রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ইস্যুতে দ্রুতই সে দেশ থেকে একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। রুশ বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে বিদ্যমান তেল শোধনাগারগুলো পরিদর্শন করে এখানে রাশিয়ান তেল পরিশোধনের উপায় ও উপযোগিতা বিশ্লেষণ করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া থেকে ভারত জ্বালানি তেল আনছে। তাই সেখান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশেরও টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা হয়তো নেই। তবে ঘাটতি থাকতে পারে ক্যাপাসিটির। কারণ ভারতের মতো ক্যাপাবিলিটি হয়তো আমাদের নেই।’
এই সিনিয়র সচিব বলেন, ‘রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রিফাইন করার ক্যাপাসিটি যদি আমরা করে নিতে পারি তাহলে সেখান থেকে আমরাও জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারি। তবে সেটা হয়তো একটু সময়সাপেক্ষ।
‘এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি দল আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকায় আসছেন। আমাদের যে শোধনাগারগুলো আছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণের কাজগুলো চলবে। যে কারিগরি প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে, আমরা সেগুলো আপডেট করার কাজ করব। যেহেতু আজ নির্দেশনা এসেছে, তাই আমরা দ্রুতই অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসব। প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে।’
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘অনেকেই তো তেল নিচ্ছে। সুতরাং আমরাও নিতে পারব। অনেকে তো থার্ড কান্ট্রি থেকেও নেয়। আমি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লোক নই। তবু যতটুকু শুনেছি, বিষয়টি টেকনিক্যাল। আমাদের রিফাইনারিগুলো রাশিয়ান গাঢ় ক্রুড রিফাইন করার উপযুক্ত নয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল কিনলে ‘মুভ অফ পেমেন্ট’ কী হবে তা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করবে।’
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। রাশিয়ান তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে রাশিয়া থেকে তেল আনলে বিষয়টি আমাদের রপ্তানি বাজারে ঝুঁকি তৈরি করবে কীনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা তা দেখব। আর সেটি অনেক পরের ব্যাপার। কেবল কথা শুরু হলো। আমাদের এক্সপ্লোর করার কথা বলা হয়েছে। আমরা এক্সপ্লোর করে দেখব। যদি সে রকম কোনো ঝুঁকি থাকে তখন আমরা বিকল্প ব্যবস্থা দেখব।’
বিকল্প উৎস সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সেদিনও সৌদি রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সহায়তা করতে রাজি আছেন। কাতারের সঙ্গেও আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ওই দেশ থেকে আমরা এলএনজি আমদানি করি। ফলে আমাদের অনেক অপশন আছে।’
বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান থেকে তেল আনার সম্ভাবনা আছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘এটাও একটা পসিবিলিটি। ইরান থেকেও তেল আনা যায়। সে সম্ভাবনাও এক্সপ্লোর করা যায়। ইরানের ওপরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে তাদের সঙ্গে পশ্চিমাদের নেগোসিয়েশন চলছে। সেটার একটা পজিটিভ আউটকাম এলে তাদের ওপর থেকে হয়তো নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তখন এটাও একটা সম্ভাবনা তৈরি করবে।
‘তবে ইরানের যে সুইট ক্রুড আছে তা আমাদের রিফাইনারিতে কতটা কাজ করবে, তা ভেবে দেখতে হবে। মোট কথা, যতোগুলো সম্ভাবনা আছে তা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমাদের সামনে যে সুযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেটা সবার আগে দেখতে হবে। বিদ্যমান পাইপলাইনে সরবরাহটা যেন নিশ্চিত থাকে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যকেই অগ্রাধিকারে রাখছে সরকার। কারণ এতোদিন তারাই আমাদের জ্বালানি তেলের যোগানটা দিয়ে এসেছে।’
সচিব বলেন, ‘ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্য সোর্সগুলোও যাচাই করা হবে। তবে আগে তাদের সঙ্গে আমাদের এ বিষয়ক কোনো বাণিজ্য হয়নি। তাই এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
কাজী আনারকলি ইস্যু
ইন্দোনেশিয়া থেকে বহিষ্কৃত কূটনীতিক কাজী আনারকলি সম্পর্কিত প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় তার বাসায় মারিজুয়ানা থাকার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা মারিজুয়ানা সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছি। এক্ষেত্রে আমাদের সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা পরবর্তী প্রসিডিংয়ে হয়তো আরো গভীরে যেতে পারব।’
এটা ফোজদারি অপরাধ কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘না। এটা তো অন্য দেশের ঘটনা। এটা একেক দেশে একেক রকম। এটা যদি যুক্তরাষ্ট্রে হতো তাহলে সেখানকার অর্ধেক রাজ্যেই এটা কোনো বিষয় না। নেদারল্যান্ডেও কোনো বিষয় না। তাই আমরা আপাতত অফিসিয়াল অ্যাক্টেই বিষয়টি দেখছি।’
‘তার বাসায় কোনো বিদেশি থাকার সত্যতা আমরা পাইনি। তবে মারিজুয়ানা থাকার সত্যতা মিলেছে। তবে তা খুবই কম পরিমাণ। বিক্রির জন্য নয়, সেবনের জন্যই এটা রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।
‘তবে প্রপার ইনভেস্টিগেশনে সব পরিষ্কার হবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে তো আমরা এক ধরনের ইনফরমেশন পেয়েছি। তার ভিত্তিতেই আমরা তাকে দেশে নিয়ে এসেছি। তদন্তের স্বার্থে আবার আমাদেরকে সেখানে যেতে হলে তখন আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা সেখানে যাবে। তিনি সেখানে গেলে হয়তো আরো ডিটেইলস বের করতে পারবেন।’
সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে
সুইস রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে শিগগির আমরা আমাদের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসব। হয়তো তাদের কাছে পরিপূর্ণ তথ্য নেই। আবার আমাদের কাছেও হয়তো সব তথ্য নেই। সুতরাং দুই দেশের সরকারের মধ্যে যদি মেকানিজম তৈরি করা যায়, সেটাই চেষ্টা করা হবে।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট আছে। ওদেরও ইন্ডিপেন্ডেন্ট বডি আছে। তাদের সঙ্গে হয়তো পারস্পরিক সংযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে হয়তো সুইস অ্যাম্বাসেডর ওয়াকিবহাল নন। সে ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ আছে।
বার্নে সুইস অথরিটির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। সুইস দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। তাদের অন্যান্য অথরিটির সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের সঙ্গে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে আমরা তা অবসানের চেষ্টা করব। সুইজারল্যান্ড আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। আমাদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। তাই তাদের সঙ্গে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হোক তা আমরা চাই না।’
সচিব বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার না হয়। আর বিদেশে থাকা টাকার পুরোটাই পাচার হওয়া নয়। আমাদের অনেক প্রবাসী ব্যবসায়ীও দেশ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন বলে শুনেছি।’
শিক্ষামন্ত্রীকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিলেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার রোববার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। দেশের স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য এ ফুটবল দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রোববার (২১ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ উপহার তুলে দেন।
উপহার দেওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।
বৈঠকে মন্ত্রী ও হাইকমিশনার কারিগরি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী ও হাইকমিশনার উভয় দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে। দক্ষতার উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দেশ শিক্ষার উন্নয়নে একত্রে কাজ করছে। শিক্ষায় বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
এসময় হাইকমিশনার পাকিস্তানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াজিফ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলায় গ্রেফতার অভিনেত্রী ববির বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশারের (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ'র আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। আসামিপক্ষে আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. আজিজুল ইসলাম পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে আবুল বাশার একটি গাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও তিনি কোনো গাড়ি সরবরাহ করেননি। পরে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে আবুল বাশার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও টাকা পরিশোধ না করায় বাদী পুনরায় পাওনা টাকা চাইলে আসামি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিযোগ অনুযায়ী হুমকি-ধমকিও দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার দায়েরের পর থেকে আবুল বাশার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। গুলশান থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার গেলেন তিনি।
এর আগে, রোববার (২১ জুন) দুপুর পৌনে ৩টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। দুই দিনের এই সফর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একেবারেই ছোট।
এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেন বিএনপিপ্রধান তারেক রহমান। এর চার মাস বাদে প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ ২৩ জন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় দিনের সফরসূচি তুলে ধরেন।
সচিব সিয়াম জানান, সরকারপ্রধানের সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সফরের প্রথম দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপরই উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম।
তিনি বলেন, বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার দুইদিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালা লামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন।
সেখানে ২৬ জুন ওইদিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠক শেষে ওইদিন তিনি বিকালে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বৈদেশিক সফর। আজ রবিবার দুপুর আড়াইটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।
সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন ভ্রমণে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী শুক্রবার রাতে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ সফরের প্রাক্কালে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সফরের খুঁটিনাটি ও লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রাইমারি হেলথ নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার বিশাল এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ড. হায়দার জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে মিডওয়াইফ নিযুক্ত করা হবে। এছাড়া বর্তমানে পরিচালিত ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিক ‘স্বাস্থ্য হাবে’ রূপান্তর করে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কমিউনিটি ক্লিনিক নামে আলাদা কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। এই পুরো কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায়ে খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়া জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আর্থিক দিক নিয়ে তিনি জানান, আগামী একনেক সভায় ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার এডিবি প্রদান করবে এবং অবশিষ্ট ৩০ মিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার প্রাথমিক কার্যক্রমও ওই পাঁচটি জেলা থেকেই শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “‘অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির জন্যই হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সত্যি এবং পরিষ্কার। এর জন্য আলাদা করে তদন্ত করার প্রয়োজন নেই’।” প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে আরও গণমুখী ও আধুনিক করতেই সরকার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আজ রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি আগামীকাল সোমবার চীন সফরে যাবেন। আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীনে এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ সফরে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপির সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় দুদিনের সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার, আসিয়ানে যোগদান ও রোহিঙ্গা ইস্যু। চার দিনের চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বিনিয়োগসহ বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা ও বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন।
দুই দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অন্তত দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে সফরের বিস্তারিত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়া সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার, রোহিঙ্গা ও আসিয়ানে যোগদান ইস্যু: মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিবিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দেশটিতে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, সুনীল অর্থনীতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির তালিকায় চতুর্থ দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে এখন প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছেন।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কুয়ালালামপুরে সাংগ্রিলা হোটেলে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ জুন সকাল ৯টায় পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং প্রধান প্রশাসনিক ভবন পেরদানা পুত্রতে যাবেন তিনি। সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর দুই দেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় যাবেন তারেক রহমান।
চীনে সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা, হচ্ছে ১৬ এমওইউ, ৩ চুক্তি: ২২ জুন বেলা ৩টায় মালয়েশিয়া থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটিতে তার চার দিনের সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক এবং ৩টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, চীনে উচ্চমানের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নকে সমর্থন এবং তাজা কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে।
এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাসসের সমঝোতা স্মারক। চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দেশটির সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা-সংক্রান্ত, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন-সংক্রান্ত এবং চীনা ভাষা সহযোগিতা-সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি হচ্ছে।
চীন থেকে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও চীন অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৯টায় চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে চীনের ডালিয়ান শহরের সাংগ্রিলা হোটেলে উঠবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
২৩ জুন সাংগ্রিলা হোটেলে সকালে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বিকেলে ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ সেশনে অংশ নেবেন তিনি। এরপর চীনের স্টেট কাউন্সিল প্রধানের নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
২৪ জুন সকাল ১০টায় ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর বেইজিংয়ে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় যাবেন তিনি।
২৫ জুন সকালে দিয়াওউতাই হোটেলে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে চেরি গ্রুপের সভাপতি, হান্ডা গ্রুপ ও চীনাটেক্সট করপোরেশনের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেলে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
২৬ জুন রাতে চীনের আইনসভা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে যাবেন তারেক রহমান। এরপর বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘পিপলস হিরোজ’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তিনি। সেখানে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ আরও কয়েকজন।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ সফরে এ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক সই হবে না।
সফরের সূচি অনুযায়ী, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।
চীন সফর পর্যালোচনায় থাকবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র: মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ। এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন তিনি।
ফয়েজ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি যদি চীনে যেতেন, তাহলে নানাজনে নানান কথা বলতে পারতেন। এখন চীনকে আলাদা করে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, চীনের যে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সেটিই দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা যেহেতু এখন একটি ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে আছি, সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোন দেশ সফর করছেন, সেটি কারও কারও কাছে একটি ইস্যু। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্যে বাংলাদেশের কূটনীতিতে ভারসাম্য এবং স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টার কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের পর্যালোচনা থাকবে জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কূটনীতিতে বা পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা যদি দেখি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করেন, তখন অন্যান্য দেশও তা পর্যালোচনা করে।’
তাই সতর্ক করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘মাথায় রাখতে হবে, এই সফরের মাধ্যমে এমন কোনো বার্তা যেন তৈরি না হয় যে চীনের ওপর আমরা অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি এবং বৃহৎ কোনো শক্তির তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে উভয় দেশ থেকে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এমন বার্তা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, এ নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর ভারতে হবে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের আগে মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করা প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চীন ভ্রমণের মাধ্যমে শেষ হবে ২৬ জুন। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতেই আগামীদিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেললে চলবে না, লেখাপড়াও করতে হবে। এর পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কোরআন-কেরাত থেকে শুরু করে নতুন নতুন ইনোভেটিভ কাজেও নিজেদের যুক্ত করতে হবে। তোমরা যদি সব কিছুতে নিজেদের পারদর্শী করতে পারো, তবেই আমরা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তোমরা যারা আজ এখানে খেলছো বা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় আছি, আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। বড় হয়ে তোমাদেরই এই দেশ চালাতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চালাতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।
শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
খেলাধুলার প্রসারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে গত দেড় মাসে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমনি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গ্যালারি ভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য