× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Noor is the best foodie in Chabi
hear-news
player
print-icon

চবিতে ‘সেরা খাদক’ নূর

চবিতে-সেরা-খাদক-নূর
আগ্রহীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে তিনজনকে প্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সেরা খাদকের ট্রফি বিজয়ের পর নূর বলেন, ‘আমি জানতাম যে আমি পারবো। আমি বংশগতভাবে ভোজনরসিক। আমার বংশ হচ্ছে খানেওয়ালা বংশ।’

এক কেজি চালের পোলাও, এক কেজি মুরগীর মাংস, সঙ্গে এক লিটার কোমল পানীয়। ২০ মিনিটের মধ্যে সবার আগে সব খেয়ে যিনি শেষ করতে পারবেন তিনিই জিতে নেবেন সেরা খাদকের ট্রফি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার এমনই এক ব্যতিক্রম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আজহারুল ইসলাম আশিক ও তার কয়েক বন্ধু। তারা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারের উদ্দেশে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করলেও তা ক্যাম্পাসে বেশ আলোচনার খোরাক হয়।

আয়োজকরা জানান, লটারির মাধ্যমে বাছাই করা তিন প্রতিযোগীর মধ্যে সবার আগে খাবার শেষ করে শিরোপা জিতেছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আব্দুল মোহাইমেন নূর। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বাকি দুজন হলেন- পরিসংখ্যান ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের রাহাতুল ইসলাম ও বাংলা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শুভ আহমেদ সাকিব।

এর আগে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেইসবুক গ্রুপে এই প্রতিযোগিতার জন্য আগ্রহীদের আহ্বান জানানো হয়। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে ৩ জনকে বাছাই করা হয়।

শনিবার বিকেল ৩টায় ক্যাম্পাসের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই প্রতিযোগীতা হওয়ার কথা থাকলে বাধ সাধে বৃষ্টি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ প্রাঙ্গণে ৫টায় শুরু হয় সেরা খাদক প্রতিযোগীতা।

আয়োজকরা শুরুতে ২০ মিনিট সময় বেঁধে দিলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩০ মিনিট করা হয়। প্রতিযোগিতার শুরুর ১০ মিনিট পর হার মেনে নেন পরিসংখ্যানের রাহাতুল ইসলাম। তবে শেষ পর্যন্ত খাওয়ার লড়াই চালিয়ে যান শুভ আহমেদ সাকিব ও আব্দুল মোহাইমেন নূর। প্রতিযোগিতা দেখতে এ সময় ভিড় জমান অসংখ্য শিক্ষার্থী।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ৩০ মিনিটের মধ্যেই সব খাবার সবার আগে খেয়ে শেষ করে বিজয়ের শিরোপা জিতে নেন আব্দুল মোহাইমেন নূর।

চবিতে ‘সেরা খাদক’ নূর
জয়ের পর আয়োজকদের কাছ থেকে সেরা খাদকের ট্রফি নিচ্ছেন নূর

বিজয়ের পর নূর বলেন, ‘আমি জানতাম যে আমি পারবো। আমি বংশগতভাবে ভোজনরসিক। আমার বংশ হচ্ছে খানেওয়ালা বংশ। আমি প্রমাণ করেতে পেরেছি আমি খানেওয়ালা বংশের ছেলে।’

আয়োজক আজহারুল ইসলাম আশিক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে এমন প্রতিযোগিতা হয়নি। আমার চ্যানেলের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। খাদক চেয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করলে অনেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের থেকে ৩ জন কে আমরা লটারি করে নির্বাচন করেছি।’

আরও পড়ুন:
ঈদে বিদেশি খাবার
ডায়রিয়ার প্রকোপ বাইরের খোলা খাবারে: মেডিক্যাল টিম
কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছে
রাতের খাবারে মাংস বাড়ায় মৃত্যুঝুঁকি
দুপুরের খাবার ১৫ টাকায়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Chhatra League attack on Chhatra Dal in DU

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পেটাচ্ছেন এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সভাপতিসহ (লাল টিশার্ট পরা) অন্যরা । ছবি: নিউজবাংলা
হামলায় স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় ছাত্রদলের তিনজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘঠেছে।

হামলায় স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপাচার্য তাদের বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা করার সময় দিয়েছিলেন।

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
ঢাবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় আহতরা। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা যায়, ৪টা ২০ মিনিটে ছাত্রদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে আসলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হল থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ‘ধর ধর’ বলে তাদের দিকে তেড়ে যান।

এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান। পরে রিয়াজ এবং মুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।

এতে ছাত্রদলের তিনজন নেতাকে গুরুতর আহত হয়ে তাদের শরীর থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়।

ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল দাবি করেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাদের ১৫-২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার পর স্যার এ এফ রহমান হল এবং বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়। সে সময় তারা ‘ছাত্রদলের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ছাত্রদলের আস্তানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘হৈ হৈ রই রই, ছাত্রদল গেলি কই’ স্লোগান দিতে থাকে।

হামলায় এফ রহমান হলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রলীগের কর্মী আলী হাসান রিফাত, মেহেদি হাসান, মহিবুল্লাহ লিয়ন, সামি, হৃদয়, তানভীর হাসান শান্ত, আসিফ, মোমিন, শওকত, মেহেদি হাসান শান্ত, আলভী অংশ নেয়।

হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন বলেন, ‘আজকে আমাদের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ছিল। স্মারকলিপি দিয়ে আমরা সেখান থেকে হলের দিকে আসছিলাম। এ সময় অন্যপাশে থাকা আমাদের এক কর্মীকে তারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ কারণে তাদের সাথে আমাদের কয়েকজন কর্মীর ঝামেলা হয়েছে।’

আপনাদেরই শুরুতে মারতে দেখা গেছে জানালে তিনি বলেন, ‘যখন আমাদের কর্মীর উপর হামলা হয়েছে, তখন বাকিরা তাদের উপর হামলা করেছে। এখানে একপাক্ষিক হামলা হয়নি। দুই পক্ষ থেকেই হামলা হয়েছে।’

এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের আমরা প্রতিহত করব। তারা আমাদের এক কর্মীকে আহত করার পর আমরা তাদের প্রতিহত করতে গেছি।’

আহত কর্মীর নাম জানতে চাইলে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মীর নাম কেমনে বলতে পারব? তার নাম জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
‘পচা মাংস’ দেয়ায় ঢাবি হলের দোকানে ভাঙচুর, মারধর
ছাত্রলীগ নেত্রীদের ‘ক্রেডিট নেয়ার’ স্মারকলিপি
ঢাবির হলে ‘ম্যানার’ ভাঙায় ৩ শিক্ষার্থীকে পিটুনি
অনুমতি না নিয়ে দূতাবাসে চাকরি: ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত
থিসিস জালিয়াতিতে ঢাবি শিক্ষকের পদাবনতি, বাতিল ডিগ্রিও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The news of Eden College closure is rumours

ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব

ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব ইডেন মহিলা কলেজ। ফাইল ছবি
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ নানা ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল এই ক্যাম্পাস। এ অবস্থায় সোমবার রাতে ক্যাম্পাস বন্ধের খবর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ আকস্মিক বন্ধ ঘোষণার খবরটি গুজব বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে তিনি এ তথ্য জানান। বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এটি গুজব।’

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ নানা ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল এই ক্যাম্পাস। এ অবস্থায় সোমবার রাতে ক্যাম্পাস বন্ধের খবর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ নিয়ে কয়েকটি নিউজপোর্টালও সংবাদ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সোমবার রাতে হল কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে আবাসিক ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

তবে ইডেন অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের সাত কলেজের পরীক্ষা চলছে, ইন্টার্নাল প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছে, ভাইবা চলছে, প্রথম বর্ষের মেয়েদের টেস্টের রেজাল্ট হচ্ছে আর মাস্টার্সেরও ক্লাস চলছে।

‘সুতরাং সবাই ব্যস্ত। এখন হল খালি করার কোনো নির্দেশনা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। এখানে কলেজ বন্ধ বা হল বন্ধের কোনো ব্যাপার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আর পূজার বন্ধ যেটি সেটি তো স্বাভাবিক বন্ধ। প্রতিবারের মতো সে সময়ও হোস্টেল খোলা থাকবে।’

ইডেন অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয় ইডেনে চলমান ঘটনা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত চলছে।’

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার অডিও ফাঁস এবং ছাত্রীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগের তদন্তের আপডেট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি এখন না বলি। সব তদন্তের রিপোর্ট একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যের কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। অন্যরা এর প্রতিবাদ জানালে আবারও সংঘর্ষ হয় দুই পক্ষের।

এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কমিটি থেকে ১৬ জনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

পরে সোমবার বহিষ্কার আদেশের প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমরণ অনশনে বসেন ছাত্রলীগের ওই ১৬ জন। তবে ১ ঘণ্টা পরই তারা স্থান ত্যাগ করেন।

ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি তখন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনশন করতে আসছিলাম। এখন চলে যাচ্ছি। অনশন করব না।’

বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা অনশন শুরু করলে আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী সংসদের সদস্য আবদুল আউয়াল শামীম তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’
আমৃত্যু খাবার মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhabi League beat journalist in Chabi

চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের

চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের আরশিল আজিম নিলয়, শোয়েব আতিক। ছবি: সংগৃহীত
‘ভুক্তভোগী’ রেদওয়ান আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইল ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

ছাত্রলীগ কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

‘ভুক্তভোগী’ রেদওয়ান আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইল ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের ২১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রেদওয়ান।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেছেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

অভিযুক্তরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরশিল আজিম নিলয়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শোয়েব আতিক। তারা দুজনই শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ বিজয়ের কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

অভিযোগকারী রেদওয়ান আহমদের দাবি, বিজয় গ্রুপের এক কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় তাকে রুমে এসে মারধর করেছেন অভিযুক্তরা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিজয় গ্রুপের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক কর্মীর জন্মদিন ছিল। এ জন্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১০ থেকে ১৫ জন আমার রুমে এসে জিজ্ঞাসা করে আমি জন্মদিনের প্রোগ্রামে যাইনি কেন। আমি জানাই যে, আমি এই রুমে পলিটিক্যাল কর্মী হিসেবে থাকি না। বিজয় গ্রুপের নেতা আল-আমিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি এই রুমে উঠি, তবে পলিটিক্যাল কর্মী হিসেবে না। আমি মোবাইলে আল-আমিন ভাইয়ের সঙ্গে শোয়েব আতিকের কথা বলিয়ে দিই।

‘এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে আরশিল আজিম নিলয়, শোয়েব আতিক তারা আবার রুমে আসে এবং জন্মদিনে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। আরশিল আজিম নিলয় বলে, পলিটিক্স না করে কীভাবে হলে থাকি। একপর্যায়ে মারধরের হুমকি দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে নিলয় তার জুনিয়রকে আমাকে মারধর করার নির্দেশ দেয়। পরে শোয়েব আতিক আমাকে নাকে-মুখে কিল-ঘুষি মারা শুরু করে। একপর্যায়ে আল-আমিন ভাইকে ফোন দিলে এর মধ্যেও আবার কিল-ঘুষি দেয়া শুরু করে। পরে আমি চবি সাংবাদিক সমিতিকে জানালে তারা ও প্রক্টরিয়াল টিম এসে আমাকে উদ্ধার করে।’

অভিযোগকারীর ভাষ্য, ‘মারধরের সময় তারা বলে, পলিটিক্স না করলে এই রুমে থাকতে পারবি না। রুমে থাকলে আবার মারধর করা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা। আমি এই ঘটনায় প্রক্টর বরাবর রাতেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরশিল আজিম নিলয়কে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। আরেক অভিযুক্ত শোয়েব আতিককে ফোন দিলে তার ফোন অন্যজন রিসিভ করেন।

বিজয় গ্রুপের নেতা আল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা আমরা কখনোই সমর্থন করি না। ঘটনার সময় রেদওয়ান আমাকে কল দিয়েছিল। আমি নিষেধ করার পরও তারা ওর গায়ে হাত তুলেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। কিছুদিন আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের অনুসারীরা ঝামেলা করেছিল। আমরা অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসন শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার যদি অভিযুক্তদের বহিষ্কার না করে, তাহলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সে সময় টহলে ছিলাম। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হলে যাই। ভুক্তভোগী আমাদের একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আজ আমরা একটি তদন্ত কমিটি করব।’

আরও পড়ুন:
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ
ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা
সেই তিলোত্তমা তদন্ত করবেন ইডেন ছাত্রলীগকাণ্ড
ধর্ষণ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তার
চেয়ারম্যানের মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Concerned about setting up universities without preparation UGC is making policies

প্রস্তুতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউজিসি করছে নীতিমালা

প্রস্তুতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউজিসি করছে নীতিমালা নীতিমালা তৈরি করতে ইউজিসির কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয় সোমবার। ছবি: সংগৃহীত
নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভায় ইউজিসি সদস্য মে. আলমগীর বলেন, ‘অবকাঠামো ও কারিকুলাম চূড়ান্ত না করে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নীতিমালা করা অত্যন্ত জরুরি।’

অবকাঠামো ও শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত না করেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার সুরাহা চাইছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি। তারা একটি নীতিমালা করে দিতে চাইছে, যেখানে নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে এর অবকাঠামোকে কী থাকতে হবে, শিক্ষাক্রমে কী কী অন্তর্ভুক্ত হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হবে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই একের পর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে সম্প্রতি ইউজিসি সদস্য মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদ্যস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা তৈরি করতে এই কমিটির প্রথম সভা হয় সোমবার।

এক বিজ্ঞপ্তিতে নীতিমালা করার কারণ ব্যাখ্যা করে ইউজিসি বলছে, ‘অধিকাংশ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

‘এ ছাড়া ভাড়াকৃত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না।’

এ জন্য নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভায় ইউজিসি সদস্য মো. আলমগীর বলেন, ‘অবকাঠামো ও কারিকুলাম চূড়ান্ত না করে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নীতিমালা করা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে শুরু করবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করা হলে দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হবে।’

সভায় কমিটির সদস্যরা জানান, নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সংকট রয়েছে এবং জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন:
পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেবার তালিকা দৃশ্যমান করার নির্দেশ
এপিএতে সই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Committee of Eden Chhatra League suspended expulsion 16

ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬

ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬ ইডেন মহিলা কলেজে রোববার সন্ধ্যায় সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী। তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনায় রাজধানীর ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

রোববার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

কমিটি স্থগিতের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

কীসের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হলো- এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছিলাম, তারা তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলবে বলে জানান লেখক ভট্টাচার্য।

রোববার ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের ফোন ধরেন না, যার ফলে তারা কোনো অভিযোগ জানাতে পারেন না।

এ বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তারা আমাদের কোনো ফোনই দেয়নি। সব কিছু নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা যে সিট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির কথা বলছে, এটার কোনো প্রমাণ তো দিতে পারছে না তারা। কমিটি দেওয়ার পর থেকেই একটি অংশ বারবার কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।’

শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। বাকিরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষে আবারও সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন:
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ
ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU Vice Chancellor broke Hasnats fast with canned water

ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য

ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য ডাবের পানি পান করিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর অনশন ভাঙালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধসহ আট দাবি নিয়ে গত রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর মঙ্গলবার দুপুরে অনশনে বসেন হাসনাত। মধ্যরাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর অনশন ভাঙিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে ডাবের পানি পান করিয়ে এই শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধসহ আট দাবি নিয়ে গত রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর মঙ্গলবার দুপুরে অনশনে বসেন হাসনাত। মধ্যরাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

হাসনাতের অনশন ভাঙিয়ে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো কাজে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে আসতে হবে না। তাদের সেবা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

‘তাদের সব কাজ হল এবং বিভাগীয় অফিসে সম্পাদন করতে পারবে। সেখানে যদি কেউ অসহযোগী আচরণরর শিকার হয় তাহলে সেখানে অভিযোগ সেল আছে। সেখানে তারা জমা দিতে পারবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেন তাদের কাজের জন্য বিভিন্ন অফিসে অফিসে ধরনা দেবে? যেগুলো নিয়মিত কাজ সেগুলো তারা তাদের হল অফিস এবং বিভাগীয় অফিস থেকে পাবে। তবে শিক্ষার্থীদের ভুলের কারণে কোনো কাজ সৃষ্টি হলে সেজন্য তাদের আসতে হবে। এছাড়া তাদের আসতে হবে না। এজন্য আমরা কয়েকজন কর্মচার যুক্ত করেছি।’

তবে এই কাজটি কীভাবে হবে সেটির কোনো রূপরেখা উপাচার্য বলেনননি।

শিক্ষার্থীরা হাত তালি দিয়ে উপাচার্যের বক্তব্যকে স্বাগত জানান। পরে হাসনাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্স করে হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

ডাবের পানি দিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙালেন ঢাবি উপাচার্য

হাসনাতের আন্দোলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধে ৮ দফা দাবি নিয়ে গত রোববার ওই ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হাসনাত আবদুল্লাহ।

এসব দাবির পক্ষে হাসনাত ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেন। যাদের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ আছে তারা সেখানে অভিযোগ লিখে জমা দেন।

হাসনাত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। তবে মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস না পেয়ে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

এদিন বেলা আড়াইটার দিকে আমরণ অনশনে বসে হাসনাত। পরে মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল টিম প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি যাননি।

এক পর্যায়ে হাসনাতের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

পরে কার্যালয় থেকে গিয়ে শিক্ষার্থী হাসনাতের অনশন ভাঙান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

হাসনাতের দাবি

আট দাবি হলো:

১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন।

২. প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা।

৩. নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে প্রতিকক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।

৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন।

৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার।

৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারি, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা।

৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যাবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা।

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

আরও পড়ুন:
অনশনে অসুস্থ হাসনাত, আন্দোলনের সঙ্গী শিক্ষার্থীরাও
ঘুম থেকেই চিরনিদ্রায় ঢাবি শিক্ষার্থী
ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hasnat movement sick students are also on hunger strike

অনশনে অসুস্থ হাসনাত, আন্দোলনের সঙ্গী শিক্ষার্থীরাও

অনশনে অসুস্থ হাসনাত, আন্দোলনের সঙ্গী শিক্ষার্থীরাও অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনে হয়রানি বন্ধের জন্য আট দাবি নিয়ে অনশনে বসা শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

হাসনাতের আন্দোলনে সঙ্গী হয়েছেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার অনশন ভাঙানো ও তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। হাসনাত বলেছেন, দাবি না পূরণ হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। পরে সকালে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ড. হাফেজা জামানও।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে এসে হাসনাতকে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলে তিনি অনশন ভাঙবেন না বলে জানান।

হাসনাতের দাবি, তার দাবির বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কোনো লিখিত স্টেটমেন্ট না দেয়া পর্যন্ত এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন না করা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

হাসনাতের অনশনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী রিফাত রশীদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হাসনাত ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। কিন্তু তবুও উনি নিজ অবস্থান থেকে সরে যাননি।

‘অ্যাম্বুলেন্স এলেও উনি হসপিটালে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাধ্য হয়ে শেষমেশ আমাদের ডাক্তার ডেকে আনতে হয়।’

এরপর সকালে আসা সহকারী প্রক্টররা অনশন ভাঙাতে এলে হাসনাত আবদুল্লাহ তিনি তার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিজিএফআই থেকে আমার বাবা-মাকে হুমকি দেওয়ানো হচ্ছে। তারা বলছে, আমি নাকি হিজবুত তাহরীর সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

এ সময় সহকারী প্রক্টররা তাকে ফের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলে এই অনুরোধে সায় না দিলে শিক্ষকরা চলে যান।

হাসনাতের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

হাসনাতের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বুধবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

মানববন্ধন শেষে তারা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়া শুরু করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষার্থী যখন অনশনে ভিসি কেন এসি রুমে’, ‘ছাত্র যখন অনশনে ভিসি কেন লাঞ্চ করে’, ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করো, করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে সহকারী প্রক্টর ড. মো. আব্দুল মুহিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে আসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত হতে বলেন এবং মাইক বন্ধ করতে বলেন।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে এসে এসব দাবি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন সেটির রূপরেখা না বললে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে যাবেন না। পরে সহকারী প্রক্টর শিক্ষার্থীদের এই দাবি উপাচার্যকে জানাবেন বলে ভেতরে চলে যান।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনেই অনশন করছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

ছাত্রলীগের অবস্থান

হাসনাতের অনশনের ব্যাপারে অবস্থান জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ ব্যাপারে সব সময় সচেষ্ট থাকবে।

হাসনাতের আন্দোলন ও ৮ দাবি

মঙ্গলবার সকালে তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন হাসনাত। এদিন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়ায় তিনি আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর আট দাবি হলো:

১. শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযোগ সেল গঠন।

২. প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনতিবিলম্বে ডিজিটালাইজ করা।

৩. নিরাপত্তা এবং হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে প্রতিকক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।

৪. প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন।

৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনের সংস্কার।

৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিক বিদ্যা, পেশাদারি, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা।

৭. অফিস চলাকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যাবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কাজেই লিপ্ত না থাকা।

৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা।

এসব দাবির পক্ষে হাসনাত ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছেন। যাদের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নিয়ে অভিযোগ আছে তারা সেখানে অভিযোগ লিখে জমা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে হাসনাত
তৃতীয় দিনের মতো ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাসনাত

মন্তব্য

p
উপরে