× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Mourning procession in Chittagong to commemorate Karbala
hear-news
player
print-icon

কারবালা স্মরণে চট্টগ্রামে শোকের মিছিল

কারবালা-স্মরণে-চট্টগ্রামে-শোকের-মিছিল
চট্টগ্রামে মঙ্গলবার শোক মিছিল করেছে শিয়া মতাদর্শী মুসলিম সম্প্রদায়। ছবি: নিউজবাংলা
শিয়া ইমামিয়া ইশনা আশারা সদরঘাট ইমাম বারগাহ’র ব্যানারে বন্দর নগরীর সদরঘাটে ইমামবাড়ি থেকে মিছিল বের হয়ে নিউমার্কেট মোড় প্রদক্ষিণ করে ফের ইমামবাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে মিছিলে খালি পায়ে শামিল হন কয়েক শ নারী-পুরুষ। 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণে চট্টগ্রামে শোক মিছিল করেছে শিয়া মতাদর্শী মুসলিম সম্প্রদায়।

মঙ্গলবার শিয়া ইমামিয়া ইশনা আশারা সদরঘাট ইমাম বারগাহ’র ব্যানারে নগরীর সদরঘাটের ইমামবাড়ি থেকে এই মিছিল বের হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় এই মিছিলে খালি পায়ে শামিল হন কয়েক শ নারী-পুরুষ। মিছিলে শোহাদায়ে কারবালা স্মরণে প্রতীকী কফিন বহন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

মিছিলটি নগরীর সদরঘাট ইমামবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কালীবাড়ি মোড় হয়ে নিউমার্কেট মোড় প্রদক্ষিণ করে ফের ইমামবাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। বরাবরের মতোই এবারও এ দিনে ইমামবাড়িতে নানা আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবছর ১০ মহরম আশুরার দিনে কারবালার ঘটনা স্মরণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই মিছিলের আয়োজন করে শিয়া সম্প্রদায়। করোনার কারণে গত দুই বছর বড় মিছিল বের করা সম্ভব হয়নি। দুই বছর পর এবার সদরঘাট ইমামবাড়ি থেকে মাওলানা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে বড় আকারের মিছিল বের হয়।

মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বহু বছর ধরে এটা চলে আসছে আমাদের। এদিন মিছিল শেষে আমরা কারবালার শহীদদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করি। কীভাবে তাদের অনুসরণ করা যায়, তা পরবর্তী প্রজন্মকে জানানোর চেষ্টা করি।’

মিছিলে কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে নানা স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। এদিন নগরীর ঝাউতলা, শেরশাহ ও হালিশহর এলাকা থেকেও শোকমিছিল বের করার কথা রয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Beginning of Devipaksha

দেবীপক্ষের সূচনা

দেবীপক্ষের সূচনা দেবীপক্ষ শুরু হয়েছে আজ ভোর থেকে। ফাইল ছবি
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন গজ বা হাতিতে। এর ফলে বসুন্ধরা হবে শস্যপূর্ণ। আর দেবীর বিদায় হবে নৌকায়, যার অর্থ শস্য ও জলবৃদ্ধি। দেবীর এই আগমন ও গমনে যারা বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এ বছরটা সত্যিকার অর্থেই কল্যাণকর।

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন মহালয়া আজ। ভোর থেকে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষ তিথিকে বলা হয় ‘দেবীপক্ষ’। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন কৈলাসের শ্বশুরালয় ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে পৃথিবীতে আসেন দেবী দুর্গা। তখন থেকেই মণ্ডপে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়।

এদিন অমাবস্যার শুরু এবং পরবর্তী পূর্ণিমায় কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেবীপক্ষ। মহালয়ার পাঁচ দিন পর মহাষষ্ঠীতে শুরু হয় মূল দুর্গোৎসব।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন গজ বা হাতিতে। এর ফলে বসুন্ধরা হবে শস্যপূর্ণ। আর দেবীর বিদায় হবে নৌকায়, যার অর্থ শস্য ও জলবৃদ্ধি। দেবীর এই আগমন ও গমনে যারা বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এ বছরটা সত্যিকার অর্থেই কল্যাণকর।

পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার দিনেই ব্রহ্মার কাছ থেকে মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব পান দেবী দুর্গা। ব্রহ্মার বরেই মহিষাসুর মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন, তিনিই দেবী দুর্গা। দশভুজা দুর্গা টানা ৯ দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আবাহন। আর এ চণ্ডীতেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা ও তার প্রশস্তি।

মহালয়া উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে, ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোরে চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে ঘট স্থাপন করা হয়।

এবার সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপ ৩২ হাজার ১৬৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে।

আরও পড়ুন:
প্রতিমা শিল্পী সংকটে ঝালকাঠি
দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা থাকবে আনসার
দুর্গাপূজার ব্যস্ততা শুরু কুমারটুলিতে
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো
‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
50 puja mandaps have increased in the country this year

দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি

দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি শনিবার দুর্গোৎসব নিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়- দুর্গাপূজা চলাকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়া; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্কুল, কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা না রাখা এবং এই সময়কালে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা না রাখা।

সারা দেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছর ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হয়। সে হিসাবে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

শনিবার দুর্গোৎসব নিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকায় এ বছর ২৪১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব, যা গত বছরের থেকে ছয়টি বেশি। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

রোববার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হবে। আর ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, ‘গত বছরের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বছর সরকার চাচ্ছে, কোনো অবস্থাতেই যেন দুর্গাপূজা ঘিরে দেশে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি সক্রিয়।

‘সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপের সুরক্ষা দেয়া খুব কঠিন। তাই আমরা এ বছর প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করছি, যারা রাতেও মণ্ডপ পাহারা দেবে।’

জে এল ভৌমিক বলেন, ‘গত বছর পূজার সময়ে হামলার ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হয়নি। আমাদের দাবি, ওইসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের কথা বলা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগেই এটা করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ের প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেগুলো হলো- দুর্গাপূজা চলাকালীন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়া; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্কুল, কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা না রাখা; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা না রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়৷

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুর্গাপূজায় দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা; অন্যান্য জাতীয় উৎসবের মতো দুর্গাপূজাও জাতীয় মর্যাদায় পালনের পদক্ষেপ নেয়া; কারাগার, হাসপাতাল ও অনাথ আশ্রমে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা; দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন প্রণয়নে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, অর্পিত সম্পত্তি ফেরত প্রদানে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া।

এ ছাড়া রয়েছে- দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি সরকারের এই মেয়াদে বাস্তবায়ন করা; হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন করা; প্রতিটি জেলায় একটি করে মডেল মন্দির কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা; টোলগুলোর সংস্কার ও টোল শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন ধার্য করা এবং ২০২১ সালে দুর্গাপূজার সময়ে সংঘটিত সহিংসতাসহ বিভিন্ন সময়ে দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত ও দ্রুত বিচার করা।

আরও পড়ুন:
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা
বরিশালে দুর্গা পূজার ‘বাজেট কম’
পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা পূজাকে ঘিরে রাজনৈতিক তর্ক যুদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Artisans are busy making Durga Puja idols in Old Dhaka

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা পুরান ঢাকার একটি মন্দিরে চলছে পূজার শেষ প্রস্তুতি। প্রতিমা বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

বাংলাবাজারের নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়িতে দুর্গার বাহকসহ প্রতিমার শাড়ি ও অলংকার পরানোর কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আলোকসজ্জা ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজান হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপ। প্রতিমা দেখতে এখনই দর্শনার্থীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ১ অক্টোবর (১৪ আশ্বিন) ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ৫ অক্টোবর (১৮ আশ্বিন) বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়। শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয় পুরান ঢাকায়। এবার শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ।

এ বছর পুরান ঢাকায় নবকল্লোল পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী শিব মন্দির, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, সংঘমিত্র পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী রাধা মাধব জিউ দেব মন্দির, নতুন কুঁড়ি পূজা কমিটি, নববাণী পূজা কমিটি, রমাকান্ত নন্দীলেন পূজা কমিটিসহ আরও বেশ কিছু ক্লাব পূজা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিবমন্দীর, তাঁতী বাজার, সঙ্গ মিত্র, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, গোয়ালনগর ঘাট, জুলন বাড়িতে বড় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

কারিগররা সাধারণত অজন্তা ধাঁচের প্রতিমা বানিয়ে থাকেন। এগুলো ওরিয়েন্টাল প্রতিমা হিসেবে পরিচিত। অজন্তা ধাঁচের মূর্তির চাহিদা এখন বেশি। এ ধরনের মূর্তিতে শাড়ি, অলংকার ও অঙ্গসজ্জা সবই করা হয় মাটি ও রঙ দিয়ে। প্রতিমার শাড়ি, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ আলাদাভাবে কিনে নিতে হয়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়। দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা। দুর্গা মাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।

শাঁখারিবাজারের সংঘমিত্র পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন মানিকগঞ্জের সুকুমার পাল। এবারের দুর্গোৎসবে এখানকার ছয়টি প্রতিমা সহ বনানীতে আরও ছয়টি বানাচ্ছেন তিনি। নিউজবাংলাকে সুকুমার পাল জানান, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকায় এসব প্রতিমা বানানো হচ্ছে।

শাঁখারিবাজার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী বলাই পাল। তিনি বলেন, ‘এখনই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তাই দম ফেলার সময়ও নেই। এর মধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।’

কাজ শেষে বিশ্রামের ফাঁকে প্রতিমা শিল্পী পল্টন পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যত কষ্টই করি না কেন, যখন দেবীকে তার স্বরূপে মণ্ডপে বসানো হবে তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি প্রতিমাকে সবাই পূজা করে। তখন নিজেকে আমার সফল, সার্থক মনে হয়।’

শাঁখারি বাজারের প্রতিমা শিল্পী সুশীল নন্দীর মৃত্যুর পর এবার এ মন্ডপের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন তার মেয়ে অনামিকা নন্দী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবার কাছে এই কাজ দেখে ও শিখে আসছি। প্রাথমিকভাবে খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতা, তারকাটার প্রয়োজন হয়। মূর্তি শুকানোর পর রঙ করা হয়।’

জগন্নাথ অ্যাপার্টমেন্টে বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত ধষরত পাল। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, পাটুরিয়া, সাভার সহ বেশ কিছু জায়গা থেকে মাটি আনা হয়। আর সব জায়গার মাটি দিয়ে মায়ের প্রতিমা তৈরি করা হয়।

প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশি পাল জানান, খড় আর কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন রঙ আর তুলির আঁচড় দিয়ে দুর্গাকে সাজানো হবে।

দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anxiety over Durgotsava at Tumbru border

তুমব্রু সীমান্তে দুর্গোৎসব নিয়ে উৎকণ্ঠা

তুমব্রু সীমান্তে দুর্গোৎসব নিয়ে উৎকণ্ঠা তুমব্রুতে শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরের বেড়া ধরে নবনির্মিত প্রতিমার দিকে তাকিছে আছেন সুগন্ধা কর্মকার। ছবি: নিউজবাংলা
শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রূপলা ধর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসি, এসপি ও ইউএনও মহোদয় ডেকেছিলেন। তারা পূজার স্থান অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এলাকার লোকজন তাতে তেমন একটা রাজি না। তার পরও প্রশাসনের অনুমতি না মিললে আমরা পূজা আয়োজন করব না।’

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থেকে ২০০ গজ ভেতরে তুমব্রু শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির। পাশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি পরিবারের বসবাস। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে প্রতি বছর এই মন্দিরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন স্থানীয়রা।

কিন্তু মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষ এবার পূজা আয়োজনে কালো ছায়া ফেলেছে। এই মন্দিরে দুর্গাপূজা আয়োজন নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে।

শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রূপলা ধর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মাস ধরে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যে পরিমাণ গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে তেমনটা অতীতে হয়নি। এ অবস্থায় আসন্ন দুর্গাপূজা আয়োজন নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে।’

রূপলা ধর আরও বলেন, ‘ডিসি, এসপি ও ইউএনও মহোদয় ডেকেছিলেন। তাদের পরিস্থিতি জানিয়েছি। তারা পূজার স্থান অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অর্ধশত বছর ধরে এই মন্দিরে আয়োজন হওয়া এ উৎসব অন্যত্র সরাতে এলাকার লোকজনও তেমন একটা রাজি না। তার পরও প্রশাসনের অনুমতি না মিললে আমরা পূজার আয়োজন করব না।’

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু বর্ডার পরিস্থিতির কারণে এবার তাদের উৎসব নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। তবে প্রশাসনের অনুমতি না মিললে এখানে পূজার আয়োজন করাটা উচিত হবে না।’

মন্দিরের পাশেই সুগন্ধা কর্মকারের বাড়ি। স্বামী-সন্তান নিয়ে মন্দিরের সামনে এসে নবনির্মিত প্রতিমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছেন। কয়েক যুগ ধরে চলে আসা তাদের এই উৎসব নিয়ে চলছে নানা দ্বিধা-বিভক্তি। শেষ পর্যন্ত এই মন্দিরে পূজা হবে কি না জানেন না সুগন্ধা।

তিনি বলেন, ‘বড় করে না হোক। ছোট পরিসরে হলেও যেন এখানে পূজা করতে দেয়া হয়। কারণ সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করা হয়েছে। যে বাজেট ছিল তা খরচও করেছি। এতকিছুর পর যদি উৎসব করতে না পারি তাহলে তা কীভাবে মেনে নেয়া যায়!’

তুমব্রু বাজারের পেছনের বাসিন্দা সুমিতা রায় বলেন, ‘৫০ বছর ধরে আমাদের বাবা-দাদারাও এখানে পূজা করে এসেছেন। কোভিড পরিস্থিতিতেও ছোট পরিসরে এখানে পূজা হয়েছে। এবার একেবারে করতে না পারলে তা হবে হতাশাজনক। তবে প্রশাসনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। তারা অনুমতি দিলে আমরা এখানে পূজার আয়োজন করব।’

আরেক বাসিন্দা প্রদীপ ধর বলেন, ‘দেড় শতাধিক মানুষের একমাত্র উৎসবের কেন্দ্র এই মন্দির। অন্যত্র পূজা করতে হলে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে যেতে হবে। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, এ মন্দিরে পূজা আয়োজনের উদ্দেশ্যে আমরা প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে ইতোমধ্যে সবকিছু কিনে ফেলেছি।’

১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু বাজার শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির। তার পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি পরিবারের দেড় শতাধিক মানুষের বসবাস এই মন্দির ঘিরে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর তারা এখানে পূজার আয়োজন করে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পূজা আয়োজনের সময় মিয়ানমার থেকে কোনো গোলা এসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই পূজা আয়োজনের স্থান অন্যত্র নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সীমিত পরিসরে এই মন্দিরে পূজা আয়োজনের বিষয়টি আমরা ভেবে দেখব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি আমরা এখনও নজরদারিতে রেখেছি। তুমব্রু সীমান্তের মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে বৈঠকেই আছি। এখান থেকে বেরিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

বৃহস্পতিবারও ৫০ গোলার শব্দ

এদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার ঘটনার পর তুমব্রু সীমান্তে আরও তীব্রভাবে গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অন্তত ৫০টি গোলার শব্দ ভেসে এসেছে তুমব্রুর পশ্চিমকূল, উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। এমন অবস্থায় চরম আতঙ্কে আছে এই এলাকার মানুষ।

প্রায় এক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এপারে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও এসে পড়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন।

একই দিন দুপুরে এই সীমান্তেই হেডম্যানপাড়ার ৩৫ নম্বর পিলারের ৩০০ মিটার মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।

২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সেদিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
মিয়ানমার ইস্যুতে আসিয়ানবহির্ভূত দূতদের বৈঠকে অনুপস্থিত চীন
আরাকান আর্মি ও আরসার ওপর দোষ চাপাল মিয়ানমার
মিয়ানমার ইস্যুতে ঢাকার ডাকে আসিয়ানবহির্ভূত দেশের প্রতিনিধিরা
মিয়ানমার ইস্যুতে এবার আসিয়ানবহির্ভূত দূতদের ডাকা হচ্ছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Dinajpur the budget for the puja is tight

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান শেষ মুহূর্তে দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা
পূজা কমিটির সদস্যরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। চলতি বছর বাজারে জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনুদানের পরিমাণও কমে এসেছে। ফলে কমেছে পূজার বাজেট।

ঢাক, কাসর, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। এরই মধ্যে দিনাজপুর জেলায় শুরু হয়েছে আয়োজন। তবে গত দুই বছর করোনার মহামারির ধকল আর চলতি বছরের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও তাতে কমে এসেছে বাজেটের পরিমাণ।

পূজা কমিটির সদস্যরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। চলতি বছর বাজারে জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনুদানের পরিমাণও কমে এসেছে। ফলে কমেছে পূজার বাজেট।

প্রতিমা কারিগররা বলছেন, চলতি বছর কাজের পরিমাণ ভালো থাকলেও কম খরচে ভালো কাজ উপহার দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডেকোরেটর শ্রমিকদেরও কথা একই রকম।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা ও মণ্ডপ প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেকোরেটর শ্রমিক এবং প্রতিমা কারিগররা। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি রয়েছে মাটি চড়ানো ও রং-তুলির কাজ। অন্যদিকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার প্রস্তুত করাসহ মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ করছেন ডেকোরেটর শ্রমিকরা।

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পূজা চলবে দশমী অর্থাৎ আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান

দিনাজপুর পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর জেলায় তিনটি মণ্ডপ বেড়েছে। গত বছর জেলায় ১ হাজার ২৬১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এবার ১৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় পূজা কমিটি থেকে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সমাবেশ এবং জেলায় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজায় প্রতিটি মণ্ডপে আনসারের পাশপাশি টহলে থাকবে পুলিশ ও র‌্যাব।

রাজবাড়ী জেলা থেকে দিনাজপুরে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে এসেছেন অনুপ সরকার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০২০ সালে প্রতিমা তৈরি করার জন্য দিনাজপুরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় করোনা থাকায় আসা হয়নি। ঈশ্বরের কৃপায় এবার এসে কাজ করছি। গতবারের তুলনায় সাড়া ভালো পেয়েছি।

‘এবার একটি বিষয় লক্ষ্য করছি। সব জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় এবার প্রতিমার সরঞ্জামের দাম বেশি। আর তাই খরচও বেশি। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, পূজার আয়োজকরা গত বছর যে কাজ ১০০ টাকায় করিয়েছেন, এবার সেই কাজ ৮০ টাকায় করাতে চাচ্ছেন। আবার করতেও হচ্ছে। কিন্তু কথা হলো ১০০ টাকার কাজ ৮০ টাকায় করে দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেখা যাক কী হয়।’

স্থানীয় প্রতিমা কারিগর স্বপন পাল বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছর প্রতিমা তৈরি করে তেমন ভালো আয় হয়নি। এবার চিন্তা করলাম, ভালো কাজ হবে। কিন্তু এবার জিনিসের দাম বেশি। ফলে কম দামে ভালো কাজ প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা, যা দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে। আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না।’

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান

ভুবন রায় নামে এক ডেকোরেশন শ্রমিক বলেন, ‘এবার দুটি কাজ ধরেছি। প্রতিটি দেড় লাখ টাকা করে। কিন্তু গতবার দুটি কাজ করেছি প্রতিটি ২ লাখ টাকা করে। এবার কাজ করতে গিয়ে একটাই সমস্যা: আয়োজকরা বলছেন, কমের মধ্যে একটি ভালো কাজ চাই। আমরা পড়ছি দ্বিধায়। কাজের চাপ পূর্বের থেকে বেড়েছে। কিন্তু দাম বাড়েনি।’

সদর উপজেলার কাঁটাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুর্জয় দাস তিতুন বলেন, ‘গত বছর পূজার বাজেট ছিল ২ লাখ টাকা, আর এবার দেড় লাখ। কারণ এবার অনুদানের পরিমাণ কমে গেছে। গতবার যে ব্যক্তি ১ হাজার টাকা দিয়েছেন, এবার তার ইচ্ছা থাকলেও সেই পরিমাণ টাকা দিতে পারছেন না। করোনার ধকল কাটতে না কাটতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে পূজার বাজেট কমিয়ে আনতে হয়েছে। তারপরেও একটু চিন্তায় আছি, বাজেট অনুযায়ী অনুদান উঠবে কি না।’

দিনাজপুর পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার বলেন, ‘অনেকেই দেখা যায়, লক্ষ্মী পূজা পর্যন্ত প্রতিমা রাখে। সে ক্ষেত্রে আমরা সেটির দায়ভার নেব না। তারা যদি নিজ দায়িত্বে রাখতে চায় তবে রাখতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
কালীমন্দিরের টিন কেটে প্রতিমা ভাঙচুর
চট্টগ্রামে মণ্ডপে হামলার অভিযোগে আটক ৬৫
প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে চট্টগ্রামে হরতালের ডাক
সিঁদুররাঙা মুখে দেবীকে বিদায়ের প্রস্তুতি
মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরছেন দেবী দুর্গা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The message of Chhatra League is not to exaggerate religious issues

ছাত্রলীগে বার্তা, ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ি নয়

ছাত্রলীগে বার্তা, ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ি নয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ধর্মীয় ইস্যুতে অযাচিত কোনো বক্তব্য কিংবা সংগঠনকে না জানিয়ে মামলা করতে নিষেধ করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই বার্তা সংগঠনের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ সব শাখায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ইস্যুতে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছে ছাত্রলীগ। এ ইস্যুতে অযাচিত কোনো বক্তব্য কিংবা সংগঠনকে না জানিয়ে মামলা করতেও নিষেধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আসন্ন দুর্গা পূজায় যাতে কেউ নাশকতা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ সব শাখায় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতারা জানান, সংগঠনের পদধারী বা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কারও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে সবাইকে। গুজব, নাশকতা বা চক্রান্তের কোনো তথ্য পেলে তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

সংগঠনটির উপ-দপ্তর সম্পাদক সজীব নাথ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই বার্তা সংগঠনের সব পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রীতম দাশ নামে একজনের বিরুদ্ধে ‘ইসলাম অবমাননা’র অভিযোগ তোলেন শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন। আর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন তথাকথিত ছাত্রলীগ কর্মী মাহবুব আলম ভূঁইয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

লেখক বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের কেউ যদি সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কাজে জড়িত থাকেন এবং এ ধরনের মামলার বাদী হন, তবে তারা আদর্শবিচ্যুত কর্মী। যারা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয় এবং এমন মামলার বাদী হয়, তারা কোনোভাবেই ছাত্রলীগের কেউ হতে পারে না। কারণ ছাত্রলীগের মূল নীতি না জানলে, না মানলে সে কীভাবে ছাত্রলীগের কর্মী হবে?’

প্রীতম পাকিস্তানের দুর্দশা নিয়ে দেশটির জনপ্রিয় লেখক মান্টোর একটি উক্তি ৮ জুলাই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। প্রীতমের ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান আবেদ হোসেন। তার ওই পোস্টের পর শ্রীমঙ্গলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রীতম দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন অভিযোগ তোলে ‘আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আর যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অতি উৎসাহে কেউ যাতে মামলা না করে বা ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত দিয়ে বক্তব্য না দেয় সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গলের ওই ঘটনায় প্রীতমের বিরুদ্ধে মামলাকারী ‘মাহবুব’ ছাত্রলীগের কেউ নন বলে পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। তাকে আবেদ ছাড়া ছাত্রলীগের অন্যরা চেনেন না। ঘটনাটি নজরে এলে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ।

শ্রীমঙ্গলের ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম পদক্ষেপ নিচ্ছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় জড়িত আবেদ ও মাহবুবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে লেখক নিউজবাংলাকে জানান, ‘আবেদকে সতর্ক করা হয়েছে। আর মাহবুব ছাত্রলীগের কেউ নন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে ছাত্রলীগের সংবর্ধনা, ফিরে গেল শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ তদন্তে কমিটি
কুবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত
মধ্যরাতের পর ফের সংঘর্ষে কুবি ছাত্রলীগ
মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কুবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rui today whether there will be worship in Gnanabapi Masjid premises

জ্ঞানবাপী মসজিদ প্রাঙ্গণে পূজা হবে কি না রায় আজ

জ্ঞানবাপী মসজিদ প্রাঙ্গণে পূজা হবে কি না রায় আজ উত্তর প্রদেশের বারানসির জ্ঞানবাপী মসজিদ। ছবি: এএফপি
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ও শ্রীনগর গৌরী মন্দিরের পক্ষে পাঁচ নারী আদালতের কাছে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার আবেদন করেন। তারা সেই মন্দিরে পূজা করার অধিকার ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসির জ্ঞানবাপী মসজিদ প্রাঙ্গণে শ্রীনগর গৌরী মন্দিরে পূজা-অর্চনা করা যাবে কি না, সে বিষয়ে আজ রায় দেবে বারানসি জেলা আদালত। গৌরী মন্দিরটির অবস্থান ঐতিহাসিক কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পাশে।

রায়কে ঘিরে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে বারানসিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

জেলা বিচারক অজয় কৃষ্ণ বিশ্বেস গত ২৪ আগস্ট এ-সংক্রান্ত কাশী বিশ্বনাথ মন্দির–জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ও শ্রীনগর গৌরী মন্দিরের পক্ষে পাঁচ নারী আদালতের কাছে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার আবেদন করেন। তারা সেই মন্দিরে পূজা করার অধিকার ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

জ্ঞানবাপী মসজিদ প্রাঙ্গণে পূজা হবে কি না রায় আজ

রায়কে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে বারানসিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ছবি: এএনআই

হিন্দু ধর্মাবলম্বী ওই নারীদের পক্ষের আইনজীবীর দাবি জ্ঞানবাপী মসজিদের একটি পুকুরে শিবলিঙ্গ পাওয়া গেছে। এমন দাবির পর ওই মসজিদে সব কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

উচ্চ আদালতের রায়ের পর জ্ঞানবাপী মসজিদে ভিডিও করে তা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় বারানসির আদালত। সেই ভিডিও জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা বিতর্কিতভাবে প্রকাশ করে দেন ওই পাঁচ নারীর পক্ষের আইনজীবী।

ভিডিও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মসজিদের মুসল্লিদের অজু করার পুকুরে শিবলিঙ্গটি পাওয়া গেছে। পরে সেই পুকুরটির ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেয় আদালত।

এদিকে মসজিদের ভেতরে ভিডিও করার এখতিয়ার আছে কি না তা জানতে চেয়ে রিট করে জ্ঞানবাপী মসজিদ কমিটি।

কমিটি জানায়, এমন ভিডিও ধারণের ঘটনায় ধর্মীয় উপাসনালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি উপাসনাবিষয়ক আইন-১৯৯১-এর অবমাননা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৯৪৭ সালের ধর্মীয় উপাসনালয়ের মর্যাদাসংক্রান্ত আইনের অবমাননা হয়েছে বলেও দাবি করে মসজিদ কমিটি।

হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, জ্ঞানবাপী মসজিদ যে জমিতে গড়ে উঠেছে, তা আসলে হিন্দুদের। সুতরাং সেই জমি হিন্দুদের ফিরিয়ে দেয়া হোক।

মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব দুই হাজার বছরের পুরোনো কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একাংশ ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ গড়ে তোলেন বলে দাবি তুলে সেখানে ‘হিন্দুত্বের ছাপ’ খুঁজতে প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষার দাবি জানানো হয় আদালতে।

অন্যদিকে জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে ‘দেবদেবীর মূর্তি’ আছে দাবি করে সেগুলো পূজা করার অনুমতি চেয়ে ২০২১ সালে আদালতে আবেদন করেন পাঁচ নারী।

সম্প্রতি মসজিদের পুকুরে শিবলিঙ্গ রয়েছে দাবি ওঠার পর দুটি গম্বুজ, ভূগর্ভস্থ অংশ, পুকুরসহ সব জায়গার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা এবং ভিডিও করে বারানসির আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়।

এরপর আদালতের নির্দেশে মসজিদ চত্বরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ ঘর (তাহখানা), অজুখানা এবং আশপাশের এলাকা সিল করে দেয় প্রশাসন।

সর্বশেষ কাশী বিশ্বনাথ মন্দির–জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলাটি দেওয়ানি আদালত থেকে জেলা আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে