× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The launch owners are happy that the government has decided 1860
hear-news
player
print-icon

লঞ্চ মালিকরা খুশি এক হাজারে, সরকার ঠিক করল ১৮৩৬

লঞ্চ-মালিকরা-খুশি-এক-হাজারে-সরকার-ঠিক-করল-১৮৩৬
এক লঞ্চ মালিক জানান, সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটা যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়েছে।

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এতদিন দুশ্চিন্তায় ছিলেন যাত্রীরা। এবার এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকরা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সরকার লঞ্চের ভাড়া যেভাবে বাড়িয়েছে, সেই ভাড়ায় যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন বরিশালের লঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যে কারণে সরকার যে হারে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, নেয়া হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। আর সেই কম নিয়েও ভালোই মুনাফা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন যারা, তারা প্রশ্ন তুলছেন, যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম নিয়ে লঞ্চ লাভে থাকতে পারে, তাহলে এত বেশি হারে ভাড়া নির্ধারণ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আসলে কার স্বার্থ দেখেছে?

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এমনিতে যাত্রীসংকটে ভোগা লঞ্চগুলোতে ভাড়া কমিয়ে যাত্রী ফেরানোর চেষ্টা ছিল। এর মধ্যে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পর সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নৌপথে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে ৩০ শতাংশ। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ঠিক করা হয়েছে ৩ টাকা।

এই হার সড়কপথে ভাড়া বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। সড়কপথে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৬ শতাংশ আর দূরপাল্লায় ২২ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। আর নগরে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া আড়াই টাকা আর দূরপাল্লায় ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে।

সড়কের চেয়ে নৌপথে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কেন বেশি হবে, তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। তবে এই হারে যে ভাড়া আসে, তা দেখে বরিশালের যাত্রীরা রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন। ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নৌপথে কেন যাবেন, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিলে যাত্রী কমবে, লোকসান হবে’

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলা এমভি মানামীর সুপারভাইজার শাহাদাৎ ইসলাম শুভ বলেন, ‘নভেম্বরে তেলের দাম বাড়ানোর পর ডেকের ভাড়া ৩৫২ টাকা করা হয়। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া সে সময় হয় ১ হাজার ৪০০ টাকা আর ডাবল কেবিনের ২ হাজার ৬০০ টাকা। তখনই যাত্রী কমে গিয়েছিল। এরপর পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীর ভাটা নামে। যে কারণে ডেকে ২০০ টাকায়, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ও ডাবল কেবিন ২ হাজার টাকা নেয়া হতো। এতে ধীরে ধীরে যাত্রী বাড়ছিল।

‘তবে ডেকে ৪৫৮ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৮৩৬ ও ডাবল কেবিন ৩ হাজার ৬৫০ টাকা করেছে সরকার। এই ভাড়ায় যাত্রী নেয়া শুরু করলে আবারও যাত্রী কমতে থাকবে।’

তাহলে আপনারা কত টাকা ভাড়া নিচ্ছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ডেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ৫৮ টাকা কমিয়ে ৪০০ টাকা করে নিচ্ছি। আর কেবিনের ভাড়া সেই আগেরটাই রয়েছে, সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার আর ডাবল কেবিনে ২ হাজার টাকাই নেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যদি সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিতে থাকি তাহলে যাত্রী কমবে এবং লোকসান হবে। তার থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাড়া রাখার চেষ্টা করছি আমরা।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে আরও এক লঞ্চ মালিক বলেন, ‘সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটা যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। ভাড়া বাড়িয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা সিন্ডিকেট করে। ঈদে লঞ্চগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়াই রাখবে।’

‘এত ভাড়া কি লঞ্চ মালিকদের ভালোবাইসা?’

লঞ্চ ভাড়া বাড়ার কারণে অনেক যাত্রীকেই বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঘুরে যেতে দেখা গেছে। তারা বাসে করে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকায় আসবেন বলে জানিয়েছেন।

সাইফুল শাহ নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ডেকে এত ভাড়া বেড়েছে তা ভাবিনি। অতি জরুরি কোনো কাজও নেই। তাই লঞ্চঘাট ত্যাগ করছি। কাল ৫০ টাকা কমে বিএমএফ পরিবহনে ঢাকা যাব।’

বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ছেড়ে যায় পারাবত ১১, সুরভী ৯, সুন্দরবন ১০, অ্যাডভেঞ্চার ১ ও মানামী লঞ্চ। সব লঞ্চের ডেক ভরা দেখা গেলেও কেবিন প্রায় সব লঞ্চেই ফাঁকা ছিল।

যাত্রীদের একটি বড় অংশ বলেছে, নতুন ভাড়ার বিষয়ে তারা জানতেন না। জানলে লঞ্চে উঠতেন না। তাদের মতে, এত বেশি ভাড়ায় যাতায়াত করা সম্ভব নয়।

এক যাত্রী বলেন, ‘লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ৩০০ বা ৩৫০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী নিয়েছে। তারা তো লোকসানে ছিল না। তাহলে এত বেশি ভাড়া কেন সরকার ঠিক করে দিল?’

মানামী লঞ্চে ডেকের যাত্রী শাওন হাওলাদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে ঢাকায় মাল আনতে গেছিলাম ২৫০ টাকা ভাড়া দিয়া পারাবাত লঞ্চে। ওই সময় অনেক লঞ্চে ৩০০ টাকা নিতেও দেখছি। এই ভাড়া কিন্তু নেয়া হইত তেলের দাম বাড়াইন্নার পর। এই ভাড়ায় যদি লঞ্চ মালিকগো ক্ষতি না অয়, তাইলে নতুন কইরা ভাড়া বাড়াইয়া কেন সাধারণ মানুষরে ভোগান্তিতে ফেলা হইতেছে? লঞ্চ মালিকদের ভালোবাইসা?’

লঞ্চ মালিকরা খুশি এক হাজারে, সরকার ঠিক করল ১৮৩৬

‘সরকার কাদের পক্ষে বুঝতেছি না’

আবুল হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘সরকার কাদের পক্ষে বুঝতেছি না। যেখানে অলরেডি লঞ্চ মালিকরা লাভবান, সেখানে তাদের আরও লাভবান করা হচ্ছে জনগণের পকেট কেটে। যদি লঞ্চ চালাতে লোকসান হতো, তাহলে কি মনে হয় লঞ্চ মালিকরা লঞ্চ চালাত?

‘এক টাকা লস হলেই লঞ্চ বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেয়। সেখানে তারা তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর আগে নির্ধারিত ৩৫০ টাকার কম ভাড়ায়ও যাত্রী পরিবহন করেছে। সেখানে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোটা সার্কাস মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সরকার রোলার চাপা দিচ্ছে।’

লঞ্চ মালিক সমিতি অবশ্য সরকারকে ৩০ শতাংশ নয়, শতভাগ ভাড়া বাড়ার সুযোগ দিয়েছিল।

সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ডেকের ভাড়ার থেকে চার গুণ ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কেবিনে। আশা করছি আমাদের লোকসান কমবে এবারে। তাছাড়া ভাড়া যে পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেছিলাম, সেই পরিমাণও বাড়ায়নি। আর পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চে যাত্রীসংখ্যা কমলেও ধীরে ধীরে এখন বাড়ছে।’

‘সরকারের ভাড়ায় যাত্রী পাব না’

কেবল বরিশাল থেকে ঢাকার পথে নয়, ঢাকা থেকে বরিশালের পথেও একই চিত্র। সদরঘাট যেন খাঁ খাঁ করছে।

বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে নদীপথে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে ঘুরে দেখে মেলেনি যাত্রীর সরব আনাগোনা। চাঁদপুর, ভোলাসহ অন্যান্য নৌরুটে যাত্রী থাকলেও অন্য রুটগুলোতে যাত্রী খুবই কম।

রেডসন ৫, এম ভি কুয়াকাটা ১, ২-এর সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম রাজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাত্রী অনেক কম। সচরাচর এমন কম থাকে না। ইদানীং তো আরও কম।’

এমভি পারাবাত ১৮ লঞ্চের মালিক ও সমিতির মহাসচিব শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই ভাড়া যাত্রীর কাছে চাইলে টিকিটই নিতে চাইবে না। তাই আমরা কম রাখছি।’

সুন্দরবন লঞ্চের মালিক ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের লঞ্চগুলোতে যাত্রী টানতে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয় আমরা সরকারের নজরে আনছি। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যানজট মুক্ত করাসহ সদরঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ও ঘিঞ্জি দূর করতে আমরা ওপর মহলে বারবার বলে আসছি।’

‘তাহলে ভাড়া বাড়ল কেন?’

যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন ব‌রিশাল নৌযাত্রী ঐক্য প‌রিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আব্দুর র‌শিদ নিলু বলেন, ‘য‌দি আগের ভাড়ায় যাত্রী নিতে লঞ্চের সমস্যা না হয়, তাহলে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর তো কোনো যৌ‌ক্তিকতা দেখ‌ছি না।

‘এটাই প্রমাণ করে নৌপ‌রিবহন মন্ত্রণালয় লঞ্চ মা‌লিকদের কথা মতো ভাড়া বা‌ড়িয়েছে, তারা আসলে কোনো যাচাই-বাছাই করেনি। তাদের উচিত ছিল মাঠপর্যায়ে এসে বিষয়‌টি দেখা।’

স‌ম্মি‌লিত সামা‌জিক আন্দোলন ব‌রিশাল জেলা ক‌মি‌টির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘আগের ভাড়াতেই যখন লোকসান হচ্ছে না, তখন নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর কী দরকার? আসলে সরকারের সঙ্গে লঞ্চ মা‌লিকদের আলোচনার সময় যাত্রীর পক্ষ হয়ে কেউ থাকে না। সেই সময়টাতেই সরকারকে ভুলভাল বু‌ঝিয়ে লঞ্চ মা‌লিকরা ভাড়া বা‌ড়িয়ে নেয়।

‘ঢাকা-ব‌রিশাল রুটের প্রতি‌টি লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ পর্যন্ত। তবে তারা যাত্রী বহন করে থাকে দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি। পাশাপা‌শি যে পণ্য প‌রিবহন করা হয়, সেটিও তোলা হয় না ভাড়া বাড়ানোর আলোচনায়।’

বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার উদ্ভট যুক্তি

যে ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো মুনাফা করছে, তার চেয়ে বেশি ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ পথের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ভাড়া না বাড়ালে লঞ্চগুলো চলতে পারত না।

তার দাবি, লঞ্চে সব সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেয়া হয়। এবারও তাই হচ্ছে।

তাহলে এত ভাড়া নির্ধারণের দরকার কী- আরও কম বাড়লে পারতেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত। আপনি যেটা মনে করছেন, ৩০ শতাংশ, সেটা হয়ত কথার কথা। ২৫ শতাংশ বা ২২ শতাংশ বাড়ালে যেটা হতো, সেটা আদায় করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম
অভিযান-১০ লঞ্চ বুঝে পেলেন মালিক
যাত্রী ঠকছে বিআরটিসির বাসেও
সর্বনিম্ন ভাড়া ১০, তবে প্রজাপতি ও পরিস্থানে ২৫
ওয়েবিল থাকবে না ঘোষণা দিয়ে কয়েক মাস সময় দাবি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Asian Tourism Fair starts on 29 September

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কারওয়ানবাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রোববার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার সংশ্লিষ্টরা। ছবি: নিউজবাংলা
নবম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার হবে ঢাকায়। তিন দিনের আন্তর্জাতিক মেলাটি ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। মেলা চালু থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

দেশের পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে নবমবারের মতো সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) হতে যাচ্ছে চলতি সপ্তাহে।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন সিটি বসুন্ধরায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তিন দিনের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রোববার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মো. মাহিউদ্দিন হেলাল।

লিখিত বক্তব্যে মাহিউদ্দিন হেলাল বলেন, ‘নবম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মেলাটি ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

‘বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় পর্যটন বিচিত্রার আয়োজনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।’

দেশের পর্যটন শিল্পকে জানান দেয়ার সময় এসেছে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘বিশ্ববাসী যখন দেখবেন আমাদের লেক, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, চা বাগান, পদ্মা ব্রিজ, মেট্রো রেল, ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই সবকিছু কিন্তু আমাদের পর্যটনকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপের কারণেই একজন পর্যটক এসে বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।’

সবার ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা দেশের পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে পারবে বলে মত দেন মাহবুব। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ, আমাদের বিমানবন্দর, আকর্ষণীয় জায়গা সবকিছুই একজন দেশি এবং বিদেশি পর্যটকের চিত্ত বিনোদনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি। খুব একটা দূরত্ব নাই।’

পর্যটন শিল্পকে টেকসই শিল্প বলে আখ্যায়িত করে মাহবুব আলী বলেন, ‘২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, সে লক্ষ্য পূরনে পর্যটন শিল্প বড় ভূমিকা রাখবে।’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সুন্দর সময়ে এই পর্যটন মেলা আয়োজন করা হয়েছে। পর্যটন খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করেছে। অভ্যন্তরীণ ট্যুরিজম অনেকটা সাফল্য অর্জন করেছি। এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরার বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই সবাই মিলে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায়।’

কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম বেশ আলোচিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে ট্যুরিজম সেক্টরে। আমরা নিয়মমাফিক উপায়েই এগিয়ে যাচ্ছি। অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। ভবিষ্যতে ট্যুরিজম শিল্পে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে।’

নবম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে আটটি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ, নেপাল, থাইল্যান্ড, ভারত, ভুটান, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও লিথুনিয়ার প্রায় ১৩০টি পর্যটন সংস্থা এতে অংশ নেবে। এর মধ্যে ৫০টির বেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান।

মেলায় থাকবে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে দেশ ও বিদেশে বেড়ানোর বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভ্রমণ অফার, হোটেল, রিসোর্ট বা প্যাকেজ বুকিংসহ বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, ক্রুজলাইনার, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর ও থিমপার্কসহ বিনোদনের আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া মেলায় বৈচিত্র্যময় আয়োজনে থাকবে পর্যটনবিষয়ক সেমিনার, শিশুদের জন্য চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিজনেস টু বিজনেস মিটিং। মেলায় থাকবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই মেলার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র দর্শনার্থীদের মাঝে তুলে ধরার প্রচেষ্টা থাকবে।

মেলায় এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, অ্য্যাডভেঞ্চার ডাইনিং পার্টনার- ফ্লাই ডাইনিং, ক্রুজ পার্টনার ঢাকা ডিনার ক্রুজ, এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার ফ্যান্টাসি কিংডম ও ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস।

মেলার প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা, প্রবেশ কুপনের বিপরীতে র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের জন্য থাকবে এয়ারলাইন্স টিকিটসহ মালয়েশিয়ায় বেড়ানো এবং আকর্ষণীয় গিফট ভাউচার। এ ছাড়া প্রতিটি টিকিটেই থাকবে মেলার এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের, ঢাকায় নেপালি দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন কুমার রায়, এশিয়ার ট্যুরিজম ফেয়ারের পরিচালক বোরহান উদ্দিন, ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ট্রিয়ার) সভাপতি খবিরউদ্দিন আহম্মেদ।

আরও পড়ুন:
পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে
পর্যটন সমৃদ্ধে নতুন উদ্যোগ
পর্যটক টানতে ভিসা সহজের কাজ চলছে
পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে
পর্যটনের জন্য জনগণকে ‘উদার হতে হবে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Festival of pitha in the Kingdom of Tal

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গায় তাল সম্রাজ্যে পিঠা উৎসব। ছবি: নিউজবাংলা
এ বছর তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়।

প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তাল গাছের রাজ্য। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য তাল গাছ। এক মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এই তাল সম্রাজ্যে বসেছিল তাল পিঠার মেলা।

শনিবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যপী এই মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই সেখানে সমাগম ঘটেছে হাজারো মানুষের।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তাল সড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে এ অঞ্চলের বহু মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশা-পাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তাল পিঠারও।

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গায় তাল সম্রাজ্যে পিঠা উৎসবে দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এ বছর তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়।

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সজিয়ে বসেন দোকানীরা।

বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানি জাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১২ রকমের পিঠা আছে। বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠা মেলায়।’

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
তালের হরেক রকম পিঠা বিকি-কিনি করছেন বিক্রেতা-ক্রেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায়। মিনা বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১৫ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্যরকম এক উৎসব বিরাজ করছে মেলায়।’

বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দর্শনার্থীরাও। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেকদিন ঘুরাফিরা করা হয় না। অনেক রকমের তালপিঠা পসরা সাজানো। সবমিলে খুব ভালো লাগছে।’

সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমি ও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী মিলে এসেছি মেলায়। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। অনেক চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।’

পিঠা মেলায় খাদ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সেখানে হাজির ছিলেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ।

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
হরেক রকম পিঠা নিয়ে ঘুঘুডাঙ্গার মেলায় উদ্যোক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তাল গাছ। এখানেই বসেছে রকমারী পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্যরকম স্বাধ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সকলের উচিত বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশরে ভারসাম্য রক্ষা করা।’

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজিনগর ইউননিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্যেশ্য ছিল, বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্য্য।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভাদ্র-আশ্বিনে বসানো হয় বর্ণিল এই আয়োজন। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত নতুন প্রজন্মের কাছে বিভিন্ন প্রজাতির গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকব না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে।’

আরও পড়ুন:
সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পেল পিঠার স্বাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
NovoAir is the best in on time performance
বাংলাদেশ মনিটরের পুরস্কার

অন টাইম পারফরম্যান্সে সেরা নভোএয়ার

অন টাইম পারফরম্যান্সে সেরা নভোএয়ার প্রতীকী ছবি
নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ২০২২ সালের ‘বেস্ট অন টাইম পারফরম্যান্স অফ দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতেছে। এ ছাড়া বেস্ট ডমিস্টিক এয়ারলাইন ক্যাটাগরিতে পেয়েছে রৌপ্য।

দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে এ বছর সেরা অন টাইম পারফরম্যান্স পুরস্কার পেয়েছে বেসরকারি নভোএয়ার।

পর্যটন ও এভিয়েশনভিত্তিক পাক্ষিক ‘বাংলাদেশ মনিটর’ এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

নভোএয়ারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ২০২২ সালের ‘বেস্ট অন টাইম পারফরম্যান্স অফ দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতেছে। এ ছাড়া বেস্ট ডমিস্টিক এয়ারলাইন ক্যাটাগরিতে পেয়েছে রৌপ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ মনিটর আকাশপথে নিয়মিত ভ্রমণকারীদের অনলাইনে মতামত জরিপের ভিত্তিতে এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে নভোএয়ারের হেড অফ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস মেজবাউল ইসলাম বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আগামীর পথচলায় আমাদের উৎসাহ জোগাবে। নভোএয়ার শুরু থেকেই সম্মানিত যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।

‘নভোএয়ার নিরাপদ ভ্রমণে ও সময় অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনায় যাত্রীদের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে। পূর্ণ যাত্রী সন্তুষ্টি এবং উন্নততর সেবার প্রতিশ্রুতি আমাদের পরিচালনার সকল স্তরে অব্যাহত থাকবে।’

প্রতিদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী ও কলকাতায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে নভোএয়ার।

আরও পড়ুন:
নভোএয়ারের টিকিটে কক্সবাজারের থাকা ফ্রি
২৭ মার্চ থেকে ফের চালু নভোএয়ারের কলকাতা ফ্লাইট
নভোএয়ারের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেবা বাড়ানোর আশাবাদ
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে স্বাভাবিক হলো উড়োজাহাজ চলাচল
পাইলটের দক্ষতায় বাঁচলেন নভোএয়ারের ৬৭ আরোহী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bhutan opened the border by increasing the cost of travel

ভ্রমণের খরচ বাড়িয়ে সীমান্ত খুলে দিল ভুটান

ভ্রমণের খরচ বাড়িয়ে সীমান্ত খুলে দিল ভুটান ভুটানের একটি পর্যটন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীতে পর্যটকদের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মাশুল দিতে হয় ভুটান তার মধ্যে অন্যতম। জলবিদ্যুতের পর পর্যটনই দেশটির রাজস্বের সবচেয়ে বড় খাত। সড়কপথে বাংলাদেশ থেকে ভুটান গেলে দেশটির অভিবাসন দপ্তর থেকে এন্ট্রি পারমিট নিতে হয়। আর বিমানে গেলে নিতে হয় বিমানবন্দরের পারমিট।

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আড়াই বছর বন্ধ রাখার পর আবার পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিল পাহাড়, নদী আর ঝরনার মিতালিতে সৃষ্ট প্রকৃতির এক অপরূপ নিদর্শনের দেশ ভুটান।

আগের চেয়ে পর্যটন ফি বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি (এসডিএফ) বেশ বাড়িয়ে শনিবার দেশটির সীমান্ত খুলে দেয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি

ভুটানে গত তিন দশক ধরে প্রতি রাতের জন্য একজন পর্যটককে দিতে হতো ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। তবে এখন থেকে এ জন্য গুনতে হচ্ছে ২০ হাজার ৭৫০ টাকা।

ভ্রমণের জন্য এত দিন আঞ্চলিক অর্থাৎ ভারতীয় ও বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য কোনো ফি ছিল না। কিন্তু নতুন নিয়মে তাদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব দেশের পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন দিতে হবে ১৫৩০ টাকা। আর ৬ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য ৭৬৫ টাকা লাগবে।

ভুটানের কনসাল জেনারেল জিগমে থিনলে নামগিয়াল বলেন, ‘পর্যটন একটি জাতীয় সম্পদ এবং আমরা কার্বন নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছি। এর নিজস্ব খরচ আছে। আমাদের পর্যটনকে টেকসই করতে আমরা আমাদের অবকাঠামোর উন্নয়ন করছি। এসব কারণে আমরা এই শুল্ক নিচ্ছি।’

পৃথিবীতে পর্যটকদের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মাশুল দিতে হয় ভুটান তার মধ্যে অন্যতম। জলবিদ্যুতের পর পর্যটনই দেশটির রাজস্বের সবচেয়ে বড় খাত।

সড়কপথে বাংলাদেশ থেকে ভুটান গেলে দেশটির অভিবাসন দপ্তর থেকে এন্ট্রি পারমিট নিতে হয়। আর বিমানে গেলে নিতে হয় বিমানবন্দরের পারমিট।

৪৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ ভুটানের জনসংখ্যা ৮ লাখের মতো। দেশটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ১০০। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এ দেশের সীমান্ত।

ভুটানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময়। উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা, মধ্য ও দক্ষিণ ভাগে নিচু পাহাড় ও মালভূমি এবং দক্ষিণ প্রান্তসীমায় সামান্য কিছু সাভানা তৃণভূমি ও সমভূমি আছে। মধ্যভাগের মালভূমির মধ্যকার উপত্যকাগুলোতেই বেশির ভাগ লোকের বাস।

বহির্বিশ্ব থেকে বহুদিন বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ভুটান প্রাণী ও উদ্ভিদের এক অভয়ারণ্য। এখানে বহু দুর্লভ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। ভুটানের প্রায় ৭০% এলাকা অরণ্যাবৃত।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ কমছে ভুটানের, গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা
ড্রুক এয়ারের ঢাকা-পারো ফ্লাইট শুরু ১ জুলাই
বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ ও ট্রেইনার নেবে ভুটান
বিনা শুল্কে ভুটানে যাবে বাংলাদেশের ১০০ পণ্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh Nepal joint campaign to conquer Dogari Himal

‘দোগারি হিমাল’ জয়ে বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ অভিযান

‘দোগারি হিমাল’ জয়ে বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ অভিযান
এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা যে অভিযানে যাচ্ছি তার পরিকল্পনা গত বছর থেকে করছিলাম। এই পর্বত শৃঙ্গটি ৬ হাজার ৫৩৬ মিটার উঁচু। এ চূড়াটিতে আগে কোনো অভিযান হয়নি। যার ফলে পথঘাট সম্পূর্ণ অজানা হবে। কী কী কঠিন বিষয় আছে সেটা গিয়ে বুঝতে হবে।’

হিমালয়ের ‘দোগারি হিমাল’ নামক পর্বতশৃঙ্গ জয়ে যৌথভাবে অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালের একটি পর্বতারোহী দল। বাংলাদেশ-নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এই অভিযান হচ্ছে।

এই অভিযানে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন দুইবার এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত।

সংবাদ সম্মেলনের বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এসব তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হিমালয়ের দোগারি হিমাল নামক চূড়ার উচ্চতা ২১ হাজার ৪৪৩ ফুট। ওই পর্বত চূড়ায় এখন পর্যন্ত কেউ আরোহণ করেননি।

এই যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ থেকে চারজন ও নেপাল থেকে চার জন পর্বতারোহী অংশ নেবেন। চার সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন এম এ মুহিত। এ ছাড়া বাকি তিন সদস্যের মধ্যে বাহলুল মজনু ও ইকরামুল হাসান একটি ৭০০০ মিটার চূড়াসহ হিমালয়ের একাধিক পর্বত আরোহণ করেছেন এবং রিয়াসাদ সানভী ভারতে পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ নিয়ে নেপালে পর্বত আরোহণে অংশ নিয়েছেন।

চার সদস্যের নেপাল দলের নেতৃত্বে থাকবেন বিখ্যাত পর্বতারোহী ও গাইড মিংমা গ্যালজে শেরপা।

‘দোগারি হিমাল’ জয়ে বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ অভিযান

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের পর্বতারোহী দলের তিন সদস্য আগামী ৩ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। চতুর্থ সদস্য ইকরামুল হাসান ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইলে’ তার চলমান অভিযান স্থগিত রেখে কাঠমান্ডুতে এই দলে যোগ দেবেন।

এ অভিযানটি যৌথভাবে পরিকল্পনা করছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব ও ইমাজিন নেপাল। এ ছাড়া স্পন্সর করছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৫ শতাংশ ছাড়ে অভিযাত্রীদের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা বিমান টিকিট দিয়েছে।

এই অভিযান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে বাংলাদেশ থেকে নেতৃত্বদানকারী ও দুইবার এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা যে অভিযানে যাচ্ছি তার পরিকল্পনা গত বছর থেকে করছিলাম। যা আমাদের দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ। এই পর্বত শৃঙ্গটি ৬ হাজার ৫৩৬ মিটার উঁচু। এ চূড়াটিতে আগে কোনো অভিযান হয়নি। যার ফলে পথঘাট সম্পূর্ণ অজানা হবে। সবকিছু আমাদের সেখানে গিয়ে ঠিক করতে হবে। কী কী কঠিন বিষয় আছে সেটা গিয়ে বুঝতে হবে। এই অভিযানটি পরিচালনা করতে আশা করছি আমাদের ২৮ দিন সময় লাগবে।’

ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই পর্বত জয়ের মাধ্যমে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক তৈরি হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো আরও উন্নত করতে পারি। বাংলাদেশের পুনর্জাগরণে খেলাধুলাকে অন্যতম একটি বিষয় হিসেবে গণনা করতে হবে।’

নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, ‘মুহিত ও তার দলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নেপাল ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অনেক মিল রয়েছে। নেপাল যেমন পর্বতসমৃদ্ধ ঠিক তেমনি পৃথিবীর লম্বা সমুদ্র সৈকত ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আপনাদের রয়েছে। পর্যটন সেক্টরে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব। আমাদের দুটি দেশই পর্যটন সমৃদ্ধ।’

আরও পড়ুন:
১৪ চূড়া দুবার করে জয়ের রেকর্ড তার
হিমবাহ ধসে ৭ মৃত্যু, জলবায়ুকে দিলেন দায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী
পাহাড়ের ডাক ফিরিয়ে দেয়া অসম্ভব: নিশাত মজুমদার
এবার লোবুচে শৃঙ্গ জিতলেন নিশাত
সিনাই পর্বত সৌদি আরবে, দাবি গবেষকদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Lokayat Shak Laukik diet

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস বাংলাদেশে খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম উপাদান শাক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রাচীনকালে গ্রামের বাঙালির অন্যতম প্রধান খাবার ছিল শাক-সবজি। চতুর্দশ শতকের ‘প্রাকৃত-পৈঙ্গল’-এ আছে, ‘কলাপাতায় গরম ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা মাছের ঝোল আর নালিতা শাক (পাট শাক) যে স্ত্রী নিত্য পরিবেশন করিতে পারেন তাঁহার স্বামী পুণ্যবান।‘

আমাদের খাদ্যাভ্যাস সংস্কৃতির শিকড় থেকে আসা। এটি প্রধানত হাজার বছর ধরে পুরাণ, ধর্ম, মিথ ও লোকাচারের ভিত্তিতে নির্মিত, আর অংশত এসেছে অন্নাভাব বা দারিদ্র্য থেকে। খাদ্যে শাকের সংযোজনও সেভাবে।

নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী এক সাক্ষাৎকারে বৈষ্ণব সাহিত্যিক হরিদাস দাসের ভাই মুকুন্দ দাসের আতিথেয়তার স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, সেদিন অন্য কিছু আয়োজন করতে না পেরে মাথার ওপর সুবিস্তারি তমালগাছের পাতা বেটে ভর্তা করে তিনি অতিথিদের ‘মধ্যাহ্নের’ (বৈষ্ণবরা দুপুরের আহারকে মধ্যাহ্ন বলে) আয়োজন করেছিলেন।

রাজা দশরথ মারা গেছেন এই সংবাদ পেয়ে বনবাসে থাকা রাম ইঙ্গুদি ফল বেঁটে তার সঙ্গে বদরি (কুল) মিশিয়ে কুশগাছের পাতায় বিছিয়ে ‘পিন্যাক’ তৈরি করে পিতার উদ্দেশে পিণ্ডদান করেছিলেন।

বলা বাহুল্য, বনবাসে না থাকলে নিশ্চয় উপাচারের আয়োজন অন্যরকম হতো। তাই ভাদুড়ি বলছেন, ‘আমরা যা খেতে চাই (বা পাই), দেবতাকে আমরা তাই দিই।‘

সুতরাং সারাংশ টানা যায়, আমাদের আশপাশে যা পাওয়া যায়, তা-ই নিজেরা খাই এবং এভাবে আমাদের খাদ্যাভ্যাস বা খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে ওঠে। শাক সেই অভ্যাসের অন্যতম উপাদান।

নীহাররঞ্জন রায়ের লেখা ‘বাঙালীর ইতিহাস আদিপর্ব’ গ্রন্থে আছে, ‘নানা প্রকারের শাক খাওয়া বাঙালির এক প্রাচীনতম অভ্যাস।‘

প্রাচীনকালে গ্রামের বাঙালির অন্যতম প্রধান খাবার ছিল শাক-সবজি। চতুর্দশ শতকের ‘প্রাকৃত-পৈঙ্গল’-এ আছে, ‘কলাপাতায় গরম ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা মাছের ঝোল আর নালিতা শাক (পাট শাক) যে স্ত্রী নিত্য পরিবেশন করিতে পারেন তাঁহার স্বামী পুণ্যবান।‘

পল্লীবাসী কৃষিনির্ভর বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিচয় প্রাকৃত পৈঙ্গলের আরেকটি পদে পাওয়া যায়, ‘পুত্র পবিত্রমনা, প্রচুর ধন, শুদ্ধচিত্তা স্ত্রী ও কুটুম্বিনী, হাঁক দিলেই ত্রস্ত ভৃত্যগণ- এসব ছেড়ে কোন বর্বর স্বর্গে যেতে চায়?’

পঞ্চদশ শতকের চৈতন্যচরিতামৃতে চৈতন্য দেবের খাদ্যতালিকায় ‘১০ প্রকার’ শাকের উল্লেখ দেখা যাচ্ছে-

পীত সুগন্ধী ঘৃতে অন্ন সিক্ত কৈল

চারিদিকে পাতে ঘৃত বাহিয়া চলিল।

কেয়াপত্র কলার খোলা ডোঙ্গা সারি সারি

চারিদিকে ধরিয়াছে নানা ব্যঞ্জন ভরি।

দশ প্রকার শাক নিম্ব সুকতার ঝোল

মরিচের ঝাল ছানাবড়া, বড়ি, ঘোল।

ষোড়শ শতকের চৈতন্যকাব্যগুলোতেও বাঙালির খাবার হিসেবে শাকের উল্লেখ রয়েছে। চণ্ডীমণ্ডলে অতি সাধারণ খাদ্য বর্ণনায় আছে ‘দুই তিন হাঁড়ি’ শাকের কথা!

খুদ কিছু ধার লহ সখীর ভবনে

কাঁচড়া খুদের জাউ রান্ধিও যতনে।

রান্ধিও নালিতা শাক হাঁড়ি দুই তিন

লবণের তরে চারি কড়া কর ঋণ।

অধ্যাপক যতীন সরকার একবার আমাকে গীতার (?) একটি শ্লোক শুনিয়েছিলেন, যার মর্মার্থ হচ্ছে, ‘ঘরের আশপাশেই যখন স্বাস্থ্যরক্ষা আর উদরপূর্তির ব্যবস্থা ছড়িয়ে আছে, তখন পোড়া পেটের জন্যে পাপকার্য কেন?'

আমার স্কুলের ‘পণ্ডিত স্যার’ বৈষ্ণব ছিলেন, তিনি পুঁই শাক খেতেন না, বলতেন ওটা ‘আমিষ’।

শাক কিভাবে সংস্কৃতির অংশ হলো তা বাঙালির ১৪ শাকের আচারের উদাহরণ দিলে স্পষ্ট হবে। দেওয়ালি বা ভূত চতুর্দশীর দিনদুপুরে খেতে হয় ১৪ শাকের ব্যঞ্জন আর সন্ধ্যায় জ্বালাতে হয় ১৪ প্রদীপ। ১৪ শাক* খেতে হয় কারণ এটাই ছিল এককালের কৃষিজীবী বঙ্গবাসীর নিয়ম।

কারোর জন্যে ছিল ধর্মীয় আচার। আর ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে ১৪ পুরুষের** আত্মাকে তুষ্ট করতে হয়। পুরাণ মতে, মৃত্যুর পর মানব শরীর পঞ্চভূতে (আকাশ, মাটি, জল, হাওয়া, অগ্নি) বিলীন হয়। তাই মাটি থেকে তুলে আনা শাক খেলে অতৃপ্ত আত্মার রোষানল থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। লোকধর্মের এই আচারের মধ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার এক অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে।

কেউ যদি এই আচার প্রতিপালন করতে চান তাহলে তাকে ১৪ রকম শাকের (বেশির ভাগই অ-চাষকৃত বনজ উদ্ভিদ) প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, অর্থাৎ যথেচ্ছাচারের মাধ্যমে কোনো একটি প্রজাতি যেন বিলীন হয়ে না যায়, সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।

একসঙ্গে অনেক প্রদীপ জ্বালানো ক্ষতিকারক কীটের হাত থেকে হৈমন্তিক ফসল রক্ষা করারও প্রাকৃতিক উপায়। দেওয়ালির অমাবস্যা রাতে উন্মুক্ত জ্বলন্ত প্রদীপে আত্মাহুতি দিয়ে পোকামাকড় মরে যায়। কীটনাশক ছাড়াই ফসল রক্ষা পায়। আবার এই সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। উত্তরের ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে শুরু করে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় ১৪ শাকের মিলিত পুষ্টি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সামাজিক ও লোকধর্মীয় আচারাদি আসলে প্রয়োজন ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

জমির বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিনা যত্নে জলা-জঙ্গল, পতিত জমি, পুকুর পাড়, জমির আইলে অনেক ধরনের শাক জন্মায়। মানুষ এদের পরিবর্তন ঘটাবার কোনো আয়োজন করেনি কখনও। সার বা পানি দিয়ে যত্নে পালন হয় না, ফলে অনেকটাই অবিকৃত থেকে গেছে এদের অবয়ব, স্বাদ ও গন্ধ।

তবে স্থানাভাবের কারণে একসময়ের শতাধিক অনাবাদি শাকের সংখ্যা এখন দ্রুত কমে আসছে। যেমন নটে শাক। তিন ধরনের নটের মধ্যে রাঙ্গানটে আর পাওয়া যায় না। সবুজনটে পাওয়া যায় আর কাঁটানটে বিলীন হওয়ার পথে।

মাথা ধরলে কাঁটানটের মূল এবং গোলমরিচ সামান্য পানি দিয়ে বেটে কপালে লাগাতে দেখা যায় গ্রামে। গর্ভাবস্থায় এবং আঁতুড়ঘরের খাবারের তালিকায় নটে শাক থাকত। এ ছাড়া অনেক অপ্রচলিত শাকও খাওয়ার চল আছে। যেমন: সজিনা, পিপুল, তেলাকুচা, নুনিয়া, ঢেঁকি, কলমি, গন্ধভাদালি, পুনর্নভা ইত্যাদি।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
কাঁটানটে। ছবি: জাহিদ হোসেন

পিপুল সুগন্ধিযুক্ত একটি লতানো গাছ। পাতা দেখতে অনেকটা পানের মতো। খোলা জংলা অথবা বদ্ধ জায়গায় জন্মায়। অ-চাষকৃত লতাজাতীয় উদ্ভিদ, তাই পরনির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে দ্রুত বাড়ে। কাশিতে ও হাঁপানিতে পিপুলের ঝোল করে খাওয়া হতো। এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
পিপুল শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

সজিনা শাককে বলা হয় ‘অলৌকিক শাক’, পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। একে বলা হয় নিউট্রিশনস সুপার ফুড এবং এর গাছকে বলা হয় মিরাকল ট্রি। ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করানো হয়। এই গাছ বাড়েও খুব দ্রুত। দুই-তিন বছরে ফুল দেয়। এর ফুল, পাতা, ফল (যাকে বলি শজনে ডাঁটা) সব কিছুই সুস্বাদু।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
সজিনা শাক। ছবি: সংগৃহীত

নুনিয়া শাকের স্বাদ একটু নোনতা। পতিত জমি, জমির আইল, রৌদ্রোজ্জ্বল মাটিতে জন্মায়। বলা হয় ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ এই শাকে অন্যান্য সব শাক-সবজির চেয়ে বেশি।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
নুনিয়া শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

ঢেঁকি শাকের আরেক নাম বউ শাক। বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে ছায়াময় এলাকার উপযোগী। সারা বছর চুপসে থাকলেও বর্ষার মৌসুমে বেশ তরতাজা হয়ে ওঠে। গ্রামাঞ্চলে জনপ্রিয়। ঢাকায় পাওয়া যায়, তবে কম।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
ঢেঁকি শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

কলমি শাক মূলত জলের আর ভেজা মাটির শাক। জন্মের পর শিশু মায়ের বুকের দুধ না পেলে মাকে কলমি শাক রান্না করে খাওয়াতে দেখা যায়। এই শাক পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে শোনা যায়। আজকাল কলমি বলতে বাজারে যেটা দেখা যায় তা চাষ করা হাইব্রিড কোনো পরিবর্তিত প্রজাতি। জীবনানন্দের সেই 'সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে' দোল দোলানো, গ্রীবা বাঁকানো কলমি এগুলো নয়।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
কলমি শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

আমাদের শৈশব ছিল মূলত শাকময়। সব যে ভাতের সঙ্গে তরকারি হিসেবে খাওয়া হতো তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবেও খাওয়া হতো। যেমন: আমাশয় হলে থানকুনি শাক বেঁটে তার রস, পেট ফাঁপলে বা বদহজম হলে গন্ধভাদালির পাতা সামান্য লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে সেই সিদ্ধ পানি এক গ্লাস, কৃমি হলে পটোলের শাক (পটোলের লতি) ভাজা গরম ভাতের সঙ্গে খাওয়ানো হতো।

জ্বরে বা মাথা ধরলে সামান্য লবণ দিয়ে আমরুল শাক বেঁটে কপালে প্রলেপ দেয়া হতো। আমাদের বাড়ির পাশে মতলেব নামের এক বাউল সাধুর আখড়া ছিল। পাশেই রাস্তা। একবার এক মাতাল খুব উপদ্রব করছিল রাস্তায়, সাধুর কাছে গাঁজা চাচ্ছিল। সাধু বলছিলেন, তিনি গাঁজার ব্যবসা করেন না, কিন্তু মাতাল শুনবে না। শেষে আমার নানি বাড়ির পাশ থেকে পুনর্নভা শাক তুলে বেঁটে তার রস খাওয়াতে দেখেছিলাম। কিছুক্ষণ পর মাতালের হুঁশ ফিরে এলো। অনেক বছর পর সেদিন চন্দ্রিমা উদ্যানে হাঁটতে যেয়ে পুনর্নভা দেখতে পেয়ে সেই পুরোনো কথা মনে পড়ছিল।

একটা কথা বলা দরকার। বাংলার গ্রামে অনাবাদি শাক সব সময়ে পাবলিক প্রপার্টি হিসাবে গণ্য হয়। অর্থাৎ জলা জঙ্গলে তো বটেই, এমনকি কৃষকের আবাদি জমিতেও যখন সাথি ফসল হিসেবে বথুয়া, দণ্ডকলস, জমির আইলে হেলেঞ্চা, থানকুনি ইত্যাদি জন্মায়, সেটা আর কৃষকের নিজের থাকে না। তার ওপর অধিকার বর্তায় গ্রামের সবার।

যে কেউ (সাধারণত নারীরা) জমির মালিকের অনুমতি ছাড়াই অনাবাদি এসব শাক তুলতে পারেন। এমনকি পথচলতি ভিনগায়ের নারীও কোনো সংকোচ ছাড়াই খেতে নেমে আঁচল ভরে এই শাক তুলে নিয়ে যেতে পারেন। কারণ এ শাক তো কোনো মালিক লাগায়নি, এটা নিজ থেকেই জন্মেছে। তাই এই শাক তোলার অধিকার সবার।

গ্রামীণ এই সংস্কৃতির সঙ্গে নারী-অধিকারের আদিম সংযোগ পাওয়া যায়। যে নারী এই শাক তোলেন তিনি আবাদি ফসলের কোনো ক্ষতি করেন না। অনাবাদি শাক তুলতে গিয়ে কখনও গাছসহ উপড়ে ফেলেন না। শুধু যে অংশটুকু রান্নার জন্য দরকার সে অংশটুকু তারা অতি যত্নের সঙ্গে তোলেন। এ কাজটি তারা খুব ভালোভাবেই করতে পারেন। এটা তাদের ইনডিজিনাস নলেজ।

শৈশবে দেখেছি, গ্রামীণ নারীরা ঘরে একটু চাল থাকলেই নিশ্চিন্ত থাকতেন। তাদের এই স্বস্তির একমাত্র কারণ ছিল শাক। একটু শাকভাত হলেই চলে যেত তাদের সংসার। এমনকি আষাঢ় মাসের অভাবের সময় কেবল কলমি শাক সিদ্ধ খেতেও দেখেছি তাদের। তবু তাদের কণ্ঠে শাক তোলার গান থাকত।

গানগুলোতে নারীর বিষাদ, বঞ্চনা, প্রেম আর পরিচর্যার সব গল্প মিশে থাকত। মনে আছে, একটা গান শুনেছিলাম বথুয়ার শাক নিয়ে (কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর অঞ্চলের উচ্চারণ ‘বাইতো শাক’)। গানে বলা হচ্ছে, এপারে ওপারে অনেক বথুয়ার শাক, কিন্তু শাক তুলতে যেয়ে সাপ দেখে বউ ফিরে এসেছে ফলে সবাই তাকে তিরস্কার করছে। ঘরে স্বামীর কটূ কথায় একে একে সে যায় রান্নাঘরে, উঠোনে, গোয়ালে… যেখানেই যায় সবাই একই গঞ্জনা দেয়। বোঝা যায় শ্বশুরবাড়িতে তার নিজস্ব কোনো জায়গাই নেই। মনের কথা বলা বা শোনার মতো কোনও মানুষও নেই।

বথুয়া শাকের গান এভাবেই কিছু অমোঘ সত্যকে ধরে রাখে সুরের বাঁধনে। পুরো গানটা মনে নেই কিন্তু সাপের ফণা তোলায় ভয় পেয়ে শাক তোলা ফেলে ফিরে আসা নতুন বউটির জন্য এখনও মায়া জেগে আছে মনে…

ইপার বাইতো উপার বাইতো, বাইতো দুমদুম করে

বাইতো শাক তুলতি গেলি সাপে পট করে

আরেকটা গানে পাট শাক তুলতে গিয়ে আনাড়ি বউ পাটের ডগা ভেঙে ফেলেছে দেখে স্বামী মেরেছেন। বউ তাই স্বামীকে রাগ করে ‘বুড়ো’ বলছেন-

পাটশাক তুলতি পাটের ডুগা ভাইঙ্গেছে

তাই দেখে বুড়া আমাক বড্ড মাইরেছে

বুড়ার মারে আমার কপাল ফাইটেছে…

অনেক অভিযোগ আপত্তির পর বউয়ের মান ভাঙে। একটু আগে গ্রামের মানুষকে তিনি সাক্ষী মানতে ডাকছিলেন, অবশেষে তাদেরকেই জানিয়ে দেন, ‘কিছুই করেনি বুড়া সুহাগ কইরেছে…।‘

এই লেখা পড়ে যদি নতুন করে শাক খেতে ইচ্ছা করে, তাহলে মনে রাখবেন, রান্নার সময় মাথায় রাখতে হয়- অল্প সময়, বেশি তাপ, রঙ বজায় রাখা, রান্নার প্রথম দিকে ঢাকনা না দেয়া, আলাদা পানি না দেয়া খুব জরুরি। বড়জোর পাঁচ মিনিটে শেষ করলেই ভালো।

আর হ্যাঁ, ফেলতে না জানলে শাক খেয়ে মজা নেই। কচি পাতার স্বাদই আসল শাকের স্বাদ।

* প্রধানত, ওল, বেতো, সরষে, পুঁই, শুশনি, নিম, মেথি, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, শুষণী, লাউ এবং স্থান ও প্রাপ্যতা ভেদে অন্য কোনো শাক।

** পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহী, বৃদ্ধপ্রমাতামহী, শ্বশুর, শাশুড়ি।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Japan keen to invest in Coxs Bazar tourism State Minister

কক্সবাজারের পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান: প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারের পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান: প্রতিমন্ত্রী সালনা রিসোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। ছবি: নিউজবাংলা
পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটন খাতের যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলোতে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে চায়। জাপানের রাষ্ট্রদূত সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

দেশের পর্যটন খাতে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেছেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গাজীপুরের সালনায় সোমবার দুপুরে ‘সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ‘পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে দেশের কতিপয় পর্যটন আকর্ষণীয় এলাকার পর্যটন সুবিধাদির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সালনা পর্যটন রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।

পর্যটন করপোরেশন জানিয়েছে, সালনা রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। শেষ হয় চলতি বছরের জুন মাসে।

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘পর্যটন খাতের বিকাশে সবচেয়ে যে জিনিসটা দরকার, তা হচ্ছে সবার এগিয়ে আসা ও বিনিয়োগ করা। অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তবে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ চলছে।

‘কক্সবাজারে পর্যটন খাতের যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলোতে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে চায়। জাপানের রাষ্ট্রদূত সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

ঢাকা থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সালনা মৌজায় সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট অবস্থিত। পর্যটন করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন বিভাগের ৩ দশমিক ১২ একর জায়গা নিয়ে রিসোর্টটি। এখানে ৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কটেজ রয়েছে। এ ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৬০ আসনের রেস্তোরাঁ, কফি কর্নার, কনফারেন্স হল, ২টি পিকনিক শেড ও একটি কুকিং শেড আছে।

অনুষ্ঠানে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলী কদরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ উল্লাহ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
পর্যটন সমৃদ্ধে নতুন উদ্যোগ
পর্যটক টানতে ভিসা সহজের কাজ চলছে
পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে
পর্যটনের জন্য জনগণকে ‘উদার হতে হবে’
বনজীবীদের সঙ্গে সুন্দরবনে হানি ট্যুরিজমের সুযোগ

মন্তব্য

p
উপরে