× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Contempt of court Order on Kushtia DC SP on Monday
hear-news
player
google_news print-icon

আদালত অবমাননা: কুষ্টিয়ার ডিসি-এসপির বিষয়ে আদেশ সোমবার

আদালত-অবমাননা-কুষ্টিয়ার-ডিসি-এসপির-বিষয়ে-আদেশ-সোমবার
সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত
আদালতে আদেশে হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও নিলাম করা সম্পত্তির গ্রহনকারী ব্যবসায়ী। তাদেরকে আদেশের সময় আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করা কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডির বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার দিন ঠিক করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে আদেশে হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও নিলাম করা সম্পত্তির গ্রহনকারী ব্যবসায়ী। তাদেরকে আদেশের সময় আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার ডিসি ও এসপিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহিত দিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আবেদন জানান। এ বিষয়ে আদালত বলেন, ‘এটা আদালত অবমাননার মামলা। আদেশের সময় তাদেরকে আদালতে হাজির থাকতে হবে।’

আদালত অবমাননার মামলায় কুষ্টিয়ার সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী কোভিড সংক্রান্ত রিপোর্ট ও চিকিৎসকের সনদ আদালতে জমা দেন।

শুনানির সময় আদালত জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এই সম্পত্তি সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

পুলিশ সুপার (এসপি) মো. খায়রুল আলম বলেন, ‘আদালতের আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার ওসি আমাকে অবহিত করেননি। যার কারনে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’

তখন আদালত বলেন, ‘আপনি পুলিশ সুপার হিসাবে একজন ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। এই ক্ষমতা আপনার দু’ভাবে ভোগ করার সুযোগ আছে। জনগণের সেবা করে অথবা স্বেচ্ছাচারীভাবে। এখন বলুন, আপনি এই ক্ষমতা কিভাবে ভোগ করেন?’

জবাবে এসপি বলেন, ‘জনগণের সেবার মাধ্যমে এই ক্ষমতা ভোগ করে থাকি।’

ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেনকে হাইকোর্ট বলেন, ‘ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে আপনারা একটি চিঠি দিয়ে নিলাম হওয়া হওয়া সম্পত্তি সাত দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে বললেন। যদি ওই সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে না দেয় তাহলে আইনানুযায়ী প্রশাসনের সাহায্য নিতে আপনি কি কোন চিঠি দিয়েছিলেন?’

জবাবে এমডি বলেন, ‘আমি কোন চিঠি দেইনি।’

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘নিলাম কার্যক্রমের উপর আদালতের স্থগিতাদেশ আছে সেটা জানার পর নিলাম ক্রয়কারী ব্যক্তিকে সেটি অবহিত করেছিলেন?’

জবাবে এমডি বলেন, ‘জানা নাই।’

নিলামে সম্পত্তি ক্রয়কারী রশিদ অ্যগ্রো ফুড লিমিটেডের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের কাছে আদালত জানতে চান, ‘নিলাম সম্পত্তি কেনার পর ব্র্যাক ব্যাংক কি আপনাকে তার দখল বুঝিয়ে দিয়েছে?’

জবাবে তিনি বলেন, ‘জ্বি, ব্যাংক বুঝিয়ে দিয়েছে। তবে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কোন কাগজ আমার কাছে নেই।’

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘তাহলে কিভাবে আপনি ওই সম্পত্তির দখল নিলেন? নিজেই কি ওই সম্পত্তির দখল নিয়েছেন?’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন, ডিসি ও এসপির পক্ষে আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান ও ইউসুফ খান, এমডির পক্ষে সৈয়দ মিনহাজুল হক ও ব্যবসায়ী শফিকুলের পক্ষে রাগীব রউফ চৌধুরী।

সম্পত্তি নিলাম কার্যক্রমের উপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও তা না মানার অভিযোগে করা আদালত অবমাননার মামলায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি, কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি ও নিলামে সম্পত্তি নেয়া ব্যবসায়ী আব্দুল রশিদকে গত ১১ আগস্ট তলব করেছিল হাইকোর্ট। সেই তলব আদেশ অনুযায়ী তারা রোববার আদালতে হাজির হন।

আইনজীবী রাগীব রউফ চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন বিশ্বাস ট্রেডার্স, ভিআইপি রাইস মিল ও ভিআইপি ফ্লাওয়ার মিলসহ বসতভিটা আট একর জমির উপর অবস্থিত। তিনি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৪২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার সম্পত্তির উপর নিলাম ডাকা হয়। শফিকুলের সম্পত্তির মোট মূল্য ১৩৩ কোটি টাকা। যা নিলামে ১৫ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘নিলামের পর ৪ আগস্টের মধ্যে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট নিলাম পরবর্তী সকল কার্যক্রম স্থগিত করে।

‘একইসঙ্গে এক মাসের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংককে ২০ কোটি এবং বছরে ৬ কোটি টাকা করে পরিশোধ করতে শফিকুলকে নির্দেশ দেয়। সেই মোতাবেক হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে ল’ ইয়ার্স সার্টিফিকেট দিয়ে অবগত করা হয়। কিন্তু সেই আদেশ না মেনে নিলাম করা সম্পত্তি দখলে নেয়ার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা হয়।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Order to dispose of cases pending for 29 years

২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
অস্ত্র আইনে চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানার চম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক চৌধুরীসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২৯ বছর আগে। এক আসামি অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে মামলার কার্যক্রম ঝুলে যায়।

চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানার চম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক চৌধুরীসহ দুই জনের বিরুদ্ধে ২৯ বছর স্থগিত থাকা একটি অস্ত্র মামলার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান।

পরে আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, অস্ত্র আইনে চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানার চম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক চৌধুরীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় ১৯৯২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানা অভিযোগপত্র দেয়। পরবর্তীতে এ মামলার একজন আসামি আহম্মদ ছফা ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন। সে সময় হাইকোর্ট রুল জারি করে।

এ মামলার আসামি মজিবুল হক পলাতক। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে মামলাটি স্থগিত হয়ে আছে। এ অবস্থায় ন্যায়বিচারে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এমন বিষয় উপস্থাপন করে হাইকোর্টের নজরে আনেন একলাছ উদ্দিন ভুঁইয়া। পরে শুনানি করে আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের বিষয়ে কয়েকটি শুনানি করা হয়। শুনানি শেষে আদালত স্থগিত থাকা এ মামলার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
‘কারাবন্দি জঙ্গি ও ছিনতাই টিম সমন্বয় করেন অমি’
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী ৭ দিনের রিমান্ডে
জামিনে থাকা জঙ্গি অমি গ্রেপ্তার
ঢাকার বিচারিক আদালতে নিরাপত্তা জোরদার
পলাতক দুই জঙ্গি ও সহায়তাকারীরা দ্রুতই ধরা পড়বে: সিটিটিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bushras family wants bail education life in uncertainty

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন ফারদিন নূর পরশ ও আমাতুল বুশরা। ছবি: সংগৃহীত
ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আমাতুল বুশরাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়নি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রামপুরা থানার পুলিশও বলছে ফারদিন হত্যায় বুশরার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে বুশরা জামিনে মুক্তি পেলে ‘তদন্তকাজে বিঘ্ন ও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা’ জানিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে ডিবি। বিচারক সেটি গ্রহণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে কারাবন্দি আছেন বুশরা।

তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিন না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন। প্রচণ্ড মানসিক চাপের পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা নাগাদ বুশরাকে নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন ফারদিন। এরপর রামপুরায় বুশরা যে মেসে থাকেন তার কাছাকাছি তাকে পৌঁছে দেন। এরপর আর ফারদিন বুয়েট ক্যাম্পাস বা নিজের বাসায় ফেরেননি।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় ১০ নভেম্বর আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন তার বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে যাওয়ায় রিমান্ডে বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বও পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে বুশরাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যায় তার কোনো যোগসাজশ পাননি গোয়েন্দারা। তদন্তে ফারদিনের সঙ্গে বুশরার নিছক পরিচয় ও বন্ধুত্বের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুশরাকে রামপুরায় নামিয়ে দেয়ার পর ফারদিন যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বুশরা। এমনকি ফারদিন তা জানাতেও চাননি।

‘বুশরা ফারদিনকে সেই রাতে সবশেষ ১০টা ৫৯ মিনিটে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। এতে তিনি জানতে চায় ফারদিন বাসায় পৌঁছেছেন কিনা? জবাবে ফারদিন লেখেন, হ্যাঁ। এরপর আর তাদের আর কোনো কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রিমান্ডে থাকার সময় বুশরাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে ফারদিন যতক্ষণ ছিলেন তার বর্ণনা লিখে দিতে বলা হয়েছিল। প্রতিবারই বুশরা একই জিনিস লিখেছেন। আমরা ফারদিন হত্যা মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা এখনও পাইনি।’

তবে রিমান্ডে শেষে ১৬ নভেম্বর বুশরাকে আদালতে পাঠিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী ডিবি পরিদর্শক মজিবুর রহমান।

আদালতে আবেদনে তিনি লেখেন, ‘আমাতুল বুশরাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়ে উচ্চ আদালতের নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

‘আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন জানালেও ঢাকা মহানগর হাকিম আতাউল্লাহর আদালতে শুনানি শেষে তা নাকচ করে বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ফারদিন হত্যায় বুশরার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেগেটিভ।’

সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনের কারণ জানতে চাইলে রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘বাদীর (ফারদিনের বাবা) ধারণা এই মেয়েই হত্যাকাণ্ডের জন্য একমাত্র দায়ী। যদিও আমরা এ রকম কিছু পাইনি। বাদীর অভিযোগ সম্পর্কে আমাকে সহানুভূতি দেখাতে হবে।

‘আর আদালতে করা আবেদনের বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, যদি সে (বুশরা) জামিন পায়ও তখন যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে, তদন্ত কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়।’

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার এমন আবেদনে হতাশ বুশরার বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ে রিমান্ডে থাকার সময় একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। ফারদিনের মৃত্যুতে আমার মেয়ের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছিলেন রিমান্ড শেষেই বুশরা ছাড়া পাবে। তারাই বলেছেন ভালো উকিল ধরে জামিন আবেদন করতে, কিন্তু জামিন হয়নি।’

বুশরার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটিতে ওর তৃতীয় সেমিস্টার চলছিল। অ্যারেস্ট হওয়ার পর আমরা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই সেমিস্টার ড্রপ করার আবেদন করেছি। তারা বলেছে, এই মাসে ও জামিন পেলে চলতি সেমিস্টারে থাকতে পারবে, নয়তো নতুন করে আবার ভর্তি হতে হবে।’

মেয়ের জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান মঞ্জুরুল ইসলাম।

মঞ্জুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে। আমার মেয়ে ফারদিন হত্যায় জড়িত নয়।

‘আমার মেয়েকে বিনা দোষে মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারদিন হত্যায় প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেয়া হোক। আমার নির্দোষ মেয়েকে মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ফরদিনের সঙ্গে বিতার্কিক সূত্রে বুশরার পরিচয় হয়।

বুশরার মা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে জানান, স্কুল ও কলেজে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন বুশরা। সে জন্য যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বা পারদর্শী, তাদের সঙ্গে বুশরা নিজে থেকেই যোগাযোগ রাখতেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে বুশরার পরিচয় হয় ফারদিন নূর পরশের সঙ্গে। পরিচয়ের পর থেকে মেসেঞ্জার ও মোবাইলে কলে বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলত। আর এভাবেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’

মামলায় বুশরাকে আসামি করা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এর আগে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ফারদিনের বান্ধবী বুশরার সেই ধরনের কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য না পাওয়ায় মামলায় তার নাম উল্লেখ না করতে অনুরোধ করেছিলাম। আমরা তাকে (মামলার বাদী) পরামর্শ দিয়েছিলাম, যেহেতু সেও (বুশরা) একজন শিক্ষার্থী, পরবর্তী অনুসন্ধানে তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে আমরা আসামি হিসেবে তাকে যুক্ত করব।

‘তবে তিনি (বাদী) কোনো কথা মানতেই রাজি ছিলেন না। তার বক্তব্য ছিল, যেহেতু ওই মেয়ে শেষ সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে ছিল তাই অবশ্যই তাকে মামলার আসামি করতে হবে।

‘অগত্যা তিনি এজাহারটি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা নিয়েছি। মামলার একমাত্র আসামি হওয়ায় তাকে (বুশরা) সেদিনই গ্রেপ্তার করি।’

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

ঘটনার সঙ্গে বুশরার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে ফারদিনের বাবা নূরউদ্দিন রানা ১৭ নভেম্বর ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুশরা এ হত্যায় জড়িত না থাকলে তো অবশ্যই খুব খারাপ লাগবে। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে বুশরার সঙ্গে ফারদিনের ৫-৬ ঘণ্টা কাটানোর কথা নয়। আর তাকে বাসার পাশে নামিয়ে দেয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল ফারদিন। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে, বুশরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না মনে করছেন তদন্তে কোনো সম্পৃক্ততা না পেলে বুশরার জামিন হওয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কিছু না পেয়ে থাকে, যতটুকু আমি পত্রপত্রিকায় পড়েছি, তার বিরুদ্ধে স্পেসিফিক এলিগেশন এনেছেন ফারদিনের বাবা। তার এলিগেশন হলো, সে (বুশরা) তার ছেলের সঙ্গে ছিল, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। যেটা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। এ পর্যায়ে এসে একটা মেয়ের জামিন হওয়া উচিত। এটা হলো আমার অপিনিয়ন।’

আরও পড়ুন:
মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু
যাত্রাবাড়ীতে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্তের দাবি ডিবির
তদন্তে কোথাও একটা ফাঁকি আছে: ফারদিনের বাবা
ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি
ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The hearing of the complaint against the emperor has been delayed for 8 months

সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ৮ মাস

সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ৮ মাস মুক্তি পেয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে যান বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ছবি: সংগৃহীত
এদিন সম্রাট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। এরপর তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন হিরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেন।

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ আট মাস পিছিয়ে আগামী বছরের ৩ আগস্ট ঠিক করেছে আদালত।

রোববার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফায়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ঠিক ছিল।

এদিন সম্রাট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। এরপর তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন হিরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন।

আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেন।

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটি করেন র‍্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেক। ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। ২০১৯ সালের ৭ অগাস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সেদিন বিকেলে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে।

বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ ডিসেম্বর
দুদকের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল
সম্রাটের মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ২০ অক্টোবর
সম্রাটের জামিন বাতিল কেন নয়: হাইকোর্ট
সম্রাটের জামিন বাতিলে হাইকোর্টে দুদক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The question of the High Court is whether big debtors are above trial

বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের

বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ফাইল ছবি
দুদকের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘ঋণখেলাপিরা আইনের চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাহলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে খেলাপি হচ্ছে। আপনারা ধরছেন না কেন?’

বড় বড় ঋণখেলাপিরা বিচারের ঊর্ধ্বে থাকবেন কি না, সে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

ঋণ জালিয়াতির মামলায় এক ব্যাংক কর্মকর্তার জামিন বাতিল আবেদনের শুনানিকালে রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রশ্ন তোলে।

সমবায় ব্যাংক হতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় ১২ কৃষকের গ্রেপ্তার নিয়ে আলোচনার মধ্যেই হাইকোর্ট উল্লিখিত প্রশ্ন তুলল। ঈশ্বরদীর ওই ১২ কৃষককে রোববার জামিন দিয়েছে পাবনার আদালত।

হাইকোর্টের বেঞ্চ বলে, ‘যারা অর্থশালী তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? আর দুদক কি তাদের রেখে চুনোপুঁটিদের ধরতে ব্যস্ত থাকবে?’

দুদকের উদ্দেশে হাইকোর্ট আরও বলে, ‘ঋণখেলাপিরা আইনের চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাহলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে খেলাপি হচ্ছে। আপনারা ধরছেন না কেন?

‘যারা বড় বড় ঋণখেলাপি, তারা কি বিচারের ঊর্ধ্বে থাকবে? যারা অর্থশালী, তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে?’

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম এ আজিজ খান ও খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মামলায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এ এস এম হাসানুল কবিরের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের শুনানির সময় আদালত এসব কথা বলে।

দীর্ঘদিনেও এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরীসহ ১২ জনের নামে রমনা থানায় ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ মামলা করেন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার ম্যানেজার নকীবুল ইসলাম। এ মামলায় ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর ব্যাংকটির তৎকালীন ডেপুটি ম্যানেজার এএসএম হাসানুল কবীর ও জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর দুজনকে জামিন দেয় বিচারিক আদালত। সেই জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে।

আরও পড়ুন:
ধানমন্ডির বাড়িটি সরকারি সম্পত্তি
ফুটপাত লিজ: তালিকা চায় হাইকোর্ট
বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা তদন্ত করবে পিবিআই: হাইকোর্ট
কারাগারে চিকিৎসকের শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ
বিচারককে গালি, ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন পিরোজপুরের পিপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 lawyers want investigation into withdrawal of money from Islami Bank

‘ইসলামী ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার’ তদন্ত চান ৩ আইনজীবী

‘ইসলামী ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার’ তদন্ত চান ৩ আইনজীবী রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
চিঠিতে তিন আইনজীবী বলেন, ‘গত ২৪ নভেম্বর প্রথম আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা অসাধুচক্র তুলে নিয়েছে। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

ইসলামী ব্যাংকের টাকা তুলে নেয়ার বিষয়ে প্রথম আলোতে ছাপা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিন আইনজীবী।

শিশির মনিরসহ সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবীরা শনিবার এ চিঠি পাঠান।

গত ২৪ নভেম্বর ‘ইসলামী ব্যাংকে ভয়ংকর নভেম্বর’ শিরোনামে প্রতিবেদনে প্রথম আলো জানায়, চলতি বছর আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয় ১ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে। এ কারণে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা চলতি মাসকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’ বলছেন।

চিঠিতে ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছেন তিন আইনজীবী।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পত্র পাঠানো বাকি দুই আইনজীবী হলেন আবদুল্লাহ সাদিক ও যায়েদ বিন আমজাদ।

চিঠিতে বলা হয়, ‘এই যে আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নিয়মিত গ্রাহক। ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করে থাকি।

‘গত ২৪ নভেম্বর প্রথম আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা অসাধুচক্র তুলে নিয়েছে। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

চিঠিতে তিন আইনজীবী উল্লেখ করেন, ‘স্বীকৃত মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে। এমতাবস্থায় এই ধরনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে আমরা সংক্ষুব্ধ। উপরিউক্ত বিষয়টি আমলে নিয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

‘একই সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। আশা করি উক্ত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাদের কৃতার্থ করবেন।’

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহবিষয়ক আলোচনা
ইসলামী ব্যাংকের সাউন্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ক্যাম্পেইন শুরু
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
ইতালিতে ইসলামী ব্যাংকের মতবিনিময়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Viral Chhatra League leader cut and injured after bathing with milk

দুধ দিয়ে গোসল করে ভাইরাল ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

দুধ দিয়ে গোসল করে ভাইরাল ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম কিশোরগঞ্জে দুধ দিয়ে গোসল করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ছাত্রলীগ নেতা আরমিন আহমেদকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
আরমিনের ভাগনে নাইমুল ইসলাম রনি জানান, রাত ১০টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে চার বন্ধুকে নিয়ে থানারঘাট এলাকায় একটি হোটেলে খেতে গিয়েছিলেন তার মামা। সেখান থেকে ফেরার পথে মির্জাপুর বাইপাস সড়কে পৌঁছা মাত্রই দুটি মাইক্রোবাসে করে ১৫ থেকে ২০ যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুধ দিয়ে গোসল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ছাত্রলীগ নেতা আরমিন আহমেদকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

আরমিন আহমেদ উপজেলা সদরের বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহসভাপতি।

পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরমিনের সঙ্গে থাকা মুন্না নামের একজনের বরাতে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আগেই তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। কে বা কারা হামলা করেছে- এই বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

আরমিনের ভাগনে নাইমুল ইসলাম রনি জানান, রাত ১০টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে চার বন্ধুকে নিয়ে থানারঘাট এলাকায় একটি হোটেলে খেতে গিয়েছিলেন তার মামা। সেখান থেকে ফেরার পথে মির্জাপুর বাইপাস সড়কে পৌঁছা মাত্রই দুটি মাইক্রোবাসে করে ১৫ থেকে ২০ যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় সঙ্গে থাকা অন্যরা দৌড় দিলে পড়ে যান আরমিন। তখন হামলাকারীদের একজন চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। পরে অন্যরা হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে চলে যায়।

রনি বলেন, ‘মামা (আরমিন) তাদের চিনতে পেরেছেন। জ্ঞান ফিরলে নাম জানা যাবে।’

কে বা কারা হামলা করতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে ছিলাম না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, নবগঠিত কমিটির নেতা-কর্মীরা করতে পারেন। কারণ দুধ দিয়ে গোসল করার পর তার প্রতি সবাই ক্ষুব্ধ।

পাকুন্দিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল আলমের যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি শুনলাম।

উল্লেখ্য, ১২ বছর পর ৫ অক্টোবর নতুন কমিটি পায় পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজ ওমান খান স্বাক্ষরিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে নাজমুল আলমকে সভাপতি ও মো. তোফায়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সেই কমিটিতে ১ নম্বর সহসভাপতি করা হয় আরমিনকে। সে ছিল সভাপতি পদপ্রার্থী। কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে ৬ অক্টোবর রাতে ক্ষোভে দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে কলঙ্ক মুক্ত করার দাবি করেন।

গোসলের ২২ সেকেন্ডের এই ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন আরমিন। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশু জগভর্তি দুধ ছাত্রলীগ নেতার মাথায় ঢালছে আর তা সারা শরীরে মেখে নিচ্ছেন তিনি।

যিনি ভিডিওটি ধারণ করছেন তিনি প্রশ্ন করেন, আরও রাজনীতি করবা?

এ সময় হাত নেড়ে না করেন ওই ছাত্রলীগ নেতা।

গত অক্টোবরে নিউজবাংলাকে অভিমানী আরমিন বলেছিলেন, ‘আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলাম। এ ছাড়া আরও যে পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন তাদের মধ্যে আমি সিনিয়র। কিন্তু বুধবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজ উমান খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাজমুল আলমকে সভাপতি ও তোফায়েল আহমেদ তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। যেটা আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পাই। এই কমিটিতে যাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, তারা আমার জুনিয়র। কমিটিতে জুনিয়রদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেখে আমাকে করা হয়েছে ১ নম্বর সহসভাপতি।

‘এতে তাকে সম্মানিত না করে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। বলেন, ‘আমার ১২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৭টি মামলার আসামি হয়ে দুবার কারাবরণ করেছি। এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত জেলে বসে দিয়েছি। অথচ আমাকে মূল্যায়ন না করে মূল্যায়ন করা হয়েছে জামায়াত-বিএনপি থেকে উঠে আসা ছেলেদের। তাই নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি।’

রাজনীতিতে আপনি থাকছেন কি না এমন প্রশ্নে বলেন, ‘রাজনীতিতে ছিলাম, আছি, থাকব।’ নিজেকে খানিকটা সান্ত্বনা দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
মুসল্লিদের হামলায় মোহাম্মদপুর থানার ওসি আহত
‘ধাক্কা লাগায়’ গরম তেলে শিশুর হাত ঝলসে দিলেন বাবুর্চি
স্কুলের সিলিং ফ্যান পড়ে আহত ৪ ছাত্রী
‘সিনিয়র-জুনিয়র বসা নিয়ে দ্বন্দ্ব’: যুবলীগ নেতা আহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Where did the body of the verse go?

কোথায় গেল আয়াতের টুকরা দেহ

কোথায় গেল আয়াতের টুকরা দেহ শিশু আয়াত ও আসামি আবির আলী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ পেয়েছি, যার একটি নেভী গেট এলাকার। রিকশায় করে আবির পলিথিনে মোড়া টুকরা মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন- এমন দৃশ্য আছে সেখানে। আরেকটি ফুটেজ একটি দোকানের। সেখান থেকে আবির বঁটি, স্কচটেপ ও এন্টি-কাটার কিনেছেন।’

চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় ৫ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যার তদন্তে অগ্রগতি থাকলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি তার মরদেহ। শিশুর টুকরা দেহের সন্ধানে তল্লাশি চলছে সাগরপাড় ও আশপাশে। জোয়ার-ভাটায় দেহাংশগুলো হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামি গ্রেপ্তারের কথা জানালেও তার স্বীকারোক্তি না মেলায় কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে তদন্তে। গ্রেপ্তার আবির আলীর জবানবন্দি রেকর্ড করাকেই এখন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সে ক্ষেত্রে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার না হলেও তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

সন্দেহভাজন আসামি আবির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পিবিআই। শুক্রবার রাতে মামলা হলেও এজাহারে তার নাম না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোথায় গেল আয়াতের টুকরা দেহ
শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। ছবি: সংগৃহীত

তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে পিবিআই জানায়, শিশু আয়াতকে হত্যার কাজে ব্যবহার করা রক্তমাখা বঁটি ও এন্টি-কাটার উদ্ধার হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষায় অপরাধ প্রমাণ করা যাবে। প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাগরে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ পেয়েছি। যার একটি নেভি গেট এলাকার। রিকশায় করে আবির পলিথিনে মোড়া টুকরা মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন- এমন দৃশ্য আছে সেখানে। আরেকটি ফুটেজ একটি দোকানের। সেখান থেকে আবির বঁটি, স্কচটেপ ও এন্টি-কাটার কিনেছেন।’

তথ্য বিশ্লেষণে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অপহরণ ও হত্যার পর আয়াতের মরদেহ আবির প্রথমে নিয়ে যান তার বাবার বাসায়। তার বাবা আজহারুল ইসলাম এ সময় বাসায় ছিলেন না। সেখান থেকে পলিথিনে প্যাঁচিয়ে কিছুক্ষণ পর মরদেহটি নেয়া হয় আকমল আলী সড়কে আবিরের মায়ের বাসায়।

মাকে কৌশলে আবির পাঠিয়ে দেন আয়াতের বাড়িতে। এরপর ফাঁকা বাসার বাথরুমে নিয়ে আয়াতের মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন সাগরপাড় এলাকা ও স্লুইসগেট নালায় ৬ টুকরা মরদেহ ফেলা হয় বলে আবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন।

আয়াতের বাবা সোহেল রানা শুক্রবার রাতে ইপিজেড থানায় মামলা করেছেন। সেখানে তিনি আসামি হিসেবে আবিরের নাম উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, ‘পিবিআই একজনকে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করেছে। বাদী সোহেল রানা এজাহার লিখে এনে জমা দিয়েছেন। আমরা তা গ্রহণ করেছি। মামলা হয়েছে, এটা পিবিআই তদন্ত করছে। আসামি পরেও যোগ হতে পারে, এতে তদন্তে সমস্যা হবে না।’

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় আয়াতের বাবা সোহেল রানা মামলার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘মামলা করছে সোহেল, ক্যামনে কী করছে জানি না। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যারে (আবির) পুলিশ ধরেছে, তার আমরা ফাঁসি চাই।’

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ অলরেডি হত্যার আলামত পেয়েছে। রক্তমাখা বঁটি, এন্টি-কাটার- এগুলো তো গুরুত্বপূর্ণ আলামত। আর গ্রেপ্তার করা আসামির স্বীরোক্তিমূলক জবানবন্দি পেলে অপরাধ প্রমাণে তেমন কিছুই লাগবে না।’

গ্রেপ্তার আবিরকে শনিবার বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন সয়ারের আদালতে হাজির করা হয়। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ২ দিনের রিমান্ড দেয়।

গত ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বন্দরটিলার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

নিখোঁজের ৯ দিন পর পিবিআই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে। আবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়াতকে খুন ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পিবিআই কর্মকর্তাদের।

আরও পড়ুন:
শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ বস্তায়
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
চাচার ট্রলির চাকার নিচে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া

মন্তব্য

p
উপরে