× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Many workers will have to leave without the post of Chhatra League
hear-news
player
print-icon

ছাত্রলীগের পদ ছাড়াই বিদায় নিতে হবে অনেক কর্মীকে

ছাত্রলীগের-পদ-ছাড়াই-বিদায়-নিতে-হবে-অনেক-কর্মীকে
সর্বশেষ ২০১৮ সালের কমিটির অধীনে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তাদের অনেককে কোনো পদ ছাড়াই ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হবে। ফাইল ছবি
ছাত্রলীগের নতুন সম্মেলনের ব্যাপারে সংগঠনটির নেতৃত্বের ওপর চাপ আছে। চলতি কমিটি চার বছরের বেশি সময় ধরে আছে। এখন নতুন কমিটি হলে ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে অনেক কর্মীর। অনেকে আগ্রহী হবেন না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের সর্বশেষ ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের মে মাসে। এই কমিটির অধীনে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তাদের অনেককে কোনো পদ ছাড়াই ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হবে। কেননা কমিটির বয়স চার বছরেরও বেশি হয়েছে। সে সময়ে যারা কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তাদের অনেকের গ্রাজুয়েশন শেষ হয়েছে, আবার অনেকের শিক্ষা জীবন সম্পূর্ণ হয়েছে।

যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে তারা ছাত্রলীগে কোনো পদ পাবেন না। আর যারা শিক্ষা জীবনের শেষ দিকে পৌঁছেছেন, তারা ছোটখাটো পদ নিতে চাইবেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০০৮ এর শুরুর দিকে রাজনীতি শুরু করি। নতুন হওয়ায় ওই সম্মেলনে পদ পাইনি। এখন মাস্টার্সে পড়ছি। আগামী সম্মেলন হতে হতে ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যেতে পারে। যদি না হয়, তাহলে হয়তো ছোট-খাটো পদ পেতে পারি। কিন্তু শিক্ষাজীবনের শেষ সময়ে এসে ছোট-খাটো পদ চাই না।’

ওই শিক্ষার্থী জানান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অন্তত তিনটি ব্যাচের ছাত্রছাত্রী এ অবস্থায় পড়বেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয় ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের চার নেতার সঙ্গে। তারা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। তবে আব্দুর রহমান ও বি এম মোজাম্মেল হক ছাড়া অন্য দু’জনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগের পদ ছাড়াই বিদায় নিতে হবে অনেক কর্মীকে

আল নাহিয়ান খান জয় লেখক ভট্টাচার্যকে শুরুতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নেতৃত্ব দেয়া হলেও ২০২০ সালের ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের পূর্ণাঙ্গ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ফাইল ছবি

বি এম মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘এটি একটি বাস্তব সমস্যা। করোনার কারণে গত দু’বছর ছাত্রলীগের সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অনেক কর্মীকে পদ ছাড়া বিদায় নিতে হবে। তবে, চলতি আগস্ট মাস পার হলে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের আরও কিছু সহযোগি সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’

২০১৮ সালের মে মাসে ছাত্রলীগের সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয় জুলাইয়ে। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দুজন। তাদের জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়।

এর পরে কমিটি থেকে অনেকের পদত্যাগ, একাংশের বিরোধিতা, নতুন করে অনেককে পদায়নসহ নানা ইস্যুতে বিতর্কিত হয়ে ওঠেন জয়-লেখক। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির মেয়াদ পার হলেও তারা সম্মেলন দিতে গড়িমসি শুরু করেন। সম্মেলনের দাবিতে ছাত্রলীগের নানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরব হয়ে ওঠেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছাত্রলীগকে দ্রুত সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার নির্দেশ দেন অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে টালবাহনা শুরু করেন।

দ্রুত সম্মেলন প্রত্যাশীরা গত ১৪ মে তারিখ ঘোষণার দাবি নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে আল নাহিয়ান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন। এর পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে ছাত্রদলের ‘তথাকথিত’ আগমন। মারামারিতে লিপ্ত হয় দুই সংগঠন, হাওয়া হয়ে যায় ছাত্রলীগের সম্মেলন আলোচনা।

সঠিক সময়ে সম্মেলন না হওয়া এবং এ জন্য পদ ছাড়াই অনেক কর্মীর বিদায়ের আশংকার বিষয়ে গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার আল নাহিয়ান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য নিউজবাংলার পক্ষ থেকে বার বার তাদের ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

ছাত্রলীগ দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যতম আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমানও যথাসময়ে সম্মেলন না হওয়ার কারণে নেতৃত্ব জটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগে নেতৃত্ব পেতে নিদ্দির্ষ্ট বয়সসীমা এবং ছাত্রত্ব থাকতে হবে। কিন্তু করোনার কারণে নিয়মিত সম্মেলনে ভাটা পড়েছে।’

আগামী সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা আলোচনা সাপেক্ষ।’

আরও পড়ুন:
বরগুনায় যুবদলের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
জাবিতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে কমিটি
পরচুলা ছিনতাইয়ে ছাত্রলীগ নেতার নাম
চবি ছাত্রলীগে পদবঞ্চিতদের অবরোধ প্রত্যাহার
অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও অচল চবি, বাস-ট্রেন বন্ধ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Labbike takes as much as you want in the name of chart rent
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-১১

চার্টের ভাড়া নামেই, লাব্বাইক নেয় ইচ্ছামতো

চার্টের ভাড়া নামেই, লাব্বাইক নেয় ইচ্ছামতো লাব্বাইক পরিবহনের বাস। ছবি: নিউজবাংলা
বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণে মালিবাগ রেলগেট এলাকায় যাত্রীরা এই বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এক যাত্রী তার বাড়তি ভাড়া সাইফুলের কাছ থেকে আদায় করে নেন। পরে সাইফুল বাসে থাকা একটি মাত্র ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় যাত্রীরা ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে সাইফুল বলেন, ‘এটা পুরাতন চার্ট।’

বাসভাড়ায় নৈরাজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপে পড়া বাস মালিক সমিতি ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ ঘোষণার পর সড়কে দেখা যাচ্ছে কৌশলী পদক্ষেপ।

সাভারের ইপিজেড থেকে নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড পর্যন্ত চলাচলকারী লাব্বাইক পরিবহনের ওই বাসের চালক দাবি করছে, তারা ওয়েবিল পদ্ধতি থেকে সরে এসে কিলোমিটার দূরত্বে ভাড়া কাটছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়।

কিলোমিটারের হিসাব বাদ দিয়ে তারা আগের মতোই এক চেক থেকে আরেক চেক পর্যন্ত দূরত্বে বাড়তি ভাড়াই আদায় করছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ঘোষণা ছিল ১১ আগস্ট থেকে ওয়েবিলের বদলে কিলোমিটারের দূরত্ব হিসেবে প্রথম চার কিলোমিটার পর্যন্ত ১০ টাকা, এরপর প্রতি কিলোমিটারের জন্য আড়াই টাকা হারে ভাড়া কাটবে।

কিন্তু এই ঘোষণার চতুর্থ দিন লাব্বাইক পরিবহনের কয়েকটি বাসে উঠে দেখা যায় যাত্রীদের থেকে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে দূরত্ব ভেদে ৫ থেকে ২১ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে।

হেমায়েতপুর থেকে কমলাপুর ২১ দশমিক ৮ কিলোমিটারে ভাড়া আসে ৫৪ দশমিক ৫ পয়সা। চার্টের ভাড়া ৫৯ টাকা। যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেছে ৭৫ টাকা। বেশি নিয়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৩ টাকা ৪৪ পয়সা।

কারওয়ান বাজার থেকে সাইনবোর্ড ১৮ কিলোমিটারের ভাড়া নিয়েছে ৫০ টাকা। তবে নতুন চার্টের ভাড়া এই দূরত্বে ৪৫ টাকা। ভাড়া বেশি নিয়েছে ৫ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা।

ফার্মগেট থেকে মৌচাক পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটারের চার্টে ভাড়া ১০ টাকা। যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেছে ১৫ টাকা। ভাড়া বেশি নিয়েছে ৫ টাকা।

সাভার থেকে মালিবাগ ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরত্বে চার্টে ভাড়ার অংক ৫৯ টাকা থাকলেও দুজনের কাছ থেকে ৮০ করে ১৬০ টাকা নেয়া হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা।

এই বাসের যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো জানতাম না এই দূরত্বে ভাড়া ৫৯ টাকা। ও আমার কাছে ভাড়া চেয়েছে ৮০ টাকা। আমরা দুজন ভাড়া দিয়েছি ১৬০ টাকা। আপনি ভাড়ার চার্ট দেখে বললেন ভাড়া ৫৯ টাকা। এখন আপনি বলেন এদের কী করতে মনে চায়?’

বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণে মালিবাগ রেলগেট এলাকায় যাত্রীরা এই বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক যাত্রী তার বাড়তি ভাড়া সাইফুলের কাছ থেকে আদায় করে নেন।

পরে সাইফুল বাসে থাকা একটি মাত্র ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় যাত্রীরা ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে সাইফুল বলেন, ‘এটা পুরাতন চার্ট।’

তবে সাইফুল ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলার আগেই ভাড়ার চার্টের তোলা ছবিতে দেখা যায়, এটি বিআরটিএ থেকে দেয়া ভাড়ার নতুন তালিকা।

পরে সাইফুলকে চার্ট ছিঁড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়েও কিছু চাইলেও কোনো উত্তর দেননি।

লাব্বাইক পরিবহনের আরেকটি বাসে কল্যাণপুর থেকে বাংলামোট ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটারে চার্টের ভাড়া ১৪ টাকা থাকলেও ভাড়া আদায় করেছে ২০। বেশি নিয়েছে ৬ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা।

কলেজ গেট থেকে মালিবাগ ৬ দশমিক ৭ কিলোমিটারের চার্টের ভাড়া ১৭ টাকা। তবে এক যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে ৩০। ভাড়া বেশি নিয়েছে ১৩ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়েছে ৪ টাকা ৪৭ পয়সা।

গাবতলী থেকে খিলগাঁও ১২.৬ কিলোমিটারে ভাড়া আসে ৩১ দশমিক ৫ টাকা। ভাড়া আদায় করেছে ৩৫ টাকা। বেশি নিয়েছে ৩ টাকা ৫ পয়সা।

এই বাসের যাত্রী মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের চার জনের কাছ থেকে গাবতলী থেকে খিলগাঁওয়ের ভাড়া নিয়েছে ১৪০ টাকা। কিন্তু চার জনের ভাড়া আসে ১২৬ টাকা। একেক জনের থেকে সাড়ে তিন টাকা বেশি নিলেও সব মিলিয়ে ১৪ টাকা বেশি নিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে ১০ টাকার জায়গায় ১১ টাকা ভাড়া আসলেই তারা রাউন্ড ফিগার করে ১৫ টাকা ভাড়া নেয়।’

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. আদনান বলেন, ‘আমার কোনো কথা নাই ভাই। চেকারের সঙ্গে কথা বলেন।’

ইস্কাটন এলাকায় বাস থেকে নেমে বাসের যাত্রী সংখ্যা গুনে ওয়েবিলে সই করা মো. সাগরকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেয়া হয় না।’

যাত্রীরা সবাই বলছে তাদের থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে এবং আগের মতোই আপনারা ওয়েবিলে ভাড়া নিয়েছেন। উত্তরে সাগর বলেন, ‘ওয়েবিল চালু নাই।’

আপনি নিজেই তো যাত্রী গুনে সংখ্যা লিখলেন ওয়েবিলে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমনে হিসাব রাখছে।’

পরে যাত্রীদের সঙ্গে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাগর বলেন, ‘আমি লাব্বাইকের চেকার না। আমি এখানকার স্থানীয়। লাব্বাইকের একটা গাড়ি ট্রাফিকে ধরছে। এখানের চেকার ওই গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে গেছে। একটু অপেক্ষা করেন। তিনি আসলে জিজ্ঞাসা কইরেন।’

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর চেকার মো. রাসেল আসলে বেশি ভাড়া আদায় ও ওয়েবিলে ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়েবিলের গাড়ি চলে না। আমরা যাত্রীর হিসাব রাখি। যে বেশি ভাড়া আদায় করবে তার ডিউটি বন্ধ করে দেয়া হয়।’

তাহলে আপনার কাজ কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা রোডে এই কারণে থাকি যাতে কারও কাছ থেকে বেশি ভাড়া না নিতে পারে।’

তাহলে কীভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে- এমন প্রশ্নে রাসেল বলেন, ‘রাস্তায় থাকা অবস্থায় তাদের আমরা কিছু বলতে পারি না। গাড়িটা স্টান্ডে পৌঁছালে পরে ব্যবস্থা নেই। অপরাধ করলেও চলন্ত গাড়ি থেকে তো স্টাফকে নামিয়ে দেয়া যায় না।’

তবে আগের মতোই চেকার রাসেল প্রতি গাড়ি চেক করার পরে ওয়েবিলে যাত্রী সংখ্যা লিখে সই করে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে নেমে যান।

আরও পড়ুন:
বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা
তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম
যাত্রী ঠকছে বিআরটিসির বাসেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Enayet Khandakar is in trouble with the additional rent
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-১০

বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা

বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা ময়মনসিংহ বাস টার্মিনালে এনা পরিবহনের বাস। ছবি: নিউজবাংলা
এনা পরিবহনে যাত্রীর অভাব হয় না। কিন্তু এখন বাস ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাসের অনেক সিট খালি নিয়ে ঢাকায় যাওয়া হচ্ছে। এতে শুধু তেলসহ আমাদের খরচ উঠলেও লাভবান হওয়া যাচ্ছে না: চালক হাসেম আলী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নতুন হারে ভাড়া নির্ধারণের পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন এনা পরিবহন বিপাকে পড়েছে।

এই পরিবহন আগের তুলনায় ভাড়া বাড়িয়েছে ৭০ টাকা। এই রুটে ভাড়া নেয়া হয় ৩২০ টাকা পর্যন্ত। তবে সরকারের দূরত্বের হিসাবে ভাড়া হওয়ার কথা ৩১০ টাকা। তবে ভাড়া বাড়ার পর যাত্রী কমে যাওয়ায় উল্টো বিপাকে পড়েছে কোম্পানিটি।

এই রুটে ৫২ আসনের বাসগুলোতে যাত্রী পাওয়া গেলেও ৪০ আসনের বাসগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। এর কারণ ৫২ আসনের বাসের ভাড়া কম। ২৫৫ টাকায় যাওয়া-আসা করা যাচ্ছে এই বাসগুলোতে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর মাসকান্দা আন্তনগর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, এনা কোম্পানির ঢাকাগামী সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে। ভাড়া বাড়ার আগে এ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এখন যাত্রীর সংখ্যা হাতে গোনা। যাত্রী না থাকায় দেরি করে ছাড়তে দেখা গেছে বাসগুলোকে।

আহসান হাবিব নামের একজন যাত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। ময়মনসিংহ শহরে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে এনা পরিবহনে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ, অন্য বাসগুলো মহাসড়কের যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করলেও এনা এটি করে না।

বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিপাকে খন্দকার এনায়েতের এনা
এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

‘তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেতে এনা পরিবহনের ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। এখন সেটি ৩২০ টাকা করা হয়েছে। এতে বাড়তি ৭০ টাকা আমাদের পকেট থেকে চলে যাচ্ছে। এসব দিক চিন্তা করে শৌখিন লোক ছাড়া কেউ এনা বাসে যাচ্ছে না।’

কিন্তু এই ভাড়া বাড়িয়ে কোম্পানির যে খুব একটা লাভ হচ্ছে না, সেটি উঠে এসেছে চালক হাসেম আলীর কথায়।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এনা পরিবহনে যাত্রীর অভাব হয় না। কিন্তু এখন বাস ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাসের অনেক সিট খালি নিয়ে ঢাকায় যাওয়া হচ্ছে। এতে শুধু তেলসহ আমাদের খরচ উঠলেও লাভবান হওয়া যাচ্ছে না।’

বাড়তি ভাড়ার প্রমাণের পরও অস্বীকার

সরকারের দূরত্বের চার্ট অনুসারে ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। কিন্তু এনা পরিবহনের বাসগুলো ছাড়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে। গুগল ম্যাপের হিসাবে এই দূরত্ব সাড়ে ৭ কিলোমিটার।

অর্থাৎ মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মমনসিংহের দূরত্ব ১১৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার।

সরকারি হিসাবে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ২ টাকা ২০ পয়সা হারে। এটি ৫২ আসনের জন্য প্রযোজ্য। কোনো কোম্পানি যদি যাত্রীর আরামের কথা ভেবে বাসের আসন কমায়, তাহলে আনুপাতিক হারে ভাড়া বাড়াতে পারবে।

এনা পরিবহন ৫২ আসনের জায়গায় ৪০টি অর্থাৎ ২৩ শতাংশ আসন কমানোয় তারা ২৩ শতাংশ বেশি ভাড়া নিতে পারবে।

এই হিসাবে এনা পরিবহন কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া আদায় করতে পারবে ২ টাকা ৭০ পয়সা হারে। এই হিসাবে ঢাকা ময়মনসিংহ রুটে ভাড়া হয় ৩১০ টাকা।

বিআরটিসি থেকে পাঠানো তালিকায় উল্লেখ আছে, মহাখালী থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। তবে এই হিসেবেও ভাড়া হয় ৩১৩ টাকা। কোনোভাবেই ৭ টাকা বেশি নেয়া সম্ভব নয়।

যদিও প্রমাণ থাকার পরও এনা পরিবহনের ম্যানেজার আলম মিয়া বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘বাসমালিকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং বাসের চাকা সচল রাখতে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সরকার। আমরা নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছি।’

ভাড়ার এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মো. মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, এনা যেহেতু ১২টি আসন কমিয়েছে, তাই তাদের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া আসে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। এই হিসাবে ভাড়া আসে ৩৩১ টাকা। কিন্তু যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ভাড়া রাখা হয় ৩২০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘এনা পরিবহন মহাসড়কের কোথাও না থামাসহ ভালো সার্ভিসের কারণে সব সময় অন্য বাসের চেয়ে কিছু ভাড়া বেশি নেয়া হয়। এবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৭০ টাকা আরও বেশি নেয়া হচ্ছে।’

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়। পরদিন বাড়ে বাস ভাড়া। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নগর পরিবহনে বাস ভাড়া কিলোমিটারে আড়াই টাকা ঠিক করা হয়। আর দূরপাল্লায় ৫২ আসনের ভাড়া ঠিক করা হয় ২ টাকা ২০ পয়সা হারে।

আরও পড়ুন:
বসুমতির সুমতি ফেরাবে কে?
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ
বিআরটিএ ঘুমিয়ে, ফায়দা নিয়েই যাচ্ছে রাইদা
স্বাধীন পরিবহন ভাড়া কাটে ‘স্বাধীনভাবে’
কার কাছে বিচার দেবেন বাসযাত্রীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Negotiations on SEPA agreement with India

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থলবন্দর। ফাইল ছবি
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নামে নতুন এক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দুই দেশ। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা বলছেন, দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা সাফটার অধীনে বাংলাদেশ ভারতে যেসব বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, নতুন চুক্তিতে তার চেয়েও বেশি সুবিধা দেখতে চান তারা।

প্রস্তাবিত সেপা চুক্তির বিষয়ে এফবিসিসিআই একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এটি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। এরপর শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্যের সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা আর পাবে না বাংলাদেশ। এতে করে রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ সম্পাদনের ব্যাপারে বেশি মনোযোগ দেয়ার কথা বলছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।

এফবিসিসিআই ওই প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) চালু আছে। এর আওতায় শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সাফটার আওতায় বিদ্যমান সুবিধা আরও বেশ কিছুদিন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে তারা।

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আছে। আবার দুটি দেশই আছে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায়। এর অধীনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
কয়েক বছর পর বাংলাদেশ যখন উন্নয়শীল দেশের কাতারে যাবে, তখন আর সাফটার বিদ্যমান সুবিধা পাবে না। তখন দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য বাড়াতে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে। সেই চিন্তা থেকেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারত্বমূলক চুক্তির প্রস্তাব করে বাংলাদেশ।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, মূলত স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দিক থেকেই এই চুক্তির প্রস্তাবটি ছিল।

উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশ যাতে ভারত থেকে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়, সে জন্য সেপা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশেই কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা/সিইপিএ) আছে। ইইউ দেশগুলোর মধ্যেও এই চুক্তি রয়েছে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে একটি যৌথ সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয় এবং সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর গত মাসে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয় প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে ২৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এসব সিদ্ধান্তের ওপর এফবিসিআইয়ের মতামত নেয়া হয়। গত সপ্তাহে এফবিসিসিআই তার মতামত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ভারতের সেন্টার ফর রিজিওনাল ট্রেডের (সিআরটি) যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেপা চুক্তি দ্বিপাক্ষিক পণ্যবাণিজ্য, সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে লাভজনক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আগামী ৭ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩-৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে। একই সময়ে ভারতের আয় বাড়বে ৪-১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা চীনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বর্তমানে বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘ভারত তাদের বাজারে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও নন-ট্যারিফ বাধার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না। সেপা চুক্তির সাফল্য পেতে হলে নন-ট্যারিফ শুল্ক বাধার সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ভারতে রপ্তানিতে একটু ধাক্কা আসতে পারে। এ জন্যই সিইপিএ করা হচ্ছে। সিইপিএ হয়ে গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বাড়বে।’

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ভিত্তিতে সেপা স্বাক্ষরের কথা বলে ভারত। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে উভয় পক্ষ এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মত হয়। পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের জন্য এটি ভালো ভিত্তি হবে বলে একমত হন তারা।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ

বর্তমানে আসিয়ানসহ সাতটি আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ। এসব জোটের অধীন দেশের সংখ্যা ১১২টি। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাণিজ্য বাড়াতে এসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বলেছে এফবিসিসিআই।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া সাফটা বাণিজ্যের শর্ত কমপক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছে তারা।

ভারতের সঙ্গে সেপা নিয়ে আলোচনায় একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই টিমে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

আলোচনায় সাফটায় যেসব সুবিধা আছে, সেপায় তার চেয়ে বেশি সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই বলেছে, সাফটার আওতায় বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রেখে কমপক্ষে ১০ বছর আরও বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়া অশুল্ক বাধা যাতে দূর করা হয়, সে বিষয়টি সেপা চুক্তিতে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সৌদির সঙ্গে চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
মাসে একবার পিজা খাওয়ার শর্তে বিয়ে!
আমিরাত-ইসরায়েলের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থাপনায় ঢুকছে দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two leaves and a bud can you hear?

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন করছেন চা শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা হুট করে ধর্মঘট ডেকে বসলে সেটি আইন পরিপন্থি হয় না। অথচ আমরা ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘটে গেলাম। এটিকে বলা হচ্ছে আইন পরিপন্থি।’

সোমা নায়েকের পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাত। তিনি ছাড়াও স্বামী, তিন সন্তান আর বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি।

সিলেটের দলদলি চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন সোমা। স্বামী পরিমল নায়েকও তাই। দুজন মিলে সারা দিন কাজ করে আয় করেন ২৪০ টাকা। যেদিন কাজ নেই সেদিন আয়ও নেই। এই দিয়েই খাওয়া ছাড়াও সন্তানদের লেখাপড়া আর চিকিৎসা ব্যয়।

সোমা বলেন, ‘বাগান থেকে রেশন হিসেবে কিছু চাল পাই। এতে সপ্তাহ চলে না। বাজার থেকে নিতে হয়। আর বাকি সবকিছু তো পুরোটাই কিনে আনতে হয়। এখন বাজারের যে অবস্থা তাতে ২৮০ টাকা দিয়ে তো দিনে একজনের চলাই দায়। সাতজনের পরিবার চলবে কী করে?’

সোমার বড় ছেড়ে কলেজে পড়ে। খরচ মেটাতে না পারায় ছেলের পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছেন তিনি।

সোমা বলেন, ‘বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম তাতে খেয়ে বাঁচতেই পারছি না, ছেলেকে পড়াব কীভাবে? তার চেয়ে সে পড়া ছেড়ে কাজে লাগলে কিছু বাড়তি আয় হবে।’

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’

সিলেটের লাক্কাতুরা বাগানের শ্রমিক রতন হাজরা। বলেন, ‘আমরা পাতা তুলি, কিন্তু চা খেতে পারি না। চায়ের কাপ এখন ১০ টাকা হয়ে গেছে। যে মজুরি পাই, তা দিয়ে চা কিনে খাওয়া বিলাসিতা হয়ে গেছে।’

গত এক মাসেও ঘরে মাংস রান্না হয়নি বলে জানালেন লাক্কাতুরার পাশের মালনীছড়ার বাগানের শ্রমিক শিউলি কন্দ। তিনি বলেন, ‘মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা। এত দাম দিয়ে মাংস কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। মাছ-ডিম খাওয়াও সম্ভব হয় না। ডাল আর সবজি দিয়েই খেতে হয়।

‘বাচ্চাদেরও কখনও সকালের নাশতা দিতে পারিনি। তারা ভাত খেয়েই স্কুলে যায়। অবার স্কুল থেকে এসে ভাত খায়।’

দেশের অন্যতম উৎপাদনশীল খাত চা বাগান। রপ্তানি পণ্যও। এখন উৎপাদন অনেক বেড়েছে। তবে দেশের বাজার বড় হয়ে ওঠায় কমে এসেছে রপ্তানি। তবে শুরু থেকেই অবহেলিত এ খাতের শ্রমিকরা। বাগানগুলোতে ‘ক্রীতদাসের’ মতো যুগ যুগ ধরে শ্রম দিয়ে আসছেন তারা। তবে মজুরি পান সামান্য।

এই বাজারেও একজন চা শ্রমিক দৈনিক মজুরি পান ১২০ টাকা। সেটিও কেবল নির্দিষ্ট পাতা উত্তোলন করলেই পাওয়া যায়। অসুস্থতা বা অন্য কোনো সমস্যায় কাজ করতে না পারলে মেলে না মজুরি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’
দাবি আদায়ে চা শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়। ছবি: মামুন হোসেন

এক সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। শনিবার দেশের ১৬৬টি বাগানে শুরু করেছেন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ধর্মঘট চালাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন তারা। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সড়ক অবরোধকালে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয় শ্রমিকদের।

এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার কথা হয় সিলেটের বিভিন্ন বাগানের কয়েকজন চা শ্রমিকের সঙ্গে। নিজেদের মানবেতর জীবন ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন তারা।

সিলেটের খাদিমনগর চা বাগানের শ্রমিক সুশিলা রাজভর বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়িও থাকেন। এত বড় পরিবার স্বামীর আয়ে চলে না। তাই আমাকেও কাজ করতে হয়। কিন্তু এখন দুজনের আয়েও সংসার চলছে না।’

তিনি বলেন, ‘১২০ টাকায় কীভাবে খেয়ে-পরে বাঁচব? ওষুধপত্র, কাপড়চোপড় কিংবা বাচ্চাদের পড়ালেখা এসবের খরচ আসবে কোথায় থেকে? এখন ৩০০ টাকা দিয়েও চলা সম্ভব না।’

মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক রতন বাউরি বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়ছে। উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে না। আমাদের কোনো উন্নতি নেই।’

‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’

রোববার চা বাগানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সোমবার জাতীয় শোক দিবসের ছুটি। তাই এ দুদিন বাগানগুলোতে শ্রমিকদের কর্মবিরতিসহ সব কর্মসূচি স্থগিত আছে।

তবে সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার থেকে আবার লাগাতার ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানান বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাবে ১৬৬ চা বাগানে শ্রমিক সংখ্যা দুই লাখের বেশি। প্রতি দুই বছর অন্তর বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের সঙ্গে ও শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনাসাপেক্ষে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

২০২০ সালে চা শ্রমিকদের মজুরি ১১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণ করে মালিকপক্ষ। সেই চুক্তির দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়নি।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘গত দুই মাসে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা মজুরি ১২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানেননি। পরে এই দাবিতে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।

‘এতেও কোনো সাড়া না পেয়ে ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করি। এরপর বৃহস্পতিবার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক আহ্বান করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। এতে শ্রমিক নেতারা গেলেও মালিকপক্ষের কেউ আসেননি। ফলে শনিবার থেকে আমরা দেশের সবগুলো চা বাগানের ধর্মঘট শুরু করেছি।’

কী বলছে মালিকপক্ষ

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাগানগুলো পরিচালনা করে থাকেন বাগান ব্যবস্থাপকরা। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে থাকেন।

আকিজ গ্রুপের মালিকানাধিন মৌলভীবাজারের বাহাদুরপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল জব্বার শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে কোনো মন্তব্য না করেই বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের কেবল মজুরি দিই না। রেশন হিসেবে একজন শ্রমিককে সপ্তাহে সাড়ে তিন কেজি করে চাল দেয়া হয়। এক শ্রমিকের পরিবারের চারজন সদস্য এই রেশন পেয়ে থাকেন। শ্রমিকদের সন্তানদের ১৮ বছর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই রেশন দেয়া হয়।

‘বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করে। তাদের চিকিৎসা ও সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার সুবিধাও বাগানের পক্ষ থেকে করা হয়। তাদের খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া যেসব নারী শ্রমিকের ছোট বাচ্চা রয়েছে, সেসব বাচ্চা দেখাশোনার ব্যবস্থাও বাগানের পক্ষ থেকে করা হয়।

‘বয়স্ক শ্রমিকদের অবসরকালীন ভাতা দেয়া হয়। আবার একজন শ্রমিক দিনে ২৪ কেজির বেশি পাতা তুললে তারা কেজিপ্রতি ৪ টাকা করে বাড়তি মজুরিও পেয়ে থাকেন। ফলে তারা কেবল ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন এমন দাবি সত্য নয়।’

একই ধরনের তথ্য দিয়ে চা শিল্পের উদ্যোক্তা ও সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘সব সুবিধা মিলিয়ে একজন শ্রমিকের পেছনে আমাদের দৈনিক ৪৫০ টাকা খরচ করতে হয়। বাগানে দিন দিন শ্রমিক বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদন বাড়ছে না।

‘আবার কোনো শ্রমিকের আমরা বের করে দিতেও পারি না। তাদের আবাসন ব্যবস্থাসহ সব ব্যয়ভার বহন করতে হয়। এসব খরচ মিটিয়ে চা বাগান থেকে লাভ বের করে আনাই কষ্টকর। অনেক বাগানই এখন লোকসানে আছে।’

শ্রমিকদের ভিন্নমত

মালিকপক্ষের এমন দাবির সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে এ প্রসঙ্গে সিলেটের কালাগুল চা বাগানের শ্রমিক সঞ্জয় মাহালি বলেন, ‘বাগানে প্রাইমারি স্কুল থাকলেও এতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। বেশির ভাগ বাগানে এক শিক্ষক দিয়েই স্কুল চলে। আবার প্রাথমিকের পর বাচ্চাদের পড়ালেখা নিজ খরচেই করাতে হয়। একটি মেডিক্যাল সেন্টার থাকলেও সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই।

‘প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে জ্বর-সর্দি ছাড়া অন্য কোনো অসুখ হলে বাইরের চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়।’

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘অনেক বাগানে রেশনের নামে শ্রমিকদের শুধু আটা দেয়া। অথচ আমাদের চুক্তিতে আছে, ছয় মাস চাল এবং ছয় মাস আটা দেয়া হবে। কিন্তু সেটাও তারা মাছেন না। এ ছাড়া চিকিৎসা ও শিক্ষার সুবিধা একেবারেই নামমাত্র। এসব সেবা বাইরে থেকেই আমাদের নিতে হয়।’

রেশনের সঙ্গে মজুরির কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘রেশন হিসেবে বাগান থেকে কিছু চাল বা আটা দেয়া হয়। কিন্তু একজন শ্রমিক কি কেবল চাল খেয়েই বাঁচবে? বাকি খাবার তো ১২০ টাকায় কেনা সম্ভব নয়। চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক- এসব কীভাবে ব্যবস্থা করবে চা শ্রমিকরা?

‘এই সময়ে এসে একজন লোককে ১২০ টাকায় সারা দিন খাটানো হয়, এটাই তো চরম অমানবিক।’

সমঝোতার উদ্যোগ ব্যর্থ

চা শিল্পের এই অচলাবস্থা কাটাতে গত বৃহস্পতিবার বাগান মালিক নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ওই বৈঠকে শ্রমিকরা যোগ দিলেও মালিকরা যাননি।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক শ্রমিক নেতা জানান, বৈঠকে শ্রম অধিদপ্তরের নেতারা মালিকদের হয়ে কথা বলেন। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য শ্রমিকদের চাপ দেন। এভাবে ধর্মঘট আহ্বান আইন পরিপন্থি বলেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে শ্রম দপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ বন্ধ করে শ্রমিকেরা আন্দোলনে গেলে মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষেরই ক্ষতি হবে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা বৈঠক করেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২৮ আগস্ট তাদের সঙ্গে বসতে সময় চেয়েছেন। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেছেন। কিন্তু চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতরা সেটা মানেননি।’

এভাবে ভরা মৌসুমে হুট করে ধর্মঘট ডাকা আইন পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা হুট করে ধর্মঘট ডেকে বসলে সেটা আইন পরিপন্থি বলা হয় না। অথচ আমরা ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘটে গেলাম। এটাকে বলা হচ্ছে আইন পরিপন্থি।’

বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, ‘মজুরি বাড়ানো নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা চলছিল। আলোচনা চলাকালে এভাবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা বেআইনি।’

তিনি বলেন, ‘এখন চা বাগানে ভরা মৌসুম। কাজ বন্ধ রাখলে সবার ক্ষতি। শ্রমিকরাও এই মৌসুমে কাজ করে বাড়তি টাকা পায়।'

শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গে গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, ‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি যাতে শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

সব চা বাগানে উৎপাদন বন্ধ থাকলে দিনে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি।

‘এখনও ক্রীতাদাস’

শনিবার থেকে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাদের আন্দোলন ও দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছেন।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক আরিফ জেবতিক এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ফেসবুকে লিখেছেন- চা শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরির দাবি যৌক্তিক।

লেখক কাসাফাদ্দৌজা নোমান চা শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘...আজকাল তো নগরীর অভিজাত চায়ের দোকানে এক কাপ চা বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। সে চায়েরও হয় ফুড রিভিউ। অথচ শ্রমিকদের ১২০ টাকার অসুন্দর জীবনের দৃশ্য সিনেমাটোগ্রাফিতেও আসে না, খবরেও খুব একটা পাওয়া যায় না। কারণ তারা চা পাতা ভর্তা খেয়েই কাটিয়ে দিচ্ছে বেহেশতি এই জীবন!

‘চা শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা পারিশ্রমিকের জন্য আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রইল।

দুটি পাতা একটি কুড়ি

শুনতে কি পাও আহাজারি?’

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা আইডিয়া। শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক বলেন, ‘শ্রমিকরা এখনও অনেকটা ক্রীতদাসের মতোই জীবন কাটাচ্ছে। তাদের উন্নয়নে সরকার, মালিকপক্ষ সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তাদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক।’

আরও পড়ুন:
চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
‘বৈকুণ্ঠপুর চা বাগান চালু না হলে কঠোর আন্দোলন’
গাছ পাচার: ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চা শ্রমিকরা
যে জীবন চা-শ্রমিকদের
চা শ্রমিকের মৃত্যু: ৮ ঘণ্টা পর ঘরে ফিরল শ্রমিকরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This was not the case in the song Fazal e Khodar remembers Bangabandhu

‘এমন তো কথা ছিল না’

‘এমন তো কথা ছিল না’ ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’এবং ‘এমন তো কথা ছিল না’ গানের রচয়িতা ফজল-এ-খোদা, গেয়েছেন আব্দুল জব্বার ও সুর করেছেন বশির আহমেদ (ডানে)। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর গীতিকার ফজল-এ-খোদার যে চাপা কষ্ট, সেই কষ্ট থেকে ‘এমন তো কথা ছিল না’ গানটির জন্ম এবং ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এটি প্রথম গান বলে দাবি ফজল-এ-খোদার স্ত্রী মাহমুদা সুলতানার।

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানটি বাংলাদেশের কে না শুনেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানিয়ে গানটি লিখেছেন ফজল-এ-খোদা, গেয়েছেন ও সুর করেছেন আব্দুল জব্বার। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গানের তালিকায় সেরা ২০ গানের মধ্যে ১২তম স্থান পেয়েছিল।

তবে আজকের গল্পটি ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানটি নিয়ে নয়। আজকের গল্পটি ‘এমন তো কথা ছিল না’ গানের। যার রচয়িতা ফজল-এ-খোদা, গেয়েছেন আব্দুল জব্বার ও সুর করেছেন বশির আহমেদ।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর গীতিকার ফজল-এ-খোদার যে চাপা কষ্ট, সেই কষ্ট থেকে গানটির জন্ম এবং ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এটি প্রথম গান বলে দাবি ফজল-এ-খোদার স্ত্রী মাহমুদা সুলতানার।

মাহমুদা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, “এমন তো কথা ছিল না’ গানটি ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে লেখা ও রেকর্ড করা। এটি ফেব্রুয়ারিতে রেডিওতে বাজানো হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে এটিই প্রথম গান।’

তিনি জানান, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর তার নাম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। তাই কাব্য আর রূপকের আশ্রয় নিয়ে ফজল-এ-খোদা গানটি রচনা করেন। বশির আহমেদের সুরে গানটিতে কণ্ঠ দেন আব্দুল জব্বার।

মাহমুদা সুলতানা বলেন, ‘ব্যাপারটি তখন শুধু তারা তিনজন জানতেন। আমিও জেনেছি কিছু পরে।’

গানটি তৈরি হওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে মাহমুদা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমার। আমি ফজল-এ-খোদাকে ডেকে তুলি। মনে হচ্ছিল শব্দগুলো গোলাগুলির। ফজল-এ-খোদা আমাকে বললেন, বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, সে জন্য হয়তো শব্দ হচ্ছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা হয়তো পটকা ফাটাচ্ছে।’

ফজল-এ-খোদা তখন রেডিওতে চাকরি করেন। রেডিওর পক্ষ থেকে তারও যাওয়ার কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটু পরে আবার উঠতে হবে এ জন্য তাকে শুয়ে পড়তে বলেন ফজল, জানান মাহমুদা।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, এ খবরটি শোনার বর্ণনা দিয়ে মাহমুদা বলেন, ‘বেলা বাড়লে, রেডিওর এক পিয়ন দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাসায় আসে। তখন আমাদের বাসা ছিল শের-ই-বাংলা নগরের সরকারি কোয়ার্টারে। সেই পিয়ন এসে আমাকে বলে, ম্যাডাম বঙ্গবন্ধুকে তো মাইরা ফালাইসে। রেডিও ছাড়েন। আমি খবরটি ফজল-এ-খোদাকে জানাই। সে শুনে উদভ্রান্তের মতো হয়ে যায়। দৌঁড় দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে আবার বাসায় নিয়ে এসে রেডিওর সামনে বসানো হয়।’

রেডিও অফিসও ছিল আর্মিদের দখলে। ফজল-এ-খোদার কাছ থেকে শোনা গল্পই মাহমুদা জানান নিউজবাংলাকে। বলেন, ‘তার কয়েক দিন পর স্বাধীন বাংলার বেতার কেন্দ্রের একজন শব্দসৈনিক ছিলেন, তার নাম আশরাফুল আলম, রেডিও অফিসে তাকে নির্যাতন করছিল আর্মির লোকজন। কারণ আশরাফুল আলম তার কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিলেন। আর্মির লোকজন মনে করেছিল, তার অন্য কোনো পরিকল্পনা আছে।’

মাহমুদা জানান, ফজল-এ-খোদা, শহীদুল ইসলাম এবং আশরাফুল আলম- বেতারের এই তিন কর্মকর্তাকে এক আত্মা মনে করা হতো।

মাহমুদা আবার বলতে শুরু করেন, ‘এর মধ্যে কীভাবে যেন রটে গেল, মানে এটা রটানো হয়েছে যে এই তিনজন একটা নতুন বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। ১৯৭৫ সালের ৩ অক্টোবর ভোররাতে মেজর শাহরীয়ার আর্মির জিপ নিয়ে আমাদের শের-ই-বাংলা নগরের সরকারি বাসায় আসেন এবং ফজল-এ-খোদাকে ধরে নিয়ে যান। শহীদুল ইসলামকে আগেই ধরেছিল আর্মিরা।’

‘‘ফজল-এ-খোদা এক সময় ছাড়া পান। কিন্তু তার মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ, কষ্ট, দুঃখ বা হতাশা তৈরি হয়, যেটা জানাচ্ছিল না। শিল্পী আব্দুল জব্বার বিষয়টি লক্ষ করেন এবং পরামর্শ দিয়ে ফজল-এ-খোদাকে বলেন, ‘তোর তো কষ্ট যাচ্ছে না। তুই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটা গান লেখ।’ মাহমুদা জানান, কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াই নিষেধ ছিল। সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান লেখা হবে কীভাবে।’’

মাহমুদা বলেন, ‘তখন ফজল-এ-খোদা খুব তীক্ষ্ণতার সঙ্গে, কাব্যের সাহায্যে রূপকের আশ্রয়ে লিখলেন সেই গান-

‘ভাবনা আমার আহত পাখির মতো

পথের ধুলোয় লুটোবে

সাতরঙে রাঙা স্বপ্নবিহঙ্গ

সহসা পাখনা গুটোবে

এমন তো কথা ছিল না…

আলোর কামনাগুলি সূর্য্য শিখা হয়ে আনন্দ ফুলঝুরি ছড়াতো

গানের বাঁশরি হয়ে সুরের আকাশখানি তারার জোছনায় ভরাতো

বৈশাখি মেঘে মেঘে চন্দ্র সূর্য্য ঢেকে

আচমকা আঁধার জুটোবে

এমন তো কথা ছিল না

মনের বাসনাগুলি গন্ধ গোলাপ হয়ে

অন্ধ মাতাল করে দিতো

সবুজ পাতারা ওগো অবুঝ প্রথম প্রেমে আদরে কাছে ডেকে নিতো

বাওরি উদাসী বায়ে

গোলাপেরা ঝরে গিয়ে

এ হৃদয়ে কাঁটা ফুটোবে

এমন তো কথা ছিল না।’

মাহমুদা বলেন, ‘এমনিতে দেখতে এটাকে একটা প্রেম-ভালোবাসার গান মনে হবে। কিন্তু গানটি মূলত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা।’

মাহমুদা আরও বলতে থাকেন, ‘আব্দুল জব্বার কবি বলে ডাকতেন ফজল-এ-খোদাকে। গানের কথা দেখার পর জব্বার বাহবা দেন ফজলকে। কিন্তু সুর করবে কে গানটি? তখন দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন বশির আহমেদকে দিয়ে গানটির সুর করানোর। কয়েক দিনের মধ্যে বশির আহমেদ গানটির সুর করে দেন। আব্দুল জব্বার খুব খুশি হয়েছিলেন গানটির এমন সুর পেয়ে।’

মাহমুদার এখন ৭৫ বছর বয়স। স্বামী ফজল-এ-খোদাকে হারিয়েছেন গত বছরেই। তিন ছেলের মধ্যে এখন তিনি থাকেন মেজো ছেলের সঙ্গে।

‘এমন তো কথা ছিল না’ গানের গীতিকার, শিল্পী, সুরকার কেউই নেই। শুধু রয়ে গেছে ইতিহাস। যে ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশ, যে ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গর্ব।

আরও পড়ুন:
বাঙালির কাঁদবার দিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Questions about the role of the media in the death of teacher Khairun

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন খাইরুন নাহার ও মামুন হোসেন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
খাইরুন নাহারের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের নীতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অতি উৎসাহ এবং পাঠক আকর্ষণ তৈরিতে সংবাদমাধ্যম মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরকে ঝুঁকিতে ফেলছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার সময় এসেছে।

কলেজছাত্র মামুন হোসেনকে বিয়ে করার আট মাসের মাথায় শিক্ষক খাইরুন নাহারের মৃত্যু-ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মামুন-খাইরুন গত ১২ ডিসেম্বর বিয়ে করেন, তবে এর ছয় মাস পর জুলাইয়ে ঘটনাটি নিয়ে ফলাও করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। দুজনের ভিডিও সাক্ষাৎকারও টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এতে ‘টক অফ দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয় বিষয়টি।

খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুন হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা রোববার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষক ও ছাত্রের প্রেমের কাহিনি ছড়িয়ে পড়লে দুজনই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন; কিন্তু সামাজিক, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় তাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়।

‘তাদের বিয়ের পর বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে অনেক আলোচিত ও সমালোচিত হয়। মানসিক এ চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

পুলিশ সুপার বলেন ‘ভাইরাল হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের বিরূপ মন্তব্যে খাইরুন নাহার এমনিতেই বিপর্যস্ত ছিলেন। এরপর মামুনের সঙ্গে দাম্পত্য কলহে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।’

খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের নীতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অতি উৎসাহ এবং পাঠক আকর্ষণ তৈরিতে সংবাদমাধ্যম মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরকে ঝুঁকিতে ফেলছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার সময় এসেছে। ‘ভাইরাল প্রতিবেদন’ করার প্রতিযোগিতা থেকে সরে এসে সংবাদমাধ্যমের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন।

বেসরকারি এখন টেলিভিশনের সম্পাদক তুষার আব্দুল্লাহর মতে, ‘যেখানে ভাইরালিজম থাকবে সেখানে জার্নালিজম হবে না।’ তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যম এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর গণমাধ্যম এক হয়ে গিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেমন খুশি তেমন লিখছেন, এখন সেটা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও হয়ে গেছে।

‘ব্যক্তি যা খুশি তাই করতে পারে, কিন্তু যখন একটা প্রতিষ্ঠান একটা খবর ছাপার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কিন্তু দায়িত্বশীলতার জায়গা নিশ্চিত করতে হয়। এখন আমরা যেটা করছি ওই যে লাইক ভিউ বিভিন্ন রেটিং। আমরা এখন জার্নালিজম করছি না, করছি ভাইরালিজম। যেখানে ভাইরালিজম থাকবে, সেখানে জার্নালিজম হবে না।’

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষিকা তার ছাত্রকে বিয়ে করেছে এমন ঘটনা অতীতে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় হয়েছে। রসাত্মক কোনো বিষয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ রয়েছে। তারা (বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম) এটিকে পুঁজি করেই ব্যবসা করতে চেয়েছিল। এ খবর হয়তো সবাই ক্লিক করবে, তাহলে এটা মানুষ খাবে।

‘এই যে খাওয়া-দাওয়া, খবর তো খাওয়া-দাওয়ার জিনিস নয়। আমরা যেটা করছি যে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে বেশি ঝুঁকে পড়ছি। মানুষের বেডরুমে পর্যন্ত আমরা ঢুকে যাচ্ছি। যেখানে এ ধরনের ভাইরালিজম জনপ্রিয় হবে, সেখানে এ ধরনের ঘটনাই আমরা দেখতে থাকব।’

সংবাদভিত্তিক বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান প্রভাষ আমিন মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা সংবাদ হওয়ার মতোই নয়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একজন শিক্ষিকা তার ছাত্রকে বিয়ে করেছেন। এখানে তো আমি কোনো অপরাধ দেখি না। পাত্র বড় হতে হবে, পাত্রী ছোট হতে হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। স্ত্রীর বয়স কম হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। আমরা যুগ যুগ ধরে এটা তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যে রিপোর্ট করেছে, আমি মনে করি এটা রিপোর্ট হওয়ার কোনো বিষয়ই না। একজন নারী ও পুরুষ ভালোবেসে বিয়ে করেছেন এটা নিউজের বিষয় নয়। প্রথম অপরাধ গণমাধ্যমের যে, তারা নিউজটা করেছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেটা হলো, আমি যখন ট্রলগুলো দেখছিলাম, তখন নিজেকে সেই নারীর জায়গায় ভাবছিলাম। এত ট্রল, এত গালিগালাজ, এত বিদ্রূপ নেয়ার মতো মানসিক শক্তি আমার আছে কি না। আমি নিজেও এটা নিতে পারতাম না। এটা খুবই অন্যায়, খুবই অন্যায়।’

সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠুর মতে, সংবাদ যেন কারও প্রাণসংহারের কারণ না হয় সেদিকে নজর দেয়া জরুরি।

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোসাইটিতে কোনো রকম ইমব্যালান্স যদি থাকে, সেখানে মিডিয়ার একটা ভূমিকা থাকে। কোনো নিউজ যেন কারও প্রাণসংহারের কারণ না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

‘কোনো নিউজের কারণে কেউ অপমানিত বা ক্ষুব্ধ বা লজ্জিত হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একটা জীবন শেষ হয়ে গেলে সেই নিউজের কোনো ভ্যালু থাকল না, এটা গুড জার্নালিজম নয়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষিকা কম বয়সী ছাত্রকে বিয়ে করে এমন কোনো নিন্দনীয় কাজ করেননি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তার টিচারকে বিয়ে করেছিলেন। সেটা যদি কোনো অন্যায় না হয়, সোসাইটিতে কোনো রিপারকেশন না থাকে, তাহলে আমার এখানে থাকবে কেন?

‘কোনো নিউজ করার ক্ষেত্রে এই সোশ্যাল ভ্যালুজগুলো আমাদের মাথায় রাখা দরকার। রেসপনসেবল জার্নালিজম করাটাই আসলে মুখ্য ব্যাপার।’

তবে খাইরুনের মৃত্যুর পেছনে সংবাদমাধ্যমের দায় মানতে রাজি নন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষিকার আত্মহত্যার পেছনে কেউ যদি মিডিয়ার প্রচারণাকে দায়ী করে, তবে সেটা ঠিক নয়৷ এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা ঠিকই ছিল। আমাদের দেশের কালচার সাধারণত পুরুষ-নারী সমবয়সী বা নারী পুরুষের তুলনায় কম বয়স হলে বিয়ে হয়। শিক্ষিকা ও ওই ছেলের বিষয়টা অন্যরকম ছিল। শিক্ষিকা ছেলেটির তুলনায় বয়সে অনেক বড় ছিলেন।

‘কুকুর মানুষকে কামড় দিলে নিউজ হয় না, কিন্তু মানুষ কুকুরকে কামড় দিলে নিউজ হয়। এখানে ঘটনাটি সে রকম ঘটেছে। এখানে গণমাধ্যমের কোনো দায় নেই।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে কোনো নিউজ না দেয়া হলে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটা প্রচার হবেই। বর্তমান প্রযুক্তির বাস্তবতায় এগুলো লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। প্রচারণার চেয়ে সামাজিক যে নর্মসগুলো, বিয়ে কেন, কীভাবে হয়েছিল সেগুলোর দিকে নজর দেয়া উচিত।’

প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের পর এক সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন খায়রুন। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ২০২১ সালের ২৪ জুন মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর ছয় মাস পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজি অফিসে গিয়ে তাকে বিয়ে করেন খায়রুন।

খায়রুনের মৃত্যুর জন্য সংবাদমাধ্যমকে একক দায় দিতে চান না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনওয়ার হোসেন। তার মতে, এ জন্য রাষ্ট্র, সমাজব্যবস্থাও দায়ী।

শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ড. মোহাম্মদ আনওয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রীয় এবং মিডিয়ার আসপেক্টে বাংলাদেশে প্রাইভেসি পলিসিটা কী? রাষ্ট্র এবং সমাজ দুইটার মাঝামাঝি জায়গা থেকে মিডিয়া বিষয়গুলো ডিল করার চেষ্টা করে। এখানে মিডিয়াকর্মীদের যে ট্রেনিংয়ের দরকার ছিল, অর্থাৎ ফিলোসোফিকাল জায়গাটা, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামের ওপর নির্ভর করে।

‘সোশ্যাল, রাষ্ট্রীয় আর ইউনিভার্সিটি কারিকুলাম এগুলো মিলিয়েই মিডিয়ার রুলস। মিডিয়া সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এখানে মিডিয়ার কিছু ইন্টারেস্ট আছে। তারা তাদের… বাড়ানোর জন্য অনেক কিছু দেখে। যদি আমাদের একটা নর্ম গড়ে উঠত, তাহলে মিডিয়া অনেক কিছু প্রচার করতে চাইত না।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ফেমিনিস্ট পার্সপেক্টিভ প্রাইভেসির জায়গাটায় কন্ট্রিবিউট করতে পারত। আর আমাদের ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট পার্সপেক্টিভ ওয়েস্টার্ন কনটেক্সট দ্বারা ডমিনেটেড। সেদিক থেকে এটাকে আইসোলেটেডভাবে না দেখে ব্রডার পার্সপেক্টিভে দেখা দরকার। এখানে মিডিয়াকে একক দোষ না দিয়ে বা কাউকে দোষারোপ না করে বৃহৎ পরিসের চিন্তা করা দরকার।

‘তবে যে সম্মানিত নারী ভিকটিম হলেন সেটা দুঃখজনক। আমরা তাকে প্রাইভেসির যে কমফোর্ট, সেটি দিতে পারিনি।’

ড. মোহাম্মদ আনওয়ার হোসেন বলেন, ‘এটা নিয়ে নিউজ করার জন্য প্রথমে আমাদের বোঝাতে হবে প্রাইভেসির জায়গাটাকে আমি কীভাবে ডিল করছি। ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট পার্সপেক্টিভ সেটাকে কীভাবে আমাদের শিখিয়েছে বা সোশ্যাল নর্মস তৈরির ক্ষেত্রে কী ধরনের রুল প্লে করে?

‘বা রাষ্ট্র প্রাইভেসিগুলোকে কীভাবে দেখে বা রেগুলেট করে- এসবের সংমিশ্রণেই বিষয়গুলো রেগুলেটেড হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
বাঁশঝাড়ে স্কুলছাত্রের মরদেহ
শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যু: স্বামী মামুন পুলিশ হেফাজতে
বলাৎকারের মামলায় সহকারী শিক্ষক গ্রেপ্তার
কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নারী চিকিৎসক হত্যায় রেজার স্বীকারোক্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New Governors move will reduce bad loans Tarek Riaz Khan

নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান বলেন, ‘করোনার সময় সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিটা থেমে যায়নি। বিভিন্ন সময়ে লকডাউন দেয়া হয়। সবকিছু বন্ধ থাকলে পুরো সময় ব্যাংক খাতের কর্মীরা প্রচণ্ডভাবে এবং সাংঘাতিক একটা হেরোইক পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের অর্থনীতির পাশে থেকেছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের বড় পদক্ষেপ ছিল প্রণোদনা প্যাকেজ। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা বাস্তবায়নে সব সময় সাপোর্ট দিয়েছে। এ জন্য আমি সাধুবাদ জানাই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমবে বলে মনে করছেন পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান।

তিনি বলেছেন, ‘নতুন গভর্নর মহোদয় এসে ঋণ পুনঃ তফসিল ও পুনর্গঠনে ব্যাংকগুলোর ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই নির্দেশনা মানলে, সঠিকভাবে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার ব্যাংকগুলো অনুসরণ করলে আমরা আমাদের ব্যাংকব্যবস্থাকে উন্নত করতে পারব। ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ সামনের দিনে কমে আসবে।’

নিউজবাংলাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশার কথা শুনিয়েছেন তারেক রিয়াজ খান।

২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পদ্মা ব্যাংকের নবযাত্রা হয়। নবজন্মের পর সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এ সময়ে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ কমেছে, মূলধন বেড়েছে। আমানত বেড়েছে কয়েক গুণ।

ব্যাংকটির ৬০ শতাংশ ইক্যুইটি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পদ্মা ব্যাংক। এ বছরের শেষ নাগাদ বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকটিতে আসছে বিদেশি বিনিয়োগ।

মহামারি করোনার ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ, মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ, নতুন গভর্নরের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপসহ ব্যাংক খাতের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলছেন পদ্মা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী তারেক রিয়াজ খান।

নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

নিউজবাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলা: করোনা-যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ এর বাইরে নেই। করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংক খাত গ্রাহকদের সেবা দিয়েছে। সেই ব্যাংক খাতের সার্বিক অবস্থা এখন কেমন?

তারেক রিয়াজ খান: করোনার সময় সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিটা থেমে যায়নি। বিভিন্ন সময়ে লকডাউন দেয়া হয়। সব কিছু বন্ধ থাকলে পুরো সময় ব্যাংক খাতের কর্মীরা প্রচণ্ডভাবে এবং সাংঘাতিক একটা হেরোইক পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের অর্থনীতির পাশে থেকেছেন। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের বড় পদক্ষেপ ছিল প্রণোদনা প্যাকেজ। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা বাস্তবায়নে সব সময় সাপোর্ট দিয়েছে। এ জন্য আমি সাধুবাদ জানাই। প্রণোদনার সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়ার ফলে অর্থনীতির অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি।

করোনায় এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তৃতীয় ঢেউ চলমান। করোনা-পরবর্তী এখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। গ্লোবাল ইকোনমিতে এটার প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি তেল, খাদ্যপণসহ সব কমোডিটির মূল্যের ওপর বেশি প্রভাব পড়েছে।

সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। ফলে কৃচ্ছ্রসাধন করছে সবাই। আমাদের দেশেও কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আমি মনে করি।

নিউজবাংলা: সারাবিশ্বে অস্থির ডলার বাজার। মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মানি এক্সচেঞ্জ ও ব্যাংকগুলোতে চলছে পরিদর্শন কার্যক্রম। ডলার সাশ্রয়ে আমদানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে আমদানি কমতে শুরু হয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে কি এর সুফল পাওয়া যাবে?

তারেক রিয়াজ খান: ডলারের যে সংকট হচ্ছে- এটা কমন ফেনোমেনা। কারণ আমদানি খরচ বেড়েছে। কমোডিটি প্রাইস বেড়েছে। আমরা আমদানিনির্ভর দেশ। রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি করতে হয়। কমোডিটি, ফুয়েল, এনার্জি প্রাইস ওভার না হলে ঘাটতি হতো না।

এটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্যও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। টাকা অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমদানি কমানোর জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সুফল আমরা পাচ্ছি।

ব্যাংক রেটের সঙ্গে কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের পার্থক্য বেশি। কার্ব মার্কেটে বা মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো চড়া দামে ডলার বিক্রির কারণে আমাদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আরও কঠোর হয়েছে। বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের লাভের আগে দেশের ভালো সবার মাথায় রাখতে হবে। দেশ ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা ভালো দিন দেখতে পাব। আমিও সে ব্যাপারে আশাবাদী।

নিউজবাংলা: ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? ঋণখেলাপিদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার কারণে অনেকে ইচ্ছা করে ঋণ পরিশোধ করেন না। এই ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’দের থেকে ঋণ আদায় কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন।

তারেক রিয়াজ খান: খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ‘আগ্রাসী ব্যাংকিং’ শব্দটা মাঝে মাঝে আমরা ব্যবহার করি। আগ্রাসী ব্যাংকিং ও প্রুডেন্ট ব্যাংকিং-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রফেশনাল ব্যাংকারদের এ বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

আমরা অনেক ক্ষেত্রে বলছি, ঋণগ্রহীতারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। তাদের দোষ দেয়ার আগে নিজের কাঁধে দোষটা নিতে হবে। আমি কেন, ওই লোনগুলো এক্সটেন করছি, কেন আননেসাসারিলি নর্মস ও ক্রেডিটের যে স্ট্যান্টার্ডগুলো আছে, ক্রেডিট পলিসির যে গাইডলাইন আছে সেগুলো বাইপাস করে কেন আমরা একটা অসুস্থ প্রতিয়োগিতায় লিপ্ত?

ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি ও প্রফেশনাল ব্যাংকাররা যদি স্ট্রং হয়ে যায়, কঠিন একটা জায়গায় যদি চলে যায় যে, না আমরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাব, দেশকে বাঁচাব তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের অবস্থা অনেক ভালো হবে।

সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপর যে খেলাপি ঋণ সেখানে বসে থাকলে হবে না। এর থেকে আলোর পথে এগোতে হবে। সেই পথে এগোনোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেয়া পদক্ষেপের আবারও স্যালুট জানাই। কারণ সম্প্রতি ঋণ পুনঃ তফসিল ও পুনর্গঠনে মাস্টার সার্কুলার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনার আলোকে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ অপারেশনাল না। নতুন গভর্নর এসে ঋণ পুনঃ তফসিল ও পুনর্গঠনে ব্যাংকগুলোর ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই নির্দেশনা মানলে, সঠিকভাবে সার্কুলার অনুসরণ করলে আমরা আমাদের ব্যাংকব্যবস্থাকে উন্নত করতে পারব। ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ সামনের দিনে কমে আসবে।

পদ্মা ব্যাংক সম্পর্কে বলতে হয়, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি ব্যাংকটির নবজন্ম হয়েছে। এরপর থেকে আমাদের টিম খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনেছে। ৭৮ শতাংশ খেলাপি ঋণ এখন ৬৭ শতাংশে নেমেছে। এ বছরে আরও ১০ শতাংশ কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের লোন রিকভারি ডিভিশনকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। রিকভারি রিলেশনশিপ অফিসার হিসেবে যারা ফ্রন্ট লাইনে আছেন তারা ছাড়াও হেড অফিসের মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমরা খেলাপি ঋণের কশাঘাত থেকে বেরিয়ে আসব।

নিউজবাংলা: নতুন গভর্নর যোগদান করার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুর্বল ১০ ব্যাংককে সবল করার উদ্যোগ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই না কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাক, যারা দুর্বল তাদের সবল করতে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমানতকারীদের ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা ধরে রাখতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ নতুন গভর্নরের নতুন এ প্রচেষ্টা আপনি কিভাবে দেখছেন?

তারেক রিয়াজ খান: নতুন গভর্নর মহোদয় যোগদানের পর ব্যাংক খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেগুলো খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। দিকনির্দেশনাগুলো খুব ইউনিক। আমাদের বর্তমানে ৬২টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি নয়, খেলাপি ঋণ, মূলধন পর্যাপ্ততার হারের দিকে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে। ব্যাসেল-৩-এর গাইডলাইন অনুসরণ করে মূলধন সংরক্ষণের বিষয়ে যা বলা হয়েছে, অধিকাংশ ব্যাংক সেটা বাস্তবায়নে স্ট্রাগল (লড়াই) করে যাচ্ছে। কিন্তু চারটি প্রাইমারি ইন্ডিকেটরের (সূচক) ওপর বেজ করে ১০টি ব্যাংককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার, লিকুইডিটি, মূলধন সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি- এ চারটি ইন্ডিকেটর ছাড়াও আরও কিছু সাব-ইন্ডিকেটর রাখা হয়েছে।

নতুন গভর্নর যে স্ট্রাটেজিক প্ল্যান নিয়েছেন, সেটা শুধু ব্যাংকগুলো বাঁচানোর জন্য নয়। এরা যেন আরও শক্তিশালী হয়, সে চেষ্টাও করছেন। এসব ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একটা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করে কিছু ইন্ডিকেটরের ব্যাপারে উল্লেখ করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব তদারকি করবেন।

পদ্মা ব্যাংকে রেগুলেটর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অলরেডি তিনটি পলিসি সাপোর্ট দিয়েছে। যেমন- আমাদের ফিন্যানশিয়াল স্টেটমেন্ট রিস্ট্রাকচারিং করে দিয়েছে।দ্বিতীয়ত- ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিংয়ের ফলে পেইড আপ ক্যাপিটাল ফিরে পেয়েছি। তৃতীয়ত-রিভাইজড লিক্যুইডিটি ফ্রেমওয়ার্ক। এটার ফলে ব্যাংকে নগদ জমার হার (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ সংরক্ষণের হারের (এসএলআর) ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সুবিধা দিয়েছে। ফলে আমাদের লিক্যুইডিটির অনেক উন্নতি হয়েছে। রিভাইজড লিক্যুইডিটির ফলে আমরা এ মুহূর্তে মানি মার্কেটে নেট বরোয়ার না, নেট লেন্ডার। আমরা অন্যান্য ব্যাংককে লিক্যুইডিটি সাপোর্ট দিচ্ছি।

নিউজবাংলা: এখন দেশে অনেক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এ সময়ে ব্যাংক খাতের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে?

তারেক রিয়াজ খান: আমাদের ব্যাংক খাত ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ট্রাডিশনাল ব্যাংকিং দিয়ে আমরা বেশি দিন চালাতে পারব না। নতুন জেনারেশন ব্যাংকে যায় না। মোবাইল অ্যাপ-ইন্টারনেটে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এ কম্পিটিশনে বেঁচে থাকা এবং নিজেকে সেভাবে গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ।

পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অলরেডি কোর ব্যাংকিং সিস্টেম মাইগ্রেশন অ্যাপ্রুভাল পেয়েছি। পদ্মা ওয়ালেট ও পদ্মা ইন্টারনেট ব্যাংকিং পুরোপুরি ঢেলে সাজাচ্ছি। আমরা নিজেদের ভালোভাবে তৈরি করছি, আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে ডিজিটাল স্যাভিব্যাংকে পরিণত হওয়ার জন্য। এ প্রতিযোগিতায় পদ্মা ব্যাংক অবশ্যই টিকে থাকবে।

নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক মৌসুমী ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলা: পদ্মা ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

তারেক রিয়াজ খান: গ্রাহকের বলতে চাই, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পদ্মা ব্যাংকের নবযাত্রা হয়েছে। ব্যাংকের ৬০ শতাংশ ইক্যুইটি হোল্ড করছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ। আমাদের শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ আছে। এখানে ইনডিভিজ্যুয়াল কোনো ডিরেক্টর নেই। সবাই প্রাতিষ্ঠানিক ও নমিনেটেড। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নির্দেশে খুব তাড়াতাড়ি একটা এমওইউ করব। সেখানে অনেকে কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর এগ্রি করব। বেশ কিছু সাপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেয়েছি। এ বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা ব্যাংকে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের (এফডিআই) মাধ্যমে ফরেন ইক্যুইটি ইনজেক্ট করে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান আরও বাড়িয়ে নেব।

আমানতকারীদের উদ্দেশে বলতে চাই, ব্যাংকের কাছে আপনাদের যে টাকা জমা সেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। গত বছরের তুলনায় আমানত চার গুণ বেড়েছে এবং এটা হয়েছে আমানতকারীদের আস্থার কারণে। আমানতকারীদের এই আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদ বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন:
শোকাবহ আগস্টে পদ্মা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের শোক প্রস্তাব
পদ্মা ব্যাংক ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মধ্যে চুক্তি
বানভাসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পদ্মাসহ ৪৫ ব্যাংকের অনুদান
পদ্মা ব্যাংকে এএমএল অ্যান্ড সিএফটি সচেতনতা সপ্তাহ শুরু
পদ্মা ব্যাংকের বেসিকস অফ ক্রেডিট ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

p
উপরে