× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Zakir convicted of killing wife and daughter caught after 1 century
hear-news
player
print-icon

স্ত্রী-কন্যা হত্যায় দণ্ডিত জাকির ১ যুগ পর ধরা

স্ত্রী-কন্যা-হত্যায়-দণ্ডিত-জাকির-১-যুগ-পর-ধরা
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
কোম্পানি কমান্ডার বলেন, ‘জাকির হোসেন জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে নাম পাল্টে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করতে থাকেন তিনি। দীর্ঘ ১২ বছর পর বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের শাহিবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে স্ত্রী ও সন্তান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচ বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে দীর্ঘ এক যুগ পালিয়ে বেড়ান তিনি।

ঢাকার সাভারের শাহিবাগ এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে দণ্ডিত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৪ মানিকগঞ্জ অঞ্চলের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. আরিফ হোসেন।

দণ্ডিত ৪৭ বছরের জাকির হোসেনের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের জিয়নপুর এলাকায়।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, ২০০৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী নিপা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন জাকির হোসেন। এ সময় কান্নাকাটি করতে থাকলে তিন বছরের মেয়ে জ্যোতিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

এ ঘটনায় পরদিন জাকিরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা আবু হানিফ। তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলে মাসখানেক পর জাকির ছাড়া বাকিরা জামিনে বের হয়ে পালিয়ে যান।

পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০১০ সালে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান জাকিরও।

আসামি জাকির হোসেন, বাবা নইম উদ্দিন শেখ, মা মালেকা বানু, ভাবি তাহমিনা আক্তার, ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, চাচাতো ভাই পারভেজ, জাকিরের বন্ধু আমিনুল ইসলাম, শ্যালক স্বপন ও হাসানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিচারিক আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতে জাকিরকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

খালাস দেয়া হয় মালেকা বানুকে। নইম উদ্দিন মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয় আগেই।

কোম্পানি কমান্ডার বলেন, ‘জাকির হোসেন জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে নাম পাল্টে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করতে থাকেন তিনি। দীর্ঘ ১২ বছর পর বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের শাহিবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রী হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ক্ষমা বিশ্বাস হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
আপিলে খালাস মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি
স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
সুবীর হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
5 dead in Garda crush Case investigation report 22 September

গার্ডার চাপায় নিহত ৫: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর

গার্ডার চাপায় নিহত ৫: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর উত্তরায় প্রাইভেট কারে ক্রেন থেকে ভায়াডাক্ট পড়ে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। ফাইল ছবি
রাজধানীর উত্তরায় সোমবার বিআরটি প্রকল্পের বক্স গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার এজাহার গ্রহণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করেন।

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন উল্টে বক্স গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম মঙ্গলবার মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১৫ আগস্ট রাতে নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই আফরান মণ্ডল বাবু উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন।

১৫ আগস্ট বিকেলে উত্তরায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন উল্টে গার্ডার পড়ে চলন্ত প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। হতাহতরা ঢাকায় একটি বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরছিলেন।

নিহতরা হলেন- আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল, ফাহিমা আক্তার, ঝরণা আক্তার, জান্নাতুল ও জাকারিয়া। একই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়া মনি গুরুতর আহত হন। তারা উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজনরা জানান, ফাহিমা নববধূ রিয়া মনির মা। আর ঝরণা তার খালা। রুবেল সম্পর্কে ফাহিমা-ঝরণার বেয়াই। জান্নাত ও জাকারিয়া ঝরণার সন্তান। ফাহিমা-ঝরণাদের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। আর রুবেলের বাড়ি মেহেরপুরে।

দুর্ঘটনা তদন্তে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সোমবার রাতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। একদিনের মধ্যে প্রাথমিক ও দুদিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

আরও পড়ুন:
কোনো স্ত্রীর কাছেই নয়, গ্রামের বাড়িতে রুবেলের মরদেহ
মৃত্যুর পর জানা গেল রুবেলের ৭ স্ত্রী
গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব
পাঁচ প্রাণ ঝরার পর নিরাপত্তায় জোর বিআরটি এমডির
বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League committee to investigate workers clash in Barguna

বরগুনায় কর্মীদের সংঘর্ষ তদন্তে ছাত্রলীগের কমিটি

বরগুনায় কর্মীদের সংঘর্ষ তদন্তে ছাত্রলীগের কমিটি
বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের সামনে সোমবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ। এ ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশের পর মঙ্গলবার ছাত্রলীগও কমিটি গঠন করেছে।

শোক দিবসে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা তদন্তে এবার কমিটি করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর আগে সোমবার রাতে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি করে জেলা পুলিশ।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, সোমবার বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ইমরান এসব নিশ্চিত করেছেন।

বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের সামনে সোমবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় হামলাকারীরা ছাদ থেকে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ কারণে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।

এ সময় সেখানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন।

বলেন, ‘পুলিশ বলেছিল, গাড়ি ভাঙচুরকারীকে তারা চিনতে পেরেছে। আমি বলেছি, যে ভাঙচুর করেছে, তাকে দেখিয়ে দিন। আমি তাকে আপনাদের হাতে সোপর্দ করব। আসলে তাদের (পুলিশের) উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে। আমি তাদের মার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেখানে এত পুলিশ আসছে যে কমান্ড শোনার মতো কেউ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মহররম ছিলেন সেখানে। তিনি অনেক ভুল করেছেন।

‘যেখানে আমি উপস্থিত, সেখানে তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। আমি তাকে মারপিট করতে নিষেধ করেছিলাম। তারা (পুলিশরা) আমার কথা শোনেননি।’

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত পুলিশের ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে সোমবার রাতে কমিটি গঠন করা হয়।

ব‌রিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান দুপুরে জানান, এ ঘটনায় আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মহররম আলীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার 
ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
আন্দোলনকারীরা শিবির, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চাই: জয়
ব্যানারে ‘ছাত্রলীগ’ লেখার কথা বলেনি সাবেক নেতারা: বুয়েট ভিসি
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wasar rules on water prices

ওয়াসা কর্মীদের উৎসাহ বোনাসে নিষেধাজ্ঞা

ওয়াসা কর্মীদের উৎসাহ বোনাসে নিষেধাজ্ঞা
বিধি প্রণয়ন না করে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ (পারফরম্যান্স) বোনাস ঘোষণার বিষয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ (পারফরম্যান্স) বোনাস ঘোষণার বিষয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বিধি প্রণয়ন না করে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান স্থপতি মোবশ্বের হোসেনের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এলজিআরডি সচিব, ঢাকা ওয়াসা বোর্ড, ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান, এমডি ও সিইও এবং অডিটর ও কম্পট্রোলারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

ওয়াসার কর্মীদের উৎসাহ বোনাস এবং পানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ হয়। পত্রিকার প্রতিবেদন যোগ করে হাইকোর্টে এ রিট করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ এপ্রিল ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৯১তম সভায় পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড (উৎসাহ বোনাস) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। করোনা মহামারি–পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরের পারফরম্যান্সের জন্য ঢাকা ওয়াসার স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেওয়া হবে। আর গত ২৫ জানুয়ারি ২৮৬তম সভায় কর্মীদের একটি মূল বেতনের অর্ধেক ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তীকালীন) পারফরম্যান্স বোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাড়ে তিনটি পারফরম্যান্স বোনাস দিতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ১৯ কোটি টাকার বেশি।

পানির দামের বিষয়ে গণমাধ্যমে বলা হয়, আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। আবাসিকে ২৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক সংযোগে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়াতে চায় তারা। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ধনী-গরিবের আলাদা পানির বিলে সময় লাগবে
কেবল দাম বাড়ালে হবে না, ওয়াসাকে দুর্নীতিও কমাতে হবে
ওয়াসার পানি: গরিব দেবে কম, ধনীর দাম বেশি
ওয়াসা এমডিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নিল না আদালত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League clash Three member committee to probe

ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি

ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি
বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কমিটির কারও নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত পুলিশের ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে সোমবার রাতে কমিটি গঠন করা হয়।

নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ। তবে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের সামনে সোমবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ।

এ সময় সেখানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ ঘটনায় এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘পুলিশ বলেছিল, গাড়ি ভাঙচুরকারীকে তারা চিনতে পেরেছে। আমি বলেছি, যে ভাঙচুর করেছে, তাকে দেখিয়ে দিন। আমি তাকে আপনাদের হাতে সোপর্দ করব। আসলে তাদের (পুলিশের) উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে। আমি তাদের মার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেখানে এত পুলিশ আসছে যে কমান্ড শোনার মতো কেউ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মহররম ছিলেন সেখানে। তিনি অনেক ভুল করেছেন।

‘যেখানে আমি উপস্থিত, সেখানে তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। আমি তাকে মারপিট করতে নিষেধ করেছিলাম। তারা (পুলিশরা) আমার কথা শোনেননি।’

এমপি শম্ভুর করা অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে কী ঘটেছে ডিআইজি স্যারের নেতৃত্বে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এমপি সাহেব মুরব্বি মানুষ। তার সঙ্গে পুলিশের কেউ অশোভন আচরণ করে থাকলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মহররম আলী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা কল রিসিভ করেননি। পরে সরকারি নম্বরের ওয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।

যা ঘটেছিল

বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ফেরার সময় শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর পদবঞ্চিত কয়েকজন হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় হামলাকারীরা ছাদ থেকে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ কারণে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।

আট বছর পর গত ১৭ জুলাই বরগুনা শহরের সিরাজ উদ্দীন টাউন হল মিলনায়তনে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এরপর ২৪ জুলাই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দেন।

এতে জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৩ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। এর পর থেকে নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বরগুনা শহরে পদবঞ্চিতরা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল ও ভাঙচুর চালায়।

আরও পড়ুন:
আন্দোলনকারীরা শিবির, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চাই: জয়
ব্যানারে ‘ছাত্রলীগ’ লেখার কথা বলেনি সাবেক নেতারা: বুয়েট ভিসি
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছাত্রলীগ ও যুবদলের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বাসায় বিচার দেয়ায় চবিতে ৪ ছাত্রলীগ নেত্রীর মারামারি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher Khairuns death A case of abetment to suicide may be filed against Mamun

মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে!

মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে! সোমবার দুপুরে মামুন হোসেনকে আদালতে আনা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
নাটোর সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তার চাচাতো ভাই সাবের উদ্দিন অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আর তাহলে আত্মহত্যায় প্রচারণাকারী হিসেবে মামুন অভিযুক্ত হতে পারেন।’

নাটোরে কলেজ শিক্ষক খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী কলেজ ছাত্র মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হতে পারে। আইনজীবী, চিকিৎসক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন। মামুন দাবি করেছেন যে শনিবার রাত ২টায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি খাইরুনকে লাথি মেরে ঘরের বাইরে চলে যান। এরপর শিক্ষক খাইরুন নাহার বেশ কয়েকবার ফোন করলেও মামুন ফোন রিসিভ করেননি। এতে ক্ষোভে খাইরুন নাহার আত্মহত্যা করেছেন।

‘মামুন সেদিন রাত ২টা ১৭ মিনিটি থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছেন এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, রাত ২টা ১৭ মিনিটের দিকে মামুন বাসার বাইরে যাচ্ছেন।

‘আরেকটি ফুটেজ পাওয়া গেছে ওই বাসার দেড় কিলোমিটার দূরের জেলগেট এলাকার। তাতে কারারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে মামুনকে। এছাড়া সদর থানার সামনে সেলফি তোলা ও নিজের মোবাইলে দাম্পত্য কলহ নিয়ে আপেক্ষ প্রকাশ করে নিজেই ভিডিও করেন মামুন।’

পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। খাইরুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতেন মামুন। মামুনের সম্মতিতে খাইরুন তার আগের পক্ষের বড় ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে মামুন আর ওই টাকা দিতে দেননি। এমন নানা বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।

রোববার সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়ায় নান্নু ম্যানশনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে খায়রুন নাহরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচাত ভাই অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে মামুনকে জেলা দায়রা জজ আদালতে তোলা হয়। এ সময় মামুনের জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার স্বপন। তবে এই আবেদন নাকচ করে মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দীন।

মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে!
খাইরুন নাহার ও মামুন হোসেন দম্পতি। ফাইল ছবি

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে খাইরুন নাহার আত্মহত্যা করেছেন। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে তবে মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হবে। এজন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খাইরুনের মরদেহের ময়নাতদন্তকারী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সামিউল ইসলাম শান্ত জানান, খাইরুন নাহারের মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর আলামত পাওয়া গেছে। তবে ভিসেরা রিপোর্ট এলেেএ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খাইরুনের খালাতো ভাই নাইম হোসেন বলেন, ‘বিয়ের পর খাইরুন নিজের টাকায় মামুনকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। মামুন আবারও নতুন মডেলের মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এসব কারণে দুজনের মাঝে মনোমালিন্য হতে থাকে। খাইরুন আত্মহত্যা করলেও এর জন্য একমাত্র মামুনই দায়ী।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার স্বপন বলেন, ‘মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি পুলিশ। এ কারণে ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।’ তবে মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হতে পারে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খামার নাচকৈড় গ্রামের সাবের উদ্দিন অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামুনকে আদালতে পাঠায়। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর মূল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি আত্মহত্যা হলে আত্মহত্যায় প্রচারণাকারী হিসেবে মামুন অভিযুক্ত হতে পারেন।

মামুনকে নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী যা বলছেন

নাটোরের গুরুদাসপুরের পাটপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাদের একজন মিঠুন আলী বলেন, ‘মামুন বিয়ে করার আগে নিজ বাড়ি থেকেই কলেজে যেত। এলাকায় তাকে সবাই ভাল ছেলে হিসেবেই জানত।’

মমতাজ বেগম নামে মধ্যবয়সী এক নারী জানান, মামুনকে ভালো ছেলে হিসেবেই তিনি জানেন। দেখা হলে আদব-কায়দার সঙ্গেই কথাবার্তা বলতেন।

বাবলু হোসেন নামে আরেকজন বলেন, ‘মামুনের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। এলাকায় সে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করতো। সবসময় ফিটফাট থাকত। ওর সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানি না।’

মামুনের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা তো মামুন ও খাইরুনের বিয়েটা হাসিমুখেই মেনে নিয়েছিলাম। তারপর যে কী থেকে কী হয়ে গেল। আমার ব্যাটাকে ফিরিয়ে এনে দাও।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Action against defaulters Roads Secretary

গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব

গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব উত্তরায় প্রাইভেট কারে ক্রেন থেকে ভায়াডাক্টের অংশ বক্স গার্ডার পড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ছুটির দিনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা না। তারা কোনো রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা না নিয়েই কাজ করছিল। এভাবে উন্মুক্ত রেখে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী কাজ করতে হলে আগের দিন তারা একটি ওয়ার্ক প্ল্যান দেবে, তাদের কতজন লোক থাকবে, কতগুলো ক্রেন লাগানো হবে, কখন পুলিশকে জানাবে এসব থাকে।’

ছুটির দিনে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে যাদের যাদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন সড়ক সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

এমনকি ছুটির দিনে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশন বা সিজিজিসি কাজটি করছিল বলেও দাবি করেন সচিব।

রাজধানীর উত্তরায় সোমবার ওই প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহত হওয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সড়ক সচিব।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।

আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ছুটির দিনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা না। তারা কোনো রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা না নিয়েই কাজ করছিল। এভাবে উন্মুক্ত রেখে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী কাজ করতে হলে আগের দিন তারা একটি ওয়ার্ক প্ল্যান দেবে, তাদের কতজন লোক থাকবে, কতগুলো ক্রেন লাগানো হবে, কখন পুলিশকে জানাবে এসব থাকে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল ঠিকাদার এগুলো না করেই কাজটা করেছে। কোনো অবস্থাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে এ ধরনের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।’

উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের মোড়ে প্যারাডাইজ টাওয়ারের সামনের সড়কে বিকেলে ফ্লাইওভারের বক্স গার্ডার ক্রেনে করে গাড়িতে তোলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় রাস্তায় অসংখ্য যানবাহন চললেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা বা কাজ করা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি।

ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে গাড়িতে থাকা সাতজনের মধ্যে দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় করা প্রাথমিক তদন্তে গাফলতির এমন প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় মন্ত্রণালয়।

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে জানতে চাইলে সড়ক সচিব আমিন উল্লাহ বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী আমরা… আমাদের চুক্তিতে যেমন থাকে জরিমানা করা হয়, কাজ টার্মিনেট করা হয় এবং তারা যেন আর কোনো কাজ করতে না পারে এ জন্য ব্ল্যাক লিস্ট করা হয়। চূড়ান্ত রিপোর্টটা আসুক। আমি আজকেই চিঠি ইস্যু করব, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘এতো বড় ক্ষতির জন্য শুধু জরিমানা করা যাবে না। সর্বোচ্চ ব্যবস্থা যদি নেয়া হয় তার লাইসেন্স চলে যাবে। বাংলাদেশে তারা আর কোনো কাজ করতে পারবে না।’

এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গাফলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

সচিব বলেন, ‘আগে যারা নিরাপত্তায় ছিল তাদের আমরা টার্মিনেট করেছি। আমি যতটুকু জেনেছি আগের ঘটনাগুলোতে যারা গাফিলতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

‘কেউই দায় এড়াতে পারে না। একদিনে একটি তদন্ত হয় না। গতকাল ঘটনার পরপরই কিন্তু আমি সবাইকে ফোন করেছি। কোনো অবস্থাতেই অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করার সুযোগ নেই। ঠিকাদার কেন করেছে সেটাই হলো প্রশ্ন। কে সে করল? কমকর্তা যারা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘যে ক্রেনে তোলা হয়েছিল সেটি এর জন্য সক্ষম কিনা এটা তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিলে জানা যাবে। এটা কিন্তু সে উপরে তুলছিল না, এটা স্থানান্তর করছিল। একটা সে সরিয়েছেও। নিয়মিত মামলা হয়েছে। আমরা লাশগুলো আজকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। সে সময় অন্য কোনো অপারেটর ছিল না।’

সড়ক সচিব বলেন, ‘একটা অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান কনসালটেন্ট। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে কনসালটেন্ট থাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে, তারা একটি ম্যাথডলজি দেয় কীভাবে করতে হবে। দেয়ার পরে ফেল করলে এক কথা। তারপরেও কনসালটেন্টকে বলেছি, তোমার খোঁজ নেয়ার কথা। সে বলেছে, বন্ধের দিন তো কাজ করার কথা না। তারা বলেওনি কাজ করার জন্য।

‘কালকে কাজ বন্ধ ছিল। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের যারা সুপারভাইজার সেখানে ছিল, আজকেই তাদের সবাইকে শোকজ করব। কমিটি আমাকে আগামী ২ দিনের মধ্যে রিপোর্টটা দেবে।’

সড়ক সচিব আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ‘তাদের (ঠিকাদার) কাছে আমি এখন লিখিত সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স চাইব। সেটি কনসালটেন্ট অনুমোদন করবে তারপর কাজ চালু হবে।’

আরও পড়ুন:
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মৃত্যু, রিট করতে বলল হাইকোর্ট
বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধের নির্দেশ
বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা
বনানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বাইকার শুভ নিহত
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chowkbazar fire Body handed over in afternoon after post mortem

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ হস্তান্তর

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ হস্তান্তর
চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক রাজীব সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা মরদেহগুলো শনাক্ত করতে পেরেছেন। কোনো মরদেহের একাধিক দাবিদার পাওয়া যায়নি। তাই ময়নাতদন্তের পর বিকেলেই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করব। আর পরবর্তীতে নতুন কোনো দাবিদার এলে সেটা সমাধান করার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’

চকবাজারের কামালবাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৬ হোটেল কর্মচারীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বিকেলের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো তুলে দেয়া হবে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের মর্গে ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে। একে একে ৬টি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করবে চকবাজার থানা পুলিশ।

হস্তান্তরের সময় মরদেহ বহন ও দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এর আগে সোমবার রাতেই পরিবারের সদস্যরা নিহত ৬ জনের মরদেহ আলাদাভাবে শনাক্ত করেন।

চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক রাজীব সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ৬ মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কারণ পুঁড়ে যাওয়া মরদেহের ক্ষেত্রে অনেক সময় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। অবশ্য পরিবারের সদস্যরা মরদেহগুলো শনাক্ত করতে পেরেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহের একাধিক দাবিদার পাওয়া যায়নি। তাই আমরা ময়নাতদন্তের পরই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করব। আর পরবর্তীতে নতুন কোনো দাবিদার এলে সেটা সমাধান করার জন্যই নিয়ম অনুযায়ী ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চকবাজারে আগুন: প্লাস্টিক পাইপে গ্যাস নেয়া হোটেল মালিক গ্রেপ্তার
চকবাজারে আগুন: নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ করে সহায়তা
চকবাজারের আগুন ‘হোটেল থেকে’
ঘুমিয়ে ছিলেন ৬ হোটেল কর্মচারী
চকবাজারে পুড়ে যাওয়া ভবনে ৬ মরদেহ

মন্তব্য

p
উপরে