× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Rajuks bus in Hatirjheel due to rent fraud
hear-news
player
google_news print-icon
বাসভাড়ায় নৈরাজ্য-৫

ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও

ভাড়ার-প্রতারণায়-হাতিরঝিলে-রাজউকের-বাসও
বিআরটিএ সর্বনিম্ন যে ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে, হাতিরঝিলে চক্রাকার বাসের ইজারাদার রাজউকের কোম্পানি আদায় করে তার দ্বিগুণ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এফডিসি কাউন্টার থেকে রামপুরা পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরত্বে এখানে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। প্রতি কিলোমিটার ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা ৯৫ পয়সা। এত দিন আদায় হতো ২০ টাকা। তখন কিলোমিটার পড়ত ৪ টাকা ৭৬ পয়সা। তাতেও পোষেনি ইজারাদারের। ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরত্বে এফডিসি থেকে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে পড়ছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা।

বাসভাড়া নিয়ে রাজধানীতে যে নিত্য প্রতারণা চলছে, তার বাইরে নয় সরকারি সংস্থা রাজউক পরিচালিত বাসও।

রাজধানীর হাতিরঝিলে চক্রাকার যে বাস পরিচালনা করা হয়, তাতে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর নির্ধারণ করে দেয়া হারের আড়াই গুণের বেশিও ভাড়া আদায় করা হয়। বিআরটিএ সর্বনিম্ন যে ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে, রাজউকের কোম্পানি আদায় করে তার দ্বিগুণ।

রাজউক নিজে অবশ্য এই বাস পরিচালনা করে না। অর্থের বিনিময়ে ইজারা নিয়েছে কোম্পানি। আর ইজারাদারের স্বার্থ দেখতে গিয়ে ‍উপেক্ষা করছে জনগণের স্বার্থ।

বিআরটিএর হারের দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায়ের পেছনে এক রাজউক কর্মকর্তার দাবি, তাদের বাসযাত্রী পরিবহনের সাধারণ বাহন নয়, এটি পর্যটন সংশ্লিষ্ট। ফলে বেশি ভাড়া আদায় করা যায়। অথচ এই বাসে ঢাকার লোকাল যেকোনো বাসের মতোই দাঁড়িয়ে যাত্রী বহন করা হয়। আর পর্যটন নয়, হাতিরঝিলের এক পাশ থেকে অপর পাশে যাতায়াতের জন্যই যাত্রীরা বাসটি ব্যবহার করে।

ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও

রাজধানীর হাতিরঝিলে চক্রাকার যে বাস পরিচালনা করা হয়, তাতে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর নির্ধারণ করে দেয়া হারের আড়াই গুণের বেশিও ভাড়া আদায় করা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

২০১৬ সালে এই সড়কে যাত্রী পরিবহনে ১০টি মিনিবাস চালু হয়। বর্তমানে চলছে ২০টি। ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে সেগুলো।

এইচআর ট্রান্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাজউকের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে চালাচ্ছে এগুলো।

গত নভেম্বর এবং চলতি আগস্টে তেলের দাম দুই দফা বাড়ানোর পর বাসের ভাড়া দুই দফা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে ফেলা হয়েছে। অথচ দুইবার বাড়ানোর পর যে বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ভাড়া আগেই আদায় করা হতো।

ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও

২০১৬ সালে রাজধানীর হাতিরঝিলে যাত্রী পরিবহনে ১০টি মিনিবাস চালু হয়। বর্তমানে চলছে ২০টি। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে সেগুলো। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

দূরত্ব, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া- কোনো কিছুই খাটে না এখানে

গত শুক্রবার লিটারে ৩৪ টাকা করে ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরদিন বিআরটিএ রাজধানীতে প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া আড়াই টাকা নির্ধারণ করে জানায়, সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ১০ টাকা। অর্থাৎ চার কিলোমিটার যাওয়া যাবে এই ভাড়ায়। এরপর প্রতি কিলোমিটার হিসেবে যোগ হবে আরও আড়াই টাকা করে।

কিন্তু নিউজবাংলা হিসাব করে দেখেছে, হাতিরঝিলে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কিলোমিটার প্রতি ৬ টাকারও বেশি হারে।

এফডিসি কাউন্টার থেকে রামপুরা পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরত্বে এখানে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। প্রতি কিলোমিটার ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা ৯৫ পয়সা।

ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও
চক্রাকার বাসের টিকিটে সিল মেরে বাড়ানো হয় ভাড়া। ছবি: নিউজবাংলা

এত দিন আদায় করা হতো ২০ টাকা। তখন কিলোমিটার পড়ত ৪ টাকা ৭৬ পয়সা। তাতেও পোষেনি ইজারাদারের।

অথচ বিআরটিএর বেঁধে দেয়া হিসেবে ভাড়া আসে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। এই হারের চেয়ে বেশি নেয়া সম্ভব নয় বিধায় যাত্রীদের আসলে ১০ টাকায় চলাচল করার কথা ছিল।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ১০ টাকায় বাসে ওঠারই জো নেই। প্রথম যখন বাস চালু করা হয়, সে সময়ই এই পথের ভাড়া ঠিক করা হয় ১৫ টাকা আর সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১০ টাকা।

এরপর নভেম্বরে সর্বনিম্ন ভাড়া ঠিক করা হয় ১৫ টাকা, এবার ঠিক করা হয়েছে ২০ টাকা।

এই ২০ টাকায় কত দূর যাওয়া যায়?

এফডিসি বাসস্টপ থেকে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার আর পুলিশ প্লাজা থেকে রামপুরা পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ১ কিলোমিটারের জন্যও এই ভাড়া ঠিক করা হয়েছে।

বিআরটিএ সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা ঠিক করে না দিলে প্রথম গন্তব্যে সর্বোচ্চ ভাড়া হওয়া উচিত ছিল ৭ টাকা ৭৫ পয়সা এবং দ্বিতীয় গন্তব্যে হওয়া উচিত ছিল ২ টাকা ৭৫ পয়সা।

কিন্তু এখন এফডিসি থেকে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত ভাড়া পড়ছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা হারে, আর পুলিশ প্লাজা থেকে রামপুরা পর্যন্ত ১৮ টাকা ১৮ পয়সা হারে।

রামপুরা থেকে মধুবাগ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটারের জন্যও আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫ টাকা।

আগে ভাড়ার হার ছিল ৪ টাকা ১৬ পয়সা, এখন হয়েছে ৫ টাকা ৫৫ পয়সা।

শুরু থেকেই হাতিরঝিলের চক্রাকার পুরো পথ যাওয়ার সুযোগ ছিল। একেবারে শুরুতে ঠিক করা হয় ৩০ টাকায় যাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটারের এই পথ। দুই বার ৫ টাকা করে বাড়িয়ে এখন তা করা হয়েছে ৪০ টাকা।

প্রতি কিলোমিটার ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা হারে।

ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও
হাতিরঝিল চক্রাকার বাসে এভাবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ভাড়া বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ, নেই কারও সই

গত মঙ্গলবার থেকে বাড়তি ভাড়া কার্যকর করা হয়েছে। কাউন্টারের সামনে একটি তালিকা টানানো হয়েছে ভাড়া বাড়ানোর। নিচে লেখা আছে ‘কর্তৃপক্ষ’। তবে এই কর্তৃত্ব কার তা জানা যায়নি, কারণ, কোনো কর্মকর্তার সই নেই।

এফডিসি বাস স্টপেজের টিকিট বিক্রেতা মাসুদ করিমকে ১৫ টাকা দিয়ে পুলিশ প্লাজার টিকিট দিতে বলা হলে তিনি বলেন, ‘১৫ টাকার কোনো টিকিট নেই, ২০ টাকা।’

এরপর তিনি ভাড়া বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি দেখতে বলেন। বিজ্ঞপ্তিতে কারও সই না থাকার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘এইটাই। গেলে ২০ টাকা দেন।’

যাত্রীরা রাগে গজ গজ করতে করতে টিকিট কাটছিলেন আর একজন আরেকজনের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে থাকেন, বলতে থাকেন, কোন যুক্তিতে এইটুকু পথের জন্য এত ভাড়া হয়।

আবার বাড়তি ভাড়া নেয়া হলেও টিকিট দেয়া হচ্ছে আগের হারের। সেই টিকিটে একটা সিল দেয়া হয়েছে কেবল। এ নিয়ে টিকিট বিক্রেতার মন্তব্য দায়সারা গোছের।

ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও
চক্রাকার বাস কাউন্টারের সামনে একটি তালিকা টানানো হয়েছে ভাড়া বাড়ানোর। নিচে লেখা আছে ‘কর্তৃপক্ষ’। তবে এই কর্তৃত্ব কার তা জানা যায়নি, কারণ, কোনো কর্মকর্তার সই নেই।

কখনও চলেনি বিআরটিএর অভিযান

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর গত নভেম্বরে বাস ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়ার পর বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে বিআরটিএ রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে যে অভিযান চালায়, তখন বাদ পড়ে হাতিরঝিলের চক্রাবাস বাস।

এবার যখন বাড়তির ওপর আরও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, তখনও বিআরটিএ এই পথের বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।

গতবার বাসভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের বিষয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের ফোন দিলে তারা কথা বলতেন। এবার কোনো ফোনই তারা রিসিভ করছেন না। একবার বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার কল রিসিভ করার পর তিনি এসএমএস করতে বলেন। বাসভাড়ায় নৈরাজ্য এবং বিআরটিএর কার্যত ঘুমিয়ে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন লিখে পাঠানো হলে তিন দিনেও তার জবাব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি।

সুপারভাইজারের দাবি, এই জগত ভিন্ন

নির্ধারিত হারের দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে লাইন সুপারভাইজার শওকত হোসেনের বক্তব্য বিবেচনায় নিলে বলতেই হয়, হাতিরঝিল একটি ভিন্ন জগৎ। এখানে সরকারের করা নিয়মকানুন খাটে না। তারা যা বলবে, সেটিই বিধান।

তিনি বলেন, ‘বাইরের ভাড়ার সঙ্গে এখানের ভাড়া কমপেয়ার করলে হবে না। এই গাড়িগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। এটা হাতিরঝিল প্রজেক্টের গাড়ি। এটা টুরিস্ট বাস হিসেবে চলে।’

বাইরের বাসের সঙ্গে এই বাসের সার্ভিসের কী পার্থক্য- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাতিরঝিলে টুরিস্ট বাস হিসেবে বরাদ্দ।’

যাত্রীরা তো দাঁড়িয়ে যায় আপনাদের বাসে। তাহলে বেশি ভাড়া কেন নিচ্ছেন- উত্তরে তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে প্রজেক্ট এইভাবেই চুক্তিবদ্ধ।’

ভাড়ার চার্টে বিআরটিএ বা রাজউকের কোন স্বাক্ষর নাই। কীভাবে বুঝব আপনারা প্রতারণা করছেন না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনার তো অপশন আছে। আপনি রাজউকের কাছে যান।’

এইচআর ট্রান্সপোর্টের ফিল্ড অফিসার মাসুদ করিমও বলেন, ‘আপনি রাজউকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

বিআরটিএ বা রাজউকের সই ছাড়া এই চার্ট কেন ভিত্তিহীন ধরা হবে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাজউক স্বাক্ষরিত যে চার্ট, সেটা অফিসে আছে।’

তবে রাজউকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে তারা কোনো নতুন চার্ট তৈরি করে দেননি।

এই বিষয়টি জানালে মাসুদ করিম বলেন, ‘তাহলে আমি জানি না। আপনি রাজউকে যোগাযোগ করেন।’

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (প্রজেক্ট অ্যান্ড ডিজাইন) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে রাজউকের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু রাজউক তো অনুমোদন দেয় নাই এখনও।’

রাজউকের অনুমোদন ছাড়া কি বাড়তি ভাড়া নিতে পারে?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাজউক অনুমোদন দেবে না দেবে না, সে জন্য তো তেলের দাম বাড়া বসে থাকে না। আমরা স্বাক্ষর দিয়ে দেব।’

তাহলে আপনাদের কথাতেই তারা ভাড়া বাড়িয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে যাব কেন। তারা তাদের হিসেবে বাড়িয়েছে।’

সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার দুই গুণের বেশি ভাড়া নিচ্ছে তারা। আপনাদের হিসাব কীভাবে হয়- এমন প্রশ্নে রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, ‘এখানে কিলোমিটার ধরে ভাড়া নিচ্ছে না তো। এখানে কিলোমিটারের হিসেব চলে না।’

‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন নৈরাজ্য হলে অন্যরা করবেই’

যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে ভাড়ার নৈরাজ্য হয় তখন নগরীর অন্য বাসগুলো আরও সুযোগ নিতে চায়। আমি মনে করি রাজউকের এখানে দায়বদ্ধতা আছে, বিআরটিএ এর দায়বদ্ধতা আছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের দায়বদ্ধতা আছে।’

আরও পড়ুন:
বাস ভাড়ায় স্বল্প দূরত্বে স্বস্তি দিল বিআরটিএ
ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ
ঢাকায় ফেরার তাড়া, সুযোগ নিচ্ছেন চালকরা
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য: বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও
বাস থেকে ফেলে হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ganoforum will not join hands with BNP

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ড. কামাল হোসেনের ঘোষণায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. মিজানুর রহমান। তিনি গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে আছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিউজবাংলাকে বলেছেন, তার দল গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, সরকার নির্বাচনের পরিবেশ কতটুকু তৈরি করবে, তার ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে অংশ নেয়া-না নেয়া।

প্রশ্ন: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে গণফোরাম কি ভেঙে গেছে? আপনাদের তো বহিষ্কার করেছেন মোস্তফা মহসীন মন্টুরা?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের নামে তারা যে কমিটি করেছিল, সে কমিটিতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। তারা যে কমিটি ডিক্লেয়ার করেছে, তার সঙ্গে আমার এবং আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- কমিটি ঘোষণা করে কমিটির যে মিটিংগুলো করেছে, কোনোটায় আমার সম্পৃক্ততা কখনও ছিল না। ফলে তারা নিজেরা কারও নাম ব্যবহার করা এবং তাদের বহিষ্কার করা– এটা তাদের নিজস্ব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আমার এবং আমার দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যেহেতু কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, সে হিসেবে তাদের এ বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: মোস্তফা মহসিন মন্টু নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা তো বলছেন তারা কাউন্সিল করে কমিটি গঠন করেছেন, যেটা নির্বাচন কমিশনও চেয়েছিল। আর তাদের নেতৃত্বেই সংগঠনগুলো রয়েছে। কিন্তু আপনারা কাউন্সিল করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন কোন কমিটির কথা শুনবে?

ডা. মিজানুর রহমান: আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে দলের প্রধান ড. কামাল হোসেন। মানে সভাপতি হচ্ছেন দলের প্রধান। কাউন্সিল করতে হলে দলের প্রধানের সম্মতি লাগবে এবং ৩০ দিন আগে গঠনতন্ত্র অনুসারে নোটিশ দিতে হবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশ থেকে ডেলিগেট ও কাউন্সিলরা আসবেন। সেভাবেই কাউন্সিল করতে হয়। কিন্তু ওনারা যেটা করছেন, দলের সভাপতির সম্মতি যদি না থাকে, উপস্থিতি না থাকে, তারা নিজেরা কাউন্সিল করে তো সেটাকে মূল দলের দাবি করতে পারেন না। এতে গণফোরাম কিংবা দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্তরা ছিল না। যার ফলে নির্বাচন কমিশনে তারা যে কমিটি জমা দিয়েছে, সেটা এমনিতেই বাতিল হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন: কিন্তু ওনারা তো বলছেন, ওনারা যখন কাউন্সিল করেছেন, তখন ড. কামাল হোসেনের সায় ছিল। এ কারণে দলের উপদেষ্টা পরিষদে ওনারা তাকে রেখেছিলেন।

ডা. মিজানুর রহমান: তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে ড. কামাল হোসেনের কাছে গিয়ে বলেছেন যে আমরা একটা সম্মেলন করছি। আপনি শুভেচ্ছা জানাবেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন কিন্তু গণফোরামের নামে কোনো শুভেচ্ছা দেননি। উনি ওনার ব্যক্তিগত প্যাডে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেননি যে গণফোরামের নামে যে কাউন্সিল হচ্ছে, তাকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এখন যদি কোনো ব্যক্তি নিজে একটা দল গঠন করে কিংবা তারা যদি কাউন্সিল করে, এটা তো তার ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপার। কিন্তু গণফোরামের নামে ড. কামাল হোসেন কোনো শুভেচ্ছা বার্তা দেননি। আর যদি কাউকে উপদেষ্টা কিংবা কোনো পদে রাখেন, তার একটা সম্মতিপত্রের দরকার হয়। সেখানে ড. কামাল হোসেন তাদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করেছেন– এই মর্মে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি। তারা নিজেরাই পদে রাখছেন, আবার নিজেরাই অব্যাহতি দিচ্ছেন। এটা তো তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

প্রশ্ন: কিন্তু ওনারা তো বলছেন, দলে অধিকসংখ্যক নেতা-কর্মী ওনাদের সঙ্গেই আছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: ড. কামাল হোসেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এখন সারা বাংলাদেশের সব নেতা-কর্মী তার সঙ্গেই আছেন। ওনারা বাইরে থেকে কে কী বললেন, সেটা তো আমাদের বিষয় না। কারণ গণফোরাম মানেই ড. কামাল হোসেন এটা আমরা মনে করি।

প্রশ্ন: তাহলে দলের কত শতাংশ নেতা-কর্মী আপনাদের সঙ্গে রয়েছেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আমাদের সঙ্গে যারা গণফোরাম করেন, তারা সবাই আছেন। আমরা গণফোরামে বিভক্তি দেখি না। গণফোরাম যারা করতেন, তারা অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে চলে গেছেন। অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। এখন গণফোরাম থেকে বেরিয়ে যদি কেউ কোনো দল করে, সেটা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার ব্যাপার। গণফোরাম থেকে কত শতাংশ লোক চলে গেছে, এটা আমাদের কাছে দেখার বিষয় না। আমরা মনে করি, গণফোরাম বলতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর যদি এখান থেকে গিয়ে কেউ রাজনৈতিক দল করে, সেটার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

প্রশ্ন: দলে বিভক্তির জন্য মন্টুপন্থিরা আপনাদের দায়ী করেন। আর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও তো তাদের দখলে। তাহলে প্রকৃত গণফোরাম মানুষ কোন অংশকে বলবে?

ডা. মিজানুর রহমান: কোন দলীয় অফিস কার দখলে আছে, সেটা বিবেচ্য বিষয় না। আগে আমাদের অফিস ছিল কাকরাইলে, এরপর আরামবাগে। কোনো অফিস আমাদের নিজস্ব নয়, ভাড়ায় নেওয়া হয়। এটা পরিবর্তনশীল। তাই একটা ভাড়ার অফিস অর্থাৎ অস্থায়ী কার্যালয়ের সঙ্গে গণফোরামের বিভক্তি বোঝা যায় না।

আর নির্বাচন কমিশন তো ড. কামাল হোসেনের যে কমিটি এবং সম্পৃক্ততা সেটাকেই গণফোরাম হিসেবে চিহ্নিত করে। এর বাইরে আপনি যাদের কথা বলছেন, তারা কমিটি করে দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। কাজেই অন্য কেউ গণফোরাম নাম দাবি করাটাও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: মন্টুপন্থিরা বলছেন, দলের নিষ্ক্রিয়রা আপনাদের বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা ওনাদের নিজস্ব অভিব্যক্তি। কারণ গণফোরামে কে নিষ্ক্রিয় আর কে সক্রিয়, তা গণফোরামের নেতা-কর্মীরা ঠিক করবেন। মোস্তফা মহসিন মন্টুর তো এটা বলার সুযোগ নেই। উনি তো নিজেও একসময় বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন।

প্রশ্ন: গণফোরামের নতুন কমিটি করা হলো গত ১৭ সেপ্টেম্বর। যার নেতৃত্বে আপনি আছেন, নতুন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য কী হবে?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের যে আদর্শ ও লক্ষ্য আছে, এ অনুসারে আমাদের দল পরিচালিত হবে। এটার কর্মসূচি আছে, আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আছে, এটা চলমান। আমরা যারা আছি, প্রত্যেকে গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আছি। আমরা প্রত্যেকেই গণফোরামের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছি। গণফোরামে কেউ নবাগত নই।

প্রশ্ন: কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে তো আপনাদের কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না।

ডা. মিজানুর রহমান: আমরা সব সময় কাজের মধ্যেই আছি। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য জেলা কমিটিগুলো সক্রিয় করা। তারপর নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে শক্তি সঞ্চয় করছি। এর পাশাপাশি যেসব কর্মসূচি আছে, সেখানে আমরা জেলায় জেলায় অ্যাক্টিভিটিস বাড়াচ্ছি। আমরা জনগণের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে মূলত রাজপথে থাকব। আমরা সব জায়গায় সক্রিয়ভাবে কাজ করব।

প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের চাওয়াটা কী? আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে জোট করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: বিএনপির সঙ্গে জোট করার এই মূহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। রাজনৈতিকভাবে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চাহিদা এবং জনগণের চাহিদা ও সংকট আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। নির্বাচন যখন আসছে, গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠেও আছি এবং অবস্থা অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

বিএনপির সঙ্গে জোট করবে না গণফোরাম

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমানের সাক্ষাৎকার নেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক আল হেলাল শুভ। ছবি: নিউজবাংলা

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে আপনার দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেই নির্বাচন করেছে। এবার দেখা গেল এখন পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে বিএনপি সংলাপ করলেও আপনার সঙ্গে করেনি। কারণ কী বলে মনে করেন?

ডা. মিজানুর রহমান: গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কারণে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আর ছিল না। এখন নতুন করে তো আর কোনো মেরুকরণ আমাদের দল থেকে হয়নি। আর বিএনপি আমাদের ডাকল কি, ডাকল না সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি নির্ভর করে না।

আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে আমরা, দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যে আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী করব?

প্রশ্ন: গত নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া নিয়ে দলে মতপার্থক্য হয়েছে। তাহলে ড. কামাল হোসেন কেন ওই নির্বাচনে গিয়েছিলেন?

ডা. মিজানুর রহমান: তখনকার প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্ট করা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ছিল একটা সময়ের দাবি। সেটা তো একটি নির্বাচনি জোট হয়েছিল। স্থায়ী কোনো জোট ছিল না। নির্বাচনের পর সেই জোটের অবস্থানটাও শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের অধীনে আপনার দল নির্বাচনে যাবে কি?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা আসলে সরকারের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কতটুকু অবস্থান নেবে এবং নির্বাচনে পরিবেশ কতটুকু করবে– তার ওপর নির্ভর করে। এখনই সেটা বলার মতো সময় আসেনি।

প্রশ্ন: পরিবেশ তৈরি করতে পারলে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তো একটা পরিবেশ লাগবে। তার পরও নির্বাচন কমিশনের যে সকল কথাবার্তা আমরা দেখছি, এটাকে আমরা খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি না। যেমন ইভিএম নিয়ে তাদের বক্তব্য দেশের মানুষ কিন্তু ভালোভাবে নিচ্ছে না। তার পরও গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের আগে সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রশ্ন: ড. কামাল হোসেন দলের বিভক্তি ঠেকাতে পারেননি। এবার ওনার নেতৃত্বে নির্বাচনে গেলে দলের খণ্ডিত একটি অংশ নিয়ে কতটি আসনে প্রার্থী দিতে পারবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আমরা কিন্তু দলের খণ্ডিত অংশ মনে করি না। কারণ গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। আমরা ২৯ বছর ধরেই তার রাজনীতি করে আসছি। নানা কারণেই অনেকে দল থেকে চলে গেছেন। কিন্তু মূল দলের নেতা তো ড. কামাল হোসেন। এখানে খণ্ডিত অংশ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে গণফোরাম জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হতে পারেনি। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিটা হয়ে গেছে কালো টাকা ও পেশিশক্তি-নির্ভর। নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি তো এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আমরা শুরু থেকে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে গণফোরাম কখনও বিচ্যুত হয়নি। আমরা একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা দলের শুরু থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আছি।

আরও পড়ুন:
এবার গণফোরামে মন্টুপন্থিরা বহিষ্কার করলেন ড. কামালকে
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে বাধা সমীচীন নয়: তথ্যমন্ত্রী
বিরোধী দল যেন ঘরের বউ, যখন খুশি পেটাও: দুদু
অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলেই হয়: বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল, সম্পাদক মিজান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It is as if Kheta Shah has vanished into thin air

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তার স্ত্রীসহ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক তালুকদার ওরফে খেতা শাহর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
যে ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন, তার স্ত্রীকে নিয়ে গত ২২ জুন উধাও হন মাজারের ফকির খেতা শাহ। গত ১১ জুলাই রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু খেতা শাহ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

যাকে নিয়ে উধাও হয়েছিলেন, সেই নারী ঘরে ফেরার আড়াই মাস পরও কোনো হদিস নেই ময়মনসিংহের তারাকান্দার আলোচিত ফকির খেতা শাহের।

নিজ ঘরে আশ্রয় দেয়া এক ভক্তের স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়েছিলেন তিনি। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন সেই ভক্ত। তোলপাড় করা সেই ঘটনার ১৯ দিন পর উদ্ধার হন সেই নারী, সেটি গত ১১ জুলাইয়ের কথা। কিন্তু এরপর ৮০ দিনেও পুলিশ জানতে পারেনি, খেতা শাহ কোথায়।

গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে সেই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি ফিরেছেন তিন ছেলে মেয়ের কাছে। কিন্তু খেতা শাহের সঙ্গে কোথায়, কেন গিয়েছিলেন, সেটি আর বলছেন না।

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কাঁথাকে বলা হয় খেতা। জেলার তারাকান্দার টিকুরী এলাকায় সব সময় ছেঁড়া কাঁথা শরীরে জড়িয়ে রাখতেন খেতা শাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি যা বলতেন তাই হতো- এমন বিশ্বাসে অনেক লোক তার ভক্ত হয়ে যান৷

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

বৃদ্ধ বয়সে মারা যান সেই ব্যক্তি। কিন্তু থেকে যান ভক্তরা। একপর্যায়ে নির্মাণ করা হয় মাজার। নামকরণ করা হয় ‘খেতা ছিঁড়ার মাজার’। প্রতি বছর পালন করা হয় ওরস।

এবারও চার মাস আগে ওরস শুরু হয় ওই মাজারে। বরাবরের মতো এবারও হাজারো ভক্তসহ লোকজন আসেন মনের বাসনা পূরণ করার আশায়।

পাগলবেশে ফজলুল হক তালুকদার নামের একজন আসেন মাজারটিতে। ৬০ বছর বয়সী ফজলুলের বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পাইলাটি গ্রামে।

বড় দাড়ি, লম্বা গোঁফ ও ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে সারাক্ষণ মাজারে বসে সময় কাটাতেন। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে মাজারের নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে নিজেকে ‘খেতা শাহ’ হিসেবে পরিচয় দেন৷

আধ্যাত্মিক ফকির হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেতে কথাও বলতেন খুব কম। এভাবে গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।

তাকে বাবা ডেকে অনেকে মনের বাসনা পূরণ করতে দোয়া চেয়ে নিতেন। যারা তার কাছে আসতেন, তাদের অনেককে মাথায় হাত বুলিয়ে ঝাড়ফুঁক দিতেন। এভাবে কয়েক দিনেই তার ভক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়।

আধ্যাত্মিক ফকির ভেবে খেতা শাহের ভক্ত হয়ে যান মাজারের পাশের এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। সংসারের উন্নতি আর মনের বাসনা পূরণ হবে- এমন ধারণা থেকে দুই চাচার পরামর্শে নিয়ে আসেন বাড়িতে। স্ত্রীকেও বলতেন ঠিকঠাক সেবা করতে।

যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন খেতা শাহ

গত ২২ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় যাওয়ার কথা বলে শফিকুলের স্ত্রী খেতা শাহকে নিয়ে বের হন। এরপর দুজনই নিখোঁজ হন।

২৪ জুন সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই ভক্ত। রাত ১২টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়।

এরপর গত ১১ জুলাই রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু খেতা শাহ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত বুধবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভণ্ড খেতা শাহ আমার অন্ধ বিশ্বাসকে টার্গেট করেছিল। ফলে সুযোগ বুঝে আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে আমাকেসহ ছোট ছেলেমেয়েদের মনে আঘাত করেছে।

‘আমার স্ত্রী জানিয়েছে তাকে বিয়ে করেননি ওই প্রতারক। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত মনকে শান্তনা দিতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এক সঙ্গে থাকব৷ কিন্তু খেতা শাহ যেন আর কারও পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি না করে, সেজন্য তাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এজন্য পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগও করছি। তারা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার করতে সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী একথা জানতে পেরে আমাকে বারবার নিষেধ করছে। সে ভয় পাচ্ছে।’

সেই ঘটনার পর স্থানীয়রা পরিবারটিকে বাঁকা চোখেও দেখছে জানিয়ে শফিকুল বলেন, ‘খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে। এ জন্যই চাই তিনি ধরা পড়ুক।’

তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
মৃত ফকিরের ঘরে আড়াই কোটি টাকা
ঘরে ফিরলেন সেই নারী, খেতা শাহ নিয়ে চুপ
গাজীপুর থেকে খেতা শাহর ভক্তের স্ত্রী উদ্ধার
খেতা শাহ কেড়ে নিলেন শফিকুলের ঈদের খুশি
ফজলুল থেকে খেতা শাহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The stage of democracy retreated with a sigh

হাঁক দিয়ে পিছুটান গণতন্ত্র মঞ্চের

হাঁক দিয়ে পিছুটান গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ৮ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এতে সভাপতিত্ব করেন। ছবি: নিউজবাংলা
নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে, একেক দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ও লক্ষ্যকে এক করা যাচ্ছে না। আর অতীতের ভূমিকা, নিজেদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে মূল্যায়নের পর নেতারা বাস্তবতা অনুভব করতে পারছেন যে, আসলে তাদের পক্ষে সেভাবে কিছু করা সম্ভব নয়।

আত্মপ্রকাশ করেই সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ার ঘোষণা দেয়া ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’কে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জোট নেতারা নিজেরাও স্বীকার করছেন তারা একটু ধীর গতিতে এগুচ্ছেন। অক্টোবর থেকেই টানা কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারা।

গত ৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে এই জোট আত্মপ্রকাশ করে। সাতটি ছোট দল ও সংগঠন মিলে করা এই জোটে আছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

জোটের প্রথম কর্মসূচিতে গত ১১ আগস্ট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের ঘোষণাও দেন জোটের নেতারা। সরকারকে বিদায় না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবার কথা জানিয়ে তারা দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু গত এক মাসে নিজেদের মধ্যে একটি আলোচনা সভা ছাড়া জোটের আর কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে একটি বড় কর্মসূচি করার ঘোষণা দিলেও সেটি হয়নি। তবে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ ডেকেছে জোট।

হাঁক দিয়ে পিছুটান গণতন্ত্র মঞ্চের

জাতীয় প্রেসক্লাবে ২১ সেপ্টেম্বর গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রব। ছবি: নিউজবাংলা

নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে, একেক দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ও লক্ষ্যকে এক করা যাচ্ছে না। আর অতীতের ভূমিকা, নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে মূল্যায়নের পর নেতারা অনুভব করতে পারছেন যে, আসলে তাদের পক্ষে সেভাবে কিছু করা সম্ভব নয়।

ওই জোটের মধ্যে জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটসঙ্গী ছিল। এর মধ্যে জেএসডির প্রধান আ স ম আবদুর রব ১৯৮৮ সালে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হন বিরোধীদলীয় নেতা। প্রধান দলগুলোর বর্জনের মুখে সেই নির্বাচনে এরশাদের সঙ্গে তার সমঝোতার কারণে সে সময় তার দলকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে কটাক্ষও করা হতো।

এই দুটি ছাড়াও গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবার বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। আবার তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।

জোট নেতারা অবশ্য জানাচ্ছেন, তারা মাঠে কর্মসূচি না দিলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমন্বয় সাধনে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরে তৃণমূল পর্যায়েও জোটের কর্মসূটিতে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন নেতারা।

জোটের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটু স্লো যাচ্ছি এটা সত্য। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া, ঢাকার বাইরে জেলা ও বিভাগগুলোতে সমন্বয় তৈরি করতে আমরা একটু ব্যস্ত ছিলাম। এই সময়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা করে সময় নিয়েছি।’

অক্টোবর থেকে সরকারবিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকার বাইরেও যাব।’

দলগুলোর কর্মসূচির কারণে জোটের কর্মসূচি কম হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘প্রত্যেকটা দলের নিজস্ব কর্মসূচিও রয়েছে। এর মধ্যেও বিভাগে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করা যাবে সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের যে ঘোষণা এসেছে, তা কবে নাগাদ শুরু হবে, তাও বলতে পারেননি এই নেতা। বলেন, ‘বিরোধী দলগুলোর তো পরস্পরের সঙ্গে যোগাযাগ আছেই। আমরা যুগপৎ আন্দোলন করলে মঞ্চগতভাবেই (গণতন্ত্র মঞ্চগত) করব।’

জোটের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তীব্র আন্দোলন বলতে কী বুঝব? এখন বিএনপি যা করছে তাকে কি তীব্র আন্দোলন বলবেন? আমরা তো বিএনপির চেয়ে বড় সমাবেশ করে ফেলতে পারব, সে রকম না। আমাদের এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক যে শক্তি আছে, সেটা বিবেচনায় তীব্র আন্দোলন বলতে সমাজকে নাড়িয়ে দিতে পারে এমন কিছু একটা করা। কিন্তু সেটা এখনই করে ফেলতে পারব, সে রকম মনে হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্র জনগণের মন মানসিকতা এবং সংগঠনেরও ওই ধরনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে। এত দূর পর্যায়ে এখনও আমরা পৌঁছাইনি আসলে।’

জোটের পক্ষ থেকে টানা কর্মসূচি কবে নাগাদ আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা বলতে পারব না। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, আমরা ঢাকায় ১৬ সেপ্টেম্বর একটি সমাবেশ করার পরিকল্পনায় ছিলাম। সেটা ঘোষণাও করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা সেটা করতে পারিনি। আমাদের নিজেদের গোছানো নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। হয়ত একটু সময় লাগবে। তবে জোটের মিটিংগুলো হচ্ছে।’

২১ সেপ্টেম্বর একটি আলোচনা সভা করেছে ওই জোট। ওই আলোচনা সভায় সব রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Actually the SP wears the rank badge of DIG

আদতে এসপি, পরেন ডিআইজির র‍্যাংক ব্যাজ

আদতে এসপি, পরেন ডিআইজির র‍্যাংক ব্যাজ পুলিশ সুপার মীজানুর রহমান পরে আছেন ডিআইজির র‍্যাংক ব্যাজ। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের পুলিশ সুপার (কমান্ড্যান্ট) মীজানুর রহমান নিজের পদবিতে ব্রাকেটে লিখে থাকেন ‘উচ্চ আদালতের রায়ে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত’। পরেন ডিআইজির র‍্যাংক ব্যাজ। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উচ্চ আদালতের এক আদেশের রেফারেন্স টানেন তিনি।

পদবি পুলিশ সুপার (এসপি), তবে পরেন পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) র‌্যাংক ব্যাজ। নিজেকে সব সময় পরিচয় দেন প্রভাবশালী এক পরিবারের আত্মীয় হিসেবে। ইতোমধ্যে অদৃশ্য ইশারায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আসা অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত এড়িয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে অপকর্মের নানা অভিযোগ।

ওই কর্মকর্তার নাম মীজানুর রহমান। ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) পুলিশ সুপার (কমান্ড্যান্ট) হিসেবে দায়িত্বরত। তবে দাপ্তরিক কাজে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে ব্রাকেটে লিখে থাকেন ‘উচ্চ আদালতের রায়ে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত’।

এসপি পদে থেকে ডিআইজি র‍্যাংক ব্যাজ পরা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উচ্চ আদালতের এক আদেশের রেফারেন্স টানেন মীজানুর রহমান। যদিও সেই রায়ে বলা আছে- ‘পদোন্নতিতে বাধা নেই’। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের পরোয়া করেন না তিনি।

পুলিশ বিভাগ বলছে, আদালতের রায়ের কপি তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি। রায়ে কী লেখা আছে তা দেখে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে তারা। আদালত যদি মীজানকে পদোন্নতি দিয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে আইনি লড়াই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আদালত যদি তার পদোন্নতির রায় দিয়ে থাকে তা প্রতিপালনের দায়িত্ব পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু তিনি পুলিশ সদর দপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে সেই সুযোগ দেননি। তার আগেই তিনি কাগজে-কলমে পুলিশ সুপার পদে থেকে ডিআইজি র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান করে চলেছেন। পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনোভাবেই এমনটা আশা করা যায় না।

আদতে এসপি, পরেন ডিআইজির র‍্যাংক ব্যাজ
মো. মীজানুর রহমানের জারি করা অফিস আদেশ।

মীজানের বিতর্কিত কার্যক্রমের এখানেই শেষ নয়। তার উল্টোপাল্টা আচরণে আগেও বহুবার বিব্রত ও অপ্রস্তুত হয়েছে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভেজাল সারের কারখানা খুলে জালিয়াতির ব্যবসা, পুলিশ দিয়ে জমি দখল করে পদস্থ কর্মকর্তাদের নামে সাইনবোর্ড টাঙানো, বাড়ি বানানোয় ৬০ পুলিশকে রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে ব্যবহার, প্রভাবশালী পরিবারের দোহাই দিয়ে দুদকের তদন্ত থেকে অব্যাহতি, নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি অর্জন, কনস্টেবল রিলিজে উৎকোচ গ্রহণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বাস্তবতা হলো, এতসবের পরও রহস্যজনক কারণে মীজানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। একের পর এক বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলেও চুপ পুলিশ সদর দপ্তর।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আদালতের নাম ব্যবহার করে একদিকে পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন মীজান; অন্যদিকে ডিআইজি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে মন্ত্রণালয়ে জোর তদবির চালাচ্ছেন। একজন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার এভাবে লাগাতার অপকর্ম পুলিশ বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসপি মীজানুর রহমানের লাগাতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ। এখন ‌আবার তিনি আদালতের দোহাই দিয়ে ডিআইজির ব্যাজ-র‍্যাংক পরে বের হচ্ছেন।

‘তিনি বলছেন, আদালত তাকে প্রমোশন দিয়েছে। কিন্তু আদালত তো আমাদের বলবে রায় বাস্তবায়ন করতে। আমরা প্রজ্ঞাপন জারি করে তা প্রতিপালন করব। কিন্তু তিনি তার আগেই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বসে আছেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডমিন) কামরুল আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, তাই কথা বলা কঠিন। সব দেখে পরে বলব।’

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (জননিরাপত্তা) আকতার হোসেইন ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ) জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মীজানুর রহমান পদোন্নতি না পেয়ে একটার পর একটা মামলা করেন পুলিশ বিভাগের নামে। তিনি বলে থাকেন, আদালত তাকে পদোন্নতি দিয়ে ব্যাজ-র‍্যাংক পরতে বলেছে। সম্প্রতি তিনি নাকি আদালত থেকে ডিআইজি হওয়ারও রায় পেয়েছেন। আমরা এখনও রায়ের কপি পাইনি। তবে জেনেছি, রায়ের কপি পেলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।’

‘আমরা জানি না আসলে আদালত তাকে কী বলেছে। আমি এখনও রায়ের কপি হাতে পাইনি। তবে ওনাকে দেখি, একজন পুলিশ সুপার হয়েও ডিআইজির ব্যাজ-র‍্যাংক পরে ঘোরাঘুরি করেন।’

আদতে এসপি, পরেন ডিআইজির র‍্যাংক ব্যাজ
পুলিশ সুপার মীজানুর রহমান পরে আছেন ডিআইজির র‍্যাংক-ব্যাজ। ছবি: নিউজবাংলা

আদালত মূলত কী বলেছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, “তার ‘পদোন্নতিতে বাধা নেই’ বা ‘পদোন্নতি দেয়া হলো’ এমন কোনো কথা রায়ে নেই। আপিল বিভাগের রায়ে কিছু ক্লারিক্যাল ভুলও আছে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সেটা সংশোধনের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছি। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত ২৩ অক্টোবর দিন ঠিক করে দিয়েছে।”

মীজানুর রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার মৌসুমী কবিতা ফাতেমা বলেন, ‘আদালত কী বলেছে তা সার্টিফায়েড কপি দেখে বুঝে নেবেন। এখন আর এই মামলা চলমান নেই। তাই আর কথা বলব না।’

এসপি হয়ে ডিআইজির ব্যাজ-র‍্যাংক পরা বৈধ না অবৈধ- এমন প্রশ্নের উত্তরও এড়িয়ে যান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মীজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু একাধিকবার কল করেও মীজানকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ১৫ সেপ্টেম্বর ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেন মীজানুর রহমান। মীজানের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মো. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। পুলিশের মহাপরিদর্শককেও (আইজিপি) এ নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে তিনি পদোন্নতির সঙ্গে বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের কথাও উল্লেখ করেন। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে ডিআইজিসহ পরবর্তী উচ্চপদে পদোন্নতি পেতে তার আর কোনো বাধা নেই বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মীজানুর রহমান ১৯৮৯ সালে উপপরিদর্শক পদে পুলিশে যোগ দেন। পরে ১৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ১৯৯৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার, ২০০৩ সালে অ্যাডিশনাল এসপি ও ২০০৬ সালে এসপি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এই কর্মকর্তা। ওই পদে থেকেই ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ডিআইজি হিসেবে র‌্যাংক ব্যাজ পরা শুরু করেন তিনি। এর আগে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ২০১০ সালে বাগেরহাটের এসপির পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল তাকে।

আরও পড়ুন:
‘ভুল চিকিৎসা’য় প্রসূতির মৃত্যুর জেরে সংঘর্ষ
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু
সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ: এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত
বিচারকের মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hundreds of billions of sand dam

শতকোটি টাকায় বালির বাঁধ!

শতকোটি টাকায় বালির বাঁধ! প্রকল্পের একজন কনিষ্ঠ পরামর্শক ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত একজন ঠিকাদার রাতের আঁধারে বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের। ছবি: নিউজবাংলা
‘বেড়িবাঁধ নির্মাণে বালু ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিকো খামখেয়ালি করে যত্রতত্র গর্ত করে বালু ব্যবহার করছে। রাতের আঁধারেও এরা কাজ করছে।’

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা চরদুয়ানী সুন্দরবনের কোলঘেঁষা বলেশ্বর নদীর তীরে মাটির বদলে বালি দিয়ে বেড়ি বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয়রা এ কাজে বাধা দিলেও তোয়াক্কাই করছে না চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, প্রকল্পের একজন কনিষ্ঠ পরামর্শক ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত একজন ঠিকাদার রাতের আঁধারে বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বব্যাংকের কাজের তদারকি ও দেখভাল করার দায় বা দায়িত্ব কোনোটাই তাদের ওপর নেই। এমনকি কাজের দরপত্র, ডিজাইন পর্যন্ত দেখাচ্ছে না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করার পর চলমান বাঁধের কাজ বন্ধে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এসবের তোয়াক্কা করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, বন্যা ও নদী ভাঙন থেকে সুরক্ষায় ২০১৭ সালে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্যাকেজ (সিইআইপি-১) মেগা প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এর আওতায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, বরগুনা সদরের বুড়িরচর ও পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় মোট ছয়টি পোল্ডারে ২০৮ কিলোমিটার বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হয়।

শতকোটি টাকায় বালির বাঁধ!

বিশ্বব্যাংকের অর্থয়ানে এ কাজের মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চংকিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বরগুনা অংশে বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি বরগুনার পাথরঘাটা অংশে ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বলেশ্বর নদের তীরের ৪০/২ পোল্ডারে ৩৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে বাঁধের অভ্যন্তরে থাকা ১৭টি স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ শেষ করেছে তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ মাটি দিয়ে নিমাণ করা হলেও স্লু্ইসগেটের উপরের অংশের বাঁধ ও আশপাশ বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।

পাথরঘাটা জ্ঞানপাড়ার বাসিন্দা জালাল হাওলাদার বলেন, ‘প্রতিটি স্লুইসগেট নির্মাণের পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে নিম্নমানের বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ওই গেটগুলো ছেড়ে দেয়ার পর প্রবল স্রোতে বালি ভেসে গিয়ে স্লুইসগেট অরক্ষিত হয়ে ফসলের মাঠসহ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্লুইসগেটগুলো এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসবে না।

সম্প্রতি চরদুয়ানী ইউনিয়নের জ্ঞানপাড়া এলাকার বলেশ্বর নদের পাড়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘বাঁধের ভেতরের দিকে বিশালাকার গর্ত খুড়ে মাটি স্তপ করে পাশে রাখার পর ওই গর্ত বলেশ্বর নদ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালি তুলে ভরাট করা হয়। এরপর সেই বালি ও মাটি ব্যবহার করে বাঁধের নির্মাণ কাজ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র কনসালটেন্ট মো. সোহেল মিয়া ও চুক্তিভিত্তিক ঠিাকাদার মো. পান্না মিয়া এই কাজ করেন। এভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার কাজ করেছেন তারা। আমি বিষয়টি জানার পর এভাবে কাজ করতে নিষেধ করেছি। কিন্ত তারা আমার কথার তোয়াক্কা করেননি।’

শতকোটি টাকায় বালির বাঁধ!

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, ‘গোটা বাঁধই বালি দিয়ে করার পর ওপরের অংশে সামান্য কিছু মাটির প্রলেপ দিয়ে দায় সারছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করেছি। কিন্তু কেউই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে তা হবে আমাদের জন্য একটা মরণফাঁদ। ঝড়- জলোচ্ছ্বাস এই বেড়িবাঁধের উপর আঘাত করলে তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। নিঃস্ব হয়ে যাবে এই সাগর উপকূলীয় জনপদ।’

চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ঠিকাদার মো. পান্না মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রকল্পের পাথরঘাটা অংশের কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা জুনিয়র কনাসালটেন্ট মো. সোহেল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা স্বীকার করেন। সোহেল বলেন, ‘এখানে মোট ৩০০ মিটারের মতো বালি দিয়ে বাঁধ করা হয়েছে। আমি ঠিকাদারকে নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

শতকোটি টাকায় বালির বাঁধ!

দাতা সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের কনসালটেশন সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বেড়িবাঁধ নির্মাণে বালু ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিকো খামখেয়ালি করে যত্রতত্র গর্ত করে বালু ব্যবহার করছে। রাতের আঁধারেও এরা কাজ করছে। আমরা এ ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তিনটি চিঠি দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।'

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। তারপরও আমি বিষয়টি জানার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।’

এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট লোকদেরকে ডেকে আমি সিডিউল দেখব, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেব।’

আরও পড়ুন:
কপোতাক্ষের বাঁধ মেরামতের স্বেচ্ছাশ্রমে হাজারো মানুষ 
খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ মেরামতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম
কপোতাক্ষের বাঁধ ভেঙে তলিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম
কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে ভাঙন, লোকালয়ে জোয়ারের পানি
খোলপেটুয়ার বাঁধ ভেঙে ডুবেছে গ্রামের পর গ্রাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Danata wants to take charge of ground handling at the airport

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে চায় ডানাটা

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে চায় ডানাটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের অগ্রগতি জানতে চাইলে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা অনেক দূর এগিয়েছে। সর্বোচ্চ মহলে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল আগামী বছরের অক্টোবরে চালু হবে, তার আগেই এটা চূড়ান্ত করা হবে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্য সব বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পেতে আগ্রহী সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডানাটা। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি সমীক্ষা চালাচ্ছে তারা। লাভজনক বিবেচিত হলে পরে তারা আনুষ্ঠানিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেনাটা চট্টগ্রামে গিয়েছে, তারা সেখানে সার্ভে করছে। তারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করতে উৎসাহী।’

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একক আধিপত্যের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে চায় ডানাটা

অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডানাটা। ছবি: অ্যাভিয়েশন অস্ট্রেলিয়া

আগামী বছর শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের আগেই দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়।

এ প্রক্রিয়ায় বিমানও অংশ নিতে পারবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এমিরেটস এয়ারলাইনসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিচ্ছে ডানাটা। বিশ্বের অন্যতম বড় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকটি বিমানবন্দরে তারা এ সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে আছে সিঙ্গাপুরে চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মালদ্বীপের ভেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

বর্তমানে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে এককভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিচ্ছে বিমান। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিমানের সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানকে বাদ দিয়ে নতুন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়।

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে চায় ডানাটা

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিমান কর্মীদের একটি সংগঠনের ধর্মঘটে প্রায় ৫ ঘণ্টা শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ওই ধর্মঘটে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ২৪টি ফ্লাইটের প্রায় ৪ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। সে সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে বিকল্প এজেন্টের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে বিমান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বেবিচক।

বেবিচকের চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ নিরবচ্ছিন্ন করতে বিমান বাংলাদেশ ছাড়াও অন্য এজেন্সিকে অনুমতি দেয়া প্রয়োজন।

এর পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে আধুনিকতা আনতে বিদেশি অংশীদার খোঁজা শুরু করে বিমান। তবে সে প্রক্রিয়াও আর বেশিদূর এগোয়নি বিমান কর্মীদের আরেকটি আন্দোলনের কারণে।

এর আগে, ২০০৬ সালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়, যার ওপর বিমানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি অনুমোদন পায়নি।

বিমানের আয়ের একটি বড় অংশ আসে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে, যা বছরে গড়ে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।

বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট পরিবর্তন) দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের দাবি। কারণ আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার ১০ ভাগও বিমান দিতে পারছে না।

‘তারা বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা চার্জ করে। কিন্তু যে সেবা দেয়ার কথা সেটি দেয় না। এ কারণে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বিমানের উপর ক্ষুব্ধ। পৃথিবীর বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট আছে। এতে সেবা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা থাকে। এখন বিমান একা কাজটি করছে বলে ইচ্ছামতো চলছে।’

সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বিমানের গাফিলতি তুলে ধরে এই এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘কর্মীদের শিফট পরিবর্তনের সময় দেখা যায়, তারা যে যেখানে যে অবস্থায় আছেন, সে অবস্থায় রেখে চলে যায়। পরবর্তী শিফটের কর্মী এলো কি এলো না তারা সেটা দেখে না। এর মধ্যে দেখা যায় যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগেজের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে চায় ডানাটা

দায়িত্ব গ্রহণের তিন সপ্তাহ পর গত আগস্ট বলাকা ভবনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) যাহিদ হোসেন জানান বিমানের কাস্টমার সার্ভিস কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের নয়। ফাইল ছবি

‘সাধারণত আমরা দেখি, যারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তাদের স্টাফরাই কাউন্টারে চেক ইনের কাজ করে। যতগুলো কাউন্টার লাগে সেখানকার স্টাফ তারাই এয়ারলাইনসকে প্রোভাইড করতে বাধ্য। এটার জন্য তারা টাকা নেয়। কিন্তু আমাদের এখানে দেখা যায়, বিমান মাত্র একজন স্টাফ দেয়। এ কারণে প্রতিটি এয়ারলাইনসকেই নিজস্ব স্টাফ নিয়োগ দিতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিমানের সব স্টাফ মাস্টার রোলে কাজ করেন, কেউই স্থায়ী কর্মী নন। তারা দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করেন। এ কারণে তাদের মধ্যে কমিটমেন্ট তৈরি হয় না। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণেরও কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের মানোনন্নয়নে কোনো কাজ করা হয় না। বিমানের এ রকম প্রায় আড়াই হাজার কর্মী আছে।

‘এসব কারণে যাত্রীরা হয়রানির মুখে পড়ছেন। তাদের লাগেজ খোয়া যাচ্ছে, সময় মতো লাগেজ পাচ্ছেন না। সরকার যদি এটা বুঝে নতুন কাউকে দেয় তাহলে আমাদের এখানে সেবার মান অনেক বাড়বে।’

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের অগ্রগতি জানতে চাইলে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা অনেক দূর এগিয়েছে। সর্বোচ্চ মহলে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল আগামী বছরের অক্টোবরে চালু হবে, তার আগেই এটা চূড়ান্ত করা হবে।’

আরও পড়ুন:
টরন্টো ফ্লাইটে আগ্রহ বিদেশি যাত্রীদের
সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার দেনা নিয়েও বিমান লাভজনক?
পাইলট নিয়োগে অনিয়ম: ব্যবস্থার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
বিমানে পাইলট নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত চায় বাপা
ঢাকা-গুয়াংজু রুটে বিমানের দ্বিতীয় ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
13 crores motel stuck in the case

মামলায় আটকা ১৩ কোটি টাকার মোটেল

মামলায় আটকা ১৩ কোটি টাকার মোটেল বাগেরহাট পর্যটন করপোরেশনের মোটেলের মূল ভবনের কাজ আটকে গেছে মাঝপথে। ছবি: নিউজবাংলা
বাগেরহাট শহরের মাজার মোড়ে ৩৩ শতকের বেশি জমির উপরে সাত তলা মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পর্যটন করপোরেশন। কিন্তু ঠিকাদারের করা মামলায় আটকে আছে এটির নির্মাণকাজ। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অধীর হয়ে আছেন, কবে চালু হবে এই মোটেল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাতে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। সেই ঠিকাদার মামলা করে দেয়ায় নতুন করে কাজও শুরু করা যায়নি। বাগেরহাট পর্যটন করপোরেশনের মোটেলের মূল ভবনের কাজ এভাবেই আটকে গেছে মাঝপথে।

২০১৯ সালের জুনে শুরু হওয়া এই ভবনের কাজ ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর ১৫ মাস পার হলেও এখনও শেষ হয়নি এটির নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগেরহাট পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। তবে পর্যটন করপোরেশন বলছে, মূল ভবনের কাজ বন্ধ থাকলেও সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।

বাগেরহাটের টুরিস্ট গাইড গোলাম মাওলা জুয়েল বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে প্রতিদিন কয়েক’শ দেশি-বিদেশি পর্যটক আসে এখানে। তবে ভালো হোটেল-মোটেল না থাকায় অনেক পর্যটক ও দর্শনার্থীকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। থাকার ভালো জায়গা না থাকায় অনেকে পরিবার নিয়ে আসতে চায় না। এ কারণে এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। পর্যটন মোটেল নির্মাণ শুরু হলে আমরা ভেবেছিলাম এসব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু অনেকদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আমরা খুবই হতাশ।’

ষাটগম্বুজ-সুন্দরবন ট্যুরিজম নামের ট্যুর অপারেটরের পরিচালক মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু বলেন, ‘পর্যটন করপোরেশনের এ মোটেলের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের উচিত অতি দ্রুত এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে বাগেরহাটবাসীর আশা-আকাঙ্খা পূরণ করা।’

মামলায় আটকা ১৩ কোটি টাকার মোটেল

ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, বাগেরহাটের পর্যটন মোটেলের সাথে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ জড়িত। এই ভবন নির্মানে যদি কোন জটিলতা থাকে, তাহলে সেসব জটিলতা নিরসন করে অতিদ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বাগেরহাট শহরের মাজার মোড়ে ৩৩ শতকের বেশি জমির উপরে সাত তলা মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পর্যটন করপোরেশন। নির্মাণাধীন এই ভবনে ৩০টি কক্ষ, ৫০ আসনের রেস্টুরেন্ট, অফিস রুম, অভ্যর্থনা কক্ষ, বারবিকিউ রুম ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। পুরো ভবনের আয়তন ২ হাজার ৭৬০ বর্গ মিটার। এর সাথে বাগান করা হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শেষ না করায় পর্যটন করপোরেশন নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাজা রাব্বি বিলকিসের কার্যাদেশ বাতিল করে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করা হয়।

পর্যটন করপোরেশনের সিদ্ধান্তকে অন্যায় দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে খাজা রাব্বি বিলকিস। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে উচ্চ আদালত এ মোটেলের কাজের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। পর্যটন করপোরেশন এই স্থগিতাদের বিরুদ্ধে এখন আদালতে আইনি লড়াই করছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পিটিএস) ও প্রকল্প পরিচালক মো. জাকির হোসেন সিকদার বলেন, ‘ঠিকাদারের দায়িত্ব শুধু ভবন নির্মাণির কাজ ছিল। এর বাইরের কাজ, যেমন বাউন্ডারি ওয়াল, লিফট স্থাপন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মূল ভবনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। মূল ভবনের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা এলাকা ঘিরে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
শীতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা মূল্যে পদ্মা সেতু দেখাবে বিপিসি
বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই
পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর

মন্তব্য

p
উপরে