× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Coal mining has started again in Barapukuria
hear-news
player
print-icon

বড়পুকুরিয়ায় ফের কয়লা উত্তোলন শুরু

বড়পুকুরিয়ায়-ফের-কয়লা-উত্তোলন-শুরু
প্রতীকী ছবি
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৭৫০ টন এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ৯৫০ টন কয়লা উত্তোলন করা গেছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই পুরোপুরি উত্তোলন শুরু হবে।’

দিনাজপুর পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ায় ফের কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের করোনা শনাক্ত হওয়ায় গত ৩০ জুলাই পরীক্ষামূলক কয়লা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সরকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৭৫০ টন এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ৯৫০ টন কয়লা উত্তোলন করা গেছে।’

আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই পুরোপুরি উত্তোলন শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন কয়লা উৎপাদন করা যাবে।’

গত ৩০ এপ্রিল ১৩১০ নম্বর কূপে খনির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পরে কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিত্যক্ত কূপের ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও নতুন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে ১৩০৬ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলন করার প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

এ সময় বলা হয়েছিল, নতুন কূপ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করে কয়লা উত্তোলনে সময় লাগবে প্রায় আড়াই মাস। পরে আগস্টের মাঝামাঝিতে কয়লা উত্তোলনের সময়ও নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ।

পরে সারা দেশে বিদ্যুৎ সংকট শুরু হলে বিপর্যয় ঠেকাতে দ্রুত কূপের উন্নয়ন কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ দিন আগেই ২৭ জুলাই থেকে খনির নতুন কূপে পরীক্ষামূলক কয়লা উৎপাদন শুরু হয়।

এরই মধ্যে খনিতে কর্মরত ৫২ জন চীনা ও বাংলাদেশি শ্রমিকের করোনা শনাক্ত হলে ৩০ জুলাই কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম ফের বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
১০ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী
১০ কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল
বড়পুকুরিয়া খনির ২২ জনকে কারাগারে পাঠানোর পর দিনই জামিন
কয়লা চুরি মামলায় ২২ জনের জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট
কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশ টানতে চায় সরকার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
However the court allowed Maryam Mannans DNA test

তবুও মরিয়ম মান্নানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিল আদালত

তবুও মরিয়ম মান্নানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিল আদালত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহটি মায়ের দাবি করে ময়মনসিংহে মরিয়ম ও তার বোনেরা (বামে) ও মরদেহের পরনে থাকা কাপড়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ওসি বলেন, ‘রহিমা নামের ওই নারীকে উদ্ধার করতে না পারলে রোববারই তার মেয়ের ডিএনএ টেস্ট করানোর প্রচেষ্টা চালানো হতো। কিন্তু এখন আবেদনে লিখতে হবে নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে জমা দিতে হবে।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরে উদ্ধার মরদেহ মরিয়ম মান্নানের কি না- তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। জেলার মুখ্য বিচারিক ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক কে.এম রওশন জাহান রোববার বিকেলে এ অনুমতি দেন।

মরিয়মের শুক্রবার করা আবেদন আমলে নিয়েছেন বিচারক। অথচ শনিবার রাতেই মরিয়মের মা রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবরে আলোড়িত গোটা দেশ।

আদালত পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন আদালতের ডিএনএ টেস্টের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় করা মরিয়মের আবেদনটি শনিবার অনুমতির জন্য আদালতে তুলেছিল পুলিশ। বিচারক রোববার বিকেলে সেটির অনুমতি দেন।

ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। সেটি একজন নারীর। মরদেহ গলিত হওয়ায় ময়মনসিংহের পিবিআই সেটির হাতের আঙ্গুলের ছাপ নিতে পারেনি। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর সমাহিত করা হয়। তবে মরদেহটির ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।

ওসি বলেন, ‘গত শুক্রবার সকালে থানায় এসে ওই মরদেহের ছবি দেখে মরিয়ম মান্নান শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন শরীর, কপাল, হাত ও সালোয়ার-কামিজ তার নিখোঁজ মায়ের। তিনি তার মাকে চিনতে ভুল করেননি। এমন অবস্থায় ডিএনএ টেস্টের পরামর্শ দেয়া হলে তিনি আবেদন করেন। পরে আবেদনটি আদালতে অনুমতির জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু বিচারক অনুমতি দেয়ার আগেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রহিমা বেগমকে।’

ডিএনএ টেস্টের আবেদনটি আদলতে অনুমোদন পাওয়ার পর কী করা হবে- এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘রহিমা নামের ওই নারীকে উদ্ধার করতে না পারলে রোববারই তার মেয়ের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রচেষ্টা চালানো হতো। কিন্তু এখন আরেকটি আবেদনে লিখতে হবে নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে সেটি জমা দিতে হবে।’

এদিকে মরিয়মের মাকে জীবিত উদ্ধারের পর অজ্ঞাত ওই মরদেহটির পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। কোনো ক্লু-ই মিলছে না এ বিষয়ে। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত স্পষ্ট বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পরই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ছবিসহ জামাকাপড় ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় মরদেহের বয়সসহ সব আলামতের বর্ণনা পাঠিয়ে খোঁজ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীর খোঁজ পেতে থানায় কেউ এসেছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় এক মাস ধরে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা থেকে মা নিখোঁজের অভিযোগ করে মরিয়ম মান্নানের পোস্টগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে অক্ষত অবস্থায় রহিমাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rahima wanted birth registration in Boalmari

বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা

বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা
বোয়ালমারীর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ২২ তারিখ পরিষদের বাইরে ওই নারী ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে আমার কাছে এসে বলেন জন্ম নিবন্ধন করব।’

খুলনার দৌলতপুর থেকে নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর উদ্ধার রহিমা বেগম রোববার পিবিআই কার্যালয়ে বসে জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তাকে উদ্ধারের ঘটনাস্থল ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানালেন, সেখানে জন্ম নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন রহিমা।

মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে রহিমার অপহরণ হওয়ার দাবি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রহিমা বেগমকে শনিবার অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, রহিমা জানিয়েছেন যে প্রতিবেশী কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিনজন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। পরে ১ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম ও বান্দরবান যান। পরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে পূর্বপরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। তার কাছে কোনো মোবাইল নাম্বার না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে গিয়ে রহিমাকে আশ্রয়দাতা কুদ্দুস মোল্লার স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে থাকাকালে প্রায়ই রহিমা ঘর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন।

কুদ্দুস মোল্লার বড় মেয়ের জামাই নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে জানান, এর মধ্যে একদিন রহিমা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও গিয়েছিলেন।

সেখানে কেন গিয়েছিলেন জানতে চাইলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হক শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ২২ তারিখ পরিষদের বাইরে ওই নারী ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে আমার কাছে এসে বলেন জন্ম নিবন্ধন করব।’

বোয়ালমারীতে জন্মনিবন্ধন চেয়েছিলেন রহিমা
বোয়ালমারীর এই বাড়িতে পাওয়া গেছে রহিমাকে। ছবি: নিউজবাংলা

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছি আপনি কে, কোন এলাকায় বাড়ি। তিনি তখন জানান যে সৈয়দপুরে বাড়ি। বাগেরহাটে একটি বাড়িতে তিনি কাজ করেন। কিন্তু ওনার পোশাক দেখে আমার মনে হলো বড় ঘরের কেউ হবে। তখন সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করি আপনি কোন মেম্বারের এলাকার। উনি ঠিক করে বলতে পারলেন না।

‘তখন আমি বলি চাইলেই তো জন্মনিবন্ধন পাওয়া যায় না। বাসিন্দা হতে হয়। বিদ্যুৎ বিলের কাগজসহ আরও অনেক কাগজ লাগে। আপনি আপনার ওয়ার্ডের মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে আইসেন। এ কথা শুনে উনি উঠে চলে যান। আমার আরও সন্দেহ হয় যে উনি আবার কোনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক কি না। পরে আমি এক মেম্বারকে ডেকে ওই নারীর খোঁজ নিতে বলি। খোঁজ নিয়ে সে আমাকে জানায় উনি কুদ্দুসের বাড়িতে বেড়াতে আসছেন।’

রহিমার অপহরণ হওয়ার দাবি সত্যি হলে, ২৭ আগস্ট তিনি অপহৃত হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনরা তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

অপহরণকারীদের দেয়া মাত্র ১ হাজার টাকায় অন্তত ১৩ দিন তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় কীভাবে কাটালেন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে পিবিআই।

রহিমা অপহৃত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময় তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোশাকসহ অন্য মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সঙ্গে এগুলো থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।

‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। অনেক রহস্য রয়ে গেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rahima sign language through the night with SI Dola

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা রহিমা বেগমকে উদ্ধার অভিযান দলে সাদা পোশাকে ছিলেন দৌলতপুর থানার এসআই দোলা দে। ছবি: নিউজবাংলা
এসআই দোলা দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে তাকে (রহিমা) আমি নিজের মায়ের মতো সেবাযত্ন করি। নানাভাবে তার আত্মগোপনের কথা জানতে চাই। একপর্যায়ে তাকে বলি, আমি তো আপনার মেয়ের মতো, কাল সকালে তো মেয়েদের কাছে আপনাকে দিয়ে দেয়া হবে। তাদের তো সব বলবেন, আমাকে কিছু বলেন।’

মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগমকে ফরিদপুর থেকে উদ্ধারে খুলনা থেকে গিয়েছিল দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল। এই উদ্ধার অভিযানে ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দোলা দে।

ফরিদপুর থেকে খুলনা এনে পুলিশের ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত রহিমা বেগমের দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন দোলা।

পুলিশের এই কর্মকর্তা উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

দোলা জানান, ফরিদপুর থেকে নিয়ে আসার পর দৌলতপুর থানা পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি রহিমা। তবে মাঝেমধ্যে ইশারায় কিছু যোগাযোগ হয়েছে এসআই দোলার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় থানা থেকে আমাকে ফোন করে জানায় একটি উদ্ধার অভিযানে যেতে হবে। আমরা রেডি হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রওনা হই। কোথায় কী অভিযানে যেতে হচ্ছে, তা থানা থেকে আগে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।

‘মাঝপথে গিয়ে জানতে পারি আমরা নিখোঁজ রহিমা বেগমকে উদ্ধার করতে ফরিদপুরে যাচ্ছি।’

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
দৌলতপুর থানার থানার উপপরিদর্শক দোলা দে

দোলা বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরা ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে পৌঁছাই। সেখান থেকে সোজা চলে যাই কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে। তাৎক্ষণিক দলের সবাই প্রবেশ করি কুদ্দুস মোল্লার ঘরে।

‘সেখানে রহিমা বেগম আরও তিনজন নারীর সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলামকে রহিমা বেগম আগে থেকেই চিনতেন। হঠাৎ ওসিকে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।

‘আমরা রহিমা বেগমকে নিজেদের হেফাজতে নিই। পরে ওই বাড়ির তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি।’

এসআই দোলা বলেন, ‘রাত ১১টার কাছাকাছি সময়ে আমরা ফরিদপুর থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হই। গাড়িতে আমার ডান সাইডে বসেছিলেন রহিমা বেগম। সিনিয়র স্যাররা রহিমা বেগমকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। তবে কোনো প্রশ্নেরই তিনি উত্তর দেননি।’

পুলিশের দলটি মধ্যরাতের পর খুলনা পৌঁছায়।

দোলা বলেন, ‘রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে আমরা দৌলতপুর থানায় পৌঁছাই। সেখানে ডিসি স্যার সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পর থানায় রহিমা বেগমকে আমার সঙ্গে রেখে দেন।’

‘রাতে তাকে আমি নিজের মায়ের মতো সেবাযত্ন করি। নানাভাবে তার আত্মগোপনের কথা জানতে চাই। একপর্যায়ে তাকে বলি, আমি তো আপনার মেয়ের মতো, কাল সকালে তো মেয়েদের কাছে আপনাকে দিয়ে দেয়া হবে। তাদের তো সব বলবেন, আমাকে কিছু বলেন।

‘তখন তিনি মাথা ইশারা করে আমাকে জানান, মেয়েদের কাছে যেতে চান না। তাহলে কী স্বামীর কাছে যেতে চান- এই প্রশ্ন করি। সেটাও তিনি চান না জানিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট কাঁদতে থাকেন।’

এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
থানায় রাতভর রহিমা বেগমের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন এসআই দোলা দে

দোলা বলেন, ‘এরপর নানাভাবে সান্ত্বনা দেয়ার পর তিনি (রহিমা) কান্না থামিয়ে নামাজ পড়তে চান। রাতটি তাকে নিয়েই আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি।’

এসআই দোলা বলেন, ‘সকালে ওসি স্যারের নির্দেশে তাকে (রহিমা) নিয়ে যাই সোনাডাঙ্গার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। সেখানে তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে রহিমা বেগম কিছুতেই মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি ছিলেন না। একপর্যায়ে আমার অনুরোধে তিনি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ান। মেয়েরা তাকে মা বলে ডাক দিলে আবার ভেতরে চলে যান।’

এর কিছু সময় পর রহিমা বেগমকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন:
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rahima Begum got her daughter Aduris custody

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়
রহিমাকে বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ এর বিচারক মো: আলামিনের খাস কামরায় ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর সন্ধ্যায় মেয়ে আদুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এর বিচারক সারওয়ার আহমেদ।

খুলনার দৌলতপুরের থেকে নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর উদ্ধার রহিমা বেগমকে তার মেয়ে আদুরী আক্তারের জিম্মায় মুক্তি দিয়েছে আদালত।

তাকে রোববার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ এর বিচারক মো: আলামিনের খাস কামরায় ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় মেয়ে আদুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এর বিচারক সারওয়ার আহমেদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী আদুরীর আইনজীবী মো. আফরুজ্জামান টুটুল।

প্রায় এক মাস ধরে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা থেকে মা নিখোঁজের অভিযোগ করে মরিয়ম মান্নানের পোস্টগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর মধ্য দিয়ে রহিমার নিখোঁজের বিষয়টি আলোচিত হয় দেশজুড়ে।


অপহরণের জিডি, মামলা ও সংবাদ সম্মেলন

গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। রাত সোয়া ২টার দৌলতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী।

সে জিডি থেকে জানা যায়, নিখোঁজের সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা। দীর্ঘ সময় পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী।

রহিমা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হন মরিয়ম মান্নানসহ তার অন্য মেয়েরা।

গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন রহিমার বাড়ির লোকজন। সে সময় জানানো হয়, রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।


অন্য নারীকে মা দাবি

২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন তার মেয়েরা। ওই রাত পৌনে ১২টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এইমাত্র।’

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

ওই সময় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার মা।’

রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়

সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে মরিয়মকে জানানো হয়, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।


অবশেষে উদ্ধার

বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব রহিমাকে। সেখান থেকে পৌনে ১১টার দিকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। রাত ২টা ১০ মিনিটে মরিয়মের মাকে দৌলতপুর থানায় নেয়া হয়।

সেখান থেকে রোববার সকালে রহিমাকে খুলনার সোনাডাঙ্গায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ও পরে পিবিআই কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর রোববার বিকেলে আদালতে জবানবন্দি শেষে তাকে মেয়ে আদুরীর জিম্মায় দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে
বস্তাবন্দি মরদেহ মরিয়ম মান্নানের মায়ের কি না সংশয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The police are now searching for the identity of the woman in the bag

বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ

বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ অজ্ঞাত ওই মরদেহটির পরনে ছিল এসব কাপড়। ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে কেন মেলানো হয়নি- এই প্রশ্নে ফুলপুর থানার ওসি মামুন বলেন, ‘ওই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। এরপর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের সাহায্য নেয়া হয়। তারা আঙুলের ছাপ নিতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু গলিত হওয়ার কারণে ভালোভাবে নেয়া সম্ভব হয়নি। সেই ছাপ মেলেওনি কোনোটির সঙ্গে।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরের বস্তাবন্দি মরদেহটি নিয়ে হঠাৎ করেই আলোচনা এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা দেশেই।

মরদেহটি কার, কে তাকে খুন করেছে- এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। গত ১৫ দিনে মেয়েটির পরিচয়ই শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ পরিচয় শনাক্তে ফেসবুকে মেয়েটির বিষয়ে তথ্য দেয়া ছাড়াও থানায় থানায় নিখোঁজের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেছে কি না জানতে চেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অন্ধকারে তারা।

আঙুলের ছাপ নিয়ে মরদেহ শনাক্তের কৌশলও কাজে লাগানো যায়নি। কারণ গলে যাওয়া হাতের ছাপ যন্ত্রের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না।

খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নানের মা নিখোঁজ হওয়ার বেশ কিছুদিন পর এই মরদেহটি পায় পুলিশ। এ নিয়ে খুব একটা আলোচনা ছিল এমন নয়। কিন্তু মরিয়ম হঠাৎ থানায় গিয়ে দাবি করেন, এটি তার মায়ের লাশ।

পুলিশ শুরু থেকেই বলছিল, সেই মরদেহটি ছিল ২৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী কোনো তরুণীর, আর মরিয়মের মা পঞ্চাশোর্ধ্ব।

তবে মরিয়ম জোরালোভাবে বলতে থাকেন, তিনি তার মায়ের কাপড়, হাত, পা, কপাল চেনেন। তখন পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

এর মধ্যে মরিয়মের মা উদ্ধার হন ফরিদপুর থেকে। তাকে অপহরণের যে অভিযোগ করা হচ্ছিল, সেই অভিযোগ এবং অভিযোগকারীরাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

এদিকে মরিয়মের মাকে জীবিত উদ্ধারের পর অজ্ঞাত ওই মরদেহটির পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। কোনো ক্লুই মিলছে না এ বিষয়ে। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত স্পষ্ট বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি মরদেহটি পাওয়া যায়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর সমাহিত করা হয়।

ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পরই গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ছবিসহ জামাকাপড় ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় মরদেহের বয়সসহ সব আলামতের বর্ণনা দিয়ে খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই নারীর খোঁজ পেতে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, ‘ওই নারীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এমন হলে কোনো থানায় পরিবার কিংবা স্বজনরা অভিযোগ দেয়ার কথা ছিল। এসব কারণে পরিচয় শনাক্তসহ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তবে আশা করছি, দ্রুতই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’

তরুণীর আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে কেন মেলানো হয়নি- এই প্রশ্নে ফুলপুর থানার ওসি মামুন বলেন, ‘ওই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। এরপর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের সাহায্য নেয়া হয়। তারা আঙুলের ছাপ নিতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু গলিত হওয়ার কারণে ভালোভাবে নেয়া সম্ভব হয়নি। সেই ছাপ মেলেওনি কোনোটির সঙ্গে।’

ডিএনএ পরীক্ষাও হবে না

মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করার যে কথা হয়েছিল, সেটিও এখন বাতিল করা হয়েছে। এটি মরিয়ম মান্নানের মা কি না, তা শনাক্ত করতেই পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু মরিয়মের মায়ের খোঁজ মেলায় ওই মরদেহটির ডিএনএ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উদ্ধারের পর নিশ্চুপ মরিয়মের মা, আশ্রয়দাতারা হেফাজতে
মরিয়মের ডিএনএ টেস্টের প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে উদ্ধার পুলিশের
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে
বস্তাবন্দি মরদেহ মরিয়ম মান্নানের মায়ের কি না সংশয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maryams mother in 4 districts in 13 days for only 1 thousand taka

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা! পুলিশ হেফাজতে থাকা রহিমা বেগমের দাবি, তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
রহিমা বেগমের দাবি সত্যি হলে, ২৭ আগস্ট তিনি অপহৃত হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনরা তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম দাবি করছেন, তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। তবে মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে এই দাবি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রহিমা বেগমকে শনিবার অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রহিমা বেগমকে। কুদ্দুস মোল্লার স্বজনদের দাবি, রহিমা তাদের বলেছিলেন সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী ও মেয়েদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ কারণেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

ফরিদপুর থেকে উদ্ধারের পর থেকে নিশ্চুপ ছিলেন রহিমা বেগম। খুলনার সোনাডাঙ্গায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রোববার সকালে মরিয়ম মান্নানসহ অন্য সন্তানরা দেখা করতে গেলেও তাদের সঙ্গে কথা বলেননি তিনি।

পুলিশের অনুরোধে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের জানালার কাছে এসে দাঁড়ান রহিমা বেগম। মরিয়ম মান্নান এ সময় ‘মা’ বলে ডাক দিলে তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে হেঁটে চলে যান।

তবে দুপুরের পরে মরিয়মসহ অন্য মেয়েরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন রহিমা।

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন মরিয়ম ও তার বোনেরা

দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক দোলা দে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার (রহিমা) মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে আবার ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পিবিআই খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

‘পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রথম দিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।’

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তবে কোনোভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

‘তবে দুপুরের পর তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন রহিমা বেগম।’

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘মেয়েদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিনজন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। পরে ১ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম ও বান্দরবান যান। পরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে পূর্বপরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। তার কাছে কোনো মোবাইল নাম্বার না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

রহিমা বেগম যাদের বিরুদ্ধে জোর করে স্ট্যাম্পে সই নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন সেই গোলাম কিবরিয়া, মহিউদ্দীনসহ চারজনকে ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ৩০ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় হেলাল শরীফ নামে আরেকজনকে। সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর রহিমার স্বামী বিল্লাল ঘটককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সবাই কারাগারে আছেন।

রহিমার দাবি সত্যি হলে, ২৭ আগস্ট তিনি অপহৃত হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনরা তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
শনিবার রাতে ফরিদপুর থেকে উদ্ধারের পর খুলনায় নেয়া হয় রহিমাকে। ছবি: নিউজবাংলা

অপহরণকারীদের দেয়া মাত্র ১ হাজার টাকায় অন্তত ১৩ দিন তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় কীভাবে কাটালেন সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে পিবিআই।

রহিমা অপহৃত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোশাকসহ অন্য মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সঙ্গে এগুলো থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।

‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। অনেক রহস্য রয়ে গেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।’

যে বাড়ি থেকে উদ্ধার তারা যা বলছেন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রহিমা বেগমকে।

কুদ্দুস মোল্লার ভাগনে জয়নাল ব্যাপারীর দাবি, তিনি শুক্রবার রাতেই রহিমার অবস্থানের তথ্য মরিয়ম মান্নানের পরিবারকে জানিয়েও কোনো সাড়া পাননি।

জয়নাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোবাইল ফোনে শুক্রবার বিকেলে যমুনা টিভিতে তার নিখোঁজ সংবাদ দেখি। রহিমার সঙ্গে মিল দেখে আমি বাড়িতে গিয়ে তার চেহারার সঙ্গে মেলাই, দেখি উনিই সেই জন।

“রহিমা বেগমকে ভিডিও দেখালে শুধু বলে ‘এটা তো আমি’। তখন তাকে খোঁজা হচ্ছে জানালে সে বলে ‘আমি বাড়ি ফিরে যাব না।”

জয়নাল বলেন, ‘এরপর আমি যমুনা টিভির ভিডিওতে কমেন্ট করি। সেখানে কোনো উত্তর না পেয়ে আবার সার্চ দিতে থাকি। তখন নিখোঁজ বার্তায় তার ছেলে মিরাজের নম্বর পাই। শুক্রবার রাতে মিরাজের নম্বরে কল দিলে তার স্ত্রী ফোন ধরে।

“আমি তাকে বলি রহিমা বেগম এখানে আছে। তখন অপর পাশ থেকে উত্তর আসে ‘আমি ওনাকে চিনি না। এ নম্বরে আর ফোন দেবেন না’। এই বলে সে ফোন কেটে দেয়।”

জয়নাল বলেন, ‘তার ছেলে–মেয়ে তাকে (রহিমা) কেউ পছন্দ করে না। তিনি বাড়িতে ফিরে যাবেন না। তিনি বাড়ি গেলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানান রহিমা বেগম। তারা বাড়ি বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছিল। বাড়ি বেচার টাকা নিয়ে অন্যত্র চলে যাবে। তিনি তাতে রাজি নন।’

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে কুদ্দুস মোল্লার এই বাড়িতে ছিলেন রহিমা। ছবি: নিউজবাংলা


কুদ্দুস মোল্লার বড় মেয়ের জামাই নূর মোহাম্মদের দাবি, সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী ও মেয়েদের সঙ্গে রহিমার বিরোধ চলছিল। এ কারণেই তিনি বাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন।

নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগম আমাদের এখানে এসে বলেছিলেন আমাকে একটা কাজ খুঁজে দেন, আমি আর বাড়ি ফিরে যাব না। যেকোনো কাজ, ইটভাটার হোক, জুট মিলের হোক বা বাসাবাড়ির হোক।

‘আমার মেয়েদের সঙ্গে আমার শত্রুতা, মেয়েরা আমাকে ভালো জানে না, তারা আমাকে চায় না, আমার সম্পত্তি চায়। প্রতিবেশীও আমার সম্পত্তি চায়।’

কুদ্দুস মোল্লার প্রতিবেশীদেরও একই কথা বলেছেন রহিমা বেগম।

নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে জানান, রহিমা বেগম ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের বাড়িতে আসেন।

তিনি বলেন, ‘ওইদিন বিকেলে রহিমা বেগম সৈয়দপুর বাজারে আসেন। তিনি অনেক দোকানে কুদ্দুস মোল্লার বাবা মোতালেব মুসল্লির বাড়ি খুঁজছিলেন। এই বাজারেই আমার দোকান আছে। এক দোকানদার আমার দাদা শ্বশুরকে খুঁজছে দেখে আমার কাছে নিয়ে আসে।

‘আমি তাকে বাড়িতে পাঠাই। বাড়ি গিয়ে আমার শাশুড়ি প্রথমে চিনতে পারছিলেন না। মরিয়মের মা তখন বলতে থাকেন, খুলনায় আমার বাড়িতে আপনারা ভাড়া ছিলেন, আমি মিরাজের মা, হুজুরের বউ। তখন চিনতে পেরে তাকে ভেতরে নিয়ে যান। সে বলেছিল, আমি বেড়াতে আসছি, দুই-তিন দিন থাকব। আমরা অতিথি ভেবে স্বাভাবিক আচরণ করেছি।’

মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এর মধ্যে তিনি (রহিমা) দুই বার বোয়ালমারী সদর হাসপাতালে গেছেন চোখ দেখাতে। একদিন গেছেন ইউনিয়ন কার্যালয়ে। তিনি বাইরে গিয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতেন কি না বা বা টাকা কোথা থেকে পেতেন সেটা বলতে পারছি না।’

প্রতিবেশী স্থানীয় মেম্বার মোশারফ হোসেন মূসা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে জয়নাল আমাকে রহিমা বেগমের নিখোঁজের বিষয়টি জানায়। তখন আমি খুলনা সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামকে অবগত করি। আমি একটা সালিশে গিয়েছিলাম তার অফিসে। তিনি মিটিংয়ে ছিলেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলেন।

‘পরে বিকেল ৫টার দিকে তিনি আমাকে কল দেন। বলেন, এ রকম একটা ঘটনা আছে। কাউন্সিলর বলেন আপনি ওই নারীকে দেখে রাখেন, আমরা আসব। এর মধ্যেই রাত ১০টার দিকে আমাকে ফোন করে লোকেশন জানতে চান, সাড়ে ১০টার দিকে তারা উপস্থিত হন। পরে খুলনা পুলিশ বোয়ালমারী থানাকে ইনফর্ম করে তাকে (রহিমা) খুলনা নিয়ে যান।’

আরও পড়ুন:
মায়ের আত্মগোপনে মরিয়ম মান্নানও জড়িত!
মরিয়ম মান্নানের মাকে উদ্ধার, ছিলেন আত্মগোপনে
বস্তাবন্দি মরদেহ মরিয়ম মান্নানের মায়ের কি না সংশয়
স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরী ‘অপহরণ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Babuls case against Banaj is rejected

বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ

বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাবুল আক্তার উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। এখন এসব অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সবকিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।’

হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার জন্য চট্টগ্রামে আদালতে আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের আবেদনে খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

স্ত্রী মাহমুদ খানম মিতু হত্যা মামলায় আসামি বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশি ও নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছা এই সিদ্ধান্ত দুটি জানান। নিউজবাংলাকে এই আদেশের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাবুল আক্তার উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। এখন এসব অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সব কিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।’

বাবুল আক্তারের এই দুই আবেদন খারিজের পর তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন এবং কারাকক্ষে তল্লাশির অভিযোগ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত চেয়ে আমরা আদালতে দুটি আবেদন করেছিলাম। আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’

৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে চট্টগ্রামের আদালতে মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে।

আবেদনে বনজ ছাড়াও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবিরকে আসামি করার আবেদন করা হয়।

মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকা বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ সেদিন বলেন, ‘পিবিআই বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে মিতু হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাবুল আক্তার নিজেই আবেদনটি করেছেন।’

এরপর ১২ সেপ্টেম্বর বাবুলের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী। বিষয়টি তদন্তে একই আদালতে আবেদনও করা হয়। আদালত শুনানি শেষে এই আবেদনটি ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর এই দুই আবেদনের আদেশের সময় পিছিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে আদালত।

১২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখী আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

‘তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।’

তিনি জানান, জেল কোড অনুসারে কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনোভাবেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া জেলখানায় প্রবেশ করতে পারেন না।

আইনজীবী মুরাদ বলেন, ‘এই যাত্রায় আসামিরা সফল না হলেও অভিযোগকারী বাবুল আক্তার ও তার পরিবারের জীবননাশসহ যেকোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাই বাবুল আক্তারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতে তার পক্ষে পিটিশনটি (আবেদন) করেছি।’

তবে বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশির বিষয়টি ওসি নিজে এবং জেল সুপার আনোয়ারুল করিম অস্বীকার করেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার মামলা করেন পাঁচলাইশ থানায়। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

হত্যায় ‘বাবুল জড়িত’ বলে সন্দেহ হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন তার আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলায়ই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পিবিআই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি বাবুলসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। মামলাটিতে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বাবুল আক্তারের করা মামলায় একীভূত করতেও আবেদন জানানো হয়।

পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকেই আসামি করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই।

তদন্তে বলা হয়, ২০১৩-১৪ সালে বাবুল আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় সেখানে কর্মরত এক বিদেশি উন্নয়নকর্মী গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারীর বাসার নিরাপত্তাকর্মী সরওয়ার আলম ও গৃহকর্মী পম্পি বড়ুয়ার আদালতে দেয়া জবানিতে ওই বাসায় বাবুলের যাতায়াতের বিষয়টি উঠে আসে। তা ছাড়া বাবুল আক্তারকে উপহার দেয়া ওই নারীর একটি বই জব্দ করে পিবিআই। সেই বইয়ে প্রথম দেখা ও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে বাবুলের হাতে লেখা কিছু তথ্য রয়েছে।

পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়, গায়ত্রীর সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক নিয়ে মিতুর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আর এ কারণেই স্ত্রীকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন বাবুল।

আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, খুনের পুরো ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ৬ জন। অস্ত্র সরবরাহ করেন আরেকজন। কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেন বাবুলের ‘সোর্স’ মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা।

২০১৬ সালে মিতু খুনের পর গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে দেয়া ওয়াসিম ও আনোয়ারের জবানবন্দিতে কামরুলের নির্দেশে খুনের কথা উঠে আসে। এরপর ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর আসামি এহতেশামুল হক ভোলার জবানবন্দিতেও বাবুলের নির্দেশে তার সোর্স মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা মিতুকে খুন করে বলে জানান।

জবানবন্দিতে ভোলা বলেন, নির্দেশ না মানলে তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেয়ার হুমকি দেন বাবুল। তবে ঘটনার কয়েক দিন পর কামরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পুলিশে ধরে নেয়ার কথা বললেও পুলিশ বলেছে তিনি নিখোঁজ।

বাবুল ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খাইরুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া।

এর মধ্যে মুসা ও খাইরুল ছাড়া বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

যে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন সাইদুল ইসলাম শিকদার ওরফে সাক্কু, আবু নাছের, নুরুন্নবী ও মো. রাশেদ। এর মধ্যে মিতু হত্যার কিছুদিনের মধ্যে রাশেদ ও নুরুন্নবী পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

p
উপরে