× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
SDG MDG met in Bangabandhus education industry policy
hear-news
player
print-icon

‘এসডিজি-এমডিজির দেখা মেলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা, শিল্প, রাষ্ট্রনীতিতে’

এসডিজি-এমডিজির-দেখা-মেলে-বঙ্গবন্ধুর-শিক্ষা-শিল্প-রাষ্ট্রনীতিতে
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সে সময়ের নেয়া শিক্ষা নীতি, শিল্প-বাণিজ্য নীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিলে; তার সেসব নীতির মাঝে আজকের এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা), এমডিজির (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) লক্ষ্যগুলোই দেখতে পাব আমরা।’

এসডিজি ও এমডিজির লক্ষ্যগুলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষা, শিল্প-বাণিজ্য, রাষ্ট্র পরিচালনা নীতিতে দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সে সময়ের নেয়া শিক্ষা নীতি, শিল্প-বাণিজ্য নীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিলে; তার সেসব নীতির মাঝে আজকের এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা), এমডিজির (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) লক্ষ্যগুলোই দেখতে পাব আমরা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে রোববার দুপুরে এ আয়োজন ছিল।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ফলে বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরাই আমাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা-নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি, যার সুযোগ করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুই। বাঙালির শত বছরের সংগ্রাম-ত্যাগের পর বঙ্গবন্ধুই দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিকদর্শনসহ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের প্রশংসা করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুষ্ঠু রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন অধ্যাপক শিবলী। দেশের কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অতুলনীয় নেতৃত্বের গুণের মাধ্যমে দেশের সকল সমস্যার সমাধান করে চলেছেন।’

এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

জাতীয় শোক দিবসে সকলকে শহীদদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস আলোচনা করেন।

অধ্যাপক সামাদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের জন্য যেসব অবদান রেখেছেন, যা কিছু করেছেন; সেসব আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জানাতে হবে এবং ছড়িয়ে দিতে হবে।’

নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৪৯ সালে ২৭ জনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যাদের ২৬ জনই মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব ফিরিয়েছেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধুই মুচলেকা দেননি, আপোষ করেননি।’

বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, আব্দুল হালিম, ড. মিজানুর রহমান, ড. রুমানা ইসলামসহ কমিশনের কর্মকর্তারা আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের
ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কিনলে বিএপিএলসিকে সুবিধা: বিএসইসি
শোকের মাসে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের নির্দেশ
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Business growth agreement Saif Powers profit will increase by 25 crores

ব্যবসা বৃদ্ধির চুক্তি, সাইফ পাওয়ারের মুনাফা বাড়বে ২৫ কোটি

ব্যবসা বৃদ্ধির চুক্তি, সাইফ পাওয়ারের মুনাফা বাড়বে ২৫ কোটি সাইফ পাওয়ারটেক দুবাইয়ে সাইফ মেরিটাইম এলএলসি নামে একটি সহযোগী কোম্পানি চালু করেছে। ছবি: সংগৃহীত
চুক্তির আওতায় সাফিন ফিডারস ও সাইফ পাওয়ারটেক ৩টি জাহাজের মাধ্যমে ১৫ বছরের মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে কার্গো সেবা দেবে। প্রতি বছর কার্গো মালবাহী জাহাজ প্রতি ২০০ কোটি টাকা আয় হবে। এতে নিট মুনাফা হবে ২৫ কোটি টাকা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী পোর্টস কোম্পানির সাবসিডিয়ারি সাফিন ফিডার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড ও এর সাবসিডিয়ারি সাইফ মেরিটাইম।

এই সহযোগিতার ফলে করে সাইফ পাওয়ারটেকের বার্ষিক মুনাফা ২৫ কোটি টাকা বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাহাজ পরিচালনার জন্য রোববার এই চুক্তিটি হয়।

সাফিন ফিডার আরব আমিরাতভিত্তিক কনটেইনার ফিডার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, যার শতভাগ মালিকানা রয়েছে এডি পোর্টস গ্রুপের।

চুক্তির আওতায় সাফিন ফিডারস ও সাইফ পাওয়ারটেক ৩টি জাহাজের মাধ্যমে ১৫ বছরের মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে কার্গো সেবা দেবে। প্রতি বছর কার্গো মালবাহী জাহাজ প্রতি ২০০ কোটি টাকা আয় হবে। এতে নিট মুনাফা হবে ২৫ কোটি টাকা।

এই উদ্দেশ্যে সাইফ পাওয়ারটেক দুবাইয়ে সাইফ মেরিটাইম এলএলসি নামে একটি সহযোগী কোম্পানি চালু করেছে।

চুক্তির আওতায় সাফিন ফিডারসে আটটি বাল্ক ভ্যাসেলের মাধ্যমে ফুজিয়ারা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আনা-নেয়া করবে সাইফ পাওয়ারটেক। এর প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি। এসব কার্গোর মাধ্যমে ফুজিয়ারা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ক্লিংকারসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫৮ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে সাইফ পাওয়ারটেক। কোম্পানিটি মোংলা ও পানগাঁও বন্দরেও কনটেইনার হ্যান্ডেল করে।

আরও পড়ুন:
সাকিবের বাবার জায়গা থেকে সরল হিরুর শ্বশুরের নাম
চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শুরু
পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি
পুঁজিবাজারে আসতে চায় সীমা স্টিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Trading is less than half after a record four days

রেকর্ডের চার দিনের মাথায় লেনদেন অর্ধেকের নিচে

রেকর্ডের চার দিনের মাথায় লেনদেন অর্ধেকের নিচে
লেনদেনের রেকর্ডের দিন যারা শেয়ার কিনেছেন, তারা বিক্রি করতে গিয়ে এখন গলদঘর্ম হচ্ছেন। কারণ ক্রেতা নেই। কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ঘিরে অস্বাভাবিক হুলুস্থুলের কারণে সূচক ও লেনদেন ক্রমাগত বাড়তে থাকার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা এরই মধ্যে গতি হারিয়েছে।

এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড গড়ার চার দিনের মাথায় পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার গতি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। গত এক বছরে এর চেয়ে বেশি লেনদেন কখনও হয়নি। ২০১০ সালে মহাধসের পর এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে মোট সাত কর্মদিবসে।

চার কর্মদিবস পর রোববার এই লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

তবে লেনদেনের রেকর্ডের দিন যারা শেয়ার কিনেছেন, তারা বিক্রি করতে গিয়ে এখন গলদঘর্ম হচ্ছেন। কারণ ক্রেতা নেই। কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ঘিরে অস্বাভাবিক হুলুস্থুলের কারণে সূচক ও লেনদেন ক্রমাগত বাড়তে থাকার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা এরই মধ্যে গতি হারিয়েছে।

বিশেষ করে ওরিয়ন গ্রুপের চারটি ও বেক্সিমকো গ্রুপের মোট ছয়টি কোম্পানির দুরন্ত গতি থেমে যাওয়ার পর এই চিত্র দাঁড়িয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো লিমিটেডের ৩৪২ কোটি টাকার বেশি আর ওরিয়ন ফার্মার ৩২৭ কোটি টাকার বেশি। চার কর্মদিবস পর সোমবার ওরিয়ন ফার্মায় লেনদেন হয়েছে ১১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি আর বেক্সিমকো লিমিটেডে ১১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি।

ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলো আগের দিনই বিনিয়োগকারীদের কাঁপন ধরিয়েছিল। সেদিন ৪৮ পয়েন্ট সূচক পতনে এই গ্রুপের ছয় কোম্পানির অবদান ছিল ৩৮ পয়েন্ট।

পরদিন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন হয়নি। বেড়েছে সামান্য।

আগের দিন দরপতনের শীর্ষে থাকা ওরিয়ন ফার্মার দর ২ টাকা ২০ পয়সা বা ১.৬৩ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৪ টাকা ৬০ পয়সা বা ০.৮১ শতাংশ, বিকন ফার্মার দর ২ টাকা ৪০ পয়সা বা ০.৭৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে কোহিনূর কেমিক্যালসের দর কমেছে ৮ টাকা ৭০ পয়সা বা ১.৪৫ শতাংশ।

আগের দিন ৫ শতাংশের বেশি দর হারানো বেক্সিমকো ফার্মার দর ১ টাকা বা ০.৫৮ শতাংশ এবং বেক্সিমকো লিমিটেডের দর ১ টাকা ২০ পয়সা বা ০.৯১ শতাংশ বেড়েছে।

দিনভর উঠানামার পর বেলা শেষে সূচক কমেছে ৪ পয়েন্ট। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কোম্পানির দর ছিল আগের দিনের দামে, যেগুলোর প্রায় সবই আছে বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইসে। এই সংখ্যাটি ১৭৩। এদিন দরপতন হয়েছে ১৩৭টি কোম্পানির আর বেড়েছে ৬১টির।

রেকর্ডের চার দিনের মাথায় লেনদেন অর্ধেকের নিচে
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয়েছে ফ্লোর প্রাইসে

গত ৩১ জুলাই থেকে সূচক ও লেনদেন বাড়তে থাকার মধ্যে প্রতিদিনই অনেক কোম্পানি দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় দেখা গেলেও সেটি এখন নেমে এসেছে একটিতে।

এদিন শুধু বিডিকমের দর বেড়েছে এক দিনে যতটা বাড়া যায় ততটাই। আর জেএমআই হসপিটালের দর সেই সীমা ছুঁয়ে কয়েক পয়সা কমে লেনদেন শেষ করেছে। আর চারটি কোম্পানির দর ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

একইভাবে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত কমেনি কোনো কোম্পানির দর। উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দেয়ার আগে ৫ কর্মদিবসে ৪৬ শতাংশ দর বেড়ে যাওয়া আজিজ পাইপের দর কমেছে ৮.৫৫ শতাংশ। ছয় বছর পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দেয়ার আগে লাফাতে থাকা জুট স্পিনার্সের দর কমেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭.১৬ শতাংশ।

আরও তিনটি কোম্পানির দর ৬ শতাংশের বেশি, আরও ৭টি কোম্পানির দর ৫ শতাংশের বেশি, আরও ৯টি কোম্পানির দর ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৯টি কোম্পানির ৩ শতাংশের বেশি, ২২টি কোম্পানির দর ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দিনের শুরুর দিকে ট্রেন্ডি আইটেমগুলো একটু স্লো ছিল। যার প্রভাব সূচকে পড়েছে। তবে দুপুরের পর থেকে কিছুটা রিকোভার করতে দেখা যায়।’

তিনি যোগ করেন, ‘গতকালের বাজারের যে আচরণ ছিল, ট্রেন্ডি আইটেমগুলোর মন্থর গতির কারণে একটু প্যানিকের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সাইড লাইনে চলে গেছেন। পর্যবেক্ষণ করছেন। হয়তবা কাল-পরশুর মধ্যে তারা আবার ফিরবেন। তাহলে আশা করা যায় যে, লেনদেন আবারও আগের অবস্থানে চলে আসবে।’

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ১ পয়েন্ট সূচক কমেছে আইসিবির দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

আর কোনো কোম্পানির দরপতনে এক পয়েন্ট সূচক কমেনি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমেছে লাফার্জ হোলসিমের কারণে। শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সি পার্লের দর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

এ ছাড়া ইউনিক হোটেল, আইপিডিসি, ইউনিলিভার কেয়ার, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, পেনিনসুলা ও অ্যানার্জিপ্যাক পাওয়ারের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

বিপরীতে কোনো কোম্পানিই এককভাবে এক পয়েন্ট সূচক বাড়াতে পারেনি।

সবচেয়ে বেশি শূন্য দশমিক ৯৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে জেএমআই হসপিটাল। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের দর ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৬ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো লিমিটেড সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ৭২ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ।

এর বাইরে শাহজিবাজার পাওয়ার, বার্জার পেইন্টস, বিকন ফার্মা, সাইফ পাওয়ার, ওরিয়ন ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট।

শীর্ষ ৫ খাত যেমন

শুধুমাত্র সেবা ও আবাসন খাতে ৭৫ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। যদিও এ খাতের মোট কোম্পানির সংখ্যা তিন। যার মধ্যে দুটির দর বেড়েছে ও একটির কমেছে।

বাকি আর কোনো খাতেই দরবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বিবিধ খাত। ২৫৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ২১.১৪ শতাংশ লেনদেনের বিপরীতে খাতটির ৫টি করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি ও দরপতন হয়েছে। আর ৩টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ১৬.১৭ শতাংশ। এদিন ৮টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৪টির দরপতন ও ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। মোট লেনদেনের ১১.৫৭ শতাংশ বা ১৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। খাতের ২৮টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৪টির দর ও অপরিবর্তিত ছিল ১০টির।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা জ্বালানি খাতে দরপতন হয়েছে ১৭টি কোম্পানির, বেড়েছে ৪টির দাম। আর আগের দিনের দামে লেনদেন হয়েছে ২টি কোম্পানির শেয়ার।

মোট লেনদেনের ৮.৩৭ শতাংশ বা ১০২ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয় খাতটিতে।

আর কোনো খাতের লেনদেন এক শ কোটি স্পর্শ করেনি।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতে লেনদেন হয়েছে ৮০ কোটি ৪২ লাখ। ৪টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২১টির। আর দাম অপরিবর্তিত থেকে লেনদেন হয়েছে ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার।

এ ছাড়াও ভ্রমণ, প্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন খাতে পঞ্চাশ কোটির ওপরে লেনদেন হয়েছে।

লেনদেনে সেরা ওরিয়ন-বেক্সিমকো

আগের দিন দরপতনের পরে আজ দরবৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেনে শীর্ষ অবস্থান ধরে ওরিয়ন ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেড।

ওরিয়ন ফার্মার ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১১৫ কোটি ১২ লাখ ১ হাজার টাকায়।

বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ১১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে ৮৬ লাখ ২১ হাজার ৪টি শেয়ার।

আর কোনো কোম্পানির লেনদেন এক শ কোটি টাকা ছুঁতে পারেনি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের। ৪২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকায়।

জেএমআই হসপিটালের লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার।

এ ছাড়া শীর্ষ দশের মধ্যে থাকা ইস্টার্ন হাউজিং, ইউনিক হোটেল, শাহজিবাজার পাওয়ার, কপারটেক, শাইনপুকুর সিরামিকস ও সি পার্লের লেনদেন হয়েছে ২০ থেকে ৪০ কোটির মধ্যেই।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছে বিডিকম। ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৪ টাকা ৭০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৫৯ টাকা।

৯ দশমিক ৬১ শতাংশ দর বেড়ে জেএমআই হসপিটালের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩২ টাকা ৩০ পয়সায়, আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ১২০ টাকা ৭০ পয়সা।

৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ দর বেড়ে ৬১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা ফাইন ফুডসের শেয়ার। আগের দিন দর ছিল ৫৬ টাকা ৯০ পয়সা।
দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ দশে ছিল ইয়াকিন পলিমার, শাহজিবাজার পাওয়ার, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, এডিএন টেলিকম, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সাইফ পাওয়ার ও শাইনপুকুর সিরামিকস।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে ছিল আজিজ পাইপস। ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর হারিয়েছে জুট স্পিনার্স। ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ২২০ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, পেনিনসুলা চিটাগং, সি পার্ল, পেপার প্রোসেসিং, মোজাফ্ফর স্পিনিং, অ্যাসোসিয়েটে অক্সিজেন, ইনডেক্স অ্যাগ্রো এবং এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল।

আরও পড়ুন:
শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি
এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Saral Hirus father in laws name from Shakibs fathers place

সাকিবের বাবার জায়গা থেকে সরল হিরুর শ্বশুরের নাম

সাকিবের বাবার জায়গা থেকে সরল হিরুর শ্বশুরের নাম পুঁজিবাজারে আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সঙ্গে সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি
এই হিরুর হাত ধরেই পুঁজিবাজারে নাম লিখিয়েছেন সাকিব। পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগে ১০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা দেয়া হিরুর সঙ্গে সাকিবের নামও ছিল। তবে তদন্তে সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ হয়নি বলে জানাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জন্য একটি বিড়ম্বনার অবসান হলো। পুঁজিবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুকে নিয়ে গড়া ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংসের নথিপত্রে তার বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুরের নাম চলে আসার পর যে কটূ বাক্যবাণে জর্জর হতে হয়েছে, সেটি আর হতে হবে না।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়ের বাবার নামের ভুল সংশোধন হয়েছে।

হিরু রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে ভুল সংশোধন করেছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই আমরা কাগজ হাতে পাব।’

সাকিব আল হাসানের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজা। কিন্তু মোনার্কের নথিপত্রে ছিল কাজী আব্দুল লতিফ। এই লতিফ হিরুর শ্বশুর।

এই হিরুর হাত ধরেই পুঁজিবাজারে নাম লিখিয়েছেন সাকিব। পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগে ১০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা দেয়া হিরুর সঙ্গে সাকিবের নামও ছিল। তবে তদন্তে সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ হয়নি বলে জানাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

হিরু নিউজবাংলাকে জানান, যখন জয়েন্ট স্টকে মোনার্ক হোল্ডিংয়ের নিবন্ধন করা হয়, তখন এ বিষয়টি ছিল না। এর পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর আবেদনের সময় এটি ছাপার ভুল হয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠান মোনার্কের একজন শীর্ষ কর্মকর্তারও দাবি ছিল তাই।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই ভুলের কথা জানতে পেরে পরদিন সেটি সংশোধন করতে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসিতে কাজগপত্র পাঠানো হয়।

হিরু নিউজবাংলাকে যে নথিপত্র পাঠিয়েছেন, তাতে তার এই বক্তব্যের স্বপক্ষেই প্রমাণ দেখা যায়। মূল নথিতে সাকিবের বাবার নাম ঠিকই আছে।

২০২১ সালের ১২ অক্টোবর পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে যে আবেদন জমা দেয়া হয়, তাতেও সাকিবের বাবার নাম ঠিকই আছে। পরে জয়েন্ট স্টক অফিস থেকেই তা পরিবর্তন হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মোনার্কের এক কর্মকর্তার দাবি, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, যেটির দায় আসলে সাকিবের নয়।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shakib Hirus company wants to be a market maker in the capital market

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি পুঁজিবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আছে সাকিব আল হাসানের। তারা গড়ে তুলেছেন ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংস। ফাইল ছবি
সাকিবের ব্যবসায়িক অংশীদার হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকা আয়ের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। একাধিক আদেশে হিরু ও তার অংশীদারদের ১০ কোটি টাকার বেশি জরিমানাও করা হয়েছে। তার মালিকানাধীন কোম্পানি মার্কেট মেকার হওয়ার যোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছে ডিএসই। এখন বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে নথিপত্র।

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকারের লাইসেন্স চেয়েছে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংস।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই এই আবেদনে সম্মতি দিয়ে পরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন বা বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছে আবেদনটি।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদার গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই চিঠি পাঠান। তবে এখনও বিএসইসি থেকে কোনো জবাব আসেনি।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাগজপত্র সব ঠিকঠাক আছে কি না, সেটি দেখার মূল দায়িত্ব ডিএসইর। বিএসইসি মূলত সেই সিদ্ধান্ত রিভিউ করে।’

মোনার্কের মার্কেট মেকার হওয়ার যোগ্যতা আছে বলে মনে করেন কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্রাইটেরিয়া তাদের থাকা উচিত, সেগুলো যদি থাকে, তাহলে তারা পাবে।’

সাকিবের ব্যবসায়িক অংশীদার হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকা আয়ের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। একাধিক আদেশে হিরু ও তার অংশীদারদের ১০ কোটি টাকার বেশি জরিমানাও করা হয়েছে।

কারসাজির অভিযোগ ছিল সাকিবের বিরুদ্ধেও। তবে সেই অভিযোগের প্রমাণ না পেয়ে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। যদিও হিরুর সঙ্গে তার ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে।

মোনার্কের নথিপত্রে সাকিবের বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুরের নাম ছাপা হওয়া নিয়েও তোলপাড় হয়েছে সম্প্রতি। তবে এটি করণিক ভুল বলে জানিয়েছে মোনার্ক।

কোম্পানিটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন সাকিবের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজাই উল্লেখ করা হয়। তবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর আবেদনের সময় যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি থেকে ভুল করা হয়। তারা সাকিবের বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুর আব্দুল লতিফের নাম বসিয়ে দেয়।

তোলপাড়ের পর সেটি সংশোধনের আবেদন করা হয়। এরই মধ্যে নামটি সংশোধন হয়ে গেছে বলে মোনার্ককে জানানো হয়েছে।

ডিএসইর মূল্যায়নে মোনার্ক যোগ্য

মোনার্ক প্রথমে ডিএসইর কাছে আবেদন করার পর তারা পুঁজিবাজারে কারসাজির এই বিষয়গুলো বিবেচনায় না এনে কেবল কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্তে আসে যে, প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট মেকার হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আবেদন পেয়েছিলাম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব আছে। কাজ শেষ করে বিএসইসির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

যে কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ আছে, এমন একটি কোম্পানিকে মার্কেট মেকারের স্বীকৃতি দেয়া কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের যে জরিমানা করা হয়েছে, সেটা তো অন্য বিষয়। এখানে আমরা তাদের কোনো সমস্যা পাইনি।’

কারসাজিতে জড়িত বলে প্রমাণ করে হিরুর মালিকানাধীন কোম্পানিকে মার্কেট মেকারের স্বীকৃতি দেয়াটা কতটা যৌক্তিক- এমন প্রশ্নে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মার্কেট মেকারের লাইসেন্স নিয়ে অকাজ করলে তো হবে না। তবে বিষয়টি বিএসইসি দেখবে।’

মোনার্ক হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগে ডিএসইর মার্কেট মেকারের লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছিলাম। তারা তাদের কাজ শেষ করেছে। এখন বিএসইসি কাগজ খতিয়ে দেখছে। তারা আমাদের কাছে কিছু কাগজ চেয়েছে। আমরা এসব কাগজ কালকে দিয়ে দেব।’

মার্কেট মেকার কারা

মার্কেট মেকার বলতে এমন একটি কোম্পানি বা ব্যক্তিকে বোঝায়, যারা একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করে। তারা কোনো একটি শেয়ারের মজুত রাখে এবং সব সময় তাদের কাছে একটি দামে শেয়ারটি কেনা যায় ও একটি দামে শেয়ারটি বিক্রি করা যায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য তৈরি হয়।

পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে মার্কেট মেকারের আইন করে বিএসইসি।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মার্কেট মেকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায় ডিএসই ও সিএসইর (চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস বি রিচ লিমিটেড।

এরপর লাইসেন্স পায় গ্রিনডেল্টা সিকিউরিটিজ।

বাজার সৃষ্টিকারী বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে- কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার বিএসইসি থেকে এ সনদ পাওয়ার যোগ্য হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা অনুযায়ী, মার্কেট মেকার হওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদনসাপেক্ষে বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আবেদন করবে।

একই সঙ্গে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে থাকলে যেকোনো মার্কেট মেকার একটি অনুমোদিত সিকিউরিটিজ পরিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকতে পারবে।

বাংলাদেশে একজন মার্কেট মেকার সর্বোচ্চ পাঁচটি শেয়ারের বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করতে ১০ কোটি টাকা পেইড-আপ লাগবে। সে হিসাবে ৫০ কোটি টাকা পেইড-আপ থাকলে পাঁচটি শেয়ারের মার্কেট তৈরি করা যাবে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে মোনার্ক হোল্ডিংস। আবুল খায়ের হিরু জানিয়েছেন, তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
বে লিজিংয়ে ‘ইপিএসকাণ্ড’ তদন্তে বিএসইসির কমিটি
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর
এক দিনে লেনদেন কমল হাজার কোটির বেশি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The auction to determine the price of shares of Asiatic Laboratories began on October 10

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম নির্ধারণে নিলাম শুরু ১০ অক্টোবর

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম নির্ধারণে নিলাম শুরু ১০ অক্টোবর
গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৯৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পায় কোম্পানিটি।

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম নির্ধারণে নিলাম শুরু হবে ১০ অক্টোবর।

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৯৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পায় কোম্পানিটি।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর নিয়ম অনুসারে, প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করার লক্ষ্যে নিলামের আয়োজন করা হয়। যে দামে এসে তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সেই দামের (কাট অফ প্রাইস) চেয়ে ৩০ শতাংশ অথবা ২০ টাকা এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই দামে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে।

এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করার নিলাম হবে। নিলাম শুরু হবে ১০ অক্টোবর, শেষ হবে ১৩ অক্টোবর।

প্রত্যেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন করতে হবে।

প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে তাদের আবেদন করা শেয়ারের পুরো টাকা জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ৫ হাজার টাকা ফি জমা দিতে হবে।

১৯৭০ সালে নিবন্ধন পায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা কাজ শুরু করে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ, আর চেয়ারম্যান তাহমিনা বেগম।

কোম্পানিটি মানুষের জন্য ওষুধ তৈরি করে ও সারা দেশে বিক্রি করে।

২০১৮ সালে কোম্পানিটি মুনাফা করে ২২ কোটি ২১ লাখ। ২০১৯ সালে করেছিল ২৪ কোটি ৪০ লাখ, পরের বছর ২৪ কোটি ২৫ লাখ, ২০২১ সালে ৩২ কোটি ৫ লাখ টাকা মুনাফা করে।

২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে পুনর্মূল্যায়ন-পরবর্তী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৫৬ টাকা ৬১ পয়সা। আর পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভিপিএস ৩৫ টাকা ৪৮ পয়সা। পাঁচ বছরের ভারিত গড় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ২১ পয়সা।

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসির দেয়া শর্ত অনুসারে, তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

কোম্পানিটির আইপিওর ইস্যু ম্যানেজার হচ্ছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seema Steel wants to enter the capital market

পুঁজিবাজারে আসতে চায় সীমা স্টিল

পুঁজিবাজারে আসতে চায় সীমা স্টিল সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিল লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ছবি: নিউজবাংলা
সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস একটি ভালো কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানি বাজারে আসা উচিত। আমরা তালিকাভুক্তির জন্য সব রকমের সহযোগিতা করতে আগ্রহী: আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বানুরবাজারে অবস্থিত সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিল লিমিটেড (এসএআরএম)। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করেছেন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অসীত কুমার চক্রবর্তী।

শনিবার কারখানা পরিদর্শনে গেলে তাকে স্বাগত জানান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন উদ্দিন।

এ সময় আইসিবি ক্যাপিটালের অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন তালুকদার, হেড অফ ইস্যু স্বপ্না রায়, চট্টগ্রাম শাখাপ্রধান এ এস এম মনজুর মোরশেদ, কোম্পানির উপদেষ্টা সোহরাব হোসেন, আবসারুল হক ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সীমা স্টিল ১৯৯১ সাল থেকে জাহাজ-ভাঙা দিয়ে শুরু করে কোম্পানির ব্যবসা। ২০০৩ সাল থেকে ইস্পাতপণ্য রড উৎপাদনে যুক্ত হয় সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস।

অসীত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস একটি ভালো কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানি বাজারে আসা উচিত। আমরা তালিকাভুক্তির জন্য সব রকমের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন উদ্দিন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ব্রান্ডিং হয়। আর ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমে। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও দরকারি পুঁজি আহরণ করা যায়।’

কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহী করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান বাড়ানো জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে ইস্পাত খাতের মোট সাতটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। বর্তমানে দেশে আড়াই শ ইস্পাত কারখানা থাকলেও ২০-২৫টি ইস্পাত কোম্পানি সক্রিয়।

দেশে বড় ও মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি ভালো ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত হয়নি কিংবা অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামভিত্তিক দেশের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল। এ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিকী উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

কবির গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা আট লাখ মেট্রিক টন।

তালিকায় রয়েছে বায়োজিদ স্টিল, সীমা অটোমেটিক রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, সীমা স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেড, এইচএম স্টিল, শীতলপুর স্টিল, রহিম স্টিল, চকলাদার স্টিল, আম্বিয়া স্টিল, শাহরিয়ার স্টিল, ইসলাম স্টিলসহ আরও বেশ কয়েকটি ইস্পাত কোম্পানি।

তবে অনাগ্রহ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পথে একটু একটু করে অগ্রসর হচ্ছে সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিল লিমিটেড (এসএআরএম)।

আরও পড়ুন:
গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড: প্রথম দিনে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর
এক দিনে লেনদেন কমল হাজার কোটির বেশি
পুঁজিবাজারের আকার বাড়তেই থাকবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time Orion and Beximco group got the opposite shock

এবার উল্টো কাঁপন ধরাল ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপ

এবার উল্টো কাঁপন ধরাল ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপ
তরতর করে বাড়তে থাকা ওরিয়ন ফার্মার দর ৯.৬৯ শতাংশ কমেছে। বিকন ফার্মা দর হারিয়েছে ৬.২৩ শতাংশ। প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ দরপতনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসা ওরিয়ন ইনফিউশন দর হারিয়েছে ১.৭২ শতাংশ। বেক্সিমকো গ্রুপের বেক্সিমকো ফার্মা ৫.২৫ শতাংশ এবং বেক্সিমকো লিমিটেড দর হারিয়েছে ২.০৮ শতাংশ।

ওরিয়ন গ্রুপের তিন কোম্পানির অবিশ্বাস্য উত্থানপর্ব শেষে এখন উল্টো চিত্র। এই গ্রুপের চারটি কোম্পানির মধ্যে একটির দর কমেছে এক দিনে যতটা কমা সম্ভব, প্রায় ততটাই। অন্য তিনটির দরও পতনের সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি গিয়ে ফিরে এসেছে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচক টেনে নামাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবক ছিল ওরিয়ন ও বেক্সিমকো কোম্পানির চার কোম্পানি।

ওরিয়ন গ্রুপের মতো অতটা না হলেও বেক্সিমকোর এই দুটি কোম্পানির দর গত এক মাসে বেড়েছিল অনেকখানিই। তবে এগুলো এই সময়ে আসলে হারিয়ে ফেলা দরের কিছুটা ফেরত পেয়েছিল মাত্র।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪৮.৮৩ পয়েন্ট। এর মধ্যে দুই গ্রুপের ওরিয়ন ফার্মা, বিকন ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মা- এই চার কোম্পানির কারণেই কমেছে ৩৮.০৮ পয়েন্ট।

বড় দরপতন, অথচ দর বৃদ্ধি আর পতন হওয়া কোম্পানির মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য খুব বেশি ছিল না। আর সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে আবারও ফ্লোর প্রাইসে থাকা কোম্পানি। দর বেড়েছে ৯৩টি কোম্পানির, কমেছে ১১৭টির আর আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে ১৬০টি, যেগুলোর সিংহভাগই হাতবদল হয় ফ্লোর প্রাইসে।

অথচ গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধি পাওয়ার তুলনায় পতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পরও সূচকের উত্থান দেখা গেছে।

ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপের পাঁচটি কোম্পানির পাশাপাশি গত ৩১ জুলাই থেকে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই অনেকখানি বেড়েছিল, এমন বেশ কিছু কোম্পানিরও বড় দরপতন হয়েছে।

এবার উল্টো কাঁপন ধরাল ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপ
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক যতটা কমেছে, তার মধ্যে ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপের চার কোম্পানি ছিল সবচেয়ে বেশি প্রভাবক

দরপতনের মধ্যেও বেড়েছে লেনদেন। হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৮১০ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, যা বৃহস্পতিবার ছিল ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

ওরিয়ন ও বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে দরপতন নিয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রেন্ডি আইটেমগুলোর মধ্যে কয়েকটির বায়ারলেস হতে দেখা গেছে। যার মধ্যে দুটির বায়ার ফিরে আসলেও একটির নেই (ওরিয়ন ফার্মা)। ফলে সেটার ইম্প্যাক্ট সূচকে পড়েছে। যেটার কারণে সাইকোলজিক্যাল অ্যাটিটিউড চেঞ্জ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মার্কেটে যে কোনো র‌্যালি আসার পর এক সময় তা থামবেই। আগেও বলেছি যে, যেসব আইটেমে র‌্যালি হচ্ছে সেগুলো বায়ারলেস হলে একটু চিন্তা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ওরিয়নের চার কোম্পানির কী অবস্থা

পুঁজিবাজারের টাকা দরপতনের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো এই ৩১ জুলাই। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৭ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছে ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি, কিন্তু তা অল্প কয়েকটি কোম্পানির দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কারণেই। সিংহভাগ কোম্পানি সেই ফ্লোর প্রাইসেই গড়াগড়ি খাচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করে ওরিয়ন ইনফিউশনের উত্থান। গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির দর ছিল ১০৪ টাকা ৭০ পয়সা। ৩৬ কর্মদিবস শেষে ২১ সেপ্টেম্বর দর দাঁড়ায় ৬২৬ টাকা ৫০ পয়সা। পরের দিন দর দাঁড়ায় ৫৭৫ টাকা ৬০ পয়সা।

কোম্পানিটি রোববার একপর্যায়ে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫৩২ টাকা ৫০ পয়সার কাছাকাছি চলে এসেছিল। তবে ৫৩৪ টাকা পর্যন্ত নামার পর আবার ঘুরে দাঁড়ায়। দিনের একেবারে শেষ দিকে হঠাৎ বেড়ে দাম দাঁড়ায় ৫৬৫ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা বা ১.৭২ শতাংশ।

এদিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমায় ছিল ওরিয়ন ফার্মা।

কোম্পানিটির দর গত ২৮ জুলাই ছিল ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা। ৩৭ কর্মদিবস পর ২২ সেপ্টেম্বর দাঁড়ায় ১৪৯ টাকা ৬০ পয়সা, সেদিন সর্বোচ্চ দর ছিল ১৫৬ টাকা ৫০ পয়সা।

এটির পতনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৯.৯৬ শতাংশ। নামতে পারত ১৩৪ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। এই দরেই হাতবদল হয়েছে বিপুলসংখ্যক শেয়ার। পরের দিন শেষ করে ১৩৫ টাকা ১০ পয়সায়।

এই দরপতনের কারণে ডিএসইএক্স থেকে হারিয়ে গেছে ৮.০২ পয়েন্ট।

এদিন সূচক সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বিকন ফার্মা। কোম্পানিটির ৬.২৩ শতাংশ দরপতনে সূচক কমেছে ১১.৪২ পয়েন্ট।

গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৪০ টাকা ৬০ পয়সা। ২০ সেপ্টেম্বর উঠে যায় ৩৯৩ টাকায়। সেদিনই অবশ্য দিন শেষ করে ৩৬১ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার দর দাঁড়ায় ৩৩৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

এদিন দর নামতে পারত ৩০৬ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত। নেমেছিল ৩১০ টাকা পর্যন্ত। তবে দিন শেষ করে ৩১৪ টাকা ৭০ পয়সায়। পতন হয় ৬.২৩ শতাংশ।

অস্বাভাবিক হারে লাফাতে থাকা কোহিনূর কেমিক্যালসের দরপতন হয়েছে ৭.০৫ শতাংশ, যে কারণে সূচক কমেছে ২.৭৫ পয়েন্ট।

গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির দর ছিল ৩৭৯ টাকা ৯০ পয়সা। ২১ সেপ্টেম্বর দর উঠে ৭৫৭ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। তবে দিন শেষ করে দর হারিয়ে। গত বৃহস্পতিবার দর ছিল ৬৪৫ টাকা ৪০ পয়সা। ৪৫ টাকা ৫০ পয়সা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৯৯ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকো গ্রুপের কত পতন

এদিন সূচকের পতনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাবক ছিল বেক্সিমকো ফার্মা। ১০.০২ পয়েন্ট সূচক কমেছে কোম্পানিটির শেয়ারের ৫.২৫ শতাংশ দরপতনে।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত ২৮ জুলাই ছিল ১৪৬ টাকা। গত ১১ সেপ্টেম্বর উঠে ১৯১ টাকা ৩০ পয়সা। গত বৃহস্পতিবার সেখান থেকে কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৮০ টাকা ৮০ পয়সা।

রোববার দর দাঁড়ায় ১৭১ টাকা ৩০ পয়সায়। কমেছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

বেক্সিমকো লিমিটেডের গত ২৮ জুলাই ছিল ১১৪ টাকা ২০ পয়সা। সম্প্রতি দর ১৪৬ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও গত বৃহস্পতিবার স্থির হয় ১৩৪ টাকা ৫০ পয়সায়। ২ টাকা ৮০ পয়সা কমে দর দাঁড়িয়েছে ১৩১ টাকা ৭০ পয়সায়।

এই কোম্পানিটির কারণে সূচক কমেছে ৫.৮ পয়েন্ট।

অবশ্য এই দুটি কোম্পানির দর গত বছরের নভেম্বর থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটের ১৯০ টাকার ঘর থেকে নেমে আসে ১১০ টাকার ঘরে, আর বেক্সিমকো ফার্মার দর ২৫৫ টাকা থেকে নেমে আসে দেড় শ টাকার নিচে।

গ্রুপের আরও দুই কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকস ও আইএফআইসি ব্যাংকের দর খুব একটা পাল্টায়নি এদিন।

সূচকে আরও প্রভাব যেসব কোম্পানির

ওরিয়ন ও বেক্সিমকোর চার কোম্পানির বাইরে ইউনাইটেড পাওয়ারের ২.১ শতাংশ দরপতনে সূচক কমেছে ৭.৬৮ পয়েন্ট।

এই কোম্পানিটির দর গত ২৮ জুলাই থেকে খুব একটা বেড়েছে এমন নয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর ৬.৪৫ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ৩.৯৩ পয়েন্ট।

গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়ায় ১০৫ টাকা ৭০ পয়সায়। ২২ সেপ্টেম্বর দর দাঁড়ায় ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সা। সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১৫৮ টাকা।

শাহজিবাজার পাওয়ারের দর ৭.৬৪ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ৩.২৭ পয়েন্ট।

জুলাইয়ের শেষ দিন থেকে জ্বালানি খাতের এই একটি কোম্পানির দরই অনেকখানি বেড়েছে। ২৯ জুলাই দর ছিল ৬৬ টাকা ১০ পয়সা। ২২ জুলাই ছিল ১০০ টাকা ৮০ পয়সা।

সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ১০ পয়সায়।

জেএমআই হসপিটালের দর কমেছে ৮.২১ শতাংশ, যার কারণে সূচক কমেছে ৩.২ পয়েন্ট।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত ২৮ জুলাই ছিল ৬৮ টাকা ৪০ পয়সা। গত সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়ায় ১৩১ টাকা ৫০ পয়সা। ১০ টাকা ৮০ পয়সা হারিয়ে এখন দর ১২০ টাকা ৭০ পয়সা।

সূচক পতনে ভূমিকা রাখা দশম কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার মিলসের দর কমেছে ৭.১২ শতাংশ, যে কারণে সূচক কমেছে ২.৬৩ পয়েন্ট।

গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির দর ছিল ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা। গত বৃহস্পতিবার দাঁড়ায় ৮৯ টাকা ৯০ পয়সায়, যদিও দর উঠে ৯৩ টাকা পর্যন্ত।

একদিনে ৬ টাকা ৪০ পয়সা কমে দর দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা।

লেনদেনে সেরা ওরিয়ন-বেক্সিমকো

দরপতন হলেও লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে ওরিয়ন ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেড।

ওরিয়ন ফার্মার এক কোটি ২৭ লাখ ১১ হাজার ৩২০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৭৯ কোটি ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়।

বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন হয়েছে ১১৪ কোটি ৫৯ লাখ ১ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ১০টি শেয়ার।

আর কোনো কোম্পানির লেনদেন এক শ কোটি টাকা ছুঁতে পারেনি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের। এক কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৫০২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯৭ কোটি ৬৫ লাখ ২১ হাজার টাকায়।

চুতুর্থ স্থানে আছে দর হারানো বিডিকম, যার লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ৭ লাখ ৮ হাজার টাকার শেয়ার।

জেএমআই হসপিটালের ৫৮ কোটি ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ৫৭ কোটির ওপরে লেনদেন হয়েছে।

শাহজিবাজার পাওয়ার, বিবিএস ও ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের লেনদেন হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ কোটির মধ্যেই।

কোন খাত কেমন

ব্যাপক দরপতনের কারণে বেশিরভাগ খাতেই দরপতন হয়েছে, বিপরীতে দরবৃদ্ধি দেখা গেছে দুই-একটিতে।

কোম্পানির সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রকৌশল খাতে। ২৬টি বা ৬১.৯০ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি হয়েছে।

শতভাগ দরবৃদ্ধির বেশি হয়েছে ছোট খাত ভ্রমণ ও অবকাশ এবং পাটে।

২৩টি কোম্পানির দর বেড়েছে বস্ত্র খাতের। বিপরীতে ৩১টির দর অপরিবর্তিত থেকে লেনদেন হয়েছে, কমেছে ৪টির দর।

এ ছাড়াও সেবা ও আবাসন খাতে ৭৫ শতাংশ, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৬৬ শতাংশ, সিরামিকস ৬০ শতাংশ, জীবন বিমা খাতে ২৫ শতাংশ, জ্বালানি ও খাদ্য খাতে ২১ শতাংশ করে কোম্পানির দরবৃদ্ধি হয়েছে।

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে একটির দরবৃদ্ধি ও সবগুলোর দরই ফ্লোর প্রাইসেই অপরিবর্তিত হয়েছে।

আগের দিনের চেয়ে লেনদেন আরও কমলেও শীর্ষে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। হাতবদল হয়েছে ৩২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।

১৯টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ৯টির, দরবৃদ্ধি হয়েছে ২টির।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের লেনদেন হয়েছে ২৬৬ কোটি ৯৬ লাখ। ৩টি কোম্পানির দরবৃ্দ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৭টির ও ৩টির অপরিবর্তিত ছিল।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে।

এর পরেই ১৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রযুক্তি এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

জ্বালানি খাতে ১৩৯ কোটি ৮০ লাখ ও বস্ত্র খাতে ১২৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

বাকি খাতের লেনদেন এক শ কোটির নিচে ছিল।

এর পরে লেনদেনের ওপরের দিকে ছিল সেবা ও আবাসন, কাগজ ও মুদ্রণ, খাদ্য ইত্যাদি খাত।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

শীর্ষ দশের প্রায় সবগুলো কোম্পানির দরই বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ ও এর আশেপাশে।

দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছে সি পার্ল। ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩৭ টাকা ৬০ পয়সায়। আগের দিনে ক্লোজিং প্রাইস ছিল ১২৫ টাকা ২০ পয়সা।

৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর বেড়ে মনোস্পুলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০৩ টাকা ৯০ পয়সায়, আগের দিনের সর্বশেষ দর ছিল ১৮৫ টাকা ৪০ পয়সা।

৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ দর বেড়ে ২১ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা ফারইস্ট নিটিংয়ের শেয়ার। আগের দিন দর ছিল ১৯ টাকা ৩০ পয়সা।

এ ছাড়াও দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ দশে রয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, অ্যাপেক্স ফুডস, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, পেপার প্রোসেসিং, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ইন্ট্রাকো রি –ফুয়েলিং স্টেশন।

দর পতনের শীর্ষ ১০

পতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। রোববার ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১৩৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়।

পতনের তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে জেএমআই হসপিটাল। ৮ দশমিক ২১ শতাংশ দর কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২০ টাকা ৭০ পয়সায়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারিয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ার। ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ৯৩ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়।

দর কমার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো ছিল- বিডি থাইফুড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, বসুন্ধরা পেপার, কোহিনূর কেমিক্যাল, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মীর আকতার ও বিকন ফার্মা।

আরও পড়ুন:
মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন
বিএসইসির বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর
এক দিনে লেনদেন কমল হাজার কোটির বেশি
পুঁজিবাজারের আকার বাড়তেই থাকবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
দুই দশক পর পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ পেলেন শহীদ জননী

মন্তব্য

p
উপরে