× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Khairuns first husband was a classmate who drove an autorickshaw
hear-news
player
print-icon

খায়রুনের প্রথম স্বামী ছিলেন সহপাঠী, চালিয়েছেন অটোরিকশাও

খায়রুনের-প্রথম-স্বামী-ছিলেন-সহপাঠী-চালিয়েছেন-অটোরিকশাও
সম্প্রতি কলেজছাত্রকে বিয়ে ও মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত হন কলেজশিক্ষক খায়রুন নাহার। ছবি: সংগৃহীত
জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুজনই রাজশাহী কলেজে দর্শন বিভাগে পড়তাম। ১৯৯৫-৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। সেখানেই পরিচয়, বন্ধুত্ব ও প্রেম। অনার্স পরীক্ষা দিয়েই আমরা বিয়ে করেছি। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে।’

নাটোরের কলেজশিক্ষক খায়রুন নাহারের প্রথম বিয়ে হয় তার সহপাঠীর সঙ্গে। সহপাঠী থেকে প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। চার বছরের প্রেম গড়িয়েছিল দাম্পত্য সম্পর্কে।

নানা টানাপোড়েন আর মান-অভিমানের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক টিকে ছিল ১৯ বছর। ২ পুত্রসন্তান থাকার পরও ২০২০ সালে বিচ্ছেদ ঘটান তারা।

খাইরুন নাহারের মৃত্যুতে শোকাহত তার প্রথম স্বামী জহুরুল ইসলাম বাবলু। তিনি বললেন, ‘আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু ছেলেদের সাথে তো ছিল। দোয়া করবেন আমি যেন ওদের মায়ের অভাব পূরণ করতে পারি।’

কলেজছাত্রকে বিয়ে ও মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত শিক্ষক খায়রুন নাহারের প্রথম সংসারের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, মান-অভিমান করেই তাদের সেই সংসার ভেঙে গিয়েছিল। খায়রুনই তালাক দিয়েছিলেন স্বামী জহুরুল ইসলামকে।

জহুরুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের পান্নাপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি পান্নাপাড়া আব্দুর রহমান বিএম কলেজের প্রভাষক। প্রথম সংসার ভেঙে যাবার পর আর বিয়ে করেননি তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম লেখাপড়া শেষ করেই কলেজে শিক্ষকতা শুরু করলেও বহুদিন তার বেতন হয়নি। সম্প্রতি ঘোষিত এমপিও তালিকায় তার বেতন চালু হয়েছে। এর আগে আর্থিক চরম অনটন পার করতে হয়েছে তাকে। সেই সময়টিতে তিনি অটোরিকশাও চালিয়েছেন। এরই মাঝে পারিবারিক অশান্তি থেকে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান।

তবে, বিচ্ছেদের কারণ স্পষ্ট করে বলতে চান না জহুরুল ইসলাম। সোমবার তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে তিনি তেমন কিছু বলতে আগ্রহ দেখাননি। শুধু এটুকুই জানিয়েছেন যে, মান-অভিমান থেকেই বিচ্ছেদ।

তিনি বলেন, ‘ও খারাপ না ভালো- এটা নিয়ে আমি আর কিছু বলব না। ও-ই আমাকে তালাক দিয়ে চলে গেছে। আমাদের সংসারে দুটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে বৃন্ত রাজশাহীতে একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট ছেলে অর্ক বাঘার একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।’

তাদের বিচ্ছেদের পর বৃন্ত কখনও দাদার বাড়ি আবার কখনও নানার বাড়িতে থাকেন। আর অর্ক তার বাবার কাছে দাদার বাড়িতেই থাকে।

পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে নিয়ে জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুজনই রাজশাহী কলেজে দর্শন বিভাগে পড়তাম। ১৯৯৫-৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। সেখানেই পরিচয়, বন্ধুত্ব ও প্রেম। অনার্স পরীক্ষা দিয়েই আমরা বিয়ে করেছি। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে। পরে দুজনই মাস্টার্স করেছি। আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

‘পারিবারিক মান-অভিমান থেকে ও-ই তালাক দিয়ে চলে গেছে। পরে আমার সাথে আর যোগযোগ হতো না। ছেলেদের সাথে কথা বলত। অনেক সময় আমার মোবাইল থেকে ছেলেরা কল দিয়ে কথা বলত।’

কলেজছাত্রকে সাবেক স্ত্রীর বিয়ের বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বললেন, ‘ওর ভালো লেগেছিল করেছে। ভালো থাকার আশা নিয়েই তো করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘মারা যাবার খবর শুনে খারাপ লেগেছে। বেশি খারাপ লেগেছে আমার বাচ্চাগুলো মা হারা হয়ে গেল।’

আরও পড়ুন:
মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতের পর মিলল ছাত্রের মরদেহ
‘ভাইরাল হওয়ার পর মানসিক চাপে পড়েন শিক্ষক খাইরুন’
শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যু: স্বামী মামুন পুলিশ হেফাজতে
কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
সহকারীর জ্বালায় প্রধান শিক্ষক আসে আর যায়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Boat sinking 5 missing on Kartowa coast Dhiren waits

নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন

নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
ধীরেন বলেন, ‘বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে আমার ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় উঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারো খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের অপেক্ষা করতেছি।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অর্ধশতাধিক। তাদের জীবিত পাওয়ার আশা নেই বললেই চলে।

তবুও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে করতোয়ার পাড়ে স্বজনদের অপেক্ষা। জীবিত না হোক, অন্তত মরদেহটি যদি মেলে।

এমনই দুর্বিষহ অপেক্ষায় রয়েছেন মাড়েয়া বটতলী এলাকার ধীরেন বাবু। নৌকাডুবিতে একজন, দুজন নয়; তার নিকটাত্মীয় ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ৫ স্বজন ছাড়াও নিখোঁজ রয়েছেন তার আরও দুই প্রতিবেশী।

ধীরেন ধরেই নিয়েছেন তার নিখোঁজদের কেউ বেঁচে নেই। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে আমার ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় উঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারো খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের অপেক্ষা করতেছি।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এ ঘটনায় কিছু যাত্রী বেঁচে ফিরতে পারলেও এখন পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬০ জন।

সোমবার সকালে আউলিয়ার ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরিদলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে নদীর পাড়ে ভিড় করছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।

এর মধ্যে ভাই ও ভাইপোর খোঁজে ঘাটে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে আমার ভাই নরেশ ও ভাইপো সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। নৌকাডুবির খবরে খাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষায় আছি।’

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।’

রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। সোমবার সকাল সাড়ে ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার হয় আরও সাত মরদেহ।

প্রথম দিনে উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন উদ্ধার হওয়া মরদেহ মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে মরদেহ স্বজনদের কাছে স্থানান্তর করা হবে।

নৌকায় ধারণক্ষমতার ‘দিগুণ’ যাত্রী ছিল

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকাযোগে নদী পার হচ্ছিলেন।

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার হলেও নৌকাটিতে যাত্রী ছিল শতাধিক। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতার জানায় তীরে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। মনে করা হচ্ছে, স্রোতের কারণে অনেক মরদেহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিও নৌকায় ছিলাম। নৌকায় শতাধিক যাত্রী ছিল। আমরা নৌকায় ওঠার পরপরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করেন। পরে যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল।

‘আমরা পাঁচজন বন্ধু ছিলাম। কোনো মতে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই। অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। তবে এত মানুষ মারা যাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

এই প্রাণহানির জন্য জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলামও অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

‘গতকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে নদীতে পানি বেশি ছিল, স্রোতও বেশি ছিল। নিষেধ করতে করতে সবাই উঠে যায়। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় সবাই উঠতে চাইছিলেন। এরপর মাঝনদীতে গিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি।’

সোমবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
However the court allowed Maryam Mannans DNA test

তবুও মরিয়ম মান্নানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিল আদালত

তবুও মরিয়ম মান্নানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিল আদালত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহটি মায়ের দাবি করে ময়মনসিংহে মরিয়ম ও তার বোনেরা (বামে) ও মরদেহের পরনে থাকা কাপড়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ওসি বলেন, ‘রহিমা নামের ওই নারীকে উদ্ধার করতে না পারলে রোববারই তার মেয়ের ডিএনএ টেস্ট করানোর প্রচেষ্টা চালানো হতো। কিন্তু এখন আবেদনে লিখতে হবে নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে জমা দিতে হবে।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরে উদ্ধার মরদেহ মরিয়ম মান্নানের কি না- তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। জেলার মুখ্য বিচারিক ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক কে.এম রওশন জাহান রোববার বিকেলে এ অনুমতি দেন।

মরিয়মের শুক্রবার করা আবেদন আমলে নিয়েছেন বিচারক। অথচ শনিবার রাতেই মরিয়মের মা রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবরে আলোড়িত গোটা দেশ।

আদালত পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন আদালতের ডিএনএ টেস্টের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় করা মরিয়মের আবেদনটি শনিবার অনুমতির জন্য আদালতে তুলেছিল পুলিশ। বিচারক রোববার বিকেলে সেটির অনুমতি দেন।

ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। সেটি একজন নারীর। মরদেহ গলিত হওয়ায় ময়মনসিংহের পিবিআই সেটির হাতের আঙ্গুলের ছাপ নিতে পারেনি। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর সমাহিত করা হয়। তবে মরদেহটির ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।

ওসি বলেন, ‘গত শুক্রবার সকালে থানায় এসে ওই মরদেহের ছবি দেখে মরিয়ম মান্নান শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন শরীর, কপাল, হাত ও সালোয়ার-কামিজ তার নিখোঁজ মায়ের। তিনি তার মাকে চিনতে ভুল করেননি। এমন অবস্থায় ডিএনএ টেস্টের পরামর্শ দেয়া হলে তিনি আবেদন করেন। পরে আবেদনটি আদালতে অনুমতির জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু বিচারক অনুমতি দেয়ার আগেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রহিমা বেগমকে।’

ডিএনএ টেস্টের আবেদনটি আদলতে অনুমোদন পাওয়ার পর কী করা হবে- এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘রহিমা নামের ওই নারীকে উদ্ধার করতে না পারলে রোববারই তার মেয়ের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রচেষ্টা চালানো হতো। কিন্তু এখন আরেকটি আবেদনে লিখতে হবে নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে সেটি জমা দিতে হবে।’

এদিকে মরিয়মের মাকে জীবিত উদ্ধারের পর অজ্ঞাত ওই মরদেহটির পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। কোনো ক্লু-ই মিলছে না এ বিষয়ে। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত স্পষ্ট বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পরই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ছবিসহ জামাকাপড় ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় মরদেহের বয়সসহ সব আলামতের বর্ণনা পাঠিয়ে খোঁজ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীর খোঁজ পেতে থানায় কেউ এসেছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় এক মাস ধরে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা থেকে মা নিখোঁজের অভিযোগ করে মরিয়ম মান্নানের পোস্টগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে অক্ষত অবস্থায় রহিমাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rahima wanted birth registration in Boalmari

বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা

বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা
বোয়ালমারীর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ২২ তারিখ পরিষদের বাইরে ওই নারী ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে আমার কাছে এসে বলেন জন্ম নিবন্ধন করব।’

খুলনার দৌলতপুর থেকে নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর উদ্ধার রহিমা বেগম রোববার পিবিআই কার্যালয়ে বসে জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তাকে উদ্ধারের ঘটনাস্থল ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানালেন, সেখানে জন্ম নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন রহিমা।

মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে রহিমার অপহরণ হওয়ার দাবি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রহিমা বেগমকে শনিবার অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, রহিমা জানিয়েছেন যে প্রতিবেশী কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিনজন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। পরে ১ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম ও বান্দরবান যান। পরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে পূর্বপরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। তার কাছে কোনো মোবাইল নাম্বার না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে গিয়ে রহিমাকে আশ্রয়দাতা কুদ্দুস মোল্লার স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে থাকাকালে প্রায়ই রহিমা ঘর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন।

কুদ্দুস মোল্লার বড় মেয়ের জামাই নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে জানান, এর মধ্যে একদিন রহিমা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও গিয়েছিলেন।

সেখানে কেন গিয়েছিলেন জানতে চাইলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হক শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ২২ তারিখ পরিষদের বাইরে ওই নারী ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে আমার কাছে এসে বলেন জন্ম নিবন্ধন করব।’

বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা
বোয়ালমারীর এই বাড়িতে পাওয়া গেছে রহিমাকে। ছবি: নিউজবাংলা

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছি আপনি কে, কোন এলাকায় বাড়ি। তিনি তখন জানান যে সৈয়দপুরে বাড়ি। বাগেরহাটে একটি বাড়িতে তিনি কাজ করেন। কিন্তু ওনার পোশাক দেখে আমার মনে হলো বড় ঘরের কেউ হবে। তখন সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করি আপনি কোন মেম্বারের এলাকার। উনি ঠিক করে বলতে পারলেন না।

‘তখন আমি বলি চাইলেই তো জন্মনিবন্ধন পাওয়া যায় না। বাসিন্দা হতে হয়। বিদ্যুৎ বিলের কাগজসহ আরও অনেক কাগজ লাগে। আপনি আপনার ওয়ার্ডের মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে আইসেন। এ কথা শুনে উনি উঠে চলে যান। আমার আরও সন্দেহ হয় যে উনি আবার কোনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক কি না। পরে আমি এক মেম্বারকে ডেকে ওই নারীর খোঁজ নিতে বলি। খোঁজ নিয়ে সে আমাকে জানায় উনি কুদ্দুসের বাড়িতে বেড়াতে আসছেন।’

রহিমার অপহরণ হওয়ার দাবি সত্যি হলে, ২৭ আগস্ট তিনি অপহৃত হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনরা তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

অপহরণকারীদের দেয়া মাত্র ১ হাজার টাকায় অন্তত ১৩ দিন তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় কীভাবে কাটালেন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে পিবিআই।

রহিমা অপহৃত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময় তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোশাকসহ অন্য মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সঙ্গে এগুলো থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।

‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। অনেক রহস্য রয়ে গেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rahima sign language through the night with SI Dola

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা রহিমা বেগমকে উদ্ধার অভিযান দলে সাদা পোশাকে ছিলেন দৌলতপুর থানার এসআই দোলা দে। ছবি: নিউজবাংলা
এসআই দোলা দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে তাকে (রহিমা) আমি নিজের মায়ের মতো সেবাযত্ন করি। নানাভাবে তার আত্মগোপনের কথা জানতে চাই। একপর্যায়ে তাকে বলি, আমি তো আপনার মেয়ের মতো, কাল সকালে তো মেয়েদের কাছে আপনাকে দিয়ে দেয়া হবে। তাদের তো সব বলবেন, আমাকে কিছু বলেন।’

মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগমকে ফরিদপুর থেকে উদ্ধারে খুলনা থেকে গিয়েছিল দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল। এই উদ্ধার অভিযানে ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দোলা দে।

ফরিদপুর থেকে খুলনা এনে পুলিশের ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত রহিমা বেগমের দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন দোলা।

পুলিশের এই কর্মকর্তা উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

দোলা জানান, ফরিদপুর থেকে নিয়ে আসার পর দৌলতপুর থানা পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি রহিমা। তবে মাঝেমধ্যে ইশারায় কিছু যোগাযোগ হয়েছে এসআই দোলার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় থানা থেকে আমাকে ফোন করে জানায় একটি উদ্ধার অভিযানে যেতে হবে। আমরা রেডি হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রওনা হই। কোথায় কী অভিযানে যেতে হচ্ছে, তা থানা থেকে আগে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।

‘মাঝপথে গিয়ে জানতে পারি আমরা নিখোঁজ রহিমা বেগমকে উদ্ধার করতে ফরিদপুরে যাচ্ছি।’

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
দৌলতপুর থানার থানার উপপরিদর্শক দোলা দে

দোলা বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরা ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে পৌঁছাই। সেখান থেকে সোজা চলে যাই কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে। তাৎক্ষণিক দলের সবাই প্রবেশ করি কুদ্দুস মোল্লার ঘরে।

‘সেখানে রহিমা বেগম আরও তিনজন নারীর সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলামকে রহিমা বেগম আগে থেকেই চিনতেন। হঠাৎ ওসিকে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।

‘আমরা রহিমা বেগমকে নিজেদের হেফাজতে নিই। পরে ওই বাড়ির তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি।’

এসআই দোলা বলেন, ‘রাত ১১টার কাছাকাছি সময়ে আমরা ফরিদপুর থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হই। গাড়িতে আমার ডান সাইডে বসেছিলেন রহিমা বেগম। সিনিয়র স্যাররা রহিমা বেগমকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। তবে কোনো প্রশ্নেরই তিনি উত্তর দেননি।’

পুলিশের দলটি মধ্যরাতের পর খুলনা পৌঁছায়।

দোলা বলেন, ‘রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে আমরা দৌলতপুর থানায় পৌঁছাই। সেখানে ডিসি স্যার সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পর থানায় রহিমা বেগমকে আমার সঙ্গে রেখে দেন।’

‘রাতে তাকে আমি নিজের মায়ের মতো সেবাযত্ন করি। নানাভাবে তার আত্মগোপনের কথা জানতে চাই। একপর্যায়ে তাকে বলি, আমি তো আপনার মেয়ের মতো, কাল সকালে তো মেয়েদের কাছে আপনাকে দিয়ে দেয়া হবে। তাদের তো সব বলবেন, আমাকে কিছু বলেন।

‘তখন তিনি মাথা ইশারা করে আমাকে জানান, মেয়েদের কাছে যেতে চান না। তাহলে কী স্বামীর কাছে যেতে চান- এই প্রশ্ন করি। সেটাও তিনি চান না জানিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট কাঁদতে থাকেন।’

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
থানায় রাতভর রহিমা বেগমের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন এসআই দোলা দে

দোলা বলেন, ‘এরপর নানাভাবে সান্ত্বনা দেয়ার পর তিনি (রহিমা) কান্না থামিয়ে নামাজ পড়তে চান। রাতটি তাকে নিয়েই আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি।’

এসআই দোলা বলেন, ‘সকালে ওসি স্যারের নির্দেশে তাকে (রহিমা) নিয়ে যাই সোনাডাঙ্গার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। সেখানে তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে রহিমা বেগম কিছুতেই মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি ছিলেন না। একপর্যায়ে আমার অনুরোধে তিনি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ান। মেয়েরা তাকে মা বলে ডাক দিলে আবার ভেতরে চলে যান।’

এর কিছু সময় পর রহিমা বেগমকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন:
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rahima Begum got her daughter Aduris custody

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়
রহিমাকে বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ এর বিচারক মো: আলামিনের খাস কামরায় ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর সন্ধ্যায় মেয়ে আদুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এর বিচারক সারওয়ার আহমেদ।

খুলনার দৌলতপুরের থেকে নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর উদ্ধার রহিমা বেগমকে তার মেয়ে আদুরী আক্তারের জিম্মায় মুক্তি দিয়েছে আদালত।

তাকে রোববার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ এর বিচারক মো: আলামিনের খাস কামরায় ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় মেয়ে আদুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এর বিচারক সারওয়ার আহমেদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী আদুরীর আইনজীবী মো. আফরুজ্জামান টুটুল।

প্রায় এক মাস ধরে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা থেকে মা নিখোঁজের অভিযোগ করে মরিয়ম মান্নানের পোস্টগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর মধ্য দিয়ে রহিমার নিখোঁজের বিষয়টি আলোচিত হয় দেশজুড়ে।


অপহরণের জিডি, মামলা ও সংবাদ সম্মেলন

গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। রাত সোয়া ২টার দৌলতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী।

সে জিডি থেকে জানা যায়, নিখোঁজের সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা। দীর্ঘ সময় পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী।

রহিমা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হন মরিয়ম মান্নানসহ তার অন্য মেয়েরা।

গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন রহিমার বাড়ির লোকজন। সে সময় জানানো হয়, রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।


অন্য নারীকে মা দাবি

২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন তার মেয়েরা। ওই রাত পৌনে ১২টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এইমাত্র।’

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

ওই সময় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার মা।’

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়

সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে মরিয়মকে জানানো হয়, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।


অবশেষে উদ্ধার

বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব রহিমাকে। সেখান থেকে পৌনে ১১টার দিকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। রাত ২টা ১০ মিনিটে মরিয়মের মাকে দৌলতপুর থানায় নেয়া হয়।

সেখান থেকে রোববার সকালে রহিমাকে খুলনার সোনাডাঙ্গায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ও পরে পিবিআই কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর রোববার বিকেলে আদালতে জবানবন্দি শেষে তাকে মেয়ে আদুরীর জিম্মায় দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে
বস্তাবন্দি মরদেহ মরিয়ম মান্নানের মায়ের কি না সংশয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The police are now searching for the identity of the woman in the bag

বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ

বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ অজ্ঞাত ওই মরদেহটির পরনে ছিল এসব কাপড়। ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে কেন মেলানো হয়নি- এই প্রশ্নে ফুলপুর থানার ওসি মামুন বলেন, ‘ওই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। এরপর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের সাহায্য নেয়া হয়। তারা আঙুলের ছাপ নিতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু গলিত হওয়ার কারণে ভালোভাবে নেয়া সম্ভব হয়নি। সেই ছাপ মেলেওনি কোনোটির সঙ্গে।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরের বস্তাবন্দি মরদেহটি নিয়ে হঠাৎ করেই আলোচনা এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা দেশেই।

মরদেহটি কার, কে তাকে খুন করেছে- এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। গত ১৫ দিনে মেয়েটির পরিচয়ই শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ পরিচয় শনাক্তে ফেসবুকে মেয়েটির বিষয়ে তথ্য দেয়া ছাড়াও থানায় থানায় নিখোঁজের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেছে কি না জানতে চেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অন্ধকারে তারা।

আঙুলের ছাপ নিয়ে মরদেহ শনাক্তের কৌশলও কাজে লাগানো যায়নি। কারণ গলে যাওয়া হাতের ছাপ যন্ত্রের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না।

খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নানের মা নিখোঁজ হওয়ার বেশ কিছুদিন পর এই মরদেহটি পায় পুলিশ। এ নিয়ে খুব একটা আলোচনা ছিল এমন নয়। কিন্তু মরিয়ম হঠাৎ থানায় গিয়ে দাবি করেন, এটি তার মায়ের লাশ।

পুলিশ শুরু থেকেই বলছিল, সেই মরদেহটি ছিল ২৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী কোনো তরুণীর, আর মরিয়মের মা পঞ্চাশোর্ধ্ব।

তবে মরিয়ম জোরালোভাবে বলতে থাকেন, তিনি তার মায়ের কাপড়, হাত, পা, কপাল চেনেন। তখন পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

এর মধ্যে মরিয়মের মা উদ্ধার হন ফরিদপুর থেকে। তাকে অপহরণের যে অভিযোগ করা হচ্ছিল, সেই অভিযোগ এবং অভিযোগকারীরাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

এদিকে মরিয়মের মাকে জীবিত উদ্ধারের পর অজ্ঞাত ওই মরদেহটির পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। কোনো ক্লুই মিলছে না এ বিষয়ে। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত স্পষ্ট বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি মরদেহটি পাওয়া যায়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর সমাহিত করা হয়।

ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পরই গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ছবিসহ জামাকাপড় ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় মরদেহের বয়সসহ সব আলামতের বর্ণনা দিয়ে খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই নারীর খোঁজ পেতে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, ‘ওই নারীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এমন হলে কোনো থানায় পরিবার কিংবা স্বজনরা অভিযোগ দেয়ার কথা ছিল। এসব কারণে পরিচয় শনাক্তসহ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তবে আশা করছি, দ্রুতই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’

তরুণীর আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে কেন মেলানো হয়নি- এই প্রশ্নে ফুলপুর থানার ওসি মামুন বলেন, ‘ওই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। এরপর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের সাহায্য নেয়া হয়। তারা আঙুলের ছাপ নিতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু গলিত হওয়ার কারণে ভালোভাবে নেয়া সম্ভব হয়নি। সেই ছাপ মেলেওনি কোনোটির সঙ্গে।’

ডিএনএ পরীক্ষাও হবে না

মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করার যে কথা হয়েছিল, সেটিও এখন বাতিল করা হয়েছে। এটি মরিয়ম মান্নানের মা কি না, তা শনাক্ত করতেই পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু মরিয়মের মায়ের খোঁজ মেলায় ওই মরদেহটির ডিএনএ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে
বস্তাবন্দি মরদেহ মরিয়ম মান্নানের মায়ের কি না সংশয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maryams mother in 4 districts in 13 days for only 1 thousand taka

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা! পুলিশ হেফাজতে থাকা রহিমা বেগমের দাবি, তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
রহিমা বেগমের দাবি সত্যি হলে, ২৭ আগস্ট তিনি অপহৃত হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনরা তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম দাবি করছেন, তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। তবে মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে এই দাবি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রহিমা বেগমকে শনিবার অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রহিমা বেগমকে। কুদ্দুস মোল্লার স্বজনদের দাবি, রহিমা তাদের বলেছিলেন সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী ও মেয়েদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ কারণেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

ফরিদপুর থেকে উদ্ধারের পর থেকে নিশ্চুপ ছিলেন রহিমা বেগম। খুলনার সোনাডাঙ্গায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রোববার সকালে মরিয়ম মান্নানসহ অন্য সন্তানরা দেখা করতে গেলেও তাদের সঙ্গে কথা বলেননি তিনি।

পুলিশের অনুরোধে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের জানালার কাছে এসে দাঁড়ান রহিমা বেগম। মরিয়ম মান্নান এ সময় ‘মা’ বলে ডাক দিলে তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে হেঁটে চলে যান।

তবে দুপুরের পরে মরিয়মসহ অন্য মেয়েরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন রহিমা।

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন মরিয়ম ও তার বোনেরা

দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক দোলা দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার (রহিমা) মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে আবার ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পিবিআই খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

‘পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রথম দিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।’

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তবে কোনোভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

‘তবে দুপুরের পর তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন রহিমা বেগম।’

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘মেয়েদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিনজন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। পরে ১ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম ও বান্দরবান যান। পরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে পূর্বপরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। তার কাছে কোনো মোবাইল নাম্বার না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

রহিমা বেগম যাদের বিরুদ্ধে জোর করে স্ট্যাম্পে সই নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন সেই গোলাম কিবরিয়া, মহিউদ্দীনসহ চারজনকে ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ৩০ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় হেলাল শরীফ নামে আরেকজনকে। সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর রহিমার স্বামী বিল্লাল ঘটককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সবাই কারাগারে আছেন।

রহিমার দাবি সত্যি হলে, ২৭ আগস্ট তিনি অপহৃত হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনরা তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
শনিবার রাতে ফরিদপুর থেকে উদ্ধারের পর খুলনায় নেয়া হয় রহিমাকে। ছবি: নিউজবাংলা

অপহরণকারীদের দেয়া মাত্র ১ হাজার টাকায় অন্তত ১৩ দিন তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় কীভাবে কাটালেন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে পিবিআই।

রহিমা অপহৃত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোশাকসহ অন্য মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সঙ্গে এগুলো থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।

‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। অনেক রহস্য রয়ে গেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।’

যে বাড়ি থেকে উদ্ধার তারা যা বলছেন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রহিমা বেগমকে।

কুদ্দুস মোল্লার ভাগনে জয়নাল ব্যাপারীর দাবি, তিনি শুক্রবার রাতেই রহিমার অবস্থানের তথ্য মরিয়ম মান্নানের পরিবারকে জানিয়েও কোনো সাড়া পাননি।

জয়নাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোবাইল ফোনে শুক্রবার বিকেলে যমুনা টিভিতে তার নিখোঁজ সংবাদ দেখি। রহিমার সঙ্গে মিল দেখে আমি বাড়িতে গিয়ে তার চেহারার সঙ্গে মেলাই, দেখি উনিই সেই জন।

“রহিমা বেগমকে ভিডিও দেখালে শুধু বলে ‘এটা তো আমি’। তখন তাকে খোঁজা হচ্ছে জানালে সে বলে ‘আমি বাড়ি ফিরে যাব না।”

জয়নাল বলেন, ‘এরপর আমি যমুনা টিভির ভিডিওতে কমেন্ট করি। সেখানে কোনো উত্তর না পেয়ে আবার সার্চ দিতে থাকি। তখন নিখোঁজ বার্তায় তার ছেলে মিরাজের নম্বর পাই। শুক্রবার রাতে মিরাজের নম্বরে কল দিলে তার স্ত্রী ফোন ধরে।

“আমি তাকে বলি রহিমা বেগম এখানে আছে। তখন অপর পাশ থেকে উত্তর আসে ‘আমি ওনাকে চিনি না। এ নম্বরে আর ফোন দেবেন না’। এই বলে সে ফোন কেটে দেয়।”

জয়নাল বলেন, ‘তার ছেলে–মেয়ে তাকে (রহিমা) কেউ পছন্দ করে না। তিনি বাড়িতে ফিরে যাবেন না। তিনি বাড়ি গেলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানান রহিমা বেগম। তারা বাড়ি বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছিল। বাড়ি বেচার টাকা নিয়ে অন্যত্র চলে যাবে। তিনি তাতে রাজি নন।’

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার এই বাড়িতে ছিলেন রহিমা। ছবি: নিউজবাংলা


কুদ্দুস মোল্লার বড় মেয়ের জামাই নূর মোহাম্মদের দাবি, সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী ও মেয়েদের সঙ্গে রহিমার বিরোধ চলছিল। এ কারণেই তিনি বাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন।

নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগম আমাদের এখানে এসে বলেছিলেন আমাকে একটা কাজ খুঁজে দেন, আমি আর বাড়ি ফিরে যাব না। যেকোনো কাজ, ইটভাটার হোক, জুট মিলের হোক বা বাসাবাড়ির হোক।

‘আমার মেয়েদের সঙ্গে আমার শত্রুতা, মেয়েরা আমাকে ভালো জানে না, তারা আমাকে চায় না, আমার সম্পত্তি চায়। প্রতিবেশীও আমার সম্পত্তি চায়।’

কুদ্দুস মোল্লার প্রতিবেশীদেরও একই কথা বলেছেন রহিমা বেগম।

নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে জানান, রহিমা বেগম ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়িতে আসেন।

তিনি বলেন, ‘ওইদিন বিকেলে রহিমা বেগম সৈয়দপুর বাজারে আসেন। তিনি অনেক দোকানে কুদ্দুস মোল্লার বাবা মোতালেব মুসল্লির বাড়ি খুঁজছিলেন। এই বাজারেই আমার দোকান আছে। এক দোকানদার আমার দাদা শ্বশুরকে খুঁজছে দেখে আমার কাছে নিয়ে আসে।

‘আমি তাকে বাড়িতে পাঠাই। বাড়ি গিয়ে আমার শাশুড়ি প্রথমে চিনতে পারছিলেন না। মরিয়মের মা তখন বলতে থাকেন, খুলনায় আমার বাড়িতে আপনারা ভাড়া ছিলেন, আমি মিরাজের মা, হুজুরের বউ। তখন চিনতে পেরে তাকে ভেতরে নিয়ে যান। সে বলেছিল, আমি বেড়াতে আসছি, দুই-তিন দিন থাকব। আমরা অতিথি ভেবে স্বাভাবিক আচরণ করেছি।’

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এর মধ্যে তিনি (রহিমা) দুই বার বোয়ালমারী সদর হাসপাতালে গেছেন চোখ দেখাতে। একদিন গেছেন ইউনিয়ন কার্যালয়ে। তিনি বাইরে গিয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতেন কি না বা বা টাকা কোথা থেকে পেতেন সেটা বলতে পারছি না।’

প্রতিবেশী স্থানীয় মেম্বার মোশারফ হোসেন মূসা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে জয়নাল আমাকে রহিমা বেগমের নিখোঁজের বিষয়টি জানায়। তখন আমি খুলনা সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামকে অবগত করি। আমি একটা সালিশে গিয়েছিলাম তার অফিসে। তিনি মিটিংয়ে ছিলেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলেন।

‘পরে বিকেল ৫টার দিকে তিনি আমাকে কল দেন। বলেন, এ রকম একটা ঘটনা আছে। কাউন্সিলর বলেন আপনি ওই নারীকে দেখে রাখেন, আমরা আসব। এর মধ্যেই রাত ১০টার দিকে আমাকে ফোন করে লোকেশন জানতে চান, সাড়ে ১০টার দিকে তারা উপস্থিত হন। পরে খুলনা পুলিশ বোয়ালমারী থানাকে ইনফর্ম করে তাকে (রহিমা) খুলনা নিয়ে যান।’

আরও পড়ুন:
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে
বস্তাবন্দি মরদেহ মরিয়ম মান্নানের মায়ের কি না সংশয়
স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরী ‘অপহরণ’

মন্তব্য

p
উপরে