× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The emperors bail hearing has been delayed again
hear-news
player
print-icon

ফের পেছাল সম্রাটের জামিন শুনানি

ফের-পেছাল-সম্রাটের-জামিন-শুনানি
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। সংগৃহীত ছবি
সম্রাটের জামিন শুনানি ও মামলার চার্জ গঠন শুনানির জন্য দিন ঠিক ছিল বৃহস্পতিবার। সম্রাট অসুস্থ থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে না পাঠিয়ে কাস্টডি ওয়ারেন্ট (হাজতি পরোয়ানা) পাঠানো হয়। এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তার জামিন শুনানি ও চার্জ গঠন শুনানির জন্য ২২ আগস্ট দিন ঠিক করেন।

জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট ফের জামিন শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

একই দিন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানিরও দিন ঠিক করেছেন বিচারক।

সম্রাটের জামিন শুনানি ও মামলার চার্জ গঠন শুনানির জন্য দিন ঠিক ছিল বৃহস্পতিবার। সম্রাট অসুস্থ থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে না পাঠিয়ে কাস্টডি ওয়ারেন্ট (হাজতি পরোয়ানা) পাঠানো হয়। এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তার জামিন শুনানি ও চার্জ গঠন শুনানির জন্য ২২ আগস্ট দিন ঠিক করেন।

মঙ্গলবার সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছিল আপিল বিভাগ। বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানসহ তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এ আদেশের ফলে তার জামিন বাতিল হয়েছিল।

এর আগে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় সম্রাটের জামিন বাতিল করে তাকে আত্মসমর্পণ করতে আদেশ দিয়েছিল আদালত। ২৪ মে সে আদেশেই আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি।

গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান। পরে বিচারিক আদালতের দেয়া জামিন বাতিল চেয়ে ১৬ মে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

১৮ মে দুদকের এই মামলায় সম্রাটের জামিন বাতিল করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজি মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

দুদকের মামলায় জামিন পাওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা আরও তিন মামলায় জামিন পান সম্রাট। চার মামলার সবটিতে জামিন পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।

সারা দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাট ও তার সহযোগী তৎকালীন যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ওই বছরের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

অভিযোগপত্রে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকা জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

আরও পড়ুন:
সম্রাট আবার কারাগারে
মানবিক বিবেচনায় জামিন চান সম্রাট
বাতিলই থাকছে সম্রাটের জামিন, ৩০ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি
সম্রাটের জামিন যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি: হাইকোর্ট
সম্রাটের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
92 Bar Pechal Sagar Rooney murder case investigation report

৯২ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

৯২ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি। ফাইল ছবি
২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের পর দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৯২ বারের মতো পিছিয়েছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর দিন ঠিক করেছে আদালত।

সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ঠিক করা ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তাই ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নতুন এ দিন ঠিক করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজ বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আট জন। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।

আরও পড়ুন:
৯১ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
৮৮ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে রুল শুনানির উদ্যোগ
৮৬ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন
সাগর-রুনী হত্যা রহস্য উদঘাটনে ‘যথেষ্ট দেরি হয়েছে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Employees should be moderate in using social media

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্ট, ছবি, অডিও-ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ একাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সব পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক, সব উপ-পরিচালক/বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই, সব উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা/ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় নির্ধারণ করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়াও নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমে দাপ্তরিক ও ব্যক্ষিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে।

যেসব নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
IGP wants CCTV cameras in all pavilions

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি গত বছর দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রাখা হয়। প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি।
গত বছর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রেখে আসার পর সেখানকার এবং চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বেশ কয়েকজন আক্রমণকারীও। সেই মণ্ডপে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকলেও কোরআন রেখে আসার ঘটনাটি ধরা পড়ে পাশের কয়েকটি বাড়িতে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজে।

দুর্গাপূজা ঘিরে কেউ যেন অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

পূজা সামনে রেখে সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন।

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে ৫ অক্টোবর।
গত বছর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রেখে আসার পর সেখানেকার এবং চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বেশ কয়েকজন আক্রমণকারীও।

পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে একটি দরগা থেকে কোরআন শরিফ এনে রাখা হয় কুমিল্লার সেই মণ্ডপে। এরপর ফেসবুকে লাইভ করে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এর পরই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

সেই মণ্ডপে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকলেও কোরআন রেখে আসার ঘটনাটি ধরা পড়ে পাশের কয়েকটি বাড়িতে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজে।

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি

পুলিশের সভায় এবার সব মণ্ডপে ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন, মণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা, মণ্ডপ ও বিসর্জন স্থানে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর/চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা, আজান ও নামাজের সময় উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে পূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকার অনুরোধ জানান আইজিপি।

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও অংশ নেন। তারা এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজাপরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ কল করার পরামর্শও দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আইজিপি ও জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানের বৈঠক
আমেরিকার প্রতি অভিযোগ নেই, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সেই গোষ্ঠী: বেনজীর
নানা শর্তে আইজিপিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা
জাতীয় শোক দিবসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ আইজিপির
পুলিশ-র‍্যাব বেতনের জন্য কাজ করে না: আইজিপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maryam Mannan in Dhaka with Khulna unsafe mother

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান উদ্ধারের পর পিবিআই কার্যালয়ে মেয়েদের জড়িয়ে ধরেন রহিমা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি।’

মা রহিমা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নান। আদালতের মাধ্যমে নিজেদের জিম্মায় পাওয়ার পর রোববার রাতেই ছোট বোন আদুরী ও মা রহিমাকে নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের নিয়ে উঠেছেন তিনি। জানালেন, সোমবার সকালে মাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়েছিলেন।

নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি। তাই রাতেই খুলনা ত্যাগ করেছি। সঙ্গে আমাদের এক দুলাভাইও ছিলেন। চারজন ঢাকা এসেছি।’

গত ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ার বাড়ি থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম ও তার ভাই-বোনেরা। সে রাতে দৌলতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী।

সেই জিডি থেকে জানা যায়, নিখোঁজের সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা। দীর্ঘ সময় পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে গত ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী। আসামী করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে।

রহিমা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হন মরিয়ম মান্নান। তার কান্না আর মায়ের খোঁজ পাওয়ার আকুতি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন মরিয়ম মান্নান। মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাকে সামনে আনেন।

এরপর আদুরীর করা মামলায় প্রতিবেশি মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল, হেলাল শরীফসহ রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের দেহ বলে দাবি করেন মরিয়ম। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এইমাত্র।’

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

ওই সময় পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ। যা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার মা।’

তবে গেল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে রহিমা বেগমকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পর দিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে নিজেকে অপহরণের শিকার বলে দাবি করেন রহিমা। এরপর তাকে মেয়ে আদুরী জিম্মায় ছেড়ে দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dope test before recruitment to police to prevent drug addicts

মাদকাসক্ত ঠেকাতে পুলিশে নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট

মাদকাসক্ত ঠেকাতে পুলিশে নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট সিরডাপ মিলনায়তনে সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা
‘চাকরির শুরুতে যারা সিলেক্টেড হবে, তাদের ডোপ টেস্ট করার প্রচলন পুরোপুরি নিতে যাচ্ছি। পুলিশ-বিজিবি সব জায়গায় ডোপ টেস্টের প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হচ্ছে কি না, সেখানেও মনে হলে আমরা ডোপ টেস্ট করব।’

মাদকাসক্তরা যেন পুলিশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নিয়োগের আগেই ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

ডোপ টেস্ট করে বেশ কিছু পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করার মধ্যে নতুন এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মাদকাসক্তি নিরাময়ে বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ বিষয়ে এক গোলটেবিল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশে যারা মাদক নেয় তদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে তাকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। এই জায়গাটায় আমরা খুব কঠিন অবস্থানে চলে আসছি।

‘চাকরির শুরুতে যারা সিলেক্টেড হবে, তাদের ডোপ টেস্ট করার প্রচলন পুরোপুরি নিতে যাচ্ছি। পুলিশ-বিজিবি সব জায়গায় ডোপ টেস্টের প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হচ্ছে কি না, সেখানেও মনে হলে আমরা ডোপ টেস্ট করব।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট যেন বাধ্যতামূলক করা হয়। তিনি সম্মতি দিয়েছেন। চাকরির শুরুতে যারা সিলেক্টেড হবে তাদের ডোপ টেস্ট করার প্রচলন পুরোপুরি নিতে যাচ্ছি। পুলিশ-বিজিবি সব জায়গায় ডোপ টেস্টের প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হচ্ছে কি না, সেখানেও মনে হলে আমরা ডোপ টেস্ট করব।’

মাদক কেনাবেচায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উঠে আসে তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘আপনি জেলখানায় গিয়ে দেখুন মাদকের মামলায় পুলিশের সদস্য যেমন আছে, র‍্যাবের সদস্যও আছে, তেমন অন্য ব্যবসায়ীরাও রয়েছে। পুলিশ বলে তার জন্য আইন আলাদা হবে- বিষয়টি এমন নয়।’

কারাগারে বন্দিদের সিংহভাগই মাদক মামলার আসামি বলে জানান মন্ত্রী। জানান, কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৮০ হাজার থেকে এক লাখের মতো। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই মাদক বিক্রেতা।

মাদক মামলায় বিচারের জটিলতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘বিচারের সময় সাক্ষী পাওয়া যায় না। আর আমাদের লম্বা জট লেগেছে মামলার। সেখানে এই মাদক মামলা হারিয়ে যায়।

‘আমরা চেয়েছিলাম বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চাইছিলাম। যদিও আমরা সেটা এখনও পাইনি। যদি শাস্তিটা দৃশ্যমান হতো, তাহলে ডিমান্ড হ্রাস ও সাপ্লাই কমে যেত।’

মাদকের সরবরাহ কমাতে বিজিবি, কোস্টগার্ডের সক্ষমতা ও জনবল বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডারে আমরা এখন অনেক কিছু করতেছি। টেকনাফে দেখেন নাফ নদীর যে বর্ডার তা দুর্গম। সেখানে বিওপি থেকে বিওপি যেতে সময় লাগে। আমরা সেন্সর লাগাচ্ছি সমস্ত বর্ডারে। হেলিকপ্টার টহলের ব্যবস্থা করছি, যাতে মাদকের সাপ্লাই বন্ধ করা সম্ভব হয়।’

‘চিকিৎসকরা নাকি সবচেয়ে বেশি মাদক নেন’
মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসরা নাকি সবচেয়ে বেশি মাদক গ্রহণ করেন। তবে বিষয়টি আমার জানা নেই। নেশা করে মাদক নেয় চিকিৎসক, সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার ও আমরাও নিয়ে থাকি। চিকিৎসকরা মাদক নেবে না এমন তো কথা নেই। তারা তো আলাদা জাতি না। দু-একজন পথভ্রষ্ট হতে পারে।’

অসাধু লোক সব জায়গাতেই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হেরোইন উদ্ধারের পর নাকি পরীক্ষায় পাউডার হয়ে যায়। কারণ শুধু পোর্টে কিংবা পুলিশে নয়, সব জায়গাতেই খারাপ মানুষ আছে।’

সীমান্তেও অনেকে চোখ বন্ধ করে আছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
ডোপ টেস্টে শিক্ষার্থীরা ‘নাজেহাল’
শিক্ষক নয়, শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট ঢাবিতে
সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে
ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে সরকারি চাকরি নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ACC case against former London manager of Biman

বিমানের সাবেক লন্ডন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বিমানের সাবেক লন্ডন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমানের প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের দায়ে দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক সোমবার এই মামলা করেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন অফিসের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার আকতার উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক)।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমানের প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের দায়ে দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক সোমবার এই মামলা করেন।

দুদকের উপ-পরিচালক আরিফ সাদেক নিউজবাংলাকে জানান, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় মামলাটি করা হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে যে মহাব্যবস্থাপক (বিপণন ও বিক্রয়) আখতার উদ্দিন আহমেদ বিমানের লন্ডন স্টেশনে কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে (১৯৯৩-১৯৯৮) বিমানের সিটি অফিসের জন্য অফিস ইকুইপমেন্ট ও টেলিফোন সিস্টেমের জন্য ত্রৈমাসিক ২ হাজার ১২৫ পাউন্ড স্টারলিং ভাড়ার ভিত্তিতে তিনটি কোম্পানির সঙ্গে লিজ চুক্তি ছিল। এই চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু তিনি এবি সার্ভিসেস-এর পক্ষে কেভিন লুইসের মাধ্যমে বিমানের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিরাজমান সব চুক্তি অবসান করে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

নতুন চুক্তিতে ত্রৈমাসিক ভাড়া ২ হাজার ১২৫ পাউন্ডের স্থলে ১০ হাজার ৫০৬ পাউন্ড করা হয় এবং ব্যাংক হিসাব খাত থেকে সরাসরি ডেবিট পদ্ধতিতে ভাড়া পরিশোধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা আগের চুক্তিতে ছিল না।

পরবর্তীতে আক্তার উদ্দিন আহমেদ বিমানের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন না নিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে কেবিন লুইসের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং ওই চুক্তির অধীনে ভাড়া পরিশোধ বন্ধ রাখেন। কিন্তু চুক্তিপত্রে আক্তার উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর থাকায় সব পক্ষের সম্মতিতে Centre for Dispute Resolutions-এর মাধ্যমে প্রতি ত্রৈমাসিক ৭ হাজার ১৫৬ পাউন্ড ভাড়া পরিশোধ নিষ্পত্তি হয়।

বিমানের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনবহির্ভূত চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে ২০০৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত লিজ রেন্ট বাবদ বিমানকে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৪৪ পাউন্ড সমপরিমাণ ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই এয়ারক্রাফটে ১১শ কোটি গচ্ছা, দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ
বিমানের বিরুদ্ধে বেসরকারি এয়ারলাইনসের ক্ষোভ
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: আধিপত্য হারাতে পারে বিমান
শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ ৪৪ শতাংশ
টরন্টো ফ্লাইটে আগ্রহ বিদেশি যাত্রীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 lakh to send to Europe trap

৫ লাখে ইউরোপ পাঠানোর ফাঁদ

৫ লাখে ইউরোপ পাঠানোর ফাঁদ মানব পাচারের অভিযোগে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার চারজন। ছবি: সংগৃহীত
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৬টি পাসপোর্ট, তিনটি চেক বই, চারটি স্ট্যাম্প, পাঁচটি মোবাইল, চারটি বিএমইটি কার্ড, চারটি রেজিস্ট্রার উদ্ধার করা হয়।

উচ্চ বেতনের চাকরি, সঙ্গে নানা সুবিধা, তাও আবার ইউরোপের দেশেগুলোতে। আর সেখানে এসব পেতে খরচ করতে হবে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। এমন প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া মানব পাচার চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এবং রাজধানীর গুলশান এলাকায় সোমবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুধু ইউরোপ নয়, কম খরচে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য দেশগুলোতেও তারা পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, আক্তার হোসেন, আনিছুর রহমান ও মো. রাসেল।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৬টি পাসপোর্ট, তিনটি চেক বই, চারটি স্ট্যাম্প, পাঁচটি মোবাইল, চারটি বিএমইটি কার্ড, চারটি রেজিস্ট্রার উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আসামিরা সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য। চক্রের হোতা দুবাই প্রবাসী তোফায়েল আহমেদ এবং বাংলাদেশে চক্রের হোতা আনিছুর রহমান ও আক্তার হোসেন। রাসেল তাদের অন্যতম সহযোগী।

‘তারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার নাম করে প্রলুব্ধ করে। মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর খরচ বাবদ প্রাথমিকভাবে তারা ৪ থেকে ৫ লাখে ইউরোপ এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্য তারা ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে থাকে।’

তিনি জানান, ভিকটিম ও তাদের অভিভাবকরা রাজি হলে প্রথমে তারা পাসপোর্ট এবং প্রাথমিক খরচ বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে থাকে। তারপর ভিকটিম এবং অভিভাবকদের বিদেশ থেকে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ফোন দিয়ে আশ্বস্ত করে। আসামিদের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে তারা খুব ভালো আছে এবং অনেক অর্থ উপার্জন করে বলে জানানো হয়।

এমন প্রলোভনে অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিবহন খরচ, ভিসা খরচ, মেডিক্যাল খরচ, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি খরচের কথা বলে আসামিরা ধাপে ধাপে ভিকটিমদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকে বলে জানান র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা।

আরিফ মহিউদ্দিন জানান, ফ্লাইটের আগে ভুক্তভোগীদের কাছে পাসপোর্ট, ভিসা বা টিকিট হস্তান্তর করা হয় না। তাদের যখন বিমানবন্দরের ভেতর প্রবেশ করেন, ঠিক তখন তাদের হাতে এসব ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারে কর্মী ভিসার বদলে তাদের ভ্রমণ ভিসায় পাঠানো হচ্ছে। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আসামিদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।

র‍্যাব জানায়, অনেক সময় বিদেশ পৌঁছানোর পর দুবাই প্রবাসী জাহিদ ভিকটিমদের স্বাগত জানিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তারপর ভিকটিমের কাছ থেকে তার পাসপোর্ট ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের একটি সাজানো কোম্পানিতে চাকরি দেয়া হয়। চার-পাঁচ দিন পর কোম্পানি থেকে জানিয়ে দেয়া হয় কোম্পানি আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। তারপর জাহিদ পুনরায় ভিকটিমদের অজ্ঞাত স্থানে বন্দি করে রেখে ভিকটিমদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে অর্থ আদায় করে। ওই সময়ে ভিকটিমদের কোনো খাবার দেয়া হয় না। খাবার চাইলে জাহিদ বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে এসে খাবার কিনতে বলে।

র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, তোফায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তোফায়েল ভিকটিমদের অপেক্ষা করতে বলে। জানায়, আইনি জটিলতা দূর হলেই আবার কোম্পানি চালু হবে। পরে পাসপোর্ট ফেরত নিতেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় আসামিরা, যা দেশে কোনো স্বজনের মাধ্যমে পরিশোধ করেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সি পরিচালনার কোনো লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। তারা শুধু সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সিটি এক্সপ্রেস ট্রাভেল এজেন্সি নামে মানব পাচার ব্যবসা করে আসছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়ার কথা বলে সেন্টমার্টিনে ‘পাচার’, গ্রেপ্তার ৫
মানব পাচার মামলায় নদীর জামিন দেয়নি হাইকোর্ট
লিবিয়ায় জিম্মি মাদারীপুরের ৯ যুবক
অভিবাসনপ্রত্যাশী নির্যাতন: ইতালিতে ২ বাংলাদেশির জেল
‘ইতালি যাওয়ার পথে’ ৩ যুবক নিখোঁজ, বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

মন্তব্য

p
উপরে