× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BNP will disappear like Muslim League Information Minister
hear-news
player
google_news print-icon

মুসলিম লীগের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

মুসলিম-লীগের-মতো-হাওয়ায়-মিলিয়ে-যাবে-বিএনপি-তথ্যমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, ‘এখন বিএনপি ধানের শীষ বাদ দিয়ে যখন হারিকেন ধরেছে, আমার সন্দেহ হচ্ছে কদিন পরে হারিকেন দিয়েও হয়তো বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মুসলিম লীগের মতো হাওয়া হয়ে যাবে।’

বিএনপি মুসলিম লীগের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে, হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম লীগের প্রথমে মার্কা বাইসাইকেল ছিল, বাইসাইকেলের পর মুসলিম লীগ মার্কা পরিবর্তন করে যখন হারিকেন ধরল, তখন হারিকেন দিয়েও আর মুসলিম লীগকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

‘এখন বিএনপি ধানের শীষ বাদ দিয়ে যখন হারিকেন ধরেছে, আমার সন্দেহ হচ্ছে কদিন পরে হারিকেন দিয়েও হয়তো বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মুসলিম লীগের মতো হাওয়া হয়ে যাবে।’

রাজশাহীর মোহনপুরে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কিছু নেই। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং বাংলাদেশে দাম কম থাকার সুযোগে ট্রাকে ট্রাকে ভারতে তেল পাচার করা হতো। সে কারণে মূল্য সমন্বয় করে তেলের দাম পশ্চিমবাংলার সমান করেছে সরকার।

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। অন্যদিকে চীন ও তাইওয়ান মুখোমুখি। বিশ্বের সব জায়গায় অস্থিরভাব। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছিল। এমনকি সারা বিশ্বে তেলের দাম শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে আমরা কিন্তু তা করিনি। মূল্য সমন্বয় করে তেলের দাম পশ্চিমবঙ্গের সমান করা হয়েছে। আগামীতে যখন বিশ্বে জ্বালানি তেলের মূল্য কমবে তখন আমরাও কমাব।’

আরও পড়ুন:
এবার বিএনপি নেতার মুখে ‘খেলা হবে’
বিএনপির সমাবেশে মারামারি, নিপুণের ওপর চড়াও
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শাবিতে সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস
সমালোচনার মুখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ
ছাত্রদল নেতা হত্যায় ৪৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
9000 crore EVM project is a waste of peoples tax money

‘৯ হাজার কোটির ইভিএম প্রকল্প মানুষের ট্যাক্সের টাকার অপচয়’

‘৯ হাজার কোটির ইভিএম প্রকল্প মানুষের ট্যাক্সের টাকার অপচয়’ বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আক্রমণ না আসে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে সম্পন্ন করতে পারে তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান বাম জোটের নেতারা।

৯ হাজার কোটি টাকার ইভিএম প্রকল্প মানুষের ট্যাক্সের টাকার অপচয় উল্লেখ করে এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাম জোটের নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছে পূরণে কাজ করতে গিয়ে জনগণের আকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে। সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর করছে।

শুক্রবার বিকেলে পল্টন মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই অভিযোগ করেন বাম জোটের নেতারা।

৯ হাজার কোটি টাকার ইভিএম প্রকল্প বাতিল, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন, দমন-পীড়ন, মামলা, বিরোধী মতামত দমন বন্ধ, লুটের টাকা উদ্ধার ও দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের বিচার, নিত্যপণ্যের দাম কমাও, মানুষ বাঁচাও-দাবি নিয়ে এই সমাবেশ করেন বাম জোটের নেতাকর্মীরা।

জোটের নেতারা বলেন, দেশের মানুষ এমন একটা পরিবেশ চায় যেখানে তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবে, কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ভোটারদের কোন নিরাপত্তা থাকবে না। আমরা দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন চাই না।

বক্তারা নির্বাচনের সময় সংসদ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগ করতে হবে বলে দাবি জানান সমাবেশ।

তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে তোড়জোড় করছে, একটা পূর্ব নির্ধারিত ফলাফলের জন্য নির্বাচন এর আনুষঙ্গিকতা করতে চাইছে।

বক্তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের আয়োজনকে রুখে দাঁড়াতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।

নির্বাচন কমিশন জনগণকে প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে যার জবাব জনগণ দেবে বলে জানান।

দেশের মানুষ ইভিএম চাইছে না, কারণ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর আগে জনগণের টাকায় কেনা ২৮ হাজার ইভিএম নষ্ট হয়ে পড়ে আছে কিন্তু তারপরও সরকারের আকাঙ্খা পূরণে ৯ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যা পুরোটাই অপচয় বলে উল্লেখ করেছেন নেতারা।

সমাবেশে বলা হয়, ‘ইডেন কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এমন কোনো অপরাধ নেই যা করছে না, কিন্তু আইনের আওতায় না আনার একমাত্র কারন তারা আওয়ামী শাসনের সহযোগী।’

বক্তারা ইডেন কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তার দাবি করেন।

সমাবেশে জোট নেতারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলবম্বীদের আসন্ন দুর্গাপূজার জন্য বানানো প্রতিমা ভাঙচুরের খবর আসছে।

দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আক্রমণ না আসে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে সম্পন্ন করতে পারে তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।

পাশাপাশি সরকারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের সামজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাক সবুজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী।

আরও পড়ুন:
টায়ার পোড়ানোর অভিযোগে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আটক
হরতাল: পল্টনে বাম জোটের মিছিল-অবস্থান
দেশবাসীকে হরতাল পালনের আহ্বান বাম জোটের
বাম জোটের নতুন সমন্বয়ক প্রিন্স
বাম ভাইদের সম্মান করি: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Elections will not be allowed without supervisor Fakhrul

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: ফখরুল গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালা ময়দানে প্রয়াত বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকীতে মির্জা ফখরুল। ছবি: নিউজবাংলা
‘নির্বাচনকালীন সময়ে যদি দলীয়, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সরকার থাকে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সেই কারণে আমরা বলছি, নির্বাচন যদি হতে হয়, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচন এই বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বিএনপি স্পষ্টত দশম সংসদ নির্বাচনের আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হলে আগামী নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

এই দাবি আদায়ে বিএনপির আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলন চলবে এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত।’

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালা ময়দানে প্রয়াত বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকীতে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন ফখরুল।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও এই অবস্থান ছিল দলটির। সেই ভোট ঠেকাতে সহিংস আন্দোলনও করে তারা। তবে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই ভোটে আসে তারা। এবার আবার পুরনো দাবিতে ফিরে গেছে।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে যদি দলীয়, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সরকার থাকে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সেই কারণে আমরা বলছি, নির্বাচন যদি হতে হয়, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচন এই বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বিএনপির এই বক্তব্যের বিপরীতে আওয়ামী লীগ যা বলছে, সেটা হলো এই সরকার ব্যবস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। ফলে দশম সংসদ নির্বাচনের আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে কথা উঠেছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর উচ্চ আদালতে একটি রিটের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। এরপর সরকার নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উচ্চ আদালতে মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় এখন আর কিছু করা সম্ভব নয়।

ফখরুল অবশ্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এসব বক্তব্যকে অসার বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জীবনেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তত্ত্বাবধায়কের অধীনে তারা ২০টি আসনও পাবে না। তাই তারা বলছে, তত্ত্বাবধক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। আমাদের কথাও পরিস্কার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে হবে, তা না হলে কোন নির্বাচন হবে না।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই সরকার আদালতকে কুক্ষিগত করেছে। যারা ব্যাংক ডাকাতি করছে, মানুষ খুন করছে তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে জামিন দেয়া হচ্ছে। অথচ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক রেখে জামিন দেয়া হচ্ছে না। কারণ, তিনি জামিনে বাইরে বের হয়ে আসলে, হ্যামিলনের বংশিবাদকের মতো হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ বের হয়ে আসবে আর এই সরকারের গদি উল্টে যাবে।’

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হান্নান শাহের ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, সহ সাংগঠনিক বেনজির আহমেদ টিটু, হুমায়ুন কবির খান, রফিকুল ইসলাম, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল,মেয়র মুজিবুর রহমান, ওমর ফারুকও বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মরহুম হান্নান শাহ'র আত্মার শান্তি কামনা করে কবর জিয়ারত করেন।

আরও পড়ুন:
পুলিশ শুধু বিরোধী দলের লাঠি দেখে: দুদু
লাঠি নিয়ে এলে খবর আছে: কাদের
বিএনপির আন্দোলনে সারা দেশে গণজোয়ার: গয়েশ্বর
ইডেন কলেজ কলঙ্কিত করেছে আ.লীগ: রিজভী
এবার রাজপথে বিএনপির টানা দুই মাসের কর্মসূচি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time there is no fear in the pujamandap Home Minister

এবার পূজামণ্ডপে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার পূজামণ্ডপে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুত মণ্ডপ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
‘দুর্গাপূজায় কুমিল্লার মতো ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য এবার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক রাখতে বলা হয়েছে। পূজার নিরাপত্তায় সরকার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। এ বছর পূজামণ্ডপে কোনো শঙ্কা থাকবে না আশা করি।’

এবার পূজামণ্ডপে কোনো শঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজায় কুমিল্লার মতো ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য এবার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক রাখতে বলা হয়েছে। পূজার নিরাপত্তায় সরকার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। এ বছর পূজামণ্ডপে কোনো শঙ্কা থাকবে না আশা করি।’

শুক্রবার বিকেলে ভোলার লালমোহনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে শেখ হাসিনা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ সবাইকে নিয়ে এ দেশ, সবার রক্তে রঞ্জিত এ দেশ। আমারা সবাইকে নিয়ে চলব। উৎসব সবার, ধর্ম যার যার। এ ধারা অব্যাহত থাকায় আমরা সবাই এগিয়ে চলছি। এগিয়ে যাওয়ার সৈনিক হিসেবে সবাই কাজ করছে বলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ আমাদের রুখতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন দেশ আলোকিত থাকবে। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস, জঙ্গি, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে চাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পল্লব কুমার হাজরা।

উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধূরী।

খেলায় কালমা ইউনিয়নকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে ধলী গৌরনগর ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। লালমোহন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও নুরুন্নবী চৌধুরী ক্রীড়া ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।

দেবীর আগমন শনিবার

ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে শনিবার শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। গত দুই বছরে করোনা মহামারির বিবর্ণ সময় ও সর্বশেষ পূজায় কুমিল্লায় সহিংসতাকে উতরে এবারের দুর্গোৎসব জমজমাট করতে সারা দেশে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

গতবারের চেয়ে এ বছর বেড়েছে মণ্ডপের সংখ্যা, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দেবীবন্দনায় পুরোপুরি প্রস্তুত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে আসছেন গজে (হাতি) চেপে। গজ বা হাতিতে চড়ে দেবীর আগমনের অর্থ হলো শুভ। মনে করা হয়ে থাকে, দেবী যদি গজে চড়ে মর্ত্যে আসেন, তাহলে তিনি সঙ্গে করে সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন। হাতি হচ্ছে জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির প্রতীক।

আর ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়বেন নৌকায় চড়ে। নৌকায় মনোকামনা পূর্ণ হওয়া বোঝানো হয়। ধরিত্রী হয়ে ওঠে শস্য-শ্যামলা। কিন্তু সেই সঙ্গে অতিবর্ষণ বা প্লাবনের আশঙ্কাও দেখা যায়।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার মহাষষ্ঠীর সকালে হবে দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠিবিহিত পূজা, সন্ধ্যায় হবে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।

রোববার মহাসপ্তমীবিহিত পূজা, সোমবার মহাষ্টমীবিহিত পূজা, মঙ্গলবার মহানবমীবিহিত পূজা এবং বুধবার দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও প্রতিমা বিসর্জন হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাবে দেশে এবার প্রায় ৩২ হাজার ১৬৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এই সংখ্যা গতবারের চেয়ে ৫০টি বেশি। ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হবে ২৪১টি মণ্ডপে, যা গতবারের চেয়ে ছয়টি বেশি। গতবার সারা দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১১৮টি।

গত বছর সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে শারদীয় উৎসব শুরু হয়। সার্বিক পরিস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। এর মধ্যে কুমিল্লায় একটি মন্দিরে হনুমান মূর্তির পায়ের কাছে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রাখার মতো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তা প্রাণঘাতী অবস্থায় রূপ নেয়। সহিংসতায় নিহত হন পাঁচজন। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাও ঘটে। হুমকিতে পড়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

এ বছরের মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির স্বার্থে মণ্ডপকেন্দ্রিক সিসিটিভি ক্যামেরাও বসছে। তবে গ্রামের মণ্ডপগুলোতে এই নিরাপত্তা সুবিধা থাকছে না।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এবার আশাবাদী। সরকার আন্তরিক, প্রশাসনও আন্তরিক। আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে।

‘সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। সব মণ্ডপে নজরদারির ব্যবস্থাটা রাখতে বলা হয়েছে। এবার সব মন্দিরে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা ২৪ ঘণ্টা পাহারায় থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
গ্রামের মণ্ডপে বসছে না সিসিটিভি ক্যামেরা
দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি
পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’
পূজা উদযাপন পরিষদের ১৪ দফা
পূজার গান ‘দেখা দাও মা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no scope for rigging EVMs for sure Election Commissioner

কারচুপির সুযোগ নেই নিশ্চিত হয়েই ইভিএম: নির্বাচন কমিশনার

কারচুপির সুযোগ নেই নিশ্চিত হয়েই ইভিএম: নির্বাচন কমিশনার বগুড়া জেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক সভায় নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত
বিগত দিনে ইলেকশন করে দেখিছি মেশনিটা (ইভিএম) আসলেই ভালো। ইভিএমে ভোট আসলে নিরাপদ, নিশ্চিত; এখানে জাল ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি দেখাতে পারেন ইভিএম এক জায়গার ভোট আরেক জায়গায় যায়, তাহলে আমরা সেই খারাপ জায়গা থেকে চলে আসব।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কারচুপি বা জাল ভোট দেয়ার সুযোগ নেই- এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই আগামী জাতীয় নির্বাচনে যন্ত্রটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। বলেছেন, তারা ৩০০ আসনেই এই মেশিন ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন, তবে সরবরাহ-স্বল্পতায় অর্ধেক আসনে এই মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে।

শুক্রবার বগুড়ার সার্কিট হাউসে জেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

সমালোচকদের বক্তব্য উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা শুনছি ইভিএমে নাকি ভোট কারচুপি হয়, ফলাফল পাল্টে দেয়া হয়। কিন্তু আমরা সব দিক পর্যালোচনা করে দেখেছি, নিশ্চিত হয়েছি বলেই ইভিএমে নির্বাচন করতে চাচ্ছি।

‘বিগত দিনে ইলেকশন করে দেখিছি মেশনিটা (ইভিএম) আসলেই ভালো। ইভিএমে ভোট আসলে নিরাপদ, নিশ্চিত; এখানে জাল ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি দেখাতে পারেন ইভিএম এক জায়গার ভোট আরেক জায়গায় যায়, তাহলে আমরা সেই খারাপ জায়গা থেকে চলে আসব।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছে ছিল জাতীয় নির্বাচনে শতভাগ আসনে ইভিএমে ভোট করার। কিন্তু ইভিএম সরবরাহ স্বল্পতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এই কারণে ১৫০ আসনে ইভিএমে নির্বাচন করা হচ্ছে।’

রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা বরাবরই চাচ্ছি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু। যাতে ভোটের সব পরিবেশ সুন্দর থাকে। ভোটার তাদের ভোট নিরাপদে তাদের পছন্দের প্রতীকে দিতে পারেন।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছাড়া বিএনপি ভোটে আসবে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি সংলাপে ডেকেছি। তারা যদি মনে করে তত্ত্বাবধায় সরকার ছাড়া নির্বাচন করবেন না, এটি তারা করতেই পারে। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে, আইন মেনে ভোট করবে।’

এর আগে বগুড়ার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে একই স্থানে সভা করেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। এ সময় জেলার পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্ত্তীসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার ইসির কনফারেন্সে যোগ দিতে সিইসিকে আমন্ত্রণ
আইএফআইসি ব্যাংকে সিডনিসানের ১০ হাজার সিসিটিভি
ইভিএম নিয়ে ইসি মসজিদ-মন্দিরেও প্রচার চালাবে
ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
ভোট থেকে না সরলে ‘অসুবিধা হবে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Caretaker doesnt mean he doesnt want to leave loot paradise Rizvi

লুটের স্বর্গরাজ্য ছাড়তে চায় না বলে তত্ত্বাবধায়ক মানে না: রিজভী

লুটের স্বর্গরাজ্য ছাড়তে চায় না বলে তত্ত্বাবধায়ক মানে না: রিজভী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা
‘একটা দরজা-জানলার দাম ২২ লাখ টাকা। এইভাবে বিভিন্ন সেক্টরে অবাধ লুণ্ঠনের মাধ্যমে তারা (সরকার) যে স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেছে, এই স্বর্গ থেকে তারা বিদায় হতে চান না বলেই আজকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপির মাথা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত নামাতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকার লুটের স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এ জন্যই তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘সরকার দিনে ভোট করতে ভয় পায়। তারা নিশিরাতে জাল ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আছে। তারা একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে না হয় তার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

‘প্রধানমন্ত্রীসহ তারা নানা কথা বলছেন দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তারা অত্যন্ত সুখে আছেন অর্থ পাচার করে মহা দুর্নীতি করে মহালুটপাট করে।’

শুক্রবার বিএনপিপন্থি ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘একটা দরজা-জানলার দাম ২২ লাখ টাকা। এইভাবে বিভিন্ন সেক্টরে অবাধ লুণ্ঠনের মাধ্যমে তারা (সরকার) যে স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেছে, এই স্বর্গ থেকে তারা বিদায় হতে চান না বলেই আজকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপির মাথা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত নামাতে হবে।

‘আইনমন্ত্রী বলছেন বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়কের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এ কারণেই বলছেন যে, তিনি তো দিনের ভোটে কোনোদিনই তার এলাকায় জিততে পারবেন না। তাকে এই বিনাভোটেই নির্বাচিত হতে হবে। সে কারণেই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন তারা হতে দিতে চায় না। ওবায়দুল কাদেরও জানেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কী পরিণতি হবে তাদের।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে বই কলমের পরিবর্তে লাঠি তুলে দিয়েছে এর প্রমাণ আপনারা কয়েকদিন আগে দেখেছেন। একদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সোনার ছেলেরা অন্যদিকে ইডেন কলেজে তাদের স্বর্ণালি কন্যারা যে ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেটা নজিরবিহীন। এসব ঘটনা অব্যাহত রাখতেই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বলেছেন বিএনপিকে মাথা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত নামাতে হবে।’

রিজভী বলেন, ‘বিদেশিরা কী কথা বলছেন এদের (সরকারের) কানে যায় না। বাংলাদেশের রাজনীতি যারা পর্যবেক্ষণ করে তারা কী বলছে? ইউরোপ, আমেরিকা কী কথা বলছে? অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ কী কথা বলছে? তারা যে সামনে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। এটা তাদের (সরকার) কানে যায় না। কারণ যাদের অবৈধ সত্তা আছে যারা জনগণের ভোটকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তারা এগুলো শুনবে না।’

গণমাধ্যমকে বাংলাদেশের অর্জন দেখাতে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আহ্বান জানিয়েছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘কী অর্জন আছে আপনাদের? ঢাকা শহরে ৫০টি ক্যাসিনো আছে, সেই অর্জন দেখাতে হবে? ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে যখন গুলি খেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন প্রায় পৌনে দুই শ লোক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে সফর করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ হামলা করছে, ইডেনে আপনাদের স্বর্ণালি মেয়েরা যা করছে এগুলো কি দেখাতে হবে?’

এসময় ওলামা দলের আহ্বায়ক নেসারুল হক, সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সেলিম রেজা, শাহ্ মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ্ ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া থাকবে, আপনারা থাকবেন না’
দেশে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি: রিজভী
গুলি করে নেতাকর্মীদের অন্ধ-পঙ্গু করা হচ্ছে: রিজভী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Riva also humans can make mistakes Tilottama

রিভাও তো মানুষ, ভুল করতেই পারে: তিলোত্তমা

রিভাও তো মানুষ, ভুল করতেই পারে: তিলোত্তমা তিলোত্তমা শিকদার
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ছাত্রলীগের অবস্থান কী জানতে চাইলে তিলোত্তমা বলেন, ‘সে জন্যই আমরা তাদের কমিটি স্থগিত রেখেছি। অধিকতর তদন্ত করা হবে। কিন্তু এখন ইডেনে তো তদন্ত করার পরিবেশই নেই। অধিকতর তদন্ত করে আমরা সেটি জানাব।’

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে এক ছাত্রীকে হুমকি দেয়ার অডিও নিয়ে অভিযুক্ত কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদারের।

সম্প্রতি ঘটা ওই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘সেই কল রেকর্ডের জন্য রিভা সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং ওই মেয়ের কাছেও ক্ষমা চেয়েছে। রিভা তো মানুষ। সে তো আর ফেরেশতা না। মানুষ তো ভুল করতেই পারে।

‘সেই ভুক্তভোগী মেয়েও বলেছে যে রিভার সঙ্গে তার আর কোনো সমস্যা নেই। সেই ভুল বোঝাবুঝির মীমাংসা হয়ে গেছে।’

বেশ কদিন ধরেই আলোচনায় ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ। এ নিয়ে সর্বশেষ ছাত্রলীগের কলেজ কমিটি স্থগিত এবং এক পক্ষের ১২ জন পদধারী ও চার কর্মীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা বলছেন, তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রোষানলের শিকার। অথচ কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে অডিও ফাঁস, নগ্ন করে ভিডিও ধারণের হুমকি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ছাত্রলীগের অবস্থান কী জানতে চাইলে তিলোত্তমা বলেন, ‘সে জন্যই আমরা তাদের কমিটি স্থগিত রেখেছি। অধিকতর তদন্ত করা হবে। কিন্তু এখন ইডেনে তো তদন্ত করার পরিবেশই নেই। অধিকতর তদন্ত করে আমরা সেটি জানাব।’

ইডেন কলেজের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলায় নিজ অনুসারীদের দিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর গত শনিবার মধ্যরাত থেকে কলেজে বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত।

এর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে রিভার হুমকি দেয়ার অডিও। ওই অডিওকে কেন্দ্র করেই দুই ছাত্রীকে ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন এবং নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে ভাইরাল করার হুমকির অভিযোগও ওঠে ছাত্রলীগের এই নেত্রীর বিরুদ্ধে।

পরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এক পর্যায়ে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা হলে জটিল পরিস্থিতি ধারণ করে। এরপর কমিটি স্থগিত করে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

তিলোত্তমা বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের শান্তিপূর্ণ প্রেস কনফারেন্সে তারা অতর্কিত হামলা করেছে। এটি চারটি চ্যানেলে লাইভ প্রচারিত হয়েছে। এরপর আমরা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপদপ্তর সম্পাদক সবার উপস্থিতিতে ভিডিও দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং কমিটি স্থগিত রেখেছি অধিকতর তদন্ত করার জন্য।’

অডিওর ব্যাপারটি মীমাংসা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তিলোত্তমা বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে চারটা চ্যানেলের লাইভে সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে চেয়ার দিয়ে মারা, লাঞ্ছিত করা, চুল টেনে শুইয়ে ফেলা এবং পাড়া দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে যেসব সহসভাপতি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল তাদের লাঞ্ছিত করা এবং মাননীয় নেত্রীর ছবিযুক্ত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং সেগুলো পাড়া দেওয়া এগুলো আমাদের দলীয় ক্ষেত্রে অনেক বড় অপরাধ।

‘আর এই অপরাধের কারণে দল থেকে আমরা তাদের বহিষ্কার করেছি। ছাত্রলীগকে যারা বিতর্কিত করতে চায় তাদের ছাত্রলীগে থাকার কোনো দরকার নেই।’

‘কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে, আমাদের কথা না শুনে কেন বহিষ্কার করা হয়েছে’ বহিষ্কৃতদের এমন প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিলোত্তমা বলেন, ‘তারা কি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে নাকি তাদের কোনো দিন ডেকে পাওয়া গেছে! তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমরা এই ঘটনার আগে দুইদিন ৬ ঘণ্টা করে ইডেনে গিয়ে বসে ছিলাম। তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি, কোনো কো-অপারেটিভ আচরণ করেনি এবং কোনো অভিযোগ জানাতেও আমাদের কাছে আসেনি।’

ইডেনের ঘটনায় ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন নিশি। পরে অবশ্য কমিটি নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের একাংশ আপত্তি জানালে তিনি কমিটি থেকে সরে আসেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে স্থায়ী বহিষ্কার কেন জানতে চাইলে নিশি বলেন, ‘সেই ঘটনার তদন্ত করে আমরা কিছু তথ্য উপাত্ত ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে দিয়েছি। আর উনাদের কাছেও হয়ত কিছু তথ্য ছিল। এসব তথ্য এবং অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত সত্য হয় তাহলে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক শোকজ না করে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করতে পারে।’

বেনজির হোসেন নিশি রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনি দাস তন্বীকে মারধরের ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি। সেই মামলা তদন্ত করে পিবিআই। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত এ ছাত্রলীগ নেত্রীসহ তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে তা মঞ্জুর হয়। তবে সেই মামলা এখনো চলমান থাকলেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নিশির বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সেই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিলে নিশি বলেন, ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমার ছোট বোনের সঙ্গে আমার গ্যাঞ্জাম হতে পারে। এটা আমাদের সংগঠনের ব্যাপার। সেই ঘটনাটি সভাপতি সাধারণ সম্পাদক তদন্ত করেছে। যেহেতু আমরা দুজনই একই সংগঠনের এবং দুইজনেরই যেহেতু একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল সেজন্যই হয়তো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

আরও পড়ুন:
ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের নামে হত্যাচেষ্টার মামলা
ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব
ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের ‘আমরণ অনশন’ টিকল ১ ঘণ্টা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ganoforum will not join hands with BNP

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ড. কামাল হোসেনের ঘোষণায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. মিজানুর রহমান। তিনি গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে আছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিউজবাংলাকে বলেছেন, তার দল গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, সরকার নির্বাচনের পরিবেশ কতটুকু তৈরি করবে, তার ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে অংশ নেয়া-না নেয়া।

প্রশ্ন: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে গণফোরাম কি ভেঙে গেছে? আপনাদের তো বহিষ্কার করেছেন মোস্তফা মহসীন মন্টুরা?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের নামে তারা যে কমিটি করেছিল, সে কমিটিতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। তারা যে কমিটি ডিক্লেয়ার করেছে, তার সঙ্গে আমার এবং আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- কমিটি ঘোষণা করে কমিটির যে মিটিংগুলো করেছে, কোনোটায় আমার সম্পৃক্ততা কখনও ছিল না। ফলে তারা নিজেরা কারও নাম ব্যবহার করা এবং তাদের বহিষ্কার করা– এটা তাদের নিজস্ব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আমার এবং আমার দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যেহেতু কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, সে হিসেবে তাদের এ বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: মোস্তফা মহসিন মন্টু নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা তো বলছেন তারা কাউন্সিল করে কমিটি গঠন করেছেন, যেটা নির্বাচন কমিশনও চেয়েছিল। আর তাদের নেতৃত্বেই সংগঠনগুলো রয়েছে। কিন্তু আপনারা কাউন্সিল করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন কোন কমিটির কথা শুনবে?

ডা. মিজানুর রহমান: আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে দলের প্রধান ড. কামাল হোসেন। মানে সভাপতি হচ্ছেন দলের প্রধান। কাউন্সিল করতে হলে দলের প্রধানের সম্মতি লাগবে এবং ৩০ দিন আগে গঠনতন্ত্র অনুসারে নোটিশ দিতে হবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশ থেকে ডেলিগেট ও কাউন্সিলরা আসবেন। সেভাবেই কাউন্সিল করতে হয়। কিন্তু ওনারা যেটা করছেন, দলের সভাপতির সম্মতি যদি না থাকে, উপস্থিতি না থাকে, তারা নিজেরা কাউন্সিল করে তো সেটাকে মূল দলের দাবি করতে পারেন না। এতে গণফোরাম কিংবা দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্তরা ছিল না। যার ফলে নির্বাচন কমিশনে তারা যে কমিটি জমা দিয়েছে, সেটা এমনিতেই বাতিল হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন: কিন্তু ওনারা তো বলছেন, ওনারা যখন কাউন্সিল করেছেন, তখন ড. কামাল হোসেনের সায় ছিল। এ কারণে দলের উপদেষ্টা পরিষদে ওনারা তাকে রেখেছিলেন।

ডা. মিজানুর রহমান: তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে ড. কামাল হোসেনের কাছে গিয়ে বলেছেন যে আমরা একটা সম্মেলন করছি। আপনি শুভেচ্ছা জানাবেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন কিন্তু গণফোরামের নামে কোনো শুভেচ্ছা দেননি। উনি ওনার ব্যক্তিগত প্যাডে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেননি যে গণফোরামের নামে যে কাউন্সিল হচ্ছে, তাকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এখন যদি কোনো ব্যক্তি নিজে একটা দল গঠন করে কিংবা তারা যদি কাউন্সিল করে, এটা তো তার ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপার। কিন্তু গণফোরামের নামে ড. কামাল হোসেন কোনো শুভেচ্ছা বার্তা দেননি। আর যদি কাউকে উপদেষ্টা কিংবা কোনো পদে রাখেন, তার একটা সম্মতিপত্রের দরকার হয়। সেখানে ড. কামাল হোসেন তাদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করেছেন– এই মর্মে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি। তারা নিজেরাই পদে রাখছেন, আবার নিজেরাই অব্যাহতি দিচ্ছেন। এটা তো তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

প্রশ্ন: কিন্তু ওনারা তো বলছেন, দলে অধিকসংখ্যক নেতা-কর্মী ওনাদের সঙ্গেই আছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: ড. কামাল হোসেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এখন সারা বাংলাদেশের সব নেতা-কর্মী তার সঙ্গেই আছেন। ওনারা বাইরে থেকে কে কী বললেন, সেটা তো আমাদের বিষয় না। কারণ গণফোরাম মানেই ড. কামাল হোসেন এটা আমরা মনে করি।

প্রশ্ন: তাহলে দলের কত শতাংশ নেতা-কর্মী আপনাদের সঙ্গে রয়েছেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আমাদের সঙ্গে যারা গণফোরাম করেন, তারা সবাই আছেন। আমরা গণফোরামে বিভক্তি দেখি না। গণফোরাম যারা করতেন, তারা অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে চলে গেছেন। অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। এখন গণফোরাম থেকে বেরিয়ে যদি কেউ কোনো দল করে, সেটা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার ব্যাপার। গণফোরাম থেকে কত শতাংশ লোক চলে গেছে, এটা আমাদের কাছে দেখার বিষয় না। আমরা মনে করি, গণফোরাম বলতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর যদি এখান থেকে গিয়ে কেউ রাজনৈতিক দল করে, সেটার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

প্রশ্ন: দলে বিভক্তির জন্য মন্টুপন্থিরা আপনাদের দায়ী করেন। আর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও তো তাদের দখলে। তাহলে প্রকৃত গণফোরাম মানুষ কোন অংশকে বলবে?

ডা. মিজানুর রহমান: কোন দলীয় অফিস কার দখলে আছে, সেটা বিবেচ্য বিষয় না। আগে আমাদের অফিস ছিল কাকরাইলে, এরপর আরামবাগে। কোনো অফিস আমাদের নিজস্ব নয়, ভাড়ায় নেওয়া হয়। এটা পরিবর্তনশীল। তাই একটা ভাড়ার অফিস অর্থাৎ অস্থায়ী কার্যালয়ের সঙ্গে গণফোরামের বিভক্তি বোঝা যায় না।

আর নির্বাচন কমিশন তো ড. কামাল হোসেনের যে কমিটি এবং সম্পৃক্ততা সেটাকেই গণফোরাম হিসেবে চিহ্নিত করে। এর বাইরে আপনি যাদের কথা বলছেন, তারা কমিটি করে দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। কাজেই অন্য কেউ গণফোরাম নাম দাবি করাটাও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: মন্টুপন্থিরা বলছেন, দলের নিষ্ক্রিয়রা আপনাদের বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা ওনাদের নিজস্ব অভিব্যক্তি। কারণ গণফোরামে কে নিষ্ক্রিয় আর কে সক্রিয়, তা গণফোরামের নেতা-কর্মীরা ঠিক করবেন। মোস্তফা মহসিন মন্টুর তো এটা বলার সুযোগ নেই। উনি তো নিজেও একসময় বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন।

প্রশ্ন: গণফোরামের নতুন কমিটি করা হলো গত ১৭ সেপ্টেম্বর। যার নেতৃত্বে আপনি আছেন, নতুন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য কী হবে?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের যে আদর্শ ও লক্ষ্য আছে, এ অনুসারে আমাদের দল পরিচালিত হবে। এটার কর্মসূচি আছে, আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আছে, এটা চলমান। আমরা যারা আছি, প্রত্যেকে গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আছি। আমরা প্রত্যেকেই গণফোরামের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছি। গণফোরামে কেউ নবাগত নই।

প্রশ্ন: কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে তো আপনাদের কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না।

ডা. মিজানুর রহমান: আমরা সব সময় কাজের মধ্যেই আছি। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য জেলা কমিটিগুলো সক্রিয় করা। তারপর নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে শক্তি সঞ্চয় করছি। এর পাশাপাশি যেসব কর্মসূচি আছে, সেখানে আমরা জেলায় জেলায় অ্যাক্টিভিটিস বাড়াচ্ছি। আমরা জনগণের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে মূলত রাজপথে থাকব। আমরা সব জায়গায় সক্রিয়ভাবে কাজ করব।

প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের চাওয়াটা কী? আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে জোট করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: বিএনপির সঙ্গে জোট করার এই মূহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। রাজনৈতিকভাবে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চাহিদা এবং জনগণের চাহিদা ও সংকট আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। নির্বাচন যখন আসছে, গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠেও আছি এবং অবস্থা অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সাক্ষাৎকার নেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক আল হেলাল শুভ। ছবি: নিউজবাংলা

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে আপনার দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেই নির্বাচন করেছে। এবার দেখা গেল এখন পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে বিএনপি সংলাপ করলেও আপনার সঙ্গে করেনি। কারণ কী বলে মনে করেন?

ডা. মিজানুর রহমান: গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কারণে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আর ছিল না। এখন নতুন করে তো আর কোনো মেরুকরণ আমাদের দল থেকে হয়নি। আর বিএনপি আমাদের ডাকল কি, ডাকল না সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি নির্ভর করে না।

আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে আমরা, দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যে আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী করব?

প্রশ্ন: গত নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া নিয়ে দলে মতপার্থক্য হয়েছে। তাহলে ড. কামাল হোসেন কেন ওই নির্বাচনে গিয়েছিলেন?

ডা. মিজানুর রহমান: তখনকার প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্ট করা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ছিল একটা সময়ের দাবি। সেটা তো একটি নির্বাচনি জোট হয়েছিল। স্থায়ী কোনো জোট ছিল না। নির্বাচনের পর সেই জোটের অবস্থানটাও শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের অধীনে আপনার দল নির্বাচনে যাবে কি?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা আসলে সরকারের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কতটুকু অবস্থান নেবে এবং নির্বাচনে পরিবেশ কতটুকু করবে– তার ওপর নির্ভর করে। এখনই সেটা বলার মতো সময় আসেনি।

প্রশ্ন: পরিবেশ তৈরি করতে পারলে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তো একটা পরিবেশ লাগবে। তার পরও নির্বাচন কমিশনের যে সকল কথাবার্তা আমরা দেখছি, এটাকে আমরা খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি না। যেমন ইভিএম নিয়ে তাদের বক্তব্য দেশের মানুষ কিন্তু ভালোভাবে নিচ্ছে না। তার পরও গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের আগে সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রশ্ন: ড. কামাল হোসেন দলের বিভক্তি ঠেকাতে পারেননি। এবার ওনার নেতৃত্বে নির্বাচনে গেলে দলের খণ্ডিত একটি অংশ নিয়ে কতটি আসনে প্রার্থী দিতে পারবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আমরা কিন্তু দলের খণ্ডিত অংশ মনে করি না। কারণ গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। আমরা ২৯ বছর ধরেই তার রাজনীতি করে আসছি। নানা কারণেই অনেকে দল থেকে চলে গেছেন। কিন্তু মূল দলের নেতা তো ড. কামাল হোসেন। এখানে খণ্ডিত অংশ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে গণফোরাম জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হতে পারেনি। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিটা হয়ে গেছে কালো টাকা ও পেশিশক্তি-নির্ভর। নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি তো এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আমরা শুরু থেকে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে গণফোরাম কখনও বিচ্যুত হয়নি। আমরা একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা দলের শুরু থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আছি।

আরও পড়ুন:
এবার গণফোরামে মন্টুপন্থিরা বহিষ্কার করলেন ড. কামালকে
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে বাধা সমীচীন নয়: তথ্যমন্ত্রী
বিরোধী দল যেন ঘরের বউ, যখন খুশি পেটাও: দুদু
অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলেই হয়: বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল, সম্পাদক মিজান

মন্তব্য

p
উপরে