× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Head teacher in jail in molestation case
hear-news
player
google_news print-icon

শ্লীলতাহানির মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে

শ্লীলতাহানির-মামলায়-প্রধান-শিক্ষক-কারাগারে
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেট পড়ানোর সময় দীপ্তিস্বর ছাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করতেন। সবশেষ তিনি এক ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন।

খুলনার রূপসায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ডোবা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তিস্বর বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এসব নিশ্চিত করেছেন রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন।

প্রধান শিক্ষক দীপ্তিস্বরকে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেট পড়ানোর সময় দীপ্তিস্বর ছাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করতেন। সবশেষ তিনি এক ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সবাই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অফিসকক্ষে ঢুকে বিদ্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, ব্যাবহারিক জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তারা প্রধান শিক্ষককে মারধরেরও চেষ্টা করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

ওসি মোশাররফ বলেন, ‘ওই শিক্ষককে থানায় আনার পর তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর বাবা বুধবার রাতেই মামলা করেন। তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।’

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৯ আগস্ট স্কুল শেষে প্রাইভেট পড়ানোর সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌনতার প্রস্তাব দেন দীপ্তিস্বর। তাতে রাজি না হওয়ায় ছুটির পর মেয়েটিকে তিনি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ওই ছাত্রীর চিৎকারে অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে শিক্ষক সেখান থেকে চলে যান।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কামাল উদ্দীন বাদশা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া তাছনিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছিল। আমি সেটা থানায় ফরওয়ার্ড করেছি। ওই প্রধান শিক্ষকের কার্যকলাপ তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ফুলের মালা পরিয়ে কলেজে ফেরানো হলো অধ্যক্ষ স্বপনকে
অধ্যক্ষ স্বপন কলেজে যাচ্ছেন বুধবার
ক্লাসরুমে বাঁশে বাঁধা ফ্যান ছিঁড়ে চোখ গেল শিক্ষকের
আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অপমানের অভিযোগ
বগুড়ায় অধ্যক্ষকে মারধরের নেপথ্যে কী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Initially online transfer application time increased

প্রাথমিকে অনলাইনে বদলির আবেদনের সময় বাড়ল

প্রাথমিকে অনলাইনে বদলির আবেদনের সময় বাড়ল প্রতীকী ছবি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই উপজেলার মধ্যে অনলাইনে বদলি কার্যক্রম চালু হয়। ওই পরিপত্র অনুযায়ী আবেদনের শেষ সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আবেদনের সময় ৬ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই উপজেলার মধ্যে বদলিতে অনলাইনে আবেদনের সময় বাড়িয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি এবং অপারেশন) মনীষ চাকমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বদলির আবেদনের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই উপজেলার মধ্যে অনলাইনে বদলি কার্যক্রম চালু হয়। ওই পরিপত্র অনুযায়ী আবেদনের শেষ সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আবেদনের সময় ৬ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়।

গত ৩০ জুন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অনলাইনে বদলি কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন প্রায় পৌনে চার লাখ। নতুন করে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন:
মধ্য সেপ্টেম্বরে শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের অনলাইন বদলি
একযোগে ১৬ কর্মকর্তা বদলি, বন্দরে চাঞ্চল্য
পুলিশের ১১২ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন
এক আদেশে ৪০ জেলায় নতুন এসপি
আখাউড়ার ইউএনও-এসিল্যান্ডকে রাঙ্গামাটি-বান্দরবানে বদলি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The new vice chancellor of Jahangirnagar is Professor Nurul Alam

জাহাঙ্গীরনগরের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম

জাহাঙ্গীরনগরের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম অধ্যাপক নূরুল আলমকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন তাহলে এ যাত্রা আমার জন্য সহজ হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম। দুই মেয়াদ শেষ হলে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের স্থলে গত ১ মার্চ থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুরোধক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত উপার্চায পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ১৯৭৩ এর ১১ (১) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে শর্তানুযায়ী নিয়োগ দেয়া হলো।’

উপাচার্য হিসেবে তার মেয়াদ হবে চার বছর। এই পদে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলে নিয়োগের শর্ত দেয়া হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধ্যাপক নূরুল আলম দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ ভোট পান। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিনজনের প্যানেল মনোনয়ন শেষে তা রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানো হয়। পরে তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাবলে নূরুল আলমকে নিয়োগ দেন।

ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন তাহলে এ যাত্রা আমার জন্য সহজ হবে।’

আরও পড়ুন:
উন্নয়ন পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি
জাবিতে প্রথম নারী উপাচার্যের ৮ বছর
খাবারের দাম নিয়ে ভোগান্তিতে জাবি শিক্ষার্থীরা
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জাবিতে সশরীরে ব্যাবহারিক ক্লাস-পরীক্ষা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Employees council wants new pay scale not even 10 days in salary

বেতনে ‘১০ দিনও চলে না’, নতুন পে-স্কেল চান সরকারি কর্মচারীরা

বেতনে ‘১০ দিনও চলে না’, নতুন পে-স্কেল চান সরকারি কর্মচারীরা 
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেচ আলী বলেন, ২০১৫ সালে দেয়া অষ্টম পে-স্কেলের ৭ বছর পূর্ণ করেছে। সব সময়ই পে-স্কেল ৪ বছর পূর্ণ হলেই মহার্ঘ্য ভাতা দিয়ে থাকে সরকার। কিন্তু এখন তা দেয়া হচ্ছে না। তার দাবি, তারা যে বেতন পান, তা দিয়ে মাসের ১০ দিনও চলা যায় না।

এক মাসের বেতন দিয়ে ১০ দিনও চলা যায় না- দাবি করে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। আগামী এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন নেতারা।

তারা বলছেন, প্রজাতন্ত্রের সব স্তরের কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের মনের ‘পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও ক্ষোভ’ নিরসনে দাবি পূরণ জরুরি।

আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেচ আলী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আরেক সমন্বয়ক লুৎফর রহমান, সভাপতিত্ব করেন ইব্রাহিম খলিল।

সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেচ আলী বলেন, ২০১৫ সালে দেয়া অষ্টম পে-স্কেলের ৭ বছর পূর্ণ করেছে। সব সময়ই পে-স্কেল ৪ বছর পূর্ণ হলেই মহার্ঘ্য ভাতা দিয়ে থাকে সরকার। কিন্তু এখন তা দেয়া হচ্ছে না। তার দাবি, তারা যে বেতন পান, তা দিয়ে মাসের ১০ দিনও চলা যায় না।

এ সময় কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো

* ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণ ও পে-কমিশনে কর্মচারী প্রতিনিধি রাখা।

* সচিবালয়ের মতো সব দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পদনাম পরিবর্তনসহ দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন।

* টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল। বিদ্যমান গ্রাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি এক টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ।

* সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ।

* আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে এই পদ্ধতিতে ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা। ব্লক পোরে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান।

* বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে সব ভাতা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে ও অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

সংগঠনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘১১ থেকে ২০ গ্রেডের বঞ্চিত লাখ লাখ কর্মচারীর দাবির বিষয় বিবেচনা না করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে পদবি নিয়েও বৈষ্যম্যের অভিযোগ করা হয়। এসব ‘বৈষম্য’ দূর করে আগের মতো টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের দাবিও তোলা হয় এ সময়।

শেষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়।

কর্মসূচি

১. আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব কর্মচারীর কালো ব্যাচ ধারণ।

২. ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সব অফিসে ৭ দফা দাবির পক্ষে প্রচার-প্রচারণা।

৩. আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টায় দেশের সব জেলায় প্রেস ক্লাবের সামনে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন। একই সঙ্গে সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।

৪. তার পরও দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন অভিমুখে পদযাত্রা ও ৭ দফা দাবির পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান।

৫. তারপরও দাবি পূরণ না হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা।

আরও পড়ুন:
জামিন পেলেন শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Councilor wife teacher not coming to school threatened to kill

স্কুলে আসেন না কাউন্সিলর-পত্নী শিক্ষক, ধরায় হত্যার হুমকি

স্কুলে আসেন না কাউন্সিলর-পত্নী শিক্ষক, ধরায় হত্যার হুমকি
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ করে দিতে বলেন সালমা আক্তারের স্বামী নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার। অন্যথায় পরিবারসহ ওই কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ওঠে এনামুল হকের বিরুদ্ধে।

বরিশাল নগরীর ৯৪ নম্বর দক্ষিণ সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার। স্কুলটিতে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে তার পর থেকেই স্কুলে অনুপস্থিত থেকেছেন এই শিক্ষক।

স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এর প্রমাণও পেয়েছেন সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনা আক্তার। দেখতে পান সালমা আক্তারের বদলে ক্লাস নিচ্ছেন এক যুবক। এরপর স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ইমরানা জাহান ও সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন তিনি।

এরপরই উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ করে দিতে বলেন সালমা আক্তারের স্বামী নগরীরে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার। অন্যথায় পরিবারসহ ওই কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ওঠে এনামুল হকের বিরুদ্ধে।

অবশ্য প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এনামুল হক। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক সালমা বলছেন, শিক্ষা কর্মকর্তা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তাকে ভোগান্তিতে ফেলছেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনা আক্তার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট দক্ষিণ সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের দিকে পরিদর্শনে যান সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনা আক্তার। সে সময় দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষে শিক্ষার্থীদের হই-হুল্লোড়ের শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখেন এক যুবক ক্লাস নিচ্ছেন। সে সময় ওই যুবক আবুল হোসেন জানান, তিনি সে স্কুলের শিক্ষক নন, তবে সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তারের পরিবর্তে ক্লাস নিচ্ছেন। পরে অফিসে গিয়ে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সালমা আক্তারের ওই স্কুলে যোগ দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, ১০ এপ্রিল, ২৪ জুলাই ও ৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে সালমা আক্তারকে পাননি। পরে হাজিরা খাতায় সে দিনগুলোতে নৈমিত্তিক ছুটিতে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সালমা।

বলা হয়, যেদিন যেদিন শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শনে গেছেন, সেসব দিনে তিনি শুধু ছুটিতে থেকেছেন বলে দেখিয়েছেন। বিষয়টি তার পরিবর্তে ক্লাস নেয়া যুবক আবুল হোসেন মৌখিকভাবে স্বীকার করলেও লিখিত দেয়ার কথা বলে স্কুল থেকে পালিয়ে যান।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কয়েক বছর থেকে স্কুলে থাকলেও সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তারকে স্কুলের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চেনেনই না বলে জানান।

বিষয়টি দুই শ্রেণির ৩৩ শিক্ষার্থী লিখিতভাবে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও করেছেন।

ইউএনওর কাছে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরানা জাহান, সহকারী শিক্ষক আবুয়াল হোসেন, রেহানা আক্তার, গোলাম মোস্তফা, পারভীন আক্তার মনি ও তাসরিন জাহান ২ আগস্টই সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনা আক্তারের কাছে প্রত্যয়নপত্র দেন। সেখানে সালমা আক্তারের পরিবর্তে জনৈক এক ব্যক্তি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে বলা হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিপিইএড প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া শেষে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও করেননি। এখনও ওই ব্যক্তি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিজে গিয়ে দেখেছেন।

সালমা আক্তারের বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণের পর স্কুলে যান তার স্বামী কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার। সেখানেই তিনি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাবিনা আক্তারকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।

বরিশাল সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেয়া চিঠিতে সাবিনা আক্তার অভিযোগ করেছেন, ২৯ আগস্ট দক্ষিণ সাগরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করোনার টিকা কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে তার সঙ্গে স্কুলের সভাপতি ও সালমা আক্তারের স্বামী অশালীন আচরণ করেন, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।

সাবিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনিয়ম ধরে ব্যবস্থা নিতে বলায় আমাকে ও আমার পরিবারকে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন এনামুল হক বাহার। আমি এখন পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছি।’

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, তাকে কেউ সালমা নামে চেনেন না, সবাই চেনে সাথী নামে। তাই হয়তো শিক্ষার্থীরা তাকে চিনতে পারেনি।

তিনি বলেন, আমি তিন মাসের ছুটিতে ছিলাম। চলতি বছর মার্চে যোগ দিয়েছি। তারপর প্রতিদিনই ক্লাস নেই। তবে ২ আগস্ট আমার মেয়ে অসুস্থ থাকায় আমি আসতে পারিনি। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি।’

তবে তার অবর্তমানে কেউ তার হয়ে পাঠদান করান না বলেও দাবি করেন তিনি।

আবুল হোসেন ম্যানেজিং কমিটির মৌখিক অনুমতি নিয়ে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করতে ক্লাস নেন বলে দাবি করেন সালমা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ, সবই রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে। আর আমাকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল, তার জবাব দিয়েছি।’

কারণ দর্শানোর নোটিশে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমরানা জাহান উল্লেখ করেন, ‘সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার ২০১৮ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’

বিষয়টি জানতে প্রধান শিক্ষককে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তারের স্বামী এনামুল হক বাহার বলেন, ‘উনি (শিক্ষা কর্তকর্তা) এসব ফাও কথা বলতেছেন। ওনার হয়তো কোনো আত্মীয়-স্বজনের লগে আমার ঝামেলা আছে, সেইটার ফায়দা লোটা অথবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হইতেছে আমার বিরুদ্ধে।

‘ওনার সাথে আমার কোনো কথা-কাটাকাটিই হয় নাই। আমি ওনাকে বলছিলাম, আমার ওয়াইফ অসুস্থ থাকায় আসতে পারে নাই। তখন উনি আমারে বলেন, আল্লাহর কাছে বলেন এসব। তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি। আর হুমকির তো প্রশ্নই আসে না।’

সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর জাহিদুল কবির তুহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসব এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নেব।’

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) সোহেল মারুফ বলেন, ‘আমার নলেজে বিষয়টি এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মুন্সীগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি
আইসিটি শিক্ষকদের গণবিজ্ঞপিতে আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ
জামিন পেলেন শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন
শিক্ষকের ‘ধর্ম অবমাননা’ তদন্ত করবে স্কুল
শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Blasphemy for not saluting Allegation against school teacher is false

সালাম না নেয়ায় ‘ধর্ম অবমাননা’: স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’

সালাম না নেয়ায় ‘ধর্ম অবমাননা’: স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করা বহিরাগতদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া
শিক্ষার্থীদের সালাম গ্রহণ না করে উল্টো কটূক্তি করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে গত ২৪ আগস্ট কুষ্টিয়ার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। তবে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দামুকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী এক নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগের প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। কমিটির সদস্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেছেন, অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

শিক্ষার্থীদের দেয়া সালাম গ্রহণ না করে উল্টো কটূক্তি করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে গত ২৪ আগস্ট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়টিতে বিক্ষোভ হয়। কয়েক ঘণ্টা চলা বিক্ষোভে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা অংশ নেন। পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ওই শিক্ষককে।

‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ ওঠার পর থেকে আতঙ্কে গৃহবন্দি দিন কাটছে ওই শিক্ষকের। শুরু থেকেই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনও বলছে, কোনো গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে অস্থিরতা তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: সালাম না নেয়ায় ‘ধর্ম অবমাননা’, আতঙ্কে স্কুলশিক্ষক

ঘটনার তিন দিন পর অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরীফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওহিদুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও শিক্ষক প্রতিনিধি মো. বশিরুল ইসলাম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩১ আগস্ট থেকে কাজ করছে তদন্ত কমিটি। ৭/৮ সেপ্টেম্বরের দিকে তারা প্রতিবেদন জমা দেবে, সেটি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্তের অগ্রগতি জানতে রোববার নিউজবাংলা কথা বলেছে কমিটির সদস্য ওহিদুল ইসলামের সঙ্গে। স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

সালাম না নেয়ায় ‘ধর্ম অবমাননা’: স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’

তাহলে এত বড় ঘটনার কীভাবে ঘটল জানতে চাইলে ওহিদুল বলেন, ‘ছেলেরা বলল যে, পাঁচ-ছয় মাস আগে একদিন ম্যাডাম ক্লাসের মধ্যে বইলছিল। আমরা বললাম, ছয় মাস আগের কাহিনি এখন আনলে কেন? ওই ঘটনার আগের দিন এক ছাত্রকে ওই ম্যাডাম মারিছিল বেয়াদবি কইরছিল বলে। মারার কারণে রাগের চাপে ওরা ওইগুলা বলছে। বাইরের মানুষ মনে করছে আজকেই বোধয় বলছে। কিন্তু কেউ শুনল না, ঘটনা আদৌ সত্য কি না। এইটা হইল কাহিনি।’

স্কুলের পরিবেশও শান্ত হয়ে এসেছে জানিয়ে ওহিদুল আরও বলেন, ‘আর কোনো সমস্যা নেই। আমরা একটা রিপোর্ট দিয়ে দিবনি, দু-চার দিনের মইধ্যে দিয়ে দিবনি।’

তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন কমিটির সদস্যরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ ও ঘটনা অনুসন্ধান করে ওহিদুল নিশ্চিত হয়েছেন ‘মিথ্যার ওপর’ দাঁড়িয়ে আছে পুরো ঘটনাটি।

ওহিদুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেদিন যে ঘটনা ঘটে, সেই ঘটনা একটা মিথ্যার ওপর এই ঘটনা ঘটে গেছে।’

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কারণ জানতে চাইলে ওহিদুল জানান, ওই নারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শাসন করেন।

তিনি বলেন, ‘ছেলেপেলের ম্যাডামের প্রতি অনাস্থার কারণ স্কুলে শাসনমূলক কাজটাজ করে। এখন ওইখানে ছেলেদের তো শাসন করা চলে না। এই কারণে ছেলেপেলেদের দেখলাম ম্যাডামের ওপর অনাস্থা। ছাত্রদের আমরা বুঝিয়েছি, তিনি তো শিক্ষক। ছাত্রদের নিয়ে আমরা বসছিলাম। ওরাও ক্ষোভের কথা বলল। একপর্যায়ে সবাই ভালো থাক- এই মর্মে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আর কোনো ঝামেলা নেই। ছাত্রদের কোনো অভিযোগ নেই।’

বিদ্যালয় চালু হলেও নতুন করে যাতে কোনো উত্তেজনা দেখা না দেয়, তাই ওই নারী শিক্ষককে কয়েক দিন ক্লাসে না আসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ওহিদুল বলেন, ‘১০-২০ দিন থাক। তারপর সভাপতি সাহেব এসে স্কুলের ক্লাসে ক্লাসে নিয়ে গিয়ে সব ঠিকঠাক করে দেবেন।’

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে এবার উত্তপ্ত শ্রীমঙ্গল
আইসিটি শিক্ষকদের গণবিজ্ঞপিতে আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ
জামিন পেলেন শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন
শিক্ষকের ‘ধর্ম অবমাননা’ তদন্ত করবে স্কুল
শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Committee to investigate maternity leave by showing neighbors child

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি তদন্তে কমিটি

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি তদন্তে কমিটি মনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলেয়া সালমা কোলের শিশুটিকে নিজের দাবি করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবেশীর শিশুকে নিজের নবজাতক সন্তান দাবি করে চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন তিনি। থাকছেন স্বামীর সঙ্গে বগুড়ার গাবতলী কাগইল ইউনিয়নের বাড়িতে। ওই শিশুটি তাদের প্রতিবেশী আনিছুর রহমান পাশা ও শারমীন দম্পতির।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অন্যের সন্তানকে নিজের দাবি করে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটানো স্কুলশিক্ষকের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম তৌফিকুর রহমানকে দেয়া হয়েছে তদন্তের দায়িত্ব।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে আলেয়া সালমা নামে ওই শিক্ষকের ছুটি নিয়ে প্রতারণার বিষয়টি সামনে এলে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। তিনিই রোববার নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলেয়া সালমা কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার স্বামী শফি আহমেদ স্বপন বগুড়ার গাবতলী উপজেলা কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়কও।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবেশীর শিশুকে নিজের নবজাতক সন্তান দাবি করে চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন তিনি। থাকছেন স্বামীর সঙ্গে বগুড়ার গাবতলী কাগইল ইউনিয়নের বাড়িতে। ওই শিশুটি তাদের প্রতিবেশী আনিছুর রহমান পাশা ও শারমীন দম্পতির।

অনুসন্ধানের বিষয়টি জানার পর নিউজবাংলার প্রতিবেদকের সহকর্মীকে কল করে সংবাদ প্রকাশ না করতে বলেন সালমা।


তিনি বলেন, ‘ওখানে আমি ডিপিও, এটিও সবার সঙ্গে কথা বলে কাগজপত্র দিয়ে ছুটি নিয়ে এসেছি। এসব নিয়ে নিউজ করবেন না। নিউজ করে কিছু হবে না।’

ফোনে সালমা আরও বলেন, ‘আমার এখান থেকে কুড়িগ্রামে গিয়ে চাকরি করা সম্ভব? সম্ভব না। আমি রোববার জয়েন করে এসেছি। আমি আবার ছুটির আবেদন করেছি। ১৪ দিনের ছুটি নেব। এ ছুটি শেষ হলে আবার ১৪ দিনের ছুটির আবেদন করব।’

আলেয়া সালমা আরও বলেন, ‘যতদিন ট্রান্সফার না হবে, আমি ছুটি নিয়েই চলব। আমি একটা সরকারি চাকরি করি। আমাদের সিস্টেম আছে। চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা সরকারেরও নেই। এর জন্য ডাক্তার, হাসপাতালসহ যে যে কাগজ লাগবে, সব দেয়া হবে। আপনি এগুলা নিউজ-টিউজ এখন আর করেন না।’

তার স্বামী শফি আহমেদ ফোনে বলেন, ‘আমি সালমাকে কুড়িগ্রামে চাকরি করতে দেব না। ওকে এখানে নিয়ে আসব। ট্রান্সফারের সব কাজ রেডি। এখন ট্রান্সফার বন্ধ আছে। চালু হলেই নিয়ে আসব। এগুলো নিয়ে নিউজ করে কিছুই হবে না। শুধু হয়রানি। আমরা সবাইকে ম্যানেজ করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
‘অশালীন আচরণ করায়’ শিক্ষককে ক্লাসে যেতে মানা
আইসিটি শিক্ষকদের গণবিজ্ঞপিতে আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ
জামিন পেলেন শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন
শিক্ষকের ‘ধর্ম অবমাননা’ তদন্ত করবে স্কুল
শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Showing the neighbors child maternity leave

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি!

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি! মনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলেয়া সালমা কোলের শিশুটিকে নিজের দাবি করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা
সালমা বলেন, ‘আপনারা কেন এসেছেন আমি জানি। কুড়িগ্রামে আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এটিও, টিও সবাইকে ম্যানেজ করে আমি ছুটিতে আছি। শিক্ষা অফিসের বড়বাবু এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

বেলা ১১টায় শফি আহমেদ স্বপনের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তিনি বাড়িতে নেই। স্ত্রী আলেয়া সালমাকে বলা হলে তিনি ফোনে স্বামীকে ডেকে আনেন।

প্রায় ২০ মিনিট পর শফি আহমেদ এলেন ছয় মাসের এক মেয়েশিশু কোলে নিয়ে। সঙ্গে আট বছরের আরেকটি শিশু। কোলের শিশুটিকে দেখিয়ে স্বপন দাবি করেন, এটি তাদের মেয়ে। এই মেয়েশিশুর জন্মের সময় শফি আহমেদ স্বপনের স্ত্রী সালমা ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।

নিউজবাংলার অনুসন্ধান বলছে, যে সন্তানকে দেখিয়ে আলেয়া সালমা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন, সেটি তাদের নয়। এটি তাদের এক প্রতিবেশীর সন্তান। এই নাটকের সঙ্গে জড়িত স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) ও হিসাবরক্ষক।

সালমার স্বামী শফি আহমেদ স্বপন বগুড়ার গাবতলী উপজেলা কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়কও। একাধিক মামলা রয়েছে তার নামে। এই কারণে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

সালমা এখন স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

নিউজবাংলার কুড়িগ্রাম ও বগুড়া প্রতিনিধি গত ৪ আগস্ট থেকে এই অনিয়মের অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধান চলাকালে প্রত্যেকের বক্তব্য প্রকাশ্য ও গোপনে রেকর্ড করা হয়।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানাসহ শিক্ষকের সংখ্যা ছয়। তাদেরই একজন আলেয়া সালমা শাপলা। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এই বিদ্যালয়ে তার যোগদান।

২০১৯ সালে স্বপনকে বিয়ে করার পর বগুড়ায় চলে আসেন আলেয়া সালমা। এরপর করোনার প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল স্কুল। খোলার পরও চিকিৎসাসহ নানা অজুহাতে আলেয়া সালমা প্রায়ই ছুটি নিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন।

চলতি বছরের ১৪ মার্চ সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দেখিয়ে ১৩ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন আলেয়া সালমা। গর্ভকালীন সালমার শারীরিক কোনো পরিবর্তন বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের কারও নজরে পড়েনি। তিনি ১৩ মার্চ কোলে সদ্যপ্রসূত শিশুসন্তান নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে হাজির হন। জমা দেন ছুটির আবেদন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শারমীন নামে এক নারী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলেয়ার কোলের শিশুটি তার নয়, শারমীনের সন্তান।

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি!
মনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা


১৩ মার্চ স্কুলে এলেও হাজিরা খাতায় সালমার উপস্থিতি ছিল না। নথিপত্রে দেখা গেছে, তিনি ১৩ মার্চ পর্যন্ত ভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছুটিতে ছিলেন।

বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানান, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে থাকার সময় তিনি স্কুলে আসতেন। তবে বগুড়ায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যাওয়ার পর থেকে তাকে আর স্কুলে আসতে দেখা যায়নি। সন্তান হওয়ার বিষয়ও তারা শুধু শুনেছেন, দেখেননি।

শফি আহমেদ স্বপন সালমার বর্তমান স্বামী। তার প্রথম স্বামী মাজেদুর রহমান মারা যান ২০০৬ সালে। প্রথম স্বামীর ঘরে আলেয়ার গর্ভে দুই সন্তান হয়। ছেলে মো. আশির হামিমের বয়স প্রায় ২৩। মেয়ে মুশরাত জাহানের বয়স ১৮।

পরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভা এলাকার শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলেয়া সালমার বিয়ে হয়। দ্বিতীয় স্বামী শহীদুলের সঙ্গে দাম্পত্যকালে আরও এক সন্তানের জন্ম দেন আলেয়া। এই সন্তানের নাম সাদিকুর রহমান। বয়স প্রায় আট বছর। সাদিকুর থাকে মা আলেয়া সালমার সঙ্গে বগুড়ায়।

এসব বিষয় জানিয়েছেন সালমার দ্বিতীয় স্বামী শহীদুল ইসলাম। তার সঙ্গে সালমার বিয়ে বিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালে। পরে ২০১৯ সালে শফি আহমেদ স্বপনকে বিয়ে করেন সালমা।

শিক্ষক অনলাইন ডেটাবেজ যাচাই করে দেখা যায়, আলেয়া সালমা সেখানে শুধু প্রথম দুটি সন্তানের তথ্য দিয়েছেন। ছোট ছেলে সাদিকুরের নামে কোনো তথ্য দেয়া নেই।

কুড়িগ্রামের এসব তথ্যের ভিত্তিতে ১২ আগস্ট সকালে বগুড়ার গাবতলীর কাগইল ইউনিয়নে আলেয়া সালমার স্বামীর বাড়িতে যান প্রতিবেদক। বাড়ির মূল দরজা খোলা ছিল। প্রবেশ করে ডাক দিতেই আলেয়া সালমা এগিয়ে আসেন। স্বামীর নাম উল্লেখ করতেই জানান তিনি ছেলেকে নিয়ে বাইরে গেছেন। বসতে বলেন আলেয়া।

পরিচয় দিয়ে আসার কারণ জানাতেই সালমা অস্থির হয়ে ওঠেন। তৎক্ষণাৎ তিনি ঘরের ভেতরে ছুটে যান, নিয়ে আসেন ফোন।

সালমা বলতে থাকেন, ‘আপনারা কেন এসেছেন আমি জানি। ভাই ওখানে (কুড়িগ্রামে) কী হয়েছে আপনিও জানেন, আমিও জানি। কুড়িগ্রামে আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এটিও, টিও সবাইকে ম্যানেজ করে আমি ছুটিতে আছি। শিক্ষা অফিসের বড়বাবু এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

সালমা দাবি করেন, তার চার সন্তান। এ বছরের ১ মার্চ তার মেয়ে সন্তান জন্মলাভ করে। অথচ তার ছুটির আবেদনে বলা হয় সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ১৪ মার্চ। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে সালমা জানান, সন্তানের জন্ম আগে হলেও তিনি পরে ছুটি নিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে পরামর্শ করেই ১৪ মার্চ থেকে ছুটির আবেদন করেন তিনি। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সদ্যপ্রসূত সন্তান দেখিয়েছেন আলেয়া সালমা।

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি!
শফি আহমেদ স্বপন ও আলেয়া সালমার বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা


কোথায় সন্তান জন্ম দিয়েছেন জানতে চাইলে সালমা বলেন, ‘বাসায় জন্ম হয়েছে। কোনো হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যাইনি। বাচ্চা হওয়ার পর জন্মের সার্টিফিকেট বা কোনো সনদও তুলিনি এখনও। তুলতে হবে। আমি এখনও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ছুটির মেয়াদ শেষ হবে।’

এ পর্যায়ে স্বামী শফি আহমেদ স্বপন কথা বলেন, ‘সালমা আগে কুড়িগ্রামে ভাইয়ের বাসায় থাকত। সেখানে থাকতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হয়। পরে কুড়িগ্রামেই বিয়ে হয়। সেই বিয়ে বিচ্ছেদ হলে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর আগে আমি বিয়ে করি সালমাকে। সে আমার কাজিন হয় সম্পর্কে।’

স্বপন আরও বলেন, ‘সালমাকে তো আমি কুড়িগ্রামে চাকরি করতে দেব না। ওকে এলাকার স্কুলে পার করে নিয়ে আসব। ট্রান্সফারের সব কাজ রেডি। এখন ট্রান্সফার বন্ধ আছে। চালু হলেই বদলি হবে।’

ওই সময় কোলে থাকা কন্যাশিশুটির একটি ছবি নেয়া হয়। আলেয়ার এলাকার মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি এ ছবিটি শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, শিশুটি পাশের দেওনাই গ্রামের আনিছুর রহমান পাশা ও শারমীন দম্পত্তির।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বপনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে তার স্ত্রীর চাকরির জন্য টাকা দিয়েছিলেন আনিছুর রহমান পাশা। তবে চাকরির জন্য স্বপন তাকে শর্ত দেন, কুড়িগ্রামের স্কুলে গিয়ে ওই কন্যাশিশুকে সালমার শিশু হিসেবে দেখিয়ে আনতে হবে।

শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত ২৯ আগস্ট আবার কাগইলের দেওনাই গ্রামে আনিছুর রহমান পাশার বাড়িতে যান নিউজবাংলার প্রতিবেদক।

সেখানে পাশার স্ত্রী শারমীনকে শিশুটির ছবি দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে জানান, তার একটি চাকরির কথা হচ্ছে। এসব বিষয় জানাজানি হলে চাকরি নিয়ে সমস্যা হবে। এ সময় তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে শারমীন বলেন, ‘শাপলা আমার আত্মীয়ের মতো। আমি ওখানে (কুড়িগ্রামে) বেড়াতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কার মনে কী কুমতলব আছে তা তো জানি না। আমার পরিচিতরা বাচ্চাকে দেখে কাছে নিতে চায়। বলে আপা দেন বেড়ায়ে নিয়ে আসি। আমি কি না করতে পারি?’

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি!
আনিছুর রহমান পাশা ও শারমীন। ছবি: নিউজবাংলা


পাশার স্ত্রী জানান, ছবিতে সালমার কোলে থাকা শিশুটি তার ছোট মেয়ে, নাম আশফিয়া। শিশুটিকে দেখতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সামনে আনতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কোনো আলাপও আর বাড়াতে চাননি।

এসব কথা চলার সময় শারমীনের স্বামী আনিছুর রহমান পাশা বাড়িতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চা নিয়ে গিয়ে কেউ যদি নিজের বলে তার গুষ্টি কিলাই। আজ থেকে আমার বাচ্চার বাড়ি থেকে বের হওয়া শেষ। আপনাদেরও দেখাব না।’

পাশা আরও বলেন, ‘মনে পড়ছে, এর মধ্যে একদিন আমি পুকুরে নামছিলাম। চেয়ারম্যান (স্বপন) গাড়ি নিয়ে এসে বলে মেয়েকে দাও তো। আমি বাচ্চাকে দিলাম। সে নিয়ে চলে যায়।’

ওই গ্রামের কয়েকজন প্রতিবেশীকে শিশুটির ছবি দেখালে তারাও নিশ্চিত করেন, এটি পাশার ছোট মেয়ে।

এদিকে আনিছুর রহমান পাশার বাড়ি থেকে চলে আসার পর পরই আলেয়া সালমা প্রতিবেদকের এক সহকর্মীকে ফোন দেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘ওখানে আমি ডিপিও, এটিও সবার সঙ্গে কথা বলে কাগজপত্র দিয়ে ছুটি নিয়ে এসেছি। এসব নিয়ে নিউজ করবেন না। নিউজ করে কিছু হবে না।’

ফোনে সালমা আরও বলেন, ‘আমার এখান থেকে কুড়িগ্রামে গিয়ে চাকরি করা সম্ভব? সম্ভব না। আমি কাল (রোববার) জয়েন করে এসেছি। আমি আবার ছুটির আবেদন করেছি। ১৪ দিনের ছুটি নেব। এ ছুটি শেষ হলে আবার ১৪ দিনের ছুটির আবেদন করব।’

আলেয়া সালমা আরও বলেন, ‘যতদিন ট্রান্সফার না হবে, আমি ছুটি নিয়েই চলব। আমি একটা সরকারি চাকরি করি। আমাদের সিস্টেম আছে। চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা সরকারেরও নেই। এর জন্য ডাক্তার, হাসপাতালসহ যে যে কাগজ লাগবে, সব দেয়া হবে। আপনি এগুলা নিউজ-টিউজ এখন আর করেন না।’

স্কুলে জমা দেয়া সালমার মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা চিকিৎসকের সুপারিশপত্রটি ডা. সলিমুল্লাহ আকন্দের। তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি!
সালমার মাতৃত্বকালীন ছুটির সুপারিশ। ছবি: নিউজবাংলা

যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে ডা. সলিমুল্লাহ আকন্দ বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ থাকায় সুপারিশপত্র দিয়েছিলাম।’

প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক আলেয়া সালমা নিয়মমাফিক ছুটিতে আছেন।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক (বড়বাবু) আজিজার রহমান তার বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, ‘আলেয়া সালমা তার প্রতিবেশী বোন হন। এর বেশি কিছু নয়।’

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. নওশাদ আলী বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী শিক্ষকের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয়েছে। এখন কেউ যদি অন্যের শিশুকে নিজের বলে চালিয়ে দেয়, তাহলে কিছু করার নেই। কেননা আমরা তো আর ডিএনএ পরীক্ষা করি না, করার উপায়ও নেই।’

নাগেশ্বরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘যদি কেউ প্রতিবেশীর বাচ্চা নিয়ে এসে থাকে, আমি তো সেটি দেখতে পারব না। আমি বাচ্চাকে দেখেছি। প্রধান শিক্ষকের সুপারিশ ছিল। যদি এটি অসত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমি ডিপিও স্যারের কাছে জানাব। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধান শিক্ষক জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জামিন পেলেন শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন
শিক্ষকের ‘ধর্ম অবমাননা’ তদন্ত করবে স্কুল
শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছেই
সালাম না নেয়ায় ‘ধর্ম অবমাননা’, আতঙ্কে স্কুলশিক্ষক
বরাদ্দের ঘর দিতে ‘টাকা আদায়’, ভাইস চেয়ারম্যানের নামে মামলা

মন্তব্য

p
উপরে