অনেক অনেক আগের কথা। বহুদূরে ছিল একটা স্বপ্নপুরী। যেখানে পরিরা এসে মানুষের সঙ্গে গল্প করত। পাখিরা, মাছেরা কথা বলত। যেখানে ছিল বৃষ্টি গাছ। যে গাছের নিচে দাঁড়ালেই বৃষ্টি ঝরত আর সঙ্গে মিষ্টি সুবাস ছড়াত। সেখানে ছিল একটা সুখ নদী। যে নদীর পাশে বসে দুঃখের কথা কইলে, নদী তার দুঃখ দূর করে দিত।
সেই নদীর পাশেই ছিল একটা ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে থাকত সিন্ড্রেলা নামের এক ছোট্ট মেয়ে। সবাই ওকে খুব আদর করত। নিজের ঘরে ডেকে খাওয়াত। সে যে ভারি লক্ষ্মী মেয়ে।
সারা দিন ঘুরত। প্রজাপতিদের সঙ্গে নাচত। বনের পাখির সঙ্গে গাইত। কি মধুর তার কণ্ঠ। তার গান শুনে বনের সব গাছের পাতা নাচত। জলের মাছ ডাঙায় উঠে সে গান শুনত।
সন্ধ্যাবেলায় আকাশের পরিরা এসে গল্প করত তার সঙ্গে। আর নিয়ে আসত কত্ত আজব আজব উপহার। সেসব পেয়ে খিলখিলিয়ে হাসত সিন্ড্রেলা।
একদিন সুখ নদীর পাশে বসে একমনে কাঁদতে লাগল সিন্ড্রেলা। গাল বেয়ে টুপ করে এক ফোঁটা জল পড়ল সুখ নদীতে। সুখ নদী বলে উঠল, 'ওমা এ কি গো সিন্ড্রেলা, তোমার চোখে জল! কী দুঃখ তোমার? বলো আমায়। সব দূর করে দিব আমি।'
কাঁদতে কাঁদতে সিন্ড্রেলা বলল, 'আমার মা বড্ড অসুস্থ গো সুখ নদী। কেউ কইতে পারে না কী হয়েছে তার। ও পাড়ার দিদিমা বলেছে, মা নাকি বেশি দিন আর বাঁচবে না। মা না থাকলে আমার কী কোনো সুখ থাকবে বলো?'
সিন্ড্রেলার কান্না দেখে পুরো নদীর জল কেঁপে উঠল। মাছেরা সুখ নদীকে মিনতি করে বলল, 'ও গো সুখ নদী, তুমি তো সবাইকে সুখী কর। সিন্ড্রেলার মাকে তুমি ভালো করে দাও। নাইলে আমরা আর কোনো মানুষের জালে ধরা দেব না।'
বনের গাছেরা মাটিকে বলল, 'মাটি তুমি আমাদের সবাইকে বাঁচিয়ে রেখেছ। সিন্ড্রেলার মাকে তুমি বাঁচিয়ে দাও। নাইলে আমরা আর কোনো ফুল ফল দিব না।'
রাতে আলোচনা সভায় বসল সুখ নদী, বনের মাটি, বাতাস আর আকাশের পরিরা। সবাই এটা-সেটা অনেক ভেবে খুঁজে পেল সিন্ড্রেলার মাকে বাঁচানোর উপায়।
সিন্ড্রেলাকে ডেকে বলল, 'তোমার মাকে বাঁচানোর একটা উপায় আমরা পেয়েছি। কিন্তু কাজটা কঠিন।'
সিন্ড্রেলা কেঁদে কেঁদে বলল, 'বল কী সেই উপায়। মাকে বাঁচাতে আমি সব করতে পারব।'
'বেশ, তবে কাল ভোরে সূর্য মামা যখন পুব আকাশে উঁকি দিবে তখন একটা ফানুসে করে তোমায় উড়িয়ে দিবে। সে ফানুস যেখানে গিয়ে পড়বে, সেখানেই মিলবে তোমার মাকে বাঁচানোর উপায়'- বলল নদী।
ভোরবেলায় একটা বড় ফানুসে বসিয়ে সিন্ড্রেলাকে আকাশে উড়িয়ে দিলো সবাই। কাঁদল আকাশের পরি, গ্রামের মানুষ, নদী, গাছ, মাছ সবাই।
উড়তে উড়তে বহুদূর চলে গেল ফানুস। গিয়ে পড়ল অচেনা এক রাজ্যে। সেখানে ঘাসগুলো ফ্যাকাসে। গাছে নেই কোনো পাতা। নদীতে নেই জল।
হাঁটতে হাঁটতে এক বিরাট রাজ প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়াল সিন্ড্রেলা। অন্দরমহলে ঢুকে দেখল রাজা বসে কাঁদছে। তার কাছে গিয়ে বলল, 'আপনি কাঁদছেন কেন?'
রাজা মাথা তুলে দেখল লাল পেড়ে ঘিয়ে রঙের শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। বলল, 'কে তুমি মা? কোথায় থেকে এসেছ? আমার এই রাজ্যে যে সন্যাসীর অভিশাপ পড়েছে। তাই কোনো গাছে ফল নেই, নদীতে জল নেই। না খেতে পেরে আমার সব প্রজারা মরে যাচ্ছে। আমার একমাত্র নয়নের মণি রাজপুত্র সমরও পানির অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।'
'আমি পারব আপনার রাজ্যকে বাঁচাতে' – বলল সিন্ড্রেলা।
'কী বললে মা তুমি! তুমি পারবে? কী করে? কথা দিচ্ছি যদি তুমি সত্যি আমার রাজ্য, আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারো, যা চাও তাই পাবে'- বলল রাজা।
সিন্ড্রেলা বাইরে বেরিয়ে এলো। এসে গান গাওয়া শুরু করল। তার গান শুনে ঘাসগুলো সতেজ হয়ে গেল। গাছগুলো পাতায় পাতায় ভরে উঠল। নদী জলে ভরে গেল। সঙ্গে কত মাছ। জল খেয়ে বাঁচল রাজপুত্র সমরের প্রাণ।
সমরের সঙ্গে গল্প করতে করতে দুঃখের কথা বলল সিন্ড্রেলা। সমর বলল, 'আমি জানি কী করে তোমার মাকে বাঁচাবে।'
সিন্ড্রেলা বলল, 'কী করে? বলো আমায় সে উপায়।'
সমর বলল, 'এ রাজ্যের পূর্ব কোণে আছে এক বৃষ্টিগাছ। সে গাছের নিচে দাঁড়ালেই বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টির জল যদি খাওয়াতে পারো তোমার মাকে, বাঁচবে তিনি।'
তারপর দুজন মিলে চলে গেল সে বৃষ্টিগাছের কাছে। শিশি ভরে নিলো সেই বৃষ্টির জল। তারপর রাজকুমার তার ঘোড়ায় চাপিয়ে সিন্ড্রেলাকে নিয়ে গেল তার মায়ের কাছে। বৃষ্টির জল খেয়ে সুস্থ হয়ে গেল সিন্ড্রেলার মা।
কয়েক বছর পর খবর পাঠিয়ে সিন্ড্রেলাকে রাজ পুত্রবধূ করে নিল রাজকুমার সমর।
ছবি: সংগৃহীত
‘হাতে ও ঘরে কোনো টাকা নেই। বাজার করা দূরের কথা, এক খিলি পান খাওয়ার টাকাও শেষ। কৃষিই ছিল একমাত্র আয়ের উৎস। সাঙ্গু নদীর বন্যার পানি সবকিছু শেষ করে দিয়েছে আমাকে। এখন আমি ঋণের বোঝা হয়ে গেছি।
কথাগুলো বলছিলেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নামিপাড়া এলাকার কৃষাণী গোলাপ্রু মার্মা (৪৭)। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রুমা সদরঘাট এলাকার একটি দোকানে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় নিজের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন।
গোলাপ্রু মার্মার সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। গত ৩০ বছর ধরে কৃষিকাজ ও সবজি চাষের মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর দাবি, এত দীর্ঘ কৃষিজীবনে কখনো এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। একই এলাকায় আরও ১২ থেকে ১৪টি পরিবার কৃষিকাজ করলেও তাঁর মতো এত বড় ক্ষতির শিকার আর কেউ হননি।
গোলাপ্রু মার্মা জানান, প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় তাঁর মাছের পুকুর, পেঁপে বাগান, ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া একটি পুকুরে গত বছর ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চিংড়ি ও মাছের পোনা অবমুক্ত করেছিলেন। মাছ ও চিংড়িগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। বন্যার পানিতে সব ভেসে যাওয়ায় বছর শেষে সম্ভাব্য সাড়ে চার লাখ টাকার আয়ের আশা শেষ হয়ে গেছে।
শুধু মাছের খামারই নয়, তাঁর ৪২০টি হাইব্রিড পেঁপে গাছেও ভালো ফলন এসেছিল। এক সপ্তাহ পর থেকে বিক্রি শুরুর কথা ভাবছিলেন তিনি । প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ মণ পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন। তাঁর হিসাবে, বন্যা না হলে এ বাগান থেকে বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় হতে পারত। তাও বোন নেই শেষ হয়ে গেল।
এ ছাড়া ওলকচু চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় সব পচে নষ্ট হয়েছে। হাইব্রিড ধানের চারা রোপণে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। তাঁর আশা ছিল, মৌসুম শেষে অন্তত ৩০০ আড়ি ধান ঘরে তুলতে পারবেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ধানের চারাগুলো কাদার সঙ্গে মিশে গেছে।
আধা কানি জমিতে শশা এবং আধা কানি জমিতে বরবটির চাষ করেছিলেন। এসব সবজি বিক্রি করে প্রতি হাটে তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় হতো। বন্যার আগে প্রায় এক মাস ধরে সেই আয়েই সংসারের সব খরচ চলছিল। কিন্তু প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন গোলাপ্রু মার্মা। বর্তমানে কৃষি ব্যাংক থেকে নেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, বেসরকারি সংস্থা আইডিএফের ১ লাখ টাকা এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকাসহ মোট কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝা তাঁকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘ঋণের কিস্তির কথা চিন্তা করে মাথায় কিছুই কাজ করছে না। কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, বুঝতে পারছি না।’
বন্যার প্রভাব পড়েছে তাঁর সন্তানদের শিক্ষাজীবনেও। বড় মেয়ে সম্প্রতি মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন এবং জাপানে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছোট মেয়ে বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। কিন্তু কৃষি থেকে আয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই মেয়েকেই বাড়ি ফিরে আসতে বলেছেন তিনি।
গত ৬ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে রুমা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে। নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মাছের খামার, ধান ও সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার সাথে পাহাড়ের বাগান ও পাহাড়ে জুম চাষের পাহাড় ধসে ব্যাপক হারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদুল হক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩৫০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা বলেন, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে অন্তত এক হাজার পরিবার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিয়নের নয়জন সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্যের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো জানান, তার ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে ৮৩টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
শনিবার (১৮ জুলাই) মন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই দুঃসময় আসে। সেই সময়ে সরকার ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে যেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া না হয় এবং সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে- তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের মতো কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদেরও পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারির যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা অনুধাবন করেই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করছে।
এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো: আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো: আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক- সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিট এ কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে একযোগে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ১০ টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৪.০৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লেকে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় পানি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে গড়ে ২শত ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতির কথা জানায়। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে গেট আরও খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী শনিবার কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ কাপ্তাই পিডিবি এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
শেরপুর জেলাজুড়ে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন কৃষকরা। বন্যায় জেলার কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও, আমনই এখন তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র অবলম্বন। তাই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। স্বপ্ন দেখছেন আমনের ভালো ফলনের মাধ্যমে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার।
জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, কৃষকরা চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে কেউ ট্রাক্টর আবার কেউ পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করছেন। কেউবা বীজতলা থেকে আমনের চারা তুলে তা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকেই পরিজন নিয়ে একযোগে চারা রোপণ করছেন। তাদের পরিশ্রমে চোখে মুখে নতুন দিনের স্বপ্ন স্পষ্ট।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৬৯৩ হেক্টর। ইতোমধ্যেই কেউ কেউ আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহ নাগাদ সারা জেলার কৃষকগণ রোপা আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করবেন।
অপরদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফরহাদ হোসেন জানান, উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৬২ হেক্টর। সম্প্রতি কৃষকরা আমনের চারা রোপণ শুরু করেছেন।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চারা রোপণ বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে চারা রোপণ শুরু হয়ে যাবে। যদিও চলতি মাসের শেষের দিক পর্যন্ত কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন।
সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কৃষক রহমত মিয়া জানান, বন্যায় তার প্রায় দুই বিঘা জমির আউশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমনই তার শেষ ভরসা। তিনি বলেন, "বন্যায় অনেক ক্ষতি হইছে বাজান। পোলাপান নিয়া না খাইয়া মরা লাগবো। অহন আল্লাহ ভরসা কইরা আমন লাগাইতাছি। যদি আমনডার ফলন ভালো হয় তয় হয়তো বাইচা যামু। একই কথা জানান নকলা উপজেলার কৃষক আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, "সরকারি সহায়তা পাইলে এবং ধানের ভালো দাম পাইলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারমু।
জেলার অন্যান্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বন্যার কারণে কিছুটা দেরি হলেও আমন আবাদের এখনও সময় আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আশা করি, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষকরা আমনের ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।
ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, চশমা প্রদান ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার পৌর এলাকার নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজে বগুড়ার গাক চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গ্রামীণ উন্নয়ন কর্ম (গাক) এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইকরামুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড মোস্তাফিজুর রহমান, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিক অনুষদের মশিহুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা,গাক চক্ষু হাসপাতালের অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ধরনের উদ্যোগের ভুয়সি প্রশংসা করেন। গাকে'র এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান বক্তারা ।
চক্ষু ক্যাম্পে আগত বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করান। আয়োজকরা জানান,'ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত গাক চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচিত রোগীদের যাতায়াত, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, চশমা এবং থাকা-খাওয়ার সব ব্যয় বহন করবে গাক চক্ষু হাসপাতাল। এ ছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে সেবা গ্রহীতা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়।'
চক্ষু ক্যাম্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামি কারাগারে আছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন।
ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল,বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান অতিথি।
মন্তব্য