× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BNPs hartal is going on in Bhola alert police
google_news print-icon

ভোলায় চলছে বিএনপির হরতাল, সতর্ক পুলিশ

ভোলায়-চলছে-বিএনপির-হরতাল-সতর্ক-পুলিশ
ভোলায় বৃহস্পতিবার বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। ছবি: নিউজবাংলা
ভোলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির ডাকা হরতালে যেন কোনো ধরনের নাশকতা না হয় এ জন্য মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রয়েছে। হরতাল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ 

ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রহিম নিহতে বিচারের দাবিতে জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নুরে আলমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ করেন দলের নেতা-কর্মীরা। পরে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হরতালের ঘোষণা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান।

এর জেরে জেলা শহরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দোকানপাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেখা গেছে। শহরের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। লঞ্চ ও ফেরি চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক।

এরই মধ্যে সকাল ৮টার দিকে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলের নেতা-কর্মীরা। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ভোলায় চলছে বিএনপির হরতাল, সতর্ক পুলিশ

ভোলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির ডাকা হরতালে যেন কোনো ধরনের নাশকতা না হয়, এ জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রয়েছে। হরতাল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

‘এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে বলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’

ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রহিম নিহতের বিচারের দাবিতে আমরা হরতালের ডাক দিয়েছি। সকাল থেকে জেলা শহরকেন্দ্রিক আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতাল চলছে।

‘আমাদের নেতা-কর্মীদের বলা হয়েছে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়া শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনে দিকনির্দেশনা দেয়া আছে।’

ভোলায় চলছে বিএনপির হরতাল, সতর্ক পুলিশ

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা সভাপতি নুরে আলম ও কর্মী রহিমের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যাবেন।’

সারা দেশে লোডশেডিং ও জ্বালানি অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে গত ৩১ জুলাই রোববার ভোলায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সেদিনই স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবদুর রহিম নিহত হন।

পুলিশ সদস্যসহ বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন দিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের।

আরও পড়ুন:
সিপিবি মনে করে হরতাল সফল, দেশবাসীকে অভিনন্দন
হরতালে ময়মনসিংহে সবই স্বাভাবিক
হরতালের প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রামে
দরিদ্রদের জন্য রেশন চালু কবে প্রশ্ন বাম জোটের
নারায়ণগঞ্জে বাম জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Bhattarai building blast One more burnt to death

ভাটারায় ভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

ভাটারায় ভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ফাইল ছবি
দগ্ধ রকসির দেবর আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘আমার ভাবীর ব্রেইন টিউমার হয়েছে। এ জন্য এ মাসের ১ তারিখে আমরা সপরিবারে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশে ওই ভবনের নিচ তলায় একটি বাসায় ভাড়া উঠি। সেখান থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল তাকে।’

রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মারা যান ১৮ বছর বয়সী নারী ফুতু আক্তার।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাটারা থেকে নারী-শিশুসহ চারজন আমার এখানে এসেছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক নারী। তার শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।’

এর আগে বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আয়ান নামে তিন বছরের এক শিশু। শিশুটির মা রকসি আক্তার ও তার নানা আব্দুল মান্নান দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসক।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের নিচ তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ রকসির দেবর আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘আমার ভাবীর ব্রেইন টিউমার হয়েছে। এ জন্য এ মাসের ১ তারিখে আমরা সপরিবারে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশে ওই ভবনের নিচ তলায় একটি বাসায় ভাড়া উঠি। সেখান থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল তাকে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে রান্নাঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আমাদের পরিবারের চারজন দগ্ধ হন, পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।’

আরও পড়ুন:
মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীতে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
সিলেটে টিলা ধস: ছয় ঘণ্টা পর ৩ মরদেহ উদ্ধার
শিল্পোদ্যোক্তা আব্দুল মোনেমের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
হাওরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Handover of body of Bangladeshi killed in BSF firing at Comilla border

কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর

কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর বিএসএফের গুলিতে নিহত আনোয়ার হোসেনের দেহ বিকেল পাঁচটার দিকে পান স্বজনরা। কোলাজ: নিউজবাংলা
বুড়িচং থানার ওসি আবু হাসানাত জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জামতলা সীমান্তে রোববার গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আনোয়ার হোসেনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

গতকাল সকাল আটটার দিকে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন আনোয়ার হোসেন। বিকেল পাঁচটার দিকে তার মরদেহ পান স্বজনরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএম জাবের বিন জব্বার

বলেন, ‘সকালে আনোয়ার হোসেন ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবুল কাশেম জানান, রোববার সকাল আটটার দিকে স্থানীয়রা জামতলা উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, ভারত থেকে চিনি আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

ইউপি সদস্য জানান, স্থানীয় শংকুচাইল ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সীমান্ত এলাকায় যান।

তিনি আরও জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পাচোড়া এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে আনোয়ারের মরদেহ হস্থান্তর করে বিএসএফ। বিজিবি সদস্যরা মরদেহ গ্রহণের পর বুড়িচং থানা পুলিশের কাছে সেটি হস্তান্তর করেন।

বুড়িচং থানার ওসি আবু হাসানাত জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে ফেরত পাঠাল বিএসএফ
মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দম্পতি ফের র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
বাল্কহেডের প্রতিযোগিতায় ভাঙল সেতু, ভোগান্তি ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের 
ঝিনাইদহ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহতের খবর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rohingya camp fire in Ukhia burnt more than two hundred houses

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ল দুই শতাধিক ঘর

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ল দুই শতাধিক ঘর উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের কাঁঠালতলী বাজারে ধরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বেলা আড়াইটার দিকে। ছবি: নিউজবাংলা
৮ এপিবিএন অধিনায়ক আমির জাফর জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। এ আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের উখিয়ায় শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের কাঁঠালতলী বাজারে দুপুর একটার দিকে আগুন ধরে।

ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে পুড়ে গেছে ক্যাম্পের দুই শতাধিক ঘর।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক আমির জাফর এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়দের বরাতে আমির জাফর বলেন, ‘দুপুরে ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁঠালতলী বাজারে আকস্মিক আগুনের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন কাঁঠালতলী বাজারসহ ক্যাম্পের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এপিবিএন তাৎক্ষণিক উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে অবহিত করে।

‘উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এর মধ্যে কক্সবাজার, রামু ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে খবর দেয়া হয়। দুপুর দুইটার পর রামু স্টেশনের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। এ আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২৪ মে একই ক্যাম্পে আগুন ধরেছিল। সে সময় কেউ হতাহত না হলেও ভস্মীভূত হয় বসতঘরসহ তিন শতাধিক স্থাপনা।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে গুলি করে হত্যা
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে জানতে চায় সৌদি
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুবককে গুলি করে হত্যা
১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক রোহিঙ্গা যুবককে গুলি ও গলা কেটে হত্যা
রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশা বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two more upazilas of Sylhet are also flooded

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি সিলেট বন্যায় প্লাবিত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন ব্যক্তি। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেটের সাত উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় আছে জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ।

সিলেটে বন্যায় নতুন করে আরও দুটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায়।

এ নিয়ে জেলার সাত উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় আছে জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে নদী উপচে সিলেট নগরেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। নগরের নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সব কর্মীর ছুটি বাতিল করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। জরুরি সেবার জন্য চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

সিলেটে বৃষ্টি থেমেছে, বৃষ্টিপাত হচ্ছে মেঘালয়ে

টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পর শুক্রবার সকাল থেকে সিলেটে বৃষ্টি থেমেছে। রোদেরও দেখা মিলেছে, তবে বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল চেরাপুঞ্জিতে ১৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব।

টানা বৃষ্টি ও ঢলে বুধবার রাতেই তলিয়ে যায় ভারত সীমান্তবর্তী সিলেটের পাঁচ উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ। পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে প্লাবিত হয় বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা।

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি

বন্যাকবলিত এলাকায় ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে চালু করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে প্লাবিত সাত উপজেলার ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চার হাজার ৮০২ জন আশ্রয় নিয়েছে। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারার পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে অমলসিদ পয়েন্টে ২০৭ সেন্টিমিটার ও শেওরা পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস বলেন, ‘সিলেটে এবারের বন্যা দেখা দিয়েছে ঢলের কারণে। উজানে বৃষ্টি থামলে ঢলও বন্ধ হবে। তখন বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।’

বন্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জৈন্তাপুর উপজেলা। এ উপজেলার ৭৫ শতাংশ এলাকাই পানিতে তলিয়ে যায়। পানি উঠে গেছে বেশির ভাগ বাড়িতে।

বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় জৈন্তাপুরের ফতেহপুর এলাকার বৃদ্ধা হাওয়া বিবি আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে।

তিনি বলেন, ‘আগেও বাড়িতে পানি উঠছে, কিন্তু এত দ্রুত পানি বাড়তে জীবনে দেখিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানিতে সব তলিয়ে গেল।

‘পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঘর থেকে কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। আসবাবপত্র সব পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।’

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী জানান, উপজেলার টিলা এলাকা ছাড়া বাকি সব এলাকাই প্লাবিত। কোথাও কোথাও মানুষের বাড়ির চাল পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা কবলিতদের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও অনেকের রান্না করে খাওয়ার মতো শুকনো জায়গাও নেই।

তিনি বলেন, বন্যা কবলিত মানুষজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে গৃহপালিত পশু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বন্যায় গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে প্লাবিত উপজেলাগুলোতে শুক্রবারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, শুকনা খাবার ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দুর্গত মানুষের খোঁজ নিতে বিভিন্ন উপজেলায় যান জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

তিনি জানান, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্লাবিত এলাকায় ১ হাজার বস্তা শুকনা খাবার, ৭৫ টন চাল ও নগদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরও বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে ।

নগরে ঢুকছে পানি

সুরমা নদী উপচে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সিলেট নগরের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। শুক্রবার নগরের জামতলা, তালতলা, মাছিমপুর, ছড়ারপাড় তোপখানা, সোবহানীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানি ঢুকে পড়েছে তালতলা এলাকার সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানি ওঠার কারণে এ স্টেশন থেকে সব যন্ত্রপাতি আলমপুর স্টেশনে নিয়ে রাখা হয়েছে। পানি আরও বাড়লে গাড়িগুলোও অন্যত্র নিয়ে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কর্মীদের আপাতত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে ফায়ার সার্ভিসের মূল স্টেশন। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত বলেন, ‘তালতলা ফায়ার স্টেশন ছাড়াও নগরের বাগবাড়ি, উপশহর এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে।’

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, উজানের পানি নেমে আসায় নদীতে পানি বেড়েছে। যেখানে ছড়ার পানি নদীতে যাওয়ার কথা, সেখানে নদীর পানি ছড়া উপচে নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

জরুরি সভা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি সভা করে সিটি করপোরেশন।

সভায় নগরের কয়েকটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং ওই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো শুরু হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকাজের জন্য নৌকার ব্যবস্থা, নিম্নাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্রগুলো বন্যার পানিতে যাতে ডুবে না যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সহযোগিতা প্রদান, নগরবাসীর জরুরি সেবার জন্য ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালুসহ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে রান্না করা খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জনস্বার্থে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার সব কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিন টন চিড়া, তিন টন মুড়ি, গুড়, খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওরাল স্যালাইন কেনা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘উজানের পানি নেমে আসায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে সিলেট নগরের ছড়ার পানি নদীতে পড়ার কথা, সেখানে নদীর পানি উল্টো ছড়া উপচে নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।'

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোবারক হোসেন জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি
রিমালের প্রভাবে বিদ্যুৎহীন সিলেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত
প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে সিলেটের তাপমাত্রা, গরমে হাঁসফাঁস
সিলেটের আরেক কূপে গ্যাসের সন্ধান
আফগানিস্তানে ফের আকস্মিক বন্যায় ৬০ প্রাণহানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
MP Anars body found in septic tank idea DB

সেপটিক ট্যাংকে পাওয়া দেহাংশ এমপি আনারের: ধারণা ডিবির

সেপটিক ট্যাংকে পাওয়া দেহাংশ এমপি আনারের: ধারণা ডিবির বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা ঘুরে এসে বিমানবন্দরে ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কলকাতায় তদন্তকালে সুয়ারেজ লাইন ভেঙে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। যদিও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এগুলো ভিকটিমের (এমপি আনার)।’

ভারতের কলকাতা নগরীর উপকণ্ঠে সঞ্জীভা গার্ডেনসে সেপটিক ট্যাঙ্কে যে দেহাংশ পাওয়া গেছে তা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।

এমপি আনার হত্যাকাণ্ড তদন্তে কলকাতায় যাওয়া ডিবি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে ফিরেছে। এ সময় ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এমন ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘আনোয়ারুল আজীম আনারকে ১৩ মে কলকাতার মাটিতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে একটি মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় কলকাতায়ও একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।

‘মামলাটির তদন্তের জন্য আমরা কলকাতায় গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা এবং ঘটনাস্থলের এভিডেন্সগুলো দেখতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।’

হারুন বলেন, ‘এমপি আনারের মরদেহ বা দেহাবশেষ না পাওয়া গেলে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যেত না। আমরা সেখানে গিয়ে আমাদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেয়া তথ্য ‘ক্রস এক্সামিন’ করেছি। কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি যে তথ্য দিয়েছে তাও যাচাই-বাছাই করেছি।

‘কলকাতার সিআইডিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। আমাদের যত ধরনের তথ্যের দরকার, কলকাতায় গিয়ে সবই পেয়েছি। আমরা সফলতা নিয়েই ফিরেছি।’

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কলকাতায় তদন্তকালে আমরা সুয়ারেজ লাইন ভাঙতে বলেছিলাম। সেটা ভেঙেই সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। যদিও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এগুলো ভিকটিমের (এমপি)। কারণ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে- অন্য কারও মাংস সেখানে এভাবে ফ্ল্যাশ করবে কেন?’

তিনি বলেন, ‘একজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই ফ্ল্যাটে বার বার ফ্লাশ করার আওয়াজ শুনেছেন। সেই তথ্য থেকেই আমরা ওয়াটার থিউরি অ্যাপ্লাই করে মরদেহের খণ্ডিতাংশের সন্ধান পেয়েছি। এটাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। ‌সেটা আমরা‌ উৎরে গেছি।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের হাতে তিন ঘাতক গ্রেপ্তার রয়েছে। তাদের মধ্যে মূল ঘাতক আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া। হত্যার পরিকল্পনা হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে আর হত্যাটি সংঘটিত হয়েছে কলকাতায়।’

তিনি বলেন, এই মামলার আসামি একজন যুক্তরাষ্ট্রে আরেকজন নেপালে রয়েছে। তাদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে। শাহীনের জন্য ইন্টারপোলে আর সিয়ামের জন্য নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কলকাতার পুলিশকেও বলেছি শাহীনকে ফেরানো উদ্যোগ নিতে।

সংসদ সদস্য হত্যার মোটিভ এখনও পরিষ্কার নয় উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যবসায়িক, এলাকার আধিপত্য, রাজনৈতিক, স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব- এমন সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ১২ মে কলকাতায় যাওয়ার পরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার।

ভারতে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন- এমন খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২২ মে সকালের দিকে।

পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়। খুনের আলামত মুছে ফেলতে মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের দেয়া তথ্যে বাংলাদেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেয়া হয়।

ওই তিনজন হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক হিসেবে উল্লেখ করা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।

সঞ্জিভা গার্ডেনস নামের ওই অ্যাপার্টমেন্টের সেপটিক ট্যাংক থেকে মঙ্গলবার বেশকিছু মাংসের টুকরো উদ্ধার করা হয়।

ওই দেহাংশ এমপি আনারের কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিতে এমপি আনারের পরিবারের সদস্যদের কলকাতায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
তদন্তাধীন মামলায় গণমাধ্যমে বক্তব্য বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ
এমপি আনার হত্যা: ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মাংস, চুল উদ্ধার
এমপি আনারের মরদেহ পাওয়া নিয়ে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কোন অস্ত্রে খুন এমপি আনার, খুঁজছেন গোয়েন্দারা
কসাই জিহাদকে নিয়ে কলকাতার সেই ফ্ল্যাটে ডিবির তদন্তকারীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The exact reason behind the killing of MP Anna Harun is not yet known

এমপি আনার হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি: হারুন

এমপি আনার হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি: হারুন রাজধানীর মিণ্টো রোডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা
ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘খুনিরা কলকাতার ফ্ল্যাটে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর চারটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় আসে এবং পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যাকাণ্ডে ফাঁসাতে তাদেরকে ফোন করে।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার পেছনে ব্যবসায়িক লেনদেন, আধিপত্য বিস্তারসহ অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সূত্র: ইউএনবি

রাজধানীর মিণ্টো রোডে ডিবি’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি দল শনিবার রাত বা রোববার সকালের মধ্যে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশও সংসদ সদস্য আনার হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করছে। তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছে।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘অপহরণের পর খুনিরা এমপি আনারকে ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। তারপর খুনিরা তার একটি ফোন অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য, এটা বুঝানো যে তিনি অন্য জায়গায় আছেন।

‘এছাড়া খুনিরা তাকে হত্যার পর চারটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় আসে এবং পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যাকাণ্ডে ফাঁসাতে তাদেরকে ফোন করে।’

মরদেহ পাওয়া যায়নি অথচ পুলিশ কেন এটাকে হত্যাকাণ্ড বলছে- এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘এমন অনেক মামলা আছে যেখানে বছরের পর বছর ধরে লাশ পাওয়া যায়নি।’

প্রসঙ্গত, এমপি আনার চিকিৎসার জন্য ১১ মে কলকাতায় যান এবং ১৪ মে থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২২ মে বলেন, কলকাতার অদূরে নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এমপি আনারের মৃত্যুর ঘটনায় ২২ মে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তিন আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আরও পড়ুন:
এমপি আনার হত্যা: অপরাধী হলে শিলাস্তির বিচার চান দাদা
এমপি আনার হত্যা মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে
এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমপি আনার হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা
হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না
মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The DB chief gave a chilling description of MP Annas murder plan

এমপি আনার হত্যা-পরিকল্পনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ডিবিপ্রধান

এমপি আনার হত্যা-পরিকল্পনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ডিবিপ্রধান বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিণ্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে এমপি আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারন অর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা
হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আমানুল্লাহ ও পরিকল্পনাকারী শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী-১৩ মে বেলা ২টা ৫১ মিনিটে এমপি আনারকে কৌশলে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় ঘাতকরা। সেখানে তারা এমপির কাছে আখতারুজ্জামানের পাওনা টাকা পরিশোধের প্রসঙ্গ তোলে। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সবাই মিলে আনারকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার পরিকল্পনা করা হয় রাজধানী ঢাকায় বসে। এই তথ্য জানানোর পাশাপাশি সেই হত্যা-পরিকল্পনার পুরো বর্ণনা তুলে ধরেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার প্রধান হারুন অর রশীদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিণ্টো রোডে ডিএমপি ডিবি কার্যালয়ে এমপি আনার হত্যার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি।

হারুন অর রশীদ জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহিনের গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে একাধিক বৈঠক করেন হত্যাকারীরা। এই পরিকল্পনা নিয়ে দুই থেকে তিন মাস ধরে একের পর এক বৈঠক চলে।

ভিকটিম (এমপি আনার) প্রায়ই ভারতের কলকাতায় আসা-যাওয়া করতেন। তাই কলকাতার মাটিতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর সে অনুযায়ী মূল হত্যাকারী আমানুল্লাহ, তার সহযোগী তানভীর ভূঁইয়া ও আখতারুজ্জামান শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি রহমান গত এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ কলকাতায় যান।

কলকাতায় আগে থেকেই ভাড়া করে রাখা নিউটাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে ওঠেন তারা। আর কলকাতায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আখতারুজ্জামানের দুই সহযোগী সিয়াম ও জিহাদ। সেখানে বসে তারা এমপি আনারকে হত্যার ছক সাজান। মূল হত্যাকারীর নাম শিমুল ভূঁইয়া হলেও তিনি আমানুল্লাহ আমান নামে নতুন একটি পাসপোর্ট করে কলকাতায় যান।

ডিএমপি ডিবি প্রধান আরও জানান, হত্যার পুরো দায়িত্ব আমানকে বুঝিয়ে দিয়ে ১০ মে দেশে ফিরে আসেন আখতারুজ্জামান। এমপি আনার যে ১২ মে কলকাতায় যাবেন তা আগে থেকেই জানতেন আখতারুজ্জামান। ১২ মে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে কলকাতায় যান এমপি আনার। প্রথম দিন তিনি তার বন্ধু গোপালের বাসায় থাকেন। পরদিন ১৩ মে কৌশলে এমপি আনারকে নিউটাউনের সেই ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

হারুন বলেন, ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি এমপি আনারকে ১৩ মে দুপুরে সাদা একটি গাড়িতে রিসিভ করেন। পরে হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারীদের অন্যতম আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভুইয়া ও ফয়সালসহ আনার ওই ফ্ল্যাটে যান। এরপর মোস্তাফিজ নামে আরও একজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। জিহাদ ও সিয়াম নামে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুজন সেখানে ছিলেন।

১৩ মে বেলা ২টা ৫১ মিনিটে এমপি আনার কলকাতার ওই বাসায় যান। এ সময় তারা এমপির কাছে আখতারুজ্জামানের পাওনা টাকা পরিশোধের প্রসঙ্গ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সবাই মিলে আনারকে ঝাপটে ধরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। আধ ঘণ্টার মধ্যে ওরা হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি শেষ করে। হত্যার পর আমান বিষয়টি আখতারুজ্জামানকে জানান।

এমপি আনারকে হত্যার পর তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয় জানিয়ে ডিবির হারুন বলেন, ‘আখতারুজ্জামানের পরামর্শমতো মরদেহ গুম করতেই ঘাতকরা এই কাজ করে। এরপর ফ্ল্যাটের কাছেই শপিংমল থেকে আনা হয় দুটি বড় ট্রলিব্যাগ ও পলিথিন। পরে দেহের টুকরোগুলো পলিথিনে পেঁচিয়ে ট্রলিব্যাগে ভরা হয়। এরপর ভিন্ন ভিন্ন দিনে সেগুলো ফ্ল্যাটের বাইরে নিয়ে যায় খুনিরা। আর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে ঘরের রক্তের দাগ ও দুর্গন্ধ পরিষ্কার করে তারা।

আটক আমানের স্বীকারোক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরদিন বিকেলে একটি ট্রলিব্যাগ হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হন আমান। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হয়ে পাশের একটি শপিংমলের সামনে ট্রলিব্যাগটি তিনি সিয়ামের হাতে তুলে দেন। সিয়াম ব্যাগ নিয়ে আগে থেকেই ভাড়া করে রাখা গাড়ি নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের দিকে চলে যান। আরেকটি ব্যাগ বাসাতেই ছিল। ওই ব্যাগ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছিল। সহযোগীদের ট্রলিটি অন্য কোথাও ফেলে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে ১৫ মে শিলিস্তাকে নিয়ে আমান ঢাকায় চলে আসেন।

মরদেহ পাওয়ার আশা খুবই কম জানিয়ে ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘তারপরও চেষ্টা করছি এমপি আনারের দেহের কিছু খণ্ড অন্তত উদ্ধার করার। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নকারী আমানুল্লাহ ছদ্মনাম। তার নাম শিমুল ভূঁইয়া। তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। বর্তমানে আমানুল্লাহ ও পরিকল্পনাকারী শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি রহমান ডিবির হাতে আটক রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পুরো ঘটনা জানা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এমপি আনারকে হত্যার পর শাহিনের গার্লফেন্ড শিলাস্তি ও আমানুল্লাহ ১৫ মে এবং মোস্তাফিজ ১৬ মে ঢাকায় ফেরেন। এরপরই ভিস্তা এয়ারলাইন্সে করে মূল পরিকল্পনাকারী শাহিন দিল্লি হয়ে কাঠমাণ্ডুতে চলে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক।’

হারুন বলেন, “১৮ তারিখ গোপাল বিশ্বাস বন্ধু আনার নিখোঁজ উল্লেখ করে কলকাতার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশে জিডি করেন। পরে হত্যাকারীরা ভিকটিমের মোবাইল ফোন থেকে কল ও মেসেজ দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে ‘দিল্লি যাচ্ছি’ জানিয়ে ১৮ মে এমপি আনারের ফোন থেকে বার্তাও দেয়া হয়।’

কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘একটি টিম আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে আসছে। প্রয়োজনে আমরাও সেখানে গিয়ে তদন্ত করব।’

এদিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারই ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আখতারুজ্জামান শাহীন। শাহীন ঝিনাইদহের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার ভাই সহিদুজ্জামান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র।

আরও পড়ুন:
এমপি আনার অপরাধে জড়িত কি না, তদন্তে বেরিয়ে আসবে: কাদের
এমপি আনার খুন: ভারতের সংবাদমাধ্যম যা বলছে
শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনারের মেয়ের মামলা
এমপি হত্যায় ভারতকে দোষারোপ না করার আহ্বান কাদেরের
এমপি আনারকে হত্যা করেছে বাংলাদেশি অপরাধীরা: ডিএমপি ডিবি প্রধান

মন্তব্য

p
উপরে