× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bangabandhu assassination commission outline ready Law Minister
hear-news
player
google_news print-icon

বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্তে কমিশনের রূপরেখা প্রস্তুত: আইনমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু-হত্যার-তদন্তে-কমিশনের-রূপরেখা-প্রস্তুত-আইনমন্ত্রী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা কমিশনের রূপরেখা তৈরি করেছি। ২০১৯ সালে যখন প্ল্যান করলাম, তখন করোনার আক্রমণ শুরু হলো। এটার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ এ ক্ষেত্রে তার আদেশ শিরোধার্য। তিনি হয়তো পরিমার্জন করবেন, সে জন্য এর আগে আমি এটি জনসমক্ষে আনতে চাই না।’

দুই বছর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা জানিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দুই বছর পরে এসে সে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘অচিরেই’ কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সে লক্ষ্যে একটি রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার ‘সম্প্রীতির পথে সাফল্যের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা জানান আইনমন্ত্রী। সভা আয়োজন করে সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা কমিশনের রূপরেখা তৈরি করেছি। ২০১৯ সালে যখন প্ল্যান করলাম, তখন করোনার আক্রমণ শুরু হলো। এটার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ এ ক্ষেত্রে তার আদেশ শিরোধার্য। তিনি হয়তো পরিমার্জন করবেন, সে জন্য এর আগে আমি এটি জনসমক্ষে আনতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে, তাকে হত্যা করা হবে, এটা কেউ ভাবতেও পারেনি। যারা ঘরের পাহারায় ছিল, তারাই বেইমানি করেছে। সে কারণেই তারা ঘরে ঢুকতে পেরেছে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যদি কোনো আন্দোলন হতো, অপজিশন পার্টি থেকে, তাহলেও মানা যেত। ফলে এটাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলা যাবে না। এটা ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড।’

বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এটা অবিচ্ছেদ্য। যারা তাকে হত্যা করেছে, তারা বুঝতে পেরেছিল, যে ব্যর্থ রাষ্ট্র তারা করতে চেয়েছে, তার পরিবারের এক ফোঁটা রক্ত থাকলে সেটা তারা করতে পারবে না। এ থেকেই বোঝা যায়, এটি পূর্বপরিকল্পিত, ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে অনেক আগে থেকেই দাবি করে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এমনকি দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বক্তব্য দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও সে বিষয়টি সামনে এনেছেন।

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তো শুরুই করেছিলেন শাহ আইজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে। তিনি ছিলেন রাজাকার নাম্বার ওয়ান। এ ছাড়া তার মন্ত্রিসভার অনেকেই আইয়ুব খানের মন্ত্রী ছিলেন। এই গোষ্ঠীর ধারাটা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই জিয়াউর রহমান দেশ শাসন শুরু করেছিলেন।’

আলোচনা সভায় বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক চেয়রাম্যানের কাছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার লোকজনের অভিযোগ করা নিয়েও বক্তব্য দেন। বলেন, দেশে এখনও বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক চেয়ারম্যানের কাছে কিছু মানবাধিকারকর্মী বলেছে বাংলাদেশ নাকি পুলিশ স্টেট। অথচ এরা টক শোতে যায়, তারা অসভ্য ল্যাংগুয়েজ পর্যন্ত ব্যবহার করে। আমরা বাধা দিই না। এটাই বাকস্বাধীনতা। এটাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।’

আলোচনায় বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের ঘটনায় তদন্ত কমিটি দাবি করেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক।

তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মতৃপ্তির জন্য বলে থাকি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা কী তাই? বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের ঘটনায় অত্যন্ত শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অনেক শক্তিশালী লোকের নাম চলে আসবে তদন্তে। খেয়াল রাখতে হবে এমন কমিটি গঠন করতে হবে, যারা চোখ রাঙানোকে উপেক্ষা করতে পারবে।’

বিগত বিএনপি, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু হত্যার অনেক তথ্য গায়েব করে দিয়েছে বলে দাবি করেন এই বিচারপতি। বলেন, ‘এগুলো তো খুঁজে বের করা চাট্টিখানি কথা নয়। সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল তা নয়, তার আদর্শকেও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।’

সভায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা একটি গণহত্যার শামিল। এই হত্যাকাণ্ড তো হঠাৎ করে ঘটেনি। এর একটি বিশাল প্রেক্ষাপট ছিল। সেই গোষ্ঠী এখনও এ দেশে রাজনীতি করছে, এখনও সজাগ রয়েছে। পাকিস্তানিরা বলেছিল, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ তারা নেবেন। সে রূপরেখা ধরেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান সভার সভাপতিত্ব করেন, সঞ্চালনা করেন বরেণ্য নাট্য অভিনেতা ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:
ফুর্তি করতে আসিনি, পদ ছাড়তেও রাজি: বিএনপিকে সিইসি
অংশগ্রহণমূলক-স্বচ্ছ ভোটের প্রত্যাশা পশ্চিমাদের
ইসিতে পশ্চিমা কূটনীতিকরা
যাচ্ছেন দোরাইস্বামী, আসছেন দালেলা
এবার ঝিনাইদহ পৌর নির্বাচন স্থগিত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Stocks sold in market fire

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। ফাইল ছবি
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই বছরের জুলাইয়ের চেয়ে গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪০১ কোটি ২০ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের চেয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্রে ১৪ দশমিক ২৯ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য সব খাতেও খরচ বেড়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পরও বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি বেশ কমেছে। এখন একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই দুই বছরের করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারও বেতন কমেছে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এই ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনিতেই বাজারে জিনিপত্রের দাম বেশি ছিল। এরপর যুদ্ধের কারণে তা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না।’

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। ব্যাংকে বা অন্য কোনোখানে টাকা রাখলে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ; এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়।

‘তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি, একটু বেশি মুনাফার আশায় কিনেই চলেছিল। তবে এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনার মতো সঞ্চয় নেই মানুষের কাছে। সে কারণে কমে গেছে এ খাতে বিনিয়োগ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কিন্তু তার ব্যত্যয় হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সেটা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে পারে। সে কারণে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করছে না বিবিএস।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তা হলে এখনো দিচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনো সেই হারে পাওয়া যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা
সঞ্চয়পত্রে নানা শর্তে আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহক
সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধেই ৪০ হাজার কোটি টাকা
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The new DG of RAB took charge

দায়িত্ব নিলেন র‍্যাবের নতুন ডিজি

দায়িত্ব নিলেন র‍্যাবের নতুন ডিজি র‍্যাবের নতুন মহাপরিচালক খুরশীদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
খুরশীদ হোসেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের মহপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন।

শুক্রবার বিকেলে তিনি নতুন এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এম খুরশীদ হোসেনকে র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কথা জানায়। এরপর র‍্যাবের সদ্য সাবেক ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।

খুরশীদ হোসেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

র‍্যাব প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া খুরশীদ হোসেনের জন্ম গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে।

দায়িত্ব নিয়ে শনিবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বনানী কবরস্থান ও রাজারবাগে পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ঘরের দরজা ভেঙে যুবদল নেতাকে তুলে নেয় র‍্যাব: বিএনপি
এসডিজি-৬ অর্জনে পানি ও স্যানিটেশনে অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ
কল রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্যটি গুজব: র‍্যাব
নারিন্দায় র‍্যাবের অভিযান, বাড়ি ঘেরাও
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chowdhury Abdullah Al Mamun took charge as IGP

আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবদুল্লাহ আল-মামুনকে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) হিসেবে মনোনীত করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

শুক্রবার তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এর আগে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন আবদুল্লাহ আল-মামুন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবদুল্লাহ আল-মামুনকে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) হিসেবে মনোনীত করা হয়।

আইজিপি হিসেবে নিয়োগের আগে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল করোনা মহামারির সময় র‌্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন। দুই বছর পর তাকে এই পদে নিয়োগ দেয় সরকার।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন অষ্টম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন), রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পান।

র‌্যাবের ডিজি হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সিআইডি প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে শুক্রবারই চাকরির মেয়াদ শেষ হয় বিদায়ী আইজিপি বেনজীর আহমেদের।

আরও পড়ুন:
অবসরে যাচ্ছেন আইজিপি বেনজীর
সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়ার চেষ্টা করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই: আইজিপি
স্বাধীনতার ৩০ বছরই আমরা গণতন্ত্রের দেখা পাইনি: আইজিপি
সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াবে ইন্টারপা: আইজিপি
আইজিপি ও জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানের বৈঠক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
574 girls were raped in 8 months

দেশে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার ৭১ কন্যাশিশু

দেশে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার ৭১ কন্যাশিশু প্রতীকী ছবি
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৪৯ কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। গত আট মাসে ১৮৬ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে ১৮১ কন্যাশিশু।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারা দেশে ৫৭৪ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭১ শিশু।

আট মাসে ৩৬৪ কন্যাশিশু একক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ৮৪ জন। বাদ যায়নি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ৪৩ কন্যাশিশুও। এ ছাড়া ৮৭ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে৷ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৪টি জাতীয়, স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকা থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৭১ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিদিনের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুইজনের বেশি। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি এ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৪৯ কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। গত আট মাসে ১৮৬ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে ১৮১ কন্যাশিশু।

দেশে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার ৭১ কন্যাশিশু

প্রেস ক্লাবে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। ছবি: নিউজবাংলা

গত আট মাসে ২ হাজার ৩০১ কন্যাশিশুর বাল্যবিয়ে হয়েছে, যা গড়ে প্রতি মাসে দাঁড়ায় ২৮৮ জন৷ এ আট মাসে ৫৮৯ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এই সময়ে পাচার হয়েছে ১৩৬ কন্যাশিশু, যাদের মধ্যে ৭৪ জনকে অপহরণ করা হয়৷

এ ছাড়া যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৩ জন। যৌতুক দিতে না পারায় পাঁচ কন্যাশিশু আত্মহত্যা করে।

অনুষ্ঠানে কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ সংগঠনের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ব্যাংকের সিঁড়িতে শিশু, পাশে কাপড়-ফিডারের ব্যাগ
ডোবায় মিলল ভাই-বোনের মরদেহ
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Earthquake in Myanmar mild shaking in Bangladesh

মিয়ানমারে ভূমিকম্প, মৃদু কম্পন বাংলাদেশে

মিয়ানমারে ভূমিকম্প, মৃদু কম্পন বাংলাদেশে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। আমাদের দেশে ভোরে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দেশের কোন অঞ্চলে এমন কম্পন অনুভূত হয়েছে, এর কোনো সঠিক তথ্য নেই।’

মিয়ানমারে সৃষ্ট ভূমিকম্পে শুক্রবার ভোরে সারা দেশে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২২ মিনিটে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মওলাইকে ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। আমাদের দেশে ভোরে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে দেশের কোন অঞ্চলে এমন কম্পন অনুভূত হয়েছে, এর কোনো সঠিক তথ্য নেই। যেহেতু আমাদের দেশে এর উৎপত্তিস্থল ছিল না, তাই আমরা এখনও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাইনি।’

ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি মিয়ানমারের মনিওয়া থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে, সেখানে এর গভীরতা ছিল ১৪৪ কিলোমিটার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন। দেশের পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে মিয়ানমারের সংযোগ থাকার ফলে অনেকেই পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পনের পরিমাণ বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ভূমিকম্প
সব জরাজীর্ণ ভবন ভাঙা হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
চট্টগ্রামে পাঁচ মাসে ৫ ভূকম্পন বড় ভূমিকম্পের বার্তা?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Amir in hospital with stomach pain

পেটে পীড়া নিয়ে হাসপাতালে হেফাজতের আমির

পেটে পীড়া নিয়ে হাসপাতালে হেফাজতের আমির হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ফাইল ছবি
হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের আমির বৃহস্পতিবার হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে উনার শারীরিক পরিস্থিতি সিরিয়াস নয়।’

পেটের পীড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুফতি মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

চট্টগ্রামের বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার তাকে ভর্তি করা হয়।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আমির বৃহস্পতিবার হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে উনার শারীরিক পরিস্থিতি সিরিয়াস নয়।’

জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট হেফাজতে ইসলামের আমির হিসেবে দায়িত্ব পান মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বাবুনগরীর মামা।

আরও পড়ুন:
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হেফাজতের তাণ্ডব: সাবেক সাংসদ শাহীনুর কারাগারে
হেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার
তাণ্ডবের বিচার চেয়ে হেফাজত ছাড়লেন রহিম কাসেমী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Vapsa is hot and cold

ভ্যাপসা গরম কমার আভাস

ভ্যাপসা গরম কমার আভাস গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা রিকশাচালকের। ফাইল ছবি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাগরে কাল (শনিবার) একটা লঘুচাপ হতে পারে। লঘুচাপের পর বৃষ্টি বাড়বে। এরপর একটু গরম কমার সম্ভাবনা আছে।’

কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্যাপসা গরম থাকলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে কম, তবে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপে শনিবার থেকে বৃষ্টির পর গরম কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাগরে কাল (শনিবার) একটা লঘুচাপ হতে পারে। লঘুচাপের পর বৃষ্টি বাড়বে। এরপর একটু গরম কমার সম্ভাবনা আছে।’

রাজধানীতে কেমন গরম

ঢাকার রমনা এলাকায় গুগল ওয়েদারে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখালেও রিয়েল টাইম অনুভূতি ৪০ ডিগ্রি। আর্দ্রতা শতকরা ৬৭ ভাগ। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের আধিক্য বাড়তে থাকবে।

মরুর দেশ সৌদি আরবের রাজধানী জেদ্দায় তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূতি ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মরুতে বৃষ্টি না হলেও গরমের অনুভূতি বাংলাদেশের চেয়ে কম।

এমন গরম কমার আশার কথা জানিয়ে বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার ভোর থেকে লঘুচাপের সৃষ্টি হবে। শনিবার ও রোববার বৃষ্টি বাড়বে, তবে এরপরও গরম থেকে নিস্তার নেই। সূর্যের দক্ষিণ গোলার্ধে গমনের ফলে আস্তে আস্তে ঠান্ডা আসবে। মৌসুমি বায়ু এখনও আছে। এক সপ্তাহ পর এটি চলে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সারা দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ভোলায়। সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। ওই দিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সর্বোচ্চ ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যরা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরণের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিম্নচাপ ঝাড়খণ্ডে, দুর্বল হচ্ছে ক্রমশ
দ‌ক্ষিণের নিম্নাঞ্চল প্লা‌বিত, সব নদী বিপৎস‌ীমার উপরে
এবার বর্ষায় অস্বাভাবিক কম বৃষ্টি
ভারি বৃষ্টি বৃহস্পতিবার থেকে
এমন দাবদাহ ২০৬০ পর্যন্ত: জাতিসংঘ

মন্তব্য

p
উপরে