× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There were 35 diamonds hidden in the hunters sack
hear-news
player
print-icon

শিকারির বস্তায় লুকানো ছিল ৩৫টি হীরামন টিয়া

শিকারির-বস্তায়-লুকানো-ছিল-৩৫টি-হীরামন-টিয়া
পাখিগুলোকে অবমুক্ত করতে বস্তা থেকে বের করে খাঁচায় ঢুকিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
হীরামন টিয়ার বসবাস ভারতে হলেও এই প্রজাতির উল্লেখযোগ্য পাখি আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসে।

চুয়াডাঙ্গায় শিকার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ৩৫টি হীরামন টিয়া উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাখিগুলো অবমুক্ত করেন ইউএনও শামীম ভুইয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পানকৌড়ি’র সভাপতি বখতিয়ার হামিদ বিপুল।

তিনি বলেন, ‘সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা পানকৌড়ির দুই সদস্য জানতে পারি, পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে শিকারিরা। ওই খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারার মোড়ে অপেক্ষা করতে থাকি। এ সময় দিগড়ী গ্রামের হযরত, আলা, শাজাহান ও ডোমচারার শরিফুলকে বস্তার মধ্যে করে পাখি ধরে নিয়ে যেতে দেখি।’

বিপুল জানান, বস্তার মধ্যে পাখি নিয়ে যেতে দেখে শিকারিদের পিছু নেন তারা। এ অবস্থায় বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যায় শিকারিরা। পরে বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫টি হীরামন টিয়া এবং পাখি শিকারের সরঞ্জাম।

পরে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করতে বস্তা থেকে বের করে খাঁচায় ঢুকিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেয়া হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভুইয়া জানান, পাখি বা পরিযায়ী পাখি শিকার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

শিকারির বস্তায় লুকানো ছিল ৩৫টি হীরামন টিয়া
শিকারিদের ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়

ইউএনও বলেন, ‘দুপুরে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে। পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় বস্তা ও পাখি শিকারের সরঞ্জাম।’

পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িতদের তলব করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, হীরামন টিয়ার বসবাস ভারতে হলেও এই প্রজাতির উল্লেখযোগ্য পাখি আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসে। মূলত খাবারের সন্ধানেই এরা বাংলাদেশে আসে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আবার চলে যায়।

আরও পড়ুন:
পোষ মেনে কথা বলছে দুই শালিক!
রঙিন ফিঞ্চে ভরেছে শখের খাঁচা
লাল শাপলার বুকে ডানা মেলে নেমে আসে তারা
বিলের জলে পাখির মেলা
চলনবিল থেকে ১২০টি বক উদ্ধার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Traffickers with endangered owls arrested

মহাবিপন্ন উল্লুকসহ পাচারকারী আটক

মহাবিপন্ন উল্লুকসহ পাচারকারী আটক বন বিভাগের তথ্যমতে, সারা দেশে মাত্র ২৫০টি উল্লুক রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
আটক সোহেল দাবি করেছেন, উল্লুকটিকে তিনি ১৬ হাজার টাকায় বান্দরবানের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। ভারতীয় পাচারকারীদের হাতে বেশি দামে এটিকে পৌঁছে দেয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।

পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় মহাবিপন্ন প্রাণী উল্লুকসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

রোববার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে উল্লুকটিসহ পাচারকারী জুয়েল রহমান সোহেলকে আটক করা হয়।

২৭ বছর বয়সী সোহেলের বাড়ি খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজনগর এলাকায়।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাসের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাজেস বড়ুয়ার নেতৃত্বে ওই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এ সময় ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে কৌশলে লুকিয়ে রাখা উল্লুকটিকে জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ।

আটক সোহেল দাবি করেছেন, উল্লুকটিকে তিনি ১৬ হাজার টাকায় বান্দরবানের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। ভারতীয় পাচারকারীদের হাতে বেশি দামে এটিকে পৌঁছে দেয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।

মহাবিপন্ন উল্লুকসহ পাচারকারী আটক

তবে পাচারের আগেই ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন সোহেল। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে আরও বহু বিপন্ন প্রাণীর ছবি পেয়েছে পুলিশ। এতে আটক সোহেলকে বন্যপ্রাণী পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা ডিবির পুলিশের ওসি রাজেশ বড়ুয়া জানান, বন্যপ্রাণী আইনে মামলা করে আটক সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উল্লুকটিকে কুমিল্লা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উল্লুক মহাবিপন্ন প্রাণী। আমাদের হিসাবমতে, সারা দেশে মাত্র ২৫০টি উল্লুক রয়েছে। এসব প্রাণী ভারত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যর ধনী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় স্থান পায়। মাঝে হাতবদলের সময় বড় অঙ্কের লেনদেন হয়। উদ্ধার করা উল্লুকটিকে আমরা খুব শিগগির বনে উন্মুক্ত করব।’

এদিকে কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সোহেলকে আদালতে নিয়ে এলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
মেয়াদোত্তীর্ণ কৃমিনাশকে ৯ ভেড়ার মৃত্যু
শহীদুলের ‘মধু পরিবার’
কুকুর নিধন বন্ধ করলেন মেয়র
রিসোর্টের ১৪টি বন্যপ্রাণী সুন্দরবনে অবমুক্ত
১২ জনকে কামড়ানো কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
United Nations emphasis on nature conservation in tourism

পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের

পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পর্যটনে বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে এই খাতে জ্বালানি খরচ কমাতে হবে। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার পথে হাঁটতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।’

টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী মাধ্যম পর্যটন। তবে এই পর্যটনের বিকাশে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটন অঞ্চলের বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ বাণীতে এমন অভিমত প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন অভিমত তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাণীতে বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবসের অন্তর্ভুক্তি প্রকৃতি সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে পর্যটনের ক্ষমতা তুলে ধরে।

‘টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী এক চালক হল পর্যটন। শিক্ষা, নারী ও তরুণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পর্যটন অবদান রাখে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পুনরুদ্ধার ও সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে দেয়।’

গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পর্যটনে বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে এই খাতে জ্বালানি খরচ কমাতে হবে। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার পথে হাঁটতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।

‘মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন রাষ্ট্র ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী যেন লাভবান হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প যুগের আগের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের অবশ্যই পর্যটন অনুশীলন করতে হবে। এর ওপর এই শিল্প এবং স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটসের (উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র) মতো পর্যটন আকর্ষী ভূখণ্ডগুলোর টিকে থাকা নির্ভর করছে।’

বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘এ বছর জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সম্মেলনে বৈশ্বিক সম্প্রদায় ও পর্যটন খাত ২০২৪ সালের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে।

‘অপচয় করার মতো সময় নেই। আসুন, আমরা নতুন করে চিন্তা করি এবং পর্যটন খাতকে নতুন করে গড়ে তুলি। আমরা একসঙ্গে সবাইকে আরও বেশি টেকসই, সমৃদ্ধ ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ উপহার দেই।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dengue outbreak lasts until mid October

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’ ফাইল ছবি
বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে, যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে। এমন আবহাওয়াতেও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।

দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জাকিয়া রহমান আক্রান্ত হন ডেঙ্গুতে। হাসপাতালে ছিলেন ছয় দিন। এখন সুস্থ, তবে ধকল রয়ে গেছে গায়ে।

নিউজবাংলাকে এই নারী বলেন, ‘বাসায় ছোট বাচ্চা থাকায় গাছ বা পানি জমে থাকার মতো কিছু ঘরে রাখি না। তবুও কীভাবে আক্রান্ত হলাম জানি না। খুব ভুগিয়েছে এবার। জ্বর, বমি থেকে শুরু করে প্লাটিলেট কমে প্রায় ২০ হাজার হয়ে যায়। অনেক কষ্টের পর সুস্থ হয়েছি।’

জাকিয়া সুস্থ হয়ে ফিরলেও অন্তত ৫০ জনের আর হাসপাতাল থেকে ফেরা হয়নি। প্রায় দিনই মৃত্যুর তথ্য আসছে, এর মধ্যে এক দিনে পাঁচজনের প্রাণও গেছে।

বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে।

এমন আবহাওয়ায়ও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।
ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছেন- এমন একজন কীটতত্ত্ববিদ আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি আরও তিন সপ্তাহ থাকতে পারে।

কত রোগী

শনি থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩০৯ জন এবং রাজধানীর বাইরের ১৩১ জন।

এই এক দিনে কোনো মৃত্যু না হলেও চলতি বছর প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও ভর্তি ১ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই সংখ্যাটি ১ হাজার ২৯৬।

চলতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮০ জন, এর মধ্যে রাজধানীর ১০ হাজার ৭৪৩ জন।

চলতি বছর কেবল মুগদা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৮ জন।

দেশের অন্য কোনো হাসপাতালে এত রোগী ভর্তি হয়নি। তবে মুগদা এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের বিশেষ কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।

বরাবরের মতোই আক্রান্তদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আছে শিশু। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মাহফুজ হাসান আল মামুন জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী আসছে তাদের হাসপাতালে। সবার ভর্তি দরকার পড়ে না।

অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব বলছে, এবার মোট ৪৫টি জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ৫৮, তার আগের বছর ৬৪ জেলার প্রতিটিতে ছড়ায় রোগী। সে বছর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।

ঢাকার পর এবার রোগী বেশি কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

প্রকোপ আর কত দিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে কাজ করছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, 'আমরা আগেই বলেছিলাম আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এখন মনে হচ্ছে এটি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে পারে।’

তিনি জানান, তাপমাত্রা, লেগরেইন ফল, (১৫ দিনের বৃষ্টি) আর্দ্রতা, ডেঙ্গু রোগীর ঘনত্বসহ কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি মডেলিং করে ডেঙ্গুর বিস্তার সম্পর্কে পূর্বানুমান করেন তারা।

অধ্যাপক কবিরুল বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি হটস্পট ম্যানেজমেন্ট চালু করতে না পারি। হটস্পট ম্যানেজমেন্ট বলতে যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে সেখান থেকে রোগীর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ির আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে ফগিং করে উড়ন্ত মশাগুলোকে মেরে ফেলা। এতে যারা সুস্থ আছে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।’

বৃষ্টি কম থাকার পরও এবার প্রকোপ কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এডিস মশার জন্য বৃষ্টি বা বর্ষা হতে হবে- এমন কথা নাই। মাত্র দুই সেন্টিমিটার পানি সাত দিন জমে থাকলেই সেখানে লার্ভা জন্মাতে পারে।’

কী করছে নগর কর্তৃপক্ষ

এডিস মশার যে প্রকৃতি, তাতে এগুলোর জন্ম ও বংশবিস্তার প্রধানত মানুষের বাড়িঘর বা কার্নিশ অথবা ছাদে হয়ে থাকে। নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানিও একটি বড় সমস্যা তৈরি করছে এ কারণে যে প্রায়ই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একটি বড় সময় ধরে কর্মস্থলে থাকে না। এই সময় এডিস মশা জন্ম নেয়।

নগর কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি শাস্তির ব্যবস্থাও করছে। শাস্তি হিসেবে প্রধানত জরিমানা করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। এর মধ্যে আমরা ড্রোনের মাধ্যমে ছাদবাগানগুলো দেখছি। সেখানে পানি জমে থাকলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ভবনের বাইরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ড্রেন ও পানিতে নোভাল নিউরন ট্যাবলেট দিচ্ছি, যেটা তিন মাস পর্যন্ত এডিস লার্ভা জমতে দেয় না। এ ছাড়া গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে, যেগুলো লার্ভা খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া জনসচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য মাঠে আমাদের লোক রয়েছে।’

এই কর্মকর্তার মূল্যায়ন হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার বেশ কম। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল ২৮ হাজার। এ বছর সেই সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।’

‘তবে এবার এই পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। তাই সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করছি। কেউই বসে নেই।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Half of Habiganjs river has been lost

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী হবিগঞ্জের একসময়ের এই খরস্রোতা নদী এখন মৃতপ্রায়। ছবি: নিউজবাংলা
অস্তিত্ব নেই নদীর সঙ্গে মিশে থাকা শত শত খালের। এসব নদী ও খাল দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ সময় ধরে খনন না করায় সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়া নদীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

সত্তরের দশকে হবিগঞ্জে ৫০টির বেশি নদী ছিল। তবে এখন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় আছে মাত্র ২২টি নদীর নাম। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে হবিগঞ্জ থেকে অর্ধেকেরও বেশি নদীর নামই মুছে গেছে।

অস্তিত্ব নেই নদীর সঙ্গে মিশে থাকা শত শত খালের। এসব নদী ও খাল দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ সময় ধরে খনন না করায় সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়া নদীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

যে ২২টি নদী এখনও টিকে আছে সেগুলোও পরিণত হয়েছে খাল বা নালায়। সেই সঙ্গে নদী শাসনে মহা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে কুশিয়ারা, কালনী, খোয়াই, ধলেশ্বরী, সুতাং, রত্মা এবং করাঙ্গীর মতো বড় নদীগুলোও।

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এসব নদী হারিয়ে যাওয়া এবং দখল-দূষণের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়ী। এখনও যেসব নদী টিকে আছে এগুলো সংরক্ষণ করা না হলে কয়েক বছর পর সেগুলোও হারিয়ে যাবে। এতে চরম সংকটে পড়বে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীকুল।

নবীগঞ্জের একসময়ের খরস্রোতা শাখাবরাক নদী। এই নদী ঘিরেই গড়ে উঠেছিল নবীগঞ্জ শহর। এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র মাধ্যম ছিল নদীপথ। এই নদী দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করত শত শত নৌযান।

নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এই এলাকার বাসিন্দারা। গেল চার দশকে সেই নদীটি এখন মৃতপ্রায়। নদীর দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত বসতি আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে মরা খালে পরিণত হয়েছে একসময়ের খরস্রোতা নদীটি।

নদীটি নিয়ে ছোটবেলার স্মৃতি মনে করে শহরের অনমনু গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী ধনাই মিয়া বলেন, ‘নদীটির দিকে চাইলে কষ্ট লাগে। একসময় এই নদীর কী যৌবন ছিল। নদীর দুই পাশে শত শত নৌকা বাঁধা থাকত। এসব নৌকা বিভিন্ন এলাকা থেকে কত মালামাল নিয়ে আসত নবীগঞ্জে। আর মাছের কথা কী বলি, ডুব দিয়ে খালি হাতে মাছ ধরে নিয়া আসা যাইত। এখন এই নদী লাফ দিয়ে পার হওয়া যায়।’

দখলের কবলে বিলীনের পথে বাহুবলের করাঙ্গী ও মাধবপুরের সোনাই, শিল্পবর্জ্য দূষণে মৃতপ্রায় সুতাং আর ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে শুঁটকি নদী। চরম সংকটে রয়েছে রত্মা এবং হবিগঞ্জ শহরকে ঘিরে থাকা খোয়াইও।

লাখাই উপজেলার লুকড়া এলাকার বাসিন্দা মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক নদী ছিল। সেগুলোর অনেক নদীই এখন নেই। কয়েকটা নদী খালের মতো হয়ে গেছে। একসময় সেগুলোতে অনেক মাছ পাওয়া গেলেও এখন হাত-পাও ধোয়া যায় না।’

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সময়ে হবিগঞ্জে কতটি নদী ছিল সেই তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে ২০২১ সালের করা একটি তালিকায় তাদের কাছে ২২টি নদী ও ৬৩টি খালের নাম রয়েছে। খালগুলোর চিন্তা বাদ দিয়ে আপাতত নদীগুলো বাঁচানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রত্মা ও ধলেশ্বরীর ৮ কিলোমিটার ড্রেজিং কাজ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন চলছে বিজনা-গোপলা, করাঙ্গী, কাস্তি, সোনাই নদীর ১১৭ কিলোমিটার। যার ৫০ শতাংশ কাজ শেষ।

হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন খোয়াই নদী রক্ষায় ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর পশ্চিমপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। আর শহর থেকে অন্তত ১২ ফুটের বেশি ওপরে উঠে যাওয়া নতুন খোয়া নদী ড্রেজিংসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ১৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

যে ৫টি নদীর খনন কাজ চলছে সেগুলো নিয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। স্থানীয়রা বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খননের নামে নদীকে খালে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জের বিজনা নদী খনন প্রকল্পের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছেন স্থানীয় জনগণ। বাহুবলের করাঙ্গী নদীর খননে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও ব্যর্থ হয়ে এখন নীরব স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদী হারিয়ে যাওয়া এবং দখল দূষণের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়ী। তারা এসব নদী রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই প্রতিনিয়ত নদী দখল হচ্ছে। এ ছাড়া যে সরকারই যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের ক্ষমতাশীন নেতারা নদী দখল করেন।’

হারিয়ে গেছে হবিগঞ্জের অর্ধেক নদী

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা শুনি নদী রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রকল্প সম্পর্কে জনগণকে অবগত করা হয় না। কিছুদিন তোড়জোড় করে পুনরায় সেই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিবেশ প্রকৃতি ও প্রাণীকুল রক্ষায় নদী বাঁচাতে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। না হলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, ‘নদী রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে নদীর ওপর গড়ে ওঠা ৯৪২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলো উচ্ছেদেও তালিকা তৈরি করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে হাইকোর্টে মামলা থাকায় ৩৩টি স্থাপনায় হাত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘শুধু সাধারণ মানুষ নয়, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নদীদূষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর। এমনকি দখলদারদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র্রপক্ষ হিসেবে আদালতেও লড়াই করছি আমরা।’

আরও পড়ুন:
২৩ সেপ্টেম্বর আসছে ‘নদী রক্স কনসার্ট’
যমুনার ভাঙনে মুছে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম
ধরলার ভাঙনে বিলীনের পথে চর ফলিমারী গ্রাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inequality increased on climate change survey

জলবায়ু পরিবর্তনে বৈষম্য বেড়েছে: জরিপ

জলবায়ু পরিবর্তনে বৈষম্য বেড়েছে: জরিপ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিবিএসের জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নারী-পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘু, শিশুসহ সবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এই জনগোষ্ঠী সম্পর্কে পৃথকভাবে মূল্যায়ন এবং সুনির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে সব স্তরের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

বাংলাদেশের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নারীরা মাত্র ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ কৃষি জমির মালিক, যেখানে পুরুষরা ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশ। আর গৃহস্থালি কাজের ৯৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভার বহন করে নারীরা, যেখানে পুরুষদের অবদান নগণ্য, ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) লিঙ্গ, বয়স ও প্রতিবন্ধীদের ওপর পরীক্ষামূলক জরিপের তথ্যে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের কারিগরি সহায়তায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ মোকাবেলার ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে- কৃষি, ব্যবসা, অন্যান্য সেবা অথবা দিনমজুরের কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ নারী এবং ৮৯ দশমিক ৪০ শতাংশ পুরুষ।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নারী-পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘু, শিশুসহ সবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এই জনগোষ্ঠী সম্পর্কে পৃথকভাবে মূল্যায়ন এবং সুনির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে সব স্তরের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের সচিব ডা. শাহনাজ আরেফিন এনডিসি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা ও ধারা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের অভিযোজন এবং প্রশমন উভয় পদ্ধতিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শিক্ষাবিদ, গবেষক, বেসরকারি ও সরকারি সব স্তরের সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এবং সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে একটি ন্যায়সঙ্গত, টেকসই এবং স্থিতিস্থাপক বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।’

বিশেষ অতিথি ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে কিভাবে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি কমানোর জন্য লিঙ্গ-সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ-ঝুঁকির মধ্যে সমন্বয় করতে এই জরিপের তথ্যকে ব্যবহার করা যাবে।

‘প্রতিবেদনটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাসে জেন্ডার সহায়ক তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোর জন্য সহায়ক হবে। আর তা জলবায়ু দুর্যোগ-প্রবণ এলাকায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে এবং দুর্বলতা হ্রাসে সহায়তা করবে৷’

বিবিএসের মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, অধ্যাপক ড. সাঈদ শাহাদাত হোসেন, ড. এ. আতিক রহমান ও প্রফেসর ড. এ কে এম নুরুন নবী।

আরও পড়ুন:
সবচেয়ে তিক্ত জীবনের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম
দেশে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র রাজীবপুরে, ৮০ শতাংশ
মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়
প্রতিবন্ধিতা জরিপ: পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে সমাজসেবার সমন্বয় দাবি
করোনার ধাক্কা সামলেছে ৬০ ভাগ প্রতিষ্ঠান: সানেম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There may be light rain and it will be hot

হালকা বৃষ্টি হতে পারে, গরম থাকবে এমনই

হালকা বৃষ্টি হতে পারে, গরম থাকবে এমনই ফাইল ছবি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

তীব্র গরমে যখন অতিষ্ঠ নগরবাসী, তখন স্বস্তির বার্তা দিয়েছিল আকাশ থেকে নেমে আসা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। দু-এক দিন আগের কথা এটি। টানা তিন-চার দিন এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা দুর্ভোগেও পড়তে হয়েছে কর্মক্ষেত্রগামীদের। তবে আবার আগের সেই অবস্থায় ফিরে গেছে রাজধানীসহ মোটামুটি দেশের অধিকাংশ এলাকা।

বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশ হয়তো কিছুটা মেঘলা থাকছে, কিন্তু গরম কমছে না। তাপমাত্রায় নেই কোনো পরিবর্তন। এ পরিস্থিতিতেই স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, তবে তাপমাত্রায় তেমন একটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা না থাকায় কমছে না গরম। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কাসংকেত জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

ঢাকা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টাও আবহাওয়া একই রকমের থাকতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়েছে কুষ্টিয়া শহর
রেকর্ড বৃষ্টিতে ডুবল খুলনা
স্বস্তির বৃষ্টিতে ভোগান্তির শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Typhoon Nanmoodle ravaged Japan

টাইফুনে ব্যাহত জাপানের জনজীবন

টাইফুনে ব্যাহত জাপানের জনজীবন ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার (১১২ মাইল) বেগে বাতাসের সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিউশু দ্বীপের জীবনযাত্রা। ছবি: এএফপি   
জাপানের আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এবারের ঝড়টি ২০১৮ সালের টাইফুন জেবি এবং ২০১৯ সালে টাইফুন হাগিবিসের চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। জেবির তাণ্ডবে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল; ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল হাগিবিস।’

জাপানের দক্ষিণে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন নানমাডল। এর প্রভাবে ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার (১১২ মাইল) বেগে বাতাসের সঙ্গে টানা বৃষ্টি হচ্ছে কিউশু দ্বীপে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিমি মিটার (২০ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হতে পারে এই এলাকায়।

বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় আছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বুলেট ট্রেন পরিষেবা, ফেরি এবং শত শত ফ্লাইট ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে। নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে অন্তত ৪০ লাখ মানুষকে।

টাইফুনটি জাপান সময় রোববার সকালে কিউশুর দক্ষিণ প্রান্তে কাগোশিমা শহরের কাছে আছড়ে পরে।

দক্ষিন জাপানের চারটি দ্বীপের একটি কিউশু। ১ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপটি জাপানের মূলভূখণ্ডকে দক্ষিণের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

জাপানের আবহাওয়া অফিস শুরুতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছিল কিউশু দ্বীপে। তারা আশঙ্কা করেছিল, টাইফুনের কারণে প্রবল বৃষ্টির পাশপাশি উপকূলে ঝড় হতে পারে। শক্তিশালী বাতাসের কারণে বাড়িঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও ছিল।

টাইফুনটি এখন কিউশু ওপর দিয়ে উত্তর দিকে এগুচ্ছে। এতে দ্বীপের পাহাড়ী অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি আগামী কয়েকদিনে রাজধানী টোকিও দিকে অগ্রসর হবে। সময়ের সঙ্গে ঝড়টি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টাইফুলের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে; যা ভূমিধস ঘটাতে পারে। কিউশুর বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

নানমাডোল চলতি মৌসুমের ১৪ নম্বর প্রশান্ত মহাসাগরীয় টাইফুন। এটি জাপানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপানের আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এবারের ঝড়টি ২০১৮ সালের টাইফুন জেবি এবং ২০১৯ সালে টাইফুন হাগিবিসের চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। জেবির তাণ্ডবে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল; ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল হাগিবিস।’

যদিও জাপান এ ধরনের ঝড় মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত তবুও বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ভয়ঙ্কর করে তুলছে।

আরও পড়ুন:
টাইফুনে লন্ডভন্ড ফিলিপাইন, নিহত অন্তত ৭৫

মন্তব্য

p
উপরে