথ্য বলছে, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অন্তত দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। খামারিরা এখন রেডি ফিডের চেয়ে ঘাস খাওয়ানোই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলায় অন্তত ২ হাজার একর জমিতে এবার ঘাষ চাষের অন্যতম কারণ এটিও।

তবে ঘাষ চাষের তাৎপর্য নিয়ে বহুমুখী ব্যাখ্যা রয়েছে কৃষকদের কাছেই। মহিপুরের জামতলা গ্রামের চাষী মো. হেলাল হোসেন প্রতি বছরই ২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন।

চাষের কারণ জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করতে এখন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে ঘাস বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার। একই সঙ্গে ঘাস চাষে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা নেই। ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শ্রমিক খরচ কম। কম শ্রম দেয়া লাগে। চাহিদাও ভালো। সব দিক থেকেই অন্য ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক।’

গাড়িদহ এলাকার আব্দুল হামিদ ১৮ বছর ধরে ৪ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছেন। তিনি জানান, আগের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। পতিত ধরনের জমিতে অন্য কিছু চাষাবাদ করা যায় না বলে তিনি সেখানে ঘাস চাষ করেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে ঘাস চাষের পরিসর আরও বাড়ানোর লক্ষ্য তার।

শেরপুরের উলিপুরের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ঘাসের ব্যবসা করেন। মহিপুর বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে ঘাস কিনে খামারিদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এ ঘাস বিভিন্ন আকারের আটি বেঁধে বিক্রয় করা হয়। ১০ থেকে শুরু করে ৪০ টাকা দামের আটি বিক্রয় করেন ব্যবসায়ীরা।

এই ব্যবসায়ীর অবশ্য ফ্রিজিয়ান জাতের ৬টি গরু রয়েছে। জানান, শেরপুরে ঘাস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অনেক লম্বা একটি চেইন গড়ে উঠেছে। অন্তত ২০০ মানুষ সরাসরি এই ঘাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

চাহিদার প্রেক্ষাপটে জেলাজুড়ে ঘাস চাষও বাড়ছে। বগুড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, জেলাজুড়ে ঘাস চাষের চাহিদা বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলায় ৫৭৫ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ৪৪৮ একর জমিতে ঘাস চাষ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১২৭ একর জমিতে ঘাস চাষ বেড়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শেরপুরের মহিপুরের আব্দুর রশিদ প্রতিদিন ১০টি গরুর জন্য ১ হাজার থেকে ১২ শ টাকার ঘাস কেনেন। ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়।

এই খামারি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে গরুর ফিডের দাম কম ছিল। কিন্তু এখন বেড়েছে। ফিড খাওয়ালে খরচ বেশি হয়।’ এই কারণে ঘাস কিনে খাওয়ান তিনি। ঘাসের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এই প্রবীণ খামারি।

এখন গরুর ফিডের কাঁচামালও আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বেড়েছে সব পণ্যের। তবে অন্য খাবারের চেয়ে গরু-মুরগীর ফিডের দাম অনেক বেড়েছে বলে জানান খামারিরা। ফলে স্বভাবতই ঘাসের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকছেন তারা।

গো-খাদ্যের দামের সংকটের কারণে ঘাস চাষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে বলে মনে করেন শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘাস হচ্ছে গো-খাদ্যের প্রাকৃতিক উপাদান। সুষম খাদ্যের সব উপাদান রয়েছে ঘাসের মধ্যে। গরু-মহিষের দুধ, মাংস উৎপাদনের উপকরণ তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক ঘাস। বিভিন্ন গবেষণাতেও পাওয়া গেছে, দানাদার ফিডের চেয়ে ঘাস গো-খাদ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি।’

তিনি আরও বলেন, গরু-মহিষের প্রজননের জন্য যে হরমোন দায়ী তার নাম ইস্ট্রোজেন (Estrogen) । ঘাস এই হরমোন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। ফলে গরু বা মহিষকে ঘাস খাওয়ালে তার প্রজনন ক্ষমতাও বাড়ে। এই কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষকদের ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। ঘাসের বীজ, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’

এই উপজেলা থেকে প্রতি বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঘাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব ঘাস এই উপজেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য উপজেলার সংকটও মেটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রাণিসম্পদ এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ
ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে উৎসব
নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন পণ্যমেলা
‘বিশেষ সুবিধা নয়, বাজেটে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রিপেইড কার্ড চালু

মন্তব্য

p
উপরে