× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Abbas Gayeswar in doubt about the fall of the government
hear-news
player
print-icon

সরকার পতন নিয়ে সংশয়ে আব্বাস-গয়েশ্বর

সরকার-পতন-নিয়ে-সংশয়ে-আব্বাস-গয়েশ্বর
সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা
আমাদের মনে হয় সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেছে। সীমানা হয় প্রেস ক্লাব, না হয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে। আমরা যদি এই সীমানার বাইরে না যেতে পারি, তাহলে এই সরকারের পতন হবে না: আব্বাস

বিএনপির কর্মসূচিগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আশঙ্কা করছেন, এ থেকে বের হতে না পারলে সরকারের পতন হবে না। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিএনপি যে ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে, তা দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না।

চলমান আন্দোলনে বিএনপির সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেছে কি না তা জানতে চেয়ে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যুবদলের এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ভোলা জেলা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আব্দুর রহিম ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম হত্যা এবং জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।

সমাবেশের সভাপতি মির্জা ফখরুলকে আকর্ষণ করে আব্বাস বলেন, ‘আমাদের মনে হয় সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেছে। সীমানা হয় প্রেস ক্লাব, না হয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে। আমরা যদি এই সীমানার বাইরে না যেতে পারি, তাহলে এই সরকারের পতন হবে না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই। তোমরা আন্দোলনে রাজপথে নামলে আমরাও রাস্তায় থাকব। সীমানার গণ্ডির বাইরে গিয়ে মিছিল করব।’

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার রাতের আঁধারে বিদেশে ডলার পাচার করছে বলেও অভিযোগ করেন আব্বাস। বলেন, ‘বিএনপি যদি শক্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না, টিকে থাকতে পারবে না- এটা শুধু সময়ের ব্যাপার।’

সমাবেশে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘শুধু বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। আমরা সবাই বক্তৃতা করেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। শেখ হাসিনাকে নামাতে রাজপথে আমাদের যেমন কুকুর, তেমন মুগুর কর্মসূচি দিতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রিসভায় নোংরা লোক: মির্জা আব্বাস
বুকে ব্যথা নিয়ে সিসিইউতে মির্জা আব্বাস
সমালোচনা করলেই সরকার গোস্বা করে: মির্জা আব্বাস
যত পেটান, আমাদের শক্তি বাড়বে: পুলিশকে মির্জা আব্বাস
‘বিএনপির অগ্রযাত্রা আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Poetry collection published on the occasion of Sheikh Hasinas birthday

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কাব্য সংকলন প্রকাশ

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কাব্য সংকলন প্রকাশ বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করে ‘হাজার লেখকের সম্মিলন ২০২২’। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের এই আয়োজনে প্রকাশ পেয়েছে দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা ৭৬জন কবির কবিতা নিয়ে ‘বঙ্গোত্তম শেখ হাসিনাকে নিবেদিত কবিতা’ সংকলন এবং তারুণ্যে উদ্দীপ্ত লেখকদের উৎসর্গ করা চারশ’ কবির ‘নবযাত্রা’ ও ‘অগ্রযাত্রা’ নামে দুটি কবিতা সংকলন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘হাজার লেখকের সম্মিলন ২০২২’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রকাশ পেয়েছে দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা ৭৬জন কবির কবিতা নিয়ে ‘বঙ্গোত্তম শেখ হাসিনাকে নিবেদিত কবিতা’ সংকলন এবং তারুণ্যে উদ্দীপ্ত লেখকদের উৎসর্গীকৃত চারশ’ কবির ‘নবযাত্রা’ ও ‘অগ্রযাত্রা’ নামে দুটি কবিতা সংকলন।

সম্মিলনের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে কাব্যগ্রন্থগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। যে ধারায় উন্নয়ন-অগ্রগতি হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনার কারণে। তার দক্ষ-বিচক্ষণ নেতৃত্ব, মেধা-প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার কারণে আজ আমরা এ পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি শেখ হাসিনা এসেছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির আলোবর্তিকা হয়ে। তিনি এসেছিলেন বলেই আজ আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারছি। আজকের এই দিনে সব কবির পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই, তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।’

অনুষ্ঠানে মাসব্যাপি কর্মসূচি ঘোষণা করেন বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক কামরুল ইসলাম।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৮ অক্টোবর বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং ২৯ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান।

শেষ দিনের আয়োজনে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং বঙ্গোত্তম শেখ হাসিনার জন্মস্থানে সাংস্কৃতিক উৎসব।

সমাপনীতে দুদিনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি যোগ দেবেন।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিটিভিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNPs Tukus statement was angered by Jamaat

বিএনপির টুকুর বক্তব্যে ক্ষেপেছে জামায়াত

বিএনপির টুকুর বক্তব্যে ক্ষেপেছে জামায়াত হাজারীবাগে বিএনপির সমাবেশে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা
‘জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন তা দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে। এটি কোনো রাজনীতিবিদের ভাষা হতে পারে না। তার এ বক্তব্য স্বৈরাচারী শাসনকে প্রলম্বিত করার ক্ষেত্র তৈরি করবে।’

জামায়াত-আওয়ামী লীগ পরকীয়া চলছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এমন বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি নেতার বক্তব্যকে ‘অশালীন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলেছে দলটি।

রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ থেকে বক্তব্য আসার পর দিন মঙ্গলবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন তা দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে। এটি কোনো রাজনীতিবিদের ভাষা হতে পারে না। তার এ বক্তব্য স্বৈরাচারী শাসনকে প্রলম্বিত করার ক্ষেত্র তৈরি করবে।’

আগের দিন রাজধানীর হাজারীবাগে বিএনপির সমাবেশে টুকু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অনেকের মুখে একটা বুলি হয়ে গেছে বিএনপি-জামায়াত, বিএনপি-জামায়াত। আমি বলছি এখন সময় এসেছে, আওয়ামী লীগ-জামায়াত, আওয়ামী লীগ-জামায়াত বলার। জামায়াতও উর্দু, আওয়ামী লীগও উর্দু। দুটো একসঙ্গে মিলবে ভালো। কেননা উনারা জামায়াতের নিবন্ধন ক্যানসেল করেন, কিন্তু বেআইনি ঘোষণা করেন না। তাহলে কি আমি বলব, ওনাদের (জামায়াত-আওয়ামী লীগের) পরকীয়া চলছে?’

টুকু ‘জামায়াত’ শব্দটিকে ‘উর্দু’ ভাষা বলে উল্লেখ করে অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয় জামায়াতের বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, ‘আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে এ ধরনের অসংলগ্ন বক্তব্য প্রদান করা থেকে সংশ্লিষ্ট সকলেই বিরত থাকবেন।’

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট চলছে সেই ১৯৯৯ সাল থেকে। সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক দলটি আমির শফিকুর রহমান একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে দলের কর্মীদেরকে জানান, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে গেছে। দুই দল যুগপৎ আন্দোলন করবে, কিন্তু জোটে আর নেই।

বিষয়টি রাজনীতিতে তোলপাড় তুললেও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কিছুই বলা হচ্ছে না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দেয়াকে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার বলেছেন।

টুকু বলেন, ‘আমাদের বলা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত, আর আপনারা আমাদের বলেন স্বাধীনতাবিরোধী দল। আমিও স্বীকার করলাম। কিন্তু নিবন্ধন বাতিল করলেন, বেআইনি ঘোষণা করলেন না। তার অর্থ আওয়ামী লীগ-জামায়াতের সঙ্গে তলে তলে বন্ধুত্ব করে। সেজন্য বাতিল করে না। তাই আজকে থেকে আওয়ামী-জামায়াত হবে, বিএনপি-জামায়াত আর হবে না।’

জামায়াতের বিবৃতিতে টুকুর বক্তব্যের নিন্দা জানিয় বলা হয়, ‘যে মুহূর্তে দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর, সে সময় তার এ বক্তব্য জাতিকে হতাশ করেছে। তার বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, তিনি জনগণের ভাষা বুঝতে অক্ষম এবং তিনি জনগণের ভাষায় কথা বলতে পারেন না। আমরা তার এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে টুকুর বক্তব্যের আসল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তেলে জামায়াত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে তার কথা ও মর্মবেদনায় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, কার স্বার্থে এবং কাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি এ বক্তব্য প্রদান করেছেন? আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জামায়াতে ইসলামী কখনও কোনো আপোষ, গোপন ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং করার প্রশ্নই আসে না।’

ধর্মভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আবেদনের পর ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। আট বছর পর ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করে। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও আছে। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আরও পড়ুন:
বন্দুকের নল যে কোনো সময় ঘুরে যাবে: আব্বাস
জামায়াতের জোট ছাড়ার গুঞ্জন স্বীকার বিএনপি নেতার
ফের পেট্রলবোমা ছুড়লে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The barrel of the gun will turn any time Abbas

বন্দুকের নল যে কোনো সময় ঘুরে যাবে: আব্বাস

বন্দুকের নল যে কোনো সময় ঘুরে যাবে: আব্বাস ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা
গত জুলাই থেকে বিএনপি রাজপথে কর্মসূচি বাড়ানোর পর এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন। এদের সবাই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘যে বন্দুক দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বুকে রক্ত ঝরাচ্ছেন, সেই নল যে কোনো সময় ঘুরে যাবে৷ এটা বিগত দিনে কোনো স্বৈরাচারি সরকার আগে টের পায়নি, আপনারাও পাচ্ছেন না। তাই সাবধান করছি বন্দুকের নল সামলে রাখুন।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার বিয়াম মিলনায়তনের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএনপি নেতা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দলের চার নেতা-কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরীর ১৬টি স্পটে ধারাবাহিক সমাবেশের অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর ২ টার পর থেকেই মোটা বাঁশের লাঠির সঙ্গে জাতীয় পতাকা বেঁধে হাতে নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্হলে যোগ দিতে থাকে। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

গত জুলাই থেকে বিএনপি রাজপথে কর্মসূচি বাড়ানোর পর এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন। এদের সবাই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যে বন্দুকের নল দিয়ে গুলি করছেন তাও জনগণের পকেটের টাকা দিয়ে কেনা। তাই বন্দুকের নলের ভয় আর দেখাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে সকল ব্যারিকেড থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে ঢাকার অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে পড়তে হবে। মিটিং মিছিল করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, এই অধিকার যারা কেড়ে নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে আমরা তাদের পাশে আছি। বিএনপির কমীরা বুক পেতে দিতে শিখেছে। আর ভয় নেই।’

দেশের সব গণতান্ত্রিক কাঠামোগুলোকে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘এসব মেরামত আমাদেরই করতে হবে। কারণ, জনগণ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। ৮ হাজার কোটি টাকা দিয়ে যে ইভিএম কিনতে চাওয়া হচ্ছে এই টাকাও বিফলে যাবে।’

নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করেই বিএনপি নিবাচনে যাবে বলেও ঘোষণা দেন আব্বাস। বলেন, ‘সরকার নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করে দেখুন বিএনপিকে হারানের ক্ষমতা জনগণকে তাদের দিয়েছে কিনা।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘ভোট ডাকাতির ক্ষমতা থেকে জনগণ নামিয়ে আনবে এটা এখন সময়ের দাবি। রাস্তায় নেমে আসুন, এখন থেকে পুলিশ নিরপেক্ষ থাকবে দেখি কাদের শক্তি বেশি।’

তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্ট ভেঙে নিদলীয় নিবাচন দিতে হবে, প্রশাসনও নিরপেক্ষ হয়ে যাবে। হাসিনা যদি বিএনপিকে রেখে নির্বাচন করতে চায়, নিবাচন কমিশনপর একটা বিল্ডিয়ের ইট ও থাকবে না।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সম্পাদক শহীদ-উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

আরও পড়ুন:
জামায়াতের জোট ছাড়ার গুঞ্জন স্বীকার বিএনপি নেতার
ফের পেট্রলবোমা ছুড়লে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ: তথ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কথার অর্থ গত নির্বাচনগুলো সঠিক ছিল না: মোশাররফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Continuity of democracy has no alternative to elections Deputy Speaker

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। ছবি: নিউজবাংলা
শামসুল হক টুকু বলেন, ‘রাজপথে সংঘাত-সহিংসতা না করে সংসদে গিয়ে জনগণের জন্য কথা বলতে হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আমরা সব দলকে সংসদে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রাখতে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর প্রধানমন্ত্রী সব দলকে নিয়েই নির্বাচন করতে চান।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘রাজপথে সংঘাত-সহিংসতা না করে সংসদে গিয়ে জনগণের জন্য কথা বলতে হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আমরা সব দলকে সংসদে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তার কন্যার মধ্যে প্রোথিত আছে বলেই শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন।

‘এ দেশ স্বাধীন করেছে সব ধর্মের মানুষ। তাই ধর্মান্ধতার বিভ্রান্তি থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে।’

টুকু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে যদি জানতে চান তাহলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে যদি জানতে চান তাহলে বাংলাদেশকে জানতে হবে। আমাদের মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে আরও আগেই বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতেন। এখনই সময় দুশমনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। সময় এসেছে আবারও ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৯ ও ১৯৭১-এর মতো একতাবদ্ধ হয়ে হিংস্র শকুনের দলকে রুখে দেয়ার।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানি পরাজিত শক্তির সীমাহীন উল্লাস দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি, তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। দেশকে নিয়ে গেছে অন্ধকারের দিকে।

‘১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশে ফিরে দূর করেছেন সেই অন্ধকার। তিনি শুধু দলের হালই ধরেননি, জাতিকে দিয়েছেন দিশা। দেশকে নিয়ে গেছেন উন্নয়নের পথে। বার বার প্রাণনাশের চেষ্টার পরও তিনি দমে যাননি।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রফেসর হারুন অর রশিদ, প্রফেসর মাহফুজা খাতুন, মাওলানা আজাদ, প্রফেসর আব্দুল মান্নান, প্রফেসর নিজামুল হক, সৈয়দ বোরহান কবির, প্রফেসর সাদেকা হালিম, ড. উত্তম বড়ুয়া, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিটিভিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 leaders and activists of Chhatra Dal injured in the attack of Chhatra League in Dhaka Medical

ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে

ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় আহতদের মধ্যে একজন। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা ভিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ হামলা চালালে আমাদের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় আহত ৬ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুন্সি সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল ওরফে আমিনুল ও নাসির হোসেন শাওন, এস এম হলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও সদস্য মো. সোহেল।

আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা ভিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের গুন্ডারা রড, হকিস্টিক ও ক্রিকেট স্টাম্পসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের মধ্যে আমরা সাত/আটজন চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে এসেছি।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি এলাকা থেকে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত অবস্থায় এখানে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।’

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুন:
চবিতে সাংবাদিককে ‘মারধর’ ছাত্রলীগের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League and BNP introduced dictatorship GM Quader

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র চালু করেছে: জি এম কাদের

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র চালু করেছে: জি এম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি
জি এম কাদের তিনি বলেন, ‘দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিধস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারছে না। আবার ইচ্ছে হলে, প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারছে না সাধারণ মানুষ।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র কায়েকের অভিযোগ এনেছেন সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানে বনানী কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে এখন আর গণতন্ত্র নেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বারবার সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সকল ক্ষমতা এখন এক ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত করা হয়েছে।

‘দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা নেই, বেকারদের জন্য কাজের নিশ্চয়তা নেই।’

২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন সে সময়ের সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। সেদিন থেকে তিনি হন রাষ্ট্রপতি।

ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি এরশাদ গঠন করেন জাতীয় পার্টি। পরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই এরশাদ মারা যাওয়ার পর তার ছোট ভাই জি এম কাদের হন সেনাশাসনে জন্ম নেয়া দলটির চেয়ারম্যান।

জি এম কাদের তিনি বলেন, ‘দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিধস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারছে না। আবার ইচ্ছে হলে, প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারছে না সাধারণ মানুষ।’

এরশাদ শাসনামলে ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ‍উঠে। সেই সংসদ ভেঙে দেয়ার পর ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রধান বিরোধী দলগুলোর প্রায় সবগুলো বর্জন করে।

দেশে সুশাসন নেই বলেও অভিযোগ করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ কোথাও স্থান পাচ্ছে না। মেধাহীন, দুর্নীতিবাজ আর অসৎ মানুষ দিনে দিনে আরও উপরে উঠছে। দেশের কোথাও জবাবদিহিতা নেই। জবাবদিহিতা না থাকার কারণে, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনীয়ম ও দুর্নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন নেই কোথাও, দেশে এখন দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমন চলছে।

এমন দেশের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জি এম কাদের।

আরও পড়ুন:
রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি
রওশন এরশাদ তার ছেলে ও দুই-একজনের কাছে জিম্মি: চুন্নু
রাঙ্গাদের ফেরাতে কাদেরকে চিঠি রওশনের
রওশনকে অপসারণ: এবার পাল্টা চিঠি পাঠাবেন রাঙ্গা
গণমানুষের আস্থা হারালে আ.লীগের সঙ্গে নয়: জি এম কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tolerance is not weakness A league

সহনশীলতা দুর্বলতা নয়: আ. লীগ

সহনশীলতা দুর্বলতা নয়: আ. লীগ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: নিউজবাংলা
‘বিএনপি পায়ে পা দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। দলটি নির্বাচন সামনে রেখে অপতৎপরতায় লিপ্ত। এসব প্রতিহত করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে। কিন্তু দেশ ও মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে, রাজনীতির স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সহনশীলতা দেখানো হচ্ছে। এই সহনশীলতাকে কেউ দুর্বলতা মনে করলে তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছে।’

বিএনপি ও তাদের মিত্ররা রাজপথে আন্দোলনের নামে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার সহনশীলতা দেখাচ্ছে। তবে এই সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এলে তা প্রতিহত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এসব কথা বলেন।

ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয় সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিএনপি পায়ে পা দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। দলটি নির্বাচন সামনে রেখে অপতৎপরতায় লিপ্ত। এসব প্রতিহত করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে। কিন্তু দেশ ও মানুষের কল্যাণ এবং উন্নতির কথা চিন্তা করে, রাজনীতির স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সহনশীলতা দেখানো হচ্ছে। এই সহনশীলতাকে কেউ দুর্বলতা মনে করলে তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছে।’

হানিফ বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শিষ্টাচারে বিশ্বাস করি। তাই বলে এটা নয় যে আমাদের ওপর বার বার হামলা হবে আর আমরা বসে দেখব।’

‘মানবতার আলোকবর্তিকা বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটি। এ সময় গৃহহীন ও দুস্থদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

নেতাকর্মীদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দেশ একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের সম্মুখীন। গণতন্ত্র হুমকির মুখে। শান্তি আজ বিঘ্নিতপ্রায়। তারা (বিএনপি) যখন ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে, লাঠি নিয়ে রাস্তায় নেমে চ্যালেঞ্জ করে; তখন মনে রাখতে হবে তারা পায়ে পা দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরি করতে চায়।

‘এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদের মধ্যে ঐক্য। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে একাত্তরে যেভাবে বিজয় অর্জন করেছি, ২০০৮ সালে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জয়লাভ করেছি; তেমনিভাবে নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিসহ সব অপশক্তি যারা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

নানক বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা প্রশ্ন করব- লাঠিসোটা নিয়ে যে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে, সেই সভা-সমাবেশের অনুমতি কিভাবে পায়। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাই।’

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি হত্যা-খুনের রাজনীতি করে। তাদের মাথায় হত্যা-খুন, নাশকতা ছাড়া কিছু নেই। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছেন হত্যার মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

‘আওয়ামী লীগ টানা ১৪ বছর ক্ষমতায়। বিএনপির কেউ বলতে পারবে না যে তাদের ওপর হামলা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। তারা যখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গাড়িতে আগুন দিয়েছে, ভাঙচুর করেছে, তখন হয়তো পুলিশ তাদের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।’

বিএনপি স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে হানিফ বলেন, ‘আপনাদের পূর্বপুরুষরা সবাই ছিল পাকিস্তানপন্থী। তারা একাত্তরে রাজাকার ছিল। বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব ও সংবিধানে তাদের কোনো আস্থা নেই। তারা এখন চায় বাংলাদেশকে পাকিস্তানে নিয়ে যেতে।

‘আমরা রাজাকারদের পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করে এখন শেখ হাসিনা নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একাত্তরেই ফয়সালা হয়ে গেছে- এই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, স্বাধীন বাংলাদেশ। এটা রাজাকারের বাংলাদেশ নয়। কাজেই নতুন করে ফয়সালার কোনো দরকার নেই। আপনারা যারা এখনও রাজাকারের প্রেতাত্মা হিসেবে এই দেশকে আবার ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ বলে পেছনে নিয়ে যেতে চান সেই স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
সংসদ উপনেতা: আলোচনায় আমু, তোফায়েল, মতিয়া
প্রতারণার মামলায় আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কারাগারে
পাকিস্তান নিয়ে বক্তব্য: ফখরুলকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হানিফের
‘গণমাধ্যমে বিএনপিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে’

মন্তব্য

p
উপরে