× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Culture of boycotting elections is a threat to democracy Information Minister
hear-news
player
print-icon

নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচন-বর্জনের-সংস্কৃতি-গণতন্ত্রের-জন্য-হুমকি-তথ্যমন্ত্রী
‘সাংঘর্ষিক রাজনীতি এবং সবকিছুতে না বলার সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতিতে তিক্ততা বাড়িয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে। আমি আশা করব, আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আগামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কিংবা গণতন্ত্রকে সংহত করা কোনো একক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার সকালে ইউএসএইড ও বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র চালাচ্ছে। সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত দায়িত্ব হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা।

‘সাংঘর্ষিক রাজনীতি এবং সবকিছুতে না বলার সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতিতে তিক্ততা বাড়িয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে। আমি আশা করব, আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আগামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের গত ৫০-৫১ বছরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তখনই হুমকির মুখে পড়েছে যখন অস্ত্র উঁচিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হয়েছে। আর সেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে।

‘দেশের কল্যাণে রাজনীতিসহ সব অঙ্গনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশ ও সমাজের উন্নয়নে দেশাত্মবোধ, মানবিকতা এবং মমত্ববোধ জাগ্রত করতে রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক কর্মীরা অনেকেই জানেন না যে রাজনীতি একটা ব্রত।’

আরও পড়ুন:
জনবিচ্ছিন্নদের ৭ দলীয় জোট রাজনীতিতে গুরুত্বহীন: তথ্যমন্ত্রী
কোনো দেশের পক্ষে এভাবে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না: তথ্যমন্ত্রী
‘সেপ্টেম্বরে মাঠে নামছে আ.লীগ, পালানোর পথ পাবে না বিএনপি’
ভোলায় প্রাণহানির দায় বিএনপির: তথ্যমন্ত্রী
১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের প্রধান কুশীলব জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Accused absconding from hanging arrested

ফাঁসির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ফাঁসির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার আসামি গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের ব্রিফিং। ছবি: নিউজবাংলা
‘গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল শহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলমের। পরে তারা একটি এনজিও খোলেন অংশীদারিত্বে। লোভের বশবর্তী হয়ে এনজিওর পুরো মালিকানা পেতেই শাহিন খুন করেন শহীদুলকে।’

বন্ধুকে হত্যায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামি শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

প্রায় ৬ বছর আত্মগোপনে থাকা এ আসামিকে সোমবার মানিকগঞ্জ ঘিওর থানার বড়টিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যা মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল শহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলমের। পরে তারা একটি এনজিও খোলেন অংশীদারিত্বে। লোভের বশবর্তী হয়ে এনজিওর পুরো মালিকানা পেতেই শাহিন খুন করেন শহীদুলকে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর শাহিন ও তার সহযোগিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। এক পর্যায়ে শাহিন জামিন নিয়ে পালিয়ে যান।’

র‍্যাব জানায়, ৬ বছর ধরে নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপনে ছিলেন শাহিন আলম।

২০০১ সালে আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টে চাকরি করার সময় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে শহীদুল ও শাহিনের। শহীদুল আগে একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে দুজনে মিলে এনজিও প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন।

২০০৪ সালে ঢাকা জেলার ধামরাই গোয়াড়ীপাড়ায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে তারা ‘বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা চালু করেন। গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে তারা এনজিওর কাজ চালাতে থাকেন।

দুজন নারী কর্মী নিয়োগ দিয়ে ধামরাই এলাকায় তারা কার্যক্রম বাড়াতে থাকেন। চারটি প্রোগ্রামে ৪৫০ জন সদস্য সংগ্রহ করে সঞ্চয়, ঋণদান এবং ফিক্সড ডিপোজিট কার্যক্রম চালান।

শহীদুলের দক্ষতায় অল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয় সংস্থাটি। লোভের ভশে শাহিন নিজের কব্জায় সবকিছু নেয়ার চেষ্টা করেন। তারই এক পর্যায়ে খুন করেন শহীদুলকে।

মামলায় বলা হয়েছে, আসামি শাহিন তার মামাতো ভাই টাঙ্গাইলের সন্ত্রাসী রাজা মিয়াকে নিয়ে শহীদুলকে হত্যার পরিকল্পনা নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৬ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় শাহিন নিজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা নামক জায়গায় ডেকে নেন শহীদুলকে। সেখানে নম্বরবিহীন মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করছিলেন রাজা মিয়া। সাহেদ, কুদ্দুস, বিষ্ণু সুইপার ও ড্রাইভার রহম আলী ছিলেন তার সঙ্গে।

রাতে শহীদুল যেতে না চাইলে আসামিরা তাকে বাসায় নামিয়ে দেয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসে তুলে নেন। কিছুক্ষণ পর শহীদুলের গলায় রশি পেচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন আসামিরা। এরপর শহীদুলের নিথর দেহ নিয়ে তারা কালামপুর, সাটুরিয়া হয়ে নির্জনস্থান বেতুলিয়া ব্রীজের কাছে যান।

মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহীদুলকে জবাই করা হয়। সেখানে দেহ ফেলে রেখে বিচ্ছিন্ন মাথা পলিথিনে ভরে নাগরপুরের জগতলা নামক স্থানে পুঁতে রাখে।

পরদিন সাটুরিয়া থানা পুলিশ মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে একটি হত্যা মামলা করে। এর দুইদিন পর শহীদুলের মস্তক উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

শহীদুল হত্যা মামলায় সাটুরিয়া থানা পুলিশ দুই এনজিও কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। এরপর পুলিশ শাহিনকে গ্রেপ্তার করে। শাহিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার বিস্তারিত তথ্য জানান। শাহিন আলম ১০ বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৬ সালে জামিন পান। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

শহীদুল হত্যা মামালার রায়ে ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর আদালত শাহিন আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার ৪ সহযোগি সাহেদ, রাজা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস ও বিষ্ণু সুইপারকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

ফাঁসির আসামি শাহিন আলমকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে।

আরও পড়ুন:
২১ বছর লুকিয়ে ছিলেন স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
৬ মাসের সাজা এড়াতে পালিয়ে ছিলেন ৮ বছর
‘সরল বিশ্বাসে খেতা শাহকে আশ্রয় দিয়ে খুইয়েছি স্ত্রী’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Continuity of democracy has no alternative to elections Deputy Speaker

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। ছবি: নিউজবাংলা
শামসুল হক টুকু বলেন, ‘রাজপথে সংঘাত-সহিংসতা না করে সংসদে গিয়ে জনগণের জন্য কথা বলতে হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আমরা সব দলকে সংসদে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রাখতে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর প্রধানমন্ত্রী সব দলকে নিয়েই নির্বাচন করতে চান।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘রাজপথে সংঘাত-সহিংসতা না করে সংসদে গিয়ে জনগণের জন্য কথা বলতে হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আমরা সব দলকে সংসদে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তার কন্যার মধ্যে প্রোথিত আছে বলেই শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন।

‘এ দেশ স্বাধীন করেছে সব ধর্মের মানুষ। তাই ধর্মান্ধতার বিভ্রান্তি থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে।’

টুকু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে যদি জানতে চান তাহলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে যদি জানতে চান তাহলে বাংলাদেশকে জানতে হবে। আমাদের মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে আরও আগেই বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতেন। এখনই সময় দুশমনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। সময় এসেছে আবারও ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৯ ও ১৯৭১-এর মতো একতাবদ্ধ হয়ে হিংস্র শকুনের দলকে রুখে দেয়ার।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানি পরাজিত শক্তির সীমাহীন উল্লাস দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি, তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। দেশকে নিয়ে গেছে অন্ধকারের দিকে।

‘১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশে ফিরে দূর করেছেন সেই অন্ধকার। তিনি শুধু দলের হালই ধরেননি, জাতিকে দিয়েছেন দিশা। দেশকে নিয়ে গেছেন উন্নয়নের পথে। বার বার প্রাণনাশের চেষ্টার পরও তিনি দমে যাননি।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রফেসর হারুন অর রশিদ, প্রফেসর মাহফুজা খাতুন, মাওলানা আজাদ, প্রফেসর আব্দুল মান্নান, প্রফেসর নিজামুল হক, সৈয়দ বোরহান কবির, প্রফেসর সাদেকা হালিম, ড. উত্তম বড়ুয়া, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিটিভিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tourism Day State Minister wants 36 runs from 6 balls

পর্যটন দিবস: ৬ বলে ৩৬ রান চান প্রতিমন্ত্রী

পর্যটন দিবস: ৬ বলে ৩৬ রান চান প্রতিমন্ত্রী পর্যটন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা পর্যটনকে একটা টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এটাই হোক আমাদের আজকের পর্যটন দিবসের প্রতিশ্রুতি।’

দেশের পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করার লক্ষে ছয় বলে ৩৬ রান করতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে সেই সুযোগটা রয়েছে ছয় বলে ৩৬ রান করার। আমাদের সমস্ত উপকরণ আছে, আমাদের ইচ্ছা আছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা পর্যটনকে একটা টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এটাই হোক আমাদের আজকের পর্যটন দিবসের প্রতিশ্রুতি।’

পর্যটন দিবস: ৬ বলে ৩৬ রান চান প্রতিমন্ত্রী

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত হলে আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য দেন বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের ইতিহাসের ওপর আঘাত এসেছে দাবি করে মাহবুব আলী বলেন, ‘ঐতিহ্য ম্লান করা হয়েছে এবং মূল্যবোধগুলোকে পদাঘাত করা হয়েছে। আজকে সময় এসেছে এগুলো রিকভারি করার। আমাদের মূল্যবোধ ধরে রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, মূল্যবোধ, চেতনা এগুলো ধারণ করা এবং আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বিশ্বের মধ্যে অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেক দূর এগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলায় উপজেলায় এর চেয়ে বেশি তথ্য উপাত্ত আছে। সবার বক্তব্যই এসেছে এটি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য। সামনে আমরা আরও চেষ্টা করব দীর্ঘ সময় পরিকল্পনা করে এই আয়োজন করার। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনের জন্য ডেডিকেটেড করার চেষ্টা আমরা করব। কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, তবে আমরা সব শহরে এটা ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী বছর চেষ্টা করব আরও সবাইকে ধারণ করে যাতে করে এক-দুই মাস আগ থেকে প্রস্তুতি নেব। আরও বড় আকারে বড় ধরনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করব। বিশ্ববাসীর আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আরও জানতে পারবে।’

পর্যটন দিবস: ৬ বলে ৩৬ রান চান প্রতিমন্ত্রী

সকালে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও হাতি-ঘোড়া নিয়ে র‍্যালির আয়োজন করে পর্যটন করপোরেশন। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলিপ্ত ঘটনা ঘটে, এটা সংশ্লিষ্ট দেশের সংবাদমাধ্যম নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক মাস আগে কক্সবাজারের একটা ঘটনা পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ একটা ঘটনায় যেনো পুরো সেক্টরে ক্ষতি না হয়। আর আমরাও চাই একটি অপরাধও যাতে দেশে না হয়।’

পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন। বলেন, ‘আমরা কোভিড পূর্ববর্তী যে ব্যবস্থা ছিল সেখানে যেতে চাই না। তার চেয়ে অনেক এগিয়ে যেতে চাই।’

পর্যটনকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার জন্য মিডিয়ার ভূমিকা বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্যটনের উন্নয়নে মিডিয়া কিন্তু সরকার ও বেসরকারি খাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব রাখে।’

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সচিব বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব দেশের স্বার্থে আমরা যেন পজিটিভলি খবর প্রকাশ করি।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে যাব।’

এ দিকে আলোচনা সভা শুরুর আগে সকালে হাতি-ঘোড়া নিয়ে র‍্যালির আয়োজন করে পর্যটন করপোরেশন। ‘রিথিংকিং ট্যুরিজম অর্থাৎ ‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’এই বিষয়টিকে প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস৷

আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের সামনে থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। শুরুতে রয়েছে টুরিস্ট পুলিশের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। এরপরে গ্রাম বাংলার আবহের ঐতিহ্য হিসেবে প্রতীকী পালকি। আর সেই পালকিতে দেখা মেলে প্রতীকী নতুন বর-কনের। সেই সঙ্গে ছিল বাংলার আদিবাসী, জেলে, বাউলসহ নানা চরিত্র। ছিল ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি ও হাতি।

এছাড়া পর্যটন করপোরেশন আয়োজন করেছে খাদ্য উৎসব, লাইভ কুকিং শো এবং হোটেল-মোটেলের আবাসনে ৩০ শতাংশ ছাড়।

এদিকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলি কদর ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের।

আরও পড়ুন:
শীতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা
পর্যটনে প্রকৃতি সংরক্ষণে জোর জাতিসংঘের
ফাঁকা সৈকতে খুশি পর্যটকরা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The news of Eden College closure is rumours

ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব

ইডেন কলেজ বন্ধের খবরটি গুজব ইডেন মহিলা কলেজ। ফাইল ছবি
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ নানা ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল এই ক্যাম্পাস। এ অবস্থায় সোমবার রাতে ক্যাম্পাস বন্ধের খবর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ আকস্মিক বন্ধ ঘোষণার খবরটি গুজব বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে তিনি এ তথ্য জানান। বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এটি গুজব।’

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিসহ নানা ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল এই ক্যাম্পাস। এ অবস্থায় সোমবার রাতে ক্যাম্পাস বন্ধের খবর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ নিয়ে কয়েকটি নিউজপোর্টালও সংবাদ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সোমবার রাতে হল কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে আবাসিক ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

তবে ইডেন অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের সাত কলেজের পরীক্ষা চলছে, ইন্টার্নাল প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছে, ভাইবা চলছে, প্রথম বর্ষের মেয়েদের টেস্টের রেজাল্ট হচ্ছে আর মাস্টার্সেরও ক্লাস চলছে।

‘সুতরাং সবাই ব্যস্ত। এখন হল খালি করার কোনো নির্দেশনা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। এখানে কলেজ বন্ধ বা হল বন্ধের কোনো ব্যাপার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আর পূজার বন্ধ যেটি সেটি তো স্বাভাবিক বন্ধ। প্রতিবারের মতো সে সময়ও হোস্টেল খোলা থাকবে।’

ইডেন অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয় ইডেনে চলমান ঘটনা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত চলছে।’

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার অডিও ফাঁস এবং ছাত্রীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগের তদন্তের আপডেট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি এখন না বলি। সব তদন্তের রিপোর্ট একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যের কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। অন্যরা এর প্রতিবাদ জানালে আবারও সংঘর্ষ হয় দুই পক্ষের।

এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কমিটি থেকে ১৬ জনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

পরে সোমবার বহিষ্কার আদেশের প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমরণ অনশনে বসেন ছাত্রলীগের ওই ১৬ জন। তবে ১ ঘণ্টা পরই তারা স্থান ত্যাগ করেন।

ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি তখন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনশন করতে আসছিলাম। এখন চলে যাচ্ছি। অনশন করব না।’

বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা অনশন শুরু করলে আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী সংসদের সদস্য আবদুল আউয়াল শামীম তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’
আমৃত্যু খাবার মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The health risk of used paper is not serious

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ ফুটপাতে বসা ছোলা মুড়ির দোকানে ব্যবহৃত কাগজে খাবার দিচ্ছেন বিক্রেতা। ছবি: নিউজবাংলা
‘খবরের কাগজ/ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এ ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ছাড়া পুরোনো কাগজে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবও থাকে। খবরের কাগজ, ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এর ঠোঙায় বা উক্ত কাগজে মোড়ানো খাদ্য নিয়মিত খেলে, মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনি রোগসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হতে পারে।’

খোলা খাবার কেনাবেচার ক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিক একটি চিত্র। তবে এ যে স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর, সে বিষয়ে কারও যেন কোনো খেয়ালই নেই।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করছে এক দোকানে। বেচাকেনা হচ্ছে দেদার। কোনো ক্রেতা মুড়ি নিচ্ছেন প্লেটে, কেউ বা কাগজের মোড়কে। সেই মোড়ক তৈরি হয়েছে মূলত বইয়ের পাতা ব্যবহার করে।

সেই বইয়ের কাগজে এমন সব রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের পেটে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার মানুষের হাত থেকেও জীবাণু সংক্রমিত হয়েছে, সেটি বই পড়ার সময় আবার মোড়ক বানানোর সময়ও। কিন্তু না ক্রেতা, না বিক্রেতা, কারও মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে এতটুকু ভাবান্তর দেখা গেল না।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা মাসুম মিয়া আসলে জানেনই না যে, এই কাগজ থেকে রোগ ছড়াতে পারে।

পাশেই খাজা বিক্রি করছিলেন এক নারী। তারও ধারণা ছিল না ব্যবহৃত কাগজে খাদ্য বিক্রির বিপদ সম্পর্কে। বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, ‘এই কাগজে যে ক্ষতি অয় তা তো জানতামই না।’

এখন তো জানলেন, তাহলে কী করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এহন থেইকা প্লেটে দিমু।’

ওনার কাছ থেকেই খাজা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন আনিস রহমান। তিনি বলেন, ‘জানি এগুলো ক্ষতিকর। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এভাবেই নেই। বাচ্চারা পছন্দ করে। তবে এরপর সতর্ক হব।’

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ
ব্যবহৃত কাগজে খাবার দিচ্ছেন এক দোকানদার। ছবি: নিউজবাংলা

মোড়ে মোড়ে ঝালমুড়ি, ফুচকা, জিলাপি, পরোটা, পুরি, শিঙাড়া বা এই ধরনের খাবার পরিবেশন বা পরিবহনে যে মোড়কগুলো ব্যবহার করা হয়, তার সবই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মধ্যে পলিথিনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যবহৃত কাগজের মোড়ক নিয়ে কারও মধ্যে ভাবান্তর নেই।

পরোটা পরিবহনের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রধানত খবরের কাগজ কেটে তা দিয়ে খাদ্যপণ্যটি মুড়িয়ে দেন। অনেক সময়ই দেখা যায় গরম পরোটায় কাগজের অক্ষর লেপ্টে গেছে।

এই বিষয়টি জানিয়ে যে কয়জন খাবার বিক্রেতার সঙ্গে নিউজবাংলা কথা বলেছে, তাদের সবাই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এভাবে খাবার দেয়া না যায়, তাহলে তারা আসলে কী করবেন।

তেজগাঁওয়েরই একটি খাবার হোটেলে কাগজে মুড়িয়ে মোগলাই পরোটা বিক্রি করছিলেন রায়হান। তিনিও বলেন, ‘এভাবেই বিক্রি করব। আর তো কিছু করার নাই।’

বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থার ভূমিকাও একেবারেই দায়সারা গোছের। প্রায় এক দশক আগে করা আইনে এভাবে খাবার মোড়কজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করা হলেও এর প্রচারেও নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।

তবে সম্প্রতি পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভোক্তা এবং বিক্রেতাদের সাবধান করা হয়েছে। এই ব্যবহৃত কাগজের রং ও রাসায়নিক মানবস্বাস্থ্যের কী কী ক্ষতি করতে পারে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি কয়জন মানুষের হাতে পৌঁছে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ
হোটেলে তৈরি হচ্ছে খাবার, পরিবেশন করা হচ্ছে ব্যবহৃত কাগজে। ছবি: নিউজবাংলা

কী ক্ষতি

পুরোনো কাগজ প্রধানত কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। এরপর তা যায় মোড়ক তৈরির কারখানায়। সেখান থেকে তা আবার আসে বাজারে। এরপর কেজি বা শ হিসেবে তা কিনে নিয়ে আসা হয়। এই তৈরি ও পরিবহনের সময় এগুলোতে জীবাণুতে সংক্রমণ হতে পারে। এগুলো প্রিন্ট করার সময় যেসব রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর বিপত্তি তো আছেই।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এনামুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন এই কাগজ প্রস্তুত হয়, এতে ক্লোরাইড, ডলোমাইড, হাইড্রোফ্লোরিস এসিড, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম সালফেট থাকে। আবার এগুলোতে যখন ছাপার জন্য কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে যে উপাদান যেমন ক্যাডমিয়াম, কপার, জিংক, রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া পুরোনো কাগজে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবও থাকে।’

তিনি বলেন, 'গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। আবার এই কাগজগুলো যেসব জায়গা থেকে আসে সেখানেও জমে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু। তাই এগুলো পরিহার করা জরুরি।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘খবরের কাগজ/ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এ ব্যবহৃত কালিতে ক্ষতিকর রং, পিগমেন্ট ও প্রিজারভেটিভস থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ছাড়া পুরোনো কাগজে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবও থাকে। খবরের কাগজ ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এর ঠোঙায় বা উক্ত কাগজে মোড়ানো খাদ্য নিয়মিত খেলে, মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনিরোগসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হতে পারে।’

করণীয় কী

এই প্রশ্নটাই আসলে সবচেয়ে জটিল, যার সঠিক এবং সহজ কোনো জবাব পাওয়া কঠিন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পথ খাবার ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের খাদ্য স্পর্শক প্রবিধানমালা, ২০১৯ অনুসরণ করে পরিষ্কার ও নিরাপদ ফুডগ্রেড পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে সেই বিধিমালায় স্পষ্ট করে কোন কোন পাত্র ব্যবহার করা উচিত, তার বর্ণনা নেই। মোড়কজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কী করতে হবে, সেটিও এমন ভাষায় বর্ণনা করা, যার পাঠোদ্ধার করা সাধারণের পক্ষে কঠিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদুল জাহিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব কাগজ ব্যবহার হয়, তা নোংরা জায়গা থেকে আসে। এতে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে থাকে।’

তাহলে বিক্রেতারা কী ব্যবহার করবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ফ্রেশ (অব্যবহৃত) পেপার দিয়ে ব্যাগ তৈরি করা যায়, বা ফয়েল পেপার ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার বা রি ইউজেবল ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে।’

এসব খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে ছোট ম্যালামাইন বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে পাত্রগুলো ব্যবহারের পরেই ধুয়ে ফেলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সাজা কঠোর

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পথ খাবার ব্যবসায়ীসহ অনেক খাদ্য ব্যবসায়ী খবরের কাগজ/ছাপা কাগজ/লিখিত কাগজ এর মাধ্যমে ঝালমুড়ি, ফুচকা, সমুচা, রোল, শিঙাড়া, পেঁয়াজি, জিলাপি, পরোটা ইত্যাদি পরিবেশন করছেন, যা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জিসান মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই আইন অমান্য করলে ৩৩ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন এক বছর, সর্বোচ্চ তিন বছর, ন্যূনতম তিন লাখ টাকা ও অনূর্ধ্ব ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।’

দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে সাজা তিন বছর, জরিমানা ১২ লাখ টাকা অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে আইনে।

ব্যবহৃত কাগজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক, নেই ভ্রুক্ষেপ
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেই বিজ্ঞপ্তি

আইন প্রয়োগের উদাহরণ নেই

আইনটি করা হয়েছে ২০১৩ সালে। এর প্রয়োগের দৃষ্টান্ত নেই।

নয় বছর পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়াটা সংস্থাটির অবহেলার প্রমাণ কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

নিউজবাংলা কর্তৃপক্ষের তিন জন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কথা বলেননি কেউ।

প্রথমে যোগাযোগ করা হয় সদস্য (খাদ্য ভোগ ও ভোক্তা অধিকার) রেজাউল করিমের সঙ্গে। বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই বলতেই তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি সম্পৃক্ত না। এটা অন্যজন দেখে।’

সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে ও আইন ও নীতি শাখার সদস্য শাহনওয়াজ দিলরুবা খানকে ফোন দিলে তারা দুই জনই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
এশিয়ার সেরা স্ট্রিট ফুডের তালিকায় ‘ফুচকা’
চবিতে ‘সেরা খাদক’ নূর
মুড়ি নিয়ে কেউ কিছু জানে না
কালাই রুটির কদর বাড়ছে রাজধানীতে
পুরান ঢাকায় নিরামিষের এক স্বর্গরাজ্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Composer and music director JK Majlish is in jail

সুরকার ও সংগীত পরিচালক জে কে মজলিশ কারাগারে

সুরকার ও সংগীত পরিচালক জে কে মজলিশ কারাগারে আদালতে সুরকার ও সংগীত পরিচালক জে কে মজলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
আরটিভির আয়োজন ‘ফোক স্টেশন’ এর আড়াই শ গানের স্বত্ব নিজের বলে দাবি করে আসছিলেন সুরকার ও সংগীত পরিচালক জে কে মজলিস। সেসব গান অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রকাশ ও প্রচার করছিলেন তিনি।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির আয়োজন ‘ফোক স্টেশন’-এর গানগুলোর স্বত্ব নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সুরকার ও সংগীত পরিচালক জে কে মজলিশকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়।

আরটিভির আয়োজন ‘ফোক স্টেশন’ এর আড়াই শ গানের স্বত্ব নিজের বলে দাবি করে আসছিলেন সুরকার ও সংগীত পরিচালক জে কে মজলিস। সেসব গান অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রকাশ ও প্রচার করছিলেন তিনি।

আরটিভি কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, জে কে মজলিশ ওয়ার্ক ফর হায়ার বেসিস মিউজিক রি-অ্যারেঞ্জ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ একাধিকবার কথাও বলেছে, এমনকি আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে।

সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশন জেকে মজলিশসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন জুয়েল ডি কস্তা ও গানবক্স মিউজিকের স্বত্বাধিকারী।

রোববার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকার ৬ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে জে কে মজলিশকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। অন্য দুই আসামিকেও খুঁজছেন তারা।

গ্রেপ্তারের পর জে কে মজলিশের জামিনের জন্য তার আইনজীবী আবেদন জানালে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

আরটিভির দাবি, তাদের কপিরাইটকৃত গানগুলো স্পটিফাই, অ্যাপেল মিউজিক, প্রাইম মিউজিক, জিও সেভেন, ডেজার, ইউটিউব মিউজিক ও স্টার আই টিউনসসহ আরও বেশ কয়েকটি প্লাটফর্মে প্রকাশ করেছে জে কে মজলিশ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The worker died after falling from the building

ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেয়া হলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

নিহত ২০ বছর বয়সী ব্যক্তির নাম আফজাল মিয়া।

আফজালের ছোট ভাই জুয়েল মিয়া জানান, বসিলা স্বপ্নধারা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ১৫তলা ভবনের সাইডে দাঁড়িয়ে আস্তরের কাজ করার সময় সেখান থেকে অসাবধানবশত নিচে পড়ে যান আফজাল। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান অবস্থার অবনতি হলে নেয়া হয় ঢামেকে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৬১
হাজারীবাগে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু
কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে