× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Robbery by blocking truck with bus
hear-news
player
google_news print-icon

বাস দিয়ে ট্রাক আটকে ডাকাতি

বাস-দিয়ে-ট্রাক-আটকে-ডাকাতি
ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা
দেড় বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভুলতা, ঢাকা-সিলেট ও আড়াইহাজার-নরসিংদী মহাসড়কে বাস দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানে ডাকাতি করে আসছিল একটি চক্র। র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েছে তারা।

পণ্যবাহী ট্রাককে টার্গেট করে পিছু নেয় যাত্রীবাহী বাস। সুবিধাজনক নির্জন স্থানে বাস দিয়ে ট্রাকের গতিরোধ করা হয়। ট্রাকে থাকা চালক-সহকারীকে বেধড়ক মারধর করে ছিনিয়ে নেয়া হয় ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ। ট্রাকের চালক ও সহকারীকে হাত-মুখ বেঁধে উঠিয়ে নেয়া হয় বাসে। তারপর পণ্যবাহী ট্রাক একদিকে, বাস অন্যদিকে।

দেড় বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভুলতা, ঢাকা-সিলেট ও আড়াইহাজার-নরসিংদী মহাসড়কে বাস দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও কাভার্ড ভ্যানে ডাকাতি করে আসছিল একটি চক্র।

এই ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। উদ্ধার করা হয়েছে একটি ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যানের চালক ও সহকারীকে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১১-এর একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বন্দর থানা এলাকা থেকে মহাসড়ক ডাকাতির সময় ছয় ডাকাতকে আটক করে শুক্রবার রাতে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মুসা আলী, নাঈম মিয়া, শামিম, রনি, আবু সুফিয়ান ও মামুন।

তাদের কাছ থেকে দুটি চাপাতি, একটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ছোরা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বাস জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যানে ডাকাতির পর বাসে উঠিয়ে নেয়া পিকআপ ভ্যানের চালক ও সহকারীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

শনিবার দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন ফোর্সের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, নরসিংদী-সায়দাবাদ সড়কে চলাচল করা যাত্রীবাহী একটি বাস দিয়ে রাতের বেলা ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। ‘যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেড’ নামে কোম্পানির একটি বাস ব্যবহার করে তারা ডাকাতি করত। মালিক ডাকাতির বিষয়ে না জানলেও এর চালক এবং সহকারী এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আটক ছয়জনের মধ্যে বাকিরা বিভিন্ন পেশার আড়ালে এই ডাকাতিতে জড়িত।

র‌্যাব জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় র‌্যাব তাদের টহল জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা গোলাকান্দাইল এশিয়ান হাইওয়েতে র‌্যাব-১১ এর টহল চলাকালে একটি ডিম বোঝাই পিকআপের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় এর গতিরোধ করা হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপ থেকে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে কথাবার্তা ও আচরণে অসংলগ্নতা প্রকাশ পাওয়ায় তাদের তল্লাশি করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি চাপাতি ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি বাসে করে ভুলতা থেকে রূপসা যাওয়ার পথে এশিয়ান হাইওয়েতে ওই ডিমবোঝাই পিকআপের পিছু নেয়। একপর্যায়ে ভুলতা-রূপসী সড়কে পিকআপটির সামনে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে পিকআপের গতিরোধ করে তারা।

‘এরপর পিকআপের ড্রাইভার ও তার সহকারীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পিকআপটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ড্রাইভার ও তার সহকারীকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে মারপিট করে ও বাসে উঠিয়ে নেয়। এরপর ডাকাত দলের সরদার মুসা ও তার প্রধান সহকারী নাঈম পিকআপটি নিয়ে গাউছিয়া-মদনপুরমুখী রাস্তায় নিয়ে যায়। বাকি সদস্যরা পিকআপের চালক ও হেলপারকে বাসে করে নিয়ে যায় মদনপুরের দিকে।’

খন্দকার আল মঈন জানান, আটক দুজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিকআপের ড্রাইভার ও হেলপারকে উদ্ধারের উদ্দেশে র‌্যাবের একটি দল মদনপুর পৌঁছায়। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেডের বাসটি আটক করা হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা চারজনকে আটক করেন। আরও চার-পাঁচজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বাসের ভিতর থেকে হাত-পা ও চোখমুখ বাঁধা অবস্থায় পিকআপের ড্রাইভার ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে ১০-১২ জনের এই ডাকাত দলটি বেশ কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় বিভিন্ন মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে যাচ্ছিল। তারা পেশায় কেউ পোশাককর্মী, চালক, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রি ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দিনে নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকলেও বিভিন্ন সময় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে থাকে।

খন্দকার মঈন জানান, চক্রটি তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ডাকাতি করে এবং ডাকাতির কাজে একটি বাস ব্যবহার করে।

দলনেতা মুসার নির্দেশে প্রথম দলটি ডাকাতির জন্য বিভিন্ন পোশাক কারখানার পণ্যবাহী ট্রাক ও মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ডাকাতির জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করে।

দ্বিতীয় দলটি বাস নিয়ে মহাসড়কে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে। তারা টার্গেটকৃত পণ্যবাহী যানবাহনের পিছু নেয়। বাহনের গতিরোধ করে সেটির চালক ও হেলপারকে বাসে তুলে নেয়া হয়। তারপর হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় মহাসড়কের নির্জন স্থানে ফেলে দেয়া হয়।

তৃতীয় দলটির নেতৃত্ব দেন দলনেতা মুসা নিজে। তিনি ছিনতাইকৃত পণ্যবাহী গাড়িটি চালিয়ে ডাকাতি করা পণ্য পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান এবং তা আনলোড করেন।

র‌্যাব জানায়, আটক ছয়জনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডাকাতদের হাতে বাসযাত্রী ‘ধর্ষণ’, আলামত যাচ্ছে ঢাকায়
চলন্ত বাসে ডাকাতি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ জনের স্বীকারোক্তি
চলন্ত বাসে ডাকাতি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ আসামি আদালতে
বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ: গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ: গ্রেপ্তার আরও ২

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
SI in jail in Domar rape case

ডোমারে ধর্ষণ মামলায় এসআই কারাগারে

ডোমারে ধর্ষণ মামলায় এসআই কারাগারে এসআই মহাবীর ব্যানার্জী। ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর ডোমার থানার থানার ওসি মাহমুদ উন নবী জানান, মামলার আসামি মহাবীর ব্যানার্জীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। আর ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

নীলফামারীতে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উপজেলা শহরের এক বাসিন্দা বৃহস্পতিবার বিকেলে ডোমার থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামি ডোমার থানার সাবেক এসআই মহাবীর ব্যানার্জীকে সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কেউটপাড়ার কালী মোহন ব্যানার্জীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী বনিবনা না হওয়ায় এক বছর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন (জিডি) ওই নারী। ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান সে সময়ে ডোমার থানায় থাকা এসআই মহাবীর। তদন্তের সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

ছয় মাস আগে ডোমার থানা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা র‌্যাবে বদলি হন মহাবীর ব্যানার্জী। তবে বদলির পরও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত ছিলো তাদের। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৫ অক্টোবর বুধবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন মহাবীর। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন মহাবীর ব্যানার্জী। বুধবার রাতের ওই ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে সালিস মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু মহাবীর ওই নারীকে বিয়ে করতে রাজি হননি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার এসআই মহাবীরকে আসামি করে থানায় মামলা করতে হয়েছে।

ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বলেন, ‘পৌরসভার কাউন্সিলরের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দুজনের কথাবার্তায় মনে হয়েছে তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। গতকাল (বুধবার) রাতে পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই নারীর নিকটাত্মীয়রা আটক করেন। কিন্তু এসআই মহাবীরের কোনো অভিভাবক না আসায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ উন নবী জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামি মহাবীরকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। আর ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘এসআই মহাবীর ব্যানার্জীকে সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার
ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
‘প্রেমিকাকে ধর্ষণের পর’ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে যুবক
কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ধর্ষণ মামলা: মামুনুলের বিরুদ্ধে আরও ২ পুলিশের সাক্ষ্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abduction of child to marry mother

মাকে বিয়ে করতে সন্তানকে অপহরণ

মাকে বিয়ে করতে সন্তানকে অপহরণ র‍্যাব হেফাজতে শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আছমাকে শায়েস্তা করতে ফন্দি আটেন শফিকুল। গত ২ অক্টোবর আছমা পোশাক কারখানায় গেলে সুযোগ বুঝে আরাফাতকে অপহরণ করা হয়। এরপর দেয়া হয় শফিকুলকে বিয়ে করার শর্ত।

গার্মেন্টস কর্মী আছমা খাতুনের বসবাস আশুলিয়ার জামগড়ার মিয়া বাড়ি এলাকায়। স্বামীহারা সংসারে ৭ বছর বয়সী ছেলে আরাফাতকে নিয়ে তার কাটছিল সময়। গত ২ অক্টোবর শিশু আরাফাত অপহরণের শিকার হয়। আর তার ‘মুক্তিপন হিসেবে’ প্রতিবেশি শফিকুল ইসলামকে বিয়ে করার শর্ত দেয়া হয় আছমাকে।

নিখোঁজের চারদিন পর কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি গোলক মন্ডল এলাকা থেকে র‍্যাব উদ্ধার করেছে শিশু আরাফাতকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপহরণকারী শফিকুল ইসলামকে।

বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, স্বামীহারা আছমা খাতুন জামগড়া এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। শিশু আরাফাতকে নিয়ে তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রতিবেশি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে আছমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হলেও বিয়ে নিয়ে জটিলতা বাধে। শফিকুলের গ্রামের বাড়িতে আরেক স্ত্রী থাকার কথা জেনে যান আছমা।

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আছমাকে শায়েস্তা করতে ফন্দি আটেন শফিকুল। গত ২ অক্টোবর আছমা পোশাক কারখানায় গেলে সুযোগ বুঝে আরাফাতকে অপহরণ করেন শফিকুল। এরপর মোবাইল ফোনে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দেয়া হয় শফিকুলকে বিয়ে করার শর্ত।

আরাফাত অপহরণের পরদিন তার মা আছমা খাতুন আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

শিশু অপহরণের অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব-৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় র‍্যাব নিশ্চিত হয় কুড়িগ্রাম জেলায় শফিকুলের বাড়িতে রাখা হয়েছে অপহৃত শিশু আরাফাতকে। পরে অভিযান চালিয়ে শফিকুলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুকে।

র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অপহৃত শিশুকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এঘটনায় আটক শফিকুলকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
নাফিজা অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব
এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ‘অপহরণ’, প্রধান শিক্ষক পলাতক
দাখিল পরীক্ষার্থীদের ‘অপহরণচেষ্টা’, গ্রেপ্তার ৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Killing her husband with her lover

প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে জবাই

প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে জবাই পুলিশ হেফাজতে আসামি আতিউর রহমান আতাই। ছবি: নিউজবাংলা
‘সাব্বিরের দ্বিতীয় স্ত্রী রজনীর সঙ্গে আতাইয়ের বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল। তা সাব্বির জেনে গেলে পারিবারিক ঝামেলা হয়। তখনই হত্যার পরিকল্পনা করেন রজনী-আতাই। ৩ অক্টোবর ভোরে তারা আড়ুয়াপাড়া ছোট ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাব্বিরকে গলা কেটে হত্যা করে।’

কুষ্টিয়ায় মেজবা উদ্দিন সাব্বির হত্যায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্ত্রীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই সাব্বির দুদিন আগে খুনের শিকার হন বলে পুলিশের দাবি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স সভাকক্ষে সাব্বির হত্যার বিষয়ে ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম।

তিনি বলেন, ‘প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সাব্বিরকে জবাই করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী রজনী খাতুন। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন রজনী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিক আতিউর রহমান আতাইকে। তাদের দেয়া তথ্যে মিরপুর উপজেলার বারইপাড়া ইউনিয়নের কবরবারিয়া এলাকার একটি বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হয়েছে হত্যায় ব্যবহার করা ছুরি।

‘সাব্বিরের দ্বিতীয় স্ত্রী রজনীর সঙ্গে আতাইয়ের বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল। তা সাব্বির জেনে গেলে পারিবারিক ঝামেলা হয়। তখনই হত্যার পরিকল্পনা করেন রজনী-আতাই। ৩ অক্টোবর ভোরে তারা আড়ুয়াপাড়া ছোট ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাব্বিরকে গলা কেটে হত্যা করে।’

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার করা আসামি ৩০ বছর বয়সী আতিউর রহমান ওরফে আতাইয়ের বাড়ি কুষ্টিয়ার বাড়াদী উত্তরপাড়ায়। তার পিতা মৃত হানু মালিথা। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বারখাদা মীরপাড়া এলাকা থেকে আতাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রজনী খাতুনের বাড়ি কুষ্টিয়ার লাহিনী বটতলায়। তার পিতার নাম শামসুল হক। ২৫ বছর বয়সী রজনী নিহত সাব্বিরের দ্বিতীয় স্ত্রী।

সাব্বির হত্যার পরদিন তার বোন রাবেয়া খাতুন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

তদন্তে নেমে দুদিনের মধ্যে পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন:
‘বিয়েবহির্ভূত’ সম্পর্ক: স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম
স্বামীকে হত্যার দায়ে নারীসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড
‘বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক’: গৃহবধূকে জবাই করে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11 Chhatra League injured in attack in Gazipur protest blockade

গাজীপুরে হামলায় ছাত্রলীগের ১১ জন আহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ অবরোধ

গাজীপুরে হামলায় ছাত্রলীগের ১১ জন আহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ অবরোধ হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার গাজীপুর শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুলি ছোড়ার কথা শুনেছি, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।’

গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে শহরের রথখোলার ঢালে এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক শেখ মোস্তাক আহমেদ কাজলসহ ১১ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কাজলসহ ৭ জনকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মহানগর ছাত্রলীগ। পরে নেতা-কর্মীরা শহরের শিববাড়ি মোড় প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধ করে রাখে। এ সময় হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি মোশিউর রহমান সরকার বাবু।

আহত কাজল বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ওয়াজউদ্দীনকে রথখোলা এলাকায় আমরা বিদায় জানাচ্ছিলাম। অ্যাডভোকেট ওয়াজউদ্দীন চলে যাওয়ার পর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা এরশাদের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল আমাদের ওপর হামলা চালায়।

‘এ সময় আমাকে লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তা লক্ষভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যাই। এক পর্যায়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দিলে আমার থুতনি কেটে যায়। আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীদের চাপাতি ও হকিস্টিকের আঘাতে ছাত্রলীগ নেতা আনিছুর রহমান বাদল, মিরাজুর রহমান রায়হান, ইলিয়াস রুমন ও রনিসহ ১১ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী আহত হয়। আমিসহ সাতজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুদ রানা এরশাদ বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। মোস্তাক আহমেদ কাজল ও কাজী আশরাফ রাকিব মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। কাজল পদ পেলেও রাকিব পদ পাননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কাজলের অনুসারীরা রাকিবের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুলি ছোড়ার কথা শুনেছি, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন:
ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে ঘুরছে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ
ফরিদপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের ৩ জন গ্রেপ্তার
রিভাও তো মানুষ, ভুল করতেই পারে: তিলোত্তমা
শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিল ছাত্রলীগ
বিয়ে, পিতৃত্ব শেষে এবার তারা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Threatening to take off clothes of women who come to deposit money

টাকা জমা দিতে আসা নারীর কাপড় খুলে নেয়ার হুমকি

টাকা জমা দিতে আসা নারীর কাপড় খুলে নেয়ার হুমকি ডাকঘরের রানার হিসেবে কর্মরত সুমন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে সুমন আহমেদ বলেন, ‘হাতে কাজ থাকায় সেবা নিতে আসা ওই নারীকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় রেগে গিয়ে কাপড় খুলে নেয়ার কথা বলেছিলাম।…উত্তেজিত হয়ে আমি বাজে কথা বলেছি। মানুষ রাগের মাথায় অনেক কিছুই বলে। আমার এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি, আমার ভুল হয়েছে।’

গাজীপুর পোস্ট অফিসে ডাক জীবন বিমার টাকা জমা দিতে গিয়ে আউটসোর্সিং কর্মীর মাধ্যমে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক নারী। এ সময় ওই নারীর কাপড় খুলে নেয়ারও হুমকি দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের প্রধান ডাকঘরে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সুমন আহমেদ প্রায় আড়াই বছর ধরে ডাকঘরের আউটসোর্সিং কর্মী (রানার) হিসেবে কর্মরত। সেই নারীর অভিযোগের পর তিনি তা স্বীকারও করেছেন। বলেছেন, উত্তেজিত হয়ে এই কথা বলে ফেলেছেন।

শহরের বাসিন্দা মধ্য বয়সী এক নারী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডাক জীবন বিমার কিস্তির টাকা জমা দিতে শহরের রাজবাড়ি সড়কের প্রধান ডাকঘরে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টাকা জমা দিতে না পেরে পোস্টাল অপারেটর আয়েশা বেগমের দ্বারস্থ হন।

আয়েশা ওই নারীকে আউট সোর্সিং কর্মী (রানার) সুমন আহমেদের কাছে পাঠান। কিন্তু সুমনও তাকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন।

পরে ওই নারী তার কাজটি দ্রুত করে দেয়ার অনুরোধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সুমন। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে তর্ক বাঁধে। এক পর্যায়ে সুমন কিস্তি জমা দিতে আসা ওই নারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে পরনের কাপড় খুলে নেয়ার হুমকি এবং মারার জন্য তেড়ে যান।

ওই নারীকে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধও করে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা এমন অবস্থা চলাকালে বিভিন্ন সেবা নিতে ডাকঘরে আসা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একাধিক সেবা প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, এ ডাকঘরে সেবা পেতে দুর্ব্যবহারসহ মানুষকে নানা হয়রানি পোহাতে হয়।

সুমন বলেন, ‘হাতে কাজ থাকায় সেবা নিতে আসা ওই নারীকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় রেগে গিয়ে কাপড় খুলে নেয়ার কথা বলেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তেজিত হয়ে আমি বাজে কথা বলেছি। মানুষ রাগের মাথায় অনেক কিছুই বলে। আমার এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি, আমার ভুল হয়েছে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী পোস্ট মাস্টার ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আউটসোর্সিং কর্মী সুমন স্টাফদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। আমাদের ক্ষমতা নেই তাকে বাদ দেয়ার, তাকে ওপর মহল থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

পোস্ট মাস্টার খন্দকার নূর কুতুবুল আলম জানান, ঘটনার সময় তিনি ব্যাংকে ছিলেন। পরে সব জেনে বলেন, ‘নারীর সঙ্গে করা আচরণ শোভন হয়নি। তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।’

তিনি জানান, সুমন আহমেদের নিয়োগ রানার পদে। জনবল সংকটের কারণে তাকে দিয়ে কিছু অফিসিয়াল কাজ করানো হয়।

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে হামলায় ছাত্রলীগের ১১ জন আহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ অবরোধ
সবচেয়ে দূষিত বায়ু গাজীপুরে, কম মাদারীপুরে
অপহরণের ৯ ঘণ্টা পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Akash Alis death casts a pall over the joy of worship

পূজার আনন্দে বিষাদ ঢেলেছে আকাশ মিয়ার মৃত্যু

পূজার আনন্দে বিষাদ ঢেলেছে আকাশ মিয়ার মৃত্যু বুধবার সন্ধ্যায় জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে আকাশ আলীর মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনের কান্না। ছবি: নিউজবাংলা
৩৬০ বছর পুরনো শ্রীশ্রী দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত নিরঞ্জন ভাদুড়ী বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর থেকেই নিজের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা অনুভব করছি। এত বড় একটা উৎসবে একজন মা তার আদরের ধন হারাল। একটা মায়ের বুক খালি হয়ে গেল। এই ছেলেটি আমার বা আপনারও হতে পারত। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

বছর ঘুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আসে শারদীয় দুর্গোৎসব। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। কিন্তু একটি মৃত্যু সেই আনন্দের আবহে বিষাদ ছড়িয়ে দিয়েছে।

জামালপুরে বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা যান মো. আকাশ মিয়া। আনন্দ আয়োজন উদযাপনকালে ২২ বছর বয়সী এই তরুণের মৃত্যুর শোক ছুয়ে গেছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে।

আকাশ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার সোজাউর রহমান রানার ছেলে। এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি শোকে বাকরুদ্ধ। স্থানীয় মুসলিম এবং হিন্দু কমিউনিটির মানুষও মেনে নিতে পারছেন না এই দুর্ঘটনা। তারা বলছেন- আনন্দ উৎসবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।

বৃহস্পতিবার সকালে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে আকাশ মিয়াকে দাফন করা হয়েছে।

পূজার আনন্দে বিষাদ ঢেলেছে আকাশ মিয়ার মৃত্যু
ব্রহ্মপুত্র নদের এই স্থানটিতেই বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় পানিতে ডুবে মারা যান মো. আকাশ মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

আকাশ মিয়ার এই অকাল মৃত্যুতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার সোম বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস মুকন্দবাড়ির প্রতিমার নিচ থেকে ছেলেটির দেহ উদ্ধার করার পর আমরা সবাই অস্থির হয়ে গেলাম। ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। সব জায়গায় খবর লাগালাম। পরে তার পরিবারের লোকজন এল। রাত ১২টার পর আমরা হাসপাতাল থেকে এলাম।

এ ঘটনায় আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাই শোকাহত। এমন দুঃখজনক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদেরে আরও সচেতন থেকে উৎসব উদযাপন করা উচিত।’

৩৬০ বছর পুরনো শ্রীশ্রী দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত নিরঞ্জন ভাদুড়ী বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন উৎসবে মুসলমান ছেলেরাই বেশি থাকে। আমরা সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। একটি উৎসবে এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়।

‘ঘটনাটি শোনার পর থেকেই নিজের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা অনুভব করছি। এত বড় একটা উৎসবে একজন মা তার আদরের ধন হারাল। একটা মায়ের বুক খালি হয়ে গেল। এই ছেলেটি আমার হতে পারত। আপনারও হতে পারত। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

জামালপুরের মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘আনন্দ উৎসবে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সবারই আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে ছুয়ে গেছে এই বিয়োগান্তক ঘটনা।’

বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক সাযযাদ আনসারী বলেন, ‘জামালপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসবে মুসলমান কিশোর-যুবকরা বরাবরই দলে দলে অংশগ্রহণ করে থাকে। সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে। এটি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি বড় উদাহর। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ছেলেটির এই অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কারও কাম্য নয়।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার রেসকিউ বোট ক্রু তানজিল আহম্মেদ তন্ময়। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মো. আকাশ আলী নামের ছেলেটি দুইবার নদে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধু-বান্ধবরা দুবারই তাকে নদের পাড়ে তুলে আনে।

‘তৃতীয় বার যখন ছেলেটি নদে পড়ে যায় তখন আর কেউ খেয়ালা করেনি। মিনিট দশেক পর তার অনুপস্থিতি দেখে সঙ্গীয় বন্ধুরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।ক দেয় পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছেলেটিকে নদীতে বিসর্জন দেয়া প্রতিমার নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করে।’

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এই মৃত্যু নিয়ে আকাশের মা-বাবার কোনো অভিযোগ নেই। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
প্রতিমার সঙ্গে ডুবে মুসলিম যুবকের মৃত্যু
পূজার আলোকসজ্জার তারে জড়িয়ে যুবকের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suicide of lover at doctor lovers house

চিকিৎসক প্রেমিকের বাসায় প্রেমিকার আত্মহত্যা

চিকিৎসক প্রেমিকের বাসায় প্রেমিকার আত্মহত্যা আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায় গ্রেপ্তার চিকিৎসক ফিরোজ আলম। ছবি: নিউজবাংলা
আশুলিয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসক ফিরোজ তার ভাড়া ফ্ল্যাটে বারান্দায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় ফিরোজের অন্যত্র বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন নুসরাত। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে নুসরাত বারান্দা থেকে কক্ষে এসে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকার সাভারে চিকিৎসক প্রেমিকের বাসায় এসে আত্মহত্যা করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। ওই তরুণীর বড় ভাইয়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রেমিককে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সকালে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার রাতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায় আশুলিয়া থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ফিরোজ আলম ঢাকার দোহার থানার রাধানগর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।

নুসরাত মিমের বড় ভাই ফেরদৌস আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ফরিদপুরে একটি এনজিওতে চাকরি করি। আমার ছোট বোন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া করত। পাশাপাশি সে সাভার সুপার হাসপাতালে নার্সের চাকরি করত।

‘বছর দুয়েক আগে সুপার হাসপাতালে ডিউটি ডাক্তার ফিরোজ আলমের সঙ্গে আমার বোনের পরিচয় হয়। এক সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৭-৮ মাস আগে ফিরোজ অন্যত্র গোপনে বিয়ে করে। তারপরও সে আমার বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল।’

ফেরদৌস আলম আরও বলেন, ‘৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ডিউটি শেষ করার পর আমার বোনকে ফোন করে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় নিজের ভাড়া ফ্ল্যাটে ডেকে নেয় ফিরোজ। পরদিন ৫ অক্টোবর বিকেলে আমার বোনের আত্মহত্যার খবর পেয়ে ছুটে আসি। আমার বোনকে ডেকে এনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এসআই জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফিরোজ তার ভাড়া ফ্ল্যাটে নুসরাতকে রেখে বারান্দায় গিয়ে গোপনে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় ফিরোজের অন্যত্র বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন নুসরাত। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে নুসরাত বারান্দা থেকে কক্ষে এসে ভেতর থেকে বারান্দার দিকের দরজা আটকে দেন। পরে নিজের ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি জানালা দিয়ে দেখতে পেয়ে ফিরোজ চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে।

‘এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাইয়ের করা মামলায় ফিরোজ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাতেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে রিকশাচালকের ‘আত্মহত্যা’
ছেলের সামনেই স্বামীহারা নারীর ‘আত্মহত্যা’
গায়ে আগুন দিয়ে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
দাদির সঙ্গে অভিমানে শিশুর ‘আত্মহত্যা’
‘ধর্ষণের শিকার’ স্কুলছাত্রীর মৃত্যুতে মামলা

মন্তব্য

p
উপরে