× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The mystery about the death of the teacher couple is increasing
hear-news
player
google_news print-icon

শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছেই

শিক্ষক-দম্পতির-মৃত্যু-নিয়ে-রহস্য-বাড়ছেই
নিজেদের প্রাইভেট কারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় শিক্ষক দম্পতিকে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক দম্পতিকে বহন করা প্রাইভেট কারটি ঘটনাস্থলের কাছে কিছুটা পথ একটু ডানে-বাঁয়ে এঁকেবেঁকে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যায়।

৮ দিন পেরিয়ে গেলেও গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, পিবিআই, র‍্যাব, সিআইডিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সংস্থাই মৃত্যুর কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

শুরুতে ওই দম্পতির মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হলেও এখন বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিচার বিশ্লেষন করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্কুলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, আয়-ব্যয়ের হিসাব ছাড়াও ফেসবুকে একটি রহস্যজনক পোস্টও সন্দেহের আওতায় এসেছে।

এ ছাড়া গাড়ির এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণসহ নানা দিক নিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃংখলা সংস্থাগুলো।

পুলিশ বলছে, রহস্য উদঘাটনে তারা অপেক্ষা করছেন ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য। এ ছাড়া গত ৮ দিনে বেশ কয়েকজনকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

স্কুল থেকে নিজেদের প্রাইভেটকারে বাসায় ফেরার পথে পথে গত ১৭ আগষ্ট সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হন টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রী টঙ্গীর আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. মাহমুদা আক্তার জলি। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে গাছা থানাধীন বগারটেক এলাকায় প্রাইভেটকারের ভেতর তাদেরকে অচেতন অবস্থায় পান পরিবারের সদস্যরা।

হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক শিক্ষক দম্পতিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পুলিশ শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। নিহতের পরিবারের স্বজনদের দাবি ওই শিক্ষক দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফেসবুকে পোস্টদাতাকে খুঁজছে পুলিশ

বর্তমানে একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সন্দেহ দানা বেঁধেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। ওই পোস্টে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রুপিং করছেন এমন দাবি করা হয়।

যেদিন ভোরে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেদিন বিকেলেই ‘শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষকদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক ওই পোস্টটি করেন চৌধুরী জাকারিয়া নামের এক ব্যক্তি।

স্কুলে শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের জেরেই ওই পোস্ট বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থাগুলো। তবে শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর সঙ্গে পোস্টটির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে চৌধুরী জাকারিয়ার ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকতে চাইলে সেটি ‘লক’ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২৫-২৬ বছর বয়সী চৌধুরী জাকারিয়ার প্রোফাইলে দেয়া ছবি দেখে স্থানীয়দের কেউ তাকে চিনতে পারেননি।

এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নূরুজ্জামান রানা বলেন, ‘ইংরেজিতে ‘শহীদ স্মৃতি হাই স্কুল, টঙ্গী’ নামের স্কুলের একটি ফেসবুক পেজ আছে। এর বাইরে আর কোনো ফেসবুক নেই। ওই ব্যক্তিকে আমি কখনো দেখিনি। নামও শুনিনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উচিত তাঁকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান মতিও চৌধুরি জাকারিয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপরাধ) হাসিবুল আলম জানান, চৌধুরী জাকারিয়ার ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

স্কুলের দ্বন্দ্ব ও সিসি ক্যামেরায় যা দেখা গেল

শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মতিউর রহমান মতি দাবি করেছেন, তিনি ১৩ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পদে আছেন। শিক্ষকদের মাঝে কোনো বিরোধ তার জানা নেই। পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের সম্পর্কও ভালো ছিল।

এদিকে মামলার বাদী নিহত প্রধান শিক্ষকের ভাই আতিকুর রহমান জানান, তার ভাইয়ের নিহত স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জলি নিজের স্কুল ছুটির পর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষক স্বামীসহ অন্য শিক্ষকদের কয়েকজন স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমের হোটেল থেকে জিলাপি আনিয়ে খান। এ সময় মাহমুদা আক্তার জলি স্কুলে চা পান করেন। পরে তারা বাড়ির উদ্দেশে স্কুল ত্যাগ করেন। স্কুল ত্যাগ করে বগারটেক আসার পথে প্রায় ২৭ মিনিট সময় লেগেছে।

এ অবস্থায় ওই দম্পতি স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের স্থান পর্যন্ত সড়কের পাশের বিভিন্ন স্থাপনায় লাগানো সব কয়টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি বলে দাবি পুলিশের।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই দম্পতি স্কুল থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর লাশ উদ্ধারের স্থান পর্যন্ত পুরো সময়ের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু ওই ফুটেজের কোথাও বাইরে থেকে কেউ গাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়নি।’

এ অবস্থায় পুলিশ দুটি বিষয় সামনে রেখে কাজ করছে। একটি হলো যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে তাদের খাদ্যের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল। আরেকটি হলো- গাড়ির এসির গ্যাস নিঃসরণের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। উভয় কারণ যাচাই করতে কিছু আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে ঢাকায় একাধিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ মতামত পাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেলোয়ার হোসেন জানান, সিসি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা স্কুল থেকে বের হয়ে একটি পেট্রল পাম্পে গাড়ির জ্বালানি নেন। পরে কামরুজ্জামান নামের এক সহকর্মীকে একটি স্থানে নামিয়ে দেন। সেখানে একটি দোকান থেকে তারা পান কিনেন। পরে গাড়িটি টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ উড়াল সড়কের নিচে কিছু সময় যানজটে আটকে থাকে। সেখান থেকে বগারটেক পৌঁছাতে তাদের সময় লাগে ২৭ মিনিটের মতো।

এই সময়ের মধ্যে ওই গাড়ি থেকে আর কাউকে নেমে যেতে অথবা ওই গাড়িতে আর কাউকে উঠতে দেখা যায়নি। প্রাইভেট কারটি ঘটনাস্থলের কাছে কিছুটা পথ একটু ডানে-বাঁয়ে এঁকেবেঁকে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যায়। এরপরও গাড়িটি চালু ছিল। পরে এর জ্বালানি শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড ধরে তদন্তকাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। কয়েকজনকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।’

জেলা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ছায়া তদন্ত করছি। এখনও কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে রহস্য উদঘাটন সহজ হবে।’

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছেদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে হচ্ছে। আমরা ছায়া তদন্তে নেমে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তবুও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্ত ও বিভিন্ন নমুনার রিপোর্টের জন্য।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনশনে স্কুলশিক্ষক
শিক্ষক দম্পতির রহস্যমৃত্যুতে হত্যা মামলা
শিক্ষক দম্পতির রহস্যমৃত্যু: কিডনি ও ফুসফুসে জমাট রক্ত
নিজ গাড়িতে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Militant robbery 3 accomplices of accused remanded

জঙ্গি ছিনতাই: আসামির ৩ আশ্রয়দাতা রিমান্ডে

জঙ্গি ছিনতাই: আসামির ৩ আশ্রয়দাতা রিমান্ডে সিসিটিভি ফুটেজে জঙ্গিদের পালানোর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলার শুনানি শেষে ১২ আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে দুজনকে ছিনিয়ে নেয় সহযোগীরা।

ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আসামি ঈদী আমিনের তিন আশ্রয়দাতার তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাকিল আহম্মদের আদালতে তাদের হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

রিমান্ড পাওয়া তিনজন হলেন- খোতেজা আক্তার লিপি, নাসির মিয়া ও তানভীর হোসেন।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর আসামি ঈদী আমিন আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর বিচারক তাকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠান।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলার শুনানি শেষে গত ২০ নভেম্বর ১২ আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে দুজনকে ছিনিয়ে নেয় সহযোগীরা। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা দুই আসামি ঈদী আমিন ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি আদালত থেকে বের হয়ে যান।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় জামিন পাওয়া দুজনকেও আসামি করা হয়েছে।

সিটিটিসি ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোর্টের শুনানি শেষে প্রথমে চারজনকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দুটি হাতকড়া দিয়ে দুজনকে আটকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাকি আসামিরা তখন উপরে ছিলেন।

‘চারজনের মধ্যে মইনুল হাসান ও আবু সিদ্দিককে জঙ্গিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে মো. আরাফাত ও মো. সবুরকে নিতে পারেনি। এই কাজে জঙ্গিরা পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় একজনের আত্মসমর্পণ, চার দিনের রিমান্ড
‘কারাবন্দি জঙ্গি ও ছিনতাই টিম সমন্বয় করেন অমি’
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী ৭ দিনের রিমান্ডে
জঙ্গি আরাফাতকে ছিনিয়ে নেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য
জামিনে থাকা জঙ্গি অমি গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abbas the former mayor of Katakhali is free on bail

জামিনে মুক্ত কাটাখালীর সাবেক মেয়র আব্বাস

জামিনে মুক্ত কাটাখালীর সাবেক মেয়র আব্বাস
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রতিষ্ঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন আব্বাস আলী। ঘরোয়া একটি বৈঠকের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে। অডিওতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করলে ‘পাপ হবে’ এমন মন্তব্য করতে শোনা যায় আব্বাসকে।

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বরখাস্ত হওয়া মেয়র আব্বাস আলী এক বছর পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় মঙ্গলবার সকালে আব্বাস আলীকে জামিন দিয়েছেন। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি সন্ধ্যায় মুক্তি পান। কারাফটক থেকে তাকে মোটরসাইকেল শোডাউন করে নিয়ে যান সমর্থকরা।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আব্বাস আলী পর পর দুবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে মেয়র হন। তিনি ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও দলটির জেলা কমিটির সদস্য।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রতিষ্ঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন আব্বাস আলী। ঘরোয়া একটি বৈঠকের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে। অডিওতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করলে ‘পাপ হবে’ এমন মন্তব্য করতে শোনা যায় আব্বাসকে।

এ রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ারিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল মমিন। এরপর কাটাখালী পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ইসলাম আরেকটি মামলা করেন কাটাখালী থানায়।

সে বছরের ১ ডিসেম্বর ভোরে র‌্যাব ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১০ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আব্বাসকে বরখাস্ত করে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর।

আইনজীবী ইসমত আরা জানান, তিনটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র।

আরও পড়ুন:
মেয়র আব্বাসের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের আবেদন
দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন মেয়র আব্বাস: র‍্যাব
মেয়র আব্বাস আটক
মেয়র আব্বাস কোথায়
মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Killing on border BSF returns melted body after 17 days

সীমান্তে হত্যা: ১৭ দিন পর গলিত মরদেহ ফেরত বিএসএফের

সীমান্তে হত্যা: ১৭ দিন পর গলিত মরদেহ ফেরত বিএসএফের ভারত সীমান্তে পড়ে থাকা বাংলাদেশী কৃষকের মরদেহ নিতে আসেন স্ত্রী-সন্তানরা। ছবি: নিউজবাংলা
স্ত্রী মরিয়ম গলিত মরদেহ দেখে বলেন, ‘লাশ দেখে চেনা যাচ্ছে না এটা কে? তারা লাশের সঙ্গেও অমানবিক আচরণ করেছে। লাশটা ঠিকমতো সংরক্ষণ করেনি। আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।’

ফেনীর পরশুরামে সীমান্তের ওপারে পড়ে থাকা বাংলাদেশী কৃষকের মরদেহ ১৭ দিন পর গলিত অবস্থায় ফেরত দিয়েছে সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ।

বিলোনিয়া ইমিগ্রেশনে চেকপোস্ট দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিজিবি ও পুলিশের কাছে কৃষক মেজবাহার উদ্দিনের লাশ হস্তান্তর করে ভারতীয় বাহিনীটি।

ফেনীর পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম এসব নিশ্চিত করেছেন।

মেজবাহর বাঁশপদুয়া উত্তরপাড়ার মফিজুর রহমানের ছেলে। গত ১৩ নভেম্বর বাঁশপদুয়া এলাকা থেকে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ তার স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের।

তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, সেদিন বিকেলে সীমান্ত এলাকায় যান মেজবাহার। সেখানে বিএসএফের সদস্যরা তাকে আটক ও মারধর করে বলে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মরিয়ম ও তার পরিচিতরা সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে মেজবাহরকে পাননি। এর তিন দিন পর সকালে গিয়ে কাঁটাতারের ওপারে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

মরদেহ বুঝে নিতে মঙ্গলবার সীমান্তে আসেন মেজবাহারের স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অন্য স্বজনরা।

স্ত্রী মরিয়ম গলিত মরদেহ দেখে বলেন, ‘লাশ দেখে চেনা যাচ্ছে না এটা কে? তারা লাশের সঙ্গেও অমানবিক আচরণ করেছে। লাশটা ঠিকমতো সংরক্ষণ করেনি। আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।’

সীমান্তে হত্যা: ১৭ দিন পর গলিত মরদেহ ফেরত বিএসএফের

লাশ হস্তান্তর করতে আসেন সেদেশের ত্রিপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ দাস। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেননি তিনি।

পরিতোষ জানান, লাশের মাথায় আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরশুরাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লাশ গ্রহণ করেছি। ভারত লাশ উদ্ধারের সময় সেটি নষ্ট হয়ে যায়। যদি মেজবাহারের পরিবার ডিএনএ করার আবেদন করে, তাহলে রাষ্ট্র সেটি করবে।’

পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল বলেন, ‘নিহত মেজবাহারের পরিবার অত্যন্ত গরীব। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা উচিত। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
সীমান্তে বিজিবি-বিজিপির যৌথ টহল শিগগিরই
বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে
নাফ নদীতে বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ
মৃত মায়ের মুখ মেয়েকে দেখতে দিল বিজিবি-বিএসএফ
শূন্যরেখায় বাংলাদেশি যুুবকের গলিত মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abirs parents are also on remand and search is on for Ayats body

আবিরের মা-বাবাও রিমান্ডে, খোঁজ চলছে আয়াতের মরদেহেরও

আবিরের মা-বাবাও রিমান্ডে, খোঁজ চলছে আয়াতের মরদেহেরও চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ সাত বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দ্বিতীয় দফায় সাত দিন রিমান্ডের প্রথম দিনে মঙ্গলবার আয়াতের খণ্ডিত মরদেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হচ্ছে বলেও জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

চট্টগ্রামে আলোচিত পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়াত হত্যার ঘটনায় এবার আটক আবিরের মা-বাবাকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার মহানগর হাকিম অলি উল্লাহর আদালতে তাদের হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এর আগে আয়াত হত্যার ঘটনায় আবিরের মা আলো বেগম, বাবা আজহারুল ইসলাম ও ১৫ বছর বয়সী বোন আঁখি আক্তারকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব। সোমবার রাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

অভিযুক্ত আবিরের মা-বাবাকে রিমান্ডে পেলেও বোন আঁখি আক্তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে রিমান্ডে পায়নি পুলিশ। তবে প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নগরীর ডবলমুরিং এলাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

এদিকে আয়াত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আবিরকে সোমবার দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের প্রথম দিনেই তার মা-বাবাকেও রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

তবে এখন পর্যন্ত আয়াত হত্যার ঘটনায় আবিরের মা-বাবা ও বোনের তেমন কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, ‘এখনো তাদের (আবিরের বাবা-মা ও বোন) সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। মূলত তাদের আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তবে এখন রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তাদের। দেখা যাক, কিছু পাওয়া যায় কি-না।’

আয়াত হত্যার ঘটনায় আবিরের মা-বাবা ও বোনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানান র‌্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) নুরুল আবছার।

আয়াত নিখোঁজের ৯ দিন পর ২৫ নভেম্বর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে আয়াতের পরিবারের ভাড়াটে আবির আলীকে আটকের কথা জানায় পিবিআই।

সংস্থাটি আরও জানায়, আটকের পর আয়াতকে খুন ও মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেন আবির। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে আয়াতকে অপহরণচেষ্টার সময় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে দাবি আবিরের।

এরপর গত শনিবার প্রথমবার আবিরকে ২ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। রিমান্ডে থাকার সময় তাকে নিয়ে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে সাগরপাড়ে নিষ্ফল অভিযান পরিচালনা করে পিবিআই।

দ্বিতীয় দফায় সাত দিন রিমান্ডের প্রথম দিনে মঙ্গলবার আয়াতের খণ্ডিত মরদেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হচ্ছে বলেও জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

আরও পড়ুন:
আয়াত হত্যায় আরও ৭ দিনের রিমান্ডে আবির
কোথায় গেল আয়াতের টুকরা দেহ
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sword attack on police van carrying Aftab
শ্রদ্ধা হত্যা

আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা

আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা আফতাব পুনাওয়ালাকে বহনকারী পুলিশভ্যানে হামলা ঠেকাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির রোহিনির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পলিগ্রাফ টেস্ট শেষে আফতাবকে জেলে নেয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫ জন হামলাকারী তরবারি হাতে এ হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী আহত হয়েছেন। তবে নিরাপদে আছেন আফতাব। 

ভারতের শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যা মামলার অভিযুক্ত আফতাব পুনাওয়ালাকে বহনকারী পুলিশভ্যানে তরবারি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে এ হামলা হয়।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, দিল্লির রোহিনির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পলিগ্রাফ টেস্ট শেষে আফতাবকে জেলে নেয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫ জন হামলাকারী তরবারি হাতে এ হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী আহত হয়েছেন। তবে নিরাপদে আছেন আফতাব।

এদিকে শ্রদ্ধা ওয়াকারের মরদেহ টুকরো টুকরো করায় ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে পুলিশ আফতাবের দেয়া তথ্যে আরও পাঁচটি ছুরি উদ্ধার হয়। তবে শ্রদ্ধার খুলি ও মরদেহের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায় , শ্রদ্ধাকে হত্যার পর তার কানের দুল এক নারী চিকিৎসককে দিয়েছিলেন আফতাব। ওই নারী চিকিৎসকের সঙ্গে শ্রদ্ধাকে হত্যার পর ডেটিং করেন আফতাব পুনাওয়ালা।

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ২৮ বছরের যুবক আফতাব পুনাওয়ালা তার লিভ ইন পার্টনার ২৬ বছরের শ্রদ্ধা ওয়াকারের সঙ্গে দিল্লির ছাতারপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। চলতি বছরের ১৮ মে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সেদিন শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আফতাব।

পরে মরদেহ ৩৫ টুকরা করে ৩০০ লিটার ধারণক্ষমতার ফ্রিজে প্রায় তিন সপ্তাহ রাখেন। ফ্রিজ থেকে টুকরাগুলো কয়েক দিন ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেলেন তিনি। ৮ নভেম্বর শ্রদ্ধার বাবা বিকাশ মদন ওয়াকার মেয়ের খোঁজে মেহরাউলি পুলিশের কাছে অপহরণের অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে ১২ নভেম্বর আফতাবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bushras family wants bail education life in uncertainty

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন ফারদিন নূর পরশ ও আমাতুল বুশরা। ছবি: সংগৃহীত
ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আমাতুল বুশরাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়নি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রামপুরা থানার পুলিশও বলছে ফারদিন হত্যায় বুশরার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে বুশরা জামিনে মুক্তি পেলে ‘তদন্তকাজে বিঘ্ন ও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা’ জানিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে ডিবি। বিচারক সেটি গ্রহণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে কারাবন্দি আছেন বুশরা।

তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিন না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন। প্রচণ্ড মানসিক চাপের পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা নাগাদ বুশরাকে নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন ফারদিন। এরপর রামপুরায় বুশরা যে মেসে থাকেন তার কাছাকাছি তাকে পৌঁছে দেন। এরপর আর ফারদিন বুয়েট ক্যাম্পাস বা নিজের বাসায় ফেরেননি।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় ১০ নভেম্বর আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন তার বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে যাওয়ায় রিমান্ডে বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বও পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে বুশরাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যায় তার কোনো যোগসাজশ পাননি গোয়েন্দারা। তদন্তে ফারদিনের সঙ্গে বুশরার নিছক পরিচয় ও বন্ধুত্বের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুশরাকে রামপুরায় নামিয়ে দেয়ার পর ফারদিন যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বুশরা। এমনকি ফারদিন তা জানাতেও চাননি।

‘বুশরা ফারদিনকে সেই রাতে সবশেষ ১০টা ৫৯ মিনিটে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। এতে তিনি জানতে চায় ফারদিন বাসায় পৌঁছেছেন কিনা? জবাবে ফারদিন লেখেন, হ্যাঁ। এরপর আর তাদের আর কোনো কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রিমান্ডে থাকার সময় বুশরাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে ফারদিন যতক্ষণ ছিলেন তার বর্ণনা লিখে দিতে বলা হয়েছিল। প্রতিবারই বুশরা একই জিনিস লিখেছেন। আমরা ফারদিন হত্যা মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা এখনও পাইনি।’

তবে রিমান্ডে শেষে ১৬ নভেম্বর বুশরাকে আদালতে পাঠিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী ডিবি পরিদর্শক মজিবুর রহমান।

আদালতে আবেদনে তিনি লেখেন, ‘আমাতুল বুশরাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়ে উচ্চ আদালতের নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

‘আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন জানালেও ঢাকা মহানগর হাকিম আতাউল্লাহর আদালতে শুনানি শেষে তা নাকচ করে বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ফারদিন হত্যায় বুশরার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেগেটিভ।’

সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনের কারণ জানতে চাইলে রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘বাদীর (ফারদিনের বাবা) ধারণা এই মেয়েই হত্যাকাণ্ডের জন্য একমাত্র দায়ী। যদিও আমরা এ রকম কিছু পাইনি। বাদীর অভিযোগ সম্পর্কে আমাকে সহানুভূতি দেখাতে হবে।

‘আর আদালতে করা আবেদনের বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, যদি সে (বুশরা) জামিন পায়ও তখন যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে, তদন্ত কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়।’

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার এমন আবেদনে হতাশ বুশরার বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ে রিমান্ডে থাকার সময় একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। ফারদিনের মৃত্যুতে আমার মেয়ের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছিলেন রিমান্ড শেষেই বুশরা ছাড়া পাবে। তারাই বলেছেন ভালো উকিল ধরে জামিন আবেদন করতে, কিন্তু জামিন হয়নি।’

বুশরার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটিতে ওর তৃতীয় সেমিস্টার চলছিল। অ্যারেস্ট হওয়ার পর আমরা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই সেমিস্টার ড্রপ করার আবেদন করেছি। তারা বলেছে, এই মাসে ও জামিন পেলে চলতি সেমিস্টারে থাকতে পারবে, নয়তো নতুন করে আবার ভর্তি হতে হবে।’

মেয়ের জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান মঞ্জুরুল ইসলাম।

মঞ্জুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে। আমার মেয়ে ফারদিন হত্যায় জড়িত নয়।

‘আমার মেয়েকে বিনা দোষে মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারদিন হত্যায় প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেয়া হোক। আমার নির্দোষ মেয়েকে মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ফরদিনের সঙ্গে বিতার্কিক সূত্রে বুশরার পরিচয় হয়।

বুশরার মা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে জানান, স্কুল ও কলেজে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন বুশরা। সে জন্য যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বা পারদর্শী, তাদের সঙ্গে বুশরা নিজে থেকেই যোগাযোগ রাখতেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে বুশরার পরিচয় হয় ফারদিন নূর পরশের সঙ্গে। পরিচয়ের পর থেকে মেসেঞ্জার ও মোবাইলে কলে বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলত। আর এভাবেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’

মামলায় বুশরাকে আসামি করা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এর আগে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ফারদিনের বান্ধবী বুশরার সেই ধরনের কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য না পাওয়ায় মামলায় তার নাম উল্লেখ না করতে অনুরোধ করেছিলাম। আমরা তাকে (মামলার বাদী) পরামর্শ দিয়েছিলাম, যেহেতু সেও (বুশরা) একজন শিক্ষার্থী, পরবর্তী অনুসন্ধানে তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে আমরা আসামি হিসেবে তাকে যুক্ত করব।

‘তবে তিনি (বাদী) কোনো কথা মানতেই রাজি ছিলেন না। তার বক্তব্য ছিল, যেহেতু ওই মেয়ে শেষ সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে ছিল তাই অবশ্যই তাকে মামলার আসামি করতে হবে।

‘অগত্যা তিনি এজাহারটি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা নিয়েছি। মামলার একমাত্র আসামি হওয়ায় তাকে (বুশরা) সেদিনই গ্রেপ্তার করি।’

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

ঘটনার সঙ্গে বুশরার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে ফারদিনের বাবা নূরউদ্দিন রানা ১৭ নভেম্বর ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুশরা এ হত্যায় জড়িত না থাকলে তো অবশ্যই খুব খারাপ লাগবে। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে বুশরার সঙ্গে ফারদিনের ৫-৬ ঘণ্টা কাটানোর কথা নয়। আর তাকে বাসার পাশে নামিয়ে দেয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল ফারদিন। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে, বুশরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না মনে করছেন তদন্তে কোনো সম্পৃক্ততা না পেলে বুশরার জামিন হওয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কিছু না পেয়ে থাকে, যতটুকু আমি পত্রপত্রিকায় পড়েছি, তার বিরুদ্ধে স্পেসিফিক এলিগেশন এনেছেন ফারদিনের বাবা। তার এলিগেশন হলো, সে (বুশরা) তার ছেলের সঙ্গে ছিল, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। যেটা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। এ পর্যায়ে এসে একটা মেয়ের জামিন হওয়া উচিত। এটা হলো আমার অপিনিয়ন।’

আরও পড়ুন:
মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু
যাত্রাবাড়ীতে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্তের দাবি ডিবির
তদন্তে কোথাও একটা ফাঁকি আছে: ফারদিনের বাবা
ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি
ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bail granted to 12 farmers arrested for defaulting loans

খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন

খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ কৃষককে জামিন দিয়েছে আদালত। রোববার আদালত প্রাঙ্গণ। ছবি: নিউজবাংলা
২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়। ঋণখেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ কৃষককে জামিন দিয়েছে আদালত।

রোববার বেলা ১১টার দিকে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. শামসুজ্জামান এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলার অন্য ২৫ আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন তিনি।

জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের শুকুর প্রামাণিকের ছেলে ৫০ বছর বয়সী আলম প্রামাণিক, মনি মণ্ডলের ছেলে ৪৫ বছর বয়সী মাহাতাব মণ্ডল, মৃত কোরবান আলীর ছেলে ৫০ বছরের কিতাব আলী, হারেজ মিয়ার ছেলে ৪৩ বছরের হান্নান মিয়া, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ৪০ বছরের মোহাম্মদ মজনু, মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে ৫০ বছরের মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান, মৃত সোবহান মণ্ডলের ছেলে ৫০ বছরের আব্দুল গণি মণ্ডল, কামাল প্রামাণিকের ছেলে ৪৫ বছরের শামীম হোসেন, মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে ৪৩ বছরের সামাদ প্রামাণিক, মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে ৪৫ বছরের নূর বক্স, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ৪৬ বছরের মোহাম্মদ আকরাম এবং লালু খাঁর ছেলে ৪০ বছরের মোহাম্মদ রজব আলী। গ্রেপ্তার সবাই প্রান্তিক কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়। ঋণখেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।

২৩ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পরোয়ানাভুক্ত ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

কৃষকদের পরিবারের দাবি, ঋণ নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ কৃষক তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। তাদের পাস বই ও জমা স্লিপও রয়েছে। অথচ সেই অর্থ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন। ফলে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

কৃষকরা জানান, গত বুধবার যখন কৃষকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, তখন তারা গাজরের ক্ষেতে কাজ করছিলেন। বাড়িতে ও বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারা ঋণের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বলেন, কৃষকরা ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের অফিশিয়াল ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা তাদের আইনগত সহায়তা পেয়েছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদুর রহমান সুমন, কাজী সাজ্জাদ ইকবাল লিটন ও মইনুল ইসলাম মোহন।

আরও পড়ুন:
‘আইএমএফের শর্ত শুভদিক খুলে দিতে পারে’
আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯,১৩৯ কোটি টাকা
আবাসন ঋণের ৭৫ শতাংশই ৫ ব্যাংকের
এখন অন্যরাও ঋণ দেবে, সংকট কেটে যাবে

মন্তব্য

p
উপরে